ইলন মাস্ক

টেক্সাসে নির্মাণের পরিকল্পনা করা টেরাফ্যাব প্রকল্পের নকশা। ছবি: সংগৃহীত
চীনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণ করছেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে টেসলা ও স্পেসএক্স। 'টেরাফ্যাব' নামে এই বিশাল সেমিকন্ডাক্টর কারখানার আয়তন হবে ১০ কোটি বর্গফুটেরও বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বর্তমান বৃহত্তম ভবনগুলোকেও আকারে অনেক পেছনে ফেলে দেবে।   টেসলা ও স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হিউস্টনের কাছে গ্রাইমস কাউন্টিতে যৌথভাবে নির্মিতব্য এই মেগা কারখানার প্রথম ধাপে বিনিয়োগ করা হবে ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে মোট বিনিয়োগ ১১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।   ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেছেন, এটি হবে "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মূল্যবান ভবন।" প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে অবস্থিত নিউ সেঞ্চুরি গ্লোবাল সেন্টারের রেকর্ড ভেঙে দেবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনটিই বিশ্বের বৃহত্তম ভবন হিসেবে পরিচিত। এর ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্রসৈকত, স্কি ঢালসহ নানা সুবিধা। প্রস্তাবিত টেরাফ্যাবের আয়তন হবে এর পাঁচ গুণেরও বেশি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন, অ্যাপল পার্ক এবং মল অব আমেরিকার সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও অনেক বড় হবে।   টেসলা ও স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, একই ছাদের নিচে এখানে সেমিকন্ডাক্টর চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরীক্ষার কাজ হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংচালিত যান, রোবট এবং মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য বর্তমান বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। সেই ঘাটতি পূরণেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, টেরাফ্যাবে তৈরি হওয়া চিপ টেসলার অপটিমাস মানবাকৃতি রোবট, স্বয়ংচালিত সাইবারক্যাব এবং স্পেসএক্সের পরিকল্পিত মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বছরে ১ টেরাওয়াটের বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন। প্রকাশিত নকশায় দেখা গেছে, ভবনটির নকশা হবে ডানার মতো বিস্তৃত এবং ছাদ হবে স্বচ্ছ। ইলন মাস্কের ভাষায়, এটি হবে "বিজ্ঞান কল্পকাহিনির শহরের" মতো দেখতে।   প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স। নতুন কর্মীদের বড় অংশ গ্রাইমস কাউন্টি ও পাশের ব্রাজোস কাউন্টি থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলও এই প্রকল্পে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারখানাটি নির্মিত হবে গিবন্স ক্রিক রিজার্ভয়ার এলাকায়, যেখানে আগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার নিয়ে টেক্সাসে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ওই জলাধারের পানি ব্যবহার করবে।   এছাড়া প্রকল্পের জন্য দেওয়া কর-সুবিধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে শত শত বাসিন্দা সম্প্রতি এক কাউন্টি সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় এই প্রকল্পের জন্য টেক্সাস এন্টারপ্রাইজ ফান্ড থেকে ৩ কোটি ডলারের অনুদান অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি রাজ্যের কর্মসংস্থান, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সুবিধাও পাবে।   প্রকল্পটি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে এটি শুধু আয়তনের দিক থেকেই নয়, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ ও ডাইনোসর ফিরিয়ে আনার ধারণা নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!

‘জুরাসিক পার্ক’ কি কখনও বাস্তবে সম্ভব হবে? কোটি মানুষের কল্পনায় ঘুরপাক খাওয়া এই প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে ঘিরে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা এগোলেও প্রকৃত ডাইনোসরকে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা বর্তমান বিজ্ঞানের পক্ষে এখনও সম্ভব নয়।    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাস্তবের জুরাসিক পার্ক’ তৈরির একটি ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ইলন মাস্ক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, তিনি আশা করেন কেউ একদিন এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে। তার এই মন্তব্যের পরই বিশ্বজুড়ে ডি-এক্সটিংশন বা বিলুপ্ত প্রাণী পুনরুজ্জীবিত করার প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।    তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সিনেমায় দেখানো পদ্ধতিতে ডাইনোসর ফিরিয়ে আনা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ডাইনোসরদের ব্যবহারযোগ্য ডিএনএ আজ আর সংরক্ষিত নেই। এত দীর্ঘ সময়ে ডিএনএ ভেঙে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে জীবন্ত প্রাণী পুনর্গঠন করা বর্তমান প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়।    তবে ডি-এক্সটিংশন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা থেমে নেই। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বায়োটেক কোম্পানি উলি ম্যামথ, ডোডো কিংবা মোয়ার মতো তুলনামূলক সাম্প্রতিক সময়ে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে জিন সম্পাদনা ও আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য মূলত সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, যদিও এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক বিতর্কও রয়েছে।    বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে জিন প্রকৌশলে আরও বড় অগ্রগতি এলেও ‘জুরাসিক পার্ক’-এর মতো প্রকৃত ডাইনোসরের পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা এখনও অত্যন্ত ক্ষীণ। তবে ইলন মাস্কের মন্তব্য দেখিয়ে দিয়েছে, বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানের সীমারেখা নিয়ে মানুষের কৌতূহল এখনও আগের মতোই প্রবল, আর সেই আগ্রহই ডি-এক্সটিংশন প্রযুক্তি নিয়ে নতুন নতুন বিতর্ক ও গবেষণার জন্ম দিচ্ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেও শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা খেল স্পেসএক্স। ছবি: সংগৃহীত
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেও শেয়ারবাজারে ধাক্কা খেল স্পেসএক্স

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে লেনদেন-পরবর্তী সময়ে কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।    স্পেসএক্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় হয়েছে ৭৮১ কোটি ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ৬৯৩ কোটি ডলার। একই সময়ে কোম্পানির প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে ৯ সেন্ট, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ২৬ সেন্ট লোকসানের। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার কোম্পানির আয় বেড়েছে ৯২ শতাংশ।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের নিট লোকসান হয়েছে ৫৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির লোকসান ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার। আয় বাড়লেও এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে।    কোম্পানির সবচেয়ে শক্তিশালী আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্টারলিংকের গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। পাশাপাশি স্পেসএক্সের এআই বিভাগ থেকেও আয় এসেছে। কোম্পানির তিনটি প্রধান বিভাগ—মহাকাশ কার্যক্রম, সংযোগ সেবা এবং এআই বিভাগ—থেকে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।   তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের মূলধনী ব্যয় বেড়ে প্রায় ১৮৩৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এআই অবকাঠামো তৈরিতে। এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ কমে যায়।    স্পেসএক্স জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এআই সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্টারলিংক সেবা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এআই, মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে বড় বিনিয়োগের বিপরীতে দ্রুত মুনাফা দেখাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
ভাইরাল হলো ১ কোটি ১০ লাখ ভিউয়ের পোস্ট
ইলন মাস্কের ছবি এঁকে প্রশংসা নয়, ‘ব্লক’ পেলেন শিল্পী; ভাইরাল হলো ১ কোটি ১০ লাখ ভিউয়ের পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইলন মাস্কের একটি হাতে আঁকা পেন্সিল স্কেচ পোস্ট করে শুধু একটি ইচ্ছার কথাই লিখেছিলেন শিল্পী "আশা করি, একদিন ইলন আমার আঁকা ছবিটি দেখবেন।” কিন্তু প্রশংসা তো দূরের কথা, মাস্ক ছবিটি দেখার পর শিল্পীকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেই ব্লক করে দেন। ঘটনাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।  ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই পোস্টটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ভিউ পায়। হাজারো ব্যবহারকারী ছবিটি শেয়ার ও মন্তব্য করতে শুরু করেন। অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন, ইলন মাস্ক ছবিটির কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবেন কি না। শেষ পর্যন্ত তিনি পোস্টটি দেখলেও প্রত্যাশিত প্রশংসা বা মন্তব্যের পরিবর্তে শিল্পীকে ব্লক করেন।    ব্লক হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাস্ক একই আলোচনায় একটি হাসির ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সেই প্রতিক্রিয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে শুরু হয় নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ও মিম তৈরির ঢল।    ঘটনার পর অনেক ব্যবহারকারী ইলন মাস্কের নিজেদের আঁকা ছবি প্রকাশ করতে শুরু করেন। কেউ মূল ছবিটি সম্পাদনা করে নতুন সংস্করণ তৈরি করেন, আবার কেউ ‘মেলন মাস্ক’ নামে নানা হাস্যরসাত্মক মিম ছড়িয়ে দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি এক্সের অন্যতম আলোচিত ট্রেন্ডে পরিণত হয়।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাল বিতর্কের পরও ইলন মাস্ক শিল্পীর ওপর থেকে ব্লক তুলে নেননি। একটি সাধারণ ভক্তের প্রশংসাসূচক পোস্ট কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোটি মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনাটি তারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চালু হলো আর্থিক সেবা ‘এক্স মানি’। ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংক চালু করলেন ইলন মাস্ক সাথে ‘এক্স মানি’, ডেবিট কার্ডসহ আর্থিক সেবা

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারীদের জন্য ‘এক্স মানি’ নামে নতুন আর্থিক সেবা চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে আমন্ত্রণভিত্তিক এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একে অপরকে তাৎক্ষণিক অর্থ পাঠাতে পারবেন, পাশাপাশি পাবেন ভিসা-সমর্থিত ডেবিট কার্ড ও অন্যান্য ব্যাংকসদৃশ সুবিধা।   নতুন সেবাটি বর্তমানে এক্সের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য চালু হয়েছে। ‘এক্স মানি’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ জমা রাখা, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পি-টু-পি) অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, সরাসরি বেতন গ্রহণ (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) এবং ভিসা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করা যাবে। এ সেবার ব্যাংকিং অংশীদার হিসেবে রয়েছে ক্রস রিভার ব্যাংক।   এক্স জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যবহারকারীরা জমাকৃত অর্থের ওপর সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বার্ষিক মুনাফা এবং যোগ্য কেনাকাটায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। ডেবিট কার্ডটি এটিএম থেকেও ব্যবহার করা যাবে এবং অ্যাপল ওয়ালেটের মতো ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গেও সংযুক্ত করা যাবে।    দীর্ঘদিন ধরেই ইলন মাস্ক এক্সকে একটি ‘এভরিথিং অ্যাপ’ বা বহুমুখী সেবা প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বার্তা আদান-প্রদান এবং আর্থিক সেবাকে একই প্ল্যাটফর্মে একীভূত করার লক্ষ্যেই ‘এক্স মানি’ চালু করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।    তবে নতুন এ আর্থিক সেবা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। ভোক্তা সুরক্ষা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সেবাটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নির্বাচনে জোরালো প্রচারে আবার মাঠে নামছেন ইলন মাস্ক
নির্বাচনে জোরালো প্রচারে আবার মাঠে নামছেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় আবারও সক্রিয় হচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তার রাজনৈতিক তহবিল ‘আমেরিকা প্যাক’  পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় সাধারণত কম ভোটার উপস্থিতি হয় এমন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনাই হবে এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। এ জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং ডাকযোগে প্রচারণাসহ বিভিন্ন কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।    বিশেষভাবে এমন রক্ষণশীল ভোটারদের লক্ষ্য করা হবে, যারা সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী হন না। রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আমেরিকা প্যাক অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও সমন্বয় করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থী প্রচারণায় আমেরিকা প্যাক ২৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল। ওই নির্বাচনী চক্রে মাস্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দাতাদের একজন। তবে এবার তিনি কত অর্থ ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে তার প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।    একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মাস্ক দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয়সংকোচন কর্মসূচি ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই)-এর নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। পরে সরকারি ব্যয় এবং নীতিগত নানা বিষয়ে মতবিরোধের জেরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচেষ্টায় মাস্ক আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে বিপুল অর্থ, তথ্যভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটার সংগঠনে আমেরিকা প্যাকের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে মাস্কের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক
আগামী ১০ বছরে টাকার দাম থাকবে না, আরও যা বললেন ইলন মাস্ক

আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট মানুষের তুলনায় বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করবে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থের প্রচলিত গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক। দ্য ইকোনমিস্ট-এর একটি পডকাস্টে ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও এআই প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।   মাস্কের ভাষ্য, এআই-নির্ভর প্রযুক্তি যদি খাবার, বাসস্থান, যাতায়াতসহ মানুষের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ সেবা সহজে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে অর্থের বর্তমান ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে। তার মতে, উৎপাদন ও সেবার প্রাচুর্য তৈরি হলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে।   তিনি আরও দাবি করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে মানুষের করা অধিকাংশ কাজ এআই ও রোবট সম্পন্ন করতে পারবে বলেও তার ধারণা। তবে অর্থের পরিবর্তে কী ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা বিনিময় পদ্ধতি গড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুধু ইলন মাস্কেই সীমাবদ্ধ নয়। ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান, গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিস এবং এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের নেতৃত্বও উন্নত এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি এবং এর সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময় সতর্কতা ও পূর্বাভাস দিয়েছেন।   তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এসব বক্তব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও আগামী কয়েক বছরে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন ঘটবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নীতিমালা, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সমাজের গ্রহণযোগ্যতার ওপরও ভবিষ্যতের বাস্তবতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
১০ বছরের মধ্যে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ইলন মাস্ক
১০ বছরের মধ্যে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ইলন মাস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে মানুষের আর তার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এই প্রযুক্তিই পৃথিবীতে অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে এবং অর্থের গুরুত্বও অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।    দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এআই সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তাকে অতিক্রম করতে পারে। আর প্রায় ১০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তিটি এতটাই উন্নত হবে যে মানুষ আর এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে না।    মাস্কের ভাষ্য, উন্নত রোবট ও এআই মানুষের অধিকাংশ কাজ করে দিতে সক্ষম হবে। ফলে এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে, যেখানে পণ্য ও সেবার প্রাচুর্য এতটাই বেড়ে যাবে যে অর্থের বর্তমান গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে মানুষ বাধ্য হয়ে কাজ করার পরিবর্তে নিজের পছন্দের কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।    তবে এই আশাবাদের পাশাপাশি এআই নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন টেসলা ও এক্সএআইয়ের প্রধান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন এখন আর থামানো সম্ভব নয়। তাই বিশ্বের শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর উচিত সবচেয়ে উন্নত মডেল প্রকাশের আগে একে অপরের প্রযুক্তি পর্যালোচনা করা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা। তাঁর মতে, শিল্পখাত নিজেই যদি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারে, তখনই কেবল সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে।    সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মাস্ক। তিনি স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনীতিতে "একটু বেশিই জড়িয়ে পড়েছিলেন"। যদিও নিজের অনেক অবস্থানকে এখনো সঠিক বলে মনে করেন, তবুও অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে বিতর্ক বেড়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।    বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই মাস্কের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং গবেষকেরা এখন এমন একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবসমাজের জন্য নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বিশ্বের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা | ছবি: সংগৃহীত
টেসলার গাড়ি বিক্রি লাফিয়ে বেড়েছে, তিন মাসে গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৫ লাখ গাড়ি

বিশ্বের অন্যতম বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিক্রিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই তিন মাসে কোম্পানিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৫ লাখ গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। শক্তিশালী এই ফলাফলকে টেসলার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।   কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত টেসলা মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার ১২৬টি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৯৬ হাজার বেশি গাড়ি সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   একই সময়ে টেসলা উৎপাদন করেছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৮টি গাড়ি। বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে ডেলিভারির সংখ্যাকেই বিক্রয়ের প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এ দিক থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল বাজারের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, টেসলার বিক্রি বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা পুনরুদ্ধার, চীনের বাজারে ধারাবাহিক বিক্রি বৃদ্ধি, নতুন সংস্করণের মডেল ওয়াইয়ের জনপ্রিয়তা এবং বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য সরকারি প্রণোদনা কোম্পানিটির বিক্রি বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অঞ্চলে জ্বালানির উচ্চ মূল্যও অনেক ক্রেতাকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করেছে।   চীনের বাজারেও টেসলার ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জুন মাসে সাংহাই কারখানায় তৈরি টেসলার গাড়ির বিক্রি ও রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা কোম্পানির বৈশ্বিক বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।   তবে শক্তিশালী ডেলিভারি প্রতিবেদন প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে টেসলার শেয়ারদরে কিছুটা চাপ দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা আগেই শেয়ারের দামে প্রতিফলিত হয়েছিল। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর কোম্পানির আসন্ন আর্থিক প্রতিবেদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, স্বয়ংচালিত সফটওয়্যার এবং রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের অগ্রগতির দিকে।   আগামী ২২ জুলাই টেসলা তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তখন কোম্পানির আয়, মুনাফা এবং বছরের বাকি সময়ের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাককেঞ্জি স্কটের বিপুল অনুদান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ইলন মাস্ক | ছবি: এএফপি/গেটি ইমেজেস
জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রীর দান করা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও আমাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ম্যাককেঞ্জি স্কটের বিপুল পরিমাণ দানশীলতা নিয়ে এবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন প্রযুক্তি ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একজন ব্যবহারকারীর পোস্টের সাথে একমত পোষণ করে মাস্ক দাবি করেছেন, ম্যাককেঞ্জির এই দান করার মানসিকতা বিশ্বকে আরও খারাপ করে তুলছে।   এক্স প্ল্যাটফর্মের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, ম্যাককেঞ্জি স্কটের ২৬.৩ বিলিয়ন ডলারের দাতব্য অনুদান মূলত পৃথিবীর জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই বক্তব্যের জবাবে টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক সরাসরি মন্তব্য করেন, "দুর্ভাগ্যবশত, এটি সত্য।" মাস্কের এমন প্রকাশ্য অবস্থান সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ২০১৯ সালে জেফ বেজোসের সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর ম্যাককেঞ্জি স্কট মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ব্যক্তিগত দাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি তাঁর নিজস্ব দাতব্য সংস্থা ‘যিল্ড গিভিং’-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ অনুদান হিসেবে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই উদারতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ালেও মাস্কের কাছে তা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।   ম্যাককেঞ্জির এই বিশাল তহবিল মূলত বিনা শর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২,৭০০টিরও বেশি অলাভজনক সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের ঐতিহ্যবাহী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, উপজাতীয় কলেজ, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি প্রোগ্রাম এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কাজ করা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সংস্থা। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তাঁর এই অর্থ বড় ভূমিকা রাখছে।   ইলন মাস্ক মূলত ম্যাককেঞ্জির অনুদানের পরিমাণের বিরোধিতা করছেন না, বরং তিনি এর পেছনের আদর্শিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ‘বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি’ (DEI) সংক্রান্ত বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর মতে, ম্যাককেঞ্জির এই দানশীলতা আসলে এমন একটি এজেন্ডাকে প্রসারিত করছে যা সমাজের জন্য শেষ পর্যন্ত ক্ষতিকর।   ইলন মাস্কের এই আক্রমণাত্মক ও সমালোচনামূলক মন্তব্যের বিপরীতে ম্যাককেঞ্জি স্কট এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে বড় বড় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ এবং সমাজকর্মীরা ম্যাককেঞ্জির এই স্বাধীন ও মুক্তহস্তে দান করার মডেলের ভূয়সী প্রশংসা করে চলেছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
১১৮ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ মর্যাদা হারালেন ইলন মাস্ক?

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের সম্পদে বড় ধাক্কা লেগেছে। মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দর ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর সম্পদ থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হিসেবে পাওয়া মর্যাদা হারিয়েছেন কি না, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে প্রযুক্তি খাতজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে। মাত্র তিনটি লেনদেন সেশনে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৬০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমে যায়।   এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার। তুলনা করলে দেখা যায়, ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাস্ক যে অর্থ হারিয়েছেন, তা বিশ্বের অনেক শীর্ষ ধনীর পুরো সম্পদের সমান।   যদিও ব্লুমবার্গের হিসাবে মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে, ফোর্বস এখনও তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করছে। ফলে তিনি এখনও ট্রিলিয়নিয়ার কি না, তা নির্ভর করছে কোন সম্পদ-তালিকা বিবেচনা করা হচ্ছে তার ওপর। মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ স্পেসএক্সে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৮ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছেন। ব্লুমবার্গের হিসাবে স্পেসএক্সে তাঁর অংশীদারির মূল্য বর্তমানে প্রায় ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁর মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশ।   স্পেসএক্সের মূল্য কমার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। কোম্পানিটি মহাকাশভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ জন্য আগামী বছরগুলোতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ঘোষিত বন্ড বিক্রির একটি অংশও এই প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।   শুধু স্পেসএক্স নয়, মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলাও চাপের মুখে রয়েছে। মঙ্গলবার টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া নতুন নিরাপত্তা তদন্তকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ১৯ জুন টেক্সাসে একটি টেসলা মডেল-৩ গাড়ি একটি বাড়িতে আঘাত করলে ৭৬ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির উন্নত চালক-সহায়ক প্রযুক্তি সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।   তবে বিপুল সম্পদ হারানোর পরও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এখনও বিশ্বের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৭ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় মাস্ক এখনও অনেক এগিয়ে রয়েছেন।   অর্থনীতিবিদ পিটার শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করে বলেন, স্পেসএক্সের শেয়ার দরপতনে কাগজে-কলমে মাস্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা ওয়ারেন বাফেটের পুরো সম্পদের চেয়েও বেশি। তবে তাতেও বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে তাঁর অবস্থান অটুট রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতা এবং শেয়ারবাজারের ওঠানামা মাস্কের সম্পদে বড় প্রভাব ফেললেও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আকার ও প্রভাব এতটাই বিশাল যে নিকট ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থান থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: পৃষ্ঠা ছয়
ইলন মাস্কের প্রস্তাবিত ৪০ মিলিয়ন ডলারের এনডিএ প্রত্যাখ্যান করলেন অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার

বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মাস্কের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বহু-মিলিয়ন ডলারের নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।   সম্প্রতি একটি পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যে সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, মাস্কের সম্পদ ব্যবস্থাপক জ্যারেড বার্চাল তার সঙ্গে একটি গোপন চুক্তির বিষয়ে যোগাযোগ করেন। শুরুতে তাকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং বাড়ি কেনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে আরও বড় একটি প্রস্তাবে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং ২০ বছরের জন্য প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়, শর্ত ছিল ব্যক্তিগত বিষয় ও সম্পর্ক সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখতে হবে।   সেন্ট ক্লেয়ার জানান, তিনি ওই এনডিএ স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তার মতে, চুক্তিতে মাস্ক, তার কর্মী এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করার শর্ত ছিল, যা তাকে নৈতিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।   তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি মূলত সিগন্যাল অ্যাপে গোপন বার্তা এবং ফোনকলের মাধ্যমে আলোচিত হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেন্ট ক্লেয়ার প্রথম জানান, ইলন মাস্ক তার সন্তানের পিতা—যার নাম রোমুলাস। পরবর্তীতে মাস্কও বিষয়টি নিশ্চিত করেন যে তার আরেকটি সন্তান রয়েছে।   সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, এনডিএ প্রত্যাখ্যানের পর থেকে তিনি মাস্কের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান অভিযানে ইলন মাস্কের গ্রোক এআই ব্যবহারের দাবি, আদালতে পেন্টাগন কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা শপথনামায় দাবি করেছেন, ইরানে সামরিক অভিযানের সময় ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে মার্কিন প্রশাসন। নথি অনুযায়ী, ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ২ হাজারের বেশি অস্ত্র ব্যবহারের অভিযানে এ প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।   পেন্টাগনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে জমা দেওয়া শপথনামায় গ্রোককে “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি বিভিন্ন মিশন-গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটিই সম্ভবত প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হলো যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইলন মাস্কের এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।   তবে পেন্টাগনের সামরিক কর্মকাণ্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাগুলো সামনে আসার পর এআই-নির্ভর লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও হামলা পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।   নতুন এই তথ্য সামনে আসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপির করা একটি মামলার শুনানিতে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর ‘কলোসাস ২’ ডেটা সেন্টার প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই অন্তত ৫৭টি গ্যাসচালিত টারবাইন পরিচালনা করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’ বা পরিচ্ছন্ন বায়ু আইন লঙ্ঘন করে।   মামলার নথিতে গ্রোকের জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, যা পরে জনসমক্ষে আসে।

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৬০ বিলিয়ন ডলারে এআই কোডিং সফটওয়্যার কিনে নিল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স

বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় এআই কোডিং সফটওয়্যার কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ারকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে করপোরেট এআই প্রযুক্তির বাজারে স্পেসএক্সের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।   কয়েক দিন আগেই ইলন মাস্কের এই রকেট ও এআই কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। নাসডাক শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। এই ব্লকবাস্টার আইপিও অভিষেকের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কারসর সফটওয়্যারটি কিনে নেওয়ার বড় চুক্তিটি সম্পন্ন করল স্পেসএক্স। মূলত গত এপ্রিল মাস থেকেই কোম্পানিটি কারসরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল।   স্পেসএক্স মূলত তাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি এক্সএআই এবং এর চ্যাটবট গ্রককে আরও উন্নত করতে কারসরের এই কোডিং সক্ষমতাকে কাজে লাগাবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সএআই-এর সাথে স্পেসএক্সের একীভূতকরণ হলেও এআই কোডিংয়ের বাজারে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। ৬০ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন চুক্তিটি কারসরকে আরও বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং বা ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা সরবরাহ করবে।   এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাক-বাজার লেনদেনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির বাজার মূলধনের সাথে আরও প্রায় ২৪৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে যাচ্ছে, যার ফলে এর মোট বাজার মূল্য দাঁড়াবে ২.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ২১১.২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা আইপিও চালুর মূল দাম ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। এই ধারা বজায় থাকলে স্পেসএক্স শিগগিরই আমাজনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হবে।   ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো কারসরও সিলিকন ভ্যালির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং করতে পারে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কারসর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের সাথে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি বার্ষিক প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের করপোরেট রাজস্ব আয় করছে। এর আগে কোম্পানিটি এনভিডিয়া ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিনিয়োগসহ ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে নতুন তহবিল সংগ্রহের আলোচনা করছিল।   আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। স্পেসএক্সের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এক্স৬৭-এর সাথে কারসরের এই মার্জার বা একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে। রেগুলেটরি ফাইলিং বা প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, কোনো বিশেষ কারণে এই চুক্তিটি বাতিল হলে স্পেসএক্স কারসরকে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়া সরকারি বা আইনি জটিলতার কারণে চুক্তি সফল না হলে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার রেগুলেটরি ফি দিতে হবে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক | ছবি: সংগৃহীত
ইলন মাস্কের সম্পদের সমান হতে সাধারণ আমেরিকানদের লাগবে ১ কোটি বছর

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ সম্প্রতি ১.২ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একজন সাধারণ মার্কিন নাগরিকের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া প্রায় অসম্ভব এক বিষয়। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন সাধারণ আমেরিকান নাগরিকের পক্ষে ইলন মাস্কের এই বিশাল সম্পদের সমান স্তরে পৌঁছাতে বিপুল সময় লেগে যাবে।   বর্তমানে একটি সাধারণ মার্কিন পরিবারের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। এই আয়ের সবটুকু অর্থ যদি কোনো পরিবার সম্পূর্ণভাবে সঞ্চয় করতে পারে, তবুও তারা এই অর্থের সমান করতে পারবে না। কোনো প্রকার খরচ এবং কর পরিশোধ না করে আয়ের প্রতিটি ডলার জমা করলেও মাস্কের বর্তমান সম্পদের সমান হতে একটি সাধারণ পরিবারের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর সময় লেগে যাবে।   এই দীর্ঘ সময়ের বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য মানব ইতিহাসের একটি বড় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা যেতে পারে। আজ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। মানবজাতির প্রাচীনতম পূর্বপুরুষেরা কেবল সেই আদিম সময়ে পৃথিবীতে প্রথম আবির্ভূত হতে শুরু করেছিল।   একজন একক ব্যক্তির একটি সাধারণ জীবনকালের মধ্যে অর্জিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পৃথিবীর সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এক বিশাল ব্যবধানকে ফুটিয়ে তোলে। পুরো মানব প্রজাতি একটি নির্দিষ্ট প্রজাতি হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়ার আগে থেকে আজ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কাজ করলেও এই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পারত না। একজন সাধারণ মানুষের জীবনকালের আয়ের সাথে এই সম্পদের কোনো তুলনা হয় না।   আধুনিক বিশ্বে সম্পদের এই বিশাল পাহাড় মূলত প্রথাগত কাজের সময় বা সাধারণ মানুষের আজীবন শ্রমের হিসাব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। বড় বড় বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত একচেটিয়া ব্যবসার মালিকানার মাধ্যমেই মূলত এই ধরনের অভাবনীয় পুঁজি বা সম্পদ তৈরি হওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই সাধারণ গাণিতিক হিসাবটি বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সম্পদ অর্জনের এক অবিশ্বাস্য চিত্রকে স্পষ্ট করে তোলে।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিলিয়নেয়ারের ১১০ বছর পর বিশ্ব পেল প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার

একসময় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের উত্থান ঘটত তেল, ইস্পাত কিংবা রেলপথের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পখাত থেকে। বিংশ শতকের শুরুতে তেল ব্যবসার মাধ্যমে জন ডি. রকফেলার হয়েছিলেন বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার। সেই ঘটনার ১১০ বছর পর বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন অধ্যায়। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।   আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক এবং প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্যের রেকর্ড উত্থানের পর মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।   বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ইলন মাস্কের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মূল্যও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।   বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে অবশ্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে মাস্ককে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিশ্বের ৩৫তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। মাত্র সাড়ে ছয় বছরের ব্যবধানে সেই সম্পদ প্রায় ৩৮ গুণ বেড়ে ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক অর্থনৈতিক ইতিহাসে এত দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধির নজির খুব কমই রয়েছে। ২০২০ সালের পর টেসলার শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে। একই সময়ে স্পেসএক্স বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে এবং একের পর এক বড় প্রকল্প হাতে নেয়। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়।   ইলন মাস্ক প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির আসনে বসেন ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় তিনি অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজসকে পেছনে ফেলেছিলেন। এরপর টেসলার শেয়ারদরের ওঠানামা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কারণে কয়েকবার তার অবস্থান পরিবর্তিত হলেও শেষ পর্যন্ত আবারও তিনি শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন।   বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার জন ডি. রকফেলারের গল্পও অর্থনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একজন সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। পরে তেল ব্যবসায় প্রবেশ করে গড়ে তোলেন স্ট্যান্ডার্ড অয়েল। ১৯১৬ সালে তার সম্পদ এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে, যা সে সময়ের বিশ্ব অর্থনীতিতে ছিল অভাবনীয় ঘটনা। শেয়ারবাজারে স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের ব্যাপক উত্থান তাকে ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নেয়ারে পরিণত করে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, রকফেলারের যুগ ছিল জ্বালানি খাতের আধিপত্যের যুগ। অন্যদিকে মাস্কের উত্থান প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতির প্রতীক। এই দুই ব্যক্তির সাফল্যের মধ্যে এক শতাব্দীর বেশি সময়ের ব্যবধান থাকলেও উভয়েই নিজ নিজ যুগের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন।   বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার মাধ্যমে ইলন মাস্ক শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের নতুন রেকর্ডই গড়েননি, বরং দেখিয়ে দিয়েছেন যে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সম্পদ কাঠামোতে আরও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।   তবে মাস্কের এই রেকর্ড নতুন বিতর্কও উসকে দিয়েছে। একদিকে যেমন অনেকেই এটিকে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্যের প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ারের আবির্ভাব শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইলন মাস্কের বিপুল সম্পদ নিয়ে উদ্বেগ, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব বার্নি স্যান্ডার্স
ইলন মাস্কের বিপুল সম্পদ নিয়ে উদ্বেগ, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব বার্নি স্যান্ডার্স

ওয়াশিংটন: বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের ক্রমবর্ধমান সম্পদ ও প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আয় ও সম্পদের বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।   স্যান্ডার্স বলেন, অতি অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ জমা হওয়া উদযাপনের বিষয় নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। তার মতে, দেশে ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।   নিজের বক্তব্যে স্যান্ডার্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন। একই সময়ে অল্প কয়েকজন ধনকুবেরের সম্পদ দ্রুত বাড়তে থাকায় অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি কেবল সম্পদের নয়, ক্ষমতারও। অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবও যখন সীমিত কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তখন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।   মার্কিন রাজনীতিতে প্রগতিশীল ধারার অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত স্যান্ডার্স দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি বরাবরই ধনীদের ওপর উচ্চ হারে কর আরোপ এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য আরও কার্যকর সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছেন।   অন্যদিকে, ইলন মাস্ক বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সমর্থকদের মতে, তার এই সাফল্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা নেতৃত্বের ফল। তবে সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, অল্প কয়েকজনের হাতে বিপুল সম্পদের কেন্দ্রীভবন বৈষম্যের প্রশ্নকে আরও তীব্র করে তুলছে।   স্যান্ডার্সের সাম্প্রতিক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কেউ তার বক্তব্যকে অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন যে সফল উদ্যোক্তাদের অবদান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।   বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদ, ক্ষমতা এবং গণতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে যে বিতর্ক চলছে, স্যান্ডার্সের এই মন্তব্য সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী বিতর্কে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নারের পথে ইলন মাস্ক
ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নারের পথে ইলন মাস্ক

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন ইলন মাস্ক নতুন এক ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হিসেবে তার নাম ইতিহাসে যুক্ত হতে পারে।   বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১২ জুন) ওয়াল স্ট্রিটে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক ঘটলে এই রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।   ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা আসার আগেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৯৬ বিলিয়ন ডলার। এ সম্পদ নিয়েই তিনি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে রয়েছেন।   স্পেসএক্সে মাস্কের মালিকানা প্রায় ৪২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। কোম্পানিটি প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে প্রায় ৫৫৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ আইপিও সফল হলে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ দ্রুত ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে শুক্রবারের লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ পরিমাণ সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক হিসাব অনুযায়ী, মাস্ক যদি প্রতিদিন ১০ লাখ ডলার করেও ব্যয় করেন, তবুও তার সম্পদ শেষ করতে প্রায় দুই হাজার ৭৪০ বছর সময় লাগবে।   অন্য ধনকুবেরদের সঙ্গে তুলনায় এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ বর্তমানে প্রায় ৩০৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি। সম্ভাব্য ট্রিলিয়নিয়ার হলে মাস্কের সম্পদ তার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি হবে।   ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোটিপতি জন জ্যাকব অ্যাস্টর ১৮৪৮ সালে মৃত্যুকালে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক ছিলেন, যা সে সময়ের অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্ক হিসেবে বিবেচিত হতো। তুলনায় বর্তমান সময়ে মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশের সমান হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, মহাকাশ খাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের কারণে মাস্কের সম্পদের এই দ্রুত উত্থান ঘটেছে। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশ সেই ধারা আরও জোরদার করতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

নীলুফা নিশাত জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নাম লেখালেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত এই প্রক্রিয়ার পর কোম্পানির মূল্যায়ন এবং মাস্কের সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্স প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস–এ শেয়ার বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।   তথ্য অনুযায়ী, “এসপিসিএক্স” প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   আইপিও–সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাভুক্তির পর ইলন মাস্কের কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস–এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটি ক্লাস–বি শেয়ার থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির মোট ভোটিং ক্ষমতার ৮৪.৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবেন।   আইপিও মূল্যের ভিত্তিতে কাগজে–কলমে স্পেসএক্সে মাস্কের শেয়ারহোল্ডিংয়ের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবকে কেন্দ্র করেই তাকে ঘিরে “ট্রিলিয়নিয়ার” মর্যাদা অর্জনের আলোচনা সামনে এসেছে, যদিও তা নির্ভর করছে সম্পদ মূল্যায়নের নির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর।

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, স্পেসএক্স আইপিওতে সম্পদের নতুন ইতিহাস

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটিপতির মর্যাদার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তাঁর মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) শেয়ারবাজারে আসার পর মাস্কের মোট সম্পদের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আইপিওর জন্য প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি আইপিওর পথ তৈরি হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিওগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্লুমবার্গ ও ফোর্বসের ধনকুবেরদের তালিকা অনুযায়ী, মাস্ক আগেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তবে স্পেসএক্সের আইপিও তাঁর সম্পদের পরিমাণকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।   স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাস্ক কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক। এর মধ্যে এমন কিছু শেয়ারও রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। আইপিও মূল্য অনুযায়ী স্পেসএক্সে তাঁর শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তাঁর মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য যোগ করলে দুই প্রতিষ্ঠানে মাস্কের মোট অংশীদারত্বের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি দাঁড়ায়।   তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা নির্ভর করছে তাঁর সম্পদ কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার ওপর। স্পেসএক্সের কিছু শেয়ার ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলার মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এসব শর্তাধীন শেয়ার বাদ দিলে মাস্ক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার নন বলে ধরা হতে পারে। তবে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম আরও সামান্য বাড়লে তিনি কাগজে-কলমে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।   ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, স্পেসএক্স ও টেসলায় মাস্কের শেয়ারের সম্মিলিত মূল্য মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের চেয়েও ১০ গুণের বেশি। বর্তমানে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের পরবর্তী চার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। এদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন।   আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরু থেকে স্পেসএক্স প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কারণে এই লোকসান হয়েছে। মাস্কের পারিশ্রমিক কাঠামোও প্রচলিত করপোরেট ব্যবস্থার তুলনায় ভিন্ন। তিনি সাধারণত বেতন নয়, বরং উচ্চাভিলাষী ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত শেয়ারভিত্তিক পুরস্কার পান। টেসলার ক্ষেত্রেও তাঁর বেশ কিছু পারিশ্রমিক কর্মদক্ষতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল।   শুক্রবার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্পেসএক্সের শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। আর যদি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৪০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে অতিরিক্ত শর্তাধীন শেয়ারগুলো হিসাবের বাইরে রাখলেও মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ এবার ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।   ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত ওই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইলন মাস্ক পরিচালিত স্টারলিংকসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করছে—এমন প্রমাণ পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   ফার্স নিউজের ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দখলকৃত ভূখণ্ড, কাতার, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত স্টারলিংকের গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো এখন ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত।   এর পাশাপাশি স্পেসএক্সের (SpaceX) অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং 'আল-ফাজাবি' ও 'মুবাডালা'-এর মতো কোম্পানির অবকাঠামোও এই হিটলিস্টে জায়গা পেয়েছে।   তবে আইআরজিসি বা ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ ফার্স নিউজের এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বা বিষয়টি অস্বীকারও করেনি।   যদিও গত কয়েকদিন ধরে স্পেসএক্সের কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন ইরানের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ফার্স নিউজ তাদের এই দাবিটি সামনে এনেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০