সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইমিগ্রেশন

ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক
দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পাচ্ছে ২৩ দেশের নাগরিক, বাংলাদেশীদের জন্য দুঃসংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল এন্ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত যাত্রীরা সাধারণ ইমিগ্রেশন লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর সৌদি আরবকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অংশীদার দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই।   মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচি মূলত আগে থেকে নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনুমোদিত এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য। এই কর্মসূচির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারী বিমানবন্দরে পৌঁছে বিশেষ গ্লোবাল এন্ট্রি পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে পারেন। এতে দীর্ঘ ইমিগ্রেশন লাইনে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। তবে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না এবং প্রয়োজনীয় ভিসার বিকল্পও নয়।   সিবিপির ২৭ অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রির ২৩টি আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশ হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক নেক্সাস কর্মসূচি রয়েছে, যার অনুমোদিত সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্তে গ্লোবাল এন্ট্রির সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।   বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনো গ্লোবাল এন্ট্রির আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও মার্কিন ভিসা থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ গ্রিন কার্ডধারী, তাঁরা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন। কারণ মার্কিন নাগরিক ও লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য নয়।   গ্লোবাল এন্ট্রির সদস্যপদ পেতে আবেদনকারীকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাস্টেড ট্রাভেলার প্রোগ্রামসের সরকারি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ১২০ ডলার, যা ফেরতযোগ্য নয়। এরপর আবেদনকারীর অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড, ইমিগ্রেশন ইতিহাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। প্রাথমিক অনুমোদনের পর সিবিপির কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি ইন্টারভিউ দিতে হয়। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পাঁচ বছরের জন্য সদস্যপদ কার্যকর থাকে।   অপ্রাপ্তবয়স্করাও অভিভাবকের সম্মতিতে আবেদন করতে পারে। অভিভাবক আগে থেকেই অনুমোদিত সদস্য হলে অথবা তাঁর আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে নির্ধারিত শর্তে ১৮ বছরের কম বয়সীদের আবেদন ফি মওকুফ হতে পারে। গ্লোবাল এন্ট্রির অনুমোদিত সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নির্দিষ্ট শর্তে টিএসএ প্রিচেক সুবিধাও পেতে পারেন। এতে বিমানবন্দরের সিকিউরিটি চেকিং প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে।   সিবিপি জানিয়েছে, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচিতে সদস্যপদ পাওয়ার পরও নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই চলতে থাকে। ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস আইন লঙ্ঘন করলে সদস্যপদ বাতিল করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

বায়জিদ হাসান নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০ 0
বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়েও আইসিইর হাতে আটক ইউসি বার্কলের শিক্ষার্থী
বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়েও আইসিইর হাতে আটক ইউসি বার্কলের শিক্ষার্থী, মুক্তির আবেদন আইনজীবীর

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এসএফও) ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হাতে আটক হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের (ইউসি বার্কলে) ২৩ বছর বয়সী এক মেধাবী শিক্ষার্থী।   পলা আলবোর্নোজ হার্নান্দেজ নামের ওই কলম্বিয়ান তরুণী বৈধভাবে আশ্রয়ের আবেদনকারী হওয়া সত্ত্বেও গত শুক্রবার পোর্টল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায় থাকার সময় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি কার্ন কাউন্টির ক্যালিফোর্নিয়া সিটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রয়েছেন বলে তার আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।   হার্নান্দেজের প্রেমিক অ্যান্থনি জানান, আইসিই এজেন্টরা আটকের সময় দাবি করেন যে হার্নান্দেজের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আটকের পর তাকে স্টকটন ও স্যাক্রামেন্টোর বিভিন্ন বন্দিশালায় ঘোরানোর পর ক্যালিফোর্নিয়া সিটিতে স্থানান্তর করা হয়। তবে হার্নান্দেজের আইনজীবী নিকোলাস ডি ব্রেম্যাকার এই আটকের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, ২০২২ সালে কলম্বিয়ায় যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তার মক্কেল সমস্ত অভিবাসন নিয়ম মেনে চলেছেন।   নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন, সরকারের কাছে বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেন এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট লাভ করেন। বিনা পরোয়ানায় এই আটককে বেআইনি দাবি করে সোমবার রাতে তার মুক্তির জন্য হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দায়ের করেছেন এই আইনজীবী।   সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন সেফ ক্যালিফোর্নিয়া’ নামক ৪৫ দিনব্যাপী অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবেই এই ধরপাকড় চালানো হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, এই আটকের ঘটনায় ইউসি বার্কলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিচার্ড কে. লিয়ন্স শনিবার কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে হার্নান্দেজের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, হার্নান্দেজ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বার্কলেতে পড়ার সুযোগ অর্জন করেছেন এবং এই আটকাদেশ তার শিক্ষাজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। উল্লেখ্য, হার্নান্দেজ সান হোসে সিটি কলেজ থেকে ডিগ্রি নেওয়ার পর বর্তমানে ইউসি বার্কলেতে এমবিএ করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গবেষণা করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০ 0
ভুয়া ইমিগ্রেশন ল ফার্ম পরিচালনা করে অভিবাসীদের প্রতারণা এবং জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগপত্র
অরল্যান্ডোতে ভুয়া ইমিগ্রেশন ল ফার্ম করে প্রতারণা এবং সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেলের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোতে ভুয়া ইমিগ্রেশন ল ফার্ম পরিচালনা করে অভিবাসীদের প্রতারণা এবং জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ব্রাজিল ও কিউবার নাগরিক। তাঁদের বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড, ভিসা জালিয়াতি, ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং অনুমোদনহীন অভিবাসীদের নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অরল্যান্ডোভিত্তিক লিগ্যাসি ইমিগ্রা সলিউশনস এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিত। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ, অ্যাসাইলাম এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন সুবিধা পেতে আগ্রহী অভিবাসীদের তারা আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিত। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের ভুল ও অসম্পূর্ণ আইনি পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডকুমেন্ট জাল করত।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাগনার সোয়ারেস ডি আলমেইদা ও তাঁর স্ত্রী জুলিয়ানা কোলুচি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আলমেইদা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ব্যবসাটির মালিক ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই সময় প্রতিষ্ঠানটি অভিবাসীদের ইমিগ্রেশন আবেদন ও আইনি সহায়তার নামে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার দাবি করত। অভিযোগপত্রে ৫৪ বছর বয়সী আলমেইদা, ৪৭ বছর বয়সী জুলিয়ানা কোলুচি, ৩৪ বছর বয়সী লুকাস ফেলিপে ত্রিনদাদে সিলভা এবং ৩৫ বছর বয়সী রোনালদো ডি ক্যাম্পোসের বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্র ও ওয়্যার ফ্রডের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণা এবং অনুমোদনহীন অভিবাসীদের নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু অভিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। জাল তথ্য ও নথিপত্র ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি নেই, এমন ব্যক্তিদের জেনেশুনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও চার কর্মীর বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড ও ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। সব মিলিয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ফেডারেল অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।   এর আগে গত এপ্রিলে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের অফিস প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় শেরিফ জন মিনা জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন বছরে দুই কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। অভিযোগকারী কয়েকজন গ্রাহকের প্রত্যেকে আড়াই হাজার থেকে ২৬ হাজার ডলার পর্যন্ত হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশই ব্রাজিলীয় নাগরিক বলে স্থানীয় তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন। ফেডারেল আইনে ওয়্যার ফ্রড এবং এর ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর, বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণার ষড়যন্ত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং অনুমোদনহীন অভিবাসীদের বেআইনিভাবে নিয়োগের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, আইআরএসের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, ইউএসসিআইএস, আইসিই, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে মামলাটির তদন্ত করছে। ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটর বিয়াঙ্কা বানসাল মামলাটি পরিচালনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত আইনি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনজীবীর লাইসেন্স যাচাই করার গুরুত্বও সামনে এনেছে ঘটনাটি। ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে বৈধভাবে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট স্টেট বার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, ফেডারেল অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিস, ২ নভেম্বর ২০২৬; ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো

সামিয়া ইসলাম নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০ 0
নিজের দেশেই পরবাসী! যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও ১০ মাস ধরে আইসিইর বন্দিশিবিরে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক
নিজের দেশেই পরবাসী! যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও ১০ মাস ধরে আইসিইর বন্দিশিবিরে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) প্রায় দশ মাস ধরে ৩৯ বছর বয়সী এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে আটকে রেখেছে এবং তাকে জ্যামাইকায় ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) চেষ্টা করছে। ফিলিপ জেমস (যিনি ফেলিবি সিয়াঘা-কোক নামেও পরিচিত) নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে জ্যামাইকার নাগরিক বলে দাবি করলেও, তার পরিবার, আইনজীবী এবং সরকারি নথিপত্র নিশ্চিত করে যে তিনি জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নাগরিক।   আইন অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের আটক করার কোনো এখতিয়ার আইসিই-এর নেই। সাধারণত পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে কাউকে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য আটকে রাখা হতে পারে, তবে একজন মার্কিন নাগরিককে প্রায় দশ মাস বন্দি রাখার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জেমসের মার্কিন নাগরিকত্বের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ব্যবহার করা মার্কিন পাসপোর্টটি পাওয়ার জন্য জেমস ফ্লোরিডার যে জন্মনিবন্ধন সনদটি জমা দিয়েছিলেন, তা ভুয়া ছিল। তবে এই দাবির সপক্ষে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।   অন্যদিকে, চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেমস প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত এবং তার জ্যামাইকান হওয়ার দাবিটি মূলত মানসিক অসুস্থতাজনিত একটি বিভ্রম। তিনি নিজেকে জ্যামাইকার এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সন্তান এবং লেবাননের রাজপরিবারের বংশধর বলেও দাবি করেছেন, যার কোনো ভিত্তি নেই। জ্যামাইকা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের দেশে জেমসের জন্ম বা নাগরিকত্বের কোনো রেকর্ড নেই।   বর্তমানে জেমসকে ইন্ডিয়ানার বাঙ্কার হিলে অবস্থিত আইসিই-এর ‘স্পিডওয়ে স্ল্যামার’ নামক একটি বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছে। তার আইনজীবীরা তাকে জ্যামাইকায় ডিপোর্ট করার আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন এবং মুক্তির জন্য একটি ফেডারেল বিচারকের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনাটি আইসিই-এর নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার চরম গাফিলতি এবং মানসিক ভারসাম্যহীনদের প্রতি অমানবিক আচরণের এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। সঠিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভুক্তভোগীর বিভ্রান্তিকর কথার ওপর ভিত্তি করে তাকে দেশছাড়া করার এই সরকারি প্রচেষ্টা মার্কিন বিচারব্যবস্থা ও অভিবাসন নীতির কঠোরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে আইস-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ব্রুকলিন সেতু, পুলিশের হাতে আটক ডজনখানেক
যুক্তরাষ্ট্রে আইস-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ব্রুকলিন সেতু, পুলিশের হাতে আটক ডজনখানেক

নিউইয়র্কের বিখ্যাত ব্রুকলিন সেতুতে প্রকাশ্য দিবালোকে যান চলাচল অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর বিরোধীরা। বুধবার এই আকস্মিক অবরোধের জেরে ওই এলাকায় চরম যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং ডজনখানেকেরও বেশি আন্দোলনকারীকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, প্রায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন আন্দোলনকারীর একটি দল ব্রুকলিন সেতুর ওপর বাবু হয়ে বসে রাস্তা আটকে রেখেছেন। এ সময় তারা নিউইয়র্ক পুলিশ ও আইসের সমালোচনা করে "এনওয়াইপিডি, কেকেকে, আইস, এরা সবাই এক!" বলে স্লোগান দিতে থাকেন।   বিক্ষোভকারীদের পরনে থাকা শার্টে "আমার প্রতিবেশীকে দেখেছেন কি?" এবং "অবিলম্বে নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই"-এর মতো প্রতিবাদী বার্তা লেখা ছিল। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, আটকের সময় অন্তত একজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ সদস্যরা রীতিমতো পাঁজাকোলা করে ক্রুজারে তুলে নিয়ে যান, তবে অনেকেই স্বেচ্ছায় পুলিশের সাথে গাড়িতে ওঠেন।   বিক্ষোভকারীদের এই জমায়েতের মূল দাবি ছিল অস্কার বেলগাল নামের এক অবৈধ অভিবাসীর মুক্তি। ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে আসা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ব্রঙ্কস এলাকায় আইস এজেন্টদের গুলিতে আহত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। তার আটকের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই মূলত ব্রুকলিন সেতুতে জড়ো হয়েছিলেন ওই অধিকারকর্মীরা, যা শেষ পর্যন্ত পুলিশের ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউইয়র্কে আইসিইর তল্লাশি নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় ভিডিও, মামদানির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ রিপাবলিকানরা
নিউইয়র্কে আইসিইর তল্লাশি নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় ভিডিও, মামদানির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ রিপাবলিকানরা

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে জানাতে একটি স্প্যানিশ ভাষার ভিডিও প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।   ভিডিওটিতে তিনি অভিবাসীদের পরামর্শ দিয়েছেন, আইসিই এজেন্টরা ব্যক্তিগত বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে চাইলে কীভাবে আইনি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তবে এই ভিডিও প্রকাশের পর অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার অভিযোগে তিনি রিপাবলিকানদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।   ভিডিও বার্তায় মেয়র মামদানি অভিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, নথিতে ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারকের স্বাক্ষর আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে দরজার নিচ দিয়ে পরোয়ানা দিতে বলতে পারেন। বৈধ বিচারিক পরোয়ানা না থাকলে দরজা বন্ধ রেখেই এজেন্টদের প্রবেশে অস্বীকৃতি জানানোর অধিকার নাগরিকদের রয়েছে।   এ ছাড়া তিনি নীরব থাকার অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, রাস্তায় আটকালে এজেন্টদের কাছে জানতে চাইতে হবে যে স্থান ত্যাগের অনুমতি আছে কি না। অনুমতি পেলে শান্তভাবে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো নথিতে স্বাক্ষরের আগে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার ওপরও জোর দেন তিনি।   এই ভিডিওর জেরে মেয়রের বিরুদ্ধে ‘ফেডারেল আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি ও অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার’ অভিযোগ এনেছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। টেক্সাসের কংগ্রেসম্যান ব্র্যান্ডন গিল সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক দশকেরও কম সময় আগে নাগরিকত্ব পাওয়া দেশের বৃহত্তম শহরের একজন মেয়র বিদেশি ভাষায় অবৈধ অভিবাসীদের আইনি ফাঁকফোকর শেখাচ্ছেন, যা আমেরিকানদের জন্য চরম অপমানজনক।   উটাহর সিনেটর মাইক লি এবং সাউথ ক্যারোলিনার প্রতিনিধি ন্যান্সি মেসও মেয়রের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ভিডিওটিতে মার্কিন আইন মেনে চলার কোনো তাগিদ নেই এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীরা কখনোই নিউইয়র্কার হতে পারে না।   জোহরান মামদানি দীর্ঘদিন ধরেই আইসিই-এর কার্যক্রমের ঘোর সমালোচক। গত জুলাই মাসে কাজের বৈধতা থাকা ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান যুবকের মৃত্যুর পর তিনি সংস্থাটি বাতিলের দাবি তুলেছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিউইয়র্ক সিটির ‘স্যাংচুয়ারি’ বা আশ্রয়দান নীতি আরও জোরদার করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।   এর আওতায় বিচারকের স্বাক্ষর করা বৈধ পরোয়ানা ছাড়া স্কুল, হাসপাতাল বা সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তিতে আইসিই এজেন্টদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সিটি এজেন্সিগুলোর সহযোগিতা সীমিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে নতুন আইনি ঝামেলায় ইনফোসিস, তদন্ত করছে মার্কিন বিচার বিভাগ
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে নতুন আইনি ঝামেলায় ইনফোসিস, তদন্ত করছে মার্কিন বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নথিতে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সংক্রান্ত তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে মার্কিন বিচার বিভাগের (DOJ) তদন্তের মুখে পড়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় আইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস লিমিটেড। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত ত্রৈমাসিক ও ষান্মাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি এই তদন্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।   ইনফোসিস জানিয়েছে, তারা চলমান এই আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানও অব্যাহত রেখেছে। তবে এই তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে বা কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এর কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়ে তারা এখনই কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি।   উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময় আগে ২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বি-১ (B-1) বিজনেস ভিসার অপব্যবহার এবং কর্মীদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ইনফোসিসকে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিল। সে সময় কোম্পানিটি জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও নিজেদের কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছিল।   বর্তমান এইচ-১বি ভিসা সংক্রান্ত তদন্তটি আগের সেই মীমাংসার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের মুক্তির জন্য বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিউ অরলিন্সভিত্তিক ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের ১৭ বিচারপতির মধ্যে ১০ জন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং সাতজন বিপক্ষে মত দেন। রায়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা কিছু অভিবাসীর বন্ডের মাধ্যমে মুক্তি চাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া এবং ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় আটক থাকা সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের জন্য সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত বন্ড হিয়ারিংয়ের অধিকার নিশ্চিত করে না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রত্যেক ক্ষেত্রে আলাদা শুনানি আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে আদালত মনে করেন।   রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন মামলার নিষ্পত্তি চলাকালে বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই আটক রাখার আইনি ভিত্তি পেয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে আটক সব অভিবাসীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে যাঁরা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, পরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা অন্য ধরনের ইমিগ্রেশন মামলায় আটক হয়েছেন, তাঁদের আইনি পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। একইভাবে বন্ড হিয়ারিং না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে।   এই মামলার সূত্রপাত টেক্সাসে আটক তিন অভিবাসীকে কেন্দ্র করে। তাঁরা হলেন মেক্সিকোর নাগরিক ইগনাসিও সোসনাভা রদ্রিগেজ ও আলেহান্দ্রো ভিয়েগাস অ্যাঞ্জেল এবং হন্ডুরাসের নাগরিক মিগেল অ্যাঞ্জেল গোমেজ আলভারাদো। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ২২ বছরের বেশি সময় এবং অন্য দুজন ২০১১ ও ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের সন্তানও মার্কিন নাগরিক।   ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ট্রাফিকসংক্রান্ত ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন ওই তিন ব্যক্তি। পরে তাঁদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে দেওয়া হয়। ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করে দীর্ঘ সময় আটক রাখা সংবিধানের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করে।   প্রথমে নিম্ন আদালত তিন অভিবাসীর পক্ষে রায় দেন। বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন, বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না দিয়ে তাঁদের আটক রাখা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। পরে জুলাই মাসে ফিফথ সার্কিটের তিন বিচারপতির একটি প্যানেলও অভিবাসীদের পক্ষে অবস্থান নেয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ দিতে হবে। শুনানিতে বিচারক বিবেচনা করবেন, আটক ব্যক্তি সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না এবং মুক্তি পেলে আদালতে হাজির না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া ব্যক্তিদের ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যায়। পরে ফিফথ সার্কিটের পূর্ণাঙ্গ বিচারক প্যানেল মামলাটি পুনরায় শুনানির সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে শুক্রবার আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন রায় দেওয়া হয়। এর ফলে জুলাই মাসে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বাতিল হয়েছে।   সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লেখেন ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক কোরি উইলসন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁদের আটক ও মুক্তির বিষয়ে কংগ্রেসের নির্ধারিত অভিবাসন আইনের বিধান প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিরা চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে শারীরিক আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে এই বক্তব্য আদালতের আইনি যুক্তির অংশ। বাস্তবে প্রত্যেক আটক অভিবাসীর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে দেশত্যাগ করা সম্ভব কি না, সেটি পৃথক প্রশ্ন।   অন্যদিকে সাতজন বিচারক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁদের একজন বিচারক ডানা ডগলাস সতর্ক করে বলেন, নির্বাহী বিভাগের আটক রাখার ক্ষমতার ওপর যথাযথ বিচারিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। আরেক বিচারক লেসলি সাউথউইক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সাংবিধানিক সুরক্ষা সীমিত হওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। ভিন্নমত পোষণকারী বিচারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্নকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক করে দেয় না।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের জন্য বড় আইনি সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৬ সালের অভিবাসন আইনে বাধ্যতামূলক আটকের যে বিধান রয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত তার প্রয়োগকে সমর্থন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা নির্দিষ্ট অভিবাসীদের বন্ডে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক রাখা আইনসম্মত।   তবে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো রায়ের সমালোচনা করেছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের আইনজীবী এলি নর্টন বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত শুনানি ছাড়াই আরও বেশি মানুষ দীর্ঘ সময় আটক থাকার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাঁর মতে, এর প্রভাব শুধু আটক ব্যক্তিদের ওপর নয়, তাঁদের পরিবার ও কমিউনিটির ওপরও পড়বে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলও রায়টিকে সাংবিধানিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।   রায়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ভৌগোলিক এখতিয়ার। ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের অধীনে রয়েছে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি। ফলে এই তিন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে রায়টির সরাসরি প্রভাব রয়েছে। টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক অভিবাসন বন্দিশালা অবস্থিত। অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে আটক ব্যক্তিদেরও এসব কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তাই রায়টির প্রভাব শুধু ওই তিন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চলতি অক্টোবরেই বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশনসংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে মূলত ফেডারেল অভিবাসন আইনের অধীনে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ থাকা উচিত কি না, তা বিবেচনা করা হবে। তবে ফিফথ সার্কিটের শুক্রবারের রায়ে যে সাংবিধানিক প্রশ্নের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের গৃহীত মামলাটি সরাসরি সেই একই প্রশ্নের ওপর নয়। ফলে সর্বোচ্চ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য আদালতের রায়ের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্য এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের বন্ড হিয়ারিং পাওয়ার সুযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তবে সব গ্রিন কার্ডধারী, ভিসাধারী, অ্যাসাইলাম আবেদনকারী কিংবা আটক অভিবাসীর বন্ড পাওয়ার অধিকার একসঙ্গে বাতিল হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির প্রবেশের ইতিহাস, বর্তমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং মামলার ধরন গুরুত্বপূর্ণ।   এ ছাড়া বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ সীমিত হওয়া মানেই সব ধরনের আইনি প্রতিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আটক ব্যক্তিরা ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাসের আবেদনসহ অন্যান্য আইনগত পথ অনুসরণ করতে পারেন। তবে কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে, তা মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তাই আইসিইর হেফাজতে থাকা ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের জন্য অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার অবস্থান যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   সব মিলিয়ে ফিফথ সার্কিটের নতুন রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আগের ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার নির্দেশ বাতিল হওয়ায় টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের মুক্তির আবেদন আরও কঠিন হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব অভিবাসীর বন্ড হিয়ারিং বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। সুপ্রিম কোর্টে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর এই নীতির পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করবে।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব অনুমোদনে বড় ধস
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব অনুমোদনে বড় ধস

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদিত হয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬টি আবেদন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৭৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ইউএসসিআইএসের সরকারি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নাগরিকত্বের অনুমোদন পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২০ জন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬ জনে। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টিতে। পরিসংখ্যানটি মার্কিন অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের, যা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়কে বোঝায়। এটি অক্টোবর মাসের অনুমোদনের হিসাব নয়।   শুধু অনুমোদন কমেনি, একই সঙ্গে নাগরিকত্বের আবেদনের জটও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন শেষে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮টিতে। চলতি বছরের জুন শেষে অপেক্ষমাণ আবেদন বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার আবেদন বেশি জমে রয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে নাগরিকত্বের আবেদন করা অনেক গ্রিন কার্ডধারীকে দীর্ঘ সময় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমার হার এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে ইউএসসিআইএস ফিল্ড অফিসে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৪১টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৩১৭টি আবেদন। অর্থাৎ সেখানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে টেক্সাসের হিউস্টনে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো বেশি অভিবাসী অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে।   নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকানস। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকু নিউজউইককে বলেছেন, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ বিলম্বের ফলে যোগ্য অভিবাসীদের নাগরিকত্ব অর্জন এবং নাগরিক জীবনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে আবেদনগুলো দীর্ঘদিন আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন নাগরিকদের ভোটার হওয়ার সুযোগ সীমিত করাও এই ধীরগতির একটি উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন আটকে রাখা হচ্ছে, এমন অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার এবং হিউস্টনে প্রায় ৩১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যেও প্রায় ১৭ হাজার ৩০০টি আবেদন আটকে আছে। নিকোল মেলাকুর মতে, এত বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকায় অনেক অভিবাসী জানেন না, কবে তাঁরা নাগরিকত্বের শপথ নিতে পারবেন। তাঁদের অনেকে আবেদন ফি পরিশোধ করেছেন, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন। তারপরও আবেদনের সিদ্ধান্ত পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ডিএইচএস নিউজউইককে জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময় নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথ যাচাই ছাড়া অনুমোদন করা হতো বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান প্রশাসন সেই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই করছে। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসন নাগরিকত্ব পরীক্ষায় ২০২০ সালের সিভিকস টেস্ট পুনর্বহাল করেছে। একই সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্রমও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা। তবে কঠোর যাচাইয়ের কারণে ঠিক কতটি আবেদন বিলম্বিত হয়েছে, তার পৃথক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।   নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টি আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ভোট দেওয়ার জন্য আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হতে হয়। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হলেও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একজন আবেদনকারী সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। ফলে নির্বাচনের আগে শপথ গ্রহণের সুযোগ না পেলে যোগ্য আবেদনকারীরাও ওই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। অবশ্য নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম পূরণ করতে হয়।   সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইন নিউজউইককে জানিয়েছেন, নাগরিকত্বের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করেও দীর্ঘ বিলম্বের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রভাবিত হতে পারে। তাঁর মতে, যোগ্য আবেদনকারীর নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেওয়া হলে সেই ব্যক্তি নির্দিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। তবে আবেদন নিষ্পত্তিতে ধীরগতির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আরও প্রমাণ প্রয়োজন। নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়াই এককভাবে নির্বাচনী হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে না।   ব্লুমবার্গ ল-এর ১৫ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনেও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ধীরগতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস প্রায় ৭১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার। অর্থাৎ শুধু অনুমোদন নয়, অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যান মিলিয়ে মোট নিষ্পত্তির সংখ্যাও প্রায় ৭৩ শতাংশ কমেছে। এতে বোঝা যায়, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির সামগ্রিক গতিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   তবে অনুমোদনের সংখ্যা ৭৬ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে জমা দেওয়া প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে ৭৬টি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি নতুন নাগরিকত্বের আবেদন পেয়েছে। একই সময়ে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি আবেদন অনুমোদন এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত দেওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। মূল সমস্যা হলো, আগের তুলনায় অনেক কম আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন এবং এন-৪০০ ফরমের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার, সিদ্ধান্ত কিংবা শপথ অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে সরকারি পরিসংখ্যানটি সব আবেদনকারীর গড় পরিস্থিতি তুলে ধরে। প্রত্যেকের আবেদন একই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে বা একই ধরনের বিলম্বের মুখে পড়বে, এমন নয়। আবেদনকারীর অবস্থান, ফিল্ড অফিস, যাচাইয়ের প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য হতে পারে।   ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ তথ্য মার্কিন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরছে। এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আগামী নির্বাচনের আগে কতজন আবেদনকারী নাগরিকত্ব ও ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   SOURCE - নিউজউইক ব্লুমবার্গ ল

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
বাফেলোয় এনামুল হককে আইসিইর আটকের খবরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ
বাফেলোয় এনামুল হককে আইসিইর আটকের খবরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলোয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ এনামুল হককে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই আটক করেছে বলে জানিয়েছেন কমিউনিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর রাতে তাঁকে আটক করা হয়।   দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে বসবাসের পর সম্প্রতি বাফেলোয় স্থানান্তরিত হন এনামুল হক। সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাঁকে আটকের খবরে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।   কমিউনিটির নেতারা জানিয়েছেন, বাফেলো ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক অঞ্চলে অভিবাসন অভিযান নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিজেদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।   কেউ আইসিইর হেফাজতে গেলে তাঁর অবস্থান জানতে সংস্থাটির অনলাইন ডিটেইনি লোকেটরে খোঁজ নেওয়া এবং দ্রুত অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউজিল্যান্ডে তিন মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হিরিক, বাতিল ৭০%
নিউজিল্যান্ডে তিন মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হিরিক, বাতিল ৭০%

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়ান নিউজের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন মাসে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ৭০ শতাংশের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। একই সময়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৩৯ শতাংশ।    ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের অনুমোদনের হার কম থাকার চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের ৪ হাজার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুমোদনের হার ছিল ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ।   একই সরকারি হিসাবে চীনা আবেদনকারীদের অনুমোদনের হার ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ, ভারতের ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ, নেপালের ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ৮০ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে নয় মাসের এই হিসাব এবং সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা সাম্প্রতিক তিন মাসের প্রত্যাখ্যানের হার আলাদা সময়সীমার তথ্য।    আগের বছরের সরকারি তথ্যের তুলনায় পরিস্থিতির পরিবর্তন স্পষ্ট। নিউজিল্যান্ডের বাইরে থেকে আবেদন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে অনুমোদনের হার ছিল ৬২ শতাংশ এবং প্রত্যাখ্যানের হার ৩৮ শতাংশ। ওই বছরের হিসাবে ৬৭৮টি আবেদন অনুমোদিত ও ৪১৪টি প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে এই পরিসংখ্যান শুধু দেশের বাইরে অবস্থানরত আবেদনকারীদের, তাই ভিন্ন পরিধির হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনায় সতর্কতা প্রয়োজন।    আবেদনের তথ্য ও নথির যথার্থতার ওপর জোর দিয়েছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া কিংবা প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন করা হলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। কোনো প্রতিনিধি আবেদন জমা দিলেও তথ্য সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায় আবেদনকারীরও। তবে প্রত্যাখ্যাত সব আবেদনেই জালিয়াতি ছিল, এমন সিদ্ধান্ত এই পরিসংখ্যান থেকে টানা যায় না।    এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ থেকে যেসব স্টুডেন্ট ও অস্থায়ী ভিসা আবেদনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন, সেগুলোতে আবেদনের সময়ই সনদ জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। শুধু সনদের জন্য আবেদন করার রসিদ গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় সনদ না থাকলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে এবং সাধারণত অনুপস্থিত সনদ চেয়ে আবেদনকারীর সঙ্গে আলাদা করে যোগাযোগ করা হবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউইয়র্কে পুলিশকে ৭ বার ছু রিকাঘাত, গভর্নরের নীরবতাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন মুলিন
নিউইয়র্কে পুলিশকে ৭ বার ছু রিকাঘাত, গভর্নরের নীরবতাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন মুলিন

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (এনওয়াইপিডি) এক কর্মকর্তাকে অবৈধ অভিবাসীদের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নীরব থাকা, অথচ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অভিযানে এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সরব হওয়ায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভর্নরের এমন আচরণকে চরম ‘ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।   ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ব্রঙ্কসের মার্বেল হিল এলাকায় আইসিই এজেন্টদের হাত থেকে পালানোর সময় অস্কার বেলগাল নামের এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য গুলিবিদ্ধ হন, তবে তার আঘাত গুরুতর ছিল না। ওই অভিযানের সময় ৫ বছর বয়সী এক শিশু থাকা গাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে গভর্নর হোকুল আইসিই-এর বিরুদ্ধে এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনেন এবং এজেন্টদের শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার দাবি জানান।   এর জবাবে রোববার ফক্স নিউজের শ্যানন ব্রিমের অনুষ্ঠানে মার্কওয়েন মুলিন গভর্নর হোকুল এবং অন্যান্য অভিবাসী-বান্ধব রাজনীতিবিদদের দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহেই (২ অক্টোবর) ব্রঙ্কসের একই এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের হাতে এনওয়াইপিডির অফ-ডিউটি ডিটেকটিভ হোসে মার্সিডিজ সাতবার ছুরিকাঘাতের শিকার হন। অথচ সেই ঘটনায় গভর্নর বা অন্য কোনো নেতা একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি, কোনো সংবাদ সম্মেলন বা প্রতিবাদও হয়নি। কিন্তু একজন চিহ্নিত অপরাধী গুলিবিদ্ধ হতেই তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান জানান, ডিটেকটিভ মার্সিডিজকে ছুরিকাঘাতে অভিযুক্ত ড্যানجেলো রাফায়েল জিন কারাবালো ও স্নাইডার মেজিয়া বাউতিস্তা এবং আইসিই-এর গুলিতে আহত অস্কার বেলগাল—এই তিনজনই ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাদের অনেক আগেই দেশ থেকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল।   মুলিন আরও প্রকাশ করেন, তিন বছর আগে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর থেকে বেলগালের বিরুদ্ধে ডাকাতির চারটি, হামলার দুটি, মাদকের দুটি এবং চুরির দুটি গুরুতর ফৌজদারি (ফেলোনি) অভিযোগসহ অবৈধ অস্ত্র রাখার একাধিক মামলা জমা হয়েছে। নিউইয়র্ক প্রশাসন এসব অপরাধীদের বারবার ছেড়ে দেওয়ায় আইসিই-কে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   অন্যদিকে, আহত পুলিশ কর্মকর্তা মার্সিডিজ ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তার ওপর হামলার ঘটনায় গভর্নরের নীরবতা নিয়ে ওঠা সমালোচনা রোববার প্রত্যাখ্যান করেছে হোকুলের কার্যালয়। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভর্নরের মুখপাত্র জানান, এনওয়াইপিডির কঠোর পরিশ্রমী সদস্যদের প্রতি গভর্নরের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করার পরিবর্তে গভর্নর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তহবিল বাড়ানো, আইন কঠোর করা এবং ‘বেপরোয়া’ আইসিই এজেন্টদের হাত থেকে নিউইয়র্কবাসীকে রক্ষা করার মতো প্রকৃত কাজেই অগ্রাধিকার দেবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ন্যাচারালাইজড আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিল ট্রাম্প প্রশাসন, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। নাগরিকত্ব অর্জনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, মিথ্যা বক্তব্য এবং বেআইনিভাবে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এসব মামলা করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের অর্থ তাঁদের নাগরিকত্ব ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে, এমন নয়।   সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ঘোষণায় বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। সংস্থাটি একে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে একটি নির্দিষ্ট সময়পর্বে সর্বাধিক নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়েরের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।    মামলাগুলোর মধ্যে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করা, হত্যাকাণ্ড, যৌন অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা এবং পরিচয় ও বিয়েসংক্রান্ত ইমিগ্রেশন জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন অথবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।   বিচার বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা উপস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়।   ঘোষণায় বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় উত্থাপিত দাবিগুলো অভিযোগমাত্র। এসব দাবির বিষয়ে এখনো দায় নির্ধারণ হয়নি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারের বক্তব্য এবং আদালতে প্রমাণিত সিদ্ধান্তকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।    এবারের উদ্যোগের আগেও একই ধরনের মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে বিচার বিভাগ। গত ২০ জুলাই ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায় সংস্থাটি। এরপর ৩ আগস্ট আরও ২৫টি মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময় বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে মোট ১২৩টি দেওয়ানি ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।    সর্বশেষ ঘোষণাটি নির্দিষ্ট ৪০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনসংক্রান্ত। তাঁদের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কি না এবং সরকারের অভিযোগ প্রমাণিত হয় কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে আদালতে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএসপিএসে তথ্য দিলেই সব নথি আপডেট হয় না। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ঠিকানা বদলালে ইউএসসিআইএসে জানানোর সময়সীমা ১০ দিন, জেনে নিন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএসে নতুন ঠিকানা জানালেই সব সরকারি নথি আপডেট হয় না। ইমিগ্রেশন, ড্রাইভার লাইসেন্স, ট্যাক্স ও সরকারি সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আলাদাভাবে জানাতে হতে পারে। বিশেষ করে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকের জন্য ইউএসসিআইএসে ১০ দিনের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।    কার কোথায় তথ্য আপডেট করতে হবে, তা নির্ভর করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, বসবাসের স্টেট, গাড়ির মালিকানা, সরকারি সুবিধা গ্রহণ এবং ভোটার হিসেবে যোগ্যতার ওপর। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে আবার আলাদা সময়সীমা ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।   ইউএসপিএসের চেঞ্জ অব অ্যাড্রেস সেবা মূলত পুরোনো ঠিকানায় আসা উপযুক্ত চিঠিপত্র নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা। বাসা বদলানোর সময় অনলাইনে অথবা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই সেবার আবেদন করা যায়। কিন্তু মেইল ফরওয়ার্ডিং চালু করার অর্থ এই নয় যে ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা সব সরকারি সংস্থার রেকর্ডে নতুন ঠিকানা পৌঁছে গেছে।   ইউএসসিআইএস এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইউএসপিএসে ঠিকানা পরিবর্তন করলে ইউএসসিআইএসের রেকর্ড বদলায় না। ইউএসপিএস ইউএসসিআইএসের চিঠিও নতুন ঠিকানায় ফরওয়ার্ড করে না। তাই ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নোটিশ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়ার জন্য দুই সংস্থার কাছেই ঠিকানা বর্তমান রাখা প্রয়োজন।    ইমিগ্রেশন আইনের নিবন্ধন বিধানের আওতায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ইউএসসিআইএসকে নতুন ঠিকানা জানাতে হয়। গ্রিন কার্ডধারীরাও সাধারণভাবে এই নিয়মের আওতায় পড়েন। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের ঠিকানা পরিবর্তনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। আবেদন বা পিটিশন বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলার তথ্যও যথাযথভাবে আপডেট হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে।    ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে শুধু ইউএসসিআইএসে ঠিকানা বদলানো যথেষ্ট নয়। বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন পর্যালোচনা দপ্তর ইওআইআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য পরিবর্তনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্ট কিংবা বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসকে জানাতে হবে। কোর্টের জন্য ইওআইআর ৩৩/আইসি এবং আপিল বোর্ডের জন্য ইওআইআর ৩৩/বিআইএ ফর্ম ব্যবহার করতে হয়।    ঠিকানা আপডেট না হলে কোর্ট হিয়ারিং বা আবেদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ মিস হতে পারে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না জানালেই সব ইমিগ্রেশন মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যায়, এমনভাবে বিষয়টি বলা সঠিক নয়। মামলার ধরন, নোটিশ এবং পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর ফলাফল নির্ভর করে। তাই বিচারাধীন মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ম আলাদাভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।   ড্রাইভার লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তনের সময়সীমা স্টেটভেদে ভিন্ন। নিউইয়র্কে বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ডিএমভিতে ড্রাইভার লাইসেন্স, লার্নার পারমিট, নন ড্রাইভার আইডি এবং গাড়ির রেকর্ডের ঠিকানা আপডেট করতে হয়। ইউএসপিএসে পরিবর্তন করলে ডিএমভির রেকর্ড বদলায় না। তবে নতুন ঠিকানা দিয়ে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের নতুন কপি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।   নিউইয়র্ক ডিএমভির বর্তমান নির্দেশনায় অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের সেবা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় ডিএমভি অফিসে গিয়ে অথবা এমভি ২৩২ ফর্ম ডাকযোগে পাঠিয়ে পরিবর্তন জানানো যায়। ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরোর টিকিটের ঠিকানা আবার আলাদাভাবে আপডেট করতে হতে পারে।    ট্যাক্সসংক্রান্ত চিঠিপত্র পাওয়ার জন্য আইআরএসের কাছেও সঠিক ঠিকানা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত মেইলিং অ্যাড্রেস পরিবর্তনের ফর্মটির নম্বর ৮৮২২, ৮৮২ নয়। এই ফর্ম পাঠানো ছাড়াও নতুন ট্যাক্স রিটার্নে নতুন ঠিকানা ব্যবহার, লিখিত বিবৃতি এবং আইআরএস অনুমোদিত অন্যান্য পদ্ধতিতে পরিবর্তন জানানো যায়। ফলে সবার জন্য শুধু একটি ফর্ম পাঠানোই একমাত্র উপায় নয়।    সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়মও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁরা সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই এবং মেডিকেয়ার গ্রহণ করেন না, তাঁদের শুধু বাসা বদলানোর কারণে এসএসএতে ঠিকানা পরিবর্তন জানাতে হয় না। সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে বেনিফিটের ধরন অনুযায়ী অনলাইন অ্যাকাউন্ট, ফোন বা সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে তথ্য আপডেট করতে হতে পারে।    ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তন প্রযোজ্য যোগ্য ভোটারদের জন্য। নতুন ঠিকানায় যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টেটের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন আপডেট করতে হবে। অন্য স্টেটে চলে গেলে নতুন স্টেটে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়টি সব অভিবাসীর জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   পাশাপাশি ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি, গাড়ি ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স, কর্মস্থল এবং সন্তানের স্কুলে নতুন ঠিকানা জানানো প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড আলাদা হওয়ায় একটি জায়গায় পরিবর্তন করলে অন্য সব জায়গায় তা কার্যকর হয় না। বাসা বদলানোর পর কোন প্রতিষ্ঠানে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং তার কনফার্মেশন পাওয়া গেছে কি না, তা সংরক্ষণ করলে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নোটিশ মিস হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউইয়র্কে আইসের অভিযানে গ্রেপ্তার শিশু নির্যাতনকারী, খুনের আসামিসহ একাধিক অপরাধী
নিউইয়র্কে আইসের অভিযানে গ্রেপ্তার শিশু নির্যাতনকারী, খুনের আসামিসহ একাধিক অপরাধী

নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সম্প্রতি একাধিক দুর্ধর্ষ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। সংস্থাটির দাবি, মেয়র মামদানীর মতো 'স্যাংচুয়ারি' বা আশ্রয়দানকারী রাজনীতিকরা যখন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, তখন আইস এজেন্টরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব অপরাধীকে বন্দি করে সমাজকে সুরক্ষিত রাখছেন। সাম্প্রতিক এই অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, শিশু ধর্ষণ, খুন এবং ভয়ংকর সব সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।   গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইকুয়েডরের নাগরিক এবং 'ল্যাটিন কিংস' গ্যাংয়ের সদস্য অ্যান্ডারসন স্মিথ সিসালিমা গুয়ালানের বিরুদ্ধে গুরুতর হামলা ও শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, হন্ডুরাসের নাগরিক ও 'ক্রিপস' গ্যাংয়ের সদস্য মার্কোস আন্তোনিও পান্ডি-কাস্টিলোর বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক জখম এবং গ্যাং হামলার মতো ভয়াবহ সব অভিযোগ বিচারাধীন।   ভেনিজুয়েলার নাগরিক ডিমেইর ক্রুজ-ভেলাস্কেজ এবং গুয়াতেমালার ফ্রান্সিস ওমর রামিরেজ লোপেজ—উভয়ই কুখ্যাত 'ট্রেন দে আরাগিয়া' সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বিক্রি, যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক স্পর্শ করার মতো মারাত্মক অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া চীনের নাগরিক ইয়ুং হো লো-কে অপহরণ ও ডাকাতির চেষ্টার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   এই অভিযানে এমন অনেক অপরাধীকে ধরা হয়েছে যারা সরাসরি শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এল সালভাদরের জার্মিস আর্কিমিডিস সান্তোস সান্তোস, বেলিজের অ্যাঞ্জেল আগুস্টো ডি লিওন এবং হন্ডুরাসের উইলসন ওমর সান্তোস পাজের বিরুদ্ধে ১৩ ও ১১ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর প্রমাণিত অভিযোগ রয়েছে।   এছাড়াও গুয়াতেমালার নাগরিক জুয়ান হোসে মোরালেস-কোলিন্ড্রেস এবং জেফারসন আভিমায়েল মেন্ডোজা-সিফুয়েন্তেসকে ধর্ষণ ও যৌন অসদাচরণের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এল সালভাদরের আরেক নাগরিক অ্যান্থনি আলফ্রেডো মোরেনোকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা এবং মাদক রাখার দায়ে আটক করা হয়েছে। আইস কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ মূলত স্পষ্ট করে দেয় যে, সাধারণ জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভয়ংকর এসব অপরাধীদের কোনোভাবেই জনসমক্ষে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা

নিউইয়র্ক শহরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এক এজেন্টের গুলিতে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে শহরে সংস্থাটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানী। বৃহস্পতিবার মার্বেল হিল আবাসিক এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেয়র বলেন, আইস এজেন্টরা সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াবে, আর তিনি চুপ করে থাকবেন—এমনটা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।   নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি নির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনার সময় আইস এজেন্টরা ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। এ সময় বেলগালের গাড়িতে তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেও ছিল।   পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, একজন সাদা পোশাকের আইস এজেন্ট অস্ত্র হাতে চালকের জানালার কাছে এগিয়ে যান। গাড়িটি সামনের দিকে এগোতে চাইলে এজেন্ট অন্তত সাত রাউন্ড গুলি চালান, যা বেলগালের ঘাড়ে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং শিশুটি বর্তমানে পরিবারের হেফাজতে নিরাপদে রয়েছে।   ঘটনার পর মেয়র মামদানী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেও ভুক্তভোগীর মুক্তির বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। অন্যদিকে, ডিএইচএস-এর পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ‘স্যাংচুয়ারি’ বা আশ্রয়দানকারী নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এসব নীতির কারণে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের সঙ্গে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। মন্ত্রী মুলিন উল্টো মেয়রের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।   ডিএইচএস জানায়, ভুক্তভোগী বেলগাল একজন অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসী, যার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও অস্ত্র রাখাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং গত বছর একজন সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তার ওপর হামলায় জড়িত গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল থেকে শুরু করে সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গাড়িতে একজন শিশু থাকা অবস্থায় কীভাবে এতগুলো গুলি ছোড়া হলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেয়র মামদানী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।   নিউইয়র্ক টাইমস ও এবিসি নিউজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্টদের সঙ্গে জড়িত এমন সহিংস ঘটনায় ২০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের দেশব্যাপী কঠোর অভিবাসন নীতির প্রয়োগ এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
গ্রিন কার্ড স্পনসরে আয়ের শর্ত, আয় কম হলে স্বজন আনার উপায়ও আছে
গ্রিন কার্ডে স্বজন আনতে হলে স্পনসরের আয় হতে হবে কত, জানুন হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের বিদেশে থাকা স্বজনদের গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নির্দিষ্ট আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিতে হয়। এই নথির মাধ্যমে স্পনসর আইনগতভাবে অঙ্গীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী প্রয়োজন হলে তার আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনে এই আর্থিক সহায়তার নথি প্রয়োজন হয়। কিছু নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে, যদি আবেদনকারীর হয়ে কোনো মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকত্বধারী আত্মীয় আবেদন করেন।   মূল বিষয় হলো, স্পনসরের আয় তার পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যার জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হবে। অর্থাৎ, সবার জন্য একই আয়সীমা প্রযোজ্য নয়। স্পনসরের পরিবারে কতজন সদস্য আছেন, তার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।   ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের পরিবারের দারিদ্র্যসীমা ২১ হাজার ৬৪০ ডলার। এর ১২৫ শতাংশ হলো ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ২৭ হাজার ৩২০ ডলার এবং ১২৫ শতাংশের হিসাব দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ৩৩ হাজার ডলার এবং ১২৫ শতাংশ হলো ৪১ হাজার ২৫০ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়লে প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়ে।   এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্পনসরের নিজের আয় যদি তার নির্ধারিত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা পূরণ করে, তাহলে অন্য পরিবারের সদস্যদের আয় যোগ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা হিসাবের বাইরে থাকবে। বরং আই-৮৬৪ ফর্মে স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেই প্রয়োজনীয় আয়ের সীমা ঠিক করা হয়।   পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণের সময় স্পনসরের স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট সন্তান, আয়কর রিটার্নে নির্ভরশীল হিসেবে দেখানো ব্যক্তি, যে অভিবাসীকে স্পনসর করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যান্য অভিবাসী আবেদনকারীকেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। কোনো অ-নির্ভরশীল আত্মীয় একই বাড়িতে থাকলে এবং তার আয় ব্যবহার করতে চাইলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফর্ম আই-৮৬৪এ প্রয়োজন হতে পারে।   যদি স্পনসরের নিজের আয় প্রয়োজনীয় সীমায় না পৌঁছায়, তখন আবেদন বাতিল হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রয়েছে। একজন যোগ্য যৌথ স্পনসর বা জয়েন্ট স্পনসর অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্ব নিতে পারেন। অথবা একই পরিবারের যোগ্য সদস্যের আয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ফর্ম ও আর্থিক প্রমাণ জমা দিতে হয়।   আয়ের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সম্পদও ব্যবহার করা যায়। স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে সঞ্চয়, শেয়ার, বন্ড বা নির্দিষ্ট সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে আলাদা হিসাব ও প্রমাণের নিয়ম আছে। সাধারণভাবে সম্পদের নিট মূল্য এবং আয়ের ঘাটতির অনুপাত নির্দিষ্ট নিয়মে বিবেচনা করা হয়।   আবেদনের সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সাম্প্রতিক বেতন স্লিপ, চাকরির প্রমাণ, নিয়োগকর্তার চিঠি, আয়কর-সংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। কোনো স্পনসরের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকলে অতিরিক্ত আয় বা সম্পদের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।   স্পনসর হওয়ার জন্য শুধু পর্যাপ্ত আয় থাকাই যথেষ্ট নয়। সাধারণভাবে আর্থিক স্পনসরকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয়। পাশাপাশি তার যুক্তরাষ্ট্রে ডমিসাইল বা প্রধান বসবাসের ভিত্তি থাকতে হয়।   ফর্ম আই-৮৬৪ স্বাক্ষর করার পর এটি আইনগতভাবে কার্যকর একটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়। সাধারণভাবে স্পনসরের আর্থিক দায়িত্ব তখন পর্যন্ত চলতে পারে, যতক্ষণ না স্পনসর করা ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন, সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্ম-ত্রৈমাসিক অর্জন করেন বা আইনে নির্ধারিত অন্য কোনো সমাপ্তির শর্ত পূরণ হয়।   বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবারগুলোর জন্য তাই যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনকে গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে আনতে শুধু পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদন করার আগে সম্ভাব্য স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বর্তমান আয়, কর-সংক্রান্ত নথি, প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা এবং প্রয়োজনে যৌথ স্পনসর বা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ—সবকিছু যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষ করে আয়ের সীমা প্রতি বছর হালনাগাদ হওয়ায় পুরোনো কোনো অঙ্কের ওপর নির্ভর না করে আবেদন জমা দেওয়ার সময়কার কার্যকর দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, আই-৮৬৪ জমা দেওয়ার সময় কার্যকর দারিদ্র্য নির্দেশনাই সাধারণভাবে আয় যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইমিগ্রেশন ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে নতুন মেয়াদ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতিসহ বড় কয়েকটি মামলায় সিদ্ধান্ত দেবেন সুপ্রিম কোর্ট

ইমিগ্রেশন, অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে সোমবার, ৫ অক্টোবর নতুন মেয়াদ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাও এবার সর্বোচ্চ আদালতের সামনে আসছে। এসব মামলার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইন ও ফেডারেল সরকারের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   নতুন মেয়াদের শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা বিবেচনা করছেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর বোল্ডার থেকে আসা মামলাটিতে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সানকর ও এক্সনমোবিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করে করা মামলা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।   বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের একটি অংশ জ্বালানি শিল্পের বহন করা উচিত। এই ধরনের মামলায় কয়েকশ কোটি ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক দায় জড়িত থাকতে পারে।   অন্যদিকে জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় এ ধরনের মামলার মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয়। ট্রাম্প প্রশাসনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানকে সমর্থন করছে। প্রশাসনের যুক্তি, এসব মামলার মাধ্যমে নির্গমন নিয়ন্ত্রণে আদালতকে ব্যবহার করে নতুন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে।   অস্ত্রের অধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নতুন মেয়াদে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্যে এআর-১৫-এর মতো আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব অস্ত্রকে সাধারণভাবে অ্যাসল্ট ওয়েপন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।   নিষেধাজ্ঞার পক্ষে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর বক্তব্য, গণগুলির ঘটনায় এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অস্ত্র সহিংসতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে এসব আইনের বিরোধীরা বলছেন, এআর-১৫ ও একই ধরনের অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে মানুষের মালিকানায় রয়েছে এবং এগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে থাকা অস্ত্র রাখার অধিকারের পরিপন্থী।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট অস্ত্রের অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর অঙ্গরাজ্যগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মামলাটি ডিসেম্বরে বিবেচনা করার কথা রয়েছে।   ইমিগ্রেশন নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবার সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে। এর একটি এমন অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর নীতি নিয়ে, যাঁদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসীদের তাঁদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে।   এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ কতটা দিতে হবে, তা নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান নিয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তৃতীয় দেশে পাঠানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।   ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত কিছু অভিবাসীকে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার নীতি নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এসব ব্যক্তিকে বন্ড শুনানি ছাড়াই আটক রাখা যেতে পারে।   তবে এই প্রশ্ন বিবেচনা করা অধিকাংশ আপিল আদালত প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যাবে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম নিয়েও এবারের মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। অ্যারিজোনায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের নথিপত্র দেখানোর নিয়ম নিয়ে আইনি বিরোধ সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে।   একটি ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হয়। আরেকটি ব্যবস্থায় যেসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব নিয়মের বৈধতা নিয়ে ডিসেম্বরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিবেচনা করবেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারা ক্যাথলিক প্রাক-বিদ্যালয়গুলোর একটি মামলা নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসার কথা রয়েছে।   সেন্ট মেরি ক্যাথলিক প্যারিশের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক ভর্তি নীতির কারণে তাদের অঙ্গরাজ্যের সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই ভর্তি নীতিতে এলজিবিটিকিউ প্লাস পরিবারের শিশুদের বাদ দেওয়ার বিষয় রয়েছে।   অন্যদিকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বক্তব্য, ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থায়নের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে, তবে তাদের বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলতে হবে। কর্মসূচিটি ২০২০ সালের একটি ব্যালট উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং এতে অভিভাবকদের নির্বাচিত বিদ্যালয়ে প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।   ফলে নতুন মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের সামনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় সাংবিধানিক ও নীতিগত প্রশ্ন এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করার সুযোগ, আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অভিবাসীদের আটক ও তৃতীয় দেশে পাঠানোর নিয়ম, ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং সরকারি অর্থায়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।   তবে এসব মামলায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। নতুন মেয়াদের বিভিন্ন সময়ে বিচারপতিরা মামলাগুলোর যুক্তিতর্ক শুনবেন এবং পরে রায় দেবেন। ফলে মামলাগুলোর সম্ভাব্য ফলাফলকে এখনই নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের আটক ও ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে অস্ত্রের অধিকার নিয়ে মামলাটি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিষিদ্ধ করার ক্ষমতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   জলবায়ু মামলা, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন মেয়াদের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে নজর থাকবে বিভিন্ন পক্ষের।   আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে এসব মামলার শুনানি হবে। এরপর বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। ইমিগ্রেশন থেকে অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু থেকে ভোটের নিয়ম—যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতির আইনি সীমা কোথায় থাকবে, তার উত্তর নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন মেয়াদ।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

তাবাস্সুম অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় আসছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরিবর্তন
গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, অক্টোবর থেকে যেসব নিয়মে আসছে নতুন সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষারত আবেদনকারীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অভিবাসন ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বরের নতুন বরাদ্দ এসেছে এবং কয়েকটি কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক চার্জের নিয়মে পরিবর্তন এবং ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসার ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হচ্ছে।   প্রথম বড় পরিবর্তন এসেছে নতুন অর্থবছরের ভিসা নম্বর নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছর শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর। আগের অর্থবছরে যেসব ক্যাটাগরির বার্ষিক ভিসা সীমা পূরণ হয়ে গিয়েছিল, নতুন অর্থবছরে সেগুলোতে আবার ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে ভারতের কিছু কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরিতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।   ভারতের ক্ষেত্রে অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ নভেম্বর ২০১৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইবি-১ এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫-এর তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩ হয়েছে। তবে অন্য অনেক দেশের ক্ষেত্রে কিছু কর্মভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে। যেমন, অধিকাংশ দেশের ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ জানুয়ারি ২০২৫ এবং ইবি-৩-এর ডেট ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অক্টোবর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের জন্য ইউএসসিআইএস ডেটস ফর ফাইলিং চার্ট ব্যবহার করছে। অর্থাৎ কিছু আবেদনকারী তাদের প্রাইওরিটি ডেট অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে পারবেন, যদিও চূড়ান্ত গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।   তৃতীয় পরিবর্তন এসেছে পাবলিক চার্জ নিয়মে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধি বাতিল করে নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। এতে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই নিয়ম সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন বাতিল হবে—এমন নয়।   চতুর্থ পরিবর্তন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায়। ৩০ নভেম্বর থেকে প্রধান বিনিয়োগ আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে করা বিনিয়োগকারীদের ফিও বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। নতুন একটি নির্দিষ্ট আবেদনের জন্য ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   তাই গ্রিন কার্ডপ্রার্থীদের জন্য অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে নিজের ক্যাটাগরি, দেশভিত্তিক প্রাইওরিটি ডেট এবং ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে
ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের স্থায়ীভাবে নিয়ে যেতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক স্ত্রী বা স্বামী, ছেলে বা মেয়ে, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম ও অপেক্ষার সময় রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিককে সাধারণত ইমিগ্র্যান্ট ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে প্রবেশ করতে হয়। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী যোগ্য আত্মীয়কে স্পনসর করেন। সাধারণত স্পনসরকে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী হতে হয়, যদিও সব ধরনের আত্মীয়ের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত এক নয়।   মার্কিন নাগরিকদের জন্য পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা মূলত দুই ধরনের—‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ এবং ‘ফ্যামিলি প্রেফারেন্স’। ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে মার্কিন নাগরিকের স্ত্রী বা স্বামী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকের বাবা-মা অন্তর্ভুক্ত। এই ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর ভিসার সংখ্যাগত সীমা নেই।   অন্যদিকে ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে মার্কিন নাগরিকের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে, বিবাহিত ছেলে-মেয়ে এবং ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক রয়েছে। এসব ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয়। ফলে আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিসা পাওয়া যায় না; ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হতে পারে।   মার্কিন নাগরিকরা যেসব চার ধরনের আত্মীয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন, সেগুলো হলো—   ১. স্ত্রী বা স্বামী ২. ছেলে বা মেয়ে ৩. বাবা বা মা ৪. ভাই বা বোন   বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য আবেদন করতে হলে মার্কিন নাগরিকের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। একইভাবে, ছেলে-মেয়ের বয়স ও বৈবাহিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তারা ইমিডিয়েট রিলেটিভ নাকি ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়বেন, তা নির্ধারিত হয়।   গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের স্ত্রী বা স্বামী এবং অবিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরা বাবা-মা বা ভাই-বোনকে এই পরিবারভিত্তিক পদ্ধতিতে সরাসরি স্পনসর করতে পারেন না।   পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের প্রক্রিয়া সাধারণত ফর্ম আই-১৩০ বা ‘পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ’ দিয়ে শুরু হয়। আবেদনকারীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। পিটিশন অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোয়।   তবে আত্মীয়ের ধরন অনুযায়ী অপেক্ষার সময় অনেকটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে ভাই-বোন, বিবাহিত সন্তান এবং কিছু প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত সন্তানের ক্ষেত্রে বার্ষিক ভিসা সীমা থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির সর্বশেষ নিয়ম ও ভিসা বুলেটিন দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের গ্রিন কার্ড আবেদনের শর্তগুলো স্পষ্ট করেছে ইউএসসিআইএস
এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন শরণার্থীরা, মানতে হবে যেসব শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের জন্য গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছর পর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করা আইনগতভাবে প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’। এর জন্য ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হয়।   গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে শরণার্থীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রথমত, যথাযথভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২০৭ ধারার অধীনে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হতে হবে।   তৃতীয়ত, আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অন্তত এক বছর দেশটিতে শারীরিকভাবে অবস্থান করতে হবে। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, এই এক বছরের শারীরিক উপস্থিতির বিষয়টি আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও বিবেচনা করা হয়।   পঞ্চমত, আবেদনকারীর শরণার্থী হিসেবে ভর্তির মর্যাদা বাতিল বা সমাপ্ত হয়ে যাওয়া যাবে না। ষষ্ঠত, অন্য কোনো উপায়ে এরই মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়া থাকলে এই একই ভিত্তিতে আবার আবেদন করা যাবে না।   সপ্তমত, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কোনো কারণে আবেদনকারী গ্রহণযোগ্য না হলে এবং আইনের আওতায় সেই অযোগ্যতার জন্য ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েভারের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার জন্য সাধারণত কোনো ফাইলিং ফি দিতে হয় না। বায়োমেট্রিক সেবার ক্ষেত্রেও শরণার্থীদের জন্য ফি নেওয়া হয় না।   গ্রিন কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে একজন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান। যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই মর্যাদা ভবিষ্যতে আরও স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।   তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় নথি এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো ইউএসসিআইএস যাচাই করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও ফর্মের সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০