ইতালি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে ‘না’ জয়, প্রথম বড় ধাক্কায় চাপে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

ইতালির সাম্প্রতিক বিচার বিভাগীয় গণভোটে ‘না’ জয় পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট সরকার প্রথম বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। এই ফলাফলের পর তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।   ক্ষমতায় আসার পর এটি বর্তমান সরকারের প্রথম উল্লেখযোগ্য পরাজয়। এই ফলাফলকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো মেলোনির ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেক্রেটারি এলি শ্লিন একে ‘বিকল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।   গণভোটের এই ফলাফলের পর মেলোনির সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পার্লামেন্টে পুনরায় আস্থা ভোট নেওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ২০১৬ সালে মাত্তেও রেনজি গণভোটে হেরে পদত্যাগ করলেও মেলোনির ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।   এছাড়া আগাম নির্বাচন দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সংবাদমাধ্যম রেপুব্লিকার তথ্য অনুযায়ী, দুর্বল অবস্থানে থেকে মেয়াদের শেষ পর্যন্ত যাওয়ার পরিবর্তে আগাম নির্বাচন দিয়ে বিরোধীদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলতে পারেন তিনি।   অন্যদিকে, নতুন নির্বাচনি আইন প্রণয়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইতালিতে বিরোধীদের উত্থানের প্রেক্ষাপটে বিজয়ী জোটকে বড় ধরনের ‘মেজোরিটি বোনাস’ দেওয়ার মতো আইন আনার চিন্তা করছে সরকার।   ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই ফলাফলকে সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালি জোটভিত্তিক শক্তিশালী বোনাস ব্যবস্থার পক্ষে মত দিচ্ছে।   বর্তমানে পদত্যাগের সম্ভাবনা কম থাকলেও মেলোনিকে এখন পার্লামেন্ট ও জনগণের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার প্রমাণ দিতে হবে। বিরোধীরা নতুন জোট গঠনের আগেই তিনি কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি।
কুয়েতে ড্রোন হামলায় ইতালীর যুদ্ধবিমান ধ্বংস

কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ইতালীয় বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট বা ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।  ইতালির চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল লুসিয়ানো পোর্তোলানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আক্রমণের শিকার এই বিমানঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালীয় বাহিনীর যৌথ ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জেনারেল পোর্তোলানো জানান, ধ্বংস হওয়া বিমানটি ওই অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম এবং অপারেশনাল ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য একটি অপরিহার্য সম্পদ ছিল।  তবে স্বস্তির বিষয় হলো, হামলায় কোনো ইতালীয় সেনার প্রাণহানি ঘটেনি এবং বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত সকল কর্মীরা নিরাপদ রয়েছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরেই ওই ঘাঁটিতে ইতালীয় সেনাদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে যারা সেখানে অবস্থান করছেন, তারা কেবল অত্যন্ত জরুরি এবং অপরিহার্য দায়িত্বগুলো পালন করছেন।  ইতালির প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং জয়েন্ট অপারেশন হেডকোয়ার্টার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং মাঠ পর্যায়ের কন্টিনজেন্টগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কুয়েতে ইতালীর সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

কুয়েতে অবস্থিত একটি ইতালীয় সামরিক ঘাঁটিতে রহস্যময় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।  ইতালীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘাঁটিটি তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে ব্যবহার করে আসছিল। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-এর তথ্যমতে, হামলার পরপরই সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো সেনা সদস্যের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি আঘাত হানলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।  বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলার উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে ইতালীয় ও কুয়েতি কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই হামলাটি বিশেষ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ড্রোন হামলার মুখে ইরাক থেকে সব সৈন্য ও কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে ইতালি

ইরাকের কুর্দিস্তানে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনার পর সেখান থেকে সাময়িকভাবে নিজেদের সমস্ত সৈন্য ও কর্মী সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। বৃহস্পতিবার ইতালীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মূলত ওই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দেশটি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো দেশটির সংবাদমাধ্যম টিজিওয়ান (TG1)-কে জানান, বুধবারের ওই ড্রোন হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে বুধবারের হামলার ঘটনাটি চলমান এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে।   বর্তমানে ইরাকি কুর্দিস্তানের ওই ঘাঁটি থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইতালির এই পিছু হটা এবং সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
সাইপ্রাসের নিরাপত্তায় অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ইতালি

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আঁচ এবার গিয়ে লেগেছে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সীমান্ত রক্ষায় এক শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শনিবার এক জরুরি ভিডিও বার্তায় সাইপ্রাসে একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট) মোতায়েনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ মূলত ‘ইউরোপীয় সংহতি’ প্রদর্শন এবং সংঘাত প্রতিরোধে ইতালির সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে পুনরায় উল্লেখ করেন যে, ইতালি কোনোভাবেই এই যুদ্ধের অংশ নয় এবং তারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে ইচ্ছুক নয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মোতায়েনকৃত 'ফেডেরিকো মার্টিনেঙ্গো' ফ্রিগেটটি ইতালীয় নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী রণতরী। ১৬০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ ক্রু এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত এই জাহাজটি গত শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ ইতালির তারান্টো বন্দর থেকে সাইপ্রাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়েও বেশ সক্রিয় রোম। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন মেলোনি। এর পাশাপাশি মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পাল্টায় ইরানি হামলার আশঙ্কায় থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতেও বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে মেলোনি সরকার। মূলত আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ইতালির প্রধান লক্ষ্য।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
ইতালিতে তিন বছরের জন্য শ্রমিক নিয়োগের প্রথম ধাপ শেষ
ইতালিতে তিন বছরের জন্য শ্রমিক নিয়োগের প্রথম ধাপ শেষ

ইতালিতে আগামী তিন বছরের জন্য (২০২৬–২০২৮) প্রায় ৫ লাখ শ্রমিক নিয়োগের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, এই ধাপে মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন প্রার্থী আবেদন জমা দেন। কড়াকড়ি এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে এবারের আবেদন সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ায়, যোগ্য প্রার্থীদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি বলে মনে করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।   ভিসা প্রক্রিয়ায় এবার শ্রমিকদের বিভিন্ন খাতে ভাগ করা হয়েছে। সিজনাল বা মৌসুমী কাজ, কৃষি ও পর্যটন খাতে কোটা ছিল ৮৮ হাজার, নন-সিজনাল কাজে ৭৬ হাজার ২০০ এবং স্বনির্ভর কাজের জন্য ৬৫০ জন শ্রমিকের সুযোগ রাখা হয়েছে।   ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধাপে ধাপে আবেদন নেওয়া হয়। শেষ দিনে বিশেষ করে গৃহস্থালি বা ডোমেস্টিক কাজে আবেদন জমা দেওয়ার চাপ বেশি ছিল।   ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এবারের আবেদন প্রক্রিয়া তেমন সহজ ছিল না। আবাসন সনদ এবং রেসিডেন্স সংক্রান্ত কঠোর নিয়মের কারণে অনেকেই আবেদন করতে পারেননি। যারা এই জটিল ধাপ পার হয়ে আবেদন করতে পেরেছেন, তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা এবার অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।   তারা আরও সতর্ক করেছেন, এই সুযোগকে কাজে লাগানোর সময় সাধারণ মানুষ যেন দালালদের ফাঁদে না পড়ে। এছাড়া চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী ধাপে ১ লাখ ৬৫ হাজার শ্রমিকের জন্য আবেদন শুরু হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
অভিনন্দন জানিয়ে ঐক্যের ডাক ইতালির
অভিনন্দন জানিয়ে ঐক্যের ডাক ইতালির

১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক নির্বাচন ও গণভোটের পর বাংলাদেশের আগামীর পথচলায় সংহতি প্রকাশ করল ইতালি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব পক্ষকে একীভূত হওয়ার বিশেষ বার্তা দিয়েছে দেশটি।   শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এই শুভেচ্ছা জানায়।   ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন। নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে আন্তরিক শুভেচ্ছা। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থীতিশীলতার জন্য আমরা সকল রাজনৈতিক পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই।     ইতালি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে ফলপ্রসূ সংলাপ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ না দেওয়ার ঘোষণা ইতালির
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ না দেওয়ার ঘোষণা ইতালির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বহুজাতিক শান্তি সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ইতালি। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির সংবিধানে থাকা অলঙ্ঘনীয় আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই তারা এই বৈশ্বিক উদ্যোগে অংশ নিতে পারছেন না।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে দাভোসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে ১৯টি দেশ এর সনদে স্বাক্ষর করেছে। মূলত গাজার পুনর্গঠন তদারকির উদ্দেশ্যে এই সংস্থাটি গঠনের প্রাথমিক লক্ষ্য জানানো হলেও, এর সনদে সংস্থাটির পরিধি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত করার ইঙ্গিত রয়েছে।   ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাজানি বলেন, “আমরা বোর্ড অব পিসে পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে অংশ নিতে পারছি না কারণ আমাদের সংবিধানে আইনি সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত আছে। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অতিক্রম করা ইতালির জন্য কোনোভাবেই সম্ভব নয়।” ইতালির সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, কোনো একক বিদেশি নেতার অধীনে সরাসরি পরিচালিত কোনো সংস্থায় দেশটি পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দিতে পারে না।   উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুরুতে এই উদ্যোগের প্রতি বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে তিনিও স্বীকার করেছিলেন যে বর্তমান কাঠামোতে ইতালির সংবিধানে বড় ধরনের জটিলতা রয়েছে। মেলোনি আশা করেছিলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প হয়তো এই সংস্থার মূল কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আনবেন। কিন্তু তাজানির সাম্প্রতিক ঘোষণা সেই প্রত্যাশায় পানি ঢেলে দিয়েছে। বিশেষ করে মিলানে শীতকালীন অলিম্পিক চলাকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকের মাত্র একদিন পরেই ইতালির পক্ষ থেকে এমন কড়া সিদ্ধান্ত জানানো হলো।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘বোর্ড অব পিস’-কে অনেকেই বর্তমান জাতিসংঘের একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দেখছেন। এই উদ্যোগ নিয়ে ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো ঘনিষ্ঠ মার্কিন মিত্রদের মধ্যেও যথেষ্ট দ্বিধা রয়েছে। সমালোচকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই সংস্থার মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। ইতালির এই পিছুটান ট্রাম্পের এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   সূত্র: আল জাজিরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0