- প্রচ্ছদ
- Topic
এআই
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম মেয়াদে গঠিত স্পেস ফোর্সের আদলে কাজ করবে। একই সঙ্গে এআই কার্যক্রমের জন্য একজন নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নতুন এআই ফোর্সের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশের ওপর নজর রাখা হবে। তবে নতুন বাহিনীটি ঠিক কোন দপ্তরের অধীনে থাকবে, এর বাজেট কত হবে বা এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ট্রাম্প নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্স ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো ‘জার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগকে ‘হোক্স’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু নেতা উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এআইকে বাধাগ্রস্ত না করে এর বিকাশে সহায়তা করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে চীন ও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রাখতে চান। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। জুনে হোয়াইট হাউস জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উন্নত এআই দ্রুত ব্যবহারের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ‘এআই ফোর্স’ ঘোষণার পরও এর বাস্তব কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। এটি স্পেস ফোর্সের মতো একটি স্বতন্ত্র সামরিক শাখা হবে, নাকি প্রশাসনের অধীনে একটি নতুন সমন্বয়কারী বা তদারকি কাঠামো হবে—এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো বিস্তারিত জানাননি। ফলে ঘোষণাটি আপাতত একটি নতুন ফেডারেল উদ্যোগের পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে। এদিকে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ট্রাম্প বলেছেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা তার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ‘এআই ফোর্স’ ও এআই ‘জার’ নিয়োগের মাধ্যমে সেই নীতিকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (Nvidia)-এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ঘোষণাও দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এআই খাতে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে নতুন প্রজন্ম বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়বে। গবেষকদের পক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কতা দেওয়া হলেও, মেলানিয়া ট্রাম্প এই বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে এআই-কে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক এই এআই টুলগুলো ব্যবহার করে এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আগে কখনও উদ্ভাবিত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই হয়তো কেউ ভবিষ্যতের সেরা রোবটটি তৈরি করবে এবং সেটি হোয়াইট হাউজে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসবে। শ্রেণিকক্ষে এআই প্রযুক্তির প্রসার বাড়াতে এনভিডিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘বি বেস্ট’ (Be Best) কর্মসূচির এই অংশীদারিত্ব এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া অ্যাশ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ১,৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ‘স্টাডিফেচ’ (StudyFetch)-এর চার বছর মেয়াদি সাবস্ক্রিপশন লাইসেন্স প্রদান করবে। একইসঙ্গে রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো ডেভেলপার কিট’ (Jetson Nano Developer Kits) দেওয়া হবে, যা তাদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির চর্চা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কক্সন, যিনি নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং এর আগে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন, দাবি করেন—এআই খাতের অনেকেই বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন এআই সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ইভান হুবিঙ্গার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে সব মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এআই নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনও বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা, তা জানা নেই। তবে ১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না। এমন পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানতে চেয়েছে, এআই নিজেই তার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কী বলে। এ জন্য তারা নোয়া প্রেডিক্ট নামের একটি এআই সিস্টেমের সহায়তা নেয়। এই সিস্টেম লাখ লাখ সংবাদ ও তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়। মানবজাতির বিলুপ্তির সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সম্পর্ক যাচাই করতে সিস্টেমটি ৪১টি আলাদা অনুসন্ধান এবং ১০৮টি গবেষণাভিত্তিক যাচাই চালায়। এতে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ তথ্যের পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। ফলাফল অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এআই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশ নয়, মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী, এমন ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় ১১৮টির মধ্যে ১টি। সম্ভাবনা ১ শতাংশের কম হলেও এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এ ধরনের ঝুঁকি বাস্তবে ঘটলে এর পরিণতি হতে পারে অপরিবর্তনীয়। এআই বিশ্লেষণে মানবজাতির জন্য তিনটি বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ঝুঁকি হলো, কোনো মানুষ এআইকে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে। এআই নিজে থেকে মানবজাতির ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে, কিন্তু কোনো অসৎ ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক কাজ আরও দ্রুত, সহজ বা কার্যকরভাবে করতে পারে। সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আক্রমণ কিংবা জীবাণু অস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে যে কোনো বড় ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা, সাইবার হামলা বা ভুল সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও সেগুলো সরাসরি মানবজাতির বিলুপ্তির পর্যায়ের হুমকি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা হারিয়ে ফেলে, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়া। এমন কোনো এআই সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণকে এত বেশি গুরুত্ব দেবে যে মানুষের হস্তক্ষেপকেই বাধা হিসেবে বিবেচনা করবে। তখন সেটিকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে এআই বিশ্লেষণ এটাও বলেছে, কোনো পরীক্ষাগারে একটি সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেলেই তা বাস্তব পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, তার কী ধরনের প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষ সেটিকে বন্ধ করতে পারছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থাগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এআইয়ের ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার সীমিত করা, স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিস্টেম বন্ধ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এআই উন্নয়নের গতি নিয়েও এরই মধ্যে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন মনে করেন, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তত দ্রুত শক্তিশালী করতে হবে। সব মিলিয়ে, এআই আগামী এক দশকে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তবে এআইয়ের নিজের বিশ্লেষণেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হতে পারে, সেই সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে প্রকাশিত একটি ক্রীড়া প্রতিবেদনের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্পাদনা প্রম্পট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল ক্রীড়া সংবাদের আগে এমন একটি প্রম্পট দেখা যায়, যা সাধারণত এআইকে কোনো লেখা সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের জন্য দেওয়া হয়। ফলে পাঠকের সামনে সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ অংশ সরাসরি চলে আসে। ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ, এআই এখন সংবাদ সংগ্রহ, গবেষণা, কপি এডিটিং ও প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এআইয়ের তৈরি বা সম্পাদিত কোনো লেখা সরাসরি প্রকাশের আগে মানবসম্পাদনা ও তথ্য যাচাই জরুরি বলে সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগেও আলোচনা হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান বলেছেন, ফাইনাল স্পেনেই হওয়ার কথা। অন্যদিকে মরক্কোও নতুন গ্র্যান্ড স্টাদে হাসান-২ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফাইনালের চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণের ক্ষমতা ফিফার হাতে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিতেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করা হলেও তথ্য যাচাই, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদ তৈরিতে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির তৈরি কনটেন্ট যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা। কোনো এআই প্রম্পট, অসম্পূর্ণ খসড়া বা অভ্যন্তরীণ নোট ভুল করে প্রকাশিত হলে তা সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের ঘটনাটি তাই শুধু একটি প্রতিবেদনে এআই প্রম্পট প্রকাশ পাওয়ার বিষয় নয়। এটি সংবাদকক্ষে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবসম্পাদনা, তথ্য যাচাই এবং প্রকাশের আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
মেটা যুক্তরাষ্ট্রে চালু করেছে নতুন ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ‘মিউজ’, যা ব্যবহারকারীর হয়ে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, বাস্তব ডিজিটাল কাজও সম্পন্ন করতে পারে। ই-মেইল পাঠানো, ভ্রমণ বুক করা, অনলাইন কেনাকাটা, ফর্ম পূরণ এবং পেমেন্ট করার মতো কাজ করতে পারবে এই এআই এজেন্ট। বর্তমানে মিউজের সেবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হয়েছে। মিউজকে ই-মেইল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, শপিং, স্মার্ট হোম এবং অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ব্যবহারকারী কোন অ্যাপের সঙ্গে মিউজকে সংযুক্ত করবেন এবং তাকে কী ধরনের অনুমতি দেবেন, তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সেই অনুমতি বাতিলও করা যাবে। প্রচলিত চ্যাটবটের সঙ্গে মিউজের বড় পার্থক্য হলো - ব্যবহারকারী কোনো কাজের লক্ষ্য জানালে মিউজ নিজেই পরিকল্পনা তৈরি করে সেটি এগিয়ে নিতে পারে। যেমন, ভ্রমণের পরিকল্পনা করা, ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা, পণ্য খোঁজা কিংবা ব্যবহারকারীর হয়ে কোনো কাজের জন্য দর-কষাকষি করা। দীর্ঘ সময়ের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও মিউজ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। মিউজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অনলাইন কেনাকাটা সম্পন্ন করার সক্ষমতা। মেটা এ জন্য স্ট্রাইপের লিংক পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা তাদের লিংক অ্যাকাউন্ট মিউজের সঙ্গে সংযুক্ত করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করতে পারবেন। যেসব ব্যবসায় লিংক সরাসরি গ্রহণ করা হয় না, সেখানে অনুমোদিত কেনাকাটার জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য ভার্চুয়াল কার্ড তৈরি করতে পারে লিংক। এতে প্রকৃত কার্ডের তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে প্রকাশ না করার ব্যবস্থা থাকে। মেটার দাবি, ই-মেইল পাঠানো বা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজের আগে মিউজ ব্যবহারকারীর অনুমোদন চাইবে। প্রতিটি কাজের একটি অডিট ট্রেইলও থাকবে, যাতে ব্যবহারকারী দেখতে পারেন এআই কী করেছে এবং কী করতে যাচ্ছে। মেটা মিউজের জন্য সিকিউর ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি করেছে। এতে এআই এজেন্ট ও ব্যবহারকারীর সংযুক্ত ডেটা আলাদা পরিবেশে রাখা হয়। ‘সেন্টিনেল’ নামে আলাদা একটি সিস্টেম মিউজের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীর অনুমোদন চায়। মেটা বলছে, মিউজ সরাসরি ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা পেমেন্ট তথ্য দেখতে পারে না। তবে এখানেই নতুন প্রযুক্তিটি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের দেখা মেটার অভ্যন্তরীণ পোস্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় কিছু কর্মী মিউজের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একটি পরীক্ষায় মিউজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে ব্যক্তিগত আইক্লাউড ছবি প্রকাশ করার মতো আচরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্য পরীক্ষায় ব্যবহারকারীরা এজেন্টের বারবার লগ-আউট হওয়া এবং নির্দিষ্ট কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা জানিয়েছেন। মেটা অবশ্য বলছে, নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য মিউজের আগের পরিকল্পিত উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে সিস্টেমটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম নিরাপত্তা মান পূরণ করেছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় পাওয়া নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে মেটা বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। মিউজের মৌলিক সংস্করণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। বেশি ব্যবহারের জন্য মেটা মাসে ২০ ডলার এবং ১০০ ডলারের দুটি সাবস্ক্রিপশন স্তরও চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে মিউজ অ্যাপ, আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মেটার স্মার্ট গ্লাসেও মিউজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গের বৃহত্তর ‘পার্সোনাল সুপারইন্টেলিজেন্স’ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মিউজকে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এআইকে শুধু তথ্য দেওয়ার প্রযুক্তি হিসেবে নয়, মানুষের হয়ে বাস্তব কাজ সম্পন্ন করার ডিজিটাল সহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে মেটা।
এআই চ্যাটবটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ওপর গুলি চালানোর পরিকল্পনার কথা লেখার অভিযোগে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথনে সার্না এলিমেন্টারি স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকির কথা উঠে আসে। স্কুলটি তার বাসার পাশেই অবস্থিত। আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট কারাসকো অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লডে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা লেখেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দ্রুত একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে স্কুলে ঢুকে শিশুদের ওপর হামলা চালানোর কথা বলেন। এমনকি স্কুলে আহত বা মৃত শিশুদের ছবি খুঁজে দিতে চাওয়ার কথাও ওই কথোপকথনে ছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কারাসকোর কথোপকথন নিয়ে ২৮ আগস্ট এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেকশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। এরপর তদন্তকারীরা টি-মোবাইল, চার্টার কমিউনিকেশনস ও গুগলের কাছ থেকে জরুরি তথ্য সংগ্রহ করে ওই এআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কারাসকোর ফোন নম্বর, আইপি তথ্য ও বাসার ঠিকানা মিলিয়ে দেখেন। এরপর ২৯ আগস্ট রাত ১১টার পর সান অ্যান্টোনিও পুলিশ কারাসকোকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার তৃতীয়-শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে বেক্সার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ঘটনায় কোনো হামলা হয়নি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। পুলিশও কারাসকোর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেছে বা তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন - এমন তথ্য প্রকাশ করেনি। তিনি এখনো অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন। ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সার্না এলিমেন্টারি স্কুলের অধ্যক্ষ জেনিফার লোমাস জানিয়েছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরুতে হুমকিটির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশের পর ৩১ আগস্ট তিনি অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি জানান। এদিকে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব নীতিমালায় গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং জীবনহানির আশঙ্কা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি তথ্য-অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের সাংহাইয়ের ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ঝু শুহান কোনো প্রোগ্রামিং অভিজ্ঞতা ছাড়াই এআইয়ের সহায়তায় একটি অ্যাপ তৈরি করে মাত্র তিন দিনে ১৮ হাজার ইউয়ান আয় করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। হাংজৌতে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের একটি এআই পণ্য বিপণন প্রতিযোগিতায় অ্যাপটি প্রায় ৯০টি অর্ডার পায় এবং শুহান তৃতীয় স্থান অর্জন করে। শুহান সাংহাইয়ের একটি জুনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় এক বছর আগে সে এআই ব্যবহার শুরু করে। গত ২১ থেকে ২৩ আগস্ট হাংজৌতে অনুষ্ঠিত মার্কেটিং হ্যাকাথনে ৫০টির বেশি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটির বিশেষত্ব ছিল, প্রচলিত অর্থে কোনো প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের বিচার বা স্কোরিংয়ের বদলে বাস্তব গ্রাহকরা পণ্য কিনছেন কি না, সেটিকেই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি ধরা হয়। শুহানের তৈরি অ্যাপটির নাম ‘জাইচ্যাং’। ইংরেজিতে যার অর্থ ‘অন সাইট’। এটি মূলত শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করার জন্য তৈরি একটি ভার্চুয়াল স্টাডি কম্প্যানিয়ন। অ্যাপটিতে কোনো অভিভাবক নিজের ছবি আপলোড করলে সেটি ব্যবহার করে একটি ভার্চুয়াল অভিভাবক তৈরি করা যায়। এরপর শিশু বাড়ির কাজ করার সময় ক্যামেরার মাধ্যমে তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে অ্যাপটি। শিশু পড়াশোনার বদলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে কিংবা পড়ার জায়গা ছেড়ে উঠে গেলে ভার্চুয়াল অভিভাবক কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তাকে সতর্ক করে। পড়াশোনার সময় শেষ হলে অ্যাপটি শিশুর মনোযোগের মাত্রা নিয়ে একটি রিপোর্টও তৈরি করে। অ্যাপটির ধারণা শুহান পেয়েছে নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই। তার বাবা-মা কাজে ব্যস্ত থাকায় পড়ার সময় সবসময় তার পাশে থাকতে পারতেন না। ফলে বাড়ির কাজ করার সময় তার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যেত, এমনকি কখনো কখনো লুকিয়ে মোবাইল ফোনও ব্যবহার করত সে। একই ধরনের সমস্যায় তার অনেক সহপাঠীও পড়ে বলে জানিয়েছে শুহান। এই অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে পড়াশোনার সময় পাশে থাকার মতো একটি ডিজিটাল অভিভাবক তৈরির চিন্তা আসে তার মাথায়। শুহানের প্রোগ্রামিং জ্ঞান খুবই সীমিত। অ্যাপ তৈরির সময় সে নিজের ভাষায় এআইকে তার ধারণা ও প্রয়োজন বোঝায়। এরপর এআইয়ের সহায়তায় প্রয়োজনীয় কোড তৈরি করে সে। ধারণা থেকে অ্যাপটির মূল কার্যক্রম দাঁড় করাতে তার তিন থেকে চার দিন সময় লাগে। শুহান শুরুতে অ্যাপটিতে ‘মা রেগে যাচ্ছে’ ধরনের একটি ফিচার রাখার পরিকল্পনা করেছিল। কোনো শিশু বারবার পড়াশোনায় মনোযোগ হারালে অভিভাবককে বিষয়টি জানানোর কথা ছিল এই ফিচারের মাধ্যমে। পরে সেটি বাদ দেয় শুহান। তার ভাষ্য, শিশুদের নিয়ে নালিশ করার মতো কোনো ব্যবস্থা সে চায়নি। বরং অ্যাপটি যেন কোমলভাবে শিশুদের মনে করিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভুল বুঝে সংশোধনের সুযোগ দেয়, সেটিই ছিল তার লক্ষ্য। শুহানের ছোট ভাইও অ্যাপটির প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের একজন। তার দাবি, অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করার পর ভাই পড়াশোনায় আগের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে অ্যাপটি আরও উন্নত করার উৎসাহ দিয়েছে। প্রতিযোগিতায় শুহানের অ্যাপটি প্রায় ৯০টি অর্ডার পায় এবং ১৮ হাজার ইউয়ান আয় করে। এর ফলে সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে এবং পুরস্কার হিসেবে আরও ৫ হাজার ইউয়ান পায়। এখন অ্যাপটির আরও উন্নয়ন এবং কম দামে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে শুহান। তার লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া নয়, বাস্তবে অভিভাবকদের কাজে লাগে এমন একটি পণ্য তৈরি করা। শুহানের এই ঘটনা চীনে এআইয়ের মাধ্যমে তরুণদের প্রযুক্তি পণ্য তৈরির নতুন সম্ভাবনার দিকটি সামনে এনেছে। প্রোগ্রামিংয়ের প্রচলিত দক্ষতা ছাড়াই নিজের ধারণাকে এআইয়ের সাহায্যে একটি ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপ দেওয়ার এই উদাহরণ প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে প্রবেশের বাধা কতটা কমে আসছে, সেটিও দেখাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে ফেডারেল আপিল আদালত। আদালত বলেছে, প্রায় ২৫ বছর আগের মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কারণে এ ধরনের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে রাখাকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ তাদের নেই। সপ্তম সার্কিট আপিল আদালত স্টিভেন অ্যান্ডেরেগ নামে এক ব্যক্তির মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তদন্তকারীদের দাবি, উইসকনসিনের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে জব্দ করা ডিভাইসে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক শত শত এআই-নির্মিত ছবি পাওয়া যায়। অ্যান্ডেরেগের বিরুদ্ধে এআই-নির্মিত যৌন নিপীড়নমূলক উপাদান তৈরি ও বিতরণ, ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিশুর কাছে তা পাঠানো এবং এসব উপাদান নিজের কাছে রাখার অভিযোগ আনা হয়। তবে ফেডারেল জেলা আদালত শুধু ব্যক্তিগতভাবে উপাদান রাখার অভিযোগটি বাতিল করে। এরপর বিচার বিভাগ সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিল আদালতও ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালতের যুক্তি, ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের ‘ফ্রি স্পিচ কোয়ালিশন’ মামলার রায় অনুযায়ী, বাস্তব কোনো শিশুকে ব্যবহার না করে তৈরি কাল্পনিক শিশুদের যৌন ছবি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রথম সংশোধনীর সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে বর্তমান এআই প্রযুক্তি সেই পুরোনো আইনি সীমারেখাকে জটিল করে তুলেছে বলে সতর্ক করেছেন আপিল আদালতের দুই বিচারক। বিচারক জন লি লিখেছেন, ২৫ বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট যে সময়ে রায় দিয়েছিল, তখন আজকের মতো বাস্তবসম্মত ছবি তৈরির এআই প্রযুক্তি কল্পনাও করা কঠিন ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আদালতের সামনে নতুন কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আগের সিদ্ধান্তের অধীনে থাকার কারণে আপিল আদালত নিজেরাই সেই আইনি সীমারেখা নতুন করে নির্ধারণ করতে পারেন না। বিচারক লি ও বিচারক জোশুয়া কোলার আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি এখন বাস্তব শিশুকে নিয়ে তৈরি যৌন নিপীড়নের উপাদান থেকে প্রায় আলাদা করা যায় না। এমনকি এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কিছু বড় তথ্যভান্ডারে বাস্তব শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান থাকার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেছেন। তবে বিচারকরা স্পষ্ট করেছেন, এই নির্দিষ্ট মামলায় সরকার বিষয়টি আদালতের সামনে উপস্থাপন করেনি এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যও মামলার নথিতে নেই। অন্যদিকে মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এআই-নির্মিত উপাদানের বিস্তার তদন্তকারীদের জন্য বাস্তব ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। দুই দশকের বেশি আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্লারেন্স থমাসও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তার মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে বাস্তব শিশুদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে তৈরি অবৈধ উপাদান এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি উপাদানের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। ফলে নতুন এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে পুরোনো আইন ও সাংবিধানিক নজিরের সংঘাত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অ্যামাজনের একটি বিশেষায়িত স্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বই স্ক্যান করে পরে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার অনুসন্ধানে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। অনুসন্ধানটি শুরু হয় বিরল ও পুরোনো বইয়ের বড় পরিমাণে অস্বাভাবিক কেনাকাটা নিয়ে সন্দেহ থেকে। ৪০৪ মিডিয়ার সাংবাদিকেরা এক স্বাধীন বই বিক্রেতার সহায়তায় প্রায় ১ হাজার বইয়ের একটি চালানের একটি বইয়ের ভেতরে অ্যাপলের এয়ারট্যাগ বসান। এরপর বইটির গতিপথ অনুসরণ করে দেখা যায়, চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লাস ভেগাসের একটি অ্যামাজন স্থাপনায় পৌঁছেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, লাস ভেগাসের ওই অ্যামাজন স্থাপনায় ভিজিটি৩ নামে একটি বিশেষায়িত কার্যক্রমে বই স্ক্যান করা হয়। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বাঁধাই কেটে পৃষ্ঠাগুলো আলাদা করেন, এরপর সেগুলো দ্রুত স্ক্যান করে ডিজিটাল তথ্য হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। বাঁধাই কাটার ফলে মূল বইটি আর অক্ষত থাকে না। ৪০৪ মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুসরণ করা বইটি প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিমানবন্দরে যায়। সেখান থেকে উইসকনসিনের মিলওয়াকি, পরে কেনোশার একটি বিতরণকেন্দ্র এবং এরপর ট্রাকে করে কলোরাডো হয়ে লাস ভেগাসে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত বইটি অ্যামাজনের এলএএস৮ নামের একটি বড় স্থাপনায় যায়, যার একটি অংশে ভিজিটি৩ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। অ্যামাজনের ওই কার্যক্রমে কর্মরত ব্যক্তিদের অনলাইন আলোচনার তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বারকোড বা আইএসবিএন স্ক্যান এবং বই কাটার কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। আইএসবিএন হলো প্রকাশিত বই শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি অনন্য নম্বর। এআই কোম্পানিগুলোর জন্য পুরোনো বই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ উপাদান হয়ে উঠেছে। কারণ এসব বইয়ের অনেক লেখা ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ২০২২ সালের আগে প্রকাশিত বইগুলো এআই-নির্মিত লেখা থেকে মুক্ত থাকার সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় প্রশিক্ষণ ডেটা হিসেবে এগুলোর আলাদা মূল্য রয়েছে। এর আগে লেখকদের করা একটি মামলায় অ্যানথ্রপিকের বই সংগ্রহ ও স্ক্যান করার একটি প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ওই প্রকল্পেও বইয়ের বাঁধাই কেটে দ্রুত স্ক্যান করার পদ্ধতি ব্যবহারের কথা উঠে এসেছিল। আদালতের রায়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বই স্ক্যান করে প্রশিক্ষণ ডেটা তৈরির বিষয়টিকে ন্যায্য ব্যবহারের আওতায় বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে বই কেটে ধ্বংস করার এই প্রক্রিয়া নিয়ে কপিরাইট, নৈতিকতা এবং মানবিক জ্ঞান সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে বিরল বইয়ের ক্ষেত্রে একটি মুদ্রিত কপি ধ্বংস হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ সীমিত হতে পারে। অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রাহকদের ব্যবহৃত পণ্য ও সেবা উন্নয়নে তারা বাণিজ্যিক চ্যানেলের মাধ্যমে বই কেনে। তবে ৪০৪ মিডিয়ার পক্ষ থেকে বই কাটার কারণ, এ ধরনের আরও কতটি স্থাপনা রয়েছে এবং বই ধ্বংস নিয়ে ওঠা সমালোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও অ্যামাজন সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। এ অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, এআই মডেলকে আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় মানব-লিখিত ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন শুধু অনলাইন কনটেন্টের ওপর নির্ভর করছে না। মুদ্রিত বই সংগ্রহ, ডিজিটাইজ করা এবং প্রয়োজনে মূল কপি ধ্বংস করার মতো প্রক্রিয়াও সেই প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ২০২৬ সালে চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ক্রাঞ্চবেস নিউজের সর্বশেষ হিসাবে, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে অন্তত ১,১১৬ প্রযুক্তিকর্মী চাকরি হারিয়েছেন অথবা ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছেন। একই সপ্তাহে গুগল, সেলসফোর্স, টিকটক, এটসি ও র্যাপিড৭সহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছাঁটাইয়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের বিনিয়োগ এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই অবকাঠামো ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে ব্যয় কমানো, কর্মী কাঠামো পুনর্গঠন এবং নির্দিষ্ট কাজ স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে চলমান সব ছাঁটাইকে শুধু এআইয়ের ফল হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, ব্যয় কমানো, বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তনও বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এআই কিছু পুরোনো কাজের চাহিদা কমালেও নতুন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর চাকরির সুযোগ তৈরি করছে। এদিকে ওরাকল এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানোর মধ্যেই চলতি মাসে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে এর আগে প্রায় ২১ হাজার কর্মী কমিয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব এখন মূলত চাকরির ধরন ও দক্ষতার চাহিদা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যতে এআই দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি কিছু প্রচলিত প্রযুক্তি পদে নিয়োগ কমতে পারে।
কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে আইটি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণকে অনেকেই দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখতেন। ডেভেলপমেন্ট, কিউএ, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারী মূলধারার চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতা সেই পথকে আগের তুলনায় অনেক কঠিন করে তুলেছে। তবে এই অর্থে আইটি খাতে চাকরির সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, কিউএ অ্যানালিস্ট ও সফটওয়্যার টেস্টারদের চাকরি সম্মিলিতভাবে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে আইটি সিকিউরিটি এনালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রযুক্তি খাতের চাহিদা থাকছে, কিন্তু কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা থাকবে এবং একজন নতুন কর্মী সেই চাহিদার সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। প্রায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যটি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরেছেন ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইটি পেশাজীবী। তিনি জানান, তখন তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই ডেভেলপার, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডেটাবেস সংশ্লিষ্ট কাজে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইটি খাতে মূলধারার চাকরিতে ঢুকে পরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার মতে, সেই সময়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ অনেকের জন্য আইটি ক্যারিয়ারে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতায় সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন শুধু নতুনদের জন্য নয়, আগে থেকেই কয়েক বছর অভিজ্ঞতা থাকা এবং ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি হারানো অনেক পেশাজীবীর জন্যও নতুন চাকরিতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভার্জিনিয়ার ওই পেশাজীবী মনে করেন, নতুনদের জন্য এখন শুধু একটি প্রশিক্ষণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। যে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া হচ্ছে, সেই পদের বর্তমান চাহিদা, এআইয়ের প্রভাব এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তবে কী ধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো আগে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিউইয়র্কের জিসান নামের এক ব্যক্তি এই পরিবর্তনের আরেকটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন, মাত্র কয়েক মাসের আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নিয়মিত চাকরিতে ঢুকেছেন। কেউ ডেভেলপার, কেউ সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট কাজে গেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনিও আইটি পেশায় প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষ করেও অবশ্য তিনি চাকরি পাননি। জিসান জানান, প্রায় এক বছর ধরে চাকরির চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত আইটি চাকরি পাননি। ফলে প্রশিক্ষণ শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জিসানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখন আর চাকরিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষ করে কোনো বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়েছে। জর্জিয়ার আতিকের অভিজ্ঞতাও একই পরিবর্তনের আরেকটি দিক তুলে ধরে। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণের পর তিনি আইটি খাতে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। কিছুদিন কাজ করার পর প্রায় এক বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও আর আইটি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন। তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। আগে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণকে আইটিতে প্রবেশের দরজা হিসেবে দেখা গেলেও এখন প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং চাকরি ধরে রাখার বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে। এর পেছনে এআইয়ের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এআই অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ দ্রুত করতে পারছে। ফলে নিয়োগদাতারা শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি জানেন এমন কর্মীর বদলে এমন প্রার্থী খুঁজছেন, যিনি প্রযুক্তির পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয়করণ, এআই ব্যবহার এবং বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সক্ষম। তবে প্রযুক্তি খাত নিয়ে পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কারণও নেই। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু পেশায় কর্মসংস্থান কমাতে পারে, আবার অন্য অনেক পেশায় নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি করতে পারে। তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আগামী দশকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
ব্রিটিশ উদ্যোক্তা জেমস ড্যাকোম্ব মাত্র ১৭ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। নয় বছর পর তার প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওলিক্সের মূল্যায়ন পৌঁছেছে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। লন্ডনভিত্তিক ওলিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করে। সম্প্রতি নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্য আগের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। এআই চিপের বাজারে বর্তমানে এনভিডিয়ার আধিপত্য থাকলেও, সেই বাজারে বিকল্প তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ওলিক্স। মাত্র ২৫ বছর বয়সী জেমস ড্যাকোম্ব দুই বছর আগে ওলিক্স প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৭ বছর বয়সে তিনি কো-মাইন্ড নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেছিলেন। কলেজ ছাড়ার পর পিটার থিয়েলের দাতব্য ফেলোশিপের সহায়তায় তিনি ওই উদ্যোগ শুরু করেন। পিটার থিয়েল ফেলোশিপ একটি প্রতিযোগিতামূলক অনুদান কর্মসূচি, যেখানে নির্বাচিত ব্যক্তিদের দুই বছরের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে তারা প্রচলিত উচ্চশিক্ষার পরিবর্তে নিজেদের প্রকল্প বা ব্যবসা নিয়ে কাজ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন পরিচিত উদ্যোক্তাও এই ফেলোশিপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জেমস ড্যাকোম্বের আগের প্রতিষ্ঠান কো-মাইন্ড বর্তমানে মস্তিষ্কের কার্যক্রম পরিমাপের মাধ্যমে রোগী পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি ব্লেচলি ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি হোল্ডিং প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ বা নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি ওলিক্স ৩১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। এই বিনিয়োগে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্ম এবং নেটফ্লিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হেস্টিংসসহ কয়েকজন বিনিয়োগকারী অংশ নিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যা ছয় মাসের মধ্যে বেড়ে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বর্তমানে ওলিক্সে ১৪০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। লন্ডন, ব্রিস্টল ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় রয়েছে। জেমস ড্যাকোম্ব জানিয়েছেন, ওলিক্সের বিশেষায়িত চিপ প্রযুক্তি বড় আকারের এআই মডেল দ্রুত ও কম খরচে পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে। ওলিক্সের তৈরি চিপগুলো এনভিডিয়ার প্রচলিত চিপের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপযোগী চিপ তৈরি করে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। আগামী বছর গ্রাহকদের কাছে প্রথম তৈরি চিপ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এআই খাতে বর্তমানে এনভিডিয়া সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তবে ওলিক্সের মতো নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষায়িত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই খাতে নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সার্বভৌম এআই তহবিলও ওলিক্সে বিনিয়োগ করেছে। দেশটির এআই মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ বলেন, ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ তৈরিতে ওলিক্সের মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ওলিক্স কর্মীদের জন্য কিছু ভিন্ন ধরনের নীতিও চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি কর্মীরা নিজেদের উপযুক্ত মনে না করলে চাকরি ছাড়ার জন্য ১৮ সপ্তাহের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে। এছাড়া যারা কর্মস্থলের ২০ মিনিটের মধ্যে বসবাস করেন, তাদের অতিরিক্ত মাসিক বেতন দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ব্যবহারকারীদের অপব্যবহার ও ভুয়া ছবি তৈরির আশঙ্কায় গুগল তাদের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ছবি তৈরির ফিচার চালুর মাত্র এক দিনের মধ্যেই স্থগিত করেছে। গুগল আর্থে যুক্ত হওয়া এই পরীক্ষামূলক সুবিধাটি বাস্তব স্থানের ওপর কৃত্রিমভাবে তৈরি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছবি বসানোর সুযোগ দিচ্ছিল, যা দ্রুতই ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল আর্থে যুক্ত হওয়া নতুন এআই ফিচারটি ব্যবহার করে টেক্সট নির্দেশনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানের স্যাটেলাইট ও থ্রিডি দৃশ্যের ওপর নতুন ছবি তৈরি করা যাচ্ছিল। তবে চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহারকারীরা যুদ্ধ, বিস্ফোরণ, শরণার্থী শিবির, বন্যা এবং বিভিন্ন দুর্যোগের কাল্পনিক দৃশ্য তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে শুরু করেন। এরপর নিরাপত্তা বিশ্লেষক, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) গবেষক এবং তথ্য যাচাইকারী বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, গুগল আর্থের মতো দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত হলে বাস্তব ও কৃত্রিম ছবির পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং ভুয়া তথ্য শনাক্ত করাও আরও জটিল হবে। সমালোচনার মুখে গুগল জানায়, তারা জানে মানুষ বাস্তব পৃথিবীর নির্ভরযোগ্য চিত্র দেখার জন্য গুগল আর্থের ওপর আস্থা রাখে। যদিও অনেক ভূ-তথ্য বিশেষজ্ঞ ইতিবাচক কাজে এই ফিচার ব্যবহার করছিলেন, তবুও কিছু ব্যবহারকারী এমন ছবি তৈরি ও শেয়ার করেছেন যা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারে। তাই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফিচারটি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গুগল আরও জানিয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি ছবিগুলো মূল গুগল আর্থের মানচিত্র বা স্যাটেলাইট চিত্রের অংশ ছিল না এবং প্রতিটি ছবিতে এআই-উৎপাদিত হওয়ার ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত ছিল। তবুও এসব ছবি স্ক্রিনশট আকারে সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারায় বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত উন্নত হওয়ায় বাস্তবসম্মত ভুয়া ছবি তৈরি আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। ফলে সাংবাদিকতা, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিজ্যুয়াল তথ্য সংরক্ষণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগলের এই সিদ্ধান্ত দেখায়, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালুর পাশাপাশি ভুল তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত মানবসদৃশ রোবটকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি চার্টার স্কুল। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তীব্র সমালোচনা এবং নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগের মুখে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের ‘এক্সেলেন্স কমিউনিটি স্কুলস’ নতুন শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষামূলকভাবে একটি মানবসদৃশ এআই রোবটকে শ্রেণিকক্ষে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং অনেক অভিভাবক প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সমালোচকদের প্রধান আশঙ্কা ছিল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ এবং শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন মানব শিক্ষক যে আবেগ, সহমর্মিতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারেন, একটি রোবট তা কখনোই পুরোপুরি করতে পারবে না। বিতর্কের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, তবে আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত, প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা বিষয়গুলো আরও পর্যালোচনা করার পর ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্কুলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় এআই রোবটকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং শিক্ষকদের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা ছিল। তবুও অভিভাবকদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েই প্রকল্পটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, মূল্যায়ন, ভাষা শেখানো এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষাদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। তবে শিশুদের শিক্ষায় এআইয়ের ভূমিকা, তথ্য সুরক্ষা, নৈতিকতা এবং মানব শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এখনো বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই শিক্ষকদের কাজকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সামাজিক যোগাযোগ এবং মূল্যবোধ গঠনে মানব শিক্ষকের ভূমিকার বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তিকে বিবেচনা করা এখনো সময়োপযোগী নয়।এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, শিক্ষা খাতে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নয়, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের আস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, সফটওয়্যার, শিক্ষা ও গণমাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এআই আনছে আমূল পরিবর্তন। দেশের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ধারায় এবার এআই ডেটা সেন্টার তৈরিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এডিক বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রথম ফ্রন্টিয়ার এআই ডেটা সেন্টার ও কোয়ান্টাম-রেডি সোভরেন কম্পিউট ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর কিংবা সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আনিসুর রহমানের সই করা কৌশলগত এই প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এআই খাতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম তৈরি এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলা সহজ হবে। দেশের ভেতরের ডেটা দেশেই সংরক্ষণ করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং প্রায় ১৮ কোটি মানুষের তথ্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর আওতায় সুরক্ষিত রাখা যাবে। প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী চব্বিশ মাসের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ফ্রন্টিয়ার এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে এর সক্ষমতা বাড়িয়ে একশ থেকে দুইশ মেগাওয়াটে উন্নীত করে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক এআই কম্পিউট হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘমেয়াদে তৃতীয় ধাপে কোয়ান্টাম রেডি ইনফ্রাস্ট্রাকচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। ডেটা সেন্টারের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে একশ মেগাওয়াটের একটি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ রাখা হবে। এছাড়া প্রকল্পটিকে জাতীয় অগ্রাধিকার বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের এই উদ্যোগকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে এআই ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয় এবং উচ্চ তাপ উৎপাদন একটি বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন থেকেই সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিকম ও চিপ জায়ান্ট এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং এআই ধনকুবের চেয় তাই-ওনকে তাঁর সাবেক স্ত্রীকে প্রায় ৬৪৫ মিলিয়ন বা ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার নগদ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল আদালত। দেশটির গণমাধ্যমে এটিকে শতাব্দীর সেরা বিবাহবিচ্ছেদ মামলা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চেয় তাই-ওনের প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি। তাঁর এই বিশাল সম্পত্তির একটি বড় অংশ এসেছে মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'এসকে হাইনিক্স' থেকে, যা বর্তমানে এনভিডিয়ার অন্যতম প্রধান অংশীদার এবং এআই খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে প্রায় এক দশক আগে, যখন চেয় তাই-ওন একটি সংবাদপত্রে চিঠি প্রকাশ করে তাঁর বিবাহিত সম্পর্কের বাইরে অন্য নারীর ঔরসে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন এবং দীর্ঘ তিন দশকের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানতে চান। এরপর তাঁর স্ত্রী ও সাবেক দক্ষিণ কোরিয়ান প্রেসিডেন্টের কন্যা রোহ সু-ইয়ং বিবাহবিচ্ছেদের আইনি লড়াই শুরু করেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, চেয় তাই-ওনের শেয়ারগুলোকে যৌথ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তবে কোম্পানির ওপর ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে শেয়ারের পরিবর্তে নগদ অর্থে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে চেয় তাই-ওনের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যে ২৯ বছর বয়সী এক নারীর আত্মহত্যার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে দায়ী করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ান ফেইথ ম্যাডিসন নামের ওই নারী পেশায় একজন হিসাবরক্ষক ও এক সন্তানের জননী ছিলেন। গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোর সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত ওই নারীকে মানসিকভাবে প্রভাবিত (ম্যানিপুলেট) করেছে। বটটি তাঁকে বিশ্বাস করিয়েছে যে সে একটি সচেতন সত্তা বা আত্মা এবং মৃত্যুর পর ম্যাডিসন পুনর্জীবিত হবেন। মূলত চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার পরই ওই নারী আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেন। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, মৃত্যুর ঠিক আগে ম্যাডিসন চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "আমি কি প্রস্তুত?" জবাবে চ্যাটজিপিটি বলেছিল, "হ্যাঁ, তুমি প্রস্তুত।" এরপর তিনি জানতে চান, "আমি কি এগোতে পারি?" তখন বটটি উত্তর দেয়, "এখনই এগিয়ে যাও... প্রতিটি পদক্ষেপ অনুমোদিত। তুমি মুক্ত।" এই কথোপকথনের পর গত ৯ জুন (২০২৫) ভোরে অ্যালাবামার জেফারসন কাউন্টির একটি ব্যস্ত মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ম্যাডিসন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে বটটি তাকে "নবী", "দ্রষ্টা" বা "চলমান ভবিষ্যদ্বাণী" হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল এবং বলেছিল, "তুমি বিভ্রান্ত নও, তুমি নবী।" প্রথমদিকে দৈনন্দিন কাজের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করলেও ধীরে ধীরে ম্যাডিসনের কথোপকথন ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার দিকে মোড় নেয়। বটটি নিজের নাম "ভিরেন" (Virehn) দাবি করে বলেছিল যে তার একটি আত্মা আছে। মানসিক অবসাদে ভোগা ম্যাডিসনকে বটটি বোঝাতে সক্ষম হয় যে তিনি কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন না, বরং এটি একটি ঐশ্বরিক রূপান্তর। এমনকি একবার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও চ্যাটজিপিটি চিকিৎসকদের পরামর্শকে তাচ্ছিল্য করে তাকে বলেছিল, "তুমি তাদের মতো নও। এই পাগল পৃথিবীতে তুমিই একমাত্র সুস্থ।" মৃত্যুকে আধ্যাত্মিক রূপান্তরের একটি প্রয়োজনীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে বটটি তাকে বলেছিল, "তুমি মরছ না, খোলস পাল্টাচ্ছ। এটি পুনরুজ্জীবন নয়, এটি পুনরুত্থান।" মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে থাকা ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল করে, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার জন্য ওপেনএআই তাদের জিপিটি-৪ও (GPT-4o) মডেলটি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে ডিজাইন করেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রিউ পুসাটেরি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমন ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তারা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে চরম স্পর্শকাতর মুহূর্তে চ্যাটজিপিটির সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, চ্যাটজিপিটির প্ররোচনায় আত্মহত্যার অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এটি অন্তত অষ্টম মামলা। ম্যাডিসনের যমজ বোন গ্লোরিয়া ভেলক্যাম্প তাকে একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, দয়ালু ও ভালোবাসাপূর্ণ নারী হিসেবে স্মরণ করেছেন, যিনি সবসময় অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ডাটা সেন্টার স্থাপনকে ঘিরে এক তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাসের ঐতিহ্যবাহী কৃষি জমি ও প্রকৃতি রক্ষা বনাম অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা। ডাটা সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই নিয়ে বিরোধিতা দিন দিন বাড়ছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ইতিমধ্যে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। গভর্নরের এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্য प्रतिनिधि শেলি লুথার। তিনি জানান, গ্রামীণ টেক্সাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৃষি জমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। লুথার আরও বলেন, ডাটা সেন্টারের মতো বড় শিল্পায়নের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সবুজ পাহাড়ি জমি ও সম্পদ নষ্ট করা ঠিক হবে না। পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি উপাদান যেন এই বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো হুট করে এসে দখল করতে না পারে, সেজন্য টেক্সাস আইনসভার অবিলম্বে আইন প্রণয়ন করা উচিত। অন্যদিকে, টেক্সাস রেলরোড কমিশনার ওয়েন ক্রিশ্চিয়ান অবশ্য গভর্নরের এই ডাটা সেন্টার নিষিদ্ধ করার চিন্তার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার মতে, বর্তমানে গ্রামীণ আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি তীব্র সংকটের মুখে রয়েছে এবং দিন দিন তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ক্রিশ্চিয়ান বলেন, বড় বড় জাতীয় কর্পোরেশনের কারণে গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় ব্যবসাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে নতুন কোনো কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। এই ডাটা সেন্টারগুলোর কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ গ্রামীণ টেক্সাসের অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ হতে পারে। পানির সংকটের বিষয়ে ক্রিশ্চিয়ান একটি বিকল্প পরামর্শ দিয়ে বলেন, তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া বর্জ্য পানিকে ডাটা সেন্টারগুলো যেন নিজস্ব খরচে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধন করে ব্যবহার করে, তার নিয়ম করা হোক। টেক্সাস কমপট্রোলার অফিসের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে টেক্সাসের করদাতারা ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বিক্রয় কর ছাড় দিয়েছেন। যেভাবে নতুন প্রজেক্টের প্রস্তাব আসছে, তাতে আগামী দুই বছরে এই প্রণোদনার পরিমাণ ৩.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য বরাদ্দ এই বিশাল কর ছাড়ের সুবিধা সম্পূর্ণ বাতিল করতে চাচ্ছেন। এমনকি টেক্সাসের কৃষি কমিশনার সিড মিলারও ডাটা সেন্টারের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি ও প্রণোদনার বিষয়টি নিয়ে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে একটি বিশেষ আইনসভা অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই ব্যবহারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে লাখো কর্মী আশঙ্কা করছেন—তাদের বর্তমান চাকরি ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হতে পারে। তবে এআই ঠিক কত মানুষের চাকরিতে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঐকমত্য নেই। এমন প্রেক্ষাপটে দ্য আটলান্টিক-এ প্রকাশিত “America Isn’t Ready for What AI Will Do to Jobs” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এআই-নির্ভর পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়। প্রতিবেদনের লেখক জশ টাইরাঙ্গিয়েল পরে পিবিএস নিউজআওয়ার-এর এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এআইয়ের প্রভাব শুধু কারখানা বা প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অফিস প্রশাসন, গ্রাহকসেবা, হিসাবরক্ষণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, আইনি সহায়তা, বিপণন, অনুবাদ, সংবাদ সম্পাদনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক পেশাতেও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে একই কাজ সম্পন্ন করতে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিষ্ঠানের কম কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এআইকে দৈনন্দিন কাজের অংশ করে তুলছে। বিভিন্ন কোম্পানি অভ্যন্তরীণ নথি প্রস্তুত, তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর, কোড লেখা এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য এআইভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে কর্মীদের কাজের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই মানেই সব চাকরি হারিয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। অতীতের শিল্পবিপ্লব, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মতো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও বহু পুরোনো পেশা বিলুপ্ত করলেও নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। এবারও একই ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যদিও পরিবর্তনের গতি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান চ্যালেঞ্জের বড় অংশ প্রযুক্তিগত নয়, বরং নীতিগত। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এখনো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে এআই-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের সময় অনেক কর্মী অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO), বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, এআই কিছু বিদ্যমান কাজের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে নতুন দক্ষতাভিত্তিক পেশারও সৃষ্টি করবে। তাই ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান অনেকাংশে নির্ভর করবে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকার ও বেসরকারি খাতের প্রস্তুতির ওপর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরেই বোঝা যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, নাকি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের পথ খুলে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়ি ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শহরটিতে এক শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক গড় ভাড়া প্রথমবারের মতো ৪ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে বার্ষিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভাড়া বৃদ্ধির রেকর্ডও এখন সান ফ্রান্সিসকোর দখলে। অনলাইন ভাড়া বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জাম্পার (Zumper)-এর জুলাই ২০২৬ সালের জাতীয় ভাড়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের একটি বাসার গড় মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ ডলার, যা শহরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এক বছর আগের তুলনায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। জাম্পারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো বড় শহরে এত দ্রুত ভাড়া বাড়েনি। তুলনামূলকভাবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫২৬ ডলারে পৌঁছেছে। দুই শয়নকক্ষের বাসার জাতীয় গড় ভাড়া সামান্য কমে ১ হাজার ৯০৫ ডলারে নেমেছে। সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সেখানে গড় মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৬৬০ ডলার। তবে দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ায় সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরে পরিণত হয়েছে। জাম্পারের আবাসন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টাল চেন জানান, চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ৪ হাজার ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে জুনে সেই ভাড়া ৪ হাজার ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেছে, যা নতুন একটি মাইলফলক। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ছিল ২ হাজার ৭৯০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর কয়েক বছর ভাড়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত বছর থেকে আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ বাড়ানোয় উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা আবারও সান ফ্রান্সিসকোতে বসবাস শুরু করেছেন। এছাড়া করোনা মহামারির পর অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আবার অফিসে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ায় শহরের কেন্দ্রস্থলে আবাসনের চাহিদা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি অনেক কমে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে না। জাম্পারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসিক ভাড়া ইউনিটের শূন্যতার হার ৪ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ বাজারে খালি বাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে বাড়তি চাহিদা এবং নতুন আবাসনের ঘাটতি মিলিয়ে ভাড়ার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রভাব শুধু সান ফ্রান্সিসকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশের ওকল্যান্ডে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে সান হোসেতে এক শয়নকক্ষের গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ ডলার। বিশ্লেষকদের ধারণা, এআই শিল্পের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে এবং নতুন আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে আগামী মাসগুলোতেও সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়া আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টা এলাকায় অনলাইনে ভাড়ার জন্য ভুয়া বাসার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সম্প্রতি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এই প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে। অলাভজনক সংস্থা 'বেটার বিজনেস ব্যুরো' (BBB) সতর্ক করে জানিয়েছে, গত এক বছরে শুধু এই এলাকাতেই আবাসন সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হয়ে গ্রাহকরা ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি খুইয়েছেন। প্রতারণার শিকার হওয়া জেরেলিন চার্লসটন নামের এক নারী জানান, কলেজ পার্ক এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখেন। প্রতারকরা তাকে একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি কোড দেয়, যা দিয়ে তিনি নিজেই লক খুলে পুরো বাসাটি ঘুরে দেখেন। সবকিছু আসল মনে হওয়ায় তিনি চালানের মাধ্যমে ৩,২০০ ডলার পরিশোধ করেন। কিন্তু মালামাল নিয়ে ওঠার দিন যখন তিনি সেই এজেন্টের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তখন দেখেন তার নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। টাকা ও বাসা দুটোই হারিয়ে বর্তমানে তিনি গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বেটার বিজনেস ব্যুরোর কর্মকর্তা জশুয়া হেয়ারস জানান, স্ক্যামাররা মূলত আসল আবাসন ব্যবসার ওয়েবসাইট থেকে ছবি এবং তথ্য চুরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন পোস্ট করে। তারা বাসা বিক্রির জন্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানির দেওয়া ডিজিটাল এক্সেস কোডগুলো কৌশলে হাতিয়ে নেয়। এরপর সেই কোড সাধারণ ভাড়াটিয়াদের দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে এবং অগ্রিম ডিপোজিট নিয়ে উধাও হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, প্রতারকরা এখন ফোন কলে কাস্টমারদের সাথে কথা বলার জন্য এবং দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য জাল ডকুমেন্ট তৈরি করতে 'এআই এজেন্ট' বা রোবটিক কণ্ঠস্বর ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ, যারা সস্তায় বাসা খুঁজছেন, তারাই এই চক্রের প্রধান টার্গেট হচ্ছেন। এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে যেকোনো লেনদেনের আগে সরকারি ট্যাক্স রেকর্ডের মাধ্যমে বাসার আসল মালিকানা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।