- প্রচ্ছদ
- Topic
ইতালি
ইতালির রাজধানী রোমে কিপ্পা পরা ২২ বছর বয়সী এক ফরাসি ইহুদি পর্যটককে পরপর দুই দিনে দুবার হামলা করা হয়েছে বলে দাবি সামনে এসেছে। প্রথম ঘটনায় তাকে পেপার স্প্রে করা এবং পরদিন চারজন ঘিরে ধরে লাথি মারার অভিযোগ করা হয়েছে। দুই ঘটনার সময়ই হামলাকারীরা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলে চিৎকার করেছে বলেও ওই পর্যটকের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, গত শুক্রবার রোমের কেন্দ্রস্থলে কিপ্পা পরে চলাচলের সময় প্রথম হামলার শিকার হন ওই পর্যটক। একজন ব্যক্তি তার দিকে পেপার স্প্রে করেন বলে অভিযোগ। হামলার সময় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। পরদিন সন্ধ্যায় প্রথম ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে আবারও তার ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এবার চারজন তাকে ঘিরে ধরে লাথি মারেন এবং এ সময়ও একই স্লোগান দেওয়া হয় বলে তার দাবি। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঘটনার পর ৩১ বছর বয়সী এক আলজেরীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ এবং আরও তিনজনকে খোঁজা হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইতালির প্রধান সংবাদ সংস্থা আনসা কিংবা রোম পুলিশের সহজলভ্য প্রকাশিত তথ্যে এই নির্দিষ্ট দুই দিনের ঘটনার সব বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে পর্যটকের বয়স, হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং দুই হামলার মধ্যে একই ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন কি না, এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার আগে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। রোমে কিপ্পা পরা ব্যক্তিকে হামলার ঘটনা অবশ্য এর আগেও ঘটেছে। গত এপ্রিলে রোমের মারকোনি এলাকার ভিয়া জেরোলামো কারদানোতে কিপ্পা পরা এক ব্যক্তিকে কয়েকজন ঘিরে ধরে হামলা করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল ইতালীয় পুলিশ। ওই ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য এবং পুরো পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছিল। ইতালির অন্য শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে কিপ্পা পরা ইহুদি ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত মার্চে মিলানে কিপ্পা পরা দুই আর্জেন্টাইন ইহুদি পর্যটককে প্রায় ১০ জন ঘিরে ধরে মারধর করার ঘটনায় একজনের নাক ভেঙে যায়। ওই ঘটনায় ইতালীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। রোমের সর্বশেষ অভিযোগটি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলা হয়ে থাকলে তা সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক অপরাধের প্রশ্ন তুলবে। তবে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়া এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ফিলিস্তিনের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান বা স্লোগান নিজে থেকে ইহুদিবিদ্বেষের প্রমাণ নয়, তবে কোনো ব্যক্তিকে তার ইহুদি পরিচয় বা ধর্মীয় পোশাকের কারণে সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু করা হলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং ইতালীয় আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে তদন্ত হতে পারে।
স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউটায় মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসীর নজিরবিহীন অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইতালির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিবাসী সংকটের জেরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার সীমান্ত সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে গত ৩১ জুলাই স্পেনের সঙ্গে সেনজেন চুক্তির অধীনে মুক্ত চলাচল এক মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে। ইতালির এই আকস্মিক পদক্ষেপে সামুদ্রিক ও আকাশপথের প্রবেশদ্বার বন্ধ করার পাশাপাশি স্থল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণও ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। ইতালির এই কড়া পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্পেন। স্প্যানিশ সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইতালির এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ‘অন্যায্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থের পরিপন্থী এবং স্প্যানিশ জনগণের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক’। মাদ্রিদ অবিলম্বে ইতালীয় সরকারকে এই হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার এবং স্প্যানিশ নাগরিকদের অন্যান্য ইউরোপীয় নাগরিকদের মতো সমান চোখে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি, আগামী রোববার (৯ আগস্ট)-এর মধ্যে ইতালি তাদের সীমান্ত চেক প্রত্যাহার না করলে স্প্যানিশ নাগরিকদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার্থে আনুপাতিক পাল্টা ব্যবস্থা বা ‘কাউন্টারমেসার্স’ গ্রহণের কড়া হুমকি দিয়েছে স্পেন। তবে সম্ভাব্য এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপগুলো ঠিক কী হতে পারে, সে বিষয়ে মাদ্রিদ এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিজের এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে একে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে এবং সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে একটি ‘অসাধারণ ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর আগে সেউটা সংকটের পরপরই তিনি অন্যান্য ইইউ নেতাদের সঙ্গে মিলে ভিসা-মুক্ত সেনজেন অঞ্চল থেকে স্পেনকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবিও জানিয়েছিলেন, যদিও আইনগতভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রায় অসম্ভব। স্পেনের দাবি, অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী ফায়দা লুটতেই ইতালির সরকার এ ধরনের দূরত্ব ও নিষ্ফল দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ভাবাবেগ, সাধারণ জ্ঞান এবং পারস্পরিক সদিচ্ছারই জয় হবে। উল্লেখ্য, অভিবাসী অনুপ্রবেশের এই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে। স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেউটায় পৌঁছানো ৭২ হাজার অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এরই মধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন এবং এই সংকটে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের সীমান্তে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ইউরোপের সেনজেন অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ও ঐক্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
থাইল্যান্ডের নাগরিক বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) ইতালির মিলান থেকে ব্যাংককে ফিরছিলেন । ডাবাইয়ে সংযোগকারী ফ্লাইটে ওঠার পর সেখান থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে ছয় ঘণ্টার যাত্রা শুরু হয়। মা ও তার মেয়ে ফ্লাইটে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে জেগে তিনি দেখেন পাশের আসনে বসা পুরুষ যাত্রী তার নিতম্ব চেপে ধরেছেন এবং অশ্লীল কাজ করছেন। অভিযুক্ত যাত্রী পরে বিনোদনের স্ক্রিন সামঞ্জস্য করার ভান করতে থাকেন এবং বারবার তার দিকে তাকাতে থাকেন । মা বিউট পিম্পাপর্ন ফ্লাইটে হৈ চৈ সৃষ্টি না করে ব্যাংকের ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান । ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন । অভিযুক্ত যাত্রী এবং তার সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি ট্যুর গ্রুপের সদস্যরা ক্ষমা চান। অভিযুক্ত যাত্রী কেঁদে তার কাছে ক্ষমা চান এবং তার পায়ে হাত দিয়ে অনুরোধ করেন । কিন্তু কেবিন ক্রুরা বিষয়টি গুরুতর বলে পুলিশকে জানান এবং বিমান থেকে মেয়েটিকে সরিয়ে নেন যেন তিনি ঘটনা দেখতে না পান । বিমান নামার পর ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত রজা আলীকে বিমান থেকে নামিয়ে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান । ডন মুয়াং জেলা পুলিশ স্টেশনের পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামন্যান্ট কঙ্কং জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে থাইল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হবে । ভুক্তভোগী মা তার পরনের কাপড় জমা দিয়েছেন এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । তিনি জানিয়েছেন, তিনি মামলা করতে চান এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন । তিনি তার পরিচয় প্রকাশ করে অন্যান্য নারীদের সতর্ক করেছেন যে একা ভ্রমণের সময় সাবধান থাকতে হবে এবং কোনও অস্বস্তি বোধ করলে সাহসের সাথে প্রতিবাদ করতে হবে । ফ্লাইটটি পরিচালনাকারী সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং চলমান তদন্তের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করছেন না ।
ইতালিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার বসবাসের অনুমতি বাতিল করে ইতালীয় প্রশাসন এই ব্যবস্থা নেয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় পুলিশের তথ্য এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভেনিস বিমানবন্দর থেকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওই বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়। ইতালির আদালতের গোপনীয়তা নীতির কারণে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সূত্রে জানা গেছে, তার নাম মাসুম মিয়া (৫৫)। তার বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার চল্লাবাজ এলাকায়। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গোরিৎসিয়া প্রদেশের মনফালকোন এলাকার একটি শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন। তদন্তে উঠে আসে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালেও তাকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গোরিৎসিয়া আদালত তাকে ৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে ত্রিয়েস্তে আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখেন। রায়ের পর ভুক্তভোগী নারী ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোরিৎসিয়া পুলিশের অভিবাসন বিভাগ তাদের একটি নারী সহায়তা কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ওই বাংলাদেশির ইতালিতে বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়। পরে গোরিৎসিয়ার প্রিফেক্ট তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ জারি করেন। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই মঙ্গলবার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং মনফালকোনের সাবেক মেয়র আন্না মারিয়া সিসিন্ট বলেন, যারা নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা চালায় এবং মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের প্রতি সম্মান দেখায় না, তাদের ইতালিতে থাকার অধিকার নেই। মনফালকোনের বর্তমান মেয়র লুকা ফাসানও ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পরিবারে নারী নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। ইতালিতে বসবাস ও কাজ করতে চাইলে দেশটির আইন এবং সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে। এদিকে মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেটের কনসাল শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই বহিষ্কারের বিষয়ে ইতালীয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবহিত করেনি। তবে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতালির আইন মেনে চলা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
উত্তর আফ্রিকার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটের পর স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত মুক্ত ভ্রমণব্যবস্থার সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্পেন এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করছে। তবে স্পেন সরকার ইতালির এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। মাদ্রিদের দাবি, শেনজেন চুক্তির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে ঘটনাটিকে দেশের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তাদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। এ কাজে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। ইতালির অভিযোগ, স্পেনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ মানবপাচারকারী চক্রকে আরও উৎসাহিত করেছে। তবে স্পেন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংকট মোকাবিলায় সেউতা সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন। একই সঙ্গে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও সীমান্ত এলাকায় টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নতুন করে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সময় পদদলিত হওয়া এবং পানিতে ডুবে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মরক্কোর অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সেউতা ও মেলিলা আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি অঞ্চল অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় সীমান্ত সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেনজেন চুক্তির আওতায় সাধারণভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ সীমান্তে পাসপোর্ট পরীক্ষা বা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে জননিরাপত্তা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাময়িকভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের সুযোগ পায়। ইতালির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই বিধানের আওতায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও ইউরোপীয় মহলে আলোচনা চলছে।
ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেপলসের উপকণ্ঠে ৪ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে (১৭:৪৬ জিএমটি) এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে নেপলস ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, সাময়িকভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি ভবনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলক্যানোলজি (আইএনজিভি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নেপলসের পশ্চিমে অবস্থিত কাম্পি ফ্লেগ্রেই আগ্নেয়গিরি অঞ্চল। ভূগর্ভের মাত্র ৩ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্রস্থল হওয়ায় কম্পনটি বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়। ইতালীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতেও বাসিন্দাদের আতঙ্কিত অবস্থায় বাইরে জড়ো হতে দেখা গেছে। ইতালির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কয়েকটি ভবনে ফাটল ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া কাউকে উদ্ধারের জন্য জরুরি সহায়তার আবেদন আসেনি। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার স্বার্থে নেপলসের কিছু রেলপথ ও মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে সেবা চালু করার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। কাম্পি ফ্লেগ্রেই ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি অঞ্চলগুলোর একটি এবং এটি একটি সুপারভলকানো হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরে সেখানে ভূকম্পন ও ভূত্বকের অস্বাভাবিক নড়াচড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে ইতালির ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই ঘটে। তবে এবারের মতো শক্তিশালী কম্পন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকের ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময়ের ধারাবাহিক ভূকম্পনের কারণে হাজার হাজার মানুষকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছিল। ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে ইতালির অতীতেও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৬ সালে মধ্য ইতালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এরও আগে ১৯৮০ সালে দক্ষিণাঞ্চলের এরপিনিয়া অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হন এবং শত শত শহর ও গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন খরচ এবং আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের এক দম্পতি। নিজেদের বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আশা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই ঋণমুক্ত জীবন শুরু করতে পারবেন। ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের বাসিন্দা ক্রিস্টি-গ্লোরি গ্যালো (কেজি) এবং তার স্বামী রিকার্ডো পারাটা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইতালির তুসকানি অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর লুক্কায় বসবাস শুরু করবেন। দম্পতির দুই সন্তানের বয়স ১১ ও ৭ বছর। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করেছেন তারা। ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, তারা অল্প বয়সেই বিয়ে করেছেন, বাড়ি কিনেছেন, ব্যবসা শুরু করেছেন, ব্যবসা বিক্রিও করেছেন, সম্পত্তি সংস্কার করেছেন এবং পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি দুই সন্তানকে বড় করেছেন। জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রচলিত সব পথই অনুসরণ করেছিলেন তারা। কিন্তু এত কিছুর পরও কাঙ্ক্ষিত আর্থিক স্বস্তি পাননি। তার ভাষায়, "আমরা বসে নিজেদের প্রশ্ন করলাম, এত চেষ্টা করার পরও কেন মনে হচ্ছে আমরা এগোতে পারছি না?" ক্রিস্টি-গ্লোরি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও স্টাইলিং খাতে কাজ করেন। অন্যদিকে রিকার্ডো শিক্ষা খাতে কর্মরত। তারা জানান, প্রতিদিনের খরচ বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরো জীবনযাত্রা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন। ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "প্রতিবার বিল এলে গভীর শ্বাস নিতে হতো। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, সেটাও দেখে নিতে হতো।" তিনি আরও বলেন, তার স্বামীর আয়ের ওপর করের বোঝাও অনেক বেশি হয়ে উঠেছিল। গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে খরচ কমানোর জন্য পরিবারটি নানা উদ্যোগ নেয়। বিনোদনমূলক অনলাইন সেবার সদস্যপদ বাতিল করা, সন্তানের ফুটবল ক্লাব পরিবর্তন করা, অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, "আমরা বিলাসবহুল গাড়ি চালাই না। খুব সাধারণভাবেই জীবন কাটিয়েছি। তারপরও মনে হয়েছে শুধু খরচ কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।" শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নেন, জীবনযাত্রাকে আরও সীমাবদ্ধ না করে বরং নতুন দেশে নতুনভাবে শুরু করবেন। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ ছিল আবাসনের দামের বিশাল পার্থক্য। দম্পতি জানান, ২০২৩ সালে তারা গোল্ড কোস্টে ৫ লাখ ২৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে একটি টাউনহাউস কিনেছিলেন। পরে সেটি সংস্কার করেন। বর্তমানে বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কাছাকাছি। অন্যদিকে ইতালির লুক্কায় তারা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) মূল্যের সম্পূর্ণ সংস্কার করা তিন শয়নকক্ষের একটি বাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের দাবি, বাড়িটিতে নতুন পাইপলাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জানালা ও তাপ নিরোধকসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা আগে থেকেই রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত সংস্কারের প্রয়োজন হবে না। অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি বিক্রি করলে ইতালির নতুন বাড়ি কেনার পরও তাদের হাতে সঞ্চয় থাকবে এবং সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত জীবন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা। পরিবারটির ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পথ সহজ হয়েছে রিকার্ডোর ইতালীয় বংশসূত্রের কারণে। তিনি ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দুই সন্তানও দ্বৈত নাগরিকত্ব অর্জন করেছে। আর ক্রিস্টি-গ্লোরি স্বামীর মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন এবং তিন বছর পর ইতালির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তিনি স্বীকার করেন, এই সুযোগ সবার জন্য সহজলভ্য নয়। ক্রিস্টি-গ্লোরি আরও জানান, জীবনে দুবার মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, "এ ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষকে বদলে দেয়।" তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় অনেক মানুষ বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারটি যখন নতুন জীবনের সুবিধা-অসুবিধার তালিকা তৈরি করে, তখন সবচেয়ে বড় ভয় ছিল ৪০ বছর বয়সে পৌঁছে এই সুযোগ না নেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হওয়া। ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "ওটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।" নতুন জীবনে তারা সন্তানদের নিয়ে আরও বেশি সময় বাইরে কাটাতে, সাইকেল চালাতে, ফুটবল খেলতে এবং ইতালীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যেতে চান। তিনি বলেন, "এখন প্রথমবারের মতো ভবিষ্যতের চাকরি নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে অনেক হালকা লাগছে। আমরা আর ঋণের বোঝা নিয়ে বাঁচব না।" সূত্র: ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন ইতালির রোমে একদল যুবকের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে রোমের তরপিনাতারা এলাকার একটি রাস্তায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে। বনি আমিন সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে ইতালি সফরে গিয়েছিলেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বনি আমিনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। বনি নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পিছু ধাওয়া করে। পরবর্তীতে একটি পার্ক করা গাড়ির সামনে তাঁকে মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। ঘটনার দৃশ্য ধারণ করা ভিডিওতে হামলাকারীদের স্পষ্টভাবে বাংলায় কথা বলতে ও গালিগালাজ করতে শোনা যায়। ভিডিওর কথোপকথনে হামলাকারীরা বনি আমিনকে লক্ষ্য করে 'মৌলবাদী' বলে চিৎকার করছিল এবং আক্রমণ চালানোর জন্য পরস্পরকে প্ররোচিত করছিল। রোমে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কথা জানা গেলেও হামলার মূল কারণ ও জড়িতদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ঘটনা চলাকালে বনি আমিন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। বনি আমিনের জন্ম নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে হলেও তিনি স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বাস করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করাই তাঁর মূল পরিচিতি। সামাজিক মাধ্যমে বিশাল অনুসারি থাকা এই ইউটিউবার ভ্রমণের পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করে থাকেন। ইতালির মতো বিদেশি শহরে একজন বাংলাদেশি প্রবাসী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ওপর এমন শারীরিক সহিংসতার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর প্রবাসী কমিউনিটিতে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে বিচার শুরুর আগেই দেশ ছেড়ে ইতালিতে পালিয়ে যাওয়া লি গিলিকে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানো হচ্ছে না। ইতালির একটি আপিল আদালত তার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত আইনি নিশ্চয়তা চেয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ইতালির বিচারকরা জানতে চেয়েছেন, লি গিলিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর করা হবে না, এ বিষয়ে মার্কিন সরকার কী ধরনের নিশ্চয়তা দিতে পারে। ইতালির আইনে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হওয়ায় এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ৩৯ বছর বয়সী লি গিলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেক্সাসের হিউস্টনে নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ক্রিস্টা বাউয়ার গিলিকে হত্যা করেন তিনি। ওই সময় ক্রিস্টা নয় সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার রাতে লি গিলি পুলিশকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তার মৃত্যু অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে নয়; বরং গলায় চাপ প্রয়োগের কারণে শ্বাসরোধে হয়েছে। এরপরই ঘটনাটি হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই গিলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ১০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্তি পান গিলি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে এবং ইলেকট্রনিক গোড়ালির নজরদারি যন্ত্র (অ্যাঙ্কল মনিটর) পরতে হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ১ মে তিনি সেই নজরদারি যন্ত্র কেটে ফেলেন এবং হিউস্টন থেকে প্রথমে কানাডা, পরে ইতালির মিলানে যান। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইতালিতে প্রবেশের সময় তিনি ভুয়া বেলজিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন এবং নিজের পরিচয় গোপন করতে অন্য একটি নাম ব্যবহার করেন। সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে আটক করে। পরে তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন এবং জানান, যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী হত্যা মামলার বিচার এড়িয়ে তিনি ইতালিতে এসেছেন। ইতালির আদালতে শুনানির সময় গিলি রাজনৈতিক আশ্রয়ও চান। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে ন্যায্য বিচার হবে না এবং মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কায় তিনি ইতালিতে পালিয়ে এসেছেন। যদিও টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর এখন পর্যন্ত জানায়নি যে তারা এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাইবে। তবে ইতালির আদালতের মতে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আদালতে গিলি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমি কাউকে হত্যা করিনি। আমি নির্দোষ। আমি যে অপরাধ করেছি, তা হলো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া।" এদিকে, ক্রিস্টা বাউয়ার গিলির পরিবারের আইনজীবী টিম ব্যালেঞ্জি বলেন, অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে হতাশ। তাদের প্রত্যাশা ছিল আদালতে বিচার হবে এবং ক্রিস্টা ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যুর জন্য অভিযুক্তকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা যাবে। হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গিলিকে যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতালির আদালত মার্কিন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তা দিতে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এরপরই তার প্রত্যর্পণ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র: পিপল, কেপিআরসি ২ নিউজ।
গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুতর অভিযোগে ইতালিতে নিযুক্ত রুশ দূতাবাসের দুই সামরিক কর্মকর্তাকে (অ্যাটাশে) বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী তিন দিনের মধ্যে ওই দুই রুশ কর্মকর্তাকে রোম ছাড়তে হবে। ঘটনার সূত্রপাত চলতি সপ্তাহের শুরুতে। এক সন্দেহভাজন রুশ এজেন্টের কাছে রাষ্ট্রীয় গোপন ও শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পাচারের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইতালির সামরিক পুলিশ বাহিনী 'কারাবিনিয়ারি'-এর একজন সাবেক কর্মকর্তা। এ ছাড়া এই গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি রুশ কর্মকর্তাদের দেশ ছাড়ার এই নির্দেশের কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, মস্কো ক্রমাগতভাবে ইতালি এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে 'হাইব্রিড টুলস' বা বহুমাত্রিক কৌশল ব্যবহার করে আসছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে তিনি 'গুরুতর এবং অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ' বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা ইতালির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি। এদিকে, ইতালির এই বহিষ্কারাদেশের পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইতালির সরকারের এই পদক্ষেপ বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না এবং তারা শিগগিরই নিজেদের পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই ঘটনার জেরে রোম ও মস্কোর মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না তার দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার নিজেদের এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতালির প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। মেলোনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের শুরু থেকেই ইতালি এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ অবস্থান বজায় রেখেছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকেই আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেব না।" উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও মধ্যপ্রাচ্যগামী মার্কিন সামরিক বিমানকে সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি দেয়নি ইতালি। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে নিজেদের দূরে রাখার বার্তা আগেই স্পষ্ট করেছিল রোম। এদিকে, আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন মেলোনি। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে যে রাজনৈতিক বিনিয়োগ তিনি করেছিলেন, তা নিয়ে কোনো অনুশোচনা বা দ্বিতীয় চিন্তা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মেলোনি সাফ জানান, তিনি যা করেছেন তা নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রথমবার প্রকাশ্যে মেলোনির সমালোচনা করেছিলেন। এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ লিও চতুর্দশের অবস্থান ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ইতালির এই প্রধানমন্ত্রী।
ইতালির ভেনিসে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের মাতুরিতা (Maturità) পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ পেয়ে কলেজের সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন বাংলাদেশি তরুণী শাকিরা শাওন রহমান। ভেনিসের ঐতিহ্যবাহী আন্তোনিও পাচিনোত্তি কলেজ থেকে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের মেধার স্বাক্ষরই রাখেননি, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এশিয়া পোস্ট নিউজ জানিয়েছে, মাতুরিতা পরীক্ষায় পুরো কলেজের সব শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছেন শাকিরা। তার এই কৃতিত্ব ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। শাকিরার শিক্ষাজীবনের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও সংগ্রামের গল্প। ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ও-লেভেল (এসএসসি সমমান) সম্পন্ন করার পর ২০২১ সালে পরিবারের সঙ্গে ইতালিতে পাড়ি জমান তিনি। নতুন দেশ, নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষার পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ইতালিতে যাওয়ার পর তিনি প্রথমে ইতালীয় ভাষার বি-১ স্তরের কোর্স সম্পন্ন করেন। একই সময়ে শেষ করেন এ-লেভেলও। এরপর ভর্তি হন ভেনিসের সুপরিচিত আন্তোনিও পাচিনোত্তি কলেজে। সেখানে নিয়মিত পড়াশোনা, ভাষাগত দক্ষতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি মাতুরিতা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেন। নিজের সাফল্য নিয়ে শাকিরা বলেন, নতুন একটি দেশে এসে ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। ভবিষ্যতে তিনি একজন ফার্মাসিস্ট হতে চান এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নয়, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখছেন শাকিরা। বর্তমানে তিনি ভেনিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘আমাদের পাঠশালা’-তে শিক্ষকতা করছেন। সেখানে তিনি শিশু-কিশোরদের পাঠদান করছেন এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিচ্ছেন। প্রবাসজীবনের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শাকিরার এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তার এই অর্জন ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি এক ব্যক্তিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে দেশটির পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার করা দুটি পোস্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, পোস্টগুলোর বিষয়বস্তু এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ইতালীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও জেলার কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্টিলিওর একটি ফ্ল্যাট থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ৩৯ বছর বয়সী কামাল উদ্দিন, তার ৩৮ বছর বয়সী স্ত্রী আরজু এবং তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে আলিসিয়া। হামলায় গুরুতর আহত হন দম্পতির ১৮ বছর বয়সী ছেলে ওনিয়ন। তাকে দ্রুত রোমের পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকলেও বর্তমানে তার জীবন আশঙ্কামুক্ত। ইতালীয় পুলিশ এ ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি ১৯৮৩ সালের ১০ মে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে, ২৫ জুন রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে সন্দেহভাজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি বার্তা পোস্ট করেন। একটি পোস্টে লেখা ছিল, "একজন মানুষ একা মারা যায় না।" অন্যটিতে লেখা ছিল, "মৃত্যুর সময় প্রিয়জনদের সঙ্গেই মারা যাওয়া উচিত, যাতে কাউকে আর কারও জন্য কষ্ট পেতে না হয়।" হত্যাকাণ্ডের পর ওই পোস্টের নিচে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, "তুমি একজন খারাপ মানুষ। তুমি ফেরাউন।" তদন্তকারীরা পোস্টগুলোকে মামলার আলামত হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। তবে এগুলো হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সন্দেহভাজনকে ধরতে রোমজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ইতালির পুলিশ ও কারাবিনিয়েরি বাহিনী। তার ছবি প্রকাশ করে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৪০টির বেশি তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। রোমের বিভিন্ন সড়ক, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং বিমানবন্দরে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের উপকণ্ঠের পরিত্যক্ত ভবন ও গ্রামীণ এলাকায়ও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনের সাম্প্রতিক গতিবিধি, পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মোবাইল ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের রাতে তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কাসালোত্তি এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো কুড়ালসদৃশ অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলায় সেটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। অস্ত্রটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতালীয় পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তথ্য রয়েছে এমন ব্যক্তিদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বিপাক্ষিক বিরোধটি ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগমুহূর্তে আরও একবার নতুন করে উসকে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মেলোনির একটি সম্পাদিত ছবি পোস্ট করে ট্রাম্প কড়া মন্তব্য করার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মূল ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সপ্তাহে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে সাম্প্রতিক জি-সেভেন সম্মেলনে জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের এই দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ইতালি কখনো কারও কাছে হাত পাতে না। মেলোনির এই জবাবের পর ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে ইঙ্গিত করা হয় যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহী। ছবিটির ক্যাপশনে ট্রাম্প লেখেন যে মেলোনির বিরুদ্ধে এখন একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা বা রেস্ট্রেইনিং অর্ডার জারি করা প্রয়োজন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলোনি বলেন যে তিনি আমেরিকার বিরোধী নন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে পশ্চিমা বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তবে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবসময় স্পষ্টভাষী ও খোলামেলা কথা বলা পছন্দ করেন এবং দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই কুরুচিপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বাদানুবাদের জেরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদক্ষেপে ইতালির সমর্থন না দেওয়া এবং দ্বিপাক্ষিক নীতিগত পার্থক্যের কারণে দুই নেতার মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটোর ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলনে এই দুই বিশ্ব নেতার মুখোমুখি বসার কথা রয়েছে।
ইতালির একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশি তরুণ জুবায়ের হাসান সনেটকে ঘিরে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওর একটি সংক্ষিপ্ত অংশে তাকে কয়েকজন ভারতীয়কে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং জুবায়েরকে ক্ষমা চাইতে বলে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুবায়ের ও বাংলাদেশকে নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা শুরু হয়। তবে জুবায়ের দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুরো ঘটনার চিত্র তুলে ধরে না। নিজের প্রকাশিত ভিডিওতে জুবায়ের বলেন, তিনি ইতালির একটি পিজার দোকানে কাজ করেন। তার দাবি, কয়েকজন ভারতীয় ক্রেতা খাবার খাওয়ার পর অতিরিক্ত অর্ডারের বিল বাদ দিয়ে কম বিল করার অনুরোধ করেন। তিনি এতে রাজি না হলে তাকে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। এরপর উত্তেজিত হয়ে তিনি আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন, যার একটি অংশ ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জুবায়েরের অভিযোগ, পুরো ঘটনার পরিবর্তে শুধু ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের একটি অংশ ভাইরাল হওয়ায় ঘটনাটি একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। পরে তিনি ভিডিও বার্তা ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তবে ভারতীয় ক্রেতাদের বিরুদ্ধে জুবায়েরের আনা অভিযোগ কিংবা ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্ট বা ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই সম্পূর্ণ ভিডিও প্রকাশ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার স্বপ্ন যখন ক্রমেই অধরা হয়ে উঠছিল, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নেয় এক মার্কিন পরিবার। তারা ইতালির মধ্যাঞ্চলের আব্রুজ্জো অঞ্চলের একটি ছোট্ট গ্রামে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন ডলারে একটি বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করে। এখন তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক স্বস্তিই নয়, জীবনকে নতুনভাবে উপভোগ করার সুযোগও এনে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাসান্দ্রা ট্রেসল বলেন, ২০২০ সালে মেয়ের জন্মের পর তিনি ও তাঁর স্বামী অ্যালেক্স নিনম্যান ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবতে শুরু করেন। সে সময় তারা নিউইয়র্কে মাসে দুই হাজার ডলার ভাড়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। নিউইয়র্কের হিসাবে ভাড়াটি তুলনামূলক কম হলেও, সেখানে নিজস্ব বাড়ি কেনার মতো অর্থ জোগাড় করা তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ট্রেসলের ভাষায়, নিউইয়র্কে একটি বাড়ির ডাউন পেমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সঞ্চয়ের কোনো বাস্তবসম্মত পথ তিনি দেখছিলেন না। সেই কারণেই বিদেশে বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে খোঁজ শুরু করেন তারা। নানা দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ইতালির আব্রুজ্জো অঞ্চলকেই বেছে নেন, যেখানে পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলক কম এবং স্থানীয় জীবনযাত্রা এখনও অনেকটাই স্বাভাবিক। ২০২২ সালে তারা প্রায় ১৩ হাজার ডলারে বাড়িটি কিনে নেন এবং ২০২৩ সালে পরিবারসহ সেখানে স্থায়ীভাবে চলে যান। বাড়িটি কেনার পর সংস্কার ও সাজসজ্জায় আরও প্রায় ১৫ হাজার ইউরো ব্যয় করেন। পুরো বাড়ির পানির লাইন নতুন করে বসানোই ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাজ, যার জন্য প্রায় তিন হাজার ডলার খরচ হয়। পরিবারটি যে গ্রামে বসবাস করছে সেখানে জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন। রাজধানী রোম থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত পাহাড়ি এই জনপদে পর্যটকদের আনাগোনা কম হলেও স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশ বেশ প্রাণবন্ত বলে জানান ট্রেসল। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল এমন একটি জায়গায় বসবাস করা, যেখানে ব্যস্ত নগরজীবনের পরিবর্তে শান্ত পরিবেশে পরিবারকে সময় দেওয়া যাবে। ইতালিতে যাওয়ার পর তাদের মাসিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ট্রেসলের মেয়ের পূর্ণকালীন প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খরচ মাসে মাত্র ৭০ ডলার। বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১৭০ ডলার, পানির বিল প্রায় ৮০ ডলার এবং ইন্টারনেটের জন্য দিতে হয় মাত্র ১৫ ডলার। প্রতিটি মোবাইল ফোন সংযোগের মাসিক খরচ প্রায় ১৪ ডলার। এদিকে তারা একই এলাকায় আরও একটি বাড়ি প্রায় ২০ হাজার ডলারে কিনেছেন। পরে সেটি সংস্কারে আরও প্রায় ১৭ হাজার ডলার ব্যয় করা হয়। বর্তমানে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক হাজার ১০০ ডলার আয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রেসল। পেশাগত জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। নিউইয়র্কে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি ইতালির একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কাজ করছেন। আগের তুলনায় আয় কিছুটা কম হলেও, জীবনযাত্রার মান এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়কে তিনি এখন বেশি মূল্য দেন। ট্রেসলের মতে, ছোট শহরের জীবন তাঁকে বুঝতে শিখিয়েছে যে সবকিছু নিয়ে প্রতিনিয়ত দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। ধীরগতির এই জীবন তাঁকে মানসিকভাবে অনেক বেশি স্বস্তি দিয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে ইতালীয় ভাষা শেখা এবং তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও এই নতুন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পরিবারের বেশির ভাগ কেনাকাটা স্থানীয় বাজার থেকেই করা হয়। ট্রেসলের দাবি, সেখানে পাওয়া মাংস ও পনিরের মান যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভালো। দুই কুকুর ও দুই বিড়ালসহ পুরো পরিবারের সাপ্তাহিক বাজার খরচ প্রায় ১৪০ ডলার। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের জন্য মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়, তবুও স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ট্রেসলের ভাষায়, সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো নিজের বাড়ির জন্য আর কোনো ঋণ বা মাসিক কিস্তি দিতে হয় না। নগদ অর্থে বাড়ির মালিক হওয়ায় আর্থিক চাপ কমেছে এবং জীবনের অগ্রাধিকারও বদলে গেছে। তিনি বলেন, আগে ক্যারিয়ারকে ঘিরেই সব চিন্তা ছিল। এখন পরিবার, মানসিক শান্তি এবং নিজের পছন্দের কাজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, ইতালির ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাসের অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করিয়েছে, জীবনের সবকিছু এতটা জটিল বা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ইতালির আগ্রিজেন্তো শহরে পাঁচ স্বদেশি যুবককে যৌন নিপীড়ন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের দায়ে ৩৯ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। প্রাথমিক শুনানিতে বিচারক মিশেল ডুবিনি এই কঠোর রায় ঘোষণা করেন। সরকারি কৌঁসুলি এলেত্রা কনসোলি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় অপরাধীর ১২ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে অপরাধের ভয়াবহতা ও মাত্রা বিবেচনায় আদালত শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ১৪ বছর নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পরিবারহীন ও অসহায় অবস্থায় ইতালিতে পাড়ি জমানো প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকদের চরম দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। তিনি প্রথমে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে তাদের নিজের বাসায় বা আশপাশে আশ্রয় দেন এবং ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ডেকে নিয়ে সহিংসতা, প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দিনের পর দিন যৌন নিপীড়ন চালান। জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে। ভুক্তভোগী পাঁচ যুবকের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এমনকি নিজের আত্মরক্ষার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে এক ভুক্তভোগীকে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়েছিলেন বলেও ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে। অপরাধ আড়াল করতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীদের ওপর নিয়মিত মানসিক চাপ ও হুমকি প্রয়োগ করতেন। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পুলিশ এক ভুক্তভোগীকে তথ্যদাতা হিসেবে থানায় তলব করলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে পুরো ঘটনা গোপন রাখতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। তিনি ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বলেন, পুলিশের কাছে মুখ খুললে বা সাক্ষ্য দিলে তাকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী সালভাতোরে পেনিকা আদালতে দাবি করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। তিনি খালাসের আবেদন জানানোর পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে গুরুতর অভিযোগগুলো বিবেচনায় না নিয়ে আসামিকে ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় গৃহবন্দি রাখার আবেদন করেন। তবে অপরাধের অকাট্য প্রমাণ থাকায় আদালত সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই বাংলাদেশি বর্তমানে ইতালির কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ইতালিতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইতালির আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং আগামী সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার গরমজনিত কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে লোদি অঞ্চলে মাঠে কাজ করার সময় ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পিয়াচেঞ্জা প্রদেশের একটি আঙুরখেতের ৬১ বছর বয়সী কৃষক, গারলাসকোর ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, নেপলসের এক গৃহহীন ব্যক্তি এবং পাদোভার এক শ্রমিক। এসব ঘটনার পর দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু জনস্বাস্থ্যে নয়, পর্যটন খাতেও পড়তে শুরু করেছে। ফ্লোরেন্সের ঐতিহাসিক উফিজি গ্যালারির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন পর্যটনের ভর মৌসুমে এমন পরিস্থিতি পর্যটন খাতে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওরাজিও শিল্লাচি জরুরি কারিগরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রবীণ, শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তীব্র গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে আব্রুজ্জো অঞ্চলের পেসকারা ও তেরামো এলাকায় শত শত পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছে। কোথাও কোথাও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে, যা নগর জীবনে বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উষ্ণ বায়ুপ্রবাহের কারণে ইতালিতে এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে দেশটির উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপপ্রবাহের অন্যতম উদ্বেগজনক দিক হলো রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকা। অনেক এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না, যা মানবদেহের স্বাভাবিক বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দেশজুড়ে কঠোরতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার এবং পর্যাপ্ত পানি পানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ইতালির একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে এক বাংলাদেশি ওয়েটারের ভারত-বিরোধী ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ভারতীয় তরুণীদের সাথে তীব্র বাগ্বিতণ্ডার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার বা নেটপ্রভাবী খুশি দুবের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর তা নেটদুনিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাংলাদেশি ওয়েটারের চরম দুর্ব্যবহার এবং ভারত নিয়ে অশালীন মন্তব্যের মুখে ভারতীয় তরুণীরা শক্ত অবস্থানে থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। প্রকাশিত ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ইতালির ওই রেস্তোরাঁয় বিল পরিশোধ করার সময় হোসেন নামের ওই বাংলাদেশি ওয়েটার ভারতীয় তরুণীদের সাথে হঠাৎ করেই অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ এবং তর্ক শুরু করেন। বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই ওয়েটার সরাসরি ভারত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন এবং তরুণীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে তারা তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। এই ভারত-বিরোধী ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শোনার পর দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন খুশি দুবে এবং তার সাথে থাকা বান্ধবীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষোভে ফেটে পড়া খুশিকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, "টাকা দিয়ে চল, না হলে আমি ওকে চড় মেরে দেব।" চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় তরুণীরা পিছু হটেননি, বরং তারা ওই ওয়েটারের দেশবিরোধী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন এবং তার অশালীন মন্তব্যের জন্য যথাযথ কৈফিয়ত দাবি করেন। তবে ঘটনার মূল সূত্রপাত ঠিক কী কারণে হয়েছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই নির্দিষ্ট ভিডিওটি থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ভিডিওটির পরবর্তী অংশে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে রেস্তোরাঁয় ইতালীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে খুশি ও তার বান্ধবীরা ওয়েটার হোসেনের মুখোমুখি হন এবং তাকে তার করা সমস্ত ভারত-বিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য সবার সামনে স্বীকার করার জন্য চাপ দেন। একই সাথে তারা পুলিশকে জানান যে, ভারতকে নিয়ে করা এই কটূক্তির জন্য ওই ওয়েটারকে অবশ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। হোসেন প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানালেও ভারতীয় তরুণীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। খুশি দুবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ওই ওয়েটারকে বার বার বলতে বাধ্য করেন, "বলো, ভারতের উদ্দেশে কটু কথা বলার জন্য আমি দুঃখিত।" শেষ পর্যন্ত ভারতীয় তরুণীদের অনড় অবস্থানের মুখে পড়ে সেই বাংলাদেশি ওয়েটার সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। ভিডিওটি অনলাইনে আসার পর থেকে নেটাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এই ভারতীয় তরুণীদের সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে তাদের ‘ভারতের সিংহী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ইতালিজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের ১৫টি শহরে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আক্রান্ত শহরগুলোর মধ্যে রাজধানী রোম এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র মিলানও রয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জারি করা এই সতর্কতাকে সর্বোচ্চ মাত্রার জনস্বাস্থ্য সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে লাল সতর্কতার আওতায় থাকা শহরের সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ১৬-তে পৌঁছাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের তীব্রতা বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং উষ্ণ বায়ুপ্রবাহের কারণে অনেক অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণের জন্য বেশ কিছু সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। নাগরিকদের হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ভেজানো বা শরীরে পানি ছিটিয়ে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান এবং পানিশূন্যতা থেকে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে চরম আবহাওয়া একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইতালির সর্বশেষ এই সতর্কতা সেই উদ্বেগকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন পরিবেশ ও জলবায়ু বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের বরাতে জানা গেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন হলে আরও কিছু শহরকে সতর্কতার আওতায় আনা হতে পারে।
ইতালির রাজধানী রোমের উপকণ্ঠে সরকারি জমিতে চলা একটি অবৈধ খননের সূত্র ধরে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন রোমান যুগের একটি বিলাসবহুল ভিলা। ভিলাটিতে পাওয়া গেছে চমৎকার মোজাইক মেঝে, মার্বেলের অলংকরণ এবং মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যা রোমান সাম্রাজ্যের অভিজাত জীবনযাত্রার নতুন প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ভিলাটি কাস্তেল দি গুইদো গ্রামের কাছে অবস্থিত। রোম থেকে প্রায় ১২ মাইল দূরের এই এলাকাটি রোমান সাম্রাজ্যের সময় ‘লোরিয়াম’ নামে পরিচিত ছিল, যেখানে রাজপরিবার ও অভিজাতদের আবাসস্থল ছিল। এখনও খনন ও গবেষণা চললেও ইতোমধ্যে একটি বিশাল প্রবেশদ্বার, কেন্দ্রীয় আঙিনা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি জলাধার উন্মোচিত হয়েছে। এসব স্থাপনার চারপাশে কালো-সাদা নকশার উদ্ভিদ ও জ্যামিতিক অলংকরণে সাজানো মোজাইক মেঝে পাওয়া গেছে। ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে এই অঞ্চল সম্রাট হ্যাড্রিয়ান, অ্যান্টোনিনাস পিয়াস এবং মার্কাস অরেলিয়াসের মতো শাসকদের নিয়মিত যাতায়াতের স্থান ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর কর্তৃপক্ষকে জানান। তদন্তে গিয়ে ইতালির সামরিক পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরি দেখতে পায়, প্রত্নসম্পদ লুটের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অবৈধ খননের একাধিক লক্ষণ সেখানে রয়েছে। রাতের বেলা কাজ চলা, মাটির স্তূপ এবং অনুমোদিত খননের কোনো চিহ্ন না থাকায় কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরে জানা যায়, একদল ব্যক্তি খননযন্ত্র ব্যবহার করে বেড়া কেটে সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ একটি বিশাল স্থানে খনন চালাচ্ছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযান বন্ধ করা হলেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। সেখানে আবিষ্কৃত হয় আগে অজানা একটি প্রাচীন ভিলার ধ্বংসাবশেষ, যেখানে বহু নিদর্শন প্রায় অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। ইতালির সংস্কৃতিমন্ত্রী আলেসান্দ্রো জিউলি বলেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ খনন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং একই সঙ্গে রোমান সাম্রাজ্য যুগের একটি অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান মিলেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক আলেসিয়া কন্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিলাটিতে বিলাসবহুল মোজাইক, সূক্ষ্ম মার্বেল অলংকরণ এবং রোমান গ্রামীণ দেবতা সিলভানাসের একটি ভাস্কর্যের অংশ পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভিলাটি রোমান অভিজাত শ্রেণির এমন সদস্যদের ছিল, যাদের সঙ্গে সম্রাটের দরবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ খননের সময় কিছু অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো প্রত্নবস্তু চুরি হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নসম্পদ লুটের ঘটনা ঘটে আসছে। চোরাকারবারিদের মাধ্যমে এসব নিদর্শনের অনেকগুলো বিদেশে পাচার হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে পৌঁছেছিল। পরবর্তীকালে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ইতালিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। খননকাজ এখনও চলমান রয়েছে। শনিবার প্রথমবারের মতো নির্ধারিত সময়সূচির মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করা হবে। আগামী কয়েক মাসে আরও দর্শনসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।