আমেরিকা

নিউইয়র্কে গাড়ির বীমা খরচ কমাতে বড় বাজেট চুক্তি ঘোষণা করলেন গভর্নর ক্যাথি হোকল

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ৭, ২০২৬ ১৯:৫২
নিউইয়র্কে গাড়ির বীমা খরচ কমাতে নতুন বাজেট চুক্তি ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকল | ছবি: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে গাড়ির বীমা খরচ কমাতে নতুন বাজেট চুক্তি ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকল | ছবি: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গাড়ির বীমা ব্যয় কমাতে নতুন বাজেট চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকল। আলবানিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজ্য বাজেট চুক্তি উপস্থাপন করে তিনি এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।

 

নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজ্যের পুরোনো বীমা আইন আধুনিকায়ন করা হবে এবং বীমা জালিয়াতি ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এর ফলে নিউইয়র্কের লাখো বাসিন্দা সরাসরি আর্থিক স্বস্তি পাবেন।

 

বর্তমানে নিউইয়র্কে গাড়ির বীমা খরচ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। গড়ে একজন চালককে বছরে ৪ হাজার ডলারের বেশি বীমা প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া দুর্ঘটনা, মামলা-মোকদ্দমা এবং বীমা জালিয়াতির কারণে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

গভর্নর হোকল বলেন, “নিউইয়র্কবাসী দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ব্যবস্থার কারণে অস্বাভাবিক উচ্চ বীমা খরচ বহন করছেন। নতুন সংস্কারের মাধ্যমে প্রতারণা কমানো এবং সাধারণ মানুষের ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হবে।”

 

নতুন বাজেট চুক্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত চালকদের ক্ষতিপূরণের সীমা নির্ধারণ। বীমাবিহীন চালক, মদ্যপ অবস্থায় চালক এবং অপরাধ সংঘটনের সময় গাড়ি চালানো ব্যক্তিরাও এর আওতায় থাকবে।

 

এছাড়া “গুরুতর আঘাত” শব্দটির স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে, যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাই বড় ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত দায়ী চালকদের অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগও সীমিত করা হবে।

 

বীমা কোম্পানিগুলো যাতে অযৌক্তিকভাবে প্রিমিয়াম বৃদ্ধি করতে না পারে, সে জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের অনুমোদন ছাড়া প্রিমিয়াম বাড়ানো যাবে না।

 

বাড়ির মালিকানা, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা জিপ কোডের ভিত্তিতে বীমা প্রিমিয়াম নির্ধারণও নিষিদ্ধ করা হবে।

 

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ডিএমভি, ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেস এবং নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ একসঙ্গে কাজ করবে।

 

সিটিজেন্স ফর অ্যাফোর্ডেবল রেটস-এর মুখপাত্র হোসে বায়োনা বলেন, “এটি ব্যয় সংকটে থাকা নিউইয়র্কবাসীর জন্য বড় বিজয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বীমা খরচ বহন করছিলেন।”

 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ l ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা অনুদানে জালিয়াতি ঠেকিয়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ (ইডি) জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে কঠোর পরিচয়-যাচাইকরণ বা আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশনের নতুন নিয়ম চালু করার পর থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার প্রতারকদের হাতে যাওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে। দেশব্যাপী জালিয়াতি প্রতিরোধের এই উদ্যোগে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড বা সরকারি শিক্ষার্থী সহায়তার জন্য আবেদনের সময় সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি এবং ভারপ্রাপ্ত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড চিফ অপারেটিং অফিসার জেমস বার্জারন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, নিয়মটি চালু করার পর থেকে তারা প্রতারকদের হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ যাওয়া ঠেকাতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, তাদের নতুন জালিয়াতি শনাক্তকরণ টুলটি 'ফাফসা' (FAFSA - ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন ফর ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড) ফর্মের শুরুতেই কাজ করে। এটি অর্থ ছাড় হওয়ার আগেই প্রক্রিয়ার শুরুতেই জালিয়াতি আটকে দেয়, যা টাস্কফোর্সের একটি বড় অগ্রাধিকার।   চলতি বসন্তে শিক্ষা বিভাগ সরাসরি অনলাইন ফাফসা অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমে রিয়েল-টাইম এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিচয় স্ক্রিনিং ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এর আগে বিভাগের এক ঘোষণায় বলা হয়, জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এখন সরাসরি ফাফসার ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীকে রিয়েল-টাইমে ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।   যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঝুঁকি দেখা যাবে, তাদের পেল গ্রান্ট এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের মতো সহায়তা পাওয়ার আগে সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, এই টুলটি বর্তমান ফাফসা চক্রের সময় করদাতাদের ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সাশ্রয় করবে। বিভাগের মতে, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন সময়ের একটি প্রয়োজনীয় সংশোধন।   সেসময় পূর্ববর্তী বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন যাচাইকরণের মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো শিথিল করেছিল। বিভাগের দাবি, পূর্ববর্তী ওই নীতিমালার কারণে জালিয়াতি প্রতিরোধের বদলে অন্যান্য দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ফাফসা জমা দেওয়ার পরে মাত্র ১ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থীর পরিচয় যাচাই করা হতো।   নতুন এই উন্নত জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিক ও জটিল সব প্রতারণা রুখতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত বট এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত ঋণ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অসাধু চক্রের তৈরি করা ভুয়া পরিচয় বা 'ঘোস্ট স্টুডেন্টদের' অবরুদ্ধ করে। এই সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকম্যাহন সমস্ত শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচির একটি ব্যাপক পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন বা সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাথে রিয়েল-টাইম ডেটা-শেয়ারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করেন। শুধুমাত্র এই ডেটা-শেয়ারিং উদ্যোগটির মাধ্যমেই মৃত ব্যক্তিদের নামে অর্থ ছাড় রোধ করে এবং পরিচয় চুরি ধরে করদাতাদের প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।   বার্জারন বিষয়টি সম্পর্কে আরও বলেন, আমেরিকান নাগরিকদের গাড়ি চালানো বা বিমানে ওঠার জন্য আইডি দেখাতে হয়। তাই উচ্চশিক্ষার জন্য করদাতাদের দেওয়া হাজার হাজার ডলারের সহায়তা পাওয়ার আগে মানুষের পরিচয় যাচাই করাটাই যৌক্তিক।   নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে শিক্ষা বিভাগ মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাথেও অংশীদারিত্ব করেছে, যাতে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তহবিল কোনোভাবেই অবৈধ অভিবাসীদের হাতে না পৌঁছায়। সংস্থার তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে এবং শুধু সেখান থেকেই আটকে দেওয়া তহবিলের পরিমাণ ছিল ১৭১ মিলিয়ন ডলার।   ঐতিহাসিকভাবে ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজ সিস্টেমের অভ্যন্তরে ঘোস্ট স্টুডেন্টদের কারণে ফেডারেল এবং স্টেট এইডের লাখ লাখ ডলার বেহাত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও সেখানে আশঙ্কাজনক হারে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা দেখা গেছে। প্রাথমিক আবেদন যাচাইকরণের পাশাপাশি, শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন বাহ্যিক ডিজিটাল প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটগুলোর দিকেও কড়া নজর রাখছে। বিভাগটি সম্প্রতি আপডেট করা অনলাইন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে 'ভুয়া কলেজ ওয়েবসাইটগুলো' সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এই সাইটগুলো মূলত এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ব্যবহার করে নিরীহ শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১৮:৩০
ফুলব্রাইট বৃত্তির হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে মাস্টার্স শেষ করলেন সুমাইতা নাহার l ছবি: বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস

ফুলব্রাইট বৃত্তির হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, সফলভাবে মাস্টার্স শেষ করলেন সুমাইতা নাহার

ফুলব্রাইট বৃত্তির আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস l ছবি: বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস

আমেরিকায় পড়ার স্বপ্ন? টিউশন ফি থেকে বিমান ভাড়া—সব খরচ দেবে ফুলব্রাইট

ছবি: আমেরিকা বাংলা

গতকালের রায়ে গ্রিন কার্ডধারীদের বহিষ্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

৪০ লাখ ডলারের মেডিক্যাইড জালিয়াতি l ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় ৪০ লাখ ডলারের মেডিক্যাইড জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত আটলান্টার চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী এক বিশাল অভিযানের অংশ হিসেবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে নতুন করে মেডিক্যাইড প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আটলান্টার এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন এবং একটি সাইকিয়াট্রিক ক্লিনিকের সঙ্গে আলাদা দেওয়ানি নিষ্পত্তির কথা ঘোষণা করেন।   এই পদক্ষেপটি মার্কিন বিচার বিভাগের 'ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন'-এর অংশ। দেশজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন (৬৫০ কোটি) ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে বহু চিকিৎসক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসা পেশাদার রয়েছেন।   এই জালিয়াতির অন্যতম বড় ঘটনায় আটলান্টার ৫২ বছর বয়সী চিকিৎসক মুরেল রুটলেজ জুনিয়রের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ইস্ট পয়েন্ট এলাকায় 'রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রোগীদের এমন সব চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে জর্জিয়া মেডিক্যাইডের কাছে হাজার হাজার বিল জমা দিয়েছেন, যা বাস্তবে কখনোই দেওয়া হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, ক্ষতস্থান পরিচর্যা, অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং সাইকোথেরাপির মতো সেবার কথা বলে ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি ভুয়া বিল করা হয়েছে।   এর মাধ্যমে তিনি অবৈধভাবে মেডিক্যাইড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিক্যাইড ফ্রড অ্যান্ড পেশেন্ট প্রোটেকশন ডিভিশনসহ একাধিক ফেডারেল ও স্টেট সংস্থা যৌথভাবে এই তদন্ত পরিচালনা করে। তবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত রুটলেজকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।   অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় 'অ্যাভ্যান্ট ইন্টারভেনশনাল সাইকিয়াট্রি' এবং ড. ওকাহ অ্যানিওকউ-এর সঙ্গে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের একটি দেওয়ানি নিষ্পত্তি বা সেটেলমেন্টের ঘোষণাও দিয়েছে। রাজ্য তদন্তকারীদের অভিযোগ, ড. অ্যানিওকউ নিজে সেবা দিয়েছেন দেখিয়ে মেডিক্যাইডের কাছে বিল জমা দেওয়া হলেও, বাস্তবে কিছু সেবা অন্যান্য কর্মীদের দ্বারা প্রদান করা হয়েছিল।   এসব কর্মীদের অনেকেরই মেডিক্যাইড প্রোভাইডার হিসেবে লাইসেন্স বা অন্তর্ভুক্তি ছিল না। যদিও এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কোনো দায় স্বীকার করেনি, তবে একজন সাধারণ নাগরিক এবং জর্জিয়ার একটি কেয়ার ম্যানেজমেন্ট সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।   জর্জিয়ার এই ঘটনাগুলো দেশজুড়ে চলা এ বছরের সর্ববৃহৎ সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, এই প্রতারণা চক্রগুলো অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, বেআইনি কমিশন এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত মেডিকেয়ার ও মেডিক্যাইড কর্মসূচির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। টেক্সাসে প্রায় ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি এবং মানব টিস্যু গ্রাফট সংক্রান্ত আরেকটি মাল্টিবিলিয়ন ডলারের প্রতারণার ঘটনাও এই অভিযানের মাধ্যমে সামনে এসেছে।   ২০০৭ সালে মার্কিন বিচার বিভাগের 'হেলথ কেয়ার ফ্রড স্ট্রাইক ফোর্স' গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমার মামলা হয়েছে। জর্জিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাইডের অর্থ সুরক্ষিত রাখা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং এই খাতে দুর্নীতি রোধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১৬:৩৩
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

খাবার চুরি করতে গিয়ে ফাঁস বাবা-মাকে হত্যার ভয়ংকর পরিকল্পনা, উদ্ধার চাঞ্চল্যকর নোটবুক

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

এনওয়াইপিডি কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সহযোগীর ৫ বছরের কারাদণ্ড

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কোর্টহাউসে অভিবাসী গ্রেপ্তারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে লাখো অভিবাসী

মেডিকিয়ার প্রতারণা মামলায় সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ইব্রাহিম হিলমি l ছবিঃ এফ বি আই মিয়ামি
৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির অভিযোগে সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার নাগরিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির একটি বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম হিলমি নামের এক ব্যক্তিকে সাইপ্রাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, হিলমি দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডেলরে বিচ এলাকায় 'সানশাইন সিনিয়র সলিউশনস' নামক একটি মেডিকেল সাপ্লাই স্টোর এবং এর পাশাপাশি আরও একটি কোম্পানি পরিচালনা করতেন। এই জালিয়াতির খবরটি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য মেডিকিয়ারের কাছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল বা ক্লেম জমা দেওয়া হয়েছিল। অথচ বাস্তবে রোগীরা এসব চিকিৎসা সামগ্রী কখনোই পাননি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হংকং-ভিত্তিক একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে।   হিলমির এই গ্রেপ্তার মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী চলমান বড় মাপের একটি ক্র্যাকডাউনের অংশ। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে মোট ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোতে সব মিলিয়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ঘটনা এই মামলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।   মার্কিন বিচার বিভাগের মতে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা বিরোধী সর্ববৃহৎ অভিযানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতারক চক্রের শেকড় এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:২২
অপারেশন রেড কার্ড'-এর অধীনে রোড আইল্যান্ডে গ্রেপ্তারকৃত ৬ জন l ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ঘিরে মানবপাচার ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে 'অপারেশন রেড কার্ড', গ্রেপ্তার ৬

ফোবানা ২০২৬ কনভেনশনের অফিসিয়াল প্রচারণামূলক ব্যানার। ছবি: ফোবানা ২০২৬

ফোবানা ২০২৬: সিলভার প্যাকেজ গ্রহণে বিশেষ সুবিধা, দ্রুত নিবন্ধনের আহ্বান

ফাইল ছবি | আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শুনানি ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কারে আবারও অনুমতি পেল ট্রাম্প প্রশাসন

0 Comments