সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ট্রাম্প

ট্রাম্পের ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চে’ থাকবে ড্রোন ও স্নাইপার
স্মৃতিস্তম্ভের বদলে সামরিক কমপ্লেক্স! ট্রাম্পের আর্চে থাকবে ড্রোন-স্নাইপার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্মাণের পরিকল্পনা করা ২৫০ ফুট উঁচু ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চ’কে সামরিক স্থাপনা হিসেবেও ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই স্থাপনায় ড্রোন, স্নাইপার ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রাখা হবে।   রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুরোধে তিনি আর্চটিকে একটি ‘উচ্চমানের সামরিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থাপনাটির ছাদ ও প্লাজা এলাকায় স্নাইপার মোতায়েন করা যাবে এবং দ্রুত ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক ড্রোন রাখা হবে। স্নাইপারদের জন্য বড় পরিমাণ গোলাবারুদ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।   আর্চটি ওয়াশিংটনের মেমোরিয়াল ব্রিজের পাশে, লিংকন মেমোরিয়াল ও আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছাকাছি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর উচ্চতা হবে প্রায় ২৫০ ফুট বা ৭৬ মিটার। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্প এর আগে আর্চটিকে ওয়াশিংটনের সৌন্দর্যবর্ধনের একটি প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এখন সেটির সঙ্গে সামরিক ব্যবহারের বিষয়টিও যুক্ত করার কথা জানালেন তিনি।   তবে প্রকল্পটি নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণকারী সংগঠন, ভেটেরানদের একটি অংশ এবং স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ এর বিরোধিতা করছেন। আর্চটি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আর্চটি রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ বলছেন, স্থাপনাটি ওয়াশিংটনের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর অভিযান
আইসিইর অভিযানের ভয়ে ২৯ স্কুলে ১,৭০০ শিক্ষার্থী কমেছে, জানালেন শিক্ষকরা

মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ-এর পর অভিবাসী পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে স্কুলগুলোতেও। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কমেছে।   গত শীতকালে মিনেসোটায় হাজার হাজার ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে অপারেশন মেট্রো সার্জ চালানো হয়। অভিযানের সময় আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি স্কুলের আশপাশেও দেখা যায়। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলে শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   সেপ্টেম্বরের নতুন প্রতিবেদনে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়, কেউ কেউ ক্লাসে মনোযোগ হারায় এবং কয়েকটি পরিবার সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। একজন শিক্ষক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে বলেছেন, ‘শিশুরা আক্ষরিক অর্থেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।’ এটি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, সরকারি পরিসংখ্যান নয়।   সাহান জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংরেজি শেখা শিক্ষার্থীর হার বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে মার্চ ২০২৬-এ আগের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কম ছিল। তুলনায়, একই প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী কমেছিল ৮০ জনেরও কম।   শিক্ষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, অনুপস্থিতি ও মানসিক চাপের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার ফলাফলেও দেখা যেতে পারে। আগামী স্টেট স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে শিক্ষকরা বলছেন, শুধু নম্বর দিয়ে ওই সময়ের শিক্ষাগত পরিস্থিতি বিচার করলে অভিযানের কারণে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসবে না।   মিনেসোটা সরকারের সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্কুল-নেতাদের জরিপের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাজ্যের ৮০ শতাংশ পাবলিক স্কুল নেতা বলেছেন, অপারেশন মেট্রো সার্জ শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। টুইন সিটিজ মেট্রো এলাকায় এই হার ছিল ৯৫ শতাংশ।   অভিবাসন অভিযানের প্রভাব শুধু স্কুলে উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আইসিইর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মিনেসোটা রিফর্মার ও এমপিআর নিউজের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপারেশন মেট্রো সার্জ চলাকালে আটক হওয়া ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ পরে বহিষ্কৃত হন বা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।   এদিকে অপারেশন মেট্রো সার্জ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও এর বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে মামলা চলছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযানকে বেআইনি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারক এখনো মামলাটি খারিজ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি।   অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ডিএইচএস বলেছে, এজেন্টদের উদ্দেশ্য স্কুলে শিশুদের গ্রেপ্তার করা নয়; বরং আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফলে অভিযানের প্রভাব নিয়ে শিক্ষক, পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি ফেডারেল সরকারের অবস্থানও বিবেচনায় রয়েছে।   সব মিলিয়ে, মিনেসোটার স্কুলগুলোতে অপারেশন মেট্রো সার্জের প্রভাব নিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, স্কুল পরিবর্তন, মানসিক চাপ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত—সবগুলো বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পুরো কারণ শুধু অভিবাসন অভিযান - এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক ওই পরিসংখ্যান একা প্রমাণ করে না।   Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প গড়ছেন ‘এআই ফোর্স’
ট্রাম্প গড়ছেন ‘এআই ফোর্স’, নিয়োগ দেবেন নতুন এআই ‘জার’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম মেয়াদে গঠিত স্পেস ফোর্সের আদলে কাজ করবে। একই সঙ্গে এআই কার্যক্রমের জন্য একজন নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেছেন।   শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নতুন এআই ফোর্সের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশের ওপর নজর রাখা হবে। তবে নতুন বাহিনীটি ঠিক কোন দপ্তরের অধীনে থাকবে, এর বাজেট কত হবে বা এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।   ট্রাম্প নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্স ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো ‘জার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন।   নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগকে ‘হোক্স’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু নেতা উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।    ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এআইকে বাধাগ্রস্ত না করে এর বিকাশে সহায়তা করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে চীন ও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রাখতে চান।   জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। জুনে হোয়াইট হাউস জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উন্নত এআই দ্রুত ব্যবহারের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   তবে নতুন ‘এআই ফোর্স’ ঘোষণার পরও এর বাস্তব কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। এটি স্পেস ফোর্সের মতো একটি স্বতন্ত্র সামরিক শাখা হবে, নাকি প্রশাসনের অধীনে একটি নতুন সমন্বয়কারী বা তদারকি কাঠামো হবে—এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো বিস্তারিত জানাননি। ফলে ঘোষণাটি আপাতত একটি নতুন ফেডারেল উদ্যোগের পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে।   এদিকে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ট্রাম্প বলেছেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা তার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ‘এআই ফোর্স’ ও এআই ‘জার’ নিয়োগের মাধ্যমে সেই নীতিকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের হাত থেকে কেনেডি সেন্টার বাঁচাতে মানববন্ধন, হাতে হাত রাখলেন শত শত মানুষ
ট্রাম্পের হাত থেকে কেনেডি সেন্টার বাঁচাতে মানববন্ধন, হাতে হাত রাখলেন শত শত মানুষ

ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ভবনটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে এর চারপাশে মানববন্ধন করেছেন শত শত মানুষ। ‘হ্যান্ডস অফ দ্য আর্টস’ আয়োজিত ‘হ্যান্ডস অ্যারাউন্ড দ্য কেনেডি সেন্টার’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ হাত ধরে ভবনটির চারপাশ ঘিরে দাঁড়ান। আয়োজকদের দাবি, ৪২টি অঙ্গরাজ্য ও বিদেশ থেকে ১ হাজারের বেশি মানুষ এতে অংশ নেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন।   সূর্যাস্তের সময় বিক্ষোভকারীরা ‘হ্যান্ডস অফ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ওয়াশিংটনের গে মেনস কোরাসও সেখানে গান পরিবেশন করে। ওয়ার্ল্ড প্রাইডের সময় কেনেডি সেন্টারে তাদের একটি পরিবেশনা বাতিল হওয়ার পর এটিই ছিল কেন্দ্রটির বাইরে তাদের প্রথম পরিবেশনা। মানববন্ধনটি কেন্দ্রের আশপাশ থেকে প্রায় ওয়াটারগেট হোটেল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।    কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধ। ট্রাম্পের নিয়োগ করা বোর্ড মঙ্গলবার কেন্দ্রটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার ভবনের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগে বাধা দেন এবং বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি মেমোরিয়ালের নাম পরিবর্তন করা যাবে না।    এরপর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ভবনটি মেরামত না হলে শেষ পর্যন্ত এটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে। বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় তাকে এমন একটি প্ল্যাকার্ড দেখতে দেখা যায়, যাতে ‘কেনেডি সেন্টার ডেমোলিশড’ লেখা ছিল। ছবিটি এএফপির আলোকচিত্রী ধারণ করেন; তবে প্ল্যাকার্ডটি কোনো আনুষ্ঠানিক ধ্বংস পরিকল্পনার প্রমাণ কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়নি।    বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিচারক কুপার নির্দেশ দেন, কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের কোনো শারীরিক পরিবর্তন—ধ্বংসের মতো কাজসহ—করার আগে অন্তত ৩০ দিনের নোটিশ দিতে হবে। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবনের কিছু অংশে কাঠামোগত ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও, নাম সংক্রান্ত আদালতের আদেশ এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে মামলা এখনো চলমান।    এদিকে কেন্দ্রটি কর্মীসংকটে পড়েছে। শুক্রবার আরও প্রায় এক ডজন কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও কেন্দ্রটির বন্ধ থাকার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে।    ফলে শুক্রবারের মানববন্ধন শুধু একটি ভবন বন্ধের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি; কেনেডি সেন্টারের ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার জায়গা এবং প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক-আইনি বিরোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ভবনটির বড় কোনো পরিবর্তনের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি সুবিধা নিলে গ্রিন কার্ডে পড়তে পারে প্রভাব
মেডিকেইড-ফুড স্ট্যাম্প নিলেই গ্রিন কার্ডে বাধা, ট্রাম্পের নতুন নিয়ম কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এখন ফুড স্ট্যাম্প, মেডিকেইড, শিক্ষা সহায়তা কিংবা বিনামূল্যে স্কুলের খাবারের মতো সরকারি সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় প্রভাব ফেলতে পারে।   শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় এসব সুবিধা ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরকারি ব্যয় কমতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন অথবা এসব সুবিধায় নতুন করে আবেদন করা এড়িয়ে যেতে পারেন। DHS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধা যেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা তৈরি না করে, সেটিই এই নীতির উদ্দেশ্য। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় এবং দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কসহ ২১টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও কয়েকটি শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবার, বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক—দুই ধরনের সদস্য রয়েছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। নতুন নীতিটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘পাবলিক চার্জ’ ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্করণ। আগে সাধারণত নগদ সরকারি সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি অর্থায়নে হাসপাতালে থাকার মতো বিষয়গুলো গ্রিন কার্ডের আবেদনে বেশি গুরুত্ব পেত। নতুন নিয়মে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো আরও কিছু সুবিধাও কর্মকর্তাদের বিবেচনার আওতায় এসেছে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসীকে নতুন নীতির বাইরে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ২০১৯ সালেও একই ধরনের একটি ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি চালু করেছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে সেটি আটকে যায়। ওই সময় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়া নিয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং সরকারি খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার হারও কমে গিয়েছিল বলে আরবান ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের চেক
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের চেক: মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন প্রতিশ্রুত অর্থ দেবেন তিনি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫ হাজার ডলারের “ডিভিডেন্ড” নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন কি না, সে বিষয়ে আস্থা রয়েছে মাত্র ২১ শতাংশের। ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পরিচালিত ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।    জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৪৬১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ৪৮ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবকে তারা সমর্থন করেন। ৪০ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। অর্থাৎ সরাসরি ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থন থাকলেও, ট্রাম্প সেই অর্থ বাস্তবে দেবেন কি না, সে প্রশ্নে চিত্রটি ভিন্ন।   ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২১ শতাংশ ভোটার মনে করেন ট্রাম্প সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে এই ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড দেবেন। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে তা করবেন না। জরিপটির মার্জিন অব এরর প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।    দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। জরিপে ৪৫ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্প এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন বলে তারা মনে করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪ শতাংশ।    ট্রাম্প গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মিডটার্ম কনভেনশনে ঘোষণা দেন, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের “ট্রাম্প ডিভিডেন্ড” দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। তবে প্রস্তাবটির অর্থায়ন, যোগ্যতার শর্ত এবং কীভাবে অর্থ বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে একই সময়ে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসস জরিপেও প্রস্তাবটি নিয়ে ভিন্ন ধরনের সংশয় দেখা গেছে। ১ হাজার ১৪৩ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ট্রাম্পের এই ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেছেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ৩ শতাংশ পয়েন্ট।    তবে ৫ হাজার ডলারের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবটি এখনো কোনো অনুমোদিত ফেডারেল বেনিফিট নয়। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও আইনি কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের এক শুনানিতে বলেন, ট্রেজারি বিভাগ এমন উপায় খতিয়ে দেখছে যাতে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় এবং একই সঙ্গে ফেডারেল ঘাটতিও না বাড়ে। প্রয়োজন হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার পথেও প্রশাসন এগোতে পারে বলে তিনি জানান।    প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয়ও বড় একটি প্রশ্ন। সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হলে মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে হিসাব করা হয়েছে। তবে কারা এই অর্থ পাবেন, কোনো আয়সীমা থাকবে কি না এবং অর্থের নির্দিষ্ট উৎস কী হবে, এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।    সাম্প্রতিক দুটি জরিপের ফলাফলে তাই দুটি আলাদা বিষয় সামনে এসেছে। একদিকে ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে পাওয়া যাবে কি না এবং প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির সুদের হার দ্রুত কমিয়ে ১ শতাংশ বা তারও নিচে নামানোর দাবি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, তাই দ্রুত সুদ কমানো উচিত।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরপরই। বুধবার ফেড শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদ বাড়িয়ে ফেডারেল ফান্ডস রেটের লক্ষ্যসীমা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ করেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ফেডের প্রথম সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।   ফেড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম শক্তিশালী থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি। মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে বুধবারের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে এবং দেশটির ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা শক্তিশালী। তাই তিনি দ্রুত সুদ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুদের হার দ্রুত কমান” - একই পোস্টে তিনি হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত বলে দাবি করেন।   ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি ট্রাম্পের নিজস্ব দাবি; এ হিসাবের বিস্তারিত ভিত্তি তিনি পোস্টে দেননি।   এদিকে ফেডের সেপ্টেম্বরের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার মধ্যম পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ফেডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ২ শতাংশ।   ফলে সুদের হার নিয়ে ট্রাম্পের দাবি এবং ফেডের বর্তমান নীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। ট্রাম্প দ্রুত সুদ কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, আর ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদ বাড়িয়েছে।   সোর্স: রয়টার্স, ফেডারেল রিজার্ভ

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা নিউইয়র্ক সিটির
অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি জানান, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর ও কাউন্টির একটি জোট ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছে।   ১০৮ পৃষ্ঠার মামলায় নতুন বিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত ইমিগ্রেশন নির্দেশনা বাতিলের পাশাপাশি সেগুলো কার্যকর করা থেকে ফেডারেল সরকারকে বিরত রাখার আবেদন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে মামলায় বাদী হয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি ও ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি। তাদের সঙ্গে রয়েছে পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট।   নতুন বিধিটি আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গ্রিন কার্ডের আবেদন পর্যালোচনার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সরকারি সহায়তা নেওয়ার ইতিহাস আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃতভাবে বিবেচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও মূল্যায়ন করা হতে পারে।   মামদানি অভিযোগ করেন, নতুন এই নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় সরকারি কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তাঁর মতে, চিকিৎসা নিতে বা আইনসম্মত সরকারি সহায়তা চাইতে গিয়ে অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু নির্দিষ্ট কিছু পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অনেক মানুষও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া থেকে পিছিয়ে যেতে পারেন।   মেয়র বলেন, অভিবাসী কমিউনিটিকে বোঝা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, অভিবাসীরাই নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। নতুন বিধিটিকে ‘নিষ্ঠুর ও বেআইনি’ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে শহর ও কাউন্টিগুলোর জোটকে নেতৃত্ব দিতে পেরে নিউইয়র্ক সিটি গর্বিত বলেও জানান তিনি।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণে কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই শব্দটি এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো, যারা জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে নগদ সরকারি সহায়তা বা সরকারি খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাদীপক্ষের অভিযোগ, নতুন বিধিতে সেই সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ান—কংগ্রেসের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নতুন বিধি তৈরি করা হয়েছে।   একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি মামলাও করা হয়েছে। এতে ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো নতুন বিধিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জেমস বলেন, সরকারি সহায়তা চাইলে ডি পোর্ট হওয়ার আশঙ্কায় পরিশ্রমী পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে দূরে রাখা উচিত নয়।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ বিভিন্ন অভিবাসী পরিবারের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ অনেক পরিবার মেডিকেইড ও স্ন্যাপের মতো সরকারি কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকে। কমিউনিটি নেতাদের আশঙ্কা, নতুন বিধি কার্যকর হলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের কেউ কেউ ভয়ের কারণে আইনসম্মত সুবিধা নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন।   তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে সরকারি সহায়তা নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা গ্রহণের ইতিহাসের পাশাপাশি তাঁর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।   এদিকে নিউইয়র্কবাসী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিনা মূল্যের, নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তা পেতে মেয়র অফিসের ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও নিজের ভাষায় আইনি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতীকী চিত্র
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি যেন ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আটক করার ঘটনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানুষ শনাক্ত ও নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদারের ফলে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে গ্রীষ্মজুড়ে ব্যাপক অভিযান চললেও সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের দেশত্যাগের সংখ্যা বাড়েনি। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনি ও বাস্তব নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগস্টে আইসিইর আটক কার্যক্রমে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়। টানা তৃতীয় মাসের মতো এ সংখ্যা ছিল রেকর্ড। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা মে মাসের দৈনিক গড়ের কাছাকাছি। অথচ মে মাসে আইসিইর আটক কার্যক্রম আগস্টের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার কম ছিল। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, আটক ও দেশত্যাগের সংখ্যার এই ব্যবধানের অন্যতম কারণ হলো আটক ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান ও সাবেক পাঁচজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা দণ্ড নেই এবং যাদের ক্ষেত্রে এখনো দেশত্যাগের চূড়ান্ত আদেশও দেওয়া হয়নি। আটক ব্যক্তিদের অনেকেরই আশ্রয়ের আবেদন বা অন্য কোনো আইনি দাবি বিচারাধীন রয়েছে। ফলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আইনি অধিকার ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে রাজি হলে দ্রুত দেশত্যাগ করতে পারেন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ফ্লাইটের অভাব এবং কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রাখায় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি কমছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই বিশ্লেষণ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র লরেন বিস এটিকে ‘ভুল বর্ণনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, আমেরিকান পণ্য ও ভ্রমণ বর্জনের পথে
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছেন আমেরিকা: বন্ধ হচ্ছে কেনাকাটা ও ভ্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী বক্তব্য ও নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটির কিছু নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন, কেউ আবার আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। লেক অন্টারিওর পশ্চিম প্রান্তের একটি শহরের বাসিন্দা ফ্রান্সিন পিশে তাঁদেরই একজন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন এবং অ্যামাজনের সাবস্ক্রিপশনও বাতিল করেছেন। পাশাপাশি আমেরিকান তৈরি শ্যাম্পুর পরিবর্তে অন্য পণ্য ব্যবহার শুরু করেছেন। বাজারে কেনাকাটার সময়ও পিশে এখন পণ্যের উৎপাদনস্থল পরীক্ষা করে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কোনো পণ্য যেন ভুল করে তাঁর কেনাকাটার তালিকায় না আসে, সেদিকেও তিনি সতর্ক থাকছেন। তবে বছরের পর বছর ধরে পছন্দের একটি পণ্য তিনি এতদিন বাদ দিতে পারেননি। সেটি ছিল বব’স রেড মিলের গ্লুটেনমুক্ত প্যানকেক মিক্স। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সেটিও বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন পিশে। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে পাঠানো এক ই-মেইলে তিনি জানান, ওই পণ্য আর তাঁর বাড়িতে ঢুকবে না। ভবিষ্যতে আবার পণ্যটি কিনতে চান বলেও জানান তিনি। তবে তার আগে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কানাডার সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন পিশে। দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসের একটি নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পিশের মতো কানাডার আরও অনেক নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। কানাডার বিভিন্ন এলাকায় কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমাচ্ছেন, আবার কেউ আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি এবং কানাডার প্রতি তাঁর আগ্রাসী বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর দাবি ট্রাম্পের, না কমালে বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর দাবি ট্রাম্পের, না কমালে বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কয়েকদিন আগে দেশটির সুদের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ফেডের নীতিনির্ধারকরা চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বাড়াবেন কিনা, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।   তবে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে ফেডের পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে জোরালো দাবি জানান তিনি।   গত শুক্রবার মার্কিন শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচকে দেখা যায়, চার মাসের মধ্যে দেশটির মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে, বুধবারের বৈঠকে ফেড তাদের সুদের হারের লক্ষ্যমাত্রা ৩.৫% থেকে ৩.৭৫%-এ উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারে।   ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফেড কর্মকর্তারা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি যত বেশি সময় ধরে চড়া থাকবে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা তত বেশি কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে।   এদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে সুদের হার বাড়ানো হলে সাধারণ ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে, যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।   টানা মূল্যস্ফীতির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তিনি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সুদের হারের কারণে মূলত অন্য দেশগুলো লাভবান হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি যেকোনো কারও চেয়ে ফর্মুলা বেশি ভালো বুঝি এবং বিশ্বের সেরা ক্রেডিটের অধিকারী হয়েও আমরা অন্য দেশগুলোকে ধনী করছি।”   নিজের মনোনীত ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন থাকলেও, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সুদের হার কমানো না হলে যেসব দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট নিশ্চিত করেছেন যে, ফেড সুদের হার নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শের কাজের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনিকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের
কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনিকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের গলফ ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বাজেটের রয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জিতলে এটি বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ, কারণ দেশে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আসছে, যার মাধ্যমে সবাইকে এই অর্থ সহজেই দেওয়া সম্ভব। গত সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির কনভেনশনে দেওয়া এক ভাষণেই তিনি প্রথম এই ৫ হাজার ডলার প্রদানের ধারণাটি প্রকাশ্যে আনেন।   তবে ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে খোদ রিপাবলিকান শিবিরেই কিছুটা সতর্কতা দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও লুইসিয়ানার রিপাবলিকান নেতা মাইক জনসন সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এ ধরনের যেকোনো অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।   নিউইয়র্কের রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক ললারও সরাসরি এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাননি। নাগরিকদের পকেটে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেও তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে থাকা ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণের বিষয়টি মাথায় রেখে এই বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে পুরোপুরি অবাস্তব ও রাজনৈতিক স্টান্ট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস এটিকে একটি 'গুরুত্বহীন প্রস্তাব' আখ্যা দিয়েছেন। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ম্যালরি ম্যাকমোরো অতীতে রিপাবলিকানদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই চেক পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন।   এছাড়া, উপভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা 'পাবলিক সিটিজেন'-এর সহ-সভাপতি লিসা গিলবার্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে 'ভোট কেনার মরিয়া চেষ্টা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য নগদ অর্থের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার এই চেষ্টা মার্কিন গণতন্ত্রের মূল নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা না থাকলে গলফে ‘চিট’ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গলফ খেলার সময় তার চারপাশে সিক্রেট সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্য থাকায় তিনি নিয়ম ভাঙার সুযোগ পান না। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে শনিবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমি চিট করতাম না তা নয়”, কিন্তু এত নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিতে বল সরিয়ে খেলা সম্ভব নয়।   ট্রাম্প জানান, একবার গলফ খেলার সময় তার সঙ্গে প্রায় ২৫০ জন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট পুরো মাঠে ছড়িয়ে ছিলেন। তখন কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি গলফে নিয়ম ভাঙেন কি না। ট্রাম্পের ভাষ্য, এত নিরাপত্তাকর্মী থাকায় বল সরানোর সুযোগই থাকে না। তার এই মন্তব্যে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়।   ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গলফের প্রতি তার আগ্রহের জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে গলফে নিয়ম ভাঙার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে রয়েছে। ক্রীড়া লেখক রিক রাইলি ২০১৯ সালে Commander in Cheat নামে একটি বইয়ে ট্রাম্পের গলফ খেলার আচরণ নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সেসব অভিযোগকে ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগেই ফোর্বস তার গলফ সফর ও সিক্রেট সার্ভিসের ব্যয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম প্রায় ৬০০ দিনের মধ্যে ট্রাম্প প্রায় ১৬৫ দিন নিজের গলফ সম্পত্তিতে কাটিয়েছেন এবং এসব সফরে মোট সময় ১ হাজার ৪০০ ঘণ্টার বেশি হয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য বলেছে, গলফ ক্লাবে ট্রাম্প শুধু খেলেন না; সেখানে বৈঠক, মধ্যাহ্নভোজ ও অন্যান্য সরকারি কাজও করেন।   ফোর্বস আরও দাবি করেছে, ট্রাম্পের ভার্জিনিয়ার গলফ ক্লাবে তিনি সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের জন্য হট ডগ অর্ডার করতেন এবং পরে সেই খাবারের বিল ক্লাব থেকে সিক্রেট সার্ভিসকে দেওয়া হতো। এই তথ্য একজন সাবেক ক্লাব কর্মীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধের দাবি ট্রাম্পের
ট্রাম্পকে হুতিদের অনুরোধ, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবেন না’

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   শনিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তারা চায় না, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালাক।   ট্রাম্প বলেন, “হুতিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, হুতিরা চায় না যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালাক। একই সঙ্গে অঞ্চলটির পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।   ট্রাম্প এ সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা বলার কথা জানান। তিনি সৌদি যুবরাজকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ দুবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   এদিকে, এই সপ্তাহেই হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালেই ছাড়তে হবে দেশ, এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালেই ছাড়তে হবে দেশ, এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি নতুন প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে, যেখানে চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খোঁজার জন্য দেওয়া ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অতিরিক্ত সময়সীমা বাতিলের কথা বলা হয়েছে।   এই নিয়ম চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানোর পর এইচ-১বি ভিসাধারীদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই প্রস্তাবনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।   ২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের কারণে চাকরিচ্যুত বিদেশি কর্মীরা নতুন স্পন্সর বা নিয়োগদাতা খোঁজার সুযোগ পেতেন। দেশ ছাড়ার আগে বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার মতো জরুরি কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্যও এই সময়টুকু তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এই নিয়ম বাতিল হলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে মার্কিন নাগরিকরাই কাজ করার সুযোগ পাবেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসন সীমিত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার মধ্যে দক্ষ কর্মীদের ভিসা ফি বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী মার্কিন মিশনগুলোতে অভিবাসী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িক স্থগিত করা অন্যতম।   তবে এই কড়াকড়ি কেবল এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্যই নয়; এর প্রভাব পড়বে অন্যান্য সাময়িক ওয়ার্ক ভিসার ওপরও। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, নির্বাহী, বিজ্ঞানী, ক্রীড়াবিদ ও শিল্পীদের জন্য নির্ধারিত ই-১, ই-২, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসাধারীরাও এই নতুন প্রস্তাবনার আওতাভুক্ত হবেন।   এছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মী এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ কর্মীদের ভিসার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আপাতত দুই মাসের জন্য প্রস্তাবনাটি জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যার পরেই এটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়
ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র আইসিই এজেন্ট মোতায়েন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টসহ ফেডারেল কর্মকর্তাদের মোতায়েন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর একটি জোট এবং ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ডেনভার শহর। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়। এতে ভোটকেন্দ্র বা ভোট সংগ্রহের স্থানগুলোর আশপাশে সশস্ত্র ফেডারেল কর্মকর্তাদের মোতায়েন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এ ধরনের যেকোনো পরিকল্পনাকে বেআইনি ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র কর্মকর্তাদের উপস্থিতির আশঙ্কা নির্বাচনের স্বাধীন পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এতে ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে যে ভোট দিতে গেলে তাদের সশস্ত্র ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হবে। মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ও আইসিই-কে বিবাদী করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন এবং আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড ভেনচুরেল্লাকেও বিবাদী করা হয়েছে। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের মাধ্যমে লীগ অব ইউনাইটেড লাতিন আমেরিকান সিটিজেনস (এলইউএলএসি), কমন কজ, ইউনিডসইউএস এবং ডেনভার শহর এই মামলা করেছে। বাদীপক্ষ ১৮৬৫ সালের একটি ফেডারেল আইনের বিধানের ওপরও জোর দিয়েছে। ওই আইনে সাধারণ বা বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে—এমন কোনো স্থানে ‘সশস্ত্র লোক’ বা সেনা মোতায়েন করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রয়োজন হলে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। এর আগে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা এমএজিএ শিবিরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ভোটকেন্দ্র ঘিরে আইসিই মোতায়েনের আহ্বান জানালেও ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। তবে ভোটকেন্দ্রে কোনো পরিস্থিতিতেই আইসিই থাকবে না—এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ভোটকেন্দ্রে টহল দেওয়ার জন্য আইসিই মোতায়েন করা হবে না। তবে কোনো ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হলে কিংবা আগে থেকেই নজরদারিতে থাকা কাউকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা কার্যকর করতে হলে সেখানে আইসিই এজেন্ট যেতে পারে বলে জানান তিনি। মুলিন বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরোয়ানা কার্যকর করতে হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আইসিই কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। আইসিইর ডিপোর্টেশন শাখার প্রধান কাজ যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের খুঁজে বের করা, গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কার করা। অন্যদিকে এর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআই শাখা সাধারণত আন্তর্জাতিক যোগসূত্র থাকা অপরাধ দমনে কাজ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই শাখাকেও অভিবাসন enforcement এবং কথিত ভোটার জালিয়াতির তদন্তে কাজে লাগানো হচ্ছে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীও ভোটকেন্দ্রে সেনা বা ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে সেনা বা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা সামরিক বাহিনীর নেই।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
৫০০ ডলারের রিবেট চেক দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের, অক্টোবর থেকে পেতে পারেন যোগ্য আমেরিকানরা
১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে দিচ্ছেন ট্রাম্প! যারা পাবেন এই টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের দাবি, ‘অতিরিক্ত ফি’ নেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে এই অর্থ পাঠানোর কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্প এই ‘রিবেট চেক’ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ পরিশ্রমী আমেরিকানকে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (এসিএ) আওতায় ভুলভাবে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছিল। এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ৩০টি অঙ্গরাজ্যের এমন বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, যারা স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে কোনো সরকারি ভর্তুকি পাননি এবং ফেডারেল ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসে সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ করেছেন। যেসব অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, সেগুলো হলো—আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। ট্রাম্প দাবি করেন, এসব মানুষকে অতিরিক্ত ফি হিসেবে অন্তত ৫০ কোটি ডলার দিতে হয়েছিল। তার ভাষ্য, আগের প্রশাসন বিষয়টি জানত এবং এ নিয়ে পর্যালোচনাও করেছিল, কিন্তু অর্থ ফেরত দেয়নি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেক ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের নীতির কারণে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে যাওয়ার পুরোটা বা বড় একটি অংশ পূরণ করবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে একমত নন এমআইটির অর্থনীতির অধ্যাপক ও ওবামাকেয়ারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত জনাথন গ্রুবার। তিনি এই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক খরচ থাকা স্বাভাবিক এবং ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের ফিগুলো তুলনামূলকভাবে যৌক্তিক ছিল। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রোটেক্ট আওয়ার কেয়ার এই ৫০০ ডলারের অর্থকে ‘লোক দেখানো উদ্যোগ’ বলে সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার বাড়তি খরচের তুলনায় ৫০০ ডলার খুবই কম। সংগঠনটি আরও বলেছে, আরবান ইনস্টিটিউটের হিসাবে একজন আমেরিকানের স্বাস্থ্যবিমার গড় মাসিক খরচ প্রায় ৬১১ ডলার। ফলে ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেকের এক মাসের স্বাস্থ্যবিমার খরচও পুরোপুরি মেটাতে পারবে না। ট্রাম্পের ৫০০ ডলারের এই ঘোষণা এসেছে এর ঠিক একদিন পর, যখন তিনি রিপাবলিকানরা নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। এই ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব নিয়েও ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সঙ্গে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির আইনগত বৈধতা, এত বড় অর্থ ব্যয়ের জন্য ট্রাম্পের ক্ষমতা এবং এই অর্থের উৎস নিয়ে আইনপ্রণেতা ও অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন। কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক গোল্ডওয়েইন হিসাব করে বলেছেন, ৫ হাজার ডলারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এত বিপুল অর্থ অর্থনীতিতে ঢোকানো হলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সরকারের ঋণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের সঙ্গে সমর্থকদের শপথ, সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতারণা করে হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার শপথ নিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতারণা করে হলেও জেতার শপথ নিয়েছেন। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে (আরএনসি) হাজারো সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে হাত তুলে শপথ করানোর সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে জয় পেতে প্রয়োজনে ‘ভীষণভাবে প্রতারণা’ করতে হবে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বৃহস্পতিবার ডালাসে অনুষ্ঠিত আরএনসির সম্মেলনে ট্রাম্প উপস্থিত সমর্থকদের ডান হাত তুলতে বলেন। এরপর তিনি নিজের ভাষায় একটি শপথ পাঠ করান। সেখানে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত না থাকলেও ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যেভাবে প্রতারণা করে, রিপাবলিকানদেরও সেভাবেই ‘ভীষণভাবে প্রতারণা’ করতে হবে। তবে পুরো বিষয়টি তিনি হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন। শপথের শুরুতে ট্রাম্প নিজেকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সেরা প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর সমর্থকদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “৩ নভেম্বর আমরা ভোট দিতে যাব, অথবা তার আগেই ভোট দেব।” একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, কেউ চাইলে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিতে পারে। এ সময় উপস্থিত সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যাপক দুয়োধ্বনি আসে। পরে তিনি ‘সো হেল্প মি গড’ বলে শপথ শেষ করেন। ভোট না দিলে ‘নরকে যেতে হবে’—এমন মন্তব্যও করেন ট্রাম্প। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি ভোট দিতে ভুল না করার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের প্রতারণা করে হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার মন্তব্য এবং সমর্থকদের তাকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থনের শপথ করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে ভিডিওটি লাখের বেশি ভিউ পায়। এ নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ট্রাম্পের বক্তব্যের ধরন নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাট ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ করে আসছেন। বিশেষ করে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তিনি এখনও করে থাকেন। তবে বিভিন্ন পুনর্গণনা, অডিট ও আদালতের সিদ্ধান্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা ওই নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতে পারে। ডালাসের আমেরিকান এয়ারলাইনস সেন্টারে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী আরএনসির এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রিক জাতীয় সম্মেলন। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলের সমর্থকদের চাঙা করাই ছিল সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সম্মেলনে ট্রাম্পের পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। ভ্যান্সের বক্তব্যের সময় সমর্থকদের ‘জেডি ৪৮’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়, যা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ককেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রসহ দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা এতে বক্তব্য দেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প
হরমুজকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ ডাকবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে এই জলপথকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   গতকাল বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতেই ডালাসে গিয়েছিলেন তিনি। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম কমবে। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় পেতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হরমুজের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে জয়ী হলে তাঁরও কিছু ‘প্রাপ্তি’ থাকা উচিত। আর সেই প্রাপ্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেন, “ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আজ আমি এখানে ঘোষণা করছি—এখন থেকে আমরা এই জলপথকে ট্রাম্প প্রণালি নামে ডাকব।” তাঁর দাবি, এ নাম ইরানের নেতাদের মধ্যে শিহরণ তৈরি করবে। ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটি ‘ভেঙে পড়ছে’। গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘গুন্ডামি’ করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই সময় শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই মানচিত্রেও প্রণালিটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করলে দেশটির বন্দরে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপরও বাধা তৈরি হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতির’ পর গত ৩০ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকার গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের মানচিত্রে আইসল্যান্ডকে দেখানো হলো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে
আইসল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ দেখিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট, তলব মার্কিন রাষ্ট্রদূত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন, যেখানে আইসল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলকে মার্কিন পতাকার আওতায় দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইসল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভির (আরিউভি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করে আইসল্যান্ড। তিনি মাত্র গত মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে আইসল্যান্ডে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছেন। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা মানচিত্রটির সঙ্গে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলকে মার্কিন পতাকার নিচে দেখানো হয়েছে। পুরো ভূখণ্ডের ওপর লেখা ছিল ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’। আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরইউভিকে জানিয়েছে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্পের এই পোস্ট ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। কোপেনহেগেন ও রেইকিয়াভিকে থাকা মার্কিন দূতাবাস এবং নুকের মার্কিন কনস্যুলেট থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার বলেছেন। এতে ন্যাটোর সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং ইউরোপজুড়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে গত মাসে আইসল্যান্ডের একটি গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও ওই ভোটের পটভূমিতে আলোচনায় ছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই ভোটের ফলাফলে বেশি প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্পের এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউরোপীয় কমিশন গ্রিনল্যান্ডে ২০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইনের গ্রিনল্যান্ড সফরের সময় এ ঘোষণা আসে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে সাংবাদিকদের বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও জনগণ বারবার স্পষ্ট করেছে যে তারা আমেরিকান হতে চান না। যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের কারও এ বিষয়ে সন্দেহ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন
‘ক্ষমতা ছাড়লে কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বানাবে না’, তাই সবকিছুতেই নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পর তার জন্য কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বা স্থাপনা নির্মাণ করবে না - এমন কারণেই নিজের নামে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রকল্প করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ‘নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন তিনি।   সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক বেন টেরিস ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের একটি মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। অসফের বক্তব্য ছিল, ট্রাম্প নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন, কারণ তিনি মনে করেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর আর কেউ তাকে সম্মান জানিয়ে এমন স্থাপনা তৈরি করবে না।   জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটা সত্যি। আমি চলে যাওয়ার পর কেউ এটা করবে না। আমি যখন এখান থেকে চলে যাব, তখন কেউ করবে না।”    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ওয়াশিংটন ডিসিতে একাধিক বড় নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় বিশাল বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগ, লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে একটি প্রায় ২৫০ ফুট উচ্চতার বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা।    হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে সেখানে নতুন বলরুম নির্মাণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক ও আইনি লড়াই হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন স্থাপনাটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পে একটি ভূগর্ভস্থ নিরাপত্তা স্থাপনা ও ছাদে ড্রোন পরিচালনার সুবিধার কথাও বলা হয়েছে।   এদিকে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনকে সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরুর আগে অন্তত ৪৮ ঘণ্টার নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তোরণটির চূড়ান্ত অনুমোদনও এখনো পাওয়া যায়নি।   নিজের নাম ব্যবহারের প্রবণতা শুধু স্থাপনা নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের নামেও তার নাম যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’, ‘ট্রাম্পআরএক্স’ এবং ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’। সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় তার ছবি ও নাম ব্যবহারের ঘটনাও নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের দীর্ঘমেয়াদি ছাপ রেখে যাওয়ার নানা প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার সমর্থকেরা এসবকে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখলেও সমালোচকেরা এগুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০