- প্রচ্ছদ
- Topic
আন্তর্জাতিক খবর
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নতুন কারাগারের ছবি প্রকাশের পর তার হাতঘড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ক্ষমতায় থাকার সময় যেখানে তাকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলারের দামি সুইস ঘড়ি পরতে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের কারাগারে প্রকাশিত নতুন ছবিতে তার হাতে দেখা গেছে প্রায় ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি। ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে তোলা বলে প্রকাশিত ছবিতে মাদুরোকে ধূসর পোশাকে হাসিমুখে এবং দুই হাতে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। তার বাঁ হাতে থাকা ঘড়িটি ক্যাসিও জি-শক বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন কারা কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, কারাগারের ক্যান্টিনে এই ধরনের একটি ক্যাসিও ঘড়ির দাম ৪০ দশমিক ৩০ ডলার। তবে প্রকাশিত ছবির ঘড়িটি ঠিক কোন মডেলের, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘড়িটির দাম নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার মূল কারণ মাদুরোর আগের জীবনযাপন। ক্ষমতায় থাকাকালে তাকে একাধিক দামি ঘড়ি পরতে দেখা গেছে। ঘড়ি বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ওয়াচেস অব এসপিওনাজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাদুরোর হাতে একটি হুবলো ক্লাসিক ফিউশন ক্রুজ-দিয়েজ প্লাটিনাম ট্যুরবিলন দেখা যায়। একই ধরনের ঘড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও মাদুরোকে প্রায় ৪০ হাজার ডলার মূল্যের হুবলো বিগ ব্যাং কিং পাওয়ার মারাদোনা ঘড়ি পরতে দেখা যায়। ঘড়িটি আর্জেন্টিনার প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা তাকে উপহার দিয়েছিলেন বলে ওয়াচেস অব এসপিওনাজ জানিয়েছে। তবে মাদুরোর ঘড়ির তালিকায় শুধু বিলাসী ব্র্যান্ডই ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তাকে অপেক্ষাকৃত কম দামের সিটিজেনসহ অন্য ঘড়িও পরতে দেখা গেছে। ফলে নতুন ছবিতে ক্যাসিও ঘড়ি দেখা যাওয়াকে তার কারাগারের বর্তমান জীবনযাপনের সঙ্গে আগের বিলাসী জীবনযাপনের একটি দৃশ্যমান পার্থক্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মাদুরোর কারাগারে যাওয়ার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের নাটকীয় পরিণতি। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি রাতের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। পরে নিউইয়র্কে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদুরো ও তার সহযোগীরা ক্ষমতার অবস্থান ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলায় মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র এবং কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ চারটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে। মাদুরো ও ফ্লোরেস বর্তমানে ব্রুকলিনের কারাগারে আটক রয়েছেন। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন তাদের মামলার বিচার শুরুর তারিখ ২০২৭ সালের ১ জুন নির্ধারণ করেন। মাদুরোর আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন আইনি যুক্তি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারাগারে যাওয়ার পর মাদুরো নিজেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল দাবি করে তার আইনি ব্যয়ের দায়িত্ব ভেনেজুয়েলা সরকারের নেওয়া উচিত বলেও বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর আগে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করার কথা জানানো হয়েছিল। এসব সম্পদের মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, বিমান ও গয়না রয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি। মাদুরোর দীর্ঘ শাসনামলে তার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল। সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনীতি সংকটে থাকলেও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একটি অংশ বিলাসী জীবনযাপন করত। নতুন কারাগারের ছবিতে ৪০ ডলারের ঘড়ি সেই বৈপরীত্যকে আবারও আলোচনায় এনেছে। তবে নতুন ছবির ঘড়িটি মাদুরোর নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কি না, কিংবা তিনি এটি কীভাবে পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবিটি মূলত তার বর্তমান বন্দিজীবনের একটি দৃশ্য তুলে ধরছে, যা ক্ষমতায় থাকার সময়কার জীবনযাপনের সঙ্গে বেশ আলাদা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে প্রেম নিবেদনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক দুঃসাহসী যুগল ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজিরা দিয়েছেন। গত সোমবার আদালতে হাজিরার পর এই জুটির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আইনি সমঝোতা বা প্লি ডিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। আর এই খবর শোনার পরই আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে প্রকাশ্যেই অন্তরঙ্গভাবে উদযাপন করতে দেখা গেছে তাদের। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ৩৩ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং তার ৩২ বছর বয়সী প্রেমিক ইভান কুজনেটসভ গত জুলাই মাসে নিজেদের বাগদানের জন্য এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে উঠেছিলেন। এই বিপজ্জনক ও বেআইনি কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। সোমবার শুনানির পর আদালত ভবনের বাইরে একটি হটডগের দোকানের কাছে তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। সে সময় তাদের হাতে খেলনা হাতকড়া পরা ছিল। প্রায় আধা মিনিট ধরে তারা একে অপরকে চুম্বন করেন। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের প্রায় এক হাজার ফুটেরও বেশি উঁচুতে ইভান হাঁটু গেড়ে বসে অ্যাঞ্জেলাকে যে আংটি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটিও এদিন প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন অ্যাঞ্জেলা। তবে আদালতে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অদ্ভুত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অ্যাঞ্জেলা। সেখানে তাকে একটি ল্যাটেক্স বডিস্যুট পরে হাতে ছুরি নিয়ে তার প্রেমিকের মাথায় জিহ্বা লাগাতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন কোর্ট প্রেপ বা আদালতের প্রস্তুতি। শুনানির দিন বিচারক বেভারলি টাথামের সামনে আইনজীবীদের পেছনে দাঁড়িয়ে তারা একে অপরের হাত ধরে রেখেছিলেন। শুনানিতে ম্যানহাটনের সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসিকা ওয়াল্ডম্যান জানান, এই যুগলের সঙ্গে তাদের সক্রিয় আইনি সমঝোতার আলোচনা চলছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলো ঠিক কী হতে পারে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে চুরি এবং বেপরোয়াভাবে জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টির মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, গত মাসে নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান এই স্থাপনায় ওঠার সময় তারা প্রায় দুই হাজার ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করেছেন। এছাড়া তাদের কারণে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সম্প্রচার অ্যান্টেনার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাত ৯টার দিকে ওই যুগল এক হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচু এই ভবনে প্রবেশের জন্য টিকিট কাটেন। এরপর তারা সেখানে সারারাত লুকিয়ে থাকেন। পরদিন ভোর ৫টার দিকে তারা ভবনের ১০২ তলার একটি হ্যাচ বা ঢাকনা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপর তারা ভবনের অ্যান্টেনা বেয়ে উঠতে শুরু করেন এবং সেখানে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। ব্যানারে লেখা ছিল, যখন ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে ভালোবাসার ক্ষমতা জয়ী হয়, তখন বিশ্ব শান্তি লাভ করে। এই মুহূর্তের ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ওই যুগল নিজেরাই ধারণ করেছিলেন। অ্যান্টেনা থেকে নিচে নামার পর ইভান একটি কালো বিড়ালের মুখোশ পরা অ্যাঞ্জেলাকে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভান ভানিয়া বিয়ারকাস নামেও পরিচিত। এই ঘটনার পর অ্যাঞ্জেলা এবং ইভানের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চুরি, বেপরোয়া আচরণ এবং অপরাধমূলক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে চুরির সরঞ্জাম রাখা এবং অবৈধভাবে অনধিকার প্রবেশের মতো ছোটখাটো অভিযোগও রয়েছে। উল্লেখ্য, এই যুগল ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের একটি প্রামাণ্যচিত্র স্কাইওয়াকার্স: অ্যা লাভ স্টোরি এর মূল চরিত্র ছিলেন। প্রামাণ্যচিত্রটি ওই বছর সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিজের বাসভবনে তেলাপোকা দেখে প্রথমে চমকে উঠেছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তবে পরে তার কর্মীরা সেটি সরিয়ে দেওয়ার পর উল্টো কিছুটা ‘একাকী’ ও ‘মন খারাপ’ লাগার কথা জানিয়েছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই শেয়ার করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। ২২ আগস্ট এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাকাইচি তার সরকারি বাসভবনে তেলাপোকা দেখার ঘটনা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি নিয়মিত যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হন, সেগুলোর কয়েকটির উত্তর দিচ্ছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল, টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে প্রচলিত ভূতের গল্প সত্যি কি না এবং তিনি সেখানে কোনো ভূত দেখেছেন কি না। তাকাইচি জানান, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো ভূত দেখেননি। তবে একটি তেলাপোকার দেখা পেয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনটি দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ১৯৩০-এর দশকে জাপানে সংঘটিত দুটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে ভবনটির ইতিহাসের যোগসূত্র রয়েছে। ওই সময় নিহত ব্যক্তিদের আত্মা সেখানে ঘোরাফেরা করে বলে দীর্ঘদিন ধরে নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভূত দেখার প্রশ্নটি করা হয়েছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভূতের বদলে তাকাইচির সামনে হাজির হয়েছিল বাস্তবের একটি তেলাপোকা। এক্সে তাকাইচি লেখেন, এর আগে সদস্যদের আবাসিক ভবনে থাকার সময় তিনি কখনো তেলাপোকার মুখোমুখি হননি। সরকারি বাসভবনে ওঠার পরও তিনি পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বেশ সতর্ক ছিলেন। খাবারের উচ্ছিষ্ট ঢাকনাযুক্ত শক্ত ময়লার পাত্রে রাখতেন, প্লাস্টিকের পাত্র ধুয়ে পরিষ্কার করতেন এবং খাবার টেবিলের নিচের মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার করতেন। তারপরও একদিন হঠাৎ খাবার টেবিলের পাশ দিয়ে একটি তেলাপোকা দৌড়ে যেতে দেখে তিনি বেশ অবাক হন। তাকাইচি জানান, ছোটবেলায় ওসামু তেজুকার ‘ফিনিক্স’ মাঙ্গা তার খুব প্রিয় ছিল। পুনর্জন্ম ও জীবনের চক্রের মতো বিষয় নিয়ে তৈরি সেই গল্পের প্রভাব তার মধ্যে এতটাই গভীর যে বড় হওয়ার পরও কোনো পোকামাকড়, এমনকি তেলাপোকাকেও হত্যা করতে তার মন সায় দেয় না। তাই তেলাপোকাটিকে মেরে ফেলার বদলে তিনি সেটিকে কিছু সময়ের জন্য বাড়ির ভেতরেই ঘুরে বেড়াতে দেন। নিজের ভাবনার কথা বলতে গিয়ে তাকাইচি জানান, তার মনে হয়েছিল, হয়তো এই জীবনও পুনর্জন্মের দীর্ঘ চক্রেরই একটি অংশ। তবে তেলাপোকাটিকে বেশিদিন স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন। তাকাইচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি শুনে তার এক কর্মী বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে বলেন, এটি অস্বাস্থ্যকর এবং তিনি নিজেই ব্যবস্থা নেবেন। এরপর কর্মীদের উদ্যোগে তেলাপোকা ধরার জন্য একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তাকাইচি সেটিকে মজার ছলে ‘অপারেশন কমব্যাট’ বলে উল্লেখ করেছেন। কর্মীদের সেই অভিযানের পর সরকারি বাসভবনে আর কোনো তেলাপোকা দেখেননি তাকাইচি। কিন্তু ঘটনাটির শেষটা তার নিজের কাছেই কিছুটা অপ্রত্যাশিত। তেলাপোকাটি চলে যাওয়ায় স্বস্তি পেলেও একই সঙ্গে তার কিছুটা একাকী বা বিষণ্ন লাগছিল বলে জানান তিনি। এক্স পোস্টে তাকাইচি লিখেছেন, তেলাপোকাটি চলে যাওয়ার পর তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন, তবে একই সঙ্গে কিছুটা একাকী বা মন খারাপও লাগছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এমন ব্যক্তিগত ও হালকা মেজাজের গল্প প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাকাইচি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কাজের পাশাপাশি নিজের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করছেন। তবে তেলাপোকার গল্পটি প্রকাশের আগে আরেকটি পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছিলেন, তিনি তার দপ্তরের পরিবর্তে সরকারি বাসভবন থেকেই বেশি কাজ করছেন। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তিনি সরকারি বাসভবনে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় কাটাচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা হচ্ছিল। তাকাইচির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাসভবন থেকে কাজ করলে একই সময়ে প্রয়োজনীয় কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। বিশেষ পুলিশ বা নিরাপত্তা সদস্যদেরও কম সময়ের জন্য যুক্ত করতে হয়। এতে কর্মীদের ওপর কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন শুধু থাকার জায়গা নয়। এটি বৈঠক এবং বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্যও ব্যবহৃত হয়। সব মিলিয়ে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর তেলাপোকা নিয়ে এই গল্পটি দেশটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বাসভবনকে ঘিরে প্রচলিত ভূতের গল্পের আলোচনায়ও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভূত না দেখলেও তেলাপোকার সঙ্গে তার এই অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ এবং সেটি চলে যাওয়ার পর তার ‘একাকী’ অনুভূতির কথা এখন মানুষের কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক্স পোস্ট
এল সালভাদরের সোন্সোনাতে ওস্তে এলাকায় এক অভিনব প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে কুখ্যাত অপরাধী চক্র এমএস থার্টিন এর এক সদস্য ক্যাথলিক যাজকের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। তিনি নিয়মিত যাজকের পোশাক পরে গির্জার প্রার্থনায় অংশ নিতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার শরীরের ট্যাটুই তাকে ধরিয়ে দিয়েছে। এল সালভাদরের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। যাজকের লম্বা আলখাল্লার নিচে তিনি তার আসল পরিচয় সযত্নে লুকিয়ে রেখেছিলেন। পুলিশের সন্দেহ এড়াতে এবং অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে এটি ছিল তার জন্য এক নিখুঁত আবরণ। কেউ ঘুণাক্ষরেও সন্দেহ করেনি যে, ওই পবিত্র পোশাকের নিচে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর গ্যাং এমএস থার্টিনের ট্যাটু। এই ঘটনার একটি কৌতূহলোদ্দীপক দিক হলো, এর আগে এল সালভাদরে ইভানজেলিকাল যাজকদের ধর্মীয় সমাবেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যেত। কিন্তু এই প্রথম ক্যাথলিক যাজক সেজে প্রতারণার কোনো ঘটনা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যখন তাকে আটক করেন, তখন তার যাজকীয় পোশাকের ভেতরের আসল সত্য বেরিয়ে আসে। তার চামড়ায় আঁকা ট্যাটুই বলে দেয় গ্যাংয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা। গ্যাং সদস্যরা সাধারণত নিজেদের শরীরে নির্দিষ্ট ট্যাটু ব্যবহার করে থাকে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের পরিচয়ের বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে এই গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে, গির্জায় কাটানো তার প্রতিটি মুহূর্ত এবং কার্যক্রম গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এল সালভাদরে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অভিযানের কারণে গ্যাং সদস্যরা এখন নিজেদের বাঁচাতে এ ধরনের অভিনব ও বেপরোয়া কৌশল বেছে নিচ্ছেন। তবে যাজক সেজে আত্মগোপনের এই কৌশল ব্যর্থ হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: রদ্রিগো মার্তিনেজ
মিয়ানমারের কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি-এর সাজার মেয়াদ কমিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে এ তথ্য জানিয়েছেন তার আইনজীবী। আইনজীবীর বরাতে জানা যায়, বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী সু চি উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে তার সমর্থকদের দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সু চির আইনজীবী জানান, সরকার তার সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। তবে বাকি সাজা তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় ভোগ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং চার হাজার ৩৩৫ জন বন্দীর জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। গত ছয় মাসে এটি তৃতীয়বারের মতো এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। মিয়ানমারে সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিল মাসে নববর্ষ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রতিক ঘোষণাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত সরকারের এক মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মিন অং হ্লাইংয়ের নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা, যারা এটিকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।