বিমান দুর্ঘটনা

নাজকা লাইনসের দর্শনীয় ফ্লাইট চলাকালে পেরুতে বিধ্বস্ত হয় পর্যটকবাহী বিমান। ছবি: এআই
পেরুতে ইউরোপীয় পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত: দুই পাইলটসহ প্রাণ হারালেন ১৩ জন

পেরুর বিখ্যাত নাজকা লাইনস ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে উড়ে যাওয়া একটি পর্যটকবাহী ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন ইউরোপীয় পর্যটক এবং দুজন পেরুর বিমানচালক ও সহকারী বিমানচালক রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।   শনিবার (১ আগস্ট) দক্ষিণ পেরুর নাজকা অঞ্চলের একটি মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। পেরুর প্রতিষ্ঠান অ্যারোডিয়ানার পরিচালিত সেসনা গ্র্যান্ড ক্যারাভান উড়োজাহাজটি নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে দর্শনীয় ভ্রমণে ছিল। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটি জরুরি পরিস্থিতির সংকেত পাঠায়। এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরে সেটি বিধ্বস্ত হয়।   পেরুর পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন ইতালির নাগরিক, দুজন স্পেনের এবং দুজন জার্মানির নাগরিক ছিলেন। এছাড়া নিহত হয়েছেন বিমানটির পাইলট আমেরিকো সালাজার এবং কো-পাইলট ইরেঙ্কা গুয়ানিলো দেল কার্পিও। দুর্ঘটনায় বিমানের আরোহীদের কেউই বেঁচে যাননি। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি নাজকা লাইনসের কাছাকাছি একটি এলাকায় ভূপাতিত হওয়ার পর আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছালেও আগুন এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   নাজকা লাইনস পেরুর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অঙ্কিত বিশাল আকৃতির বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ ও জ্যামিতিক নকশা মূলত আকাশপথ থেকেই স্পষ্টভাবে দেখা যায়। প্রতি বছর প্রায় এক লাখ পর্যটক এসব রহস্যময় ভূচিত্র দেখতে সেখানে যান। পেরুর প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। পেরুর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশন যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। একই সঙ্গে অ্যারোডিয়ানার পরিচালিত দর্শনীয় ফ্লাইটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   এর আগেও নাজকা লাইনস এলাকায় ছোট পর্যটকবাহী বিমানের একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এই অঞ্চলে পরিচালিত দর্শনীয় ফ্লাইটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
দুর্ঘটনার আগে ছোট বিমানে বাবা জিমি ডন লুইস ও ছেলে ব্রেইডেন লুইস। ছবি: সংগৃহীত
প্রিয় দলের খেলা দেখে আর বাড়ি ফেরা হলো না, বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বাবা-ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে বেসবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের সিলোম স্প্রিংসের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী জিমি ডন লুইস এবং তার ২২ বছর বয়সী ছেলে ব্রেইডেন লুইস।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এবং স্থানীয় টেলিভিশন কেএসডিকে (KSDK News)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তারা সেন্ট লুইসের বুশ স্টেডিয়ামে সেন্ট লুইস কার্ডিনালস ও মিলওয়াকি ব্রিউয়ার্সের মধ্যকার বেসবল ম্যাচ দেখে নিজ শহরে ফিরছিলেন। পথে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মনরো কাউন্টির একটি মাঠে তাদের ছোট বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিমি ডন লুইস নিজেই বিচক্রাফট ৯৫-বি৫৫ (Beech 95-B55) মডেলের বিমানটি চালাচ্ছিলেন। বিমানটি ইলিনয়ের সেন্ট লুইস রিজিওনাল বিমানবন্দর থেকে আরকানসাসের সিলোম স্প্রিংস মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। ওই সময় এলাকাজুড়ে বৈরী আবহাওয়া এবং বজ্রঝড় বিরাজ করছিল।   মনরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার কিছু আগে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিক ফ্লাইট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিমানটি সম্ভবত ঝড় এড়ানোর চেষ্টা করে দিক পরিবর্তন করেছিল। এরপর এটি নিচের দিকে সর্পিলভাবে নামতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   বিমানটির খোঁজে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দমকল, জরুরি চিকিৎসা সেবা (ইএমএস) সদস্য এবং ড্রোন অপারেটররা অংশ নেন। তবে প্রবল বৃষ্টি ও কম দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধারকারীরা সঙ্গে সঙ্গে বিমানটি শনাক্ত করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মনরো কাউন্টির একটি মাঠে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়।   মনরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা তাদের সঙ্গে রয়েছে।"   দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
জরুরি অবতরণের পর আগুনে জ্বলছে গ্রিসের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
জরুরি অবতরণের সময় গ্রিসে আগুনে পুড়ল এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, নিরাপদে পাইলট

গ্রিসের জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় একটি এফ-১৬সি ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমানে আগুন ধরে যায়। তবে দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হন পাইলট এবং তিনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে গ্রিক বিমান বাহিনী। ঘটনার পর বিমানবন্দরের রানওয়েতে দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।   বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার ফোর্সের ৩৩৫তম স্কোয়াড্রনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। বিমানটি উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের আরাকসোস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পাইলট নিকটতম বিমানবন্দর জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রানওয়েতে নামার পর যুদ্ধবিমানটির নিচের অংশে আগুন জ্বলে ওঠে। আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বিমানবন্দরের দমকলকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ফোম ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন। গ্রিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ঘটনার কারণে জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে নির্ধারিত বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগেই গ্রিসের ১১৬তম কমব্যাট উইং তাদের এফ-১৬ বহর আধুনিকীকরণের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে সেই আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পাইলটদের কঠোর জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পাইলট নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিমান নিরাপদে অবতরণ করান শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত
প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে বিমানের বাইরে ঝাঁপ দিলেন প্রশিক্ষক, নিরাপদে অবতরণ করালেন শিক্ষার্থী

আর্জেন্টিনায় একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে এক ফ্লাইট প্রশিক্ষক বিমানের বাইরে চলে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। এ সময় বিমানে থাকা ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। ঘটনাটি তদন্ত করছে দেশটির প্রসিকিউটর কার্যালয়।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি গত শনিবার আর্জেন্টিনার একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে ঘটে। নিহত প্রশিক্ষকের নাম লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বের্তাসো। তিনি স্থানীয় ফ্লাইং প্যারট কর্দোবা ফ্লাইং স্কুলের প্রশিক্ষক ছিলেন। প্রসিকিউটরদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ চলাকালে বের্তাসো তার শিক্ষার্থী রোসারিওকে বলেন, “তুমি জানো কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।” এরপর তিনি নিজের হেডসেট খুলে ফেলেন এবং বিমানের বাইরে চলে যান। ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।   প্রশিক্ষকের অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থী রোসারিও একাই বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। তীব্র মানসিক চাপের মধ্যেও তিনি সফলভাবে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএন-এর বরাতে জানা গেছে, ফ্লাইং প্যারট কর্দোবা ফ্লাইং স্কুলের পরিচালক বলেছেন, প্রশিক্ষকের আচরণে আগে থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত তারা লক্ষ্য করেননি। একই দিন তিনি আরেক শিক্ষার্থীকেও প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাইটের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলো এ বিষয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
নিখোঁজ কেটু এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ কার্গো উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
আরব সাগরের আকাশে হঠাৎ গায়েব বোয়িং ৭৩৭ বিমান, ৫ আরোহীর সন্ধানে সাগরে তল্লাশি

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর একটি বোয়িং ৭৩৭ কার্গো উড়োজাহাজের সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরব সাগরে বিমানটির সন্ধানে নৌ ও আকাশপথে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উড়োজাহাজটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানায়, করাচিভিত্তিক বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন কেটু এয়ারওয়েজ পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-৪০০ উড়োজাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৮ মিনিটের দিকে পাইলট বিমানটির নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানানোর মাত্র তিন মিনিট পর রাডারে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তন করছে। এরপরই রাডার ও বেতার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে সময় বিমানটি করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে অবস্থান করছিল।   ঘটনার পরপরই পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র সক্রিয় করে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ, নৌবাহিনীর টহল বিমান এবং জাতীয় শিপিং করপোরেশনের জাহাজসহ একাধিক সংস্থা আরব সাগরে যৌথ অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে উড়োজাহাজটি প্রথমে দ্রুত উচ্চতা হারায়, এরপর কিছুটা ওপরে ওঠে এবং তারপর আবার আকস্মিকভাবে নিচে নামতে শুরু করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।   কেটু এয়ারওয়েজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচ ক্রু সদস্যের নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে নির্মিত এই বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি প্রথমে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে ২০১২ সালে এটিকে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়। ২০২৪ সালে এটি কেটু এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটিই এয়ারলাইনটির একমাত্র উড়োজাহাজ।   বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিলেও একটি উড়োজাহাজ কিছু সময় ভেসে চলতে পারে। কিন্তু এই উড়োজাহাজের হঠাৎ দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উড়োজাহাজটির অবস্থান এবং পাঁচ আরোহীর ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ১১

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্কাইডাইভারদের বহনকারী একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ন্যান্সি শহরের কাছে টমব্লাইন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে একজন পাইলট ও ১০ জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্রশিক্ষণার্থী স্কাইডাইভার এবং পাঁচজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক রয়েছেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা কেউই বেঁচে যাননি।   মার্থ-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ইভ সেগুই বলেন, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশেই আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি।   স্থানীয় একটি প্যারাস্যুট প্রশিক্ষণ স্কুলের পরিচালিত বিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উড়ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকাশে ওঠার পর বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে দুলতে শুরু করে এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে বিধ্বস্ত হয়।   দুর্ঘটনার সময় রানওয়ের কাছে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর পরিবারের সদস্য ও স্বজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকেই চোখের সামনে বিমানটি বিধ্বস্ত হতে দেখেছেন, যা এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে।   দুর্ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন বলে তার দপ্তর জানিয়েছে। এছাড়া দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।   কারিগরি ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ফ্লাইটে মোবাইল ফোনে আগুন, নিরাপদে অবতরণ

লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে উড্ডয়নরত অবস্থায় একটি মুঠোফোনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ফ্লাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ২৭১-এর ক্রু সদস্যরা কেবিনে একটি সেলফোনে আগুন লাগার বিষয়টি শনাক্ত করেন। এরপর পাইলট জরুরি সতর্কতা জারি করে বিমানটি লাস ভেগাসে অবতরণ করান।   এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিও রেকর্ডে পাইলটকে জানাতে শোনা যায় যে মোবাইল ফোনে আগুন লাগার ঘটনায় কেবিনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানানো হয়।   লাস ভেগাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইলট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক মুখপাত্র জানান, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ীই অবতরণ করে এবং বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।   ঘটনাটিতে কোন ব্র্যান্ড বা মডেলের মোবাইল ফোন জড়িত ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করবে।   বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও পাওয়ার ব্যাংক থেকে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শর্ট সার্কিট বা তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এসব ডিভাইস হঠাৎ আগুন ধরে যেতে পারে।   এফএএ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা কেবিনে সীমিত সংখ্যক লিথিয়াম ব্যাটারি বহন করতে পারেন, তবে কার্গো হোল্ডে এগুলো রাখা নিষিদ্ধ।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এয়ারলাইন্স পাওয়ার ব্যাংক ও পোর্টেবল চার্জার বহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেছে। এফএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিমানের ভেতরে প্রায় ১০০টি ব্যাটারিজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই ই-সিগারেট, ব্যাটারি প্যাক ও পাওয়ার ডিভাইসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

Unknown জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কের নদীতে যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনা, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন ২ আরোহী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ইস্ট রিভারে একটি যাত্রীবাহী ছোট সি-প্লেন (পানিতে নামতে ও উড়তে পারা বিমান) ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌভাগ্যবশত বিমানে থাকা দুই আরোহীর কেউই আহত হননি, তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিউ ইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট নিশ্চিত করেছে।   ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, সকাল সাড়ে নয়টার ঠিক আগে কুইন্সের হোয়াইটস্টোন এবং থ্রগস নেক ব্রিজের কাছাকাছি নদীতে একটি ছোট বিমান ভেঙে পড়ার খবর আসে। খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকারী দল বড় ধরনের কারিগরি প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।   ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি পানিতে আছড়ে পড়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভেতরে থাকা দুই যাত্রীকে ফায়ার সার্ভিসের নৌকায় তুলে নেওয়া হয়। উদ্ধার করার পর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, তারা দুজনেই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং কোনো আঘাত পাননি।   একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিকে নদী থেকে টেনে তোলা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, বিমানটিকে টেনে হোয়াইটস্টোনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর নিউ ইয়র্ক সিটির জরুরি ব্যবস্থাপনা দপ্তরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
বিধ্বস্ত বিমান। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে অবতরণের সময় বিমান ও ফায়ার ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট-কো-পাইলট নিহত

নিউ ইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় আরও নয়জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পোর্ট অথরিটি অব নিউ ইয়র্ক অ্যান্ড নিউ জার্সি জানায়, অন্য একটি বিমানের জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিতে যাওয়ার সময় রানওয়েতে এ সংঘর্ষ ঘটে।   জ্যাজ এভিয়েশন পরিচালিত এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের সিআরজে-৯০০ মডেলের বিমানটি ৭২ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে মন্ট্রিল থেকে নিউ ইয়র্কে আসছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার-২৪ জানায়, প্রায় ২৪ মাইল বেগে অবতরণের সময় বিমানটি ট্রাকটিকে আঘাত করে।   দুর্ঘটনার সময়কার রেডিও বার্তায় শোনা যায়, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার একটি যানবাহনকে রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিলেও মুহূর্ত পর সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। তিনি বারবার ‘ট্রাক-১ থামো’ বলে সতর্ক করলেও ততক্ষণে সংঘর্ষ ঘটে যায়। এরপর দ্রুত অন্যান্য আগত বিমানকে অবতরণ না করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।   দুর্ঘটনার পর বিমানের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অগ্নিনির্বাপক ট্রাকটি উল্টে একপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক গন্ধ পাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেই সহায়তা দিতেই ট্রাকটি সেখানে যাচ্ছিল।   ঘটনার পর লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং অন্তত ১৮টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।   মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

তাবাস্সুম মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে বিমান-গাড়ি সংঘর্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে রানওয়েতে থাকা একটি গাড়ির সঙ্গে এয়ার কানাডার একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রোববার (২২ মার্চ) রাত ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের রানওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বিমানের সাথে নিউইয়র্ক বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে ৭৬ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন। এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তবে তাদের আঘাত কতটা গুরুতর তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বিমানবন্দরটি নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার পূর্ব এলহার্স্টে অবস্থিত হওয়ায় দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে এই দুর্ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। বিমানবন্দরের রানওয়েতে কীভাবে একটি গাড়ি বিমানের সামনে চলে এলো এবং এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি মানবিক ভুল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গ্রাউন্ড অপারেশনের প্রোটোকল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তাবাস্সুম মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কাতারে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কারিগরি ত্রুটিতে কাতারি জলসীমায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের জলসীমায় দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। নিয়মিত মিশন পরিচালনার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ। দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারের ক্রু ও যাত্রীদের উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।   কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে নির্ধারিত জলসীমায় নিবিড় তল্লাশি চালাচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে হেলিকপ্টারটিতে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন, সে বিষয়ে কাতার সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত জোরালো হলে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায় ইরান। যদিও অধিকাংশ হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তবুও এই সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে কাতার সেনাবাহিনীর এই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর সামনে এলো।

তাবাস্সুম মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০