টেক্সাস

গাড়িটি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার আগেই চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ছবি: সংগৃহীত
জ্বলন্ত গাড়ি থেকে খালি হাতে কাচ ভেঙে চালককে উদ্ধার, যুক্তরাষ্ট্রে সম্মানিত পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কের ওপর আগুনে জ্বলতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে জীবিত উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ঝুঁকিপূর্ণ ওই অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার জন্য তাকে বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এবং সাউথলেক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন টেক্সাসের স্টেট হাইওয়ে ১১৪-এ। সাউথলেক পুলিশ বিভাগের করপোরাল জোশুয়া সুইশার জানান, সেদিন তিনি মহাসড়কের পাশে একটি যানবাহন থামিয়ে ট্রাফিক সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঠিক তখনই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে একটি গাড়ি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হওয়ার এবং সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের খবর পান।   তিনি জানান, বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার একটাই লক্ষ্য ছিল গাড়িটিকে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে ভেতরে থাকা চালককে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই বের করে আনা। সাউথলেক পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা ড্যাশক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁয়া বের হতে থাকা গাড়িটি সুইশারের পাশ দিয়ে চলে যায়। তিনি দ্রুত গাড়িটির পিছু নেন এবং সেটিকে মহাসড়কের পাশে থামাতে সক্ষম হন। কিন্তু গাড়িটি থামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।   ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির দরজা খুলতে গেলে আগুনের তাপে দরজার হাতল ভেঙে যায়। এতে চালককে বের করার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এবিসি নিউজকে সুইশার বলেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রচলিত উপায়ে দরজা খুলে চালককে বের করা সম্ভব নয়। তাই তিনি দস্তানা পরে গাড়ির জানালায় আঘাত করেন।   তার শরীরে ধারণ করা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ঘন কালো ধোঁয়ায় গাড়ির ভেতর প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তারপরও তিনি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সুইশার বলেন, জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ার পরই তিনি স্বস্তি পান, কারণ তখন অন্তত চালককে বের করার একটি পথ তৈরি হয়েছিল।   এরপর তিনি চালককে গাড়ি থেকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে চালক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তিনি মানসিকভাবে ভীত হলেও গুরুতর আহত হননি এবং নিজে হেঁটে ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন।   ঘটনার পর জোশুয়া সুইশার বলেন, "প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। আমি শুধু খুশি যে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিলাম এবং একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি।"   এই সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথলেক পুলিশ বিভাগ তাকে মেরিটোরিয়াস কন্ডাক্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। বিভাগটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই সম্মাননা কর্তব্য পালনের সময় অসাধারণ সাহস, পেশাদারিত্ব এবং জীবনঝুঁকি মোকাবিলার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।   পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্যই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।   সূত্র: এবিসি নিউজ, সাউথলেক পুলিশ বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
সন্দেহভাজন নারী I ছবি: সংগৃহীত
আবর্জনার ঝুড়িতেই লুকিয়ে ছিল প্রমাণ, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের কাঁটাচামচের ডিএনএতে ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার নারী

টেক্সাসের আর্লিংটনে ২০১২ সালে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সন্দেহভাজন এক নারীকে। আর্লিংটন পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ফেলে দেওয়া একটি প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অপরাধস্থলে পাওয়া রক্তের ডিএনএ মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেন। সেই সূত্র ধরেই গত ১৭ জুলাই ৪২ বছর বয়সী মাইরা ভেলাসকেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি আর্লিংটনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ৩২ বছর বয়সী ইরাসেমা চাভেজকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, তাকে প্রায় ১০০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো আলামত না থাকায় শুরু থেকেই তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, হামলাকারী নিহতের পরিচিত কেউ হতে পারেন। তবে সে সময় অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ডিএনএ জাতীয় ডেটাবেসে কারও সঙ্গে মেলেনি এবং মামলাটি দীর্ঘদিন অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে থাকে।    ২০১৬ সালে অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ডিএনএ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের একটি জিনগত প্রোফাইল তৈরি করা হয়। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আর্লিংটন পুলিশ এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিসের সহায়তায় ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়ালজি (আইজিজি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলাটির তদন্ত নতুন করে শুরু করে। কয়েক বছরের অনুসন্ধানের পর তদন্তকারীরা ভেলাসকেজকে সম্ভাব্য সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন।    তদন্তের অংশ হিসেবে ভেলাসকেজের ব্যবহৃত ও ফেলে দেওয়া একটি প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ সংগ্রহ করে তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ওই নমুনা অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তের ডিএনএর সঙ্গে মিলে গেলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।    বর্তমানে মাইরা ভেলাসকেজের বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।    আর্লিংটন পুলিশ বলছে, আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়ালজির ব্যবহার বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা কোল্ড কেসগুলোর তদন্তে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই মামলাটিও সেই প্রযুক্তির সহায়তায় সমাধানের পথে এগিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র এক বছর আগে টেক্সাসের হেব্রন হাই স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে সহপাঠীদের সাথে উল্লাসরত ইসাবেলা গনজালেস। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
গ্র্যাজুয়েশনের এক বছরের মধ্যে দেশে ফিরছে ১৯ বছরের ইসাবেলার মরদেহ, এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না বন্ধুরা

মাত্র এক বছর আগে টেক্সাসের হেব্রন হাই স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে সহপাঠীদের সঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছিলেন ইসাবেলা গনজালেস। সেই স্মৃতি এখনও সতেজ। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে সেই বন্ধুদেরই এখন বিদায় জানাতে হচ্ছে ১৯ বছর বয়সী এই মার্কিন সেনাসদস্যকে, যিনি জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন।   মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা আর্মি প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হন। একই হামলায় নিহত হন হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান।    ইসাবেলা জার্মানির আন্সবাখে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনীর ১০তম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের অধীন ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি টেক্সাসের হেব্রন হাই স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এবং এরপরই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস টেক্সাসের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইসাবেলার বন্ধুরা বলেন, মাত্র এক বছর আগেও তারা একসঙ্গে গ্র্যাজুয়েশন উদযাপন করেছিলেন। এখন সেই বন্ধুর মৃত্যুর খবর তারা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাদের ভাষায়, ইসাবেলা ছিলেন প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং সবার পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ। তার মৃত্যু পুরো বন্ধু মহলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।   লুইসভিল ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গ করে ইসাবেলা অসাধারণ সাহস ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। তার মৃত্যুতে পুরো শিক্ষা পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।    মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ প্রথমে ডেলাওয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে আনা হয়, যেখানে সামরিক মর্যাদায় ‘ডিগনিফায়েড ট্রান্সফার’ সম্পন্ন করা হয়। হোয়াইট হাউস প্রথমে জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে পরে জানানো হয়, অনুষ্ঠানটির সময়সূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। ফলে ইসাবেলা গনজালেসের মরদেহ এখনও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।    ইসাবেলার মৃত্যুর ঘটনায় টেক্সাসের ক্যারলটন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে একজন সাহসী তরুণী হিসেবে স্মরণ করছেন, যার জীবন শুরু হয়েছিল অসংখ্য স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তা অকালেই থেমে গেল।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
১৪ বছর পর ইরাসেমা চাভেজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক নারীকে। ছবি: সংগৃহীত
১৪ বছর পর ধরা পড়লো, ১০০ ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে ২০১২ সালে ৩২ বছর বয়সী ইরাসেমা চাভেজকে নৃশংসভাবে হত্যার ১৪ বছর পর অবশেষে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর্লিংটন পুলিশ বিভাগ ও এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিসের যৌথ তদন্তে মামলাটির অগ্রগতি আসে। গ্রেপ্তার হওয়া মাইরা ভেলাসকেজের বিরুদ্ধে মূলধনী হত্যা (ক্যাপিটাল মার্ডার) অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি আর্লিংটনের সাউথ কলিন্স স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইরাসেমা চাভেজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাকে প্রায় ১০০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও দীর্ঘ সময় ধরে হত্যাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের শুরুতে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে হত্যার আগের রাতে এক ব্যক্তিকে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে দেখা গেলেও তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি আসেনি।   পরে ভার্জিনিয়াভিত্তিক পারাবন ন্যানোল্যাবসের সহায়তায় সন্দেহভাজনের জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে একটি কম্পোজিট প্রোফাইল তৈরি করা হয়। কিন্তু সেখান থেকেও নতুন কোনো সূত্র মেলেনি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আর্লিংটন পুলিশ এফবিআইয়ের ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি কর্মসূচির সহায়তা নেয়। এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২৬ সালের শুরুতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে এবং শেষ পর্যন্ত মাইরা ভেলাসকেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে কী ধরনের প্রমাণ বা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে এই অগ্রগতি এসেছে, তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। এছাড়া হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি। সরকারি নথি অনুযায়ী, মাইরা ভেলাসকেজ একজন লাইসেন্সধারী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। তার লাইসেন্স এখনো সক্রিয় রয়েছে। তিনি যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেই প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।   মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি নিয়ে আর্লিংটন পুলিশ বিভাগ ও এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস যৌথভাবে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবে। সেখানে তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।   মামলাটি এখন বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে ইতালিতে প্রবেশের সময় আটক হন টেক্সাসের এই হত্যা মামলার আসামি। ছবি: সংগৃহীত
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলার আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাতে আপাতত বাধা ইতালির আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে বিচার শুরুর আগেই দেশ ছেড়ে ইতালিতে পালিয়ে যাওয়া লি গিলিকে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানো হচ্ছে না। ইতালির একটি আপিল আদালত তার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত আইনি নিশ্চয়তা চেয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইতালির বিচারকরা জানতে চেয়েছেন, লি গিলিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর করা হবে না, এ বিষয়ে মার্কিন সরকার কী ধরনের নিশ্চয়তা দিতে পারে। ইতালির আইনে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হওয়ায় এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।   ৩৯ বছর বয়সী লি গিলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেক্সাসের হিউস্টনে নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ক্রিস্টা বাউয়ার গিলিকে হত্যা করেন তিনি। ওই সময় ক্রিস্টা নয় সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।   ঘটনার রাতে লি গিলি পুলিশকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তার মৃত্যু অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে নয়; বরং গলায় চাপ প্রয়োগের কারণে শ্বাসরোধে হয়েছে। এরপরই ঘটনাটি হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই গিলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তারের পর ১০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্তি পান গিলি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে এবং ইলেকট্রনিক গোড়ালির নজরদারি যন্ত্র (অ্যাঙ্কল মনিটর) পরতে হয়েছিল।   তবে চলতি বছরের ১ মে তিনি সেই নজরদারি যন্ত্র কেটে ফেলেন এবং হিউস্টন থেকে প্রথমে কানাডা, পরে ইতালির মিলানে যান। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইতালিতে প্রবেশের সময় তিনি ভুয়া বেলজিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন এবং নিজের পরিচয় গোপন করতে অন্য একটি নাম ব্যবহার করেন। সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে আটক করে। পরে তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন এবং জানান, যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী হত্যা মামলার বিচার এড়িয়ে তিনি ইতালিতে এসেছেন।   ইতালির আদালতে শুনানির সময় গিলি রাজনৈতিক আশ্রয়ও চান। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে ন্যায্য বিচার হবে না এবং মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কায় তিনি ইতালিতে পালিয়ে এসেছেন। যদিও টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর এখন পর্যন্ত জানায়নি যে তারা এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাইবে। তবে ইতালির আদালতের মতে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   আদালতে গিলি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমি কাউকে হত্যা করিনি। আমি নির্দোষ। আমি যে অপরাধ করেছি, তা হলো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া।" এদিকে, ক্রিস্টা বাউয়ার গিলির পরিবারের আইনজীবী টিম ব্যালেঞ্জি বলেন, অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে হতাশ। তাদের প্রত্যাশা ছিল আদালতে বিচার হবে এবং ক্রিস্টা ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যুর জন্য অভিযুক্তকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা যাবে।   হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গিলিকে যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতালির আদালত মার্কিন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তা দিতে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এরপরই তার প্রত্যর্পণ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: পিপল, কেপিআরসি ২ নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরেও উৎসবটি ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জগন্নাথ রথযাত্রার উৎসব, হিন্দু মন্দিরগুলোতে ভক্তদের ঢল

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জগন্নাথ রথযাত্রা উপলক্ষে ধর্মীয় উৎসব, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠেছে হিন্দু মন্দিরগুলো। মেরিল্যান্ড, টেক্সাস, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহজুড়ে রথযাত্রা, পূজা, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ভক্ত ও দর্শনার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন।    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জগন্নাথ রথযাত্রা ভগবান জগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে রথে করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে নিয়ে যাওয়ার ঐতিহ্যকে স্মরণ করে উদযাপিত হয়। শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব ভারতের ওডিশার পুরী থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশে এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।    মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন)-এর উদ্যোগে ১৫ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ‘গোল্ডেন জুবিলি মহোৎসব’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে রথযাত্রা, মহাঅভিষেক, কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতশবাজি, নৌকা উৎসব এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ।    অন্যদিকে, টেক্সাসের হিউস্টনে বিএপিএস শ্রী স্বামিনারায়ণ মন্দিরে শনিবার রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা, ভজন, ধর্মীয় আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই দিনে হিউস্টনের ওড়িশা কালচার সেন্টারের উদ্যোগে ১৯তম বার্ষিক জগন্নাথ রথযাত্রাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা শিবির, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কীর্তন, রথ টানা এবং সবার জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।    আয়োজকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী সম্প্রদায়কে একত্রিত করাই এসব আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিবছরের মতো এবারও হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে জগন্নাথ রথযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক উল্লেখযোগ্য উৎসবে পরিণত হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
টানা বৃষ্টিতে টেক্সাস হিল কান্ট্রির বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে আবারও ভয়াবহ বন্যা, জরুরি উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই প্রাণহানি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মধ্যাঞ্চল ও হিল কান্ট্রি এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। আকস্মিক বন্যায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত ফুলে ওঠা নদীর পানি সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি প্লাবিত করায় জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।   বৃহস্পতিবার টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেন। রাজ্যজুড়ে কয়েক হাজার জরুরি কর্মী, উদ্ধার নৌযান, হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে টেক্সাস হিল কান্ট্রির বিভিন্ন এলাকা, যেখানে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গুয়াদালুপে নদীসহ একাধিক নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ কয়েকটি অঞ্চলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড ইমার্জেন্সি’ জারি করে বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেক এলাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নদীর পানি অস্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি পায়। এতে বহু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে যানবাহন পানিতে আটকা পড়ে। উদ্ধারকারী দল নৌকা ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। বন্যার কারণে টেক্সাসের বিভিন্ন কাউন্টিতে বহু সড়ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা, নিচু অঞ্চল এবং বন্যাপ্রবণ বসতিগুলোর বাসিন্দাদের বাধ্যতামূলক বা স্বেচ্ছায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   গত বছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি টেক্সাসের এই অঞ্চল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একই হিল কান্ট্রি এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের বহু শিশু ও কর্মীও ছিলেন। এবারও একই অঞ্চলে নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।   আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিতে মাটি আগে থেকেই সম্পৃক্ত থাকায় নতুন বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী ও খালে নেমে এসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করেছে। কিছু এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
অবৈধ ভোট ও জালিয়াতিসহ ৫টি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার টেক্সাসের আরকোলা শহরের মেয়র ফ্রেড বার্টন। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ ভোট ও চুক্তি অনিয়মের অভিযোগে শহরের মেয়রের বিরুদ্ধে ৫টি ফৌজদারি মামলা

টেক্সাসের আরকোলা শহরের মেয়র ফ্রেড অ্যান্থনি বার্টনকে পাঁচটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দুইটি অবৈধ ভোট, সরকারি তথ্যের অপব্যবহার, সরকারি নথি জালিয়াতি এবং সরকারি কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ।    ফোর্ট বেন্ড কাউন্টি জেল রেকর্ড অনুযায়ী, ১৫ জুলাই মেয়র বার্টনকে আটক করা হয় এবং পরে তিনি আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে হাজির হন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গ্র্যান্ড জুরি তদন্তের পর সামনে আসে।    প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলের স্থানীয় নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় বার্টন কয়েকজন ব্যক্তির অবৈধ ভোট দেওয়ার ঘটনায় সহায়তা করেছেন অথবা বিষয়টি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং আইন অনুযায়ী বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।  মামলার আরও অভিযোগে বলা হয়েছে, শহরের একটি প্রকল্পের চুক্তি প্রক্রিয়ায় গোপন দরপত্র-সংক্রান্ত তথ্যের অপব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া একটি খাদ্য প্রকল্পের খরচের হিসাব এবং কয়েকটি সরকারি চেক অনুমোদনের বিষয়েও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।    স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আরকোলা শহরটি হিউস্টনের কাছাকাছি অবস্থিত একটি ছোট শহর। মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।  টেক্সাসে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধের তদন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ ভোট, ভোট সংগ্রহের নিয়ম ভঙ্গ এবং নির্বাচনী নথির অপব্যবহার নিয়ে রাজ্য কর্তৃপক্ষ একাধিক তদন্ত পরিচালনা করেছে।   তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আকারে অবৈধ ভোটের ঘটনা খুবই বিরল। ভোটার জালিয়াতির প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।    বার্টনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। পরবর্তী আদালত শুনানিতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হতে পারে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাস আকস্মিক বন্যা ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আবারও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সতর্কতা,প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি বিপৎসীমার দিকে

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ক্যাম্প মিস্টিকে বহু শিশু ও কর্মী নিহত হওয়ার পর একই অঞ্চলে আবারও জরুরি বন্যা সতর্কতা জারি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।    দক্ষিণ টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে, নদী ও খালের পানি দ্রুত বাড়ছে এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।    ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, টেক্সাসের কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে উভালডে কাউন্টি ও আশপাশের অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে নদী, ছোট জলপথ ও নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।    স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। উভালডে কাউন্টিসহ কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল নৌকা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে।   টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট একাধিক কাউন্টিতে দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমে রাজ্যের জরুরি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, পানির স্রোত দেখে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না এবং বন্যার পানিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।    এই পরিস্থিতি টেক্সাসবাসীর মনে এক বছর আগের ভয়াবহ ক্যাম্প মিস্টিক বন্যার স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গুয়াডালুপ নদীতে আকস্মিক বন্যায় ক্যাম্প মিস্টিক এলাকায় ২৭ জন শিশু ও কর্মীসহ বহু মানুষ নিহত হন। পরবর্তী তদন্তে ক্যাম্পের জরুরি প্রস্তুতি ও বন্যা মোকাবিলা পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।    টেক্সাসের হিল কান্ট্রি অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ভারী বৃষ্টির পানি খুব দ্রুত প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নদী, খাল ও পাহাড়ি ঢালের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।    বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনেও আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।   টেক্সাসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করলে স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা অনুসরণ করুন, বন্যার পানিতে প্রবেশ করবেন না এবং জরুরি অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখুন। বিশেষ করে নদী, খাল বা নিচু এলাকার কাছাকাছি বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর গুলিতে নিহত লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। ছবি: সংগৃহীত
হিউস্টনে আইসিইর গুলিতে নিহত ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন মোড়, ভ্যানে মাদক থাকার দাবি এফবিআইয়ের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এফবিআই আদালতে দাখিল করা এক অনুসন্ধানী পরোয়ানায় দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি যে ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন, সেখানে অবৈধ মাদক থাকার সম্ভাব্য কারণ পাওয়া গেছে।   ফেডারেল আদালতে দাখিল করা ওই ওয়ারেন্ট আবেদনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ, উৎপাদন, বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ অথবা অবৈধভাবে মাদক রাখার অভিযোগ তদন্তের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সন্দেহভাজন মাদক কার ছিল, সে বিষয়ে নথিতে কোনো নির্দিষ্ট দাবি করা হয়নি।   ওয়ারেন্টে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ডেভিড ম্যাকনিলি ভ্যানের বাইরে থেকে ড্যাশবোর্ডে ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে সাদা স্ফটিকসদৃশ পদার্থ দেখতে পান। তার ভাষ্য, প্যাকেটগুলোর ধরন ও উপস্থাপনা মেথঅ্যামফেটামিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পর থেকেই আইসিইর দাবি ছিল, আত্মরক্ষার্থে তাদের এক এজেন্ট গুলি চালিয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের কারও শরীরে বডি-ক্যামেরা না থাকায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গুলির ঘটনার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভ্যানটিতে কোনো তল্লাশি চালায়নি। পরে এফবিআই আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়িটি তল্লাশি করে।   এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, যাতে বোঝা যায় গুলি চালানোর সময় আইসিই কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরে সম্ভাব্য মাদক থাকার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, সালগাদো আরাউহোর মৃত্যু হয়েছে শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে। তবে ঘটনার সময় তার শরীরে কোনো মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ছিল কি না, সে সম্পর্কিত টক্সিকোলজি রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে লাতিনো সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সংগঠন লুলাক অ্যাডেলান্তে প্যাকের সভাপতি ডোমিঙ্গো গার্সিয়া অভিযোগ করেছেন, নতুন এই ওয়ারেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে তদন্তের মূল বিষয় থেকে জনমত অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তার ভাষায়, পুরো বিষয়টি একটি 'কলঙ্ক ছড়ানোর প্রচারণা' ও 'ধামাচাপার চেষ্টা' বলে মনে হচ্ছে। টেক্সাসের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)ও বলেছে, পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থার দাবিগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।   ঘটনার সময় ভ্যানে সালগাদো আরাউহোর সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে এখনো আটক রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিহতের ভাই ভিক্টর সালগাদোও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনই ইউ-ভিসা সনদ পেয়েছেন, যা তদন্তে সহযোগিতাকারী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেয়।   এদিকে হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধানী পরোয়ানা দাখিল বা কার্যকর করেনি। তবে এফবিআইয়ের অনুমতিতে তারা ভ্যানটি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছে।   গুলির ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। কী পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী গুলি চালানো হয়েছিল এবং ভ্যানে পাওয়া সন্দেহভাজন মাদকের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ফোর্ট ওয়ার্থের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে চিকিৎসার সময় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসার সময় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার দন্তচিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওয়ার্থে দাঁতের একটি নিয়মিত চিকিৎসা চলাকালে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এক দন্তচিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, চিকিৎসার আগে শিশুটিকে একাধিক সেডেটিভ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর মাত্রা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ ঘটনায় দন্তচিকিৎসক ডা. ক্রিশেল হেমফিলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ টেক্সাস জানিয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী ডা. ক্রিশেল হেমফিলকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রেপ্তারি নথিতে বলা হয়েছে, তিনি চার বছর বয়সী আইথানা আরিয়াগাকে মুখে খাওয়ানোর জন্য মেপেরিডিন (ডেমেরল) নামের একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের তরল দ্রবণ দেন। এর পাশাপাশি আরও দুটি সেডেটিভ এবং নাইট্রাস অক্সাইডও প্রয়োগ করা হয়েছিল।   তদন্তে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল ফোর্ট ওয়ার্থের সাইকামোর স্কুল রোডে অবস্থিত কাডল কিডস ডেন্টাল কেয়ার ক্লিনিকে শিশুটির জিহ্বার নিচের টিস্যু সংশোধনের একটি নিয়মিত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। ক্লিনিকটির মালিক ডা. হেমফিল নিজেই ওই চিকিৎসা পরিচালনা করছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, চিকিৎসা শুরুর আগে শিশুটিকে একাধিক সেডেটিভ দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ওষুধগুলো ডা. হেমফিল নিজেই প্রয়োগ করেছিলেন।   শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে ডা. হেমফিল তাকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিয়ে হৃদ্‌যন্ত্র সচল রাখার চেষ্টা (সিপিআর) শুরু করেন। পরে মধ্যাহ্ন বিরতিতে থাকা আরেকজন দন্তচিকিৎসক এসে সিপিআর চালিয়ে যান। এরপর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন।   তদন্তে যুক্ত ট্যারান্ট কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে যে পরিমাণ মেপেরিডিন পাওয়া গেছে, তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্যও অনেক বেশি বলে বিবেচিত হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শিশুটিকে ওষুধটি দুই দফায় দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আইথানা আরিয়াগার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেপেরিডিন বিষক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে।   এই ঘটনার পর ডা. হেমফিলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং মামলার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ঘটনাটি টেক্সাসে শিশুদের দন্তচিকিৎসায় সেডেটিভ ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে সেডেটিভ ওষুধ ব্যবহারের সময় ওষুধের ধরন, মাত্রা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি।   সূত্র: সিবিএস নিউজ টেক্সাস, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ট্যারান্ট কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের জনসন কাউন্টিতে আলোচিত মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে দেহব্যবসার অভিযোগে সাবেক পুলিশ প্রধানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের জনসন কাউন্টিতে কথিত একটি দেহব্যবসা ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগে সাবেক এক পুলিশ প্রধানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে গ্র্যান্ড জুরি। তদন্তসংশ্লিষ্ট আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের সম্পৃক্ততা ছিল। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের কাছ থেকে জব্দ করা বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪ জানিয়েছে, বুধবার জনসন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। মামলাটি তদন্ত করছে জনসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়, টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি এবং সোমারভেল কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়। অভিযোগ গঠন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মাইকেল কেচারসাইড, তার স্ত্রী অ্যাশলি কেচারসাইড, গডলি পুলিশের সাবেক প্রধান ম্যাথিউ ক্যানট্রেল, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জেরেমি আরবাথনট ও সলোমন ওমোটোয়া এবং জনসন কাউন্টি কারাগারের সাবেক সংশোধন কর্মকর্তা রেজিনা ক্যানট্রেল।   আদালতের নথি অনুযায়ী, মাইকেল ও অ্যাশলি কেচারসাইডের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া মাইকেলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে দেহব্যবসা পরিচালনায় সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। সাবেক পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ ক্যানট্রেলের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকা, দেহব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা, যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ এবং একজনকে অনুসরণ করে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।   অন্যদিকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জেরেমি আরবাথনট ও সলোমন ওমোটোয়ার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ওমোটোয়ার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করার অভিযোগও রয়েছে। রেজিনা ক্যানট্রেলের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় গোপন সরকারি তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।   গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত হলফনামা অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ দিকে তদন্তকারীরা অ্যাশলি ও মাইকেল কেচারসাইডের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট এবং ইউএসবি ড্রাইভ জব্দ করেন। এসব ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, অ্যাশলি কেচারসাইড একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবার ব্যবস্থা করতেন। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘লোলা ব্রেয়া’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে একটি এসকর্ট-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের স্ক্রিনশটও উদ্ধার করেছেন বলে দাবি করেছেন, যেখানে সাক্ষাতের পর অর্থ পরিশোধের তথ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের সেবার জন্য আলাদা অর্থ নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, রাতভর সেবার জন্য ৫ হাজার ডলার, ৯০ মিনিটের জন্য ১ হাজার ৩০০ ডলার এবং এক ঘণ্টার জন্য ৬০০ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হতো। এছাড়া ২০২৪ সালের একটি নোটে উল্লেখ রয়েছে, একজন গ্রাহক অ্যাশলি কেচারসাইডকে ডালাস স্টার্সের একটি আইস হকি খেলা দেখাতে নিয়ে যেতে প্রায় ৪ হাজার ডলার ব্যয় করেছিলেন।   তদন্তকারীদের দাবি, জব্দ করা ডিভাইসগুলোতে এমন একাধিক বার্তা পাওয়া গেছে, যেখানে মাইকেল কেচারসাইড অ্যাশলির বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি ও যোগাযোগের সমন্বয় করতেন। জনসন কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমোথি গুড এক বিবৃতিতে বলেন, এটি অত্যন্ত বিস্তারিত এবং এখনো চলমান একটি তদন্ত। মামলায় যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, তার কিছু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা সাবেক সদস্য হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নতুন তথ্য সামনে এলে তদন্তও এগিয়ে নেওয়া হবে।   এই মামলার তদন্ত প্রথম প্রকাশ্যে আসে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল। সেদিন মাইকেল কেচারসাইড, সাবেক পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ ক্যানট্রেল এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সলোমন ওমোটোয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল অ্যাশলি কেচারসাইডকে অর্থপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও এর আগে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।   আদালতের নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কেচারসাইড দম্পতির বাড়ি থেকেই কথিত এই কার্যক্রম পরিচালিত হতো এবং সেখানে গডলি পুলিশ বিভাগের কয়েকজন সদস্য নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তদন্তে আরও অভিযোগ রয়েছে, কেচারসাইড দম্পতি ও ম্যাথিউ ক্যানট্রেল মিলে গডলি সিটি কাউন্সিল, স্থানীয় স্কুল বোর্ড এবং পুলিশ বিভাগের কয়েকজন সদস্যসহ যাদের প্রতিপক্ষ মনে করতেন, তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনাও করেছিলেন।   প্রসঙ্গত, অ্যাশলি কেচারসাইড ২০২৩ সালেও আলোচনায় এসেছিলেন। তখন গডলি স্কুল জেলার যৌনশিক্ষা পাঠ্যক্রম নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি কমিটি থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, তার বিরুদ্ধে ২০১২ ও ২০১৬ সালে দেহব্যবসা-সংক্রান্ত দুটি দণ্ডাদেশের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এদিকে ম্যাথিউ ক্যানট্রেলের বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নিজের দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক নারীকে হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগও আনা হয়েছে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দুটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।   পরে এপ্রিলের শেষ দিকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জেরেমি আরবাথনট এবং মে মাসের শুরুতে সাবেক সংশোধন কর্মকর্তা রেজিনা ক্যানট্রেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। জনসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং এটি কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।   সূত্র: ফক্স ৪, জনসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং জনসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ফোর্ট ওর্থ আইএসডির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিক্ষিকা শাইমা আলজুবি। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জেরে পদোন্নতি বাতিল, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে আদালতে ফিলিস্তিনি মুসলিম প্রধান শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওর্থ ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের (ফোর্ট ওর্থ আইএসডি) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দীর্ঘদিনের শিক্ষিকা ও প্রশাসক শাইমা আলজুবি। সম্প্রতি একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা অতীতের কিছু পোস্টকে কেন্দ্র করে সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। এবার তিনি অভিযোগ করেছেন, তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমান আইনি সুরক্ষার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার মুসলিম পরিচয় ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হওয়াও জেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে মামলায়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাইমা আলজুবি দীর্ঘদিন ধরে ফোর্ট ওর্থ আইএসডিতে শিক্ষক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত মে মাসে তাকে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জেলা কর্তৃপক্ষ।   ফোর্ট ওর্থ আইএসডি জানায়, আলজুবির ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অতীতে করা কিছু পোস্ট নিয়ে তদন্ত চলছিল। সেই তদন্তের কারণেই তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত পোস্টগুলোর মধ্যে ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আন্দোলন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’-এর প্রতি সমর্থন, যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অবস্থায় আসা অভিবাসীদের সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা)’-এর পক্ষে মত এবং করোনা মহামারির সময় মাস্ক ব্যবহারের সমর্থনে লেখা পোস্ট।   নিয়োগ বাতিলের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গত মে মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক এবং কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, অনলাইনে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় এক কমিউনিটি নেতা ফাদিয়া সালেম বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ‘৮১৭ পডকাস্ট’-এর ইজে ক্যারিয়নের ভাষ্য, বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টই মূল সমস্যা। অথচ বাস্তবে অনলাইনভিত্তিক ডানপন্থী প্রভাবশালীদের চাপ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।   এদিকে ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আলজুবি আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী সমান আইনি সুরক্ষার অধিকার তার ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বিষয়বস্তুর কারণে নয়, বরং অন্তত আংশিকভাবে তার মুসলিম পরিচয় এবং জাতিগত উৎস দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।   অন্যদিকে ফোর্ট ওর্থ আইএসডি মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জেলা কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কর্মী-সংক্রান্ত গোপনীয় বিষয়। তবে এক বিবৃতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, শাইমা আলজুবিকে ‘প্রিন্সিপাল প্রোগ্রাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ নামে জেলা পর্যায়ের একটি নেতৃত্বের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই পদে তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন।   কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া নথিতে আলজুবির আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এই পদটি বাস্তবে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে এবং আলজুবি সেটি গ্রহণ করেননি। তার লক্ষ্য আগের ঘোষিত প্রধান শিক্ষক পদেই ফিরে যাওয়া।   এখন আদালত ফোর্ট ওর্থ আইএসডির জবাব পাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মামলার ফলাফল শুধু আলজুবির কর্মজীবন নয়, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বৈষম্য সংক্রান্ত বিতর্কেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।   সূত্র: ফক্স ৪, আদালতের নথি এবং ফোর্ট ওর্থ আইএসডির বিবৃতি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অভিযোগে মামলাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের অভিযোগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার আল-মামুন, প্রত্যর্পণের পর টেক্সাসে শুরু বিচারিক প্রক্রিয়া

বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তা করা একটি আন্তঃদেশীয় মানবপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর টেক্সাসে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর তিনি লারেডো, টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে প্রথমবার হাজির হন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী আল-মামুনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর ষড়যন্ত্রে অংশ নেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অবস্থানকারী অভিবাসীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং তাদের পরবর্তী যাত্রার সমন্বয় করতেন।     মামলার নথি অনুযায়ী, আল-মামুনের সঙ্গে আরও দুই বাংলাদেশি—মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮)—এই চক্রে জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখতেন এবং তাদের মনতেরের দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মনতেরেতে তাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন।     বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অনেক অভিবাসীকে অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের জন্য একাধিক দেশের রুট ব্যবহার করত।     দোষী সাব্যস্ত হলে আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানবপাচারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন এর আগে দোষ স্বীকার করেছেন এবং তারা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।     মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI), যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (JTFA) এবং ব্রাজিলসহ একাধিক দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
আইসিই-এর গাড়ি তল্লাশি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই-এর গাড়ি তল্লাশি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, আসছে নতুন নির্দেশনা

টেক্সাস এবং মেইন অঙ্গরাজ্যে দুটি পৃথক প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাময়িকভাবে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি এবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনার জেরে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে জননিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন সরাসরি এই নির্দেশনা জারি করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তল্লাশি অভিযানের ওপর আরোপিত এই স্থগিতাদেশটি চিরস্থায়ী নয়, বরং সম্পূর্ণ সাময়িক। মূলত চলমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিরতি নেওয়া হয়েছে।   জানা গেছে, আইসিই কর্মকর্তাদের রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির নিয়মকানুন ও কৌশল বিষয়ে নতুন করে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পারিবারিক বিরোধে বাগ্‌দত্তার মেয়ের প্রেমিককে গুলি করে হত্যা,যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে আটক সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাগ্‌দত্তার মেয়ের প্রেমিকের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে এক ব্যক্তি তাকে বুকে গুলি করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   হিউস্টন পুলিশ জানায়, শনিবার রাত প্রায় ১১টা ১০ মিনিটে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ওডিন কোর্ট এলাকার একটি বাসা থেকে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, দুই ব্যক্তির মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির সময় এক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে অপরজনের বুকে গুলি করেন।   ঘটনাস্থলে পৌঁছে হিউস্টন ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা আহত ব্যক্তিকে সিপিআর দিয়ে হাসপাতালে পাঠান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত বলে ধারণা করা আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। সন্দেহভাজন, যার বয়স ৫০-এর কোঠায়, তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।   তদন্তকারীরা জানান, আটক ব্যক্তি যে নারীর সঙ্গে বাগ্‌দান সম্পন্ন করেছেন, নিহত ব্যক্তি ছিলেন ওই নারীর মেয়ের প্রেমিক। ঘটনার সময় উপস্থিত এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। বাসার ভেতরে থাকা আরেক নারী গুলির শব্দ শুনলেও ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।   কী কারণে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত ও সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগও গঠন করা হয়নি। হিউস্টন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
ডাটা সেন্টারের কারণে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে গ্রামীণ টেক্সাস আইনসভার পদক্ষেপের দাবি। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে এআই ডাটা সেন্টার স্থাপন নিয়ে মুখোমুখি দুই রিপাবলিকান নেতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ডাটা সেন্টার স্থাপনকে ঘিরে এক তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাসের ঐতিহ্যবাহী কৃষি জমি ও প্রকৃতি রক্ষা বনাম অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা। ডাটা সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই নিয়ে বিরোধিতা দিন দিন বাড়ছে।   টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ইতিমধ্যে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। গভর্নরের এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্য प्रतिनिधि শেলি লুথার। তিনি জানান, গ্রামীণ টেক্সাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৃষি জমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। লুথার আরও বলেন, ডাটা সেন্টারের মতো বড় শিল্পায়নের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সবুজ পাহাড়ি জমি ও সম্পদ নষ্ট করা ঠিক হবে না। পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি উপাদান যেন এই বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো হুট করে এসে দখল করতে না পারে, সেজন্য টেক্সাস আইনসভার অবিলম্বে আইন প্রণয়ন করা উচিত।   অন‍্যদিকে, টেক্সাস রেলরোড কমিশনার ওয়েন ক্রিশ্চিয়ান অবশ্য গভর্নরের এই ডাটা সেন্টার নিষিদ্ধ করার চিন্তার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার মতে, বর্তমানে গ্রামীণ আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি তীব্র সংকটের মুখে রয়েছে এবং দিন দিন তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ক্রিশ্চিয়ান বলেন, বড় বড় জাতীয় কর্পোরেশনের কারণে গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় ব্যবসাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে নতুন কোনো কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। এই ডাটা সেন্টারগুলোর কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ গ্রামীণ টেক্সাসের অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ হতে পারে।   পানির সংকটের বিষয়ে ক্রিশ্চিয়ান একটি বিকল্প পরামর্শ দিয়ে বলেন, তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া বর্জ্য পানিকে ডাটা সেন্টারগুলো যেন নিজস্ব খরচে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধন করে ব্যবহার করে, তার নিয়ম করা হোক। টেক্সাস কমপট্রোলার অফিসের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে টেক্সাসের করদাতারা ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বিক্রয় কর ছাড় দিয়েছেন। যেভাবে নতুন প্রজেক্টের প্রস্তাব আসছে, তাতে আগামী দুই বছরে এই প্রণোদনার পরিমাণ ৩.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বর্তমানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য বরাদ্দ এই বিশাল কর ছাড়ের সুবিধা সম্পূর্ণ বাতিল করতে চাচ্ছেন। এমনকি টেক্সাসের কৃষি কমিশনার সিড মিলারও ডাটা সেন্টারের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি ও প্রণোদনার বিষয়টি নিয়ে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে একটি বিশেষ আইনসভা অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদোর মৃত্যুর জেরে উত্তাল হিউস্টন; ইউনিয়ন কার্যালয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতকে স্মরণ। ছবি: সংগৃহীত
"আজ আমেরিকান হয়ে কষ্ট হচ্ছে", আইসিইর গুলিতে নিহত অভিবাসীকে ঘিরে হিউস্টনে শোকের ঢল

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এক এজেন্টের গুলিতে নিহত মেক্সিকান নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে স্মরণ করে বৃষ্টিভেজা শনিবার শত শত মানুষ শোকসভা ও প্রার্থনায় অংশ নেন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানান।   গত মঙ্গলবার ৫২ বছর বয়সী সালগাদোর মৃত্যুর পর থেকে স্থানীয় কমিউনিটি নেতা, বাসিন্দা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একাধিক বিক্ষোভ ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। শনিবার হিউস্টনের সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়নের কার্যালয়ে আয়োজিত শোকসভায় উপস্থিত মানুষ মোমবাতি জ্বালিয়ে নীরব প্রার্থনা করেন এবং নিহতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।   শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নিহতের ছেলে লরেঞ্জো সালগাদো জুনিয়র বলেন, “আমার বাবা, আমি এবং আমার ভাইয়েরা আমেরিকান স্বপ্নেরই প্রতিচ্ছবি। কিন্তু আজ আমেরিকান হওয়াটা আমাদের জন্য খুব কঠিন একটি মুহূর্ত।”   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সালগাদো প্রায় ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তিনি একটি নির্মাণ ব্যবসার মালিক ছিলেন এবং ঘটনার দিন কর্মীদের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। সেই সময় আইসিই এজেন্টরা তার গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে।   আইসিইর দাবি, এজেন্টরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে সালগাদো পালানোর চেষ্টা করেন এবং নিজের গাড়িকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে উদ্যত হন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এ দাবির সঙ্গে মিলছে না। এ কারণে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও আইসিইর বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন টেক্সাসের কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য, যার মধ্যে সিলভিয়া গার্সিয়া, ক্রিশ্চিয়ান মেনেফি, আল গ্রিন, লিজি ফ্লেচার এবং জিন উ উল্লেখযোগ্য।   কংগ্রেসম্যান ক্রিশ্চিয়ান মেনেফি বলেন, চিহ্নবিহীন একটি গাড়ি তাড়া করলে অনেক হিউস্টনবাসীই সেটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি হিসেবে চিনতে পারতেন না। তিনি এ ঘটনার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন এবং বলেন, সালগাদোর পরিবারের পাশে থাকার লড়াই অব্যাহত থাকবে।   অন্যদিকে কংগ্রেসম্যান আল গ্রিন বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার পরিকল্পনাও করছেন।   নিহতের আরেক ছেলে রোনালদো সালগাদো জানান, তার বাবা ছিলেন শান্ত ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনকারী একজন মানুষ, যিনি নিজের নির্মাণ ব্যবসা নিয়ে গর্ব করতেন। গায়ের রঙ নিয়ে মাঝে মাঝে বৈষম্যমূলক মন্তব্যের শিকার হলেও তিনি সেসব উপেক্ষা করার চেষ্টা করতেন।   রোনালদো আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে জব্দ করা তার বাবার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র—যেমন মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, খাবারের বাক্স এবং ব্যবহৃত ভ্যান—পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। বিশেষ করে ভ্যানটি ফেরত পেলে তার চাচা ও বাবার সহকর্মীরা আবার নির্মাণকাজে ফিরতে পারবেন এবং হিউস্টনের বিভিন্ন এলাকায় চলমান আবাসন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।   তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাধীন তদন্তের দাবি অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, অনেক মানুষ তাকে বলেছেন তিনি বাবার জন্য ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বাবার কাছ থেকে আর কখনও সেই স্বীকৃতি শোনা সম্ভব হবে না—এটাই তাদের সবচেয়ে বড় বেদনার বিষয়।   সালগাদোর মৃত্যুর ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি, বলপ্রয়োগের সীমা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফেডারেল পর্যায়ে ঘটনাটির তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে এবং তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে, তা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, মানবাধিকারকর্মী ও আইনপ্রণেতারা।

তাবাস্সুম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দণ্ডিত ভেনেসা এসকুইভেল। ছবি: সংগৃহীত
শিশুকে গরম গাড়িতে রেখে কাজে যান মা, মৃত্যুর ঘটনায় ২৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে একটি পার্ক করা গাড়িতে রেখে কর্মস্থলে যাওয়ার ঘটনায় ভেনেসা এসকুইভেল (২৭) নামে এক নারীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় গাড়িতে একা ফেলে রাখার কারণেই তার মৃত্যু হয়।   ফ্রিসকো পুলিশ বিভাগ, আদালতের নথি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। সেদিন বাইরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এয়ার কন্ডিশনিং) বন্ধ থাকা অবস্থায় শিশুটিকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ির পেছনের আসনে একা রেখে যান এসকুইভেল। তদন্তে জানা যায়, তিনি সেদিন Hand & Stone Massage and Facial Spa-তে দুপুর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, শিশু দেখাশোনার কাউকে না পাওয়ায় তিনি ছেলেকে গাড়িতেই রেখে কাজে যান।   পরে শিশুটিকে Medical City Plano হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে দেখা যায়, মৃত্যুর সময় শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছিল, যা প্রাণঘাতী মাত্রা। মামলার তদন্তে প্রকাশিত একটি রেকর্ড করা ফোনালাপে এসকুইভেল এক সহকর্মীকে বলেন, শিশু দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, ঘটনাটি তার ভুল ছিল এবং এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছিলেন।   প্রসিকিউটর অ্যাশলি উডল আদালতে বলেন, “এত ছোট একটি শিশুকে কখনোই গাড়িতে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এবং টেক্সাসের মতো উষ্ণ অঞ্চলে। প্রতি বছরই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, আর আমরা চাই না এটি আবার ঘটুক। এই রায় সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।” ফ্রিসকো পুলিশ জানায়, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে শিশুটিকে গাড়িতে রেখে যাওয়ার মাধ্যমে তার জীবনকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছিল। সেই অবহেলার ফলেই শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় টেক্সাসের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।   টেক্সাসের আইন অনুসারে, হত্যা মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্যারোলের জন্য বিবেচিত হওয়ার আগে অন্তত অর্ধেক সাজা ভোগ করতে হয়। এদিকে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় সম্প্রতি ফ্লোরিডায় সমুদ্রসৈকতের একটি পার্কিং এলাকায় গরম গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়ার পর দুই বছর বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায়ও তদন্ত চলছে।   এই ঘটনাগুলোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিভাবক ও শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, পার্ক করা গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই গাড়ি থেকে নামার আগে পেছনের আসন অবশ্যই পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর ছেলে রোনালদো সালগাদো। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই এজেন্টের গুলিতে প্রবাসী মেক্সিকান নিহত, ভিডিওতে বাবার মৃত্যু দেখলেন সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী শ্রমিক লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। পরিবারের দাবি, তিনি প্রতিদিনের মতোই নির্মাণকাজে যাচ্ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে তার বড় ছেলে রোনালদো সালগাদো বুঝতে পারেন, নিহত ব্যক্তিই তার বাবা।   দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে রোনালদোর মা ফোন করে জানান, তার বাবা কাজে যাওয়ার পর থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং কিছু একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে বলে আশঙ্কা করছেন। এরপর রোনালদো দ্রুত হিউস্টনের উত্তরাঞ্চলে নির্মাণস্থলের দিকে রওনা হন, যেখানে তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি দেখতে পান, আইসের অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি তার বাবা।   পরিবারের সদস্যরা জানান, লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিন ছেলেকেই কলেজে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। রোনালদো বলেন, তার বাবা ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন, বাবার পিছু নেওয়া চিহ্নবিহীন (Unmarked) সরকারি গাড়িগুলো দেখে তিনি ভয় পেয়ে থাকতে পারেন। তার ধারণা, যারা তাকে অনুসরণ করছিল তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এটি হয়তো তার বাবা বুঝতে পারেননি।   পরিবারের দাবি, লোরেঞ্জোর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তিনি আশা করেছিলেন, একদিন হয়তো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পাবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ হবে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ধরন এবং আইসের অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে অভিযানে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   এদিকে আইসের পক্ষ থেকে ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুলির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।   লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, একজন পরিশ্রমী শ্রমিক, যিনি তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে পরিবারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
আইসিই অভিযানে গুলির ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা | ছবি: সংগৃহীত
৩৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরও ওয়ার্ক পারমিট মিলল না, শেষ পর্যন্ত আইসিই অভিযানে নিহত এই অভিবাসী

প্রায় ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের দাবি, বৈধভাবে কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার জন্যও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন নিষ্পত্তির আগেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এক অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ৩৯ বছর বয়সী এই মেক্সিকান অভিবাসী।   ঘটনাটি ঘটে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে। বার্তা সংস্থা এপি নিউজ জানায়, মঙ্গলবার সকালে একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিবাসন অভিযানের সময় সালগাদো আরাউহোকে আটক করতে যায় আইসিই। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, তিনি গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেন, আইসিইর একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং নিজের গাড়ি দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।   তবে নিহতের পরিবার সরকারি এই বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালগাদো আরাউহো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তাঁর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের কোনো অভিযোগ ছিল না। পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে অন্য শ্রমিকদের নিয়ে আসতে বের হয়েছিলেন।   পরিবার আরও জানিয়েছে, সালগাদো আরাউহো বৈধভাবে কাজের অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে তাঁর সেই আবেদন তখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই ঘটনাকে সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁর স্বজনরা।   এপি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়া গুলির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ হিস্পানিক নাগরিক অধিকার সংগঠন লিগ অব ইউনাইটেড লাতিন আমেরিকান সিটিজেনস (LULAC)। সংগঠনটির মতে, প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের ঘটনায় সব তথ্য ও প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।   এপি নিউজ আরও জানায়, ঘটনাটি সম্ভাব্য ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এফবিআই তদন্ত করছে। একই সঙ্গে ডিএইচএসও আইসিই কর্মকর্তার গুলি চালানোর বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার সময় প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নীতি, জবাবদিহি এবং অভিবাসীদের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০