- প্রচ্ছদ
- Topic
ফ্রান্স
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বিক্ষোভের স্থান, বড় জনসমাগম এবং পুলিশের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে এমন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলার মধ্যে এ সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন সরকারের নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় সহিংসতা, সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফরাসি পুলিশ কাঁদানে গ্যাসসহ বিভিন্ন জনতা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভের স্থান ও গতিপথ অল্প সময়ের নোটিশে পরিবর্তিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ফলে আগে থেকে নির্ধারিত কর্মসূচির ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পরিস্থিতির খোঁজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২৪ অক্টোবর শনিবার প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিনে মধ্য ফ্রান্সের অর্লেয়াঁ শহরেও বড় জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরদিন রোববারও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হতে পারে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ কিছু বিক্ষোভে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে, তবে অনুমোদিত সংগঠনগুলোর আয়োজিত কর্মসূচির ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা থাকতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের রুট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রোববার, ২৫ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) ম্যাচ দেখতে যাওয়া মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ওই ম্যাচে নিউ অরলিন্স সেইন্টস ও পিটসবার্গ স্টিলার্স মুখোমুখি হওয়ার কথা। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে ম্যাচকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এনএফএল জানিয়েছে, খেলোয়াড়, দর্শক ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ফ্রান্সের কিছু এলাকায়, বিশেষ করে প্যারিসের নির্দিষ্ট পাড়া ও আশপাশের অঞ্চলে, রাতে চলাচলে বিধিনিষেধ বা কারফিউ কার্যকর থাকতে পারে। এসব ব্যবস্থা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘোষণা করতে পারে এবং কখনো কখনো তা অল্প সময়ের নোটিশে কার্যকর হয়। বিধিনিষেধের কারণে জনসমাগম, চলাচল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে যাতায়াত সীমিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসরণ, বিক্ষোভপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং ফরাসি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পরিবহনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিরাপত্তা সতর্কতা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স।
ফ্রান্সের একটি অ্যাপল স্টোর থেকে আইফোন চু রির পর সেগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত সতর্কবার্তার মুখে পড়েছেন লু ট পা টে জড়িত ব্যক্তিরা। চু রি করা ফোনের পর্দায় ভেসে উঠেছে—ডিভাইসটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, এর অবস্থান শনাক্ত করা হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। ফলে দোকান থেকে ফোন নিয়ে বেরিয়ে গেলেও সেগুলো ব্যবহার বা বিক্রি করা সহজ হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটে ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের লিল শহরের অ্যাপল স্টোরে। দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে ওই দোকানে লু ট পা ট চালানো হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে চু রি করা আইফোনের পর্দায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কবার্তা দেখা যায়। বার্তাটিতে ফোনটি লিলের অ্যাপল স্টোরে ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। ফোনের পর্দায় প্রদর্শিত বার্তায় লেখা ছিল, “অনুগ্রহ করে ডিভাইসটি অ্যাপল লিলে ফিরিয়ে দিন। এই ডিভাইসটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং এর অবস্থান শনাক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হবে।” বার্তাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই চু রি করা ফোন হাতে পাওয়ার পর সেটি ব্যবহার করতে না পারার বিষয়টি নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন। তবে ভিডিওতে দেখা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে কতটি ফোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে কিংবা এর মাধ্যমে কাউকে শনাক্ত বা গ্রে প্তা র করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অ্যাপলের দোকানে প্রদর্শনের জন্য রাখা আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইসে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে। দোকান থেকে এসব ডিভাইস সরিয়ে নেওয়া হলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে এবং পর্দায় সতর্কবার্তা দেখাতে পারে। ফলে চু রি করা ফোন সাধারণভাবে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত ডিভাইসের অননুমোদিত ব্যবহার ঠেকানো এবং সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে প্রদর্শনীতে রাখা ফোনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীর হারিয়ে যাওয়া বা চু রি হওয়া আইফোন খুঁজে বের করার ব্যবস্থা এক নয়। ব্যক্তিগত আইফোনের ক্ষেত্রে অ্যাপলের ‘ফাইন্ড মাই’ সুবিধার মাধ্যমে ডিভাইসের অবস্থান শনাক্ত করা, সেটিকে দূর থেকে লক করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য সুরক্ষিত রাখার সুযোগ রয়েছে। কোন ফোনে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা ডিভাইসের অবস্থা ও সেটিংসের ওপর নির্ভর করে। লিলের ঘটনাটি ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন দোকানে লু ট পা টের বৃহত্তর পরিস্থিতির অংশ। ১৭ অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে সং ঘ র্ষ, ভাঙচুর ও লু ট পা টের ঘটনা ঘটে। লিলের অ্যাপল স্টোর ছাড়াও বোর্দোর একটি অ্যাপল স্টোরে লু ট পা ট চালানো হয়। লিলের দোকানটি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ঘটনার পর দোকানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। বোর্দোর দোকানেও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে দুই দোকান থেকে ঠিক কত টাকার পণ্য চু রি হয়েছে কিংবা কতটি ডিভাইস নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো ঘটনাটির কিছু চিত্র তুলে ধরলেও সেগুলোর সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। একইভাবে, চু রি হওয়া ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার সতর্কবার্তা দেখা গেলেই যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত বা গ্রে প্তা র করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তারপরও ঘটনাটি দেখিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা চু রি করা ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করে দিতে পারে। দোকান থেকে ফোন নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও সেটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা বা অন্যের কাছে বিক্রি করা অনেক কঠিন হতে পারে। লিলের অ্যাপল স্টোরের ঘটনায় তাই চু রি করা আইফোনের পর্দায় ভেসে ওঠা সতর্কবার্তাই হয়ে উঠেছে আলোচনার মূল বিষয়।
ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালে অক্টোবরে মা রা যান। বৃহস্পতিবার ফরাসি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের জন্য এই ভাইরাসের কারণে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করা হয়নি। তবে রোগীর অসুস্থতা ও সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে তদন্ত চলছে। শামোন্ডা ভাইরাস মূলত গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে গরুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত পোকামাকড়ের কা মড়ের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। এত দিন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো নথিভুক্ত ঘটনা পাওয়া যায়নি। ফলে ফ্রান্সে এই রোগীর শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়াকে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফরাসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তি আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে লিয়ঁ শহরের হসপিস সিভিলস দ্য লিয়ঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অক্টোবরে তাঁর মৃ ত্যু হয়। রোগীর মস্তিষ্কে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, তার সঙ্গে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনাকে চিকিৎসকেরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তবে এই সম্পর্ক নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল, পরীক্ষাগারভিত্তিক ও মহামারিবিষয়ক তদন্ত চলছে। অর্থাৎ, ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হলেও রোগীর অসুস্থতার সব পর্যায়ে এর ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, রোগীটি দেশটির পূর্বাঞ্চলে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। ২০২৬ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। তবে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কয়েক দশক ধরে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণীর মধ্যে শামোন্ডা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও জাপানে প্রাণীর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে এর সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে ইউরোপের একাধিক দেশেও ভাইরাসটির বিস্তার শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় এর উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের অধীন জার্সি দ্বীপেও গরুর শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য, বিস্তার এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হঠাৎ জ্বর, পাতলা পায়খানা, পেটের অস্বস্তি, অবসাদ এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত গরুর প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে গর্ভপাত বা ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটির আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রাণিস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। গরু ছাড়াও ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও আলপাকার মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির বিস্তার এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি এক বিষয় নয়। এ দুটি ক্ষেত্রে আলাদা করে গবেষণা ও নজরদারি প্রয়োজন। শামোন্ডা ভাইরাস আরএনএ ভাইরাসের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সিমবু শ্রেণিগোষ্ঠীর অর্থোবুনিয়াভাইরাস। জিনগতভাবে এটি শ্মালেনবার্গ ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে একই গোষ্ঠীর ভাইরাস হওয়া মানেই তাদের সংক্রমণপদ্ধতি বা মানুষের ওপর প্রভাব অভিন্ন—এমন নয়। এখন পর্যন্ত শামোন্ডা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা সহজলভ্য নেই। প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ওপর এর প্রভাব কতটা, তা বোঝার জন্য গবেষণা চলছে। একই সঙ্গে মানুষের ক্ষেত্রে শনাক্ত হওয়া প্রথম ঘটনাটির কারণ ও তাৎপর্য নির্ধারণের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা থেকে ব্যাপক জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বর্তমান মূল্যায়নেও সাধারণ জনগণের জন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়নি। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আগে থেকেই কম ছিল এবং তাঁর মস্তিষ্কে জটিলতা দেখা দিয়েছিল বলে ঘটনাটি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাণীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি ভাইরাস মানুষের শরীরে শনাক্ত হওয়ায় এর সংক্রমণক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চলমান তদন্তের ফলই নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে, ঘটনাটি কতটা ব্যতিক্রমী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য কী ধরনের নজরদারি প্রয়োজন।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের মধ্যে লুটপাট ও ভাঙচুরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হাসানের দোকান তছনছ হয়ে গেছে। গত ১৭ অক্টোবর প্লাস দ্য লা রিপাবলিকের কাছের দোকানটিতে হামলা হয়। ইউরোনিউজকে হাসান জানিয়েছেন, তাঁকেও মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে যান হাসান। কয়েক বছর হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে কাজ করে সঞ্চয় করেন। পরে ২০১৬ সালে এক সহযোগীর সঙ্গে প্রযুক্তিপণ্য ও কুরিয়ার সেবার দোকান চালু করেন। তিন সন্তানের এই বাবা ধীরে ধীরে ব্যবসাটি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের পরামর্শে শনিবার বিকেলে দোকান বন্ধ রেখেছিলেন তিনি। পরে মোবাইলে নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য দেখে দোকানে লুটপাটের বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনাস্থলে ফিরে হামলার মুখে তাঁকে সরে যেতে হয়। দোকান থেকে ফোন, প্রযুক্তিপণ্য ও কুরিয়ারের পার্সেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভাঙা ফোন, খালি বাক্স ও কাচের টুকরা পড়ে রয়েছে মেঝেতে। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের অপেক্ষায় থাকায় সেগুলো পরিষ্কারও করতে পারছেন না হাসান। অথচ দোকানের রেন্ট, বিল ও কর্মীদের বেতন দেওয়ার দায় রয়ে গেছে। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসানের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় এক কর্মী অনলাইনে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্যবসাটি আবার চালু করতে তাঁকে সহযোগিতা করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশিসহ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার ফ্রান্স এক্সিলেন্স আইফেল বৃত্তির ২০২৭ সালের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মনোনীত প্রার্থীদের আবেদন ক্যাম্পাস ফ্রান্সে জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ জানুয়ারি ২০২৭। তবে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগেই যোগাযোগ করতে হবে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আকৃষ্ট করা। বৃত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ক্যাম্পাস ফ্রান্স। এতে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসিক ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পান। ক্যাম্পাস ফ্রান্সের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মাস্টার্স পর্যায়ের বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ১ হাজার ২০০ ইউরো এবং পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার ১০০ ইউরো ভাতা পান। এর পাশাপাশি কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াত, ইন্স্যুরেন্স, আবাসন খুঁজতে সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সুবিধা রয়েছে। আবাসন খুঁজতে সহায়তা পাওয়ার অর্থ বিনা ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত হওয়া নয়। তবে এই সুযোগকে শর্তহীনভাবে ‘বিনা খরচে পড়াশোনা’ বলা সঠিক নয়। ক্যাম্পাস ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে, আইফেল কর্মসূচি সরাসরি টিউশন ফি বহন করে না। ফলে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সে ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে কি না এবং অন্য কোনো খরচ দিতে হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিশ্চিত করতে হবে। এই বৃত্তিতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্যাম্পাস ফ্রান্সে আবেদন জমা দিতে পারেন না। প্রথমে ফ্রান্সের সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ ও সমর্থন করলে তারাই নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বৃত্তির আবেদন পাঠায়। তাই ৬ জানুয়ারির কেন্দ্রীয় সময়সীমার অপেক্ষা না করে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাছাইয়ের সময়সূচি জেনে নেওয়া প্রয়োজন। আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পরিকল্পনা ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনার জন্য ক্যাম্পাস ফ্রান্স বাংলাদেশ অথবা ফরাসি দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নির্বাচিত কোর্সের ভর্তি, ভাষাগত যোগ্যতা ও বৃত্তির শর্ত মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মনোনয়ন পাওয়ার পরও চূড়ান্ত বৃত্তি নিশ্চিত হয় না।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে লুটপাটের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী রবিউল হাসান। গত ১৭ অক্টোবর বুলভার মাশেন্টা এলাকায় তাঁর পরিচালিত ‘রাফিদ ইনফরম্যাটিক্স’ দোকানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়া রবিউলের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় ফরাসি নাগরিকেরা। অনলাইন তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে তাঁর জন্য ৯০ হাজার ইউরোর বেশি অনুদান জমা পড়েছে, যা বিপর্যয়ের মধ্যে নতুন করে ব্যবসা গড়ে তোলার আশার আলো দেখাচ্ছে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘লেইচি’ নামের একটি অনলাইন অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে রবিউল হাসানের সহায়তায় তহবিল খোলা হয়। ‘আইদ আ হাসান লিকা মোবাইল বুলভার মাশেন্টা’ শিরোনামের ওই উদ্যোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাতে ব্যাপক সাড়া দেন সাধারণ মানুষ। সোমবার লন্ডন সময় রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই তহবিলে অনুদান দেন। তাঁদের দেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ হাজার ৪০৩ ইউরোর বেশি। দোকানটির ক্ষয়ক্ষতির পর রবিউল হাসানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবসা আবার চালু করা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের নিরাপত্তাবেষ্টনী মেরামত এবং নতুন পণ্য সংগ্রহের কাজে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। তহবিলের অর্থ বণ্টন ও সহায়তার কার্যক্রম তদারক করছেন স্থানীয় নেতারা ও উদ্যোগটির আয়োজকেরা। সংগৃহীত অর্থ ব্যবসাটি পুনরায় চালু করতে কতটা সহায়তা করবে, তা নির্ভর করবে পুনর্গঠনের ব্যয় ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের ওপর। প্রবাসে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে এমন ক্ষতির মুখে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের এই উদ্যোগ রবিউল হাসানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠেছে। অনলাইনে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ দেখিয়েছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা সহায়তার ব্যবস্থাও সংকটের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। প্যারিসের এই ঘটনা একদিকে যেমন সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসার চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংহতি ও সহযোগিতার দৃষ্টান্তও সামনে এনেছে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।
ফ্রান্সের পোশাকের দোকান পিমকির সামনে এক নারীর কাছ থেকে কাপড় নিয়ে দোকানে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিকে লুটপাটের ঘটনার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এটি ঠিক কবে এবং কোন শহরে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য ত্রিবুনাল দ্য নেটের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি ১৮ অক্টোবর এক্সে ছড়ানো হয়। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পিমকি দোকানের সামনে এক নারীকে বেশ কিছু পোশাক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে শিশু ও একটি বেবি স্ট্রলারও ছিল। প্রতিবেদনটির বর্ণনা অনুযায়ী, এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে ওই নারীর হাত থেকে পোশাকগুলো নিয়ে নেন। এরপর ফুটপাতে পড়ে থাকা কাপড়ও তুলে দোকানের দিকে যান এবং সেগুলো ভেতরে ফিরিয়ে দেন। অনলাইনে অনেকেই ওই ব্যক্তিকে নারীর স্বামী বলে উল্লেখ করছেন। ভিডিওতে শোনা রুশ ভাষার মন্তব্যেও তাঁকে স্বামী বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যমটি। তবে ভিডিওটি ছড়ানো পোস্টে শুধু একজন পুরুষের কথা বলা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় বা পারস্পরিক সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়াও ২০ অক্টোবর ভিডিওটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ঘটনাটিকে ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও দোকান লুটপাটের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়েছে। তবে ভিডিওটির নির্দিষ্ট স্থান ও ধারণের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে এটিকে প্যারিসে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের দৃশ্য হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ঘটনার পর ওই নারী বা পুরুষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। পোশাক ফিরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যটি আলোচনায় এলেও তাঁদের উদ্দেশ্য বা ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফ্রান্সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মধ্যে ১৯ শতকে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর লিমোজে শনিবার রাতে ভবনটিতে আ গু ন লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফরাসি সরকার। গ্রে প্তা র ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি একটি উগ্র বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। লিমোজ শহরের টাউন হলের ঘণ্টার টাওয়ার ও ছাদের কিছু অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য ভিডিওতে দেখা গেছে। ঐতিহাসিক ভবনটির ওপরের অংশ থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর, লুটপাট ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের অস্থিরতার সময় আটক ১২৩ জন বিচার শুরুর অপেক্ষায় হেফাজতে রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিস, বোর্দো, লিল, লিয়ঁ, নিস ও মার্সেইয়ের কয়েকটি এলাকায় আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা বেশি ঘটেছে, সেখানে রাতের পরিস্থিতি শান্ত রাখাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রাস্তায় নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে মাঠপর্যায়ে আরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে। সাম্প্রতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো এবং বিক্ষোভের সময় সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল গত মাসে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোর কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষক সংকট এবং বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পরে সেই ক্ষোভ বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা সামনে আসে। তবে আন্দোলনের সব অংশগ্রহণকারী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। বিক্ষোভের প্রাথমিক কারণ ছিল শিক্ষা খাতের সমস্যা ও বিদ্যালয়ের দুরবস্থা। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং সরকারবিরোধী প্রতিবাদের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনাও যুক্ত হয়। ঐতিহাসিক টাউন হলটিতে আ গু ন লাগার ঘটনাটি চলমান সংকটকে আরও আলোচনায় এনেছে। ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গ্রে প্তা র ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষা খাতের সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কত দ্রুত শান্ত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ফ্রান্সে বিক্ষোভের মধ্যে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের জন্য কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠী এবং অপরাধীদের দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। রোববার ১৮ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, সহিংসতায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করেন তিনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাক্রোঁ অভিযোগ করেন, কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে অপরাধীরা যুক্ত হয়ে পুলিশ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। লুটপাটকারীদের ক্ষতির দায় বহন করতে হবে এবং প্রজাতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় জড়িতদের জবাব দিতে হবে বলে জানান তিনি। ভাষণে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও সহিংসতাকে আলাদা করে দেখার ওপর জোর দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষের ক্ষোভ যৌক্তিক। পারস্য উপসাগরের যুদ্ধের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্রান্স ওই যুদ্ধে অংশ নেয়নি। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনেও তাঁর বক্তব্যের এই অংশ উঠে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টাউনহল তাদের প্রতিবেদনে এই বক্তব্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে দায় ঠেলে দেওয়া হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে সংবাদমাধ্যমটির উদ্ধৃত বক্তব্যে মাক্রোঁ সরাসরি ট্রাম্পের নাম বলেননি। সেখানে তিনি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে উপসাগরীয় যুদ্ধের সম্পর্ক তুলে ধরেছেন, আর সহিংসতার জন্য দায়ী করেছেন কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের প্রতিবাদে শনিবার ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামেন। শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি কয়েকটি শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহান্তে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা লুটপাটের শিকার হয় বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। সরকারের প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। বামপন্থী নেতা জ্যঁ লুক মেলঁশোঁ অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বিশৃঙ্খলার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, সহিংসতার দায় পুলিশের নেতৃত্বের ওপর চাপানো দায়িত্বের বিপজ্জনক উল্টো ব্যাখ্যা।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের মধ্যে রাস্তায় আগুন জ্বললেও কাছের একটি ক্যাফের বাইরের টেবিলে বসে পানীয় পান ও আলাপ করতে দেখা গেছে এক নারী ও এক পুরুষকে। শনিবার ১৭ অক্টোবর আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফের কাছে ধারণ করা দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নিউইয়র্ক পোস্টের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুজনকে পানীয় পান ও ধূমপান করতে দেখা যায়। তাঁদের পেছনেই আগুন জ্বলছিল। ভিডিওতে আশপাশের পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁদের কথোপকথন চালিয়ে যেতে দেখা গেছে। ভিডিওটি নিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ক্যাফের বাইরের অংশে বসেছিলেন তাঁরা। পেছনে জ্বলছিল একটি আবর্জনার পাত্র। কাছাকাছি বিক্ষোভ ও অস্থিরতার মধ্যেই দৃশ্যটি ধারণ করা হয়। আলাদা আরেকটি ভিডিওতে ধোঁয়ায় ভরা রাস্তা দিয়ে এক নারীকে দৌড়াতে দেখা যায়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এবিসি নিউজের প্রকাশ করা ওই ভিডিওতে বিক্ষোভের ভিড়ের মধ্যেও তাঁকে দৌড় চালিয়ে যেতে দেখা গেছে। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার মান নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে এসব দৃশ্য সামনে এসেছে। সপ্তাহান্তে কয়েকটি শহরে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে আংশিক কারফিউ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। রয়টার্সের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তখন প্যারিসজুড়ে পূর্ণ কারফিউ দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করেন। জনশৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপকে বেশি উপযোগী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দেশটিতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্যারিস শিগগিরই মুসলিমদের শহর হয়ে যাবে।’ সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা এএফপি। ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার পেছনে অভিবাসনই মূল কারণ, স্কুল বা অন্য কোনো বিষয় নয়। তাঁর ভাষ্য, তিনি অনেক আগেই ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষকে অবাধে ফ্রান্সে প্রবেশ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল। এবারও তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইউরোপ সীমান্ত বন্ধ না করলে এবং অপরাধীদের বের করে না দিলে মহাদেশটির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। ফ্রান্সে গত সপ্তাহান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংকট এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং বহু নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনই প্রধান কারণ, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার এবং সহিংসতায় জড়িতদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা খাতের সমস্যা এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষের সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য ফ্রান্সের অভিবাসননীতি ও ইউরোপের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য, শহরের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো সরকারি পূর্বাভাস নয়। ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার নিরাপত্তা জোরদার ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি, বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, কম মজুরি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল ও আলবেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। কোথাও শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা ও শিক্ষকসংকট নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও তা পরে বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষে রূপ নিয়েছে। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নেন পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে আয়োজকদের হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় আট লাখ। রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষ। অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু এলাকায় বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। দোকানপাটে লুটপাট, গাড়িতে আগুন এবং সরকারি স্থাপনা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে দুই হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানীতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুও হয়েছে। ফ্রান্সে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মূলত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষের সংকট এবং শিক্ষকস্বল্পতার প্রতিবাদে গত মাসে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে পরে অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হন। জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবার মান এবং সরকারি ব্যয়সংকোচন নিয়েও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বিক্ষোভের মধ্যে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সরকার সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের দায়ী করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের বড় অংশের অসন্তোষের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের হতাশা। ইতালির মিলানেও গত রোববার জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। শহরের কেন্দ্রীয় পিয়াচা দেল দুয়োমো এলাকার আশপাশে মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী দোকানের জানালা ভাঙচুর করেন এবং ময়লার পাত্রে আগুন দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। আগের দিন মিলান, বোলোনিয়া, ব্রেশিয়া, বার্গামো ও তুরিনসহ কয়েকটি শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছেন। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও শনিবার আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও কম মজুরির প্রতিবাদে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিজিটিপির আহ্বানে আয়োজিত কর্মসূচিতে কয়েক দশ হাজার মানুষ অংশ নেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আয় বাড়ার তুলনায় বাড়িভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এ পরিস্থিতিতে ভূমিকা রেখেছে। এর আগে পোর্তো শহরে আবাসনের দাবিতে গড়ে ওঠা তাঁবুশিবির উচ্ছেদ করে পুলিশ। স্পেনেও কয়েক সপ্তাহ ধরে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে। মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী মারিয়া দেল কারমেন আবাসকালকে দীর্ঘ ৭০ বছর বসবাসের পর তাঁর বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। বাড়িটির নতুন মালিকপক্ষ ভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্ছেদের দুই সপ্তাহ পর অক্টোবরের শুরুতে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। তাঁর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে আন্দোলন জোরালো হয়। এদিকে আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তাব সংসদে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। আলবেনিয়াতেও টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের দুরবস্থা, উচ্চ শিক্ষাব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এতে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। অন্যদিকে সার্বিয়ায় শিক্ষার্থী আন্দোলন দুর্নীতিবিরোধী বৃহত্তর কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। দেশটিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। আসন্ন আগাম সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থী সমর্থিত রাজনৈতিক উদ্যোগ ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে উত্তেজনা রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের কারণ এক নয়। কোথাও মূল বিষয় আবাসন ও বাড়িভাড়া, কোথাও শিক্ষাব্যবস্থা, দুর্নীতি কিংবা সরকারি সেবার মান। তবে মূল্যস্ফীতি, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসামঞ্জস্য এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এসব আন্দোলনের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র তৈরি করেছে। কিছু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সংঘর্ষ ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি জনঅসন্তোষ মোকাবিলাও এখন ইউরোপের বিভিন্ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ১৪৩ বছরের পুরোনো পৌরভবন অগ্নিসংযোগে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে মুখোশধারী ব্যক্তিরা ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আগুনে ছাদ ও ভবনের চূড়ার অংশ ধসে পড়েছে। ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হামলাকারীরা পৌরভবনে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ভবনটির বড় অংশ আগুনে নষ্ট হয়েছে। ওত-ভিয়েন বিভাগের প্রেফেক্ট মরিস বারাত এ ঘটনাকে ঐতিহ্যের ওপর বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে বারাত জানান, পশ্চিম অংশ ছাড়া ভবনের ছাদ নিচের তলাগুলোর ওপর ধসে পড়েছে। শনিবার রাতে তাঁর দেওয়া প্রাথমিক হিসাবে, সম্মুখভাগের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগ উল্লেখ করে তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করার কথাও বলেন। রোববার সকালে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম এলসিআইকে বারাত জানান, আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দমকলকর্মীরা তখনো অবশিষ্ট আগুন ও অঙ্গার নেভানোর কাজ করছিলেন। ভবনটির পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছিল। নিও-রেনেসাঁ স্থাপত্যরীতির এই পৌরভবন দুটি বিশ্বযুদ্ধ অতিক্রম করেও টিকে ছিল। রোববার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও বিস্ময়ের কথা উঠে এসেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে। ভবনটির সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪০ সালে বেলজিয়ামের নির্বাসিত সরকারের প্রতিনিধিরা এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নাৎসি দখলদারত্বের সময় প্রতিরোধ কার্যক্রমেও পৌরভবনটির ভূমিকা ছিল। জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবা নিয়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভের মধ্যে ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়। সেই সহিংসতার মধ্যেই লিমোজের ঐতিহাসিক পৌরভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের মধ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে, পণ্য ও নগদ অর্থ মিলিয়ে সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ সাত লাখ ইউরো ছাড়াতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে এসব দোকানে হামলা ও লুটপাট হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোবাইল ফোন বিক্রির পাশাপাশি মানি ট্রান্সফারের সেবা দেওয়া হতো। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএসআর ইনফরমেটিক, থ্রি জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি ডি ইনফরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিক। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান বন্ধ রেখেও তাঁরা পণ্য ও নগদ অর্থ রক্ষা করতে পারেননি। কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। জরুরি সহায়তার জন্য বারবার ফোন করেও পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া পাননি বলে দাবি করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর দোকানে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্য ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে লুটপাট চালানো হয় বলে তাঁর অভিযোগ। এই ক্ষতির পর ব্যবসা আবার শুরু করার সামর্থ্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন জানান, তাঁর ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। দুটি দোকান মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর মধ্যে একটি দোকান মাত্র তিন মাস আগে চালু করেছিলেন। আজিম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দোকানের রিয়া মানি ট্রান্সফার কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ ছিল। দুটি প্রতিষ্ঠানেই লুটপাট হয়েছে এবং সহায়তা চেয়ে পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল্লাহ কয়েস অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনের মতো মূল্যবান পণ্য এবং মানি ট্রান্সফারের নগদ অর্থ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে ক্ষতির অঙ্ক বড় হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তাঁদের উদ্বেগ, বন্ধ দোকানও নিরাপদ রাখা না গেলে বিনিয়োগ ও জীবিকা দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে। সূত্র: কালের কণ্ঠ
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের এই বিক্ষোভে দেশজুড়ে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। ফরাসি সরকারের ভাষায়, পরিস্থিতি ক্রমেই সহিংসতার দিকে গড়িয়েছে। এদিন অন্তত ৪০০ জনকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। প্যারিসে মূল বিক্ষোভ মিছিলের বেশির ভাগ সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু দল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালানো হয়, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দে লা রিপাবলিক চত্বরেও এমন ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একদল তরুণ জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তন চান। তাঁদের ভাষায়, তাঁরা শান্তিবাদী এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলাচ্ছে না। তবে পরে কিছু বিক্ষোভকারী রাস্তায় আগুন জ্বালান, গাড়ি পুড়িয়ে দেন এবং দোকানপাটে ভাঙচুর চালান। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের নিজেদের মধ্যেও হাতাহাতির ঘটনা দেখা যায়। প্যারিসে অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘লা বারিক’ নামের একটি বারেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালানো হয়। ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। লিয়ঁ শহরে উনিশ শতকের একটি ঐতিহাসিক ভবনে থাকা পর্যটন তথ্যকেন্দ্রটি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। শহরটির মেয়র গ্রেগরি দুসেট ঘটনাটিকে ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ও সুপরিচিত এই ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শহরের মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য, একদল ‘বৈরী ব্যক্তি’ অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের নিরাপদে আগুন নেভানোর কাজে বাধা দিয়েছিলেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ছাড়াও মার্সেই, রেন, তুলুজ ও আঞ্জে শহরে মুখোশধারীদের লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গ্রেনোবল, আভিনিয়োঁ, পো, মনপেলিয়ে ও ভ্যালঁসসহ বিভিন্ন শহরে ভবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্যারিসে পোশাক ও খাবারের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। লিল শহরে একটি অ্যাপল স্টোরে ঢুকে পণ্য লুট করার ঘটনাও ঘটেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্সের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীসংকট এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে আসছেন। দেশটির লিসে নামে পরিচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। শনিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য ও অন্যান্য প্রতিবাদী গোষ্ঠী। শিক্ষা খাতে কর্মীর ঘাটতি, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর দুরবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকার শিক্ষা খাতে কিছু ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৮ অক্টোবর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অতিরিক্ত ৩ হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সেই ঘোষণার পরও বিক্ষোভ থামেনি; বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বিক্ষোভের সময়টি ফ্রান্সের রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির নেতা মারিন লে পেন এবং বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। মেলঁশোঁ নিজেও বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। তবে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নিন্দাও জানান। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু তাঁর বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও কৌশলী’ বলে সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে অত্যন্ত তীব্র সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিক্ষোভকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে পারবে না। অন্যদিকে, মারিন লে পেনের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবিগুলোকে কট্টর বামপন্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে এবং মেলঁশোঁ সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট মাখোঁও সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি প্রশাসনিক কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নগর ভবনে হামলা এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও রাজপথের ক্ষোভ কমেনি। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলনে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বড় বড় শহরগুলোতে শনিবার রাজপথে নেমে এসেছেন হাজারো মানুষ। চলমান এই বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ছাত্র, শিক্ষক ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মাঠে নেমেছেন ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সব পক্ষের এই সম্মিলিত প্রতিবাদ ফরাসি সরকারের ওপর নতুন করে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। শনিবার প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশকে বাধ্য হয়ে এলোপাতাড়ি টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়। শুধু প্যারিস নয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইতে বিক্ষোভকারীরা টাউন হল চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং লিঁও শহরে একটি পর্যটন অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শনিবার দুপুরের মধ্যেই দেশজুড়ে ১৪০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে আড়াইশর বেশি মানুষকে পুলিশ আটক করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়টি ফ্রান্সের জন্য একটি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্ত। একদিকে ফরাসি সরকার ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ ও বিশাল বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে চড়া কর ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ পিষ্ট হয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এর আগে স্কুলের অনুন্নত অবস্থা ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক আন্দোলন করেছিল। রাজনৈতিক গবেষকরা মনে করছেন, বিভিন্ন মহলের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটেছে এই রাজপথের আন্দোলনে এবং ফরাসি জনগণ এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। উদ্ভূত এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সবাইকে শান্ত থাকার এবং যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে শটগান নিয়ে ঢুকে গু লি চালানোর অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকালে মার্সেই শহরের কাছে আউবাগনে এলাকার লাকানাল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও একজন নারী শিক্ষক আহত হয়েছেন। ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন শিক্ষার্থী ১২-গেজের একটি শটগান নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করেছিল। এরপর গু লির ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং স্কুলে কীভাবে সেটি নিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব হয়েছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মী—একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন নারী শিক্ষক—সকালে গু লিবিদ্ধ হয়েছেন। সন্দেহভাজন হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি দেখতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনার পরও শিক্ষা সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সমাজে লাগামহীন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহিংসতা মোকাবিলায় শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেও সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। ঘটনার পর স্কুলের নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আহত দুই শিক্ষকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে, গু লির সময় স্কুলে কতজন শিক্ষার্থী বা কর্মী উপস্থিত ছিলেন, কিংবা অন্য কেউ ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, ফ্রান্সে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে আউবাগনের স্কুলে গু লির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই দুটি ঘটনাকে সরাসরি যুক্ত করে দেখার সুযোগ নেই। আউবাগনে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর, যা মার্সেইয়ের কাছাকাছি। সেখানকার লাকানাল স্কুলে এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। স্কুলে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নির্ধারণ করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীকে গ্রে প্তারের পর তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছেন। তার উদ্দেশ্য কী ছিল, ঘটনার আগে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল কি না এবং অস্ত্রটি কীভাবে তার হাতে এসেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় দুই শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রে প্তার করা হয়েছে। তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য বা দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
শিক্ষক সংকট এবং স্কুল ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ আন্দোলন টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির তথ্যমতে, বৃহস্পতিবারও ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের স্কুলগুলো অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের টানা এই আন্দোলনের জেরে দেশজুড়ে অন্তত ৩৭৫টি স্কুলের কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। নঁত, রেন, ব্রঁ, তুলোঁ ও মার্সেইয়ের মতো শহরগুলোতে লাখো মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আবারও নতুন করে মিছিল শুরু করেছে। এর আগে বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকার অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নেবে। এর জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দেরও আশ্বাস দেন তিনি। তবে তার এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রেন শহরের একটি স্কুলের বাইরে বিক্ষোভরত ১৮ বছর বয়সী হানা এএফপিকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছুই ছিল না। সালিনা নামের ১৭ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা আরও অনেক বেশি ছিল এবং এমন একটি জরুরি বিষয় মাসের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার মতো কোনো বিষয় নয়। আন্দোলন দমাতে পুলিশের কঠোর ভূমিকা নিয়েও দেশটিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্যারিসের ২০তম অ্যারোঁদিসঁতে এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার বিন দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে আসা ইংরেজি শিক্ষক শার্লট বোবো পুলিশের এই পদক্ষেপকে 'অতিরিক্ত কঠোর' বলে মন্তব্য করেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে ৬ হাজারে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গত সোমবার পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর হাত হারানোর পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করতে বাধ্য হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ ফুরিয়ে আসার মুহূর্তে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলন ফরাসি রাজনীতিতে স্পষ্ট মেরুকরণ তৈরি করেছে। কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী মারিন ল্য পেন দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা স্কুলের যে ক্ষতি করেছে তার মেরামতের খরচ তাদের বা তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে। অন্যদিকে কট্টর বামপন্থি প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে পুলিশের 'বর্বর আচরণের' তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ ও দাবি জানানোর জন্য চালু করা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রথম দুই দিনেই ৪৩ হাজারের বেশি সাড়া পড়েছে। বিএফএম টিভির জন্য এলাবের করা এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও ৫৫ শতাংশ মানুষ চান দ্রুত এই বিক্ষোভের অবসান হোক।
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে কাঁদানে গ্যাসের শিকার হয়েছেন সাঁ দেনি শহরের মেয়র বালি বাগায়োকো। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার থামার আহ্বান জানাতে দেখা যায় তাঁকে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বাগায়োকো। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে তিনি দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়ান। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তাঁকে বারবার থামতে বলতে শোনা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বাগায়োকো নিজেও আক্রান্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে চোখের অস্বস্তিতে ভুগতে এবং অন্যদের সহায়তায় চোখে স্যালাইন নিতে দেখা যায়। পরে তাঁকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাগায়োকো জানান, পুলিশ যখন শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থী পুলিশের প্রতি কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি। তা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেয়র বলেন, রাস্তায় আন্দোলনরত স্কুলশিক্ষার্থীরা তাঁর নিজের সন্তানও হতে পারত। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের সাঁ দেনি শহরটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা ও জনবলের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বাগায়োকোর মতে, বিত্তশালী এলাকার তুলনায় শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ফ্রান্সে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। আন্দোলন চলাকালে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের অভিযানে বহু শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। অন্যদিকে সহিংসতায় পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফরাসি সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ ধরনের বিস্ফোরক গ্রেনেড ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, একটি সংঘর্ষে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত হারানোর ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের বলপ্রয়োগসংক্রান্ত ১৮টি ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভে বাগায়োকোর ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজের সদস্য। চলতি বছরের মার্চে সাঁ দেনির মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বাগায়োকোর বাবা-মা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির নাগরিক ছিলেন। নিজ শহরের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের একাংশের আপত্তিও রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্যারিসের পুলিশ প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধসংক্রান্ত আন্দোলনে কথিত আইনভঙ্গের উসকানির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে বাগায়োকো সহিংসতাকে আন্দোলনের পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মেয়রের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের দাবি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। শুধু পুলিশ মোতায়েন করে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উসকানি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু অক্টোবরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়নযোগ্য কিছু প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি অব্যাহত রেখেছেন। এর মধ্যে বাগায়োকোর ঘটনাটি ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগের সমতা দাবি করছেন, অন্যদিকে সরকারকে জননিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ফ্রান্সে স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ইসলাম ও অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সের পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ‘নিয়ন্ত্রণহীন গণ-অভিবাসন’। তবে বিক্ষোভকারীদের প্রকাশিত দাবিতে ধর্ম বা অভিবাসনের বিষয়টি নেই। পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিক্ষোভটি স্কুল নিয়ে নয়; তাঁর ভাষায়, ইসলাম ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে শিক্ষকসংকট, শ্রেণিকক্ষের দুরবস্থা, দীর্ঘ স্কুলসময় এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব। প্যারিসের একটি স্কুল ঘিরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া আন্দোলন পরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের সমর্থনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও রাস্তায় নামেন। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সেদিন দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন; তাঁদের মধ্যে প্যারিসে ছিলেন প্রায় ৫৬ হাজার। অধিকাংশ জায়গায় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন ৮৯১টি স্কুলে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ছিল। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা, স্কুলের দীর্ঘ সময়সূচি পর্যালোচনা এবং পুরোনো ভবন মেরামতের বিষয়গুলো দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতেই ফ্রান্সের আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্য দিলেন।
শ্রেণিকক্ষে তীব্র শিক্ষক সংকট, স্কুলের সার্বিক অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফ্রান্সে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং প্রায় দুই হাজার স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিতর্কিত দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই বিক্ষোভ মূলত ফ্রান্সে মুসলিমদের দেশ দখলের অপচেষ্টা মাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ফ্রান্সে বর্তমানে যা ঘটছে তা অনিয়ন্ত্রিত ব্যাপক অভিবাসনের প্রত্যক্ষ ফলাফল। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো সাধারণ স্কুলের সমস্যা কিংবা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়; বরং এটি ইসলামের বিষয়, যা একসময়ের মহান রাষ্ট্র ফ্রান্সকে দখল করার চেষ্টা করছে। ব্যাপক অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার কারণেই ফ্রান্সে আজ এমন নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ফরাসি প্রশাসন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ ক্লাস সময়সূচি পুনর্বিবেচনা, দুপুরের খাবারের সময় বাড়ানো, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং সর্বোপরি শিক্ষা খাতের প্রস্তাবিত বাজেট কর্তনের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।