ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে কোনো সামরিক অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না। তবে সংঘাত শেষে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে প্যারিস। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্স কোনো পক্ষের হয়ে সামরিক অভিযানে যুক্ত হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান বা সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে ফ্রান্সের অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না। ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ নই। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেব না।” তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, সংঘাতের অবসান হলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স প্রস্তুত থাকবে। এ লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে মিত্রদের রাজি করানোর বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান ইতিবাচক। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে যুক্ত হবে। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। ফরাসি কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকেও একটি আন্তর্জাতিক কাঠামোর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্স যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে প্যারিস। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এ ধরনের যে খবর ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। বর্তমানে ফরাসি নৌবাহিনীর রণতরিগুলো পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে। এছাড়া ফ্রান্স জানায়, তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশটি এখনো প্রতিরক্ষামূলক ও নিরাপত্তামূলক নীতির মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে এক হামলায় ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি ইরবিল এলাকায় ফরাসি বাহিনীর ওপর চালানো এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ওই এলাকায় ইরাকি অংশীদারদের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ছয়জন ফরাসি সেনা ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন। ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী ইরবিল-এ ফ্রান্সের কয়েকশ সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, ইরবিল শহরটি ইরান সীমান্ত থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেসকিয়ান এর সঙ্গে ফোনালাপ করে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, তিনি ইরানকে অবিলম্বে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি শেষ করে সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর কোনো পশ্চিমা নেতার সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম সরাসরি আলোচনা বলে জানা গেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তিনি ফরাসি নাগরিক সেসিল কোহলার ও জ্যাক প্যারিসের বিষয়েও কথা বলেছেন, যারা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিন বছরের বেশি সময় ইরানে আটক থাকার পর গত নভেম্বরে মুক্তি পান এবং তেহরানে ফরাসি দূতাবাসে স্থানান্তর করা হয়। ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কাতার ও কুয়েতের আমির, মিসর ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে বলে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চলমান সংকটের সমাধান কূটনৈতিক পথেই খুঁজতে হবে।
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স তাদের কিছু সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের অস্থায়ী উপস্থিতির অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ফরাসি যৌথ প্রতিরক্ষা স্টাফের এক কর্মকর্তা জানান, ‘নির্দিষ্ট কিছু ঘাঁটিতে’ মার্কিন যুদ্ধবিমানের সাময়িক অবস্থানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যৌথ সামরিক অভিযান চলমান থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফ্রান্সের দাবি—তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত কোনো অভিযানে দেশটি সরাসরি অংশ নেবে না। কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলে ফ্রান্সের অংশীদার দেশগুলোর জন্য প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতায় ভূমধ্যসাগরে রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই এসব দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফ্রান্স তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ Charles de Gaulle–কে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রণতরী ফ্রান্সের নৌশক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এ ছাড়া ফ্রান্স এরই মধ্যে Dassault Rafale যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত এয়ার রাডার মোতায়েন করেছে। এসব প্রযুক্তি ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের (ওয়ারহেড) সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম দেশটি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্ত নিল। স্থানীয় সময় সোমবার ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ল’ইল লং সামরিক ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা দেন মাখোঁ। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি ফ্রান্সের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রেসিডেন্ট মাখোঁ জানান, বর্তমানে ফ্রান্সের ভাণ্ডারে ৩০০টিরও কম পারমাণবিক বোমা রয়েছে। বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে ঠিক কতটি বোমা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি দেননি। পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্সের সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মাখোঁ আরও ঘোষণা করেন, এখন থেকে মিত্রদেশগুলো চাইলে সাময়িকভাবে ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান নিজেদের ভূখণ্ডে মোতায়েন করার অনুমতি পাবে। এছাড়া ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ‘অতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প’ নিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
ফ্রান্সে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনার–এর ওপর দেশটির মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলবের পর তিনি সরাসরি উপস্থিত না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের মৌলিক শিষ্টাচার রক্ষা এবং নিজ দেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে ‘দৃশ্যমান ব্যর্থতার’ প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো নির্দেশ দিয়েছেন—রাষ্ট্রদূত কুশনার যেন ফ্রান্স সরকারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অনুমতি না পান। তবে তিনি অন্যান্য কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ফ্রান্সে ২৩ বছর বয়সী কট্টর ডানপন্থী অ্যাকটিভিস্ট কোয়েন্টিন ডেরানক নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, কট্টর বামপন্থী সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি প্রাণ হারান। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ডেরানকের মৃত্যুর ঘটনায় ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া মন্তব্য গত রোববার পুনরায় পোস্ট করে প্যারিসের মার্কিন দূতাবাস। এরপরই কুশনারকে তলব করেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি)-এর বরাতে জানা গেছে, তলবের জবাবে কুশনার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কথা জানিয়ে নিজে না গিয়ে দূতাবাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বৈঠকে পাঠান। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিকে ‘বিস্ময়কর’ বলে আখ্যা দেন এবং একে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্র এসে আমাদের জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কে অনধিকার চর্চা করবে—তা আমরা মেনে নেব না। তিনি আরও জানান, ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে রাষ্ট্রদূত ভবিষ্যতে আবার ফরাসি সরকারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেতে পারেন। এটি প্রথম নয়। ২০২৫ সালের আগস্টেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ–এর বিরুদ্ধে মন্তব্যের জেরে কুশনারকে তলব করা হয়েছিল। সেবারও তিনি সরাসরি উপস্থিত না হয়ে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে পাঠান। এদিকে, প্যারিসে মার্কিন দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য শুল্ক, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়া ইস্যুসহ বিভিন্ন প্রশ্নে প্যারিস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে।
ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবার 'বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে' উন্নীত হলো। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে ২০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এই সফরের হাত ধরেই প্রতিরক্ষা উৎপাদনে 'আত্মনির্ভর ভারত' অভিযান এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাল। ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষায় বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩৬ লক্ষ কোটি ভারতীয় টাকা মূল্যের এই চুক্তির বিশেষত্ব হলো, ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে এলেও বাকি ৯০টিরও বেশি বিমান ভারতেই তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অত্যন্ত কার্যকর 'হ্যামার' ক্ষেপণাস্ত্র এখন ভারতেই তৈরি হবে। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড ও ফ্রান্সের সাফরান যৌথ উদ্যোগে এই প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করবে। ৭০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি রাফাল ও তেজস যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত করা যাবে। কর্ণাটকের ভিমাগালে টাটা ও এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে উদ্বোধন করা হয়েছে এইচ-১২৫ (H-125) হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি লাইন। এটি ভারতের প্রথম বেসরকারি হেলিকপ্টার উৎপাদন কারখানা। বিশেষত্ব: এই হেলিকপ্টারটি বিশ্বের একমাত্র মডেল যা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে সক্ষম। অর্থনৈতিক প্রভাব: প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এই প্রকল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা: ভারত থেকে তৈরি এই হেলিকপ্টারগুলো ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের অঙ্গীকার মুম্বাইয়ের লোকভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "ফ্রান্স আমাদের প্রাচীনতম ও বিশ্বস্ত অংশীদার। এই নতুন অংশীদারিত্ব কেবল কৌশলগত নয়, বরং বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা ও প্রগতির ধারক হবে।" তিনি ২০২৬ সালকে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় 'টার্নিং পয়েন্ট' হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ গত আট বছরের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করে মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো ভবিষ্যৎমুখী ক্ষেত্রগুলোতেও একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যামূলক কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তার অভিযোগে এবার নিলি কুফার-নাউরি ও র্যাচেল তিউতু নামে দুই নারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ফ্রান্স। দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী এই দুই কট্টরপন্থী নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ—যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা ও ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে তারা সক্রিয়ভাবে বাধা দিয়েছেন। ফরাসি সংবাদপত্র ‘লে মঁদ’-এর তথ্যমতে, নিলি কুফার-নাউরি ‘ইসরায়েল ইজ ফরএভার’ নামক সংগঠনের প্রধান এবং র্যাচেল তিউতু ‘তসাভ ৯’ সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর করা মামলার প্রেক্ষিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে কুফার-নাউরি ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে, কারাবরণের ভয়ে তিনি হয়তো আর কখনোই ফ্রান্সে ফিরবেন না। গাজায় চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে ত্রাণ আটকে দেওয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও গণহত্যার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস