নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম শুরু হওয়ার আগেই নিম্নআয়ের বাসিন্দাদের স্বস্তি দিতে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে এয়ার কন্ডিশনার (A/C) ও ফ্যান বিতরণ কর্মসূচি। অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের 'হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম' বা হিপ (HEAP)-এর আওতায় 'কুলিং অ্যাসিস্ট্যান্স বেনিফিট' কর্মসূচির জন্য গত ১৫ এপ্রিল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। মূলত বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, নিম্নআয়ের পরিবার এবং যাদের অতিরিক্ত গরমে গুরুতর শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে একটি করে কুলিং ইউনিট প্রদান করা হবে, যার ক্রয় এবং ইনস্টলেশন খরচ সম্পূর্ণভাবে বহন করবে সরকার। এই কর্মসূচির অধীনে গ্রাহকরা উইন্ডো বা পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার এবং ফ্যানের জন্য সর্বোচ্চ ৮০০ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তবে যাদের ঘরের গঠনের কারণে ওয়াল স্লিভ ইউনিটের প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে সহায়তার পরিমাণ ১ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই সহায়তার মধ্যে কেবল নতুন ইউনিট ক্রয় নয়, বরং পুরোনো ইউনিট অপসারণ এবং এসি বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ছোটখাটো মেরামতের খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যেসব ভবনে কাঠামোগত কারণে এসি বসানো সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে উন্নতমানের ফ্যান সরবরাহ করা হবে। উল্লেখ্য যে, এই সুবিধাটি 'আগে এলে আগে পাবেন' ভিত্তিতে প্রদান করা হচ্ছে, তাই নির্ধারিত বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলেই আবেদন গ্রহণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবেদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা অতি সহজেই 'অ্যাকসেস এনওয়াইসি' (ACCESS NYC) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। অন্যদিকে, সিটির বাইরের বাসিন্দাদের তাদের স্থানীয় হিপ (HEAP) অফিসে ফোন, ডাকযোগে কিংবা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য পরিচয়পত্র, বাসস্থানের প্রমাণপত্র, আয়ের তথ্য এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর জমা দিতে হবে। এ ছাড়া বিশেষ শারীরিক অসুস্থতা বা স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ হিসেবে ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসকের সনদের প্রয়োজন হতে পারে। মূলত যেসব পরিবার নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে অবস্থান করছে অথবা যারা নিয়মিতভাবে ফুড স্ট্যাম্প (SNAP), টেম্পোরারি অ্যাসিস্ট্যান্স কিংবা বিশেষ এসএসআই (SSI) সুবিধা পাচ্ছেন, তারাই এই কর্মসূচির জন্য মূলত যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। নিউইয়র্কে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন দাবদাহের কারণে হিটস্ট্রোক এবং নানাবিধ স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দেয়। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং নাগরিকদের সুস্থতা নিশ্চিতে প্রশাসন সকল যোগ্য বাসিন্দাদের দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকে নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার পর এনওয়াইপিডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা এই পদক্ষেপকে “রাজনৈতিক পক্ষপাত” বলে দাবি করলেও, সিটি প্রশাসন বলছে এটি পুলিশ বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তা হলেন এনওয়াইপিডির ক্যাপ্টেন জেমস উইলসন।তিনি ব্রুকলিনের ৯৪তম প্রিসিঙ্কটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে তাকে মেয়র মামদানিকে “an embarrassment” বা “লজ্জাজনক” বলতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে তিনি নিউইয়র্কের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর এনওয়াইপিডি প্রশাসন তাকে ব্রঙ্কসে অবস্থিত ৯১১ কল সেন্টারে বদলি করে। এনওয়াইপিডির নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে পারেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর রিপাবলিকান রাজনীতিক ও রক্ষণশীল নেতারা ক্যাপ্টেন উইলসনের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করায় তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান অরিওলা বলেন, “যদি একই ধরনের মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে করা হতো, তাহলে হয়তো তাকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরা হতো। কিন্তু মেয়র মামদানির সমালোচনা করায় এখন তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” রিপাবলিকান নেতাদের অভিযোগ, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করছে। তারা এটিকে “দুই ধরনের নিয়ম” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন—একটি কট্টর বামপন্থীদের জন্য, আরেকটি অন্যদের জন্য। অন্যদিকে মেয়র মামদানি দাবি করেছেন, ক্যাপ্টেন উইলসনের বদলির সিদ্ধান্তে তার কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ এনওয়াইপিডির প্রশাসনিক বিষয়।” তবে বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গাড়ির বীমা ব্যয় কমাতে নতুন বাজেট চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকল। আলবানিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজ্য বাজেট চুক্তি উপস্থাপন করে তিনি এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজ্যের পুরোনো বীমা আইন আধুনিকায়ন করা হবে এবং বীমা জালিয়াতি ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এর ফলে নিউইয়র্কের লাখো বাসিন্দা সরাসরি আর্থিক স্বস্তি পাবেন। বর্তমানে নিউইয়র্কে গাড়ির বীমা খরচ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। গড়ে একজন চালককে বছরে ৪ হাজার ডলারের বেশি বীমা প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া দুর্ঘটনা, মামলা-মোকদ্দমা এবং বীমা জালিয়াতির কারণে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভর্নর হোকল বলেন, “নিউইয়র্কবাসী দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ব্যবস্থার কারণে অস্বাভাবিক উচ্চ বীমা খরচ বহন করছেন। নতুন সংস্কারের মাধ্যমে প্রতারণা কমানো এবং সাধারণ মানুষের ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হবে।” নতুন বাজেট চুক্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত চালকদের ক্ষতিপূরণের সীমা নির্ধারণ। বীমাবিহীন চালক, মদ্যপ অবস্থায় চালক এবং অপরাধ সংঘটনের সময় গাড়ি চালানো ব্যক্তিরাও এর আওতায় থাকবে। এছাড়া “গুরুতর আঘাত” শব্দটির স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে, যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাই বড় ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত দায়ী চালকদের অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগও সীমিত করা হবে। বীমা কোম্পানিগুলো যাতে অযৌক্তিকভাবে প্রিমিয়াম বৃদ্ধি করতে না পারে, সে জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের অনুমোদন ছাড়া প্রিমিয়াম বাড়ানো যাবে না। বাড়ির মালিকানা, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা জিপ কোডের ভিত্তিতে বীমা প্রিমিয়াম নির্ধারণও নিষিদ্ধ করা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ডিএমভি, ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেস এবং নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ একসঙ্গে কাজ করবে। সিটিজেন্স ফর অ্যাফোর্ডেবল রেটস-এর মুখপাত্র হোসে বায়োনা বলেন, “এটি ব্যয় সংকটে থাকা নিউইয়র্কবাসীর জন্য বড় বিজয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বীমা খরচ বহন করছিলেন।”
নিউইয়র্কে আবারও ভাড়া স্থগিতের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শত শত ভাড়াটিয়া। বৃহস্পতিবার, ৭ মে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের (আরজিবি) প্রাথমিক ভোটের আগে দুই মিলিয়নের বেশি রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ভাড়াটিয়ার জন্য ভাড়া স্থগিতের দাবিতে শহরজুড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা এক ও দুই বছরের উভয় লিজের ক্ষেত্রেই ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, এই দাবি বাস্তবায়িত হলে তা হবে আরজিবির ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মূল্যস্ফীতি, সরকারি সহায়তা কমে যাওয়া এবং অভিবাসন অভিযানসহ বিভিন্ন সংকটে সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধি জীবনযাত্রার সংকট আরও তীব্র করবে। দিনভর বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং জনচাপের মুখে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড এক বছরের লিজের জন্য শূন্য থেকে ২ শতাংশ এবং দুই বছরের লিজের জন্য শূন্য থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির প্রাথমিক সীমা নির্ধারণ করেছে। বোর্ডের ইতিহাসে এবারই প্রথম দুই বছরের লিজেও ভাড়া স্থগিতের সম্ভাবনা বিবেচনায় আনা হয়েছে। ভাড়াটিয়া প্রতিনিধিরা আরও এগিয়ে গিয়ে এক বছরের লিজে মাইনাস ৩ থেকে শূন্য শতাংশ এবং দুই বছরের লিজে মাইনাস ৪ দশমিক ৫ থেকে শূন্য শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন। আন্দোলনকারীরা জানান, তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে ভাড়া স্থগিতের দাবিতে সংগঠিত হচ্ছেন। প্রাথমিক ভোটের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, ভবনের অব্যবস্থাপনা এবং বাড়িওয়ালাদের অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির দাবির সমালোচনা করেন। অনেক ভাড়াটিয়া অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ভাড়া বাড়লেও ভবনের মেরামত কিংবা জীবনযাত্রার মানের কোনো উন্নতি হয়নি। ব্রুকলিনের বাসিন্দা ও মেট কাউন্সিল অন হাউজিং সদস্য ড্যারিল র্যান্ডাল বলেন, “আমি নির্দিষ্ট আয়ের ওপর বেঁচে আছি। প্রতিবার ভাড়া বাড়লে খাবার আর ভাড়ার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” চায়নাটাউনের সিএএএভি যুবনেতা শেলবি চেন বলেন, “অভিবাসী শ্রমজীবী মানুষের সবচেয়ে বড় মাসিক ব্যয় হলো ভাড়া। অথচ গত তিন বছরে বাড়িওয়ালাদের আয় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।” নিউইয়র্কের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের সদস্যরা বিক্ষোভ চলাকালে সমাবেশস্থলের নিরাপত্তায় রাস্তায় যান চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ রাখেন। এনওয়াইএস টেন্যান্ট ব্লকের পরিচালক সুমাথি কুমার বলেন, “ভাড়াটিয়ারা যখন সংগঠিত হন এবং রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করেন, তখন পরিবর্তন সম্ভব হয়। এক ও দুই বছরের উভয় লিজে ভাড়া স্থগিত এখন সাধারণ মানুষের দাবি।” কাসা সংগঠনের নেতা ও রেন্ট ফ্রিজ ক্যাম্পেইনের সহ-চেয়ার জোয়ান গ্রেল বলেন, “গত বছরের ঐতিহাসিক উপস্থিতি দেখিয়েছিল, শ্রমজীবী মানুষ এক হলে কী সম্ভব। এবার আমরা আরও শক্তভাবে ফিরেছি।” প্রফেশনাল স্টাফ কংগ্রেসের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট জেন গ্যাবুরি বলেন, “সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের এখন ভাড়া স্থগিত প্রয়োজন।” নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ভৈরবী দেশাই বলেন, “গ্যাস, মুদি পণ্য এবং বীমার বাড়তি খরচে শ্রমজীবী মানুষ চাপে আছে। এখন ভাড়া বাড়লে হাজার হাজার পরিবার দারিদ্র্য ও ঋণের গভীরে চলে যাবে।” চূড়ান্ত ভোটের আগে ভাড়াটিয়া নেতারা আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, আরজিবিকে এক ও দুই বছরের উভয় লিজের ক্ষেত্রেই পূর্ণ ভাড়া স্থগিত ঘোষণা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভুয়া পরিচয়ে হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী এক নারী নিজেকে ১৬ বছরের কিশোরী পরিচয় দিয়ে ব্রঙ্কসের একটি হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের সন্দেহের পর তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তের নাম কেসি ক্লাসেন। তিনি “শামারা রাশাদ” নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে গত মাসে ব্রঙ্কসের ওয়েস্টচেস্টার স্কোয়ার একাডেমিতে ভর্তি হন। জমা দেওয়া নথিপত্রে তিনি দাবি করেন, তার জন্ম ২০১০ সালে এবং তিনি ওহাইও থেকে বোনের সঙ্গে নিউইয়র্কে এসেছেন। পুলিশের তথ্যমতে, ক্লাসেন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেন। ভুয়া পরিচয় ও বয়সের ভিত্তিতে তাকে একটি স্কুল পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়। তবে স্কুলের প্রিন্সিপালের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রোফাইল থেকে নেওয়া স্ক্রিনশটের মাধ্যমে প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ক্লাসেন প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, ক্লাসেন দাবি করেছেন, এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি এ কাজ করেছেন, যাতে বেশি সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গত ২৭ এপ্রিল স্কুল ক্যাম্পাস থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করা, অনধিকার প্রবেশ এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আগামী ১৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, “এনরোলমেন্ট জালিয়াতি একটি গুরুতর অপরাধ, যা নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়েস্টচেস্টার স্কোয়ার একাডেমি একটি শিক্ষা ক্যাম্পাসের অংশ, যেখানে মোট ছয়টি স্কুল রয়েছে। একই ক্যাম্পাসের লেহম্যান হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, অভিযুক্তের পরিচয় নিয়ে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তদন্তে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ফোবানার ৪০তম সম্মেলন। প্রথমবারের মতো এই আয়োজন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন চলবে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলনকে সামনে রেখে শুক্রবার (১ মে) নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে এআর ব্যাংকুয়েট হলে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এনআরবি অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় পূর্ণাঙ্গ হোস্ট কমিটি গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক, মানবাধিকার ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। পাশাপাশি কবি, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও কলাকুশলীরাও উপস্থিত ছিলেন। ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান, হোস্ট কমিটির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বাবু এবং সদস্য সচিব মনজুর কাদের সম্মেলন সফল করতে প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় ফোবানার প্রধান পৃষ্ঠপোষক শফিকুল আলমসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এবারের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান তুলে ধরতে নানা আয়োজন থাকবে। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং মিলনমেলার আয়োজন রাখা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আগামী ১৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডে প্যারেড। এবারের আয়োজনেও শতাধিক সংগঠন অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এই প্যারেডের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে শনিবার (২ মে) জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্ট পার্টি হলে ফুল এক্সিকিউটিভ ইনট্রোডিসিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন এবং দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে প্যারেডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডে প্যারেড কমিটির গ্র্যান্ড মার্শাল এম আজিজ, চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, কনভেনর গিয়াস আহমেদ, মেম্বার সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মান, চিফ ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর লায়ন ফেডি রকি এবং কো-চেয়ার ক্যাপ্টেন প্রিন্স আলমসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা জানান, এই প্যারেডের মাধ্যমে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজন সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্যারেডে প্রবাসী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন অঙ্গনের বাঙালি তারকারাও অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে অভিনেত্রী তানজিন তিশা এবং অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত বাঙালিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া সংকটকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড- এর সাম্প্রতিক শুনানি। এতে অংশ নিয়ে ভাড়াটিয়া অধিকারকর্মীরা শহরের সব ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত লিজের ওপর অবিলম্বে ভাড়া স্থগিত কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ লাখ ভাড়াটিয়া সরাসরি উপকৃত হবেন। শুনানিতে বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার, চায়নাটাউন টেন্যান্ট ইউনিয়নের সংগঠক জুলি জু এবং হাউজিং কনজারভেশন কোঅর্ডিনেটরস-এর কমিউনিটি সংগঠক এলিসা মার্টিনেজ। তারা বলেন, বর্তমান সংকট শুধু ভাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিবাসন অভিযানের চাপ, যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন। ভাড়াটিয়া নেতাদের দাবি, এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় ভাড়া স্থগিতই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে এ দাবির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। গত বসন্তে প্রায় ২০ হাজার ভাড়াটিয়া এতে স্বাক্ষর করেছেন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে এক মিলিয়নের বেশি ভোটার ভাড়া স্থগিতের প্রতিশ্রুতিদাতা প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৮ শতাংশ নিউইয়র্কবাসী এ দাবির পক্ষে। তাদের যুক্তি, বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তও এই দাবিকে সমর্থন করে। রেন্ট বোর্ডের নিজস্ব প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর বাড়িওয়ালাদের মুনাফা ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত তিন বছরে তাদের নিট পরিচালন আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ, অথচ ভাড়াটিয়াদের আয় তেমন বাড়েনি। একটি জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি ভাড়াটিয়া দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং দুই-তৃতীয়াংশের কোনো জরুরি সঞ্চয় নেই। শুনানিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ভাড়া বৃদ্ধি বাড়িওয়ালাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে উৎসাহিত করছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় না করে ঋণ পরিশোধ বা নতুন সম্পত্তি কেনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি শহরের মেরামত সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক বাড়িওয়ালা তাতে আবেদন করেননি যা তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বর্তমানে নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের আর্থিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের প্রায় ৫১.৬ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়ায় ব্যয় করছেন এবং প্রায় ২৮.৮ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি ভাড়ার পেছনে খরচ করছেন। বিশেষ করে ব্রঙ্কস এলাকায় কম আয়ের বিপরীতে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া ২০২৫ সালে শহরে উচ্ছেদের হার প্রায় ৯.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ভাড়াটিয়াদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন খরচ এখন মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ এবং অধিকাংশ পরিবারের মাসিক ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ। এই প্রেক্ষাপটে ভাড়াটিয়া নেতারা মনে করছেন, ভাড়া স্থগিত কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নও। তাদের দাবি, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের উচিত বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে নিউইয়র্কের লাখো ভাড়াটিয়া কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি-এ সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টারে একসঙ্গে উদযাপিত হয়েছে ঈদুল ফিতর, হোলি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। গত ১৫ এপ্রিল (শুক্রবার) আয়োজিত এই বহুসাংস্কৃতিক মিলনমেলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের অনন্য পরিবেশ। আয়োজনে অংশ নেন সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের পেস কর্মসূচির সদস্যরা। তারা বলেন, ঈদুল ফিতর রমজানের পর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, হোলি বসন্ত ও নতুন জীবনের প্রতীক এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস গৌরবময় ইতিহাসের স্মারক। তিনটি ভিন্ন উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবারের আয়োজন, প্রার্থনা এবং শেষে বাইরে রঙ খেলার মধ্য দিয়ে হোলির উচ্ছ্বাস। অংশগ্রহণকারী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “অনুষ্ঠানটি খুবই সুন্দর হয়েছে, সবাই দারুণ উপভোগ করেছে।” সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারা বুয়োনোকোরে-রুট বলেন, ভিন্ন সংস্কৃতির উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সবাই নিজেকে মূল্যবান মনে করতে পারে। সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশীয় বয়স্কদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণে কাজ করে আসছে। এই আয়োজন প্রবাসে বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার একটি শিশুশিক্ষা কর্মসূচিতে তাঁদের এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর সিএনএনের। মেয়রের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির একটি প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন মামদানি। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন ওবামাও। এর আগে গত নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ফোনে কথা হয়েছিল দুই নেতার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেই আলোচনায় ওবামা মামদানিকে সতর্ক করে বলেন—একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে তিনি কীভাবে দেশের বৃহত্তম শহর পরিচালনা করেন, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে অনেকেই। একই সঙ্গে প্রশাসনে দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ওই কথোপকথনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রশাসন পরিচালনার বাস্তবতার পার্থক্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পান মামদানি। এদিকে, মেয়র হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দুবার সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন মামদানি। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত ‘পাইড-আ-তের’ কর নীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, এই নীতির মাধ্যমে নিউইয়র্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই কর নীতির আওতায় শহরে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ট্রাম্পের সমালোচনার বিষয়ে মামদানি বলেন, তিনি এ ধরনের অবস্থানে বিস্মিত নন এবং নীতিগত পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনি প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার মাহমুদ খালিলের সর্বশেষ আপিলও খারিজ করেছে বোর্ড অফ ইমিগ্রেশন অ্যাপিলস এর ফলে নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এই শিক্ষার্থী এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের বাস্তব ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। খালিলের আইনজীবীদের বরাতে জানা যায়, অভিবাসন আপিল বোর্ড বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ফাইনাল অর্ডার অফ রিমুভাল জারি করেছে। সাধারণত এই বোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি। ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব এই শিক্ষার্থী রায়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত “পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। এক বিবৃতিতে খালিল অভিযোগ করেন, আমি যে একমাত্র কাজ করেছি তা হলো ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা। আমাকে শাস্তি দিতে এই প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করছে। তবে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায় সত্ত্বেও খালিলকে এখনই আটক বা বহিষ্কার করা সম্ভব নয়। কারণ, তিনি একই সঙ্গে ফেডারেল আদালতে একটি পৃথক মামলা লড়ছেন, যা এখনো বিচারাধীন। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহিষ্কার প্রক্রিয়া স্থগিত থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধুমাত্র একটি অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয় নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম অভিবাসন আইন প্রয়োগ—এই জটিল প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ইস্যুতে সোচ্চার বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আদালতগুলোতে কঠোরতা বৃদ্ধি, আপিল খারিজের হার বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীল মামলাগুলোতে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। মাহমুদ খালিলের মামলাটি সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে জোহরান মামদানির কর্মকাণ্ডে। নির্বাচনের সময় বড় ধরনের পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ২০২৫ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি অপরাধী তালিকা বাতিল, আক্রমণাত্মক পুলিশ ইউনিট ভেঙে দেওয়া এবং পুলিশি জবাবদিহিতা বেসামরিক তদারকির আওতায় আনার কথা বলেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই পিছিয়ে আছে অথবা বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উপমেয়র নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে শরীরে ধারণকৃত ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশের নিয়ম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি নোটিশ দেওয়ার আগের নীতিও বাতিল করা হয়েছে। অপরাধের পরিসংখ্যানে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রথম ১০০ দিনে খুনের ঘটনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে। গুলির ঘটনাও কমেছে ২০ শতাংশ। তবে ধর্ষণের ঘটনা ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক। সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি কেবল শুরু। এদিকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও এর ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে পুলিশ সদস্যদের সংগঠন বলেছে, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবে তাকে সমর্থন দেওয়া একটি সংগঠনের অংশ পুলিশ কমিশনারকে বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও বর্তমানে প্রশাসনিক বাস্তবতায় কিছুটা ভিন্ন পথে এগোচ্ছেন মেয়র। অপরাধী তালিকা নিয়ে মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রয়োজনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন। দায়িত্বের প্রথম ১০০ দিনে বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর পুরো বাস্তবায়ন না হলেও কিছু উদ্যোগ কার্যকর হয়েছে। নিউইয়র্কের প্রশাসন আগামীতে কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্ক সিটি-তে জীবনযাত্রার খরচ ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৬২ শতাংশ বাসিন্দা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শহরের মেয়র অফিস অব ইক্যুয়িটি অ্যান্ড রেসিয়াল জাস্টিসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। গবেষণা অনুযায়ী, সন্তানবিহীন একটি মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন। আর সন্তানসহ পরিবারের ক্ষেত্রে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে। তবে বাস্তবে অনেক পরিবারই এই আয়ের স্তরে পৌঁছাতে পারছে না। এই গবেষণাটি ২০২২ সালে অনুমোদিত ‘ট্রু কস্ট অব লিভিং’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এতে বাসস্থান, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু যত্ন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন মৌলিক খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬১.৮ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ লাখের বেশি মানুষ তাদের আয় দিয়ে পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে পারছেন না। অথচ প্রচলিত দারিদ্র্য সূচক অনুযায়ী এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ ছিল, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বড় ধরনের ফারাক নির্দেশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব পরিবার ব্যয় মেটাতে পারছে না, তাদের বার্ষিক গড় আয়ের ঘাটতি প্রায় ৩৯ হাজার ৬০০ ডলার। এছাড়া প্রায় ৮ শতাংশ মানুষ সব খরচ মেটাতে পারলেও কোনো সঞ্চয় করতে পারছেন না—যা তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতিগত বৈষম্যও এই সংকটে স্পষ্ট। হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৭৭.৬ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ৬৫.৬ শতাংশ এবং এশীয় ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডারদের মধ্যে ৬৩.৩ শতাংশ মানুষ ব্যয় মেটাতে পারছেন না। শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ৪৩.৭ শতাংশ। শিশুদের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। ১৮ বছরের নিচের প্রায় ৭২.৫ শতাংশ শিশু এমন পরিবারে বসবাস করছে, যারা তাদের পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে পারছে না। অঞ্চলভেদে এই সংকটের তীব্রতা ভিন্ন। দ্য ব্রঙ্কস-এ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭৫.১ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। ব্রুকলিন-এ এই হার ৬১.৫ শতাংশ এবং কুইন্স-এ ৬১.১ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ম্যানহাটন-এ ৫৫.৬ শতাংশ এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ড-এ ৪৮.২ শতাংশ মানুষ এই ব্যয়ের চাপে রয়েছেন। এই চিত্র নিউইয়র্ক সিটির অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বৈষম্যের গভীরতা তুলে ধরছে, যেখানে উচ্চ ব্যয় ও সীমিত আয়ের কারণে বহু পরিবার আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল একটি সাজানো গোছানো পরিবার। সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৭টা; কলাম্বিয়া কাউন্টির ক্ল্যাভারাক এলাকায় স্টেট রুট ৯এইচ-এ যখন টয়োটা প্রিয়াস ও টয়োটা ক্রাউনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এই যাত্রাটিই হবে তাদের শেষ যাত্রা। ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি থেকে আলবানির দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক নাজমুল রুবেল, তার ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী পারিবারিক বন্ধু ফাহিম হালিম। অন্য গাড়ির আরোহী জুলিয়া রিচি (৬২) নামের এক নারীও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গাড়িতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তার বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল থাকলেও, সবার চোখ এখন মাত্র এক বছর বয়সী শিশু ইকরা আয়াতের দিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আইসিইউতে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে নিষ্পাপ এই শিশুটির। পরিবারের ছোট ছেলে মোহাম্মদ আজমুল রাব্বি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, একটি ফোন কলেই তাদের পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেছে। এই শোক সহ্য করার মতো শক্তি তাদের নেই। কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। নিহতদের জানাজা আগামী ৮ এপ্রিল বুধবার জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্র এবার নতুন এক মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত দম — আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ চলচ্চিত্রটি নিউইয়র্কে মুক্তি পাচ্ছে, যা প্রবাসে বাংলা সিনেমার বিস্তারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। পরিচালক রেদওয়ান রনি নির্মিত এই ছবিটি আগামী ১০ এপ্রিল থেকে নিউইয়র্ক-এর কুইন্সে অবস্থিত কিউ গার্ডেন সিনেমাস-এ প্রদর্শিত হবে। প্রতিদিন বিকেল ২টা, সন্ধ্যা ৫টা এবং রাত ৮টায় তিনটি করে শো চলবে, যা ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটির পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে বায়োস্কোপ ফিল্মস এলএলসি। এটি তাদের ৫৩তম পরিবেশনা, যা প্রবাসে বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। এক সময় প্রবাসে বাংলা সিনেমা দেখার সুযোগ ছিল সীমিত, কমিউনিটি হলের ছোট পর্দায় ভিডিও ক্যাসেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল সেই অভিজ্ঞতা। তবে সময়ের পরিবর্তনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নামকরা সিনেমা হলে বড় পর্দায় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, টেক্সাস ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন শহরে প্রবাসীরা এখন সহজেই উপভোগ করতে পারছেন মাতৃভাষার সিনেমা। এই পরিবর্তনের পেছনে বায়োস্কোপ ফিল্মসের মতো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের উদ্যোগে বাংলা সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই নয়, প্রবাসে সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। দেশে ইতোমধ্যেই আলোচনায় থাকা ‘দম’ চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের জন্য এটি হতে পারে ভিন্নধর্মী এক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা। প্রদর্শনী উপলক্ষে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। দর্শকদের পরিবারসহ হলে এসে ছবি উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে একদল অপেশাদার চোর মিডটাউনের একটি পার্কিং গ্যারেজ থেকে বিলাসবহুল গাড়ি চুরি করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পার্কিং গেটের বাধায় ব্যর্থ হয়, জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার ভোর ৬টার কিছু আগে ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় ওয়েস্ট ৪৩তম স্ট্রিটের একটি গ্যারেজে ৪-৫ জন চোর প্রবেশ করে। তারা একটি নীল ম্যাকলারেন, একটি মার্সিডিজ জি-ওয়াগনসহ বেশ কয়েকটি দামী গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে সেগুলো নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। একজন চোর ২০২০ সালের ম্যাকলারেনটি নিয়ে বের হতে সক্ষম হলেও বেশি দূর যেতে পারেনি। কয়েক লাখ ডলারের এই স্পোর্টস কারটি কাছের একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। গাড়িটির মালিক পরে বলেন, এটা খুবই হতাশাজনক। নিউ ইয়র্কে এমন গাড়ি আগে দেখেছি, কিন্তু প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি এটা আমার গাড়ি। নিশ্চিত হওয়ার পর মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরছিল। এদিকে, এক তৎপর পার্কিং কর্মী গ্যারেজের সামনের ধাতব গেট নামিয়ে দিয়ে বাকি চোরদের পালাতে বাধা দেন। তবে এ সময় একটি সাদা রেঞ্জ রোভার ক্ষতিগ্রস্ত হয় গেটটি গাড়িটির হুডের ওপর পড়ে। আরেক ভুক্তভোগী, যার ভলভো গাড়িটিও টার্গেট করা হয়েছিল, বলেন, আমি হতবাক। আমার গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে গেছে। গাড়ির চাবি ভেতরেই ছিল। চোররা শেষ পর্যন্ত নিজেদের একটি ধূসর বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: ছোট বোনের আবদার পূরণ করতে কেক কিনে বাসায় ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক বাংলাদেশি তরুণী। নিহত নিশাত জান্নাত (১৯) নিউইয়র্কের কুইন্সে বাবা-মা ও তিন বোনের সঙ্গে বসবাস করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে কাজ শেষে ছোট বোনের জন্য কেক কিনতে জ্যাকসন হাইটসে যান নিশাত। সেখান থেকে কেক নিয়ে বাসায় ফেরার পথে উডসাইড এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটে কুইন্সের উডসাইড এলাকার রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ও ৬২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি স্যানিটেশন (গার্বেজ) ট্রাক নিশাতকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই জরুরি সেবা কর্মীরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে তার এক বোন ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পারেন। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটির চালক ৩৮ বছর বয়সী এক নারী। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এর কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড। নিশাত জান্নাত কুইন্সের উডসাইড এলাকার বায়তুল জান্নাহ জামে মসজিদের ইমাম হেলাল আহমদের মেয়ে। চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ২০১৭ সালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও গভীর শোক বিরাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বাদ জোহর উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি তার স্ত্রীর পুরনো একটি শিল্পকর্মকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তার স্ত্রী রামা দুওয়াজির একটি কাজ ফিলিস্তিনি লেখক সুসান আবুলহাওয়ার সঙ্গে যুক্ত। ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন ফ্রি বিকন গত সপ্তাহে প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ২৮ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স শিল্পী দুওয়াজি গাজার লেখকদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত একটি সংকলনের জন্য একটি চিত্রকর্ম তৈরি করেছিলেন। ‘এভরি মোমেন্ট ইজ আ লাইফ’ শিরোনামের ওই সংকলনে আবুলহাওয়ার সম্পাদনায় বিভিন্ন লেখা স্থান পেয়েছিল। পরে আবুলহাওয়া জানান, সংকলনে থাকা ‘এ ট্রেইল অব সোপ’ নামের ছোটগল্পটি আসলে গাজার এক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মামদানি বলেন, তার স্ত্রী এই কাজটি একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পেয়েছিলেন এবং আবুলহাওয়ার সঙ্গে তার সরাসরি কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ হয়নি। আবুলহাওয়াও পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মূল বিতর্কটি তৈরি হয়েছে আবুলহাওয়ার আগের কিছু সামাজিকমাধ্যম পোস্ট ঘিরে। সমালোচকদের অভিযোগ, ওই পোস্টগুলোর কিছু বক্তব্য ইহুদি-বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে। তবে আবুলহাওয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, সেসব মন্তব্য একজন ফিলিস্তিনির অভিজ্ঞতা ও বেদনা থেকে উঠে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি গাজায় হত্যাকাণ্ডকে “ইহুদি আধিপত্যবাদী গণহত্যা” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া এক নিবন্ধে তিনি ৭ অক্টোবর হামলার ঘটনাকে “চমকপ্রদ মুহূর্ত” বলে বর্ণনা করেছিলেন। এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেন, আবুলহাওয়ার কিছু মন্তব্য তার কাছে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং “ঘৃণ্য”। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার প্রশাসন সব ধরনের বিদ্বেষ ও গোঁড়ামির বিরোধী। তবে এই অবস্থান নেওয়ার কারণে মামদানির কিছু সমর্থকই তাকে সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, এতে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানকে ইহুদি-বিরোধিতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার একটি ক্ষতিকর ধারণা আরও জোরদার হচ্ছে। কর্মী শায়েল বেন-ইফ্রাইম সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন, মামদানির ক্ষমা চাওয়া ও ব্যাখ্যা দেওয়া ছিল অপ্রয়োজনীয়। তার মতে, এই ধরনের সমালোচকদের সন্তুষ্ট করা কখনোই সম্ভব নয়। অন্যদিকে আবুলহাওয়া বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মামদানির ওপর ক্ষুব্ধ নন। তবে তার মতে, এই ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মন্তব্য করেন, শক্তিশালী কিছু গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে তা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে। উল্লেখ্য, মামদানি অতীতেও একাধিকবার ইসলামোফোবিক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। গাজার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে একে “গণহত্যা” বলায় তাকে প্রায়ই ইহুদি-বিরোধী আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এদিকে রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল মামদানির ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও আক্রমণ করেছেন। এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে তিনি ইফতারের একটি ছবির পাশে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ছবি জুড়ে দিয়ে লিখেছিলেন, “শত্রু এখন ভেতরে ঢুকে গেছে।” তবে এই মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো জবাবদিহির ঘটনা ঘটেনি।
নিউইয়র্ক সিটিতে মেয়র জোহরান মামদানির বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ একটি বোমাসদৃশ ডিভাইস নিক্ষেপের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার পেনসিলভানিয়ার দুই ব্যক্তি, এমির বালাত এবং ইব্রাহিম কায়ুমি, সন্দেহজনক একটি ডিভাইস পুলিশের দিকে ছুড়েছিলেন। প্রথমে এই ডিভাইসগুলোকে ধোঁয়াশা সৃষ্টিকারী বোমা মনে করা হয়, তবে পরে পরীক্ষায় এগুলো সম্ভাব্য বিস্ফোরক ডিভাইস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মেয়রের বাড়ি, গার্সি ম্যাসনের সামনের রাস্তার অংশে। ঐদিন ডানপন্থি কর্মী জ্যাক লাং মুসলিমবিরোধী বিক্ষোভ পরিচালনা করছিলেন। তার প্রতিবাদে বড়সংখ্যক লোক পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তেজনার সময় একজন পাল্টা বিক্ষোভকারী একটি আগুন লাগানো ডিভাইস পুলিশের দিকে নিক্ষেপ করেন। ডিভাইসটি আকাশে উড়ার সময় আগুন ও ধোঁয়া ছড়ায়, তবে পরে এটি একটি ব্যারিকেডে আঘাত করে নিভে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জ্যাসিকা টিচস জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় ডিভাইসটি একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) হতে পারে, যা গুরুতর ক্ষতি ঘটাতে পারত। আরও তদন্তের জন্য এগুলো এফবিআই-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। মেয়র মামদানি এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, নিউইয়র্কে ঘৃণা এবং সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি একটি নতুন নির্বাহী নির্দেশনা জারি করেছেন, যার উদ্দেশ্য হলো শহরের বাসিন্দাদের তিনি যাকে “অন্যায্য ও আক্রমণাত্মক অভিবাসন কার্যক্রম” বলে উল্লেখ করেছেন, সেগুলো থেকে সুরক্ষা দেওয়া। মেয়রের দপ্তর জানিয়েছে, এই নির্দেশনার মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বা ভয় সৃষ্টিকারী অভিবাসন অভিযান কমিয়ে আনা হবে। এতে বিভিন্ন সিটি সংস্থার দায়িত্ব ও সীমারেখা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে আইন প্রয়োগের অজুহাতে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীবান্ধব শহর হিসেবে পরিচিত। তাঁর মতে, এখানে বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তি—তাঁদের আইনি অবস্থান যাই হোক না কেন—নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকারী। এই পদক্ষেপকে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, সমালোচকরা ফেডারেল সরকারের নীতির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য এবং বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সিটি প্রশাসনের দাবি, এই নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নিউইয়র্কবাসীর কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সূত্র: CBS News
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।