নির্বাচনে জোরালো প্রচারে আবার মাঠে নামছেন ইলন মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় আবারও সক্রিয় হচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তার রাজনৈতিক তহবিল ‘আমেরিকা প্যাক’ পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় সাধারণত কম ভোটার উপস্থিতি হয় এমন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনাই হবে এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। এ জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং ডাকযোগে প্রচারণাসহ বিভিন্ন কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিশেষভাবে এমন রক্ষণশীল ভোটারদের লক্ষ্য করা হবে, যারা সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী হন না। রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আমেরিকা প্যাক অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও সমন্বয় করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থী প্রচারণায় আমেরিকা প্যাক ২৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল। ওই নির্বাচনী চক্রে মাস্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দাতাদের একজন। তবে এবার তিনি কত অর্থ ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে তার প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মাস্ক দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয়সংকোচন কর্মসূচি ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই)-এর নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। পরে সরকারি ব্যয় এবং নীতিগত নানা বিষয়ে মতবিরোধের জেরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচেষ্টায় মাস্ক আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে বিপুল অর্থ, তথ্যভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটার সংগঠনে আমেরিকা প্যাকের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে মাস্কের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গতি কমছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দেশের বড় বড় শহরের অনেক এলাকায় বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম ও প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে। একই সময়ে উচ্চ মর্টগেজ রেট ক্রেতাদের সামর্থ্যের ওপর চাপ তৈরি করায় বিক্রেতারাও ক্রেতাদের কাছে আসতে দাম কমাতে শুরু করেছেন। রিয়েল্টর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের জাতীয় গড় তালিকামূল্য টানা ১০ মাসের মতো আগের বছরের তুলনায় কমেছে। আগস্টে এই পতন ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশের চারটি প্রধান অঞ্চলের মধ্যে নর্থইস্টে মধ্যম তালিকামূল্য ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, সাউথে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ওয়েস্টে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মিডওয়েস্টে দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। ৫০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ৩৬টিতে আগস্টে আগের বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটের তালিকামূল্য কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অস্টিনে ৮ দশমিক ১ শতাংশ, টাম্পায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমফিসে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে প্রভিডেন্সে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, ইন্ডিয়ানাপোলিসে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শিকাগোতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ দাম বেড়েছে। রিয়েল্টর ডটকমের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, অস্টিন, টাম্পা, সান অ্যান্টোনিও ও ডেনভারের মতো ২০২০-২২ সালের আবাসন-বুমের শহরগুলো এখন মহামারির সময়কার অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কিছুটা সমন্বয় করছে। এসব বাজারে মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এখন বাড়ির সরবরাহও বেশি। সান ফ্রান্সিসকোতেও আগস্টে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের তালিকামূল্য এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। শহরটির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কম। তবে বাজারটি এখনও প্রতিযোগিতামূলক রয়েছে। ফ্যানি মে-র পক্ষে পালসেনমিক্স পরিচালিত সর্বশেষ হোম প্রাইস এক্সপেকটেশনস সার্ভে-তে ১১৪ জন অর্থনীতিবিদ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষক অংশ নিয়েছেন। তাঁদের গড় পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। এরপর ২০২৮, ২০২৯ ও ২০৩০ সালে বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৭, ৩ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমানে যে বাজার-শীতলতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি ২০২৭ সালেও বাড়ির দামের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঠেকিয়ে রাখতে পারে। তবে জাতীয় পর্যায়ে দাম পতনের বদলে সামান্য বাড়ার পূর্বাভাসই এখন বেশি জোরালো। রয়টার্সের মার্চ ২০২৬-এর একটি অর্থনীতিবিদ জরিপেও ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। একই জরিপে ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।
আইফোনের চেয়ে বাড়লো ট্রাম্প ফোনের দাম, এক লাফে ৭৪৯ ডলার
ছেলে সমকামী জানার পর লালন-পালনের খরচ ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে বাবার মামলা
ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার বললেন, ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার যখন ধীরে ধীরে ক্রেতাদের পক্ষে ঝুঁকছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে। রেডফিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লং আইল্যান্ড বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী সেলার্স মার্কেট। এখানে বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি, ফলে ভালো অবস্থায় থাকা এবং সঠিক দামে তালিকাভুক্ত বাড়ির জন্য প্রতিযোগিতা এখনো তীব্র। লং আইল্যান্ড বলতে মূলত নাসাউ ও সাফোক কাউন্টিকে বোঝানো হয়েছে। রেডফিনের জুলাই ২০২৬-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে ৩৯টিই বর্তমানে বায়ার্স মার্কেট। অর্থাৎ অধিকাংশ এলাকায় ক্রেতারা দরদাম করার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। এর বিপরীতে লং আইল্যান্ডে সীমিত হাউজিং ইনভেন্টরি এবং শক্তিশালী চাহিদার কারণে বিক্রেতারাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এই চাহিদার অন্যতম কারণ নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে লং আইল্যান্ডের ঘনিষ্ঠতা। ম্যানহাটনের কাছে তুলনামূলক উপশহরীয় পরিবেশে একক পরিবারের বাড়ির চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী। রেডফিনের এজেন্টদের মতে, বিশেষ করে এমন বাড়িগুলোর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি যেগুলো বসবাসের জন্য প্রস্তুত এবং সঠিক দামে বাজারে তোলা হয়েছে। ফলে লং আইল্যান্ডে বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে বাজারের সাধারণ জাতীয় প্রবণতা সবসময় প্রযোজ্য হচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং বাড়ির দামের কারণে অনেক ক্রেতা পিছিয়ে গেলেও লং আইল্যান্ডে সীমিত সরবরাহ চাহিদাকে শক্তিশালী রাখছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির সামগ্রিক মেট্রো এলাকা অবশ্য ভারসাম্যপূর্ণ বাজারে রয়েছে। সেখানে বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। লং আইল্যান্ডের দুই প্রধান কাউন্টিতেও বাড়ির দাম শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জুলাই ২০২৬-এর স্থানীয় মার্কেট ডেটা অনুযায়ী, নাসাউ কাউন্টিতে একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সাফোক কাউন্টিতে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। একই সময়ে নাসাউতে বাড়ির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সাফোকে কমেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। সীমিত ইনভেন্টরি বাজারে বিক্রেতাদের অবস্থান শক্ত করার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লং আইল্যান্ডের যেকোনো বাড়ি যেকোনো দামে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণ এখনো গুরুত্বপূর্ণ। রেডফিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভালো অবস্থায় থাকা এবং সঠিক দামে তালিকাভুক্ত বাড়ি দ্রুত ক্রেতা আকর্ষণ করছে। কিছু ক্ষেত্রে ওপেন হাউস হওয়ার আগেই একাধিক অফার পাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে রেডফিনের স্থানীয় এজেন্টরা জানিয়েছেন। লং আইল্যান্ডের বাজারে ক্রেতাদের জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। সীমিত সংখ্যক বাড়ির বিপরীতে বেশি ক্রেতা থাকায় পছন্দের বাড়ি বাজারে আসার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমে যাচ্ছে। ফলে যারা কিনতে চান, তাদের আগে থেকেই মর্টগেজ প্রি-অ্যাপ্রুভাল, স্থানীয় বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং নিজেদের বাজেট পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় আবাসন বাজারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও এই পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে। আগস্ট ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি ২ শতাংশ কমে ১৪ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে উঠেছিল। ফলে দেশের অনেক অঞ্চলে ক্রেতারা এখনো উচ্চ ঋণ খরচের চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে লং আইল্যান্ডে সীমিত সরবরাহ, নিউইয়র্ক সিটির কাছাকাছি অবস্থান এবং একক পরিবারের বাড়ির চাহিদা বাজারটিকে জাতীয় প্রবণতা থেকে আলাদা করে রেখেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় যেখানে ক্রেতারা তুলনামূলক বেশি দরকষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানে লং আইল্যান্ডে এখনো বাড়ির মালিকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার বিরাজ করছে।
স্ন্যাপ থেকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বাদ, অক্টোবরে রাজ্যের ওপর বাড়ছে খরচের চাপ
৮ বছর বয়স থেকে ৭৫ বছরের দাম্পত্য! স্বামীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীরও বিদায়
ইউটাহতে বাড়ির দাম আকাশছোঁয়া, কিনতে পারছেন না ৯১% ভাড়াটিয়া
ম্যাসাচুসেটসের সালেমের একটি সৈকতে ১৯৬৫ সালে ডুবে যেতে বসা চার বছরের শিশু রজার লসিয়ারকে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছিলেন অ্যালিস ব্লেইজ। নয় বছর পর, ১৯৭৪ সালে, একই সৈকতে পানিতে ডুবে যাওয়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে ছুটে যান ১৩ বছরের সেই রজার। পরে জানা যায়, উদ্ধার করা ব্যক্তিই ছিলেন অ্যালিস ব্লেইজের স্বামী বব ব্লেইজ। একই সৈকতে নয় বছরের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুই জীবনরক্ষার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত কাকতালীয় ঘটনার উদাহরণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকাশিত বর্ণনায় উঠে এসেছে। ঘটনাটির শুরু ১৯৬৫ সালে। তখন রজার লসিয়ার মাত্র চার বছরের শিশু। সালেমের একটি সৈকতে পানিতে গিয়ে বিপদে পড়ে সে। সাঁতার কেটে নিরাপদে তীরে ফিরতে না পেরে ডুবে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে অ্যালিস ব্লেইজ শিশুটিকে দেখতে পান। কোনো দ্বিধা না করে তিনি পানিতে এগিয়ে গিয়ে রজারকে উদ্ধার করেন। সেদিন অ্যালিসের কাছে এটি ছিল একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর ঘটনা। কিন্তু তিনি তখন জানতেন না, প্রায় এক দশক পর সেই একই শিশুর সঙ্গে তার পরিবারের এমন এক সম্পর্ক তৈরি হবে, যা সাধারণ কাকতালীয় ঘটনার অনেক বাইরে চলে যাবে। নয় বছর পর ১৯৭৪ সালে রজারের বয়স তখন ১৩ বছর। সেই একই সৈকতে সে পানিতে থাকা একটি ভেলায় ছিল। এ সময় পানিতে এক ব্যক্তিকে বিপদে পড়তে দেখে রজার সাহায্যের জন্য এগিয়ে যায়। প্রকাশিত বর্ণনা অনুযায়ী, লোকটি পানিতে ডুবে যাচ্ছিলেন। রজার তার কাছে পৌঁছে তাকে পানির ওপরে ধরে রাখে এবং পরে সাহায্য আসা পর্যন্ত তাকে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। তবে তখনও রজার জানত না, সে কাকে বাঁচাচ্ছে। উদ্ধারের পর যখন পরিচয় জানা গেল, তখন ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। পানিতে ডুবে যাওয়া সেই ব্যক্তি ছিলেন বব ব্লেইজ। আর ববের স্ত্রী অ্যালিস ব্লেইজই ছিলেন সেই নারী, যিনি নয় বছর আগে চার বছরের রজারকে একই সৈকতে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। অর্থাৎ ১৯৬৫ সালে অ্যালিস যে শিশুটির জীবন রক্ষা করেছিলেন, ১৯৭৪ সালে সেই শিশুই অ্যালিসের স্বামীর জীবন রক্ষা করে। দুই ঘটনার স্থান একই, ব্যবধান মাত্র নয় বছর এবং দুই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন একই পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল রজারের জন্যও। উদ্ধার করার সময় সে জানত না বব কে। পরে বিষয়টি জানার পরই ১৯৬৫ সালের সেই ঘটনার সঙ্গে ১৯৭৪ সালের ঘটনাটির যোগসূত্র স্পষ্ট হয়। বিভিন্ন প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, পরে রজারকে তার সাহসিকতার জন্য সম্মানিতও করা হয় এবং তখনই ঘটনাটির এই অসাধারণ যোগসূত্র আরও আলোচনায় আসে। রজার লসিয়ার ও অ্যালিস-বব ব্লেইজের এই ঘটনা বহু বছর ধরে অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন শিক্ষামূলক বই ও প্রকাশনায়ও একই ঘটনাকে অবিশ্বাস্য কাকতালীয়তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একজন অচেনা নারী চার বছরের একটি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন। নয় বছর পর সেই শিশুই না জেনে ওই নারীর স্বামীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন। একই সৈকত, দুইটি আলাদা দুর্ঘটনা এবং দুইটি জীবনরক্ষার ঘটনা যেন একটি অদ্ভুত বৃত্ত সম্পূর্ণ করে। মানুষের জীবনে কিছু ঘটনা কেবল কাকতালীয় হলেও, রজার লসিয়ার ও ব্লেইজ পরিবারের এই গল্পটি সেই বিরল ঘটনাগুলোর একটি, যা সময় পেরিয়ে গেলেও মানুষের মনে বিস্ময় জাগায়।
নিউইয়র্কের ৯/১১ স্মৃতিসৌধে সাব্বির আহমেদের পরিবারের শ্রদ্ধা, ২৫ বছর পরও অমলিন শোক
টেক্সাসে মসজিদের বাইরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেও থামেনি নামাজ, জুমায় অংশ নিলেন মুসল্লিরা