- প্রচ্ছদ
- Topic
টেক্সাস
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে ১ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচারে নামছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সুপার প্যাক এমএজিএ ইনকরপোরেটেড। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে জমা দেওয়া নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফক্স নিউজ ও রয়টার্স। এটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের প্রথম বড় ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যয়। পুরো টেক্সাসজুড়ে টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে। প্যাক্সটন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর লড়াইকে বর্তমানে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে টালারিকোর করনীতি ও গ্রামীণ হাসপাতালসংক্রান্ত নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। বিপরীতে প্যাক্সটনের পক্ষে শিশু কর-ছাড় দ্বিগুণ করা, চিকিৎসা ব্যয়ে করছাড় এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার ডলারের করছাড়ের প্রস্তাব তুলে ধরা হচ্ছে। এদিকে টালারিকোর প্রচারশিবির এই বিপুল অর্থের বিজ্ঞাপনকে ‘বিলিয়নিয়ার-সমর্থিত ডার্ক মানি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, জনগণভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলনকে দুর্বল করতেই এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের মুখপাত্র অ্যালেক্স ফাইফার টালারিকোকে ‘হাই ট্যাক্স টালারিকো’ বলে আক্রমণ করে দাবি করেছেন, তাঁর নীতির কারণে টেক্সাসের মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে। টালারিকোর প্রচারশিবির এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে, যার বড় অংশ এসেছে ছোট দাতাদের কাছ থেকে। প্যাক্সটনের প্রচারশিবির সংগ্রহ করেছে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের হাতে বর্তমানে প্রায় ৪০ কোটি ডলার নির্বাচনী তহবিল রয়েছে বলে ফক্স নিউজ জানিয়েছে। টেক্সাসের এই সিনেট লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটন দলের প্রাইমারিতে সাবেক সিনেটর জন কর্নিনকে হারিয়ে মনোনয়ন পান। এখন তাঁর সামনে ডেমোক্র্যাট টালারিকো। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৫ বছর বয়সে খুনের দায়ে ৪০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন আইজ্যাক আরিস্পে। ২০২০ সালে ১৯ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার এল ট্রেভিনোকে হত্যার ঘটনায় তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কাইল শহরে কিশোর বয়সে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে এক যুবককে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২০ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১৯ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার এল ট্রেভিনোকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আইজ্যাক আরিস্পের বিরুদ্ধে মামলাটি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর নিষ্পত্তি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভোরে। গুলির শব্দের খবর পেয়ে কাইল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেভিনোর মরদেহ উদ্ধার করে। তার বুকে গুলির আঘাত ছিল। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে তৎকালীন ১৫ বছর বয়সী আইজ্যাক আরিস্পেকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিচার চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হয়। হত্যার সময় আরিস্পের বয়স ১৮ বছরের কম হলেও তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আরিস্পে ট্রেভিনোর ১৫ বছর বয়সী বোনের কাছ থেকে গাঁজা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। একই সময়ে তিনি কয়েকজন বন্ধু ও স্বজনের কাছে গুলি বা গুলির সরঞ্জাম চেয়ে বার্তা পাঠান। এসব বার্তায় তিনি কাউকে ডাকাতি করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। ট্রেভিনোর বোন আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, হত্যার সকালে আরিস্পে একটি অস্ত্র বের করে তার দিকে তাক করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে তার ভাই ক্রিস্টোফার এগিয়ে এলে আরিস্পে তার বুকে গুলি করেন। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরে মামলার বিচার শেষে হেইস কাউন্টির জুরি আরিস্পেকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেন। শাস্তি ঘোষণার শুনানিতে আরিস্পের কারাগারে থাকা অবস্থার বিভিন্ন তথ্যও আদালতে তুলে ধরা হয়। সংশোধনাগারের কর্মকর্তারা জানান, বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য কয়েদিদের ওপর হামলা এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী রাখার মতো একাধিক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, নিহত ক্রিস্টোফার ট্রেভিনোর পরিবারের সদস্যরাও আদালতে বক্তব্য দেন। তারা ক্রিস্টোফারের ব্যক্তিত্ব, পরিবার ও তার মৃত্যুর পর স্বজনদের ওপর তৈরি হওয়া গভীর মানসিক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। সব পক্ষের বক্তব্য ও মামলার বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করে আদালত আইজ্যাক আরিস্পেকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেন। হত্যার সময় আরিস্পের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। তবে গুরুতর অপরাধের কারণে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ সময় পর দেওয়া এই সাজা আবারও যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর বয়সে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার ও শাস্তির বিষয়টি সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রী। গর্ভাবস্থার কোনো লক্ষণ বা শারীরিক পরিবর্তন ছাড়াই সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের ফ্ল্যাটে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘ক্রিপটিক প্রেগন্যান্সি’ বা গুপ্ত গর্ভাবস্থা, যেখানে একজন নারী সন্তান প্রসবের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের গর্ভধারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকেন। অপরাধবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা এই তরুণীর স্বপ্ন ছিল ল স্কুলে পড়ার। ২০২৩ সালে প্রেমিক প্রেস্টনের সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকেই তিনি সতর্ক ছিলেন এবং নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ করছিলেন। প্রতি মাসে তার স্বাভাবিক পিরিয়ডও হতো। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি লন্ডনে ঘুরতে যান এবং আগস্টে ক্যাম্পাসে ফেরেন। এরপর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তার ওজন ১০ পাউন্ডের মতো বেড়ে যায়, যাকে তিনি শুধুমাত্র অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের অভাব বলে ধরে নিয়েছিলেন। কোনো বমি বমি ভাব, ক্লান্তি বা অন্য কোনো গর্ভাবস্থার লক্ষণ তার মধ্যে ছিল না। চিকিৎসকরা পরবর্তীতে জানান, তার প্লাসেন্টা বা অমরা জরায়ুর সামনের দিকে থাকায় তিনি গর্ভস্থ শিশুর কোনো নড়াচড়া টের পাননি। ঘটনার দিন সকালে ক্লাস থেকে ফিরে পেটে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। ব্যথানাশক ওষুধ খেয়েও কোনো কাজ হয়নি। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে টয়লেটে যাওয়ার তীব্র চাপ অনুভব করেন এবং হঠাৎ করেই বুঝতে পারেন অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে। প্রথমে টিউমার ভেবে আতঙ্কিত হলেও দ্রুত প্রবৃত্তিগত তাড়নায় তিনি বেডরুমে গিয়ে একটি তোয়ালে বিছিয়ে ফ্লোরে বসে পড়েন। অ্যাড্রেনালিনের প্রভাবে কোনো ব্যথা অনুভব না করেই মাত্র তিনটি পুশে তিনি নিজেই এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এরপর ৯১১ নম্বরে কল করে সাহায্য চান এই হতবাক তরুণী। খবর পেয়ে প্যারামেডিক দল এসে মা ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ছুটে আসেন হতবাক প্রেমিক প্রেস্টন। বয়স ও আর্থিক দিক বিবেচনা করে প্রথমে তারা সন্তান দত্তক দেওয়ার কথা ভাবলেও, পরদিনই প্রেস্টন একটি খেলনা নিয়ে এসে জানান তিনি সন্তানটিকে নিজেদের কাছেই রাখতে চান। তরুণীও একই অনুভূতি পোষণ করেন এবং তারা মেয়ের নাম রাখেন 'নেভি'। সন্তান জন্মের আট দিন পর তারা পরিবারকে এই সুখবর জানান। শুরুতে তরুণী পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের মধ্য দিয়ে গেলেও মায়ের সাহায্যে তিনি ধীরে ধীরে মানিয়ে নেন। মাতৃত্বের কারণে সাময়িকভাবে পড়াশোনায় বিরতি দিলেও আগামী শরতেই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে যাচ্ছেন এই তরুণী। অনাকাঙ্ক্ষিত এই মাতৃত্ব এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডিলেতে আইসিইর সাউথ টেক্সাস ফ্যামিলি রেসিডেনশিয়াল সেন্টারে আটক অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা দিচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গত বছর কেন্দ্রটি আবার চালু করার পর সেখানে আটক বাবা-মায়েরা খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার এবং ট্যাপের পানি পান করে শিশুদের বমি করার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পরই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন রেভকিন। রেভকিন ‘ইচ স্টেপ হোম’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিলেতে আটক পরিবারগুলোর কমিসারি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিচ্ছেন। ওই অর্থ দিয়ে অভিভাবকেরা বোতলজাত পানি, নুডলসসহ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারছেন। গত সাত মাসে এভাবে তিনি শত শত পরিবারকে সহায়তা করেছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার এক আটক মা এডগারিয়ান্নি কোর্তেস গেরভিস ও তাঁর মেয়েও এই সহায়তা পেয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় কোর্তেস গেরভিসের ওজন কমছিল এবং তিনি ক্যাফেটেরিয়ার দেওয়া ভাত ও মাংসের মিশ্র খাবার খেতে পারছিলেন না। তাঁর মেয়েও খুব কম খাচ্ছিল এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিল। পরে রেভকিনের সহায়তায় তারা কমিসারি থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার ও বোতলজাত পানি কিনতে পারেন। রেভকিন জানান, ডিলের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পর তিনি মনে করেছিলেন, কিছু একটা করা দরকার। তাঁর ভাষায়, শিশুদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কিছুটা সহজ করতে পারছেন, এটিই তাঁকে স্বস্তি দেয়। ডিলেতে খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক পরিবারগুলোর কাছ থেকে খাবার, পরিষ্কার পানির অভাব এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। মার্চে এবিসি নিউজ জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিলের কেন্দ্র থেকে একাধিক জরুরি ৯১১ কল করা হয়েছিল। এসব কলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থার কথা উঠে আসে। অন্যদিকে, আইসিই এসব অভিযোগের বিষয়ে বলেছে, ডিলেতে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কেন্দ্রটি বেসরকারি ঠিকাদার কোরসিভিক পরিচালনা করে। কোরসিভিকের দাবি, ডিলের পানির সরবরাহ শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতোই পরিষ্কার পানির ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। তবে অভিযোগের মধ্যেই রেভকিনের মতো বেসরকারি উদ্যোগগুলো আটক পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায় পরিণত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান শুধু খাবার নয়, শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্যও অর্থ দিচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের জন্য ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ধুলোময় পরিবেশে থাকা শিশুদের নাকের স্প্রে পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্ল্যানো শহরে অবস্থিত ইস্ট প্ল্যানো ইসলামিক সেন্টারে (এপিক মসজিদ) নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন অফিসার গ্রিফিন। প্রতিদিন মসজিদে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে তাঁর দেখা হতো। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি খুব কাছ থেকে মুসলমানদের জীবনাচরণ, নিয়মশৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ দেখার সুযোগ পান। দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এবং তাঁদের আচার-আচরণে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে মসজিদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা একটি ভিডিও এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিসার গ্রিফিনের ইসলাম গ্রহণের পেছনে মূল অনুঘটক ছিল সাধারণ মুসল্লিদের অমায়িক আচরণ। গ্রিফিন নিজে জানিয়েছেন, প্রতিদিন নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের নিয়মানুবর্তিতা, দয়া, আতিথেয়তা এবং তাঁর প্রতি দেখানো ভ্রাতৃত্ববোধ ও অগাধ সম্মান তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একজন নিরাপত্তারক্ষী হওয়া সত্ত্বেও মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনি যে সম্মান, ভালোবাসা ও সমতা পেয়েছেন, তা তাঁর হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। অফিসার গ্রিফিনের ইসলাম গ্রহণের মুহূর্তের ভিডিওটি সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রশংসা কুড়ায়। কালেমা শাহাদাত পাঠ করার পরপরই মসজিদের মুসল্লিরা তাঁকে জড়িয়ে ধরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তাঁর এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মানুষের সুন্দর আচরণ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
টেক্সাসের আলভারাডোতে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক এক অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা। একই সময়ে ওই ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। আইসিইর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তি বার্নার্ডো মাসেও সাবন। সংস্থাটির দাবি, ১৯৮২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় তাকে ২৫ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে চুরির অভিযোগ এবং একটি বাসায় দুই দফা চুরির ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ওই মামলায় তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হামলা, গ্রেপ্তারে বাধা, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, চুরি ও বাসায় চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। আইসিই আরও জানিয়েছে, ১৯৯৮ সালে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক সাবনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে আইসিই। অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয় গত কয়েক মাসে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছে। মার্চে ভিসি নিজেও ওই ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগস্টেও তার কার্যালয় ওই কেন্দ্রে আটক এক ইরানি ধর্মযাজকের মুক্তির দাবি জানিয়েছিল। তবে বার্নার্ডো মাসেও সাবনকে নিয়ে আইসিইর পোস্টে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার আইনজীবী বা কংগ্রেসম্যান ভিসির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইসিইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ীই বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।
টেক্সাসে শরিয়া আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের অবস্থান কঠোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে বিতর্কও তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা শরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে মুসলিম নাগরিক ও ইসলামবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় ধারণা হিসেবে শরিয়ার অর্থকে রাজনৈতিক বক্তব্যে অতিরঞ্জিত ও বিকৃত করা হচ্ছে। টেক্সাসের অস্টিনের বাসিন্দা শাইমা জায়ানের কাছে শরিয়া কোনো বিকল্প আইনি ব্যবস্থা নয়। তাঁর ভাষায়, এটি মুসলিমদের দৈনন্দিন ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনের একটি পথ। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের ওপর এটি অন্যদের জন্য চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ও নয় বলে তিনি মনে করেন। টেক্সাসে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) রাজ্য শাখায় কাজ করা জায়ান বলেন, মসজিদে নিয়মিত ধর্মীয় আলোচনায় বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণ, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব, ভালো চরিত্র, নামাজ ও রোজার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ‘শরিয়া’ শব্দটি আলাদাভাবে বারবার উচ্চারিত না হলেও এসব নৈতিক ও ধর্মীয় অনুশীলন ইসলামী জীবনযাপনের অংশ। টেক্সাস আইনসভার প্রথম মুসলিম সদস্য সালমান ভোজানি শরিয়াকে ব্যক্তিগত নৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, দান-সদকা করা, নিয়মিত সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা, প্রতিবেশী ও অন্যদের সঙ্গে সৎ আচরণ করা এর অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। রিপাবলিকান নেতাদের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তারা শরিয়াকে এমন একটি আইনি কাঠামো হিসেবে দেখছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। টেক্সাসের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্রেন্ট মানি বলেছেন, ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সুরক্ষিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, টেক্সাসের আইন বা অন্যদের সমঅধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিদেশি আইনি ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কেউ পায় না। এ অবস্থান থেকেই চলতি বছরের মার্চে মানি টেক্সাস আইনসভায় ‘শরিয়া ফ্রি টেক্সাস ককাস’ গঠন করেন। এর আগে টেক্সাসের দুই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য কিথ সেলফ ও চিপ রয় কংগ্রেসে ‘শরিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস’ গঠন করেছিলেন। জুনে সেলফ জানিয়েছিলেন, ২৫টি অঙ্গরাজ্যের ৬৮ জন রিপাবলিকান সদস্য ওই ককাসে যুক্ত হয়েছেন। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও গত এক বছরে ইসলাম ও শরিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড ও সিএআইআরকে টেক্সাসের আইনের অধীনে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেন। অ্যাবটের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে ওই সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বাড়তি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং টেক্সাসে তাদের জমি বা সম্পত্তি অর্জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে অ্যাবট সিএআইআর-সংশ্লিষ্ট একটি ইসলামিক ক্রীড়া আয়োজন নিয়ে স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান এবং শরিয়া আদালত নিয়ে তদন্তের কথাও বলেন। রিপাবলিকান পার্টি অব টেক্সাসের চলতি বছরের প্ল্যাটফর্মেও শরিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ‘ডোন্ট শরিয়া মাই টেক্সাস’ নামে একটি প্রস্তাবে শরিয়াকে অঙ্গরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি শরিয়া বাস্তবায়ন বা প্রচারের বিরুদ্ধে আইন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি শরিয়া প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরি, সামরিক বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব থেকে অযোগ্য ঘোষণার মতো প্রস্তাবও এতে রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, শরিয়াকে একটি একক, সুনির্দিষ্ট আইনবিধি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। রাইস ইউনিভার্সিটির ইসলামবিষয়ক অধ্যাপক ডেভিড কুকের মতে, শরিয়া একক কোনো বিষয় নয়। ইসলামের নবী মুহাম্মদের শিক্ষা ও ঐতিহ্য, সেগুলো থেকে তৈরি বিভিন্ন আইনগত ব্যাখ্যা এবং সময়ের সঙ্গে এসব ব্যাখ্যার পরিবর্তন ও আলোচনা মিলিয়ে শরিয়ার ধারণা গড়ে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের ইসলামি আইন ও শরিয়াবিষয়ক অধ্যাপক খালেদ আবু আল ফাদলও বলেন, আরবি ভাষায় ‘শরিয়া’ শব্দের মূল অর্থ পথ বা পানির দিকে যাওয়ার পথের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, ইসলামী ঐতিহ্যে এটি কল্যাণের পথ বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। প্রায় দেড় হাজার বছরের ইসলামী ইতিহাসে শরিয়া নিয়ে বহু ধরনের ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও স্বীকার করেন যে, কিছু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শরিয়ার নামে কঠোর ও দমনমূলক আইন চালু রয়েছে। কিন্তু সেসব আইনকে বিশ্বের সব মুসলিমের ধর্মীয় বিশ্বাস বা শরিয়ার একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই জায়গাতেই টেক্সাসের মুসলিম নাগরিকদের আপত্তি। তাদের বক্তব্য, কিছু দেশে ধর্মীয় আইনের কঠোর প্রয়োগের উদাহরণ থাকলেও তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিমদের দৈনন্দিন ধর্মচর্চাকে এক করে দেখা হচ্ছে। টেক্সাসে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক ধর্মীয় জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম নারীদের হিজাব পরা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জায়ানের বক্তব্য, হিজাব পরা ব্যক্তিগত ধর্মীয় সিদ্ধান্ত। সিএআইআর টেক্সাসে কর্মরত ছয় মুসলিম নারীর মধ্যে তিনজন হিজাব পরেন বলে তিনি জানান। তাঁর প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনকে কীভাবে অন্যদের ওপর একটি আইন চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হিসেবে দেখা যায়? ইসলামবিষয়ক গবেষক কামবিজ ঘানিয়াবাসিরি মনে করেন, মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস মার্কিন সংবিধানের বিকল্প কোনো কর্তৃত্ব তৈরি করে, এমন ধারণা মূলত ভয় তৈরি করার রাজনৈতিক কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ক্যাথলিকদের নিয়েও একসময় একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। অস্টিনের মুসলিম নাগরিক শাকিল রাশেদের ভাষায়, মুসলিমরাও অন্য আমেরিকানদের মতোই সংবিধান মেনে নিজেদের ধর্ম পালন করতে চান। ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রেখে এবং প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়ে নিজ নিজ বিশ্বাস পালন করাই তাদের প্রত্যাশা। টেক্সাসে মুসলিমদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন শুধু শরিয়া আইনেই সীমাবদ্ধ নেই। কিছু রিপাবলিকান ও রক্ষণশীল নেতা হিজাব ও অন্যান্য ইসলামী পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ, ইসলামিক চার্টার স্কুল বন্ধ এবং মুসলিমদের পেশাগত লাইসেন্স নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলছেন। জানুয়ারিতে টেক্সাস আইনসভা অধিবেশনে বসার পর এসব প্রস্তাব নিয়ে আরও বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুসলিম নেতারা বলছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার এবং কোনো ধর্মীয় আইনের নামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন পরিবর্তনের প্রশ্নকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, শরিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আগে এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক অর্থ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। সূত্র: দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মায়ের রাখা বন্দুক হাতে পেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হ্যারিস কাউন্টির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিস। কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ১১টার দিকে চ্যাম্পিয়নস এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গুলির খবর পেয়ে প্রিসিনক্ট ৪-এর ডেপুটিরা সেখানে যান। তারা গিয়ে দেখতে পান, একটি ক্লোজেটের ভেতরে থাকা অবস্থায় শিশুটি বন্দুকটি খুঁজে পায় এবং গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় শিশুটির মা ও ১০ বছরের এক ভাই বা বোনও বাড়িতে ছিলেন বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস। তদন্তকারীদের মতে, বন্দুকটি শিশুটির মায়ের মালিকানাধীন ছিল এবং ক্লোজেটেই রাখা হয়েছিল। হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিসের সার্জেন্ট জেসন ব্রাউন জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বন্দুকটি নিরাপদভাবে লক বা সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা ছিল না। কীভাবে শিশুটি ক্লোজেটে ঢুকে বন্দুকটি হাতে পেল, তা জানতে মায়ের ও ১০ বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আপাতত দুর্ঘটনাজনিত গুলিবর্ষণ হিসেবে তদন্ত করছে। তবে শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস। এই ঘটনায় আবারও শিশুদের নাগালের বাইরে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসরত ৩৫ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার এক নাগরিককে প্রায় ৬ হাজার মাইল দূরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ায় নির্বাসন দিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। কার্লোস টেলেজ সানচেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফ্লাইট ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারেন যে তাকে সিয়েরা লিওন এবং আইভরি কোস্টের মধ্যবর্তী দেশ লাইবেরিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এর আগে তিনি কখনো এই দেশটির নামও শোনেননি। হাতকড়া পরা অবস্থায় আটলান্টিকের ওপর দিয়ে ১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে বর্তমানে তিনি পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে আটকা পড়েছেন। স্ত্রী এবং পাঁচ মাস বয়সী মার্কিন নাগরিক সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়ে তিনি সিবিএস নিউজকে এক ভিডিও কলে বলেন, "আমি বুঝতে পারি না, যে দেশ নিজেকে 'গ্লোবাল হিরো' বা বিশ্বনেতা বলে দাবি করে, তারা একজন মানুষের সাথে কীভাবে এমন অমানবিক আচরণ করতে পারে।" ২০২১ সালে নিজ দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন সানচেজ। এরপর থেকে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য দিনের বেলা ডালাসের একটি গাড়ির শোরুমে এবং রাতে উবার ইটসের চালক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে এক ইমিগ্রেশন বিচারক সানচেজকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, কারণ সেখানে তার নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সেই আইনি আদেশ আইসিই-কে তাকে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে নির্বাসন দেওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি নিয়মিত ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গিয়ে আইসিই-এর হাতে আটক হন সানচেজ। আট মাস ডিটেনশন সেন্টারে থাকার পর শেষমেশ তাকে আফ্রিকায় নির্বাসন দেওয়া হয়। গত দেড় বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের সাথে তথাকথিত "তৃতীয় দেশ" বা থার্ড কান্ট্রি নির্বাসন চুক্তি করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুদান এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের মতো বিপজ্জনক দেশও রয়েছে। লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়া থেকে এক ঘণ্টারও বেশি দূরত্বের একটি অস্থায়ী হোটেলে সানচেজ এখন সময় কাটাচ্ছেন, যেখানে তার মতো ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং হন্ডুরাস থেকে নির্বাসিত অন্যান্যরাও রয়েছেন। ডালাসে বসবাসরত সানচেজের ভাই হুয়ান টেলেজ জানান, তার ভাইকে কেন লাইবেরিয়ায় পাঠানো হলো তার কোনো ব্যাখ্যা কেউ দেয়নি। তিনি তার ভাইকে একজন ভালো ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার সাথে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই তার প্রাপ্য নয়। এই ঘটনায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি। এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে লাইবেরিয়ায় থাকা সানচেজ আক্ষেপ করে বলেন, "এটি এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি, যা আমি আমার শত্রুর জন্যও কামনা করি না।"
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে হলি অ্যাডামস নামের এক সাবেক হাইস্কুল শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ ওঠার প্রায় এক বছর পর মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিউস্টনের নিকটবর্তী অ্যাঙ্গেলটন হাইস্কুলের এই সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ পানের সুযোগ করে দেওয়ার দুটি অভিযোগ এনেছে ব্রাজোরিয়া কাউন্টি শেরিফ অফিস। কেটিআরকে-টিভি (KTRK-TV)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সাবেক শিক্ষার্থীর সাথে অ্যাডামসের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্কুলের বর্তমান এক শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষকে জানালে এই তদন্ত শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থী জানায়, গ্রীষ্মের ছুটিতে ভুক্তভোগী তাকে অ্যাডামসের বেডরুম থেকে ফেসটাইমে কল করেছিল এবং সে সময় বিছানায় শিক্ষিকার নগ্ন ছবি ছড়ানো ছিল। এছাড়া আরেকটি ছবিতে অ্যাডামস এবং ওই সাবেক শিক্ষার্থীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে, অ্যাডামস প্রায়ই শিক্ষার্থীদের তার বাড়িতে গৃহস্থালি কাজের জন্য আমন্ত্রণ জানাতেন। এমনকি স্কুলের বেসবল দলের তিন সদস্যের সাথে স্ন্যাপচ্যাটে কথা বলার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. গেইল সল্টজ জানান, যেসব নারী শিক্ষক পুরুষ শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতন করেন, তারা অনেক সময় নিজেদের বোঝান যে এই সম্পর্কটি বৈধ। তারা ভুক্তভোগীর পাশাপাশি নিজেদেরও মানসিকভাবে প্রস্তুত (গ্রুমিং) করেন এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তারা একটি রোমান্টিক সম্পর্কে রয়েছেন, যা ভুক্তভোগীর জন্যও উপকারী। ডা. সল্টজ আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনায় পুরুষ শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষতি নারী ভুক্তভোগীদের মতোই মারাত্মক। কারণ, এখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তার ওপর রাখা আস্থার অপব্যবহার করে এবং এমন সব সীমানা লঙ্ঘন করে, যার জন্য একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মোটেও প্রস্তুত থাকে না। গ্রেপ্তারের পর অ্যাডামসকে ব্রাজোরিয়া কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একই দিনে ২৬ হাজার ডলারের বন্ডে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। অ্যাঙ্গেলটন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই নারী বর্তমানে আর তাদের স্কুলে কর্মরত নেই।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি দীপক আহুজা ও মধু আহুজা। কৈলাশ তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে গত ২৬ আগস্ট সীমান্তের গিরিয়ং পোর্ট ইমিগ্রেশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে পরিবারের শেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। দীপক ও মধু আহুজা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডালাসে বসবাস করছেন। দীপকের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে তারা ইশা ফাউন্ডেশনের একটি তীর্থযাত্রী দলের সঙ্গে টেক্সাস থেকে কৈলাশ পর্বতে যান। তীর্থযাত্রা শেষ করে তারা নেপাল-তিব্বত সীমান্ত দিয়ে ফেরার সময় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েন। তাদের দুই মেয়ে আশনা ও শ্রেয়া আহুজা এখন বাবা-মায়ের কোনো খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্যোগের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে মেয়েদের একজনের সঙ্গে বাবা-মায়ের কথা হয়েছিল। পরে বন্যার খবর পাওয়ার পর তারা বারবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি। তীর্থযাত্রা আয়োজনকারী সংগঠন থেকেও পরিবারকে জানানো হয়, গিরিয়ং পোর্টের ইমিগ্রেশন সেন্টার এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছিল। আহুজা পরিবারের স্বজনরা তাদের সন্ধানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। উদ্ধারকারী দলগুলোও দুর্যোগকবলিত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শত শত মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি এক হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অনেকেই কৈলাশ তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগের পর বেশ কিছু মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের সন্ধান ও নিরাপদে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। দীপক ও মধুর দুই মেয়ে এখন একটি খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন - তাদের বাবা-মা কোথায় আছেন এবং তারা নিরাপদে আছেন কি না। পরিবারের আশা, চলমান উদ্ধার অভিযানে দ্রুত তাদের সন্ধান মিলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বেইলর ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে মুসলিম শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে হালাল খাবারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ওয়াকো শহরের এই খ্রিষ্টান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্ট ভিলেজ ডাইনিং কমন্সে হালাল চিকেন দিয়ে শুরু হওয়া উদ্যোগটি পরে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বেইলর ইটসের নির্বাহী শেফ গ্রেসন কনট্রেরাস জানান, হালাল খাবারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মতামত পাওয়া যাচ্ছিল। সার্ভে, ফোকাস গ্রুপ ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে হালাল খাবারের সুযোগ চেয়েছিলেন। কনট্রেরাস বলেন, শিক্ষার্থীদের দেওয়া মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বেইলর ইটস হালাল চিকেন চালুর উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ইস্ট ভিলেজ ডাইনিং কমন্সে পরীক্ষামূলকভাবে হালাল চিকেন চালু করা হয়। পরে সেটি আরও বিস্তৃত হালাল খাবারের ব্যবস্থায় রূপ নেয়। বেইলর ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্ম ও দেশের মানুষ রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ছাড়াও শতাধিক দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের খাদ্যাভ্যাস ও বিশেষ খাদ্য চাহিদার বিষয়ও বিবেচনা করা হয়। হালাল খাবারের এই উদ্যোগের পাশাপাশি রমজানেও মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছে বেইলর ইটস। ২০২৬ সালের রমজানে ইফতারের জন্য শিক্ষার্থীদের হালাল খাবারের প্লেট দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। ১৮৪৫ সালে ব্যাপ্টিস্টদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বেইলর ইউনিভার্সিটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত খ্রিষ্টান বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে খ্রিষ্টান মূল্যবোধ ও সেবার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়। শিক্ষার্থীদের খাদ্যসংক্রান্ত চাহিদা নিয়ে মতামত দেওয়ার জন্য বেইলর ইটস বিভিন্ন মাধ্যমও রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন নিজের ধর্মীয় ও খাদ্যগত প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদে খাবার গ্রহণের সুযোগ পায়, সেটিই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
২০২৬ সালের ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র্যাঙ্কিংয়ে টেক্সাসের সেরা ৫০টি চার্টার স্কুলের তালিকায় জায়গা পেয়েছে হিউস্টনের ১৩টি স্কুল। রাজ্যের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় হিউস্টনের স্কুলের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই তালিকায় হিউস্টনের চারটি চার্টার স্কুল জাতীয় পর্যায়েও সেরা ১০০-এর মধ্যে রয়েছে। এগুলো হলো ওয়েস্টচেস্টার একাডেমি ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ, হারমনি স্কুল অব ইনোভেশন-কেটি, হারমনি স্কুল অব ডিসকভারি-হিউস্টন এবং ওয়াইইএস প্রেপ-নর্থ সেন্ট্রাল। টেক্সাসের সেরা চার্টার স্কুলগুলোর তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্কুল রয়েছে আইডিয়া পাবলিক স্কুলসের। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ১৯টি স্কুল শীর্ষ তালিকায় জায়গা পেয়েছে। হারমনি পাবলিক স্কুলসের ১০টি এবং হিউস্টনভিত্তিক ওয়াইইএস প্রেপ পাবলিক স্কুলসের সাতটি ক্যাম্পাসও তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, কেআইপিপি টেক্সাস থেকে শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে শুধু কেআইপিপি হিউস্টন হাই স্কুল। টেক্সাসের সেরা চার্টার স্কুল হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছে সান আন্তোনিওর বেসিস শাভানো। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সান আন্তোনিও ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ইয়াং উইমেনস লিডারশিপ একাডেমি এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্র্যান্ড প্রেইরি ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের গ্র্যান্ড প্রেইরি কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট। ইউএস নিউজের ২০২৬ সালের এই র্যাঙ্কিং তৈরিতে প্রায় ২৭ হাজার যোগ্য উচ্চবিদ্যালয়ের তথ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মান নির্ধারণী পরীক্ষার ফলাফল, স্নাতক হওয়ার হার, কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি এবং অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরিয়েট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশার তুলনায় কেমন ফল করছে, সেটিও মূল্যায়নের অংশ ছিল। এই র্যাঙ্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত তথ্য মূলত ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য যুক্ত হলে স্কুলগুলোর অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। হিউস্টনের ১৩টি চার্টার স্কুলের এই অবস্থান স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়াইইএস প্রেপ ও হারমনি পাবলিক স্কুলসের একাধিক ক্যাম্পাস শীর্ষ তালিকায় থাকায় হিউস্টন অঞ্চলে বিকল্প সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার শক্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান অভিভাবকদের জন্যও সন্তানদের উচ্চবিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় এই তালিকা প্রাথমিকভাবে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু র্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর না করে স্কুলের শিক্ষার মান, অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা, ভর্তি নীতি, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির সুযোগও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মাত্র ৫ বছরের জুয়েলজ বোগান তার ছোট ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে অস্থিমজ্জা দান করেছে। বিরল ধরনের লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ১৯ মাস বয়সী ভাই জাহসের চিকিৎসায় পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা করা হলে জুয়েলজই সবচেয়ে উপযুক্ত দাতা হিসেবে শনাক্ত হয়। এখন প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে কি না, তা জানার অপেক্ষায় পরিবার। জাহসের অসুস্থতার শুরুটা ছিল বারবার সংক্রমণ, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বর এবং পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ডে-কেয়ারে যাওয়া শুরু করার পর তার অসুস্থতা বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালের শুরুতে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, সে জুভেনাইল মায়েলোমোনোসাইটিক লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। এটি শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত বিরল এক ধরনের লিউকেমিয়া। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে আনুমানিক ১ থেকে ২ জনের এই রোগ হতে পারে। রোগটির ক্ষেত্রে স্টেম সেল প্রতিস্থাপন বর্তমানে সুস্থ হওয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। ভাইয়ের অসুস্থতার কথা জানার পর থেকেই জুয়েলজ তাকে বাঁচাতে নিজের অস্থিমজ্জা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রতি সপ্তাহে সে মাকে একই প্রশ্ন করত, কখন তার ডাক্তার দেখানোর দিন আসবে, যাতে সে ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে পারে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দাতা খোঁজার পরীক্ষা করা হলে জুয়েলজ সবচেয়ে ভালো মিল হিসেবে শনাক্ত হয়। ভয় থাকলেও ভাইকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সে প্রস্তুত ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৮ আগস্ট তার অস্থিমজ্জা সংগ্রহ করে ছোট ভাই জাহসের জন্য প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্থিমজ্জা দেওয়ার পর জুয়েলজ এখন সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অন্যদিকে জাহসকে টেক্সাসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের পর তার শরীর নতুন কোষগুলো গ্রহণ করছে কি না, সেটিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। ছোট ভাইয়ের চিকিৎসার কারণে পরিবারকে নিজেদের বাড়ি থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে হাসপাতালে অবস্থান করতে হচ্ছে। চিকিৎসার পাশাপাশি যাতায়াত ও থাকার খরচও পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তবে জুয়েলজের এই দানের মধ্য দিয়ে ভাইয়ের সুস্থতার জন্য নতুন আশার আলো দেখছে পরিবার।
টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর জন্য থাকা সুবিধা নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্ত চেয়েছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। শুক্রবার, ২১ আগস্ট, দুই সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরের এসব সুবিধাকে ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বলে দাবি করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। অ্যাবটের অভিযোগ, বিমানবন্দর দুটির ওজু সুবিধা একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। তার ভাষ্য, সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দর কোনো একটি ধর্মকে অন্য ধর্মের তুলনায় অগ্রাধিকার দিতে পারে না। তিনি মার্কিন বিচার বিভাগকে বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওজু বা ইসলামী ধর্মীয় পবিত্রতার জন্য পানি দিয়ে হাত, মুখ ও পা ধোয়ার ব্যবস্থা। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে আগে থেকেই দুটি ওজু স্টেশন চালু রয়েছে। নতুন করে আরও কয়েকটি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেই পরিকল্পনা বাতিল করে। অন্যদিকে, হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল ডিতে ২০২৪ সাল থেকে একটি ওজু কক্ষ এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত নামাজের কক্ষ চালু রয়েছে। হিউস্টন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সুবিধা শুধু মুসলিমদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। টার্মিনাল ডিতে প্রবেশাধিকার থাকা সব ধর্মের যাত্রী, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ারও অ্যাবটের অভিযোগের জবাবে বলেছেন, বিমানবন্দরের এই সুবিধা নির্মাণে নগরীর করদাতাদের অর্থ, রাজ্য অনুদান কিংবা ফেডারেল অনুদান ব্যবহার করা হয়নি। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ফি দিয়ে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় এটি তৈরি করা হয়েছে। অ্যাবট এর আগে বিমানবন্দর দুটির এসব ধর্মীয় সুবিধা নিয়ে রাজ্য অনুদান পর্যালোচনার ঘোষণা দেন এবং মার্কিন পরিবহন বিভাগ ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে তদন্তের অনুরোধ জানান। তার ওই পদক্ষেপের পর ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর অতিরিক্ত ওজু সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। এবার বিষয়টি মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে পাঠানোয় বিতর্কটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়াল। বিচার বিভাগ অভিযোগটি কীভাবে পর্যালোচনা করবে এবং বিমানবন্দর দুটির বিদ্যমান ওজু সুবিধা নিয়ে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
টেক্সাসের এডিনবার্গে একটি ট্রাক স্টপে ট্রাক্টর ট্রেইলারের ভেতর লুকিয়ে রাখা ২০ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল ও হিডালগো কাউন্টি শেরিফ’স অফিস। ২০ আগস্ট যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক একটি ট্রাক্টর ট্রেইলারের বিষয়ে খবর পাওয়ার পর বর্ডার প্যাট্রোলের কে-৯ ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কে-৯ ইউনিট ট্রেইলারের ভেতরে সন্দেহজনক কিছুর উপস্থিতির বিষয়ে পজিটিভ অ্যালার্ট দেওয়ার পর বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট ও হিডালগো কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের ডেপুটিরা ট্রেইলারটি তল্লাশি করেন। তল্লাশির সময় ট্রেইলারের ভেতর লুকিয়ে থাকা ২০ অভিবাসীকে পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে মানব পাচারের একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ট্রাকটির চালককে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি সেক্টরের ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল প্রধান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অভিবাসন থেকে লাভবান অপরাধী চক্রগুলোকে ভেঙে দিতে বর্ডার প্যাট্রোল কাজ করে যাচ্ছে। অর্থের জন্য মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার এবং জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান। উদ্ধার হওয়া ২০ জনের নাগরিকত্ব, তাদের পরবর্তী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং চালকের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
টেক্সাসের একটি স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আটজনকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছিল। ১৪ আগস্ট এল পাসো এলাকায় এই অভিযান চালানো হয় বলে আইসিই জানিয়েছে। আইসিই এল পাসোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার এনফোর্সমেন্ট সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ওই স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মেক্সিকোর, দুজন ব্রাজিলের, একজন গুয়াতেমালার এবং একজন হন্ডুরাসের নাগরিক। আইসিই জানিয়েছে, আটজন আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট হওয়ার পর আবারও দেশে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি অনুযায়ী অবৈধভাবে পুনঃপ্রবেশের ফেডারেল অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আরও দুজনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন জজের দেওয়া চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ বা ফাইনাল অর্ডার অব রিমুভাল রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া একজন মেক্সিকান নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে বলে আইসিই জানিয়েছে। ডিপোর্টের পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি ফেডারেল আইনে গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আগেও ডিপোর্ট হওয়া কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি ফেডারেল ক্রিমিনাল মামলাও হতে পারে। মামলার পরিস্থিতি ও ব্যক্তির আগের রেকর্ডের ওপর সম্ভাব্য শাস্তি নির্ভর করে। একই সময়ে টেক্সাসের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগে বড় ধরনের ফেডারেল কার্যক্রমের তথ্যও প্রকাশ করেছে ইউএস অ্যাটর্নির অফিস। ৭ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে সেখানে ইমিগ্রেশন ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত অপরাধে ২৯২টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ১৪ আগস্টের সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব মামলার মধ্যে আগে ডিপোর্ট হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। ওই সরকারি প্রতিবেদনে ব্রাজিলের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, যাকে এর আগে তিনবার ডিপোর্ট করা হয়েছিল। মেক্সিকোর আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও তিনবার পূর্ববর্তী ডিপোর্টেশনের পর পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের আওতায় ৬৮টি কাউন্টি রয়েছে। প্রায় ৯৩ হাজার বর্গমাইলের এই অঞ্চলে এল পাসো, সান অ্যান্টোনিও ও অস্টিনের মতো বড় শহর রয়েছে এবং মেক্সিকোর সঙ্গে প্রায় ৬৬০ মাইল সীমান্ত রয়েছে। আইসিইর এই অভিযান এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে গৃহহীন এক ব্যক্তির পাশে কুকুরের মল ভরা স্যান্ডউইচ রেখে চাকরি হারানো সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাথিউ লাকহার্স্ট এবার ছোট শহর বেনাভিদেসের পুলিশপ্রধান হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১ জুন তিনি নতুন পদে দায়িত্ব নেন। লাকহার্স্টের বিতর্কের শুরু ২০১৬ সালে। তখন তিনি সান অ্যান্টোনিও পুলিশ বিভাগের বাইসাইকেল প্যাট্রোলে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ বিভাগের তদন্ত নথি অনুযায়ী, তিনি কুকুরের মল রুটির দুই টুকরোর মধ্যে রেখে একটি খাবারের পাত্রে ভরে গৃহহীন এক ব্যক্তির পাশে রেখে দেন। পরে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হলে লাকহার্স্ট বিষয়টি স্বীকার করেন। তৎকালীন পুলিশপ্রধান উইলিয়াম ম্যাকম্যানাস ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেন। এরপর লাকহার্স্টের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়নি। একই সময় আরেকটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে পুলিশ বিভাগের একটি নারী টয়লেটে মল না পরিষ্কার করে রেখে যাওয়ার এবং টয়লেটের আসনে মলজাতীয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায়ও লাকহার্স্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দ্বিতীয় বরখাস্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করলেও একজন সালিশকারী শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে প্রথম বরখাস্তের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালে তিনি আপিলে জয় পান। সালিশকারী সিদ্ধান্ত দেন, তাকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সান অ্যান্টোনিও পুলিশ বিভাগ নির্ধারিত ১৮০ দিনের সময়সীমা মেনে চলেনি। ফলে তিনি আবারও পুলিশের চাকরিতে ফেরার সুযোগ পান। এরপর ২০২০ সালে দ্বিতীয় ঘটনার কারণে সান অ্যান্টোনিও পুলিশ বিভাগ থেকে তার বরখাস্ত বহাল থাকে। কিন্তু মাত্র কয়েক মাস পরই তিনি টেক্সাসের আরেক শহর ফ্লোরেসভিলের পুলিশ বিভাগে রিজার্ভ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ২০২২ সালে তার অতীতের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর জনমতের চাপের মধ্যে ফ্লোরেসভিল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়। এরপরও লাকহার্স্টের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজের পথ বন্ধ হয়নি। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে তিনি দক্ষিণ টেক্সাসের ছোট শহর বেনাভিদেসের পুলিশ বিভাগে কাজ করছিলেন। পরে ৩০ এপ্রিল ২০২৬-এর সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে তার পদোন্নতির অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১ জুন তিনি পুলিশপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। লাকহার্স্টের পদোন্নতি আবারও টেক্সাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত টেক্সাসের একটি রাজ্য পর্যায়ের পর্যালোচনাতেও বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের অন্য বিভাগে নতুন চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং রাজ্য পর্যায়ে তাদের ওপর নজরদারির সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এদিকে লাকহার্স্টের নতুন পদ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরা বেনাভিদেসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শহরের সিটি সেক্রেটারি টিফানি বাজান একাধিকবার ফোন কেটে দেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শহরটির প্রায় ১১০০ বাসিন্দার এই ছোট কমিউনিটিতে তার পুলিশপ্রধান হওয়া তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় তাদের দুই শিশু সন্তান বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। পুলিশের তল্লাশির সময় অভিযুক্ত স্বামীর শার্টে লেগে থাকা বিশাল রক্তের দাগ দেখে প্রথম সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে গ্যারেজে রাখা একটি গাড়ির ডিকি থেকে স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট টেক্সাসের প্ল্যানো শহরে জেক বিগনি (৩৭) নামের ওই ব্যক্তির অ্যাপার্টমেন্টে যায় পুলিশ। ওইদিন সকালে তার স্ত্রী এলিয়ানা বিগনি এক বান্ধবীর সঙ্গে সকালের নাশতা করার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। জেকের অতীতের সহিংস আচরণের কথা বিবেচনা করে ওই বান্ধবী এলিয়ানার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপরই পুলিশ জেকের বাসায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের হাতে আসা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হলফনামা থেকে জানা যায়, জেক যখন অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খোলেন, তখন তার শার্টে বিশাল একটি রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ঘর পরিষ্কার করার সময় এই দাগ লেগেছে। তিনি পুলিশকে আরও জানান, এলিয়ানা ওইদিন সকালে এসেছিলেন, তবে কিছুক্ষণ পর চলেও গেছেন। তবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তারা ভেতরে তল্লাশি চালান। সে সময় অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও রক্তের ছিটে দেখতে পান তারা। এরপর ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের গ্যারেজে রাখা একটি সাদা হুন্দাই গাড়ির ডিকি থেকে এলিয়ানার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, এলিয়ানা মূলত তার সন্তানদের নিতেই ওইদিন জেকের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। কলিন কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার এখনো তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ করেননি। লোমহর্ষক এই ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ পৌঁছানোর ঠিক ৩০ মিনিট আগে জেক তার মাকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেন, "তোমাকে আমার কিছু বলার আছে। সে মারা গেছে।" জেক তার মায়ের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, "আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং সে মারা গেছে।" এই কথা শোনার পরই আতঙ্কিত হয়ে তার মা পুলিশে খবর দেন। বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার কারণে এই দম্পতি আলাদা থাকছিলেন। মাত্র এক বছর আগে জেকের চাকরির সুবাদে তারা সপরিবারে টেক্সাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের ২ ও ৫ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান ওই অ্যাপার্টমেন্টেই ছিল। তবে তারা শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্ল্যানো পুলিশের কর্মকর্তা জেরি মিনটন ফক্স৪-কে বলেন, "এমন একটি জঘন্য অপরাধের সময় ওই দুই শিশু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তারা ঠিক কী দেখেছে বা দেখেনি, তা নিয়ে আমি এখন কোনো অনুমান করতে চাই না, তবে তারা সেখানে ছিল।" কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জেক বিগনিকে প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলেও পরে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্ম হয়েছিল অরোরা স্কাই ক্যাস্টনারের। জন্মের পর মায়ের কাছ থেকে তিনি আর সেভাবে স্নেহ-যত্ন পাননি। নবজাতক অরোরাকে কারাগার থেকে নিয়ে গিয়ে একাই বড় করেন তার বাবা। জীবনের শুরুটাই ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তার শিক্ষাজীবনের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং কঠোর পরিশ্রম, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং একজন সহৃদয় পরামর্শদাতার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পান তিনি। অরোরার জন্ম টেক্সাসের Galveston County Jail-এ। তখন তার মা কারাগারে ছিলেন। জন্মের পর অরোরাকে তার বাবা কারাগার থেকে নিয়ে যান এবং একক অভিভাবক হিসেবে তাকে বড় করতে থাকেন। শৈশবটা সহজ ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা-মেয়ের জীবন ছিল আর্থিক ও পারিবারিক নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এমন পরিস্থিতিতেও অরোরার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় অরোরা একটি পরামর্শদাতা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানেই তার পরিচয় হয় মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে। ধীরে ধীরে হ্যাম্বি শুধু তার শিক্ষাজীবনের পরামর্শদাতা নন, অরোরার জীবনে একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিতে পরিণত হন। চশমা কেনা, চুল কাটানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দৈনন্দিন বিষয়েও তিনি অরোরাকে সহযোগিতা করতেন। এমনকি অরোরার জন্য গ্রীষ্মকালীন শিবিরে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করে দেন তিনি। অরোরার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ প্রথম দেখাতেই হ্যাম্বির নজরে আসে। হ্যাম্বি জানিয়েছিলেন, অরোরা ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়ত। তার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেত্রী রোজা পার্কস। অরোরার এই আগ্রহ দেখে হ্যাম্বি বুঝতে পারেন, মেয়েটির মধ্যে বড় কিছু করার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমেও অরোরা নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। তিনি মাদকবিরোধী বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পান এবং একটি বৃত্তিও অর্জন করেন। পরে Conroe High School থেকে ২০২৩ সালে অত্যন্ত ভালো ফল নিয়ে স্নাতক হন। তিনি পুরো স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন অবশ্য অরোরার হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০২২ সালের মার্চে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। সেই সফর তার মনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ার ইচ্ছা আরও দৃঢ় করে। এরপর থেকেই হার্ভার্ডে পড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকেন তিনি। হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনপত্রের প্রবন্ধে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে আনেন অরোরা। তার আবেদনের প্রথম বাক্য ছিল, ‘আমি কারাগারে জন্মেছি।’ নিজের অতীতকে লুকিয়ে না রেখে সেটিকেই তিনি জীবনের গল্পের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আবেদনপত্র তৈরিতে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকও তাকে সহায়তা করেছিলেন। ২০২৩ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অরোরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান এবং পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার প্রস্তুতি নেন। তার লক্ষ্য ছিল আইন নিয়ে পড়াশোনা করা। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। অরোরার গল্পে মোনা হ্যাম্বির ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ছোটবেলায় অরোরার জীবনে যে ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন ছিল, হ্যাম্বি তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অরোরাও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার পরামর্শদাতার অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। হ্যাম্বির সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন। অরোরার জীবনের গল্প তাই শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নয়। জন্মের পরিস্থিতি, পারিবারিক অনিশ্চয়তা কিংবা শৈশবের সীমাবদ্ধতা একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না, তার পথচলা সেই কথাটিই সামনে আনে। একজন অভিভাবকের চেষ্টা, একজন পরামর্শদাতার সহায়তা এবং নিজের অধ্যবসায় কীভাবে একটি শিশুর সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে পারে, অরোরার গল্প তারও একটি উদাহরণ। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অরোরার হার্ভার্ডে ভর্তি ও পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্য মূলত ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে প্রকাশিত। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার বর্তমান শিক্ষাবর্ষ বা হার্ভার্ডে আইন পড়ার বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই তাকে বর্তমানে হার্ভার্ডের আইন শিক্ষার্থী হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার বদলে ২০২৩ সালে হার্ভার্ডে আইন পড়ার জন্য পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যই যাচাই করা অবস্থায় বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর স্থান (ওজুখানা) নির্মাণের একটি পরিকল্পনা তীব্র বিতর্কের মুখে বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দেওয়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বড় বিমানবন্দরে ধর্মীয় সুবিধার নামে কোনো বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য সরকারি অনুদান খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর অ্যাবট বলেন, "সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অন্য সব ধর্মের ওপর বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ইসলামিক ওজুর জায়গা নির্মাণের পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি সম্ভাব্য অনুদান বাতিলের জন্য রাজ্যের দুটি বিমানবন্দরের সব সরকারি অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি তদন্তের জন্য বিষয়টি মার্কিন পরিবহন বিভাগের (ইউএসডিওটি) কাছে পাঠিয়েছি।" তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো স্থাপনায় এ ধরনের বেআইনি ধর্মীয় বৈষম্য বরদাশত করবে না টেক্সাস। গভর্নরের এই কড়া বার্তার পরই ডালাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, তারা তাদের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল (টার্মিনাল ডি)-এর নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে যাত্রীদের জন্য একটি ওজুখানা স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছিল। কিন্তু জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হওয়ায় তারা দ্রুত এই পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং প্রকল্পটি নিয়ে আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি থেকে প্রাথমিকভাবে যে ধরনের পরিচালনগত সুবিধার আশা করা হয়েছিল, সেটি পূরণ হবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত ৩১ জুলাই টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের কাছে প্রকল্পটির নিবন্ধন করা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ডলার এবং অর্থায়নের উৎসের জায়গায় ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ উল্লেখ করা হয়েছিল। কথা ছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে। তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, নথিপত্রে উল্লেখ করা এসব তথ্য আসলে তাদের বহিরাগত নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ‘করণিক ভুল’ ছিল। বিমানবন্দরটির একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে বলেন, ৩ লাখ ডলারের হিসাবটি ছিল একটি প্রাথমিক উচ্চ ধারণা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এর প্রকৃত ব্যয় হতো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ কথাটিও ভুলবশত লেখা হয়েছিল। অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পেও বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার কথা ছিল। বিমানবন্দরটি তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে না, বরং পার্কিং ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে একটি ওজুখানা এবং এর সংলগ্ন একটি প্রার্থনাকক্ষ রয়েছে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে গভর্নর অ্যাবট মার্কিন পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উভয় বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "এই ওজুখানাগুলো দৃশ্যত নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবিধানে এ ধরনের বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া নিষেধ। সরকার যেমন পবিত্রতার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, তেমনি অন্য সব মতাদর্শের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদকেও বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।" উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোতেও, যেমন, শিকাগো ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যাত্রীদের সুবিধার্থে এ ধরনের নিচু বেসিন বা ওজুখানা এবং সর্বজনীন প্রার্থনার স্থান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।