সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পেন্টাগন

ইরান-সংশ্লিষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সর্বশেষ হিসাব প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে ২১ মার্কিন সেনার মৃত্যু ও আহত ৮৬৫, পেন্টাগনের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও পরবর্তী কার্যক্রমে দেশটির ২১ জন সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৮৬৫ জন। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থার (ডিসিএএস) ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত সপ্তাহে হালনাগাদ করা এই তালিকায় আগে অন্তর্ভুক্ত না থাকা দুটি মৃত্যুর তথ্য যোগ করা হয়েছে। এর ফলে ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির সরকারি সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে।   পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে এখন পর্যন্ত ১৫ জন সেনাসদস্য নিহত এবং ৪১৭ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ৭ জুলাই থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরবর্তী সামরিক কার্যক্রমের জন্য আলাদা ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ শ্রেণি চালু করা হয়েছে। এই শ্রেণিতে ছয়জন নিহত এবং ৪৪৮ জন আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। দুই শ্রেণির হিসাব মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ২১ এবং আহতের সংখ্যা ৮৬৫।   হালনাগাদ হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়া মৃত্যুর মধ্যে রয়েছেন সেনা ন্যাশনাল গার্ডের মেজর সরফ্লি ডেভিয়াস। ৪৬ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা ৬ মার্চ কুয়েতে মারা যান। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাঁর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করতে পারেনি এবং ঘটনাটি যুদ্ধসংক্রান্ত ছিল না বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে মারা যাওয়া নৌবাহিনীর এক সদস্যের মৃত্যুও নতুন হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ওই সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুটি মৃত্যুর তথ্য যোগ করেই পেন্টাগনের সরকারি সংখ্যা ২১-এ পৌঁছেছে।   এর আগে ওয়াশিংটন পোস্ট কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানে নিহত সেনার সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। সে সময় প্রতিরক্ষা বিভাগের সরকারি তথ্যভান্ডারে সব মৃত্যুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে পেন্টাগন তালিকা হালনাগাদ করে। ফলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্য এবং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   তবে ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মারা যাওয়া সব সেনাসদস্যকে একই হিসাবে রাখা হয়নি। মে মাসে ইরাকে প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ২৬ বছর বয়সী সার্জেন্ট ডেভিন এ সাইবেলের মৃত্যু পেন্টাগনের তথ্যভান্ডারে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ওই অভিযান ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের অংশ। তাঁর মৃত্যু ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানের ২১ জনের সরকারি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে কোন সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে কোন মৃত্যু যুক্ত করা হচ্ছে, তা বুঝতে পেন্টাগনের পৃথক শ্রেণিবিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ।   ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী কার্যক্রমের হতাহতের হিসাব আলাদা করে দেখানোর পেছনে রয়েছে অভিযানগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন। হোয়াইট হাউস মে মাসে অপারেশন এপিক ফিউরি সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ার পর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ও সামরিক কার্যক্রমের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন জুলাইয়ে নতুন শ্রেণি চালু করে। এরপর থেকে ৭ জুলাইয়ের পরের হতাহতের তথ্য ওই বিভাগে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এতে সরকারি হিসাবে মোট সংখ্যা বোঝা গেলেও বিভিন্ন সময়ের অভিযান ও মৃত্যুর ধরন আলাদা করে বিবেচনা করতে হচ্ছে।   পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহত ৮৬৫ জনের মধ্যে যুদ্ধের সময় আহত সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযানের আওতায় নথিভুক্ত হতাহতও রয়েছেন। নিহতের সংখ্যায় যুদ্ধের সরাসরি আঘাতে মৃত্যুর পাশাপাশি অযুদ্ধজনিত মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত। তাই এই পরিসংখ্যানকে শুধু সরাসরি যুদ্ধে নিহত সেনার সংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বুঝতে সরকারি তথ্যভান্ডারের শ্রেণিবিন্যাস ও হালনাগাদের তারিখ বিবেচনা করা জরুরি।   সূত্র: পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থা, ওয়াশিংটন পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন না ভ্যান্স, ঘোর আপত্তি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পেন্টাগনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে সম্প্রচার হলে তিনি তা দেখবেন না।    প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসাধারণকে দেখানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ভ্যান্সের বক্তব্যে সম্প্রচার নিয়ে সংশয় উঠে এলেও তিনি হাসানের অপরাধের গুরুত্ব মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিরপরাধ মানুষকে হত্যার ঘটনা যেন আড়ালে না পড়ে।    হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাসংক্রান্ত ভবনে তাঁর গুলিতে ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। আগামী ৩ ডিসেম্বর ওই ঘাঁটিতেই ফায়ারিং স্কোয়াডে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অ্যাডাম টেলে।    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে শুক্রবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও সম্প্রচারের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট সমর্থন জানাননি।    সম্প্রচারের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেখানোর বিরোধিতা করেছেন। একই দলের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অস্টিন স্কটও বলেছেন, তিনি হাসানের মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করেন, কিন্তু তা সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে নন।    রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি পেন্টাগনকে পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর জন কার্টিস প্রাচীন রোমের রক্তাক্ত প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের সম্প্রচার সহিংস দৃশ্যকে বিনোদন হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়াতে পারে। এই মন্তব্য কার্টিসের, ভ্যান্সের নয়।    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের সভাপতি আর্চবিশপ পল এস. কোকলিও সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনী আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি। ফলে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা ছয় দশকের বেশি সময় পর প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড হবে।    তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ হওয়া এবং তা সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। এ ছাড়া বেসামরিক ফেডারেল আদালতে আইনি আবেদন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। সম্প্রচারের ঘোষণা থাকলেও ভ্যান্স ও ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন সরকারের নতুন ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনে ফের ইলন মাস্ক, পেন্টাগনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল পর্যালোচনায় নেতৃত্ব দেবেন

আবারও মার্কিন সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষিত নতুন ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কী ধরনের প্রযুক্তি, অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা প্রয়োজন হবে, তা পর্যালোচনা করাই এই ১২০ দিনের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।   ৩০ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে দেওয়া ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে হেগসেথ প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা চিহ্নিত করা হবে। প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি দ্রুত তৈরি, পরীক্ষা ও সামরিক বাহিনীতে ব্যবহারের বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।   মাস্কের সঙ্গে প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে সহ-নেতৃত্ব দেবেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার নিউট গিংরিচ। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেবেন। পাশাপাশি একাডেমিক, নীতি নির্ধারণী ও শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   হেগসেথের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য নতুন কোনো সামরিক কৌশল বা নীতি তৈরি করা নয়। বরং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র কেমন হতে পারে, সেখানে কোন কোন ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন হবে, তা চিহ্নিত করাই এর কাজ। এর আওতায় উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার, উন্নয়ন ও সামরিক ব্যবহারে নিয়ে আসার পথও খোঁজা হবে।   প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের কাজের পরিধি বেশ বিস্তৃত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নির্দেশিত শক্তি, রোবোটিকস ও জৈবপ্রযুক্তির মতো দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে বলে প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে। মাটির নিচের পরিবেশ থেকে শুরু করে চাঁদের বাইরের মহাকাশ পর্যন্ত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্র নিয়েও প্রকল্পটিতে চিন্তা করা হবে।   প্রকল্পটির জন্য ১২০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে এর পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনটির একটি অশ্রেণিবদ্ধ সংস্করণ প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে একটি শ্রেণিবদ্ধ অংশও থাকার কথা রয়েছে।   এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক বছরের বেশি সময় পর আবারও মার্কিন সরকারের কাজে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরছেন মাস্ক। এর আগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি বা ডোজের নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে সেই দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকারের সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক ভূমিকার সমাপ্তি ঘটে। প্রজেক্ট মেরিডিয়ানকে তাঁর সরকারি কাজে ফেরার নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম।   ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থনের মাধ্যমে মাস্ক তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। পরে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত একটি আইন নিয়ে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয়। তবে পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্ককে আবারও দেখা গেছে।   পেন্টাগনের সঙ্গে মাস্কের ব্যবসায়িক সম্পর্কও আগে থেকেই রয়েছে। তাঁর মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। অন্যদিকে প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে তাঁর সহ-নেতা পালমার লাকির প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলও মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে কাজ করে। ফলে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে এই উদ্যোগে বেসরকারি প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে।   প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের পাশাপাশি হেগসেথ একই ভাষণে স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধের জন্য নতুন একটি কমান্ড গঠনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ওই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও সামনে এসেছে।   প্রতিবেদিত তথ্য অনুযায়ী, প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে মাস্কের ভূমিকা মূলত ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনা ও সুপারিশ করা। অর্থাৎ তিনি পেন্টাগনের নিয়মিত সামরিক কমান্ড কাঠামোর দায়িত্ব নিচ্ছেন না। বরং প্রতিরক্ষা দপ্তরের অধীনে নির্দিষ্ট সময়ের এই উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দেবেন এবং প্রকল্পের সুপারিশ তৈরিতে অংশ নেবেন।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা, পেন্টাগনের কালো তালিকা থেকে বেরোতে পারল না অ্যানথ্রপিক
যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা, পেন্টাগনের কালো তালিকা থেকে বেরোতে পারল না অ্যানথ্রপিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেলো জনপ্রিয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর পেন্টাগন যে সামরিক চুক্তির নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তা স্থগিত করতে শুক্রবার অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত।   ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়া সার্কিটের ইউএস কোর্ট অফ আপিলস এই রায় প্রদান করে। পেন্টাগনের 'সাপ্লাই চেইন রিস্ক' বা সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি হিসেবে আখ্যায়িত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে অ্যানথ্রপিক মূলত এই মামলাটি দায়ের করেছিল। স্টার্টআপটির দাবি, সামরিক চুক্তি থেকে বাদ পড়ার ফলে তাদের ব্যবসা থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।   একইসঙ্গে, বহুল প্রতীক্ষিত ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) বা শেয়ারবাজারে প্রবেশের ঠিক আগমুহূর্তে এই নিষেধাজ্ঞা তাদের সুনামের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   আদালতের এই রায়ের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে যে, তারা বিনয়ের সঙ্গে আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তবে নিজেদের আইনি অবস্থানের বিষয়ে তারা এখনো আত্মবিশ্বাসী এবং প্রয়োজনে আরও উচ্চতর বিচারিক পর্যালোচনাসহ অন্যান্য আইনি বিকল্পগুলোর কথা গভীরভাবে বিবেচনা করছে।   উল্লেখ্য, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোর একজন ফেডারেল বিচারক ভিন্ন একটি আইনের অধীনে করা একই ধরনের একটি নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ বাতিল করে দিয়েছিলেন। ওই বিচারক তার রায়ে জানিয়েছিলেন যে, এআই নিরাপত্তার বিষয়ে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই মার্কিন প্রশাসন বেআইনিভাবে তাদের ওপর এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কর্মকর্তা শরীফুল এম. খান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগনে স্পেস ফোর্সের দায়িত্বে বাংলাদেশি জেনারেল শরীফুল খান

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কর্মকর্তা শরীফুল এম. খান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পৌঁছেছেন। ২০২৫ সালের ৩০ জুন থেকে তাঁর পদোন্নতি কার্যকর হয়। বর্তমানে তিনি পেন্টাগনে মার্কিন স্পেস ফোর্সের সদর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে এ পদে পৌঁছানো প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস।    স্পেস ফোর্সের হালনাগাদ জীবনী অনুযায়ী, শরীফুল খান ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান দায়িত্বে আছেন। সদর দপ্তরের নীতি, পরিকল্পনা ও বিভিন্ন বিভাগের কাজের সমন্বয় তাঁর দায়িত্বের অংশ। এর আগে তিনি পেন্টাগনে ‘গোল্ডেন ডোম ফর আমেরিকা’ কর্মসূচির ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন বলে ২০২৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাই ওই পদকে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।    শরীফুল খান ১৯৯৭ সালে ইউএস এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে কমিশন পান। সামরিক জীবনে স্যাটেলাইট পরিচালনা, স্পেস সিস্টেম ও উৎক্ষেপণসংক্রান্ত কাজে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১ সালে তিনি কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে এবং ২০০৭ সালে ‘অপারেশন সাইলেন্ট সেন্ট্রি’তে দায়িত্ব পালন করেন।    ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ৩৭৯তম স্পেস রেঞ্জ স্কোয়াড্রনের কমান্ডার ছিলেন। পরে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কলোরাডোয় ৩১০তম স্পেস উইংয়ের নেতৃত্ব দেন। স্পেস ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই দায়িত্বে প্রায় ১ হাজার ৫০০ সামরিক সদস্যের কার্যক্রম তদারক করেছেন তিনি।    সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি স্পেস সিস্টেমস অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট, স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স ও মিলিটারি স্ট্র্যাটেজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। তাঁর পাওয়া সম্মাননার মধ্যে রয়েছে লিজিয়ন অব মেরিট, ডিফেন্স মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল ও মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল। সূত্র : আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যু দ্ধে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের মধ্যে নতুন করে এক সেনা কর্মকর্তার মৃ ত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধে নি হ ত আরও এক মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ, মৃ ত্যুর সংখ্যা ১৯

সৌদি আরবে একটি অ-যু দ্ধসংক্রান্ত ফ্লাইটে গত সপ্তাহে নি হ ত হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন। ভার্জিনিয়ার নরফোকের বাসিন্দা উইলকারসন ১৮ সেপ্টেম্বর মৃ ত্যু বরণ করেন। মৃ ত্যুর পর তাকে মেজর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।   মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ক্যাজুয়েলটি ডেটাবেস অনুযায়ী, তার মৃ ত্যুর পর অপারেশন এপিক ফিউরি এবং ওভারসিজ অপারেশনসের আওতায় মোট ১৯ জন মার্কিন সামরিক সদস্যের মৃ ত্যুর তথ্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব হ তাহতকে দুটি পৃথক শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।   উইলকারসন কাতারের দোহায় ওভারসিজ অপারেশনসের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সাউথ ক্যারোলাইনায় শ’ এয়ার ফোর্স বেসে অবস্থিত ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল ও থার্ড আর্মির হেডকোয়ার্টার্সের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উইলকারসনের মৃ ত্যু কোনো যু দ্ধসংক্রান্ত ঘটনার কারণে হয়নি। সৌদি আরবের উদ্দেশে পরিচালিত একটি অ-যু দ্ধ ফ্লাইটের সময় ঘটনাটি ঘটে। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে বা তার মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে ত দন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। ত দন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃ ত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   উইলকারসনের মৃ ত্যুর তথ্য বিদেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত কার্যক্রমে সাম্প্রতিক হ তাহতের হিসাবের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। পেন্টাগন অপারেশন এপিক ফিউরি এবং অন্যান্য ওভারসিজ অপারেশনের মৃ ত্যুর তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করছে।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনাসদস্যের প্রকাশ্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে নতুন করে এক মার্কিন সেনার মৃত্যু! পরিচয় প্রকাশ করল পেন্টাগন, নিহতের সংখ্যা ১৯

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনাসদস্যের প্রকাশ্য সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগনের প্রকাশ্য সামরিক হতাহতের ডাটাবেসে নতুন করে এক নারী আর্মি অফিসারের মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হওয়ার পর এই সংখ্যা দাঁড়ায়। ওই কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে সামরিক বিমানে যাওয়ার সময় প্রাণঘাতী শারীরিক জরুরি অবস্থার শিকার হন বলে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।    ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ওই নারী অফিসারের মৃত্যু ঘটে। তবে পেন্টাগন তখনও তার মৃত্যুর বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি। পরে ২১ সেপ্টেম্বর ডিফেন্স ক্যাজুয়েলটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমে নতুন তথ্য যুক্ত করা হয়। নিহত সেনার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।    নতুন মৃত্যুর তথ্যটি পেন্টাগনের ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ ক্যাটাগরিতে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে ইরান যুদ্ধসংশ্লিষ্ট প্রকাশ্য হিসাবের মধ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে ১৪ জন এবং আলাদা ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ ক্যাটাগরিতে পাঁচজনের মৃত্যু তালিকাভুক্ত হয়েছে। পেন্টাগনের প্রকাশ্য ডাটাবেসে এই দুই ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা এখন ১৯।    তবে মার্কিন সেনা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে ছয় মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রকাশ্য ডাটাবেসের চেয়ে বেশি হতে পারে। ওই প্রতিবেদনের সময় পেন্টাগনের প্রকাশ্য হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৮ জন। পেন্টাগন ওই হিসাবের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।    নতুন করে ১৯তম মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হওয়ায় যুদ্ধের সামরিক হতাহতের হিসাব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত সেনাদের মৃত্যুর ধরন এবং কোন অপারেশনের সঙ্গে তাদের মৃত্যু যুক্ত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সামরিক বাহিনীতে কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর তার মৃত্যু দায়িত্ব পালনের সময় ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক তদন্ত করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরিবারের প্রাপ্য বিভিন্ন সুবিধা ও সারভাইভার বেনিফিটের বিষয়ও যুক্ত থাকতে পারে।    পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরির অধীনে তালিকাভুক্ত ১৪ মৃত্যুর মধ্যে সাতজনের মৃত্যু ‘হোস্টাইল’ এবং সাতজনের মৃত্যু ‘নন-হোস্টাইল’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া নারী আর্মি অফিসারের মৃত্যুও নন-হোস্টাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তার মৃত্যু সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে হামলায় ঘটেছে বলে পেন্টাগনের প্রকাশ্য শ্রেণিবিন্যাসে দেখানো হয়নি।    ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হতাহতের হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় রয়েছে। নতুন করে আরও একজন সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ্য তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এখন নজর থাকবে পেন্টাগনের পরবর্তী আপডেট এবং সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশে সামরিক অভিযানে মার্কিন চার সেনা
ইরানসহ বিদেশে অভিযানে ৪০৬ মার্কিন সেনা আ হ ত, ৪ জন সেনা নি হ তের তথ্য প্রকাশ পেন্টাগনের

  বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৪০৬ জন মার্কিন সেনা আ হ ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪ জন সেনা নি হ ত হয়েছেন বলে পেন্টাগনের সর্বশেষ ডিফেন্স কেসুয়েল্টি এনালাইসিস সিস্টেম-এর তথ্য জানিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ হিসাবে আ হ তের সংখ্যা আগের হিসাবের তুলনায় ৬৭ জন বেড়েছে। পেন্টাগনের এই হিসাব ওভারসিজ অপারেশনস নামে আলাদা একটি শ্রেণির আওতাভুক্ত। ৭ জুলাই থেকে এই শ্রেণিতে বিদেশি সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনাদের নি হ ত ও আ হ ত হওয়ার তথ্য রাখা হচ্ছে। এর আগে এসব হতাহতের একটি অংশ অপারেশন এপিক ফিউরি-র হিসাবের মধ্যে ছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০ আগস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনের পর আরও ৬৭ জন সেনা আ হ ত হয়েছেন। তবে নি হ ত সেনার সংখ্যা ৪ জনেই রয়েছে। জুলাইয়ে জর্ডানের মুয়াফাক সালতি এয়ার বেসে হামলায় তিনজন এবং ইরাকের এরবিল এয়ার বেসে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও একজন সেনা নি হ ত হন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৪০৬ জন আ হ তের সবাই ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে আ হ ত হয়েছেন—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। পেন্টাগনের ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণিতে বিভিন্ন বিদেশি সামরিক কার্যক্রমের হতাহতের তথ্য একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। ফলে কোন ঘটনায় কতজন আ হ ত হয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ বিভাজন প্রকাশিত হয়নি। এই হিসাব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। জুলাইয়ে পেন্টাগন ডিফেন্স কেসুয়েল্টি এনালাইসিস সিস্টেমে নতুন ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণি চালু করে। এর ফলে ইরান যুদ্ধের আগের হিসাব থেকে চারজন নি হ ত এবং বেশ কিছু আ হ ত সেনাকে আলাদা শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হয়। এ নিয়ে হতাহতের হিসাব ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এর আগে আগস্টের হিসাবে অপারেশন এপিক ফিউরি ও ওভারসিজ অপারেশনস মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৭৫০-এর বেশি মার্কিন সেনা আ হ ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছিল। সর্বশেষ ৪০৬ জনের সংখ্যা মূলত ৭ জুলাই থেকে চালু হওয়া ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণির হিসাব। তাই দুই হিসাবকে সরাসরি একসঙ্গে যোগ করে নতুন মোট সংখ্যা বলা ঠিক হবে না।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে  নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প
৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প

আগামী মাসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজ শহর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিবর্তে তিনি পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভায় যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।   শুক্রবার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি জানান, "কারণ আমি পেন্টাগনে যাচ্ছি।" তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ম্যানহাটন, পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ার শ্যাংকসভিল—এই তিনটি ঘটনাস্থলেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।   কুইন্সের বাসিন্দা ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সাথে গ্রাউন্ড জিরোর স্মরণসভায় অংশ নিয়েছিলেন। গত বছর তিনি মূল অনুষ্ঠানে না গেলেও নিউইয়র্কে ইয়াঙ্কিস বনাম টাইগার্সের একটি বেসবল ম্যাচে উপস্থিত থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, "একজন গর্বিত নিউইয়র্কার হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৯/১১-এর ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে বারবার কথা বলেছেন। ২৫তম বার্ষিকীর এই শোকাবহ দিনে প্রেসিডেন্ট সেইসব নিহতদের স্মরণ করবেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাবেন এবং উদ্ধারকর্মীদের বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।"   নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রথম ট্রাম্পের ম্যানহাটনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প ম্যানহাটনের অনুষ্ঠানে যাননি; বরং পেন্টাগন বা পেনসিলভেনিয়ার ফ্লাইট ৯৩ ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।   ২০২১ সালে তিনি নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে দেখা করেছিলেন। তবে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ম্যানহাটনের স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন।   আগামী মাসের ম্যানহাটনের স্মরণসভায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ ও সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা কমাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করছে। যুদ্ধ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো আগের মতো করে পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তেও এই বিশ্লেষণ ভূমিকা রাখতে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট স্টাফ ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শুরু হয়নি। অর্থাৎ সেনা কমানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় জর্ডান থেকে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে প্রায় ২০টি স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনায় সাধারণত প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। এ ছাড়া কুয়েতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ রয়েছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের আগের এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছিল, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অন্তত ২১৭টি অবকাঠামো ও ১১টি সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব হামলায় হ্যাঙ্গার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও উঠে আসে।   যুদ্ধের সময় কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়েও নেওয়া হয়েছিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকির কারণে এসব স্থাপনার কিছু অংশে স্বাভাবিক সংখ্যায় সেনা রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো পুনর্গঠন করে সেখানে আগের মতো বড় সামরিক উপস্থিতি রাখা হবে কি না, সেটি নতুন করে বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।   এদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের শেষ কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলার কথা জানিয়েছিলেন। ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে নিজেদের শর্তের ওপর জোর দিয়েছে।   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘ সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়ছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।   ফলে যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ধরন কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা প্রত্যাহার বা সামরিক ঘাঁটি বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি হামলা থেকে ইসরায়েলকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে!

ইরানের সম্ভাব্য আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এই মুহূর্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে নেই বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনে পাঠানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষপর্যায়ের একটি গোপন চিঠির বরাতে এই উদ্বেগজনক খবরটি সামনে এনেছে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’।   সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনে সম্প্রতি পাঠানো এক গোপন বার্তায় সরাসরি এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যে নজিরবিহীন নৌ অবরোধ বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হয়েছে, তার ফলেই মূলত এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল এলাকাজুড়ে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতার ওপর। পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে জেনারেল গ্রিনকিউইচ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদ্যমান অস্ত্রসংকটের কারণে ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে হয়তো একপর্যায়ে ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখার চেয়ে নিজেদের বাহিনীর সুরক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতে দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী রাডার ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সম্বলিত যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে আরব সাগরে ১১টি যুদ্ধজাহাজ এবং দুটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এভাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ছড়িয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্রসংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।   পেন্টাগনের এই গোপন বার্তা ফাঁস হওয়ার আগেও অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের যে মজুত ছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। বর্তমান চিত্র অনুধাবন করে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘমেয়াদি বা সর্বাত্মক কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তবে সে পরিস্থিতিতে টানা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নেই বলে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। বিষয়টি সামনে আসায় ইরান-সংঘাতের জেরে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল গ্রিনকেভিচ সম্প্রতি পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানান, অতিরিক্ত একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার না পেলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হতে পারে। পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হবেন।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে এবং একই সঙ্গে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সামরিক সম্পদ বণ্টন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।  পেন্টাগনের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, এ ধরনের সতর্কবার্তা সামরিক কমান্ডাররা প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি বা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বিষয়টি বর্তমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কতটা বেড়েছে, সেটিও স্পষ্ট করে।      এর আগেও ওয়াশিংটন পোস্টের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েলকে রক্ষায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে পেন্টাগনকে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খাতের অর্থ পুনর্বিন্যাস করতেও হয়েছে।  সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতিকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সম্পদ ধরে রাখা এখন পেন্টাগনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

Unknown আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
ইরান অভিযানে মার্কিন সেনাদের হতাহতের নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের নতুন হিসাব প্রকাশ, আহত বেড়ে ৬২৪

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের মুখে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে আরও ১৪০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহের হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনার তথ্যও আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)-এ প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-এর আওতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ডিসিএএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, ওয়েবসাইটে আহত সেনার সংখ্যা ৪৮২ দেখানো হচ্ছিল। নতুন হালনাগাদে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   পেন্টাগন ৭ জুলাই থেকে ডিসিএএসে "ওভারসিজ অপারেশনস" নামে একটি নতুন বিভাগও যুক্ত করেছে। তবে এই নতুন বিভাগের আওতায় ৭ জুলাইয়ের আগে ও পরে সংঘটিত কোন কোন সামরিক ঘটনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত তালিকায় জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনা এবং উত্তর ইরাকে ইরানি ড্রোন হামলার সময় নিহত আরও এক সেনার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   হতাহতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের পাশাপাশি কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির ১২ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে হতাহতের হিসাবের অসামঞ্জস্যের ব্যাখ্যা চান।   পরে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ডিসিএএস ওয়েবসাইটে "সাময়িক তথ্যসংক্রান্ত ত্রুটি" দেখা দেওয়ায় এ অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল। তবে কী ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইলেও রোববার পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি। এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট নিয়েও নতুন আলোচনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাঠানো এক নোটিশে দাবি করেছেন, ৭ জুলাই থেকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির কারণে ৬০ দিনের আইনি সময়সীমার হিসাব নতুনভাবে শুরু হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের একাধিক আইনপ্রণেতা। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকস্কি সম্প্রতি এক শুনানিতে বলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সময়সীমা পুনর্গণনার এই ব্যাখ্যা প্রশাসনকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।   অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মে মাসে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টকে "সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক" বলে মন্তব্য করেন। হতাহতের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশের পরও তথ্য ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং যুদ্ধসংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র I ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানে নজিরবিহীন হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে এলিট ট্রুপস, ফাইটার জেট ও সামরিক চিকিৎসকদের মোতায়েন করে পেন্টাগন যখন ব্যাপক সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘ভয়াবহ হামলার’ কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমি একটি ভয়াবহ হামলার কথা ভাবছি; এমন কিছু যা আগে কখনো হয়নি। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছি এবং আমরা এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।" তিনি আরও জানান, তিনি চাইলে ইসরায়েলও 'দুই মিনিটের মধ্যে' যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই অভিযানে যোগ দেবে।   তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই সম্ভাব্য হামলা চালানোর জন্য তাদের ‘অন্য কারও প্রয়োজন নেই’। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে শহরে এলে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।   ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের উপস্থিতি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে এবং এই অঞ্চলে ফাইটার স্কোয়াড্রনগুলোকে নতুন করে মোতায়েন করেছে। গত শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।   পেন্টাগন নিহত ওই সেনাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে—তারা হলেন হাওয়াইয়ের ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জে. ফিহান, টেক্সাসের প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং নিউইয়র্কের আর্মি সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র‌্যাম্পারসাদ। সেনাসদস্যদের থাকার বাসস্থানে এই আঘাত হানা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ঘাঁটিতে এটি ছিল ইরানের তিনটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি। সম্ভাব্য হতাহতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ১৫০ জন সামরিক চিকিৎসাকর্মীকে পাঠানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আহত সেনাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান হাসপাতাল।   পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী বি-১ দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত ১২ দিন আগে ইরানের সঙ্গে পুনরায় লড়াই শুরু হওয়ার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বি-১ মিশন, যা সংঘাতের বড় ধরনের বৃদ্ধির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার মতো "যথেষ্ট কষ্ট ইরান এখনো পায়নি," তবে তেহরান "আলোচনা করতে চায়।" অন্যদিকে একটি আঞ্চলিক সূত্রের মতে, মধ্যস্থতাকারীদের জন্য ইরানের সাথে যোগাযোগ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার পক্ষে থাকা রাজনীতিক এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাওয়া কট্টরপন্থীদের মধ্যে দেশটি এখন গভীরভাবে বিভক্ত। সূত্রটি জানায়, মূলত ইরানের ভেতরে দুটি পক্ষ ক্রমশ বিপরীত দিকে এগোচ্ছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো ভাঙন ধরেনি।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই আকস্মিক শক্তি বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ক্রমশ নির্ভুল ও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠা। জর্ডানের ঘাঁটিতে তিনটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, যা ওই অঞ্চলে মোতায়েনকৃত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনাকে তেহরানের ক্রমশ আধুনিক হতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র থেকে রক্ষার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জকেই তুলে ধরে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত নিউইয়র্কের ওজোন পার্কের বাসিন্দা সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল র্যাম্পারসাড। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় নিহত ১৮তম মার্কিন সেনা নিউইয়র্কের বাসিন্দা, কর্মরত ছিলেন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইউনিটে

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাডের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তিনি জর্ডানে ইরানের হামলার পর নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁর মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর তাঁকে নিহত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।    পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সার্জেন্ট র্যাম্পারসাড ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় নিখোঁজ হন। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে দুই সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও একজনকে নিখোঁজ বলে জানায়। পরবর্তী অনুসন্ধান ও পরিচয় শনাক্তকরণের পর পেন্টাগন জানায়, নিখোঁজ সেই সেনাই ছিলেন সার্জেন্ট র্যাম্পারসাড। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন।    সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড জার্মানির আন্সবাখে অবস্থানরত ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ৫২তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড এবং ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি সিগন্যাল অপারেশনস সাপোর্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর ইউনিটের প্রধান দায়িত্ব ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনীর ঘাঁটি রক্ষা করা।    এর আগে একই হামলায় নিহত আরও দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। তিনজনই জর্ডানে ইরানের হামলায় প্রাণ হারান।    এদিকে, ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিরাপদে ধ্বংস করার অভিযানের সময় পৃথক এক ঘটনায় নর্থ ক্যারোলাইনার সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইনটন নিহত হন। তাঁর মৃত্যুসহ চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে।    জর্ডানে হামলার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর অবস্থানরত ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলার ঘটনায় পেন্টাগনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাডের পরিচয় প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় নিহত ৩য় মার্কিন সেনা শনাক্ত করল পেন্টাগন, এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় নিহত তৃতীয় মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। নিহত সেনা হলেন ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড, নিউইয়র্কের ওজোন পার্কের বাসিন্দা। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে সেনাবাহিনী জানায়, তাকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাতে ইরানের হামলায় নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, র্যাম্পারসাড জার্মানিভিত্তিক ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের অধীনে কর্মরত ছিলেন। একই ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতেন নিহত আরেক সেনা প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেসও।  এর আগে পেন্টাগন জর্ডানের ওই হামলায় নিহত আরও দুই সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছিল। তারা হলেন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দুজনই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত হন।    এদিকে একই সপ্তাহান্তে ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটিতে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় আরও এক মার্কিন সেনা, সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরেক সেনা সামান্য আহত হন। সুইন্টনের মৃত্যুর ঘটনাটি আলাদা একটি সামরিক অভিযানে ঘটলেও সেটিও একই সপ্তাহান্তের সংঘাতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন।    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জর্ডানে মোতায়েন সেনারা ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতেই র্যাম্পারসাডকে নিহত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।  ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা হয়েছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যদিও তাদের অধিকাংশ চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ইরাকের এরবিল এয়ার বেসে ইরানি ড্রোন ধ্বংসের অভিযানে নিহত মার্কিন সার্জেন্ট মাইকেল সুইনটন। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে ১৭তম মার্কিন সেনার মৃত্যু, নিহত সার্জেন্ট মাইকেল সুইনটনের পরিচয় প্রকাশ

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে আরও এক মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পেন্টাগন মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল এয়ার বেসে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিরাপদে ধ্বংস করার অভিযানে নিহত হওয়া সেনাসদস্য হলেন নর্থ ক্যারোলিনার ফায়েটভিলের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইনটন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে।    পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই এরবিল এয়ার বেসে একটি ভূপাতিত একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই বিস্ফোরণে সার্জেন্ট সুইনটন নিহত হন এবং আরেক সেনাসদস্য সামান্য আহত হন। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।    সার্জেন্ট সুইনটন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ১০৮তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডের ডি ব্যাটারি, ২য় ব্যাটালিয়ন, ৫৫তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি এয়ার ডিফেন্স আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন।    আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল জন এল. র্যাফার্টি বলেন, সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সার্জেন্ট সুইনটন জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না এবং তাঁর সাহস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সেনাসদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে।    সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সার্জেন্ট সুইনটনকে মরণোত্তর ব্রোঞ্জ স্টার, পার্পল হার্ট এবং কমব্যাট অ্যাকশন ব্যাজ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তাঁকে মরণোত্তর স্টাফ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতিও দেওয়া হবে।    মাইকেল সুইনটনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবারে। তিনি স্ত্রী মিয়া গনজালেজ-সুইনটন, ছয় বছর বয়সী এক ছেলে, চার বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ভাইবোনদের রেখে গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী লিখেছেন, শেষবারের মতো বিদায় জানানোই যে তাঁদের শেষ দেখা হবে, তা কখনো ভাবেননি। সুইনটনের মা ক্রিস্টেল সুইনটন আন্দুজার বলেন, তাঁর ছেলে দেশকে ভালোবাসতেন, নিজের দায়িত্বকে সম্মান করতেন এবং পরিবারের প্রতি ছিলেন নিবেদিত।    এর আগে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস ও ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান নিহত হন। সর্বশেষ সার্জেন্ট সুইনটনের মৃত্যুর পর চলমান ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাণহানির সংখ্যা ১৭-তে দাঁড়িয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
সামরিক অভিযানে মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করল আইআরজিসি। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
আইআরজিসির দাবি: যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাডার ব্যবস্থা এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকেও এটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। তবে বিবৃতিতে ঘটনাস্থল, হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো যুদ্ধবিমান বা রাডার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্যেও আইআরজিসির দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় সংঘাতের পক্ষগুলো প্রায়ই নিজেদের সামরিক সাফল্যের দাবি প্রকাশ করে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে সাধারণত উপগ্রহচিত্র, সরকারি বিবৃতি বা স্বাধীন তদন্তের মতো অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক দাবিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইআরজিসির সর্বশেষ দাবিটি আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এ দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের হামলায় আহত মার্কিন সেনাদের নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় দুই সপ্তাহে আহত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা, চাপের মুখে পেন্টাগন

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ৭ জুলাই থেকে বিভিন্ন হামলায় আহত এসব সেনার মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যেই চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন।   শন পার্নেল বলেন, আহত সেনাদের অধিকাংশেরই হালকা ধরনের ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি (টিবিআই) বা বিস্ফোরণের অভিঘাতে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। তিনি জানান, সেনারা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও দায়িত্ব পালনে ফিরে আসছেন এবং আহতদের তথ্য ধাপে ধাপে পেন্টাগনের সরকারি তথ্যভান্ডারে হালনাগাদ করা হবে।   এই তথ্য প্রকাশের আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিন ধরে সাম্প্রতিক হামলায় আহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যা প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও কংগ্রেসের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে পড়ে পেন্টাগন। পরে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় নিশ্চিত করার পর আহত সেনাদের সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়।   পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এক পর্যায়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনলাইন ডেটাবেসে নিহত সেনার সংখ্যা ১৮ এবং আহতের সংখ্যা ৪৪৭ দেখানো হলেও পরে সেটি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আগের তথ্য অনুযায়ী সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া শনিবার ইরাকে আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার ফলে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সোমবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি, ক্যাম্প আরিফজান এবং বাহরাইনের সালমান বন্দর ও সাখির বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এদিকে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার একাধিক দফায় চালানো আকাশপথের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও এর প্রভাব পড়ছে।   সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, সিবিএস নিউজ, পেন্টাগন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবিতে (বাম থেকে): ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস।
১৯ বছরের পর এবার প্রকাশ পেল ২৫ বছরের মার্কিন সেনার পরিচয়: জর্ডানে ইরানি হামলায় প্রাণ দিলেন টাইলার ফিহান

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনাসদস্যের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। তাদের একজন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান, অন্যজন ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দুই তরুণ সেনার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   সোমবার প্রকাশিত পেন্টাগনের বিবৃতিতে জানানো হয়, হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচের বাসিন্দা ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস জর্ডানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী মার্কিন সামরিক মিশনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সপ্তাহান্তে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।    টাইলার জেমস ফিহানের বয়স ছিল মাত্র ২৫। তিনি নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থানরত ২য় ব্যাটালিয়ন, ৫৫তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী ইসাবেলা গনজালেস জার্মানির আনসবাখে মোতায়েন ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন।    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলার সময় দুই সেনা ঘাঁটির প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন এবং একজন সেনাসদস্যের সন্ধান না পাওয়ার কথাও প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল।    এই দুই সেনার মৃত্যু চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মোট নিহতের সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছেছে। সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।    মাত্র ১৯ ও ২৫ বছর—জীবনের শুরুতেই দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই তরুণ সেনাসদস্য। তাদের মৃত্যু শুধু দুটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং চলমান সংঘাতের মানবিক মূল্যও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র ১৯ বছরেই থেমে গেল জীবনের পথচলা, ইসাবেলা গনজালেস | ছবি: সংগৃহীত
১৯ বছরেই শেষ হলো জীবনের পথচলা, জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত মার্কিন সেনা ইসাবেলা

মাত্র ১৯ বছর বয়সে দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার একজন ছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।    সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করে। জানানো হয়, টেক্সাসের ক্যারোলটন এলাকার বাসিন্দা ইসাবেলা গনজালেস জার্মানির আনসবাখে অবস্থানরত ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ৫২তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন। তিনি ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী মার্কিন অভিযানের অংশ হিসেবে জর্ডানে দায়িত্ব পালন করছিলেন।    গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় ইসাবেলা নিহত হন। একই হামলায় প্রাণ হারান ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান, যিনি হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। হামলায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।    ইসাবেলার মৃত্যু শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য নয়, একটি পরিবারের জন্যও গভীর শোকের কারণ। যে বয়সে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা, কর্মজীবন কিংবা ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যায়, সেই বয়সেই দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে থেমে গেল তার জীবন। ইউনিফর্ম পরা সেই তরুণী আর কখনও পরিবারের কাছে ফিরবেন না।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ইসাবেলা গনজালেসের মৃত্যু সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি নাম হিসেবে—যার পেছনে রয়েছে মাত্র ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর অসমাপ্ত জীবন, অপূর্ণ স্বপ্ন এবং শোকাহত একটি পরিবার।

তাবাস্সুম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০