যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হিট-অ্যান্ড-রান দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত চালক। ছেলের মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন তার মা। ২০২৫ সালের ১৯ জুন রাতে ম্যানহাটনের হ্যামিলটন হাইটস এলাকায় ৩২ বছর বয়সী এরিক ল্যামন্ট বোয়ি সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি ২০২১ সালের ডজ ডুরাঙ্গো গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর তিনি ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিভ্যানে আঘাত করেন এবং গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা পরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর এসইউভিটির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে তথ্য থাকলে সাধারণ মানুষকে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। নিহত এরিক ল্যামন্ট বোয়ি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং একটি হাসপাতালে চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য, তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল এবং সবার প্রিয় একজন মানুষ। ছেলের মৃত্যুর পর থেকে বিচার পাওয়ার দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন তার মা তানিয়া বোয়ি। তিনি বলেন, “যে আমার ছেলেকে মেরে পালিয়ে গেছে, তাকে আমি আইনের আওতায় দেখতে চাই। আমার ছেলে এমন মৃত্যুর যোগ্য ছিল না। আমি শুধু আমার সন্তানের জন্য ন্যায়বিচার চাই।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন আমার ছেলের কথা মনে পড়ে। একটি পরিবারের জীবন এক মুহূর্তে বদলে গেছে। আমি চাই, যে ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে যেন আইনের মুখোমুখি হয়। শুধু আমার ছেলের জন্য নয়, যেন আর কোনো পরিবারকে এমন কষ্ট সহ্য করতে না হয়।” পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, তদন্তের অগ্রগতি হবে এবং দায়ী ব্যক্তিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তারা সড়কে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে না যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে বিনামূল্যের ২-কে (2-K) কর্মসূচিতে ভর্তির জন্য আবেদন করার শেষ দিন শুক্রবার। নির্ধারিত কয়েকটি স্কুল জেলায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ নিউইয়র্ক জানিয়েছে, এ দফায় মোট ২ হাজার বিনামূল্যের ২-কে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। এসব আসনের জন্য আবেদন করতে পারবেন স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ৬, ১০, ১৮, ২৩ ও ২৭-এর বাসিন্দারা। মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম ছিল সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু করা হচ্ছে এই সম্প্রসারিত ২-কে কর্মসূচি। সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন আসনগুলোর বেশিরভাগই হবে পূর্ণদিবসের কর্মসূচি। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, বছরে ২৬০ দিন সেবা দেওয়া হবে। এতে কর্মজীবী অভিভাবকদের শিশু পরিচর্যার চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ওয়াশিংটন হাইটস, ইনউড, ইস্ট ব্রুকলিনের ক্যানারসি, ব্রাউনসভিল এবং ওশান হিল এলাকায় এই আসনগুলো চালু করা হবে। আবেদন করা যাবে MySchools.nyc ওয়েবসাইটে, ফোনে ৭১৮-৯৩৫-২০০৯ নম্বরে যোগাযোগ করে অথবা নিউইয়র্ক সিটির ফ্যামিলি ওয়েলকাম সেন্টার-এ গিয়ে। কর্মসূচির প্রচারে সম্প্রতি একটি ২-কে জিঙ্গেল প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে সিটি প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ব্রুকলিনের ইস্ট ফ্ল্যাটবুশের একটি প্রাক্-শৈশব শিক্ষা কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার বিজয়ী অ্যালেগ্রা লেভি ও তাঁর ব্যান্ডের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেয়র মামদানি। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি শরৎ মৌসুমে ২ হাজার বিনামূল্যের আসন দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী চার বছরে এটি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। শহরের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড এক ও দুই বছরের লিজের ক্ষেত্রে ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়ায় এটি মেয়র জোহরান মামদানির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বাইরে থেকে গেছেন ব্রঙ্কসের ট্রেসি টাওয়ার্স আবাসনের শত শত বাসিন্দা। তাদের জন্য বরং আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে, যা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ব্রঙ্কসের ৮৭১ ইউনিটের ট্রেসি টাওয়ার্স 'মিচেল-লামা' কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প। এই কর্মসূচি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের নিয়মের আওতায় পড়ে না। ফলে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের ভাড়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত এখানকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। আবাসনটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আরওয়াই ম্যানেজমেন্ট চলতি মাসে ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরে ১৫ শতাংশ, পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর ৫ শতাংশ এবং চতুর্থ বছরে আরও ৩ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে চার বছরে ভাড়া বৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশে। এর ফলে বর্তমানে এক শয়নকক্ষের একটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৩৪৪ ডলার থেকে বেড়ে ধাপে ধাপে প্রায় ১ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিচেল-লামা কর্মসূচির আবাসনগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এইচপিডি) বিভাগ। রাজ্যের আইন অনুযায়ী, ভবনের পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সংস্থাটির। ফলে এই ক্ষেত্রে মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। এ পরিস্থিতি মেয়র মামদানির জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব কমানো বা বিকল্প আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন, ব্রঙ্কস বরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসনসহ ছয়জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মেয়রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় যখন লাগামছাড়া, তখন মিচেল-লামার বাসিন্দাদের ওপর ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়া বৃদ্ধির চাপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কীভাবে পরিস্থিতি এত দূর গড়াল, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এ বিষয়ে শুনানির আয়োজন করবে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। অন্যদিকে, মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রেসি টাওয়ার্সের মতো আবাসনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ করা হবে। তবে বিদ্যমান রাজ্য আইনের কারণে পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সমর্থন করা ছাড়া বিকল্প নেই। এইচপিডি কমিশনার ডিনা লেভি বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, ভাড়া বাড়ানোর উদ্দেশ্য ভবনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়। মূল সমস্যা হলো ভবনটির দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট। আবাসনটি তিন বছর ধরে বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছে এবং নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ও মেটাতে পারছে না। তিনি জানান, ভবনের বিকল লিফট, ছাদ চুইয়ে পানি পড়াসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে আলাদাভাবে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত নন অনেক বাসিন্দা। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক ভাড়াটিয়া সমিতির সভাপতি টনি টেইলর বলেন, অবসরে যাওয়ার সময় এই আবাসনটি সত্যিই সাশ্রয়ী ছিল। এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছি যে ওষুধ কিনব, নাকি খাবার কিনব, সেটাই ভাবতে হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিল সদস্য এরিক ডিনোভিটজও বিষয়টির অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড যখন ২ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়েও তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে, তখন একই শহরে অন্য একটি আবাসনে ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি মেনে নেওয়া হচ্ছে। তবে ট্রেসি টাওয়ার্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা ফেডারেল সেকশন ৮ আবাসন ভর্তুকি বা প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ভাড়া সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকায় তাদের নিজস্ব পকেট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে না। কিন্তু বাকি শত শত পরিবারের জন্য এই প্রস্তাব বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। ভাড়াটিয়া সমিতির সভাপতি জিন হিলের অভিযোগ, সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েই মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বাসিন্দার মনে হচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য ছিল না।
প্রবাসী জামালপুরবাসীর মিলনমেলায় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে জামালপুর জেলা সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির কল্যাণ এবং জামালপুর জেলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গত ২১ জুন জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের আল আকসা পার্টি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জহুরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন এ এস এম আশাফুদৌলাহ লিটন। প্রধান অতিথি ছিলেন জামালপুরের কৃতি সন্তান ডা. গোলাম মোক্তাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। বক্তারা প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে প্রয়াত সকল জামালপুরবাসীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মঈনউদ্দিন। পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন শিশু আয়ানউল্লাহ তালুকদার। অনুষ্ঠানে জামালপুর সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসারের সঞ্চালনায় ১৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন, রাশেদ আহমেদ, আবুল বাশার চুন্নু, শরাফ সরকার, আলমগীর, আশরাফ আলী, মাসুদ আহমেদ, ফেরদৌস আলম, শহিদুল ইসলাম, এনামুল হক, জসীমউদ্দিন মাহমুদ, মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ আলী এবং ডা. ইউসুফ আলী। পরে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য গঠিত নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে শপথ বাক্য পাঠ করান সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাঈদুর রহমান শেলী। নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রবিউল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবু। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মো. দুলাল হোসেন, মিজানুর রহমান, মো. শামীম চৌধুরী, হুমায়ূন কবীর, সুলতান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম মিন্টু ও শামসুল ইসলাম রাজা। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন নূরউন্নবী নবীন, খোরশেদ আলম, শহিদুল ইসলাম মিন্টু এবং মো. সোহাগ। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আহসান তানিন, কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ, আপ্যায়ন সম্পাদক শাকিল আহমেদ, প্রচার সম্পাদক এস এম হাসান আরিফ, দপ্তর সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক সামিউল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সাহিত্য সম্পাদক আমজাদ হোসেন, মহিলা সম্পাদক জান্নাতুল অন্তরা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ এবং গণসংযোগ সম্পাদক হিসেবে আনোয়ার হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন। কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার শফিউল বাদল, মো. খলিলুল্লাহ, জহুরুল ইসলাম, এ এস এম আশাফুদৌলাহ, মো. রফিকুল হাসান শাফি, সামসামুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম বাবলু, মো. নূরল ইসলাম এবং ফয়সাল হক জন তালুকদার। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নবনির্বাচিত সভাপতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবুর পরিচালনায় নতুন কমিটির নেতারা প্রবাসী জামালপুরবাসীর কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম শফিকুল ইসলাম আকন্দ, সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা অজিত ভৌমিক, মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার খোকন এবং সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সিরাজুল মাওলাসহ অন্যান্য অতিথিরা। সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদে আরও রয়েছেন অ্যাডভোকেট মোর্শেদা জামান, ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম, সৈয়দ হাসিবুল গণি গালিব, সালাহউদ্দিন কাব্য, ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হাসান এবং মো. লিয়াকত হোসাইন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শশীর পরিবেশিত গান উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী সামিরাতু বারা এ বছরের ‘আহমদ সোহান মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ লাভ করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় স্কুলটির দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘কমেন্সমেন্ট সেরিমনি ২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই স্কলারশিপের অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. উমায়রা টিয়ো। তিনি নবস্নাতক শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে উচ্চশিক্ষা, নিয়মিত অধ্যয়ন, অনুশীলন এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভবিষ্যৎ জীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় ও ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি। স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ভ্যারেনা কাবারক্যাস প্রয়াত শিক্ষার্থী আহমদ সোহানের স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কৃতি ছাত্র সোহান আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে সে আছে আমাদের মনের গভীরে, আমাদের অস্তিত্বের শিকড়ে। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।” প্রিন্সিপাল আরও বলেন, সোহান মেধার বিকাশ ও জ্ঞানার্জনের প্রতি অসাধারণ আগ্রহ নিয়ে শিক্ষা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তার স্মৃতি ও অর্জন আজও স্কুল সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আহমদ জে সোহান ২০১০ সালে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুল থেকে একাধিক পুরস্কারসহ কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তবে কলেজ জীবন শুরু করার মাত্র দুই সপ্তাহ পর, একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। তার স্মৃতি, মেধা ও শিক্ষাজীবনের অনুকরণীয় সাফল্যকে সম্মান জানাতে ২০১১ সালে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ ‘আহমদ সোহান মেমোরিয়াল স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ চালু করে। এরপর থেকে প্রতিবছর মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে আহমদ সোহানের মা জাহানারা বি আহমদ এবং বাবা সিরাজ উদ্দিন আহমদ সোহাগ উপস্থিত ছিলেন। তারা স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সামিরাতু বারাকে অভিনন্দন জানান এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে একটি পার্কের লেকের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত ৭৫ বছর বয়সী কোশের বেকারির সাবেক মালিক ও ধর্মীয় নেতা আলবার্ট ইটজকোভিটজকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় নিহতের পরিবার মনে করছে, তিনি ইহুদি পরিচয়ের কারণেই হামলার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ মে বিকেল ৫টার কিছু আগে কুইন্সের কিসেনা লেকের তীরে আলবার্ট ইটজকোভিটজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ঘাড় ও পিঠে গুলির চিহ্ন ছিল। পরে নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করে। ঘটনার পাঁচ সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার একই পার্কে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। সেখানে আবেগঘন বক্তব্যে আলবার্টের মেয়ে লিয়া লিভশিটজ বলেন, তার বাবা প্রকাশ্যেই একজন ধর্মপ্রাণ ইহুদি ছিলেন এবং নিয়মিত ওই পার্কে দুপুরের বিরতিতে সময় কাটাতে যেতেন। তার ভাষায়, “আমার বাবা কারও সঙ্গে কোনো বিরোধে জড়িত ছিলেন না। তিনি কোনো অপরাধও করছিলেন না। তার মানিব্যাগও অক্ষত অবস্থায় ছিল। তিনি শুধু একজন অর্থোডক্স ইহুদি হিসেবে নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছিলেন।” তিনি আরও বলেন, “পাঁচ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো গ্রেপ্তার নেই, কোনো সন্দেহভাজন নেই, এমনকি ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।” তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) এখনো ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। পুলিশের ভাষ্য, সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে আলবার্ট ইটজকোভিটজকে সৈকত চেয়ার, সানগ্লাস, একটি বেসবল ক্যাপ এবং ক্রসওয়ার্ড ধাঁধার বইসহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সেখানে রোদ পোহাতে গিয়েছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি বাড়ি থেকে একটি সিনাগগে যান। পরে একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন এবং একটি ওষুধের দোকান থেকে কেনাকাটা করেন। এরপর পার্কে যান। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যদাতাদের খুঁজতে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করছে। এমনকি লেকে সম্ভাব্য আলামত উদ্ধারে ডুবুরি দলও অভিযান চালিয়েছে। নিহতের ছোট ছেলে জভি ইয়োনি ইটজকোভিটজ জানান, কোনো তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে তথ্যদাতাকে দেওয়া পুরস্কারের অর্থ বাড়ানো হয়েছে। ক্রাইম স্টপার্সের ঘোষিত ১০ হাজার ডলারের সঙ্গে পরিবার আরও ১০ হাজার ডলার যোগ করেছে। ফলে মোট পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, “পুলিশ আমাদের জিজ্ঞেস করেছিল, বাবার কোনো শত্রু ছিল কি না। প্রশ্নটি শুনে আমরা কান্নার মধ্যেও হাসতে বাধ্য হয়েছিলাম। কারণ তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, সদয় ও সবার প্রিয় একজন মানুষ। তার শত্রু থাকতে পারে, এমনটা আমাদের কাছে অকল্পনীয়।” কিউ গার্ডেন্স হিলস এলাকার বাসিন্দা আলবার্ট ইটজকোভিটজ একসময় মেইন স্ট্রিটের পরিচিত জি অ্যান্ড আই কোশের বেকারি পরিচালনা করতেন। এছাড়া তিনি একটি নার্সিং হোমে রাব্বি হিসেবে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতেন এবং স্বেচ্ছাসেবী জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন। পরিবার জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী মারা যান। ব্যক্তিগত সেই শোকের মধ্যেই তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছিলেন। এদিকে কুইন্সের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঘটনাস্থলটি ব্যস্ত পার্ক হওয়ায় সেখানে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেখে থাকবেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন লিউ বলেন, “এখনো একজন হত্যাকারী মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। কেউ যদি কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তাহলে অবশ্যই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।” এনওয়াইপিডির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে নিউইয়র্কে ইহুদিবিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধের ৪১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এ ধরনের ১৫২টি ঘটনার অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সব ধরনের তথ্য ও সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মামদানি রাজ্যব্যাপী একাধিক গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীকে সমর্থন দেন। জেমসের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ঐক্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জেমস আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটির প্রকৃত রাজনীতি বোঝেন না। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সাংস্কৃতিক পার্থক্য ও দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সম্পর্কে তাদের কোনো বাস্তব ধারণা নেই। এই নতুন প্রার্থীরা বর্ণবাদ ও শ্রেণীগত জটিল সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে দলের ভেতরে এক ধরণের আদর্শিক দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কের রাজ্য এবং কংগ্রেসের প্রাথমিক নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার সমর্থনে ক্লেয়ার ভালদেজ এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার বর্তমান আইনপ্রণেতাদের পরাজিত করে প্রতিনিধি পরিষদের দৌড়ে জয়ী হয়েছেন। এর পাশাপাশি রাজ্য সিনেটে দুটি এবং স্টেট অ্যাসেম্বলিতে চারটি আসনে মামদানি সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীরা বিশাল জয় পেয়েছেন। সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জেমস জানান যে ডেমোক্রেটিক পার্টির এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনে অনেকেই হতাশ। তিনি বলেন যে দলের ওপর আমাদের সবারই কিছুটা ক্ষোভ থাকতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে পুরো দলকেই ধ্বংস করে দিতে হবে। তিনি এই প্রবণতাকে ট্রাম্পের অনুসারী মাগা বা এমএজিএ আন্দোলনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির সাথে তুলনা করেন। স্থানীয় বিনিয়োগকারী ও অন্য ডেমোক্র্যাট নেতাদের সাথে সম্পর্ক নষ্টের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। তবে এই সমস্ত আশঙ্কার মাঝেও প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজ বুধবার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। দল অতিরিক্ত বামপন্থার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি এই উদ্বেগ উড়িয়ে দেন। তিনি উল্টো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে মেয়র মামদানির কার্যকরী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন, যা ওভাল অফিসে তাদের বৈঠকের মাধ্যমে বারবার স্পষ্ট হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মেয়র মামদানি এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। তাদের করমর্দন ও হাসিমুখে ছবি তোলার ঘটনা সমালোচকদের বেশ অবাক করেছিল। তবে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতের পরেও ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানান যে আমেরিকা কখনই একটি কমিউনিস্ট দেশ হবে না। সূত্র: দ্য হিল
নিউইয়র্কের রাস্তায় চলাচলকারী হাজারো বাসের সামনের অংশে এখন বড় অক্ষরে লেখা একটি নাম— ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’। ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসজুড়ে তিন হাজারেরও বেশি বাসে প্রদর্শিত এই বিজ্ঞাপনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা বিজ্ঞাপনটি অপসারণের দাবি জানালেও নিউইয়র্কের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ (এমটিএ) বলছে, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর কারণে তাদের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত। বুধবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত এমটিএর মাসিক বোর্ড সভায় অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের বিজ্ঞাপন শিশু-কিশোরদের সামনে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে এবং তা তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০০২ সালে উদ্যোক্তা ড্যানিয়েল গ্লাক ম্যানহাটনের ফ্ল্যাটআয়রন এলাকায় ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল মানব যৌনতার ইতিহাস, বিবর্তন ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে জাদুঘরের কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপন করা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম যৌনতাবিষয়ক জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার সময় নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব রিজেন্টস জাদুঘরটির অলাভজনক মর্যাদার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের মতে, এমন ধারণা প্রচলিত জাদুঘর ব্যবস্থার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কের অন্যতম আলোচিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। ম্যানহাটনের ফিফথ অ্যাভিনিউ ও ২৭তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত জাদুঘরটিতে শিল্প, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির আলোকে যৌনতা বিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী রয়েছে। পাশাপাশি ‘সুপার ফানল্যান্ড: জার্নি ইনটু দ্য ইরোটিক কার্নিভাল’ নামে একটি স্থায়ী ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রদর্শনীও দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। জাদুঘরটির সংগ্রহে রয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি নিদর্শন, যার মধ্যে শিল্পকর্ম, আলোকচিত্র, পোশাক, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সামগ্রী রয়েছে। এখানে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হয়। বর্তমান বিজ্ঞাপন প্রচারণায় বাসের সামনে শুধু ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ নাম এবং প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো ছবি বা অতিরিক্ত বার্তা এতে নেই। জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল গ্লাকের লক্ষ্য ছিল প্রতিষ্ঠানটির নামকে নিউইয়র্কের পরিচিত নগর প্রতীকের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। তবে বিজ্ঞাপন প্রচারণা শুরু হওয়ার ছয় মাস পর বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগেও ২০১৮ সালে একই ধরনের বিজ্ঞাপন বাসের সামনে প্রদর্শনের পর নারী বাসচালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের দাবির মুখে বিজ্ঞাপনগুলো বাসের পেছনে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেন্ট্রাল র্যাবিনিক্যাল কংগ্রেসের রাব্বি আব্রাহাম জিমারম্যান এমটিএ বোর্ড সভায় বলেন, “অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মে যৌনতার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করে এমন ছবি বা বিজ্ঞাপন স্বেচ্ছায় দেখা নিষিদ্ধ। আমরা আমাদের সন্তানদের এসব বিষয় থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু প্রতিদিন তারা এসবের মুখোমুখি হচ্ছে।” হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া এক পরিবারের সদস্য রিটা ফ্রিডম্যানও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের নৈতিক মূল্যবোধ কোথা থেকে শিখবে, সেটি নিয়ে আমি চিন্তিত।” এদিকে এমটিএ চেয়ারম্যান জ্যানো লিবার স্বীকার করেছেন, কিছু যাত্রী বাসে উঠে চালক ও অন্য যাত্রীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করছেন। তবে তিনি বলেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী এমটিএ বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু সেন্সর করার ক্ষমতা রাখে না। তার ভাষায়, “আমি তাদের উদ্বেগ বুঝতে পারছি। কিন্তু আমরা প্রথম সংশোধনীর অধীনে পরিচালিত একটি সংস্থা।” লিবার আরও জানান, আইনগতভাবে ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ একটি স্বীকৃত শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এর বিজ্ঞাপন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রচার হিসেবে বিবেচিত হয়, যা গণপরিবহনে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা পায়। এমটিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি আগে জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞাপনে ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পরামর্শ দিয়েছিল, যাতে যাত্রীরা বুঝতে পারেন এটি একটি নির্দিষ্ট স্থান ও প্রতিষ্ঠান, কোনো চলমান কার্যক্রমের বিজ্ঞাপন নয়। এমটিএ প্রতিবছর বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা তাদের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য। তবুও বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা সংস্থাটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের এক সামাজিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে বাকস্বাধীনতার অধিকারের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে। তবে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীদের একটি অংশ বিষয়টিকে বড় কোনো ইস্যু হিসেবে দেখছেন না। এক যাত্রী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সত্যি বলতে, আমি এটা নিয়ে খুব একটা ভাবি না।” এদিকে বিতর্ক চললেও ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’-এর বিজ্ঞাপন এখনো নিউইয়র্কের বাসগুলোর সামনের অংশে প্রদর্শিত হচ্ছে।
গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ রাহুল রব। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শরীর ঘামে ভিজে যায়, শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে তিনি ফোন করেন বড় ভাই মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাহুল রব বড় ভাইকে ফোন করে জানান যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করছেন। তাঁর বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। ভাইয়ের কণ্ঠে উদ্বেগ টের পেয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ দ্রুত তাঁর অবস্থান জানতে চান এবং নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন। আব্দুল্লাহ জানান, তিনি দ্রুত ভাইয়ের কাছে রওনা দেন। পথে থাকতেই আবার ফোন আসে রাহুলের কাছ থেকে। তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আব্দুল্লাহ ৯১১-এ ফোন করেন। তবে প্রথমবার জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ রাহুলের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। পরে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ আসে। প্যারামেডিকরা দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রাহুল রবকে জরুরি চিকিৎসা দেন। পরে তাঁকে দ্রুত ব্রুকলিনের নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। পরিবারকে জানানো হয়, চিকিৎসা শেষে পরে তাঁরা দেখা করতে পারবেন। সেই আশায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাড়ির পথে রওনা দেন এবং রাহুলের স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল থেকে আবার ফোন আসে। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলা হবে। পরিবর্তে চিকিৎসকদের কাছ থেকে আসে হৃদয়বিদারক সংবাদ। সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও রাহুল রবকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রাহুল রবের গ্রামের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র সন্তান, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তিনি পরিবার নিয়ে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাহুল রব ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি। তাঁর আন্তরিকতা, বন্ধুবৎসল আচরণ এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতার কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয় ছিলেন। পরিচিতজনেরা তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি সবসময় হাসিমুখে মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং সহজেই সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাঁর মানবিক গুণাবলি ও বন্ধুসুলভ ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করেছেন। এক শোকবার্তায় বলা হয়, জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ত জনপদে রাহুল রব ছিলেন এক পরিচিত হাসিমুখ, যার উপস্থিতি অনেক মানুষের দিনকে আনন্দময় করে তুলত। সোমবার (২২ জুন) বাদ জোহর জ্যাকসন হাইটসে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতারাও। প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের এই উপস্থিতি তাঁর প্রতি কমিউনিটির গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন হয়ে ওঠে। রাহুল রবের অকাল প্রয়াণে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যু পরিবার, বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
নিউইয়র্কের রাজনীতি অনেক কিছু দেখেছে- তামানি হলের দিন, রুজভেল্টের নিউ ডিল, কেনেডি যুগের উদারপন্থা, কুওমো পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব, এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের অভিঘাতও। কিন্তু মঙ্গলবারের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনের ফলাফল যে বার্তা দিয়েছে, তা কেবল কয়েকটি আসনের জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; এটি একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রজন্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত। রাজনীতিতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন নির্বাচনের ফলাফল সংখ্যার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে। এবারের নির্বাচন তেমনই একটি মুহূর্ত। কয়েক বছর আগেও নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির সমীকরণ ছিল মোটামুটি নির্ধারিত। দলের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব যাকে সমর্থন দিত, বড় অর্থদাতা, ইউনিয়ন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় সংগঠনের সমর্থন নিয়ে তিনি এগিয়ে থাকতেন। কিন্তু মঙ্গলবারের ফলাফল দেখিয়েছে, সেই পুরোনো সমীকরণ আর আগের মতো কার্যকর নয়। মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব এখন আর শুধু সিটি হলের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিউইয়র্কে নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটছে। এটি শুধু একজন জনপ্রিয় নেতার ব্যক্তিগত প্রভাব নয়; বরং এমন একটি আদর্শিক প্রবাহ, যা তরুণ ভোটার, শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং রাজনৈতিকভাবে হতাশ অনেক নাগরিককে একত্রিত করছে। ব্র্যাড ল্যান্ডারের জয়, ক্লেয়ার ভালদেজের বিজয় কিংবা দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের উত্থান—প্রতিটি ফলাফলের মধ্যে একটি সাধারণ বার্তা রয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে নয়, বরং স্থবিরতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূলধারার নেতৃত্ব ধরে নিয়েছিল যে ট্রাম্পবিরোধিতা নিজেই একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। তবে নিউইয়র্কের ভোটারদের একটি অংশ যেন এবার জানিয়ে দিয়েছে, শুধু ট্রাম্পের বিরোধিতা যথেষ্ট নয়; নিজেদের পক্ষেও স্পষ্ট অবস্থান থাকতে হবে। বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, গাজা যুদ্ধ এবং আয় বৈষম্যের মতো প্রশ্নে তারা আরও নির্দিষ্ট উত্তর চায়। এখানেই মামদানির রাজনীতির শক্তি। তিনি এমন ভাষায় কথা বলেন, যা প্রচলিত রাজনৈতিক বক্তব্যের তুলনায় অনেক বেশি সরাসরি। তাঁর সমর্থকদের মতে, তিনি সমস্যাগুলোকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পিছপা হন না। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর কিছু অবস্থান অতিরিক্ত আদর্শিক। তবে উভয় পক্ষই একমত যে তিনি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা গেছে ডেমোক্র্যাটিক প্রতিষ্ঠানের কাছে। হাকিম জেফ্রিস, ক্যাথি হকুলসহ দলের মূলধারার নেতারা এখনো শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবারের ফলাফল দেখিয়েছে, তাদের সমর্থন আর আগের মতো নিরঙ্কুশ নয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। এর অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে; বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। নিউইয়র্কের রাজনীতিতে গাজা ইস্যুর প্রভাবও এবারের নির্বাচনে দৃশ্যমান হয়েছে। একসময় বিদেশনীতি স্থানীয় নির্বাচনে খুব বেশি গুরুত্ব পেত না। কিন্তু আজকের নিউইয়র্কে অভিবাসী, মুসলিম, আরব, লাতিনো এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। গাজা নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তবে এই ফলাফলকে শুধুমাত্র মতাদর্শিক বিজয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একই সঙ্গে সাংগঠনিক রাজনীতিরও সাফল্য। মামদানির সমর্থকেরা শুধু সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন না; তারা মাঠে নেমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন, ফোন ব্যাংকিং করেছেন, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠিত করেছেন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন। শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রে ভোট গণনা হয়, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট নয়। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। নিউইয়র্কের রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব কম থাকার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। সেই অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি থাকলেও রাজনৈতিক শক্তি শুধু জনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সংগঠন, ধারাবাহিক অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়। যেসব সম্প্রদায় আজ প্রভাবশালী অবস্থানে পৌঁছেছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে ভোটার সংগঠিত করেছে, নেতৃত্ব তৈরি করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থেকেছে। পিয়া রহমানের মতো বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর পরাজয় অনেকের জন্য হতাশাজনক হতে পারে। তবে রাজনৈতিক সাফল্য খুব কম ক্ষেত্রেই প্রথম প্রচেষ্টায় আসে। প্রতিনিধিত্বের পথ সাধারণত দীর্ঘ, ধৈর্য ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল। সবশেষে, মঙ্গলবারের নির্বাচন একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেছে। মামদানির ঢেউ কি সাময়িক, নাকি এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যতের ইঙ্গিত? ইতিহাস বলে, বিদ্রোহী আন্দোলন ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছালে তার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা শুরু হয়। প্রতিবাদ করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু শাসন করা কঠিন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু বাজেট পাস করা কঠিন। আন্দোলন গড়ে তোলা সহজ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জোট ধরে রাখা কঠিন। মামদানি এবং তাঁর সমর্থিত প্রার্থীরা এখন সেই কঠিন পথের শুরুতে দাঁড়িয়ে আছেন। মঙ্গলবার তারা নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা শুধু পরিবর্তনের প্রতীক নন, পরিবর্তন বাস্তবায়নের সক্ষমতাও রাখেন। নিউইয়র্কের ভোটাররা তাদের জন্য একটি দরজা খুলে দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রজন্ম সেই দরজা দিয়ে ইতিহাসের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে কি না।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা-মা আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা ও পরিচর্যার অভাবে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিল। আদালত এই ঘটনাকে 'অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল' হিসেবে উল্লেখ করেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি অ্যালবানি শহর থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত করিন্থ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন বছরের জয়সলিন ডিলেউস্কিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সে সময় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবের কারণে শিশুটির শরীরে গুরুতর রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত হৃদ্যন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে তার শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ক্লোনিডিন নামের একটি ওষুধের উপস্থিতিও পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখেন। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা ৩৬ বছর বয়সী ম্যাথিউ ডিলেউস্কি এবং মা ৩৩ বছর বয়সী সামান্থা ডিলেউস্কি 'অপরাধমূলক অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর' অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। চলতি মাসে আদালত তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, তদন্তে উদ্ধার হওয়া বার্তালাপে দেখা যায়, শিশুটিকে ক্লোনিডিন ওষুধ দেওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। এছাড়া শিশুটির মৃত্যুর পর ওই ওষুধ শরীরে কতক্ষণ থাকে, সে সম্পর্কেও ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়। অন্যদিকে সামান্থা প্রথমদিকে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছিলেন, শিশুটির শারীরিক দুর্বলতার কারণ জন্মগত হৃদ্রোগ। তবে প্রসিকিউটররা আদালতে জানান, চিকিৎসা পরীক্ষায় শিশুটির হৃদ্যন্ত্রে এমন কোনো জন্মগত সমস্যা পাওয়া যায়নি। তদন্তে অ্যাপার্টমেন্টটির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও উঠে আসে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা, পচা খাবার, মাছি, ময়লা এবং অপরিচ্ছন্নতার চিত্র দেখা যায়। পরে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ করা ছবিতেও বাসার অত্যন্ত নোংরা পরিবেশের প্রমাণ মিলেছে। সারাটোগা কাউন্টির বিচারক জেমস আর. ডেভিস রায় ঘোষণার সময় বলেন, তার বিচারিক জীবনে এত ভয়াবহ প্রাক-সাজা মূল্যায়ন প্রতিবেদন খুব কমই দেখেছেন। তিনি বলেন, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে কষ্ট পেয়েছে এবং পরিবারের অন্য শিশুরাও সেই অবহেলার সাক্ষী ছিল। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, দম্পতির জীবিত থাকা অন্য চার সন্তানের সঙ্গে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। রায় ঘোষণার সময় সামান্থা আদালতে বলেন, সন্তানদের রক্ষা করা একজন মায়ের দায়িত্ব ছিল, কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে ম্যাথিউ বলেন, তিনি চান তার পরিবর্তে তার মেয়ে বেঁচে থাকুক। এদিকে এই ঘটনার পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা 'জয়সলিনস ল' নামে একটি নতুন আইন প্রস্তাব করেছেন। প্রস্তাবটি পাস হলে অপরাধমূলক অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনায় সর্বোচ্চ সাজা ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া নিয়ন্ত্রিত ১০ লাখের বেশি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া আগামী বছর বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শহরের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড। বৃহস্পতিবারের এই ভোটকে নতুন মেয়র জোহরান ম্যামদানির আবাসন নীতির প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভাড়া স্থির রাখার সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে ভাড়াটিয়াদের স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি নতুন আবাসন সংকট তৈরি করতে পারে। চলতি বছরের মে মাসে নয় সদস্যের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড ভাড়া শূন্য শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় আনে। নির্বাচনী প্রচারণায় ম্যামদানি ভাড়া নিয়ন্ত্রিত বাসার ভাড়া না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এই ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ম্যামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের পর তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে ভাড়া স্থির রাখার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সেটিকে তার জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেও দেখা হবে। তবে আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্ধান্তটির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবা প্রয়োজন। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, ভাড়া স্থির রাখার ধারণা শুনতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব আবাসন খাতকে দুর্বল করে দিতে পারে। তার ভাষ্য, ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা, জ্বালানি, সম্পত্তি কর এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় প্রতি বছরই বাড়ছে। কিন্তু ভাড়া না বাড়লে ভবনের মালিকদের আয়ও স্থির থাকবে। এতে ভবন মেরামত, সংস্কার এবং পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট বসবাসযোগ্য রাখতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। নিউইয়র্কের ক্ষুদ্র সম্পত্তি মালিকদের সংগঠনের সভাপতি অ্যান করচাকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের নিজস্ব পরিচালন ব্যয় সূচক অনুযায়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রিত ভবনের ব্যয় গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। শুধু বীমা খরচই এক বছরে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, বাস্তব ব্যয় বাড়লেও ভাড়া অপরিবর্তিত রাখলে ছোট ভবনের মালিকরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন। ম্যামদানি অবশ্য ভবনের মালিকদের বীমা ব্যয় কমাতে নগর প্রশাসনের সহায়তায় একটি নতুন বীমা কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এছাড়া কোন ভবন বা মালিক এই সুবিধা পাবেন, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আয় কমে গেলে অনেক মালিক ভবন সংস্কার বিলম্বিত করবেন অথবা খালি থাকা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার পরিবর্তে ফাঁকা রাখতেই আগ্রহী হবেন। এতে ভাড়া নিয়ন্ত্রিত আবাসনের সংখ্যা কার্যত কমে যেতে পারে। বর্তমানে নিউইয়র্কে প্রায় ৫০ হাজার 'ঘোস্ট অ্যাপার্টমেন্ট' রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো এমন ভাড়া নিয়ন্ত্রিত বাসা, যা দীর্ঘদিন খালি থাকলেও পুনরায় ভাড়ার বাজারে আনা হয়নি। সমালোচকদের মতে, ভাড়া স্থির রাখার সিদ্ধান্ত এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। জেক ক্রিমেলের মতে, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কঠোর নীতি অনেক সময় নতুন সমস্যার জন্ম দেয়। তিনি ২০১৯ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে পরিচালিত একটি গবেষণার উদাহরণ তুলে ধরেন। সেখানে দেখা যায়, কঠোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ আবাসনের সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যায়। অনেক মালিক ভবন বিক্রি করে দেন অথবা উচ্চমূল্যের কন্ডোমিনিয়ামে রূপান্তর করেন। যদিও নিউইয়র্কের আবাসন বাজার সান ফ্রান্সিসকোর তুলনায় ভিন্ন, তবুও অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ভবনের মালিকরা পর্যাপ্ত আয় না পান, তাহলে তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে ভবনের মানের অবনতি, খালি অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাজারে নতুন ভাড়ার বাসার সংকট আরও তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে ম্যামদানির সমর্থকদের যুক্তি, নিউইয়র্কের অর্ধেকেরও বেশি ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়িভাড়ার পেছনে ব্যয় করেন। জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় ভাড়া স্থির রাখা লাখো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাড়াটিয়াদের স্বস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবনের মালিকদের জন্যও কার্যকর আর্থিক সহায়তা, সংস্কার তহবিল এবং কঠোর তদারকির ব্যবস্থা না থাকলে শুধু ভাড়া স্থির রাখার নীতি দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে। নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় ভাড়াটিয়া ও সম্পত্তি মালিক, উভয় পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বাহিনীতে একসঙ্গে এক হাজারের বেশি নতুন পুলিশ কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন। ছয় মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করার পর তারা এখন শহরের বিভিন্ন ইউনিট ও কমান্ডে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত। বুধবার (২৪ জুন) নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) তাদের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে জানায়, নতুন এই ব্যাচে এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রশিক্ষণকাল জুড়ে তারা আইন প্রয়োগ, জননিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, কমিউনিটি পুলিশিং এবং পেশাগত আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গেছেন। এনওয়াইপিডি তাদের বার্তায় নতুন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের সেবায় নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য তারা এখন প্রস্তুত। একই সঙ্গে নতুন কর্মস্থলে যোগদানকারী এসব কর্মকর্তার সফলতা কামনা করেছে বিভাগটি। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নগর পুলিশ বাহিনী হিসেবে পরিচিত এনওয়াইপিডি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবসর, পদত্যাগ এবং জনবল সংকটের কারণে নতুন সদস্য নিয়োগে জোর দিয়েছে। কর্মকর্তাদের সংখ্যা ধরে রাখা এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে নতুন ব্যাচ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির ফলে টহল কার্যক্রম, জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পুলিশি সেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এনওয়াইপিডির ভেরিফায়েড পোস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন কর্মকর্তারা ছয় মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে কর্মভার গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কংগ্রেসনাল ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি বা অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে। নিউইয়র্ক সিটির প্রগতিশীল ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থনে লড়াকু তিন বামপন্থী প্রার্থী এক বিশাল জয় পেয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেয়রের সমর্থনপুষ্ট এই তিন প্রার্থী—ব্র্যাড ল্যান্ডার, ক্লেয়ার ভালদেজ এবং দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন প্রার্থী সরাসরি ডেমোক্র্যাট দলের বর্তমান ও দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্যদের পরাজিত করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মতাদর্শের মেয়র জোহরান মামদানির জন্য এটি একটি বিশাল রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটি শুধু বেশি সংখ্যায় ডেমোক্র্যাট নির্বাচিত করার বিষয় নয়, বরং আরও যোগ্য ও ভালো ডেমোক্র্যাট নির্বাচিত করার লড়াই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের সাধারণ ভোটাররা ঐতিহ্যবাহী ও প্রচলিত ধারার রাজনীতির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এবং তাঁরা নেতৃত্বে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন বা বাড়ি সাফ করতে প্রস্তুত। মেয়রের প্রার্থীরা মূলত ভোটারদের সেই পরিবর্তনকামী মনোভাব ও ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ডেমোক্র্যাট দলের বড় বড় নীতি-নির্ধারক ও প্রতিষ্ঠিত নেতাদের ওপর। বিশেষ করে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিসের মতো শীর্ষ নেতাদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। ভোটাররা ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের দুর্বল প্রতিরোধে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এই ফলাফলের কারণে সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারের মতো দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বাঘা বাঘা নেতারা ২০২৮ সালের পরবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি এই জয়ের সূত্র ধরে প্রগতিশীল নেত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ আগামীতে চাক শুমারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তিনটি আসনের ভোটের চিত্রে দেখা যায়, ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ব্রুকলিন ও কুইন্সের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত আসনে অবসর নেওয়া প্রবীণ কংগ্রেসওম্যান নিদিয়া ভেলাজকুয়েজের উত্তরসূরি হিসেবে জয়ী হয়েছেন ক্লেয়ার ভালদেজ। তিনি বর্তমান মেয়রের সমর্থনে লড়ে অন্য সব বড় প্রার্থীকে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে লোয়ার ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের এই আসনে নিউইয়র্ক সিটির সাবেক কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার সরাসরি হারিয়ে দিয়েছেন বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে। গত বছরের মেয়র নির্বাচনে মামদানি ও ল্যান্ডার একে অপরকে পারস্পরিক সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে এই রাতের সবচেয়ে বড় ও চমকপ্রদ ঘটনাটি ঘটেছে নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে। এখানে ওয়াশিংটন হাইটস ও হারলেম এলাকায় মেয়র মামদানির সমর্থনে জয়ী হয়েছেন দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার। তিনি ২০১৭ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা এবং কংগ্রেসনাল হিস্পানিক ককাসের চেয়ারম্যান আদ্রিয়ানো এস্পাইলাতকে সরাসরি ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন। অথচ পরাজিত এই হেভিওয়েট প্রার্থীকে স্বয়ং গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও দলের শীর্ষ নেতারা সমর্থন করেছিলেন। নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটদের এই বামপন্থী বা প্রগতিশীল মোড় রিপাবলিকানদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। রিপাবলিকানরা সাধারণ মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে এই বিষয়টিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই অভ্যন্তরীণ ভোট প্রমাণ করেছে যে, আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে প্রগতিশীল ও তরুণ প্রজন্মের এক নতুন ঢেউ আছড়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক বাছাই বা প্রাইমারি রেসে এক ঐতিহাসিক জয় লাভ করেছেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী আবের কাওয়াস। কুইন্সের এই নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট আদর্শ এবং গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তহবিল বন্ধ করার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এক নতুন রেকর্ড গড়লেন। নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানির সরাসরি সমর্থন ও জোরালো প্রচারণার পর আবের কাওয়াস এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হতে সক্ষম হন। নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনি অভিবাসী দম্পতির ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অভিবাসন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং নিউইয়র্কের তীব্র আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলেন। মেয়রের তিন প্রধান প্রাইমারি জয়ের ধারাবাহিকতায় এই জয় ডেমোক্রেটিক পার্টিকে সমাজতান্ত্রিক ধারায় রূপান্তরের চেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে। নির্বাচনী জয়ের পর কাওয়াসের রাজনৈতিক অবস্থান ও তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট নিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি তাঁর ওয়েবসাইটে মেয়র জোহরান মামদানির সাথে যৌথভাবে শুরু করা ‘নট অন আওয়ার ডাইম’ নামক একটি বিশেষ প্রচারণার নেপথ্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো নিউইয়র্কে নিবন্ধিত বা অবস্থিত কোনো সংস্থা বা চ্যারিটি যাতে ইসরায়েলকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দিতে না পারে, তা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। এই প্রচারণার মূল স্লোগান হলো ‘ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধে নিউইয়র্কের তহবিল বন্ধ করো’। তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নিউইয়র্ক স্টেট মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতাকে ভর্তুকি দিয়ে সহায়তা করছে। কাওয়াসের ওয়েবসাইটে পশ্চিম তীর এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যার কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যার উল্লেখ থাকলেও সেখানে ৭ অক্টোবরের ঘটনার কোনো উল্লেখ করা হয়নি। এই রাজনৈতিক প্রচারণার সাথে সম্পর্কিত একটি নতুন বিল প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিউইয়র্কের অলাভজনক বা চ্যারিটি সংস্থার আইন সংশোধন করার দাবি জানায়। এর উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে নিউইয়র্ক-ভিত্তিক চ্যারিটিগুলো থেকে প্রতি বছর যে প্রায় ৬ কোটি ডলারের তহবিল যায়, তা সম্পূর্ণরূপে আটকে দেওয়া। যদি এই বিলটি পাস হয়, তবে নিউইয়র্কের কোনো সিনাগগ বা ইহুদি কর্পোরেশন জাকা বা ইউনাইটেড হাতজালাহের মতো সংস্থাকে অর্থ দিলে অন্তত ১০ লাখ ডলার জরিমানা বা মামলার মুখোমুখি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল একটি ধারাবাহিক জনসাধারণের কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহর ও জাতি গঠনে অবদান রাখা বিভিন্ন সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো হবে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে অভিবাসী জনগোষ্ঠী, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবদান। আয়োজকদের মতে, নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে এসব সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলিয়া মেনিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের অবদান অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস গঠনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনের মাধ্যমে সেই অবদানগুলোকে নতুনভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং নিউইয়র্ক সেই গল্পগুলো উদযাপন করতে গর্বিত। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সিটি হলের কাউন্সিল চেম্বারে ‘লিগেসি কুইল্ট প্রজেক্ট’ প্রদর্শিত হবে। এতে আফ্রিকান আমেরিকানদের খাদ্যসংস্কৃতি এবং জাতীয় খাদ্য ঐতিহ্যে তাদের অবদান তুলে ধরা হবে। ৪০৬টি হাতে তৈরি অংশ নিয়ে গঠিত এই কুইল্টে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অবদানের ইতিহাস সংরক্ষিত হয়েছে। এছাড়া ২৫ জুন সিটি হল পার্কে ‘উই দ্য সিটি: কবিতা পাঠ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সেখানে বিখ্যাত কবিতা “দ্য নিউ কলোসাস” বিভিন্ন ভাষায় পাঠ করা হবে, যা নিউইয়র্কের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরবে। ১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে ‘উই দ্য সিটি’ শীর্ষক ডিজিটাল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এতে অভিবাসীদের ইতিহাস ও অবদান বিভিন্ন ঐতিহাসিক ছবি এবং গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড মিউজিয়াম এবং ব্রঙ্কস চিলড্রেনস মিউজিয়ামসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই প্রদর্শনীর প্রজেকশন দেখানো হবে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নান্তাশা উইলিয়ামস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান এবং অভিবাসীদের অবদানকে কেন্দ্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তার মতে, ইতিহাস, সংস্কৃতি, খাদ্য ও শিল্পের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের সামনে সেই অবদানের গল্প তুলে ধরবে। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মুরাদ আওয়াওদেহ বলেন, অভিবাসীরা নিউইয়র্কের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের গল্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নিউইয়র্কের অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শহরের বৈচিত্র্যকে উদযাপন করবে। আয়োজকদের ভাষ্য, ‘আমেরিকা ২৫০’ শুধু একটি ঐতিহাসিক উদযাপন নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্র গঠনে অবদান রাখা সব সম্প্রদায়ের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কুখ্যাত সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের আসামি জোয়েল রিফকিনের সাবেক বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে আসার পর দ্বিতীয়বারের মতো মূল্য কমানো হয়েছে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাড়িটির দাম কয়েক দফায় হ্রাস পাওয়ায় বিষয়টি দেশটির আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লং আইল্যান্ডের ইস্ট মেডো এলাকার একটি শান্ত আবাসিক সড়কে অবস্থিত চার শয়নকক্ষের বাড়িটি চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। তখন এর মূল্য ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ২৫ হাজার ডলার। তবে বাজারে আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তালিকাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ২৬ মে বাড়িটি আবার বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হলে দাম কমিয়ে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ আরও ২০ হাজার ডলার কমিয়ে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটিকে একটি সুপরিচর্যিত ও প্রশস্ত আবাসন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের কোণার জমির ওপর নির্মিত বাড়িটিতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো, আধুনিকায়ন করা রান্নাঘর, বড় আকারের শয়নকক্ষ এবং অতিরিক্ত সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান মালিকরা ২০১১ সালে জোয়েল রিফকিনের পরিবারের কাছ থেকে বাড়িটি ৩ লাখ ২২ হাজার ডলারে কিনেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা সেখানে বসবাস করেছেন। জোয়েল রিফকিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ ইতিহাসে বহুল আলোচিত একটি নাম। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্ক অঞ্চলে একাধিক নারী হত্যার ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে একাধিক হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড পান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে তার নাম যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কুখ্যাত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মামলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বাড়ির সঙ্গে আলোচিত অপরাধের ইতিহাস জড়িত থাকলে তা অনেক সময় সম্পত্তির বাজারমূল্য এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের আগ্রহের ওপর প্রভাব ফেলে। যদিও বাড়িটির অবস্থান, আয়তন ও রক্ষণাবেক্ষণের মানকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবুও এর অতীত ইতিহাস বিক্রয় প্রক্রিয়াকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন অনেক বাড়ি রয়েছে, যেগুলো ঐতিহাসিক বা আলোচিত ঘটনার কারণে সাধারণ আবাসনের চেয়ে বেশি জনদৃষ্টি আকর্ষণ করে। ইস্ট মেডোর এই বাড়িটিও বর্তমানে সেই ধরনের সম্পত্তির তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নিউইয়র্কের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ির এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় পর্যটক রোমাঞ্চ মহাজনের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত এবং বহুল আলোচিত ‘রাইডার্স ল’-এর নাম পরিবর্তন করে এখন ‘রোমাঞ্চস ল’ বা রোমাঞ্চের আইন রাখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে পরিবারের সাথে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ঘোরার সময় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার শিকার হন সদ্য হাইস্কুল পেরোনো ওই তরুণ। সিটি কাউন্সিলম্যান ক্রিস মার্টে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করে নিহত কিশোরের প্রতি সম্মান জানাতে এর নতুন নামকরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, গত বুধবার সেন্ট্রাল পার্কের চেরি হিল ফাউন্টেনের কাছে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য গাড়ির চালক নিয়ম ভেঙে নিচে নামলে ঘোড়াটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছুটতে শুরু করে। এ সময় রোমাঞ্চের মা গাড়ি থেকে ছিটকে পড়লে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে রোমাঞ্চ নিজেও লাফ দেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প চালকের এমন দায়িত্বহীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই চালকদের গাড়ি ছেড়ে ছবি তুলতে যাওয়ার নিয়ম নেই। ঘটনার পর ওই চালককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার সাথে জড়িত ‘স্যাম্পসন’ নামের সাত বছর বয়সী ঘোড়াটিকেও স্থায়ীভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘোড়ার গাড়ির কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা রোধে ২০২২ সালে তীব্র গরমে ‘রাইডার’ নামের একটি ঘোড়ার মৃত্যুর পর সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান বব হোলডেন এই বিলটি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন। সোমবার সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত এক স্মরণসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর নতুন নাম ঘোষণার কথা রয়েছে। সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসে বিলটির ওপর একটি বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানিও তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় এই বিপজ্জনক শিল্পটি বন্ধের বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। সিটি কাউন্সিলের দাবি, এই বিলটি পাস হলে নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ির দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে এবং এর সাথে জড়িত কর্মীরা তুলনামূলক নিরাপদ ও স্থিতিশীল পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে রক ব্যান্ড ‘গুজ’-এর কনসার্ট চলাকালে এক দর্শক উঁচু স্থান থেকে পড়ে মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তির বয়স ৫১ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫১ মিনিটে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ভেতরে এক ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে অচেতন ও সাড়া না দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান কর্মকর্তারা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একটি উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়ে যান। পরে তাকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে তিনি কত উচ্চতা থেকে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর ‘গুজ’ ব্যান্ড এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে। ব্যান্ডটি জানায়, কনসার্ট চলাকালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে তারা ভীষণভাবে মর্মাহত। বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ রাতের অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এই দুঃখজনক ঘটনার খবর পেয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাই। জরুরি সেবাকর্মী ও ভেন্যুর কর্মীদের ধন্যবাদ, যারা দ্রুত সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ঘটনার পর ভেন্যুর কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত সাত সারি আসন খালি করে দেন। সংগীতবিষয়ক তথ্যভান্ডার সেটলিস্ট ডটএফএমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরও ব্যান্ডটি তাদের নির্ধারিত ১৬টি গানের সম্পূর্ণ পরিবেশনা শেষ করে। কনসার্টটি মধ্যরাতের কিছু আগে শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটভিত্তিক ‘জ্যাম ব্যান্ড’ গুজ তাদের ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন সফরের অংশ হিসেবে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে টানা দুই রাতের অনুষ্ঠান করছিল। তাদের এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৯টি শহরে মোট ২৭টি কনসার্টের সূচি রয়েছে। এদিকে অনুষ্ঠানটি অ্যামাজন মিউজিকের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করা হচ্ছিল। ঘটনার কারণ এবং কীভাবে ওই ব্যক্তি পড়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোচুল যৌনকর্মীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার একটি পাইলট কর্মসূচির মেয়াদ নীরবে বৃদ্ধি করেছেন। এই প্রকল্পের জন্য সাধারণ করদাতাদের প্রায় আড়াই মিলিয়ন বা ২৫ লাখ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। ২০২৩ সালে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ এই প্রকল্পের অধীনে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের করের ১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছিল। তবে সম্প্রতি গণমাধ্যমের হাতে আসা নতুন নথিপত্র অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে এতে অতিরিক্ত আরও ১.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে। এই উদ্যোগের আওতায় নিউইয়র্ক সিটি এবং বাফেলো এলাকার যৌনকর্মীরা প্রাথমিক, যৌন, আচরণগত এবং দাঁতের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে পেতে থাকবেন। তবে রাজ্য আইনসভার কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চালু হওয়া এই কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের সুবিধা পরোক্ষভাবে পতিতাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীদের অভিযোগ, পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দিতে চাওয়া মেয়র জোহরান মামদানি এবং অন্যান্য কট্টর বামপন্থি ডেমোক্র্যাটদের সন্তুষ্ট করতেই গভর্নর হোচুল এই কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। রিপাবলিকান দলের রাজ্য অ্যাসেম্বলিম্যান মাইকেল নোভাখভ এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটরা কট্টর বামপন্থিদের খুশি করতে কতটা মরিয়া, এটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। যেখানে জরুরি স্বাস্থ্যকর্মীরা (ইএমটি) সামান্য বেতনের কারণে সরকারি খাদ্য সহায়তার (ফুড স্ট্যাম্প) ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন, সেখানে যৌনকর্মীদের চিকিৎসায় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঢালা হচ্ছে। অপর অ্যাসেম্বলিম্যান স্যাম পিরোজোলো দাবি করেন, আসন্ন পুনর্নির্বাচনে নিজের অবস্থান পোক্ত করতেই জনগণের অর্থ ব্যবহার করে কট্টরপন্থিদের সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন হোচুল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বা যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসার জন্য যৌনকর্মীরা অন্যান্য দাতব্য স্বাস্থ্য ক্লিনিক থেকেই বিনামূল্যে সহায়তা নিতে পারেন, এর জন্য আলাদা কোনো ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। এই পাইলট কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ক্যালেন-লর্ড’ এবং ‘ইএইচএস ইনকর্পোরেটেড/এভারগ্রিন হেলথ’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের এইডস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে যৌনকর্মীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর আড়াই লাখ ডলার করে অর্থ পাবে। গত বছর মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও ‘কর্মসূচির মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন’ উল্লেখ করে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে যাবতীয় সমালোচনার জবাবে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ এই সম্প্রসারণকে সমর্থন করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, নিউইয়র্কের সব নাগরিকেরই মানসম্মত ও বাধামুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির আইকনিক সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ির দুর্ঘটনায় এক কিশোর পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এই বাহনটি চিরতরে নিষিদ্ধ করার দাবি জোরালো হয়েছে। রোমাঞ্চ মহাজন (১৮) নামের ওই ভারতীয় কিশোরের মৃত্যুর পর প্রাণী অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠনগুলো নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন অব আমেরিকা (টিডব্লিউইউ) লোকাল ১০০ আগামী সোমবার পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন স্থগিত রেখে চালকদের নিরাপত্তা পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, গত বুধবার সেন্ট্রাল পার্কে ভারতের একটি পরিবারের সাথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘোড়ার গাড়ির চালক পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য তার আসন থেকে নিচে নামলে হঠাৎ ঘোড়াটি ভয় পেয়ে দৌড় দেয়। এ সময় ছিটকে মাটিতে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পান রোমাঞ্চ মহাজন, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ডেকে আনে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ‘নিউইয়র্কারস ফর ক্লিন, লিভেবল, অ্যান্ড সেফ স্ট্রিটস’-এর প্রধান এডিটা বার্নক্রান্ট গণমাধ্যমকে বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে আর কখনোই ঘোড়ার গাড়ির চাকা ঘোরা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই হাজার পাউন্ড ওজনের একটি ভীত প্রাণী যখন ছুটতে শুরু করে, তখন কোনো নিয়ম বা সংস্কারই তা ঠেকাতে পারে না এবং মেয়রকে অবশ্যই দ্রুত এই চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। প্রাণী অধিকার সংস্থা ‘পেটা’ (PETA)-ও মেয়রকে সেন্ট্রাল পার্কের এই ৬৮টি ঘোড়ার গাড়ি অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য নির্বাহী আদেশ জারির দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, গত সপ্তাহে বিষাক্ত উদ্ভিদ খেয়ে ডেনিজ নামের একটি ঘোড়ার মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর ঘটা এই এড়ানোযোগ্য মৃত্যু প্রমাণ করে যে সিটি কাউন্সিল কতটা নিষ্ক্রিয়। যদিও মেয়র মামদানির প্রশাসন শুক্রবার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ঘোড়ার গাড়ি বন্ধ করে চালকদের জন্য ন্যায্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন আগামী ১৫ জুলাই ‘রাইডার্স ল’ নিয়ে একটি শুনানির দিন ধার্য করেছেন, যে আইনটি পাস হলে সেন্ট্রাল পার্কে এই ধরনের রাইড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে। ২০২২ সালে রাইডার নামের একটি ঘোড়া কাজ করার সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর তাকে দয়ামৃত্যু দেওয়া হয়, যার নামানুসারে এই আইনের নামকরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার সাথে জড়িত চালক এরতান গোকদেপে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নিহত কিশোরের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। টিডব্লিউইউ লোকাল ১০০-এর প্রশাসনিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প জানিয়েছেন, শহরের মেডিকেল পরীক্ষকের মতে ভোঁতা বস্তুর আঘাতেই ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে গভীর শোকাবহ উল্লেখ করে জানান, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের জন্য পার্কের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা নিয়ম ও প্রোটোকল পর্যালোচনার কাজ চলছে। ১৮৫৮ সাল থেকে চালু থাকা এই ঐতিহ্যবাহী বাহনে এ ধরনের প্রাণহানি এটাই প্রথম বলে দাবি করে কেম্প বলেন, তারা শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি বৃদ্ধিতেও স্বাগত জানাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।