যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বা ICE-এর হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এক গ্রিন কার্ডধারী নারী। চ্যারিটি গ্রেস মুকামুরি নামের ৪৩ বছর বয়সী এই নারী টেক্সাসের এল পাসোয় অবস্থিত ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি থেকে গত ৩ জুন মুক্তি পান। দীর্ঘ কয়েক মাসের বন্দিদশা তাকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত করেছে যে, পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখন তাকে থেরাপির সাহায্য নিতে হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বংশোদ্ভূত মুকামুরি ২০০১ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরবর্তীতে বৈধ গ্রিন কার্ড লাভ করেন। ওকলাহোমার টুলসায় গৃহহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য তিনি 'ইসাইয়া ৫৪ প্রজেক্ট' নামের একটি অলাভজনক সংস্থাও পরিচালনা করতেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তার বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এনে ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করে। যদিও তার পরিবারের দৃঢ় দাবি, মুকামুরির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২ জুন এল পাসো ইমিগ্রেশন কোর্টের বিচারক স্টিফেন রুহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন। বন্দিদশায় থাকাকালীন মুকামুরি চরম অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হন বলে দাবি করেছেন। গণমাধ্যম 'নিউজউইক'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তিনি জানান, ডিটেনশন ক্যাম্পে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হতো এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত নাজুক। এমনকি গ্রেপ্তারের পর প্রথম আড়াই মাস পর্যন্ত তাকে কোনো আইনজীবীর সাথে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ক্যাম্পের ভেতরের এই দুরবস্থার খবর গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ উল্টো তার ওপর মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করে। তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তছনছ করা হয়, বিছানা কেটে তল্লাশি চালানো হয় এবং তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিবারের কাছে ফিরে স্বস্তি পেলেও ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়ংকর স্মৃতি এখনো তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। মুকামুরি জানান, সেখানে আটকে থাকা অন্যান্য নারীদের অমানবিক জীবনযাপনের কথা ভেবে তার হৃদয় এখনো ভেঙে যায়। মূলত ভেতরের সত্যটা বিশ্ববাসীকে জানানোর তাড়না থেকেই তিনি মুখ খুলেছেন। ডিটেনশন ক্যাম্পের এই ভয়ংকর মানসিক ট্রমা ও ক্ষত সারিয়ে পরিবারকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে খুন এবং শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে যুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের পরিচয় প্রকাশ করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)। একইসঙ্গে সংস্থাটি নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং মেয়র জোহরান মামদানির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আশ্রয়দাতা (স্যাংচুয়ারি) নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। আইস-এর দাবি, জ্যামাইকা, এল সালভাদর, ইকুয়েডর এবং হন্ডুরাস থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এসব ব্যক্তি হত্যা, ধর্ষণ এবং শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আইস নিউইয়র্ক সিটি শাখার ফিল্ড অফিস ডিরেক্টর কেনেথ জেনালো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্যাংচুয়ারি বা আশ্রয়দাতা রাজনীতিকরা আইন মান্যকারী নাগরিকদের চেয়ে অপরাধী অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে আইস কর্মকর্তারা খুনি ও ধর্ষকদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। মূলত নিউইয়র্কের শীর্ষ এই দুই নেতার সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের পরই আইস এই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাল। সম্প্রতি গভর্নর ক্যাথি হোকুল এমন একটি আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ফলে স্থানীয় পুলিশ এবং ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল বা পার্কের মতো সর্বজনীন স্থানে আইস এজেন্টদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র জোহরান মামদানি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি থেকে নিউইয়র্ককে রক্ষায় আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করবে। আইস-এর মতে, এই ধরনের নীতি নিউইয়র্ককে আরও অনিরাপদ করে তুলছে এবং সহিংস অপরাধীদের পুনরায় অপরাধ করার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অপরাধীর নাম ও তাদের অপকর্মের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন জ্যামাইকার নাগরিক মোসিয়াহ রাইট, যিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও মিনেসোটায় হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এছাড়া এল সালভাদরের হোসে ফুয়েন্তেস-সারাভিয়া, ভিসেন্তে মেজিয়া-মার্কেজ, ব্লাস আলবার্তো দিয়াজ এবং বেঞ্জামিন কুইজাদার মতো অপরাধীরা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য ঘটনায় জড়িত। ইকুয়েডরের হোসে ইজরায়েল চাপা ফ্লোরেস এবং হন্ডুরাসের ফ্র্যাঙ্কলিন সাউল বানেগাস-সেভালোসও শিশু নির্যাতন এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত। আইস জানিয়েছে, জঘন্য এই অপরাধীরা বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইস-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারির পর থেকে নিউইয়র্কে আইস-এর ডিটেইনার বা আটকের অনুরোধ অগ্রাহ্য করার কারণে প্রায় ৬,৯৪৭ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই মুক্তিপ্রাপ্তদের অপরাধের তালিকায় ২৯টি হত্যাকাণ্ড, ২,৫০৯টি হামলা, তিন শতাধিক ডাকাতি এবং অসংখ্য মাদক ও যৌন অপরাধের ঘটনা রয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিউইয়র্কের বিভিন্ন কারাগারে থাকা সাত সহস্রাধিক অবৈধ অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইস-এর সক্রিয় পরোয়ানা রয়েছে, যারা শতাধিক খুন এবং কয়েকশ ভয়ানক অপরাধে যুক্ত থাকার পরও স্থানীয় আইনের কারণে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, যেসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে মার্কিন করদাতার অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেসব দেশের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ট্যুরিস্ট (পর্যটন) বা স্টুডেন্ট (শিক্ষা) ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া (Vetting process) আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই পর্যালোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিশর, রাশিয়া এবং থাইল্যান্ডসহ মোট ৭৫টি দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম প্রত্যাশীদের জন্য সময়টা এখন চরম চ্যালেঞ্জের। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কড়াকড়ির ফলে অ্যাসাইলাম আবেদনের অনুমোদনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অনেক আবেদনকারীকে সরাসরি বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দ্রুততম সময়ে অ্যাসাইলাম মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আগে যেখানে একটি মামলার রায় আসতে বছরের পর বছর সময় লাগত, এখন কয়েক মাসের মধ্যেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের ফলে অনেক আবেদনকারী পর্যাপ্ত প্রমাণাদি উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের মধ্যে আবেদন করার নিয়মটি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লেও অনুমোদনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ২.২ মিলিয়নের বেশি অ্যাসাইলাম আবেদন ঝুলে আছে এবং ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলার সংখ্যা ৩.৬ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আবেদনকারীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে বা দালালদের খপ্পরে পড়ে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করছেন। তদন্তে এই জালিয়াতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ হারানোর পাশাপাশি দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। প্রতিটি আবেদন এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের অনেক আবেদনে ভুল ও মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ মিলছে, যা ইমিগ্রেশন বিভাগের নজরে আসছে। মিথ্যা তথ্যের দায়ভার সম্পূর্ণ আবেদনকারীর। এর ফলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, বড় ধরনের আইনি ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।” আইনজীবীদের পরামর্শ হলো, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য ও পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সাথে রাখতে হবে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া আবেদন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা নীতির এক বিশেষ পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, দেশটি বর্তমানে পারিবারিক (Family-based) এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক (Employment-based) অভিবাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট এবং বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ক্যাটাগরিতে আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও গত জানুয়ারি মাস থেকে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা 'পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স' বেশি গ্রহণ করেন, সেই সব দেশের নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো এবং কেবল আর্থিকভাবে সচ্ছল ও দক্ষ ব্যক্তিদের অভিবাসন নিশ্চিত করা। নতুন এই নীতিমালার অন্যতম বিতর্কিত এবং আলোচিত দিক হলো 'স্পেশাল বন্ড' বা বিশেষ জামানত ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বা তার স্পনসরকে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত বিশেষ বন্ড জমা দিতে হতে পারে। এই অর্থটি মূলত একটি গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দ্রুত সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না। এই নিয়মটি বিশেষ করে সেই সব আবেদনকারীদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে যাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ রয়েছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য আমেরিকার স্বপ্ন পূরণ হওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে নীতিমালায় কড়াকড়ি আসলেও আবেদনের মূল ধাপগুলোতে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। বর্তমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) থেকে পিটিশন অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। এরপর যাবতীয় নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসি-তে (NVC) পাঠানো হয়। সবশেষে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এনভিসি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যাকলগের কারণে সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি ভেদে এই অপেক্ষার সময় কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত পেশার দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা থাকলেও, সাধারণ ইমিগ্রেশন এখন সম্পূর্ণভাবে নতুন বন্ড পলিসি এবং পাবলিক চার্জ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন সরকারের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে। তাই যারা নতুন করে আবেদন করার কথা ভাবছেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড প্রদানের মানসিক প্রস্তুতি এবং সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল এই কঠিন বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতকারী পর্যটক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুসংবাদ। মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) তাদের 'মোবাইল পাসপোর্ট কন্ট্রোল' (MPC) অ্যাপের মাধ্যমে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি ভিসাস নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভ্রমণকারীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা ছাড়াই নিজেদের পাসপোর্ট এবং কাস্টমস ডিক্লারেশন সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি স্মার্টফোনের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। MPC অ্যাপটি মূলত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বিমানবন্দরের প্রচলিত কাগজের ফরম পূরণের ঝামেলা কমিয়ে দেয়। ভ্রমণকারীরা বিমানে থাকাকালীন বা অবতরণের পরপরই নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য (সর্বোচ্চ ১২ জন) অ্যাপে ইনপুট দিতে পারেন। এরপর একটি ডিজিটাল রিসিট জেনারেট হয়, যা বিমানবন্দরের নির্ধারিত এমপিসি লেন-এ (MPC Lane) দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে দেখালেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। কারা এই সুবিধা পাবেন? বর্তমানে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী (LPR), নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কানাডিয়ান নাগরিক এবং ভিসামুক্ত দেশের (VWP) যাত্রীরা এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারছেন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যারা পর্যটক হিসেবে যাচ্ছেন, তারা আপাতত নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হলে বা ভবিষ্যতে আপডেট আসলে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ৪টি সমুদ্রবন্দরে এই সুবিধা চালু রয়েছে। সুবিধাসমূহ: ১. কোনো বাড়তি ফি বা খরচ ছাড়াই অ্যাপটি ডাউনলোড করা যায়। ২. পরিবারের সবাই একসাথে একটি অ্যাপের মাধ্যমেই তথ্য জমা দিতে পারেন। ৩. বিমানবন্দরের সাধারণ লাইন থেকে অনেক ছোট হয় এমপিসি লাইন, ফলে সময় বাঁচে। পেশাদার ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি আধুনিক সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর ইমিগ্রেশনের ক্লান্তি অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট(আইস)-এর হেফাজতে এক মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৭-এ পৌঁছানোর বিষয়টি সামনে এনেছে। মৃত ব্যক্তির নাম আলেহান্দ্রো ক্যাবরেরা ক্লেমেন্তে (৪৯)। তিনি উইন করেকশনাল সেন্টার -এ আটক ছিলেন। আইস-এর পাঠানো নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসন অভিযানের পর থেকে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লেমেন্তে এই সময়ের মধ্যে ১৫তম মেক্সিকান নাগরিক, যিনি আটক অবস্থায় মারা গেলেন। মেক্সিকোর কূটনীতিক ভেনেসা কালভা রুইজ এই মৃত্যুগুলোকে “অ্যালার্মিং” ও “অগ্রহণযোগ্য প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা পদ্ধতিগত ব্যর্থতা, পরিচালনাগত দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য অবহেলার ইঙ্গিত দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আইস ডিটেনশন সেন্টারগুলোর পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও বন্দীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। এদিকে আইস জানিয়েছে, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু তদন্ত নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এখন থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে কোনো প্রথাগত সিল বা স্ট্যাম্পের প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে চালু হচ্ছে উন্নত ‘এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম’ (ইইএস), যেখানে ভ্রমণকারীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ফেসিয়াল স্ক্যান বা বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ইসরায়েলি নাগরিকসহ ইইউ বহির্ভূত সব দেশের পর্যটকদের প্রথমবার ইউরোপে প্রবেশের সময় ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। এই তথ্য ইইউ-এর তথ্যভাণ্ডারে পরবর্তী তিন বছর সংরক্ষিত থাকবে। মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং জালিয়াতি রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভ্রমণকারীদের এই নতুন পদ্ধতির সাথে অভ্যস্ত করতে ‘ট্রাভেল টু ইউরোপ’ নামের একটি অ্যাপ ইতিমধ্যে বড় বড় বিমানবন্দরগুলোতে চালু করা হয়েছে। যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ৭২ ঘণ্টা আগেই পাসপোর্টের তথ্য ও ছবি এই অ্যাপের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের সময় কিছুটা বাড়তি ভিড় বা দীর্ঘ লাইনের আশঙ্কা থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইইউ আরও একটি ডিজিটাল সিস্টেম ‘ইটিআইএএস’ (ETIAS) চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার থাকা দেশগুলোর নাগরিকদেরও ইউরোপ ভ্রমণের আগে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে অগ্রিম অনুমোদন নিতে হবে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এরাইভাল ইমিগ্রেশন বিভাগের সার্ভার রুমে রোববার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে আগুন লেগেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট রাত ১২টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিমানবন্দর পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ধোঁয়া লক্ষ্য করে কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। সিলেট ফায়ার স্টেশনের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।