সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মেটা

মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গোপনীয়তার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
মেটার এআই চশমায় গোপনে যৌনতা, নগ্নতা ও বাথরুমের দৃশ্য ধারণের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা

মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৭০ জনের বেশি ব্যবহারকারী, ক্রেতা ও চশমার ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে করা একটি প্রস্তাবিত গণমামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এসব চশমায় ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি-ভিডিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা ঠিকাদারি কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের করা সংশোধিত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার স্মার্ট চশমার মাধ্যমে পোশাক পরিবর্তন, গোসল, শৌচাগার ব্যবহার, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশের মতো দৃশ্য ধারণ হয়েছে। মামলাকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, চশমাটি তখন ভিডিও ধারণ করছে, তা তারা জানতেন না। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মেটা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালানোর কথা জানিয়েছে।   মামলার নথি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার এক মামলাকারী, যাকে পিএল১৮ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি করেছেন তিনি স্মার্ট চশমা একটি বাথরুমের কাউন্টারে রেখে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের গোসল ও বাথরুম ব্যবহারের ছবি পরবর্তী সময়ে নিজের গ্যালারিতে দেখতে পান। তাঁর দাবি, পরিবারের কেউ এসব ছবি ধারণ করার উদ্দেশ্যে চশমাটি ব্যবহার করেননি।   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা ‘হে মেটা’ বলে এআই সহকারী সক্রিয় করলে চশমার ক্যামেরা ও অডিও ব্যবস্থা চালু হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চশমা অনিচ্ছাকৃতভাবেও সক্রিয় হয়েছে বলে মামলাকারীরা দাবি করেছেন। এরপর ধারণ করা তথ্য মেটার সার্ভারে পাঠানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহারের জন্য মানব কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলায় কেনিয়ার ঠিকাদারি কর্মীদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের কাজে যুক্ত কিছু কর্মী এসব চশমায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করেছেন। সুইডেনের সংবাদপত্র সুয়েনস্কা ডাগব্লাডেট ও গ্যোটেবর্গস-পোস্টেনের ফেব্রুয়ারির এক অনুসন্ধানেও কেনিয়ায় মেটার এক ঠিকাদারের কর্মীদের ব্যক্তিগত ফুটেজ পর্যালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছিল।   মামলাকারীদের আইনজীবী টিনা উলফসন বলেছেন, যারা চশমাটি কিনেছেন তারা এটিকে সাধারণ প্রযুক্তিপণ্য হিসেবেই ব্যবহার করেছেন এবং এআই সুবিধা চালু করলে ধারণ করা ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে যেতে পারে, এমন বিষয় সম্পর্কে তারা যথেষ্ট অবগত ছিলেন না। তাঁর মতে, মামলাটি শুধু চশমা ব্যবহারকারীদের নয়, এমন ব্যক্তিদের গোপনীয়তার বিষয়ও সামনে আনছে যারা নিজেরা চশমা ব্যবহার না করেও এর ক্যামেরায় ধারণ হয়েছেন।   মেটা অবশ্য বলেছে, এআই ব্যবহারের সময় কিছু তথ্য পণ্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য পর্যালোচনা করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরিচয় শনাক্ত করতে পারে এমন তথ্য ফিল্টার করার চেষ্টা করা হয়। মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারী নিজে মেটার সঙ্গে কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করলে সেই গণমাধ্যম সাধারণত ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই থাকে।   মামলাটির নথিতে মেটার স্মার্ট চশমার গোপনীয়তা-সংক্রান্ত প্রচারণার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, চশমাগুলোকে ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বাজারজাত করা হলেও এআই ব্যবহারের সময় ধারণ করা তথ্য মানব কর্মীদের মাধ্যমে পর্যালোচনার বিষয়টি ক্রেতাদের কাছে যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না।   এই আইনি বিরোধের পাশাপাশি মেটার স্মার্ট চশমার সম্ভাব্য মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ ‘নেমট্যাগ’ নামে একটি সম্ভাব্য সুবিধার কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পরিচিত ব্যক্তিদের নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এমন প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   এ নিয়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি প্রস্তাবিত গণমামলা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ্যে থাকা মানুষের ছবি ব্যবহার করে মেটা এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মুখ শনাক্তকরণ সুবিধায় ব্যবহার করা হতে পারে। মেটা বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কীভাবে তাদের এআই পণ্য উন্নয়নে ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে তারা স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করে এবং ‘নেমট্যাগ’ সুবিধাটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   মামলাগুলো এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মেটা নতুন প্রজন্মের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মেনলো পার্কে প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপার সম্মেলনে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি উন্মোচনের কথা রয়েছে। একই সময়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মেটা ক্যামেরাবিহীন নতুন স্মার্ট চশমা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা গোপনীয়তা নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
আপনার হয়ে ই-মেইল পেমেন্ট করবে মেটার নতুন এআই ‘মিউজ’
আপনার হয়ে ই-মেইল পেমেন্ট করবে মেটার নতুন এআই ‘মিউজ’

মেটা যুক্তরাষ্ট্রে চালু করেছে নতুন ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ‘মিউজ’, যা ব্যবহারকারীর হয়ে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, বাস্তব ডিজিটাল কাজও সম্পন্ন করতে পারে। ই-মেইল পাঠানো, ভ্রমণ বুক করা, অনলাইন কেনাকাটা, ফর্ম পূরণ এবং পেমেন্ট করার মতো কাজ করতে পারবে এই এআই এজেন্ট। বর্তমানে মিউজের সেবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হয়েছে।   মিউজকে ই-মেইল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, শপিং, স্মার্ট হোম এবং অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ব্যবহারকারী কোন অ্যাপের সঙ্গে মিউজকে সংযুক্ত করবেন এবং তাকে কী ধরনের অনুমতি দেবেন, তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সেই অনুমতি বাতিলও করা যাবে।   প্রচলিত চ্যাটবটের সঙ্গে মিউজের বড় পার্থক্য হলো - ব্যবহারকারী কোনো কাজের লক্ষ্য জানালে মিউজ নিজেই পরিকল্পনা তৈরি করে সেটি এগিয়ে নিতে পারে। যেমন, ভ্রমণের পরিকল্পনা করা, ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা, পণ্য খোঁজা কিংবা ব্যবহারকারীর হয়ে কোনো কাজের জন্য দর-কষাকষি করা। দীর্ঘ সময়ের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও মিউজ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।   মিউজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অনলাইন কেনাকাটা সম্পন্ন করার সক্ষমতা। মেটা এ জন্য স্ট্রাইপের লিংক পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা তাদের লিংক অ্যাকাউন্ট মিউজের সঙ্গে সংযুক্ত করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করতে পারবেন। যেসব ব্যবসায় লিংক সরাসরি গ্রহণ করা হয় না, সেখানে অনুমোদিত কেনাকাটার জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য ভার্চুয়াল কার্ড তৈরি করতে পারে লিংক। এতে প্রকৃত কার্ডের তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে প্রকাশ না করার ব্যবস্থা থাকে।   মেটার দাবি, ই-মেইল পাঠানো বা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজের আগে মিউজ ব্যবহারকারীর অনুমোদন চাইবে। প্রতিটি কাজের একটি অডিট ট্রেইলও থাকবে, যাতে ব্যবহারকারী দেখতে পারেন এআই কী করেছে এবং কী করতে যাচ্ছে।   মেটা মিউজের জন্য সিকিউর ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি করেছে। এতে এআই এজেন্ট ও ব্যবহারকারীর সংযুক্ত ডেটা আলাদা পরিবেশে রাখা হয়। ‘সেন্টিনেল’ নামে আলাদা একটি সিস্টেম মিউজের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীর অনুমোদন চায়। মেটা বলছে, মিউজ সরাসরি ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা পেমেন্ট তথ্য দেখতে পারে না।   তবে এখানেই নতুন প্রযুক্তিটি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের দেখা মেটার অভ্যন্তরীণ পোস্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় কিছু কর্মী মিউজের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একটি পরীক্ষায় মিউজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে ব্যক্তিগত আইক্লাউড ছবি প্রকাশ করার মতো আচরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্য পরীক্ষায় ব্যবহারকারীরা এজেন্টের বারবার লগ-আউট হওয়া এবং নির্দিষ্ট কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা জানিয়েছেন।   মেটা অবশ্য বলছে, নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য মিউজের আগের পরিকল্পিত উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে সিস্টেমটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম নিরাপত্তা মান পূরণ করেছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় পাওয়া নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে মেটা বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।   মিউজের মৌলিক সংস্করণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। বেশি ব্যবহারের জন্য মেটা মাসে ২০ ডলার এবং ১০০ ডলারের দুটি সাবস্ক্রিপশন স্তরও চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে মিউজ অ্যাপ, আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মেটার স্মার্ট গ্লাসেও মিউজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গের বৃহত্তর ‘পার্সোনাল সুপারইন্টেলিজেন্স’ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মিউজকে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এআইকে শুধু তথ্য দেওয়ার প্রযুক্তি হিসেবে নয়, মানুষের হয়ে বাস্তব কাজ সম্পন্ন করার ডিজিটাল সহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে মেটা।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেটার তৈরি 'স্মার্ট গ্লাস' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চশমা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশের কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট সম্প্রতি তাদের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে 'রে-ব্যান মেটা গ্লাস'-কে নতুন "নিরাপত্তা ও কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ঝুঁকি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।   সাধারণ চশমার মতো দেখতে এই ডিভাইসে থাকা ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করে অপরাধীরা বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পুলিশ স্টেশন এবং কারাগারের ভেতরের স্পর্শকাতর তথ্য গোপনে ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   'প্রপার্টি অব দ্য পিপল' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার প্রকাশ করা নথিতে দেখা গেছে, মেইন থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তারা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অপরাধী ও সন্ত্রাসীরাও এই চশমার মাধ্যমে পুলিশি স্থাপনার লেআউট, নজরদারি ক্যামেরার অবস্থান এবং টহল ব্যবস্থার গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারে।   দৃষ্টান্ত হিসেবে মেমোটিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যেখানে এক ব্যক্তি মেটা গ্লাস ব্যবহার করে সাউথ ক্যারোলিনার একটি ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের শোচনীয় অবস্থা গোপনে ধারণ করে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন।   নিরাপত্তার এই ঝুঁকির কারণে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ইতোমধ্যে তাদের ফেডারেল ওয়ার্কস্পেসে কর্মীদের মেটা গ্লাস পরা নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে মেটা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের চশমাগুলো গোপনে রেকর্ডিংয়ের জন্য তৈরি হয়নি; বরং ছবি বা ভিডিও ধারণ করার সময় ডিভাইসে থাকা একটি উজ্জ্বল সাদা এলইডি আলো জ্বলে ওঠে যা বন্ধ করার কোনো উপায় নেই।   তবে ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ যখন সাধারণ মানুষের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায় তখন সেটি বৈধ থাকে, কিন্তু জনগণ যখন পুলিশের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে সক্ষম হয়, তখনই তারা একে 'নিরাপত্তা ঝুঁকি' বলে অভিহিত করে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
মেটার নতুন নীতি কার্যকর হলে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম চালাতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত
দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সুযোগ পাবে কিশোররা, নতুন নিয়ম আনছে মেটা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইনস্টাগ্রাম কি নতুন যুগে সিগারেটের জায়গা নিতে যাচ্ছে? মেটার প্রস্তাবিত নতুন কিছু বিধিনিষেধ অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্করা কীভাবে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি বড় ধরনের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে মেটা। এই পদক্ষেপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঠিক সেভাবেই বিবেচনা করতে শুরু করেছে, যেভাবে তারা একসময় সিগারেটকে করেছিল। অর্থাৎ এটিকে একটি আইনি ভোগ্যপণ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, যার ব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর দায়ভার খোদ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তাবে।   গত বুধবার ঘোষণা করা এই চুক্তিটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে দুই ঘণ্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকবে। এছাড়া স্কুলের সময়টাতে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে এই চুক্তিতে। মেটা ঠিকমতো এসব নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা তদারকি করবে একটি স্বাধীন নিরীক্ষক দল ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষ।   দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পরিবারের ওপরই চাপিয়ে রাখা হয়েছিল। মেটা এতদিন অভিভাবকদের জন্য কিছু টুল বা সুবিধা দিয়ে আসছিল, যার মাধ্যমে তারা সন্তানদের অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারতেন। কিশোরদের ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হতো এবং অভিভাবকের তদারকিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে প্রচার করা হতো। কিন্তু প্রস্তাবিত এই নতুন চুক্তি সেই পুরোনো ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এখন কোনো পরিবার আলাদাভাবে বিধিনিষেধ আরোপের অনুরোধ করুক বা না করুক, মেটাকে নিজ থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তামাক বা সিগারেট শিল্পের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। সেখানেও ব্যবহারকারীর আচরণ নিয়ন্ত্রণের বদলে পণ্য এবং বিক্রেতা কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছিল।   সিগারেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক আগেই বদলাতে শুরু করেছিল। একসময় ধূমপানকে নিছকই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা যখন বুঝতে পারলেন এটি মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তখন তারা পণ্যটি তৈরি ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেন। ফলে সাধারণ সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচিত ধূমপান এমন একটি পণ্যে পরিণত হয়, যা মূলত শিশু ও সাধারণ মানুষকে এর ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ।   ১৯৯৮ সালের টোব্যাকো মাস্টার সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এই পরিবর্তনকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য বড় বড় সিগারেট প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সেখানে তরুণদের লক্ষ্য করে চালানো বিজ্ঞাপন, প্রচার ও অন্যান্য কৌশলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং কোম্পানিগুলোর ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা চাপানো হয়েছিল।   মেটার নতুন প্রস্তাবিত চুক্তিটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে অনেকটা সেরকমই একটি মোড় ঘোরানো পরিবর্তন। সন্তান কতক্ষণ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করবে, তা কেবল অভিভাবকদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বদলে মেটাকে এখন নিজ থেকেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের ওপর লাগাম টানতে হবে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুমোদিত হয়, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায়ভার পণ্য ব্যবহারকারী পরিবারের কাছ থেকে সরাসরি পরিবেশক কোম্পানির কাঁধে চলে যাবে।   অবশ্য সিগারেটের সঙ্গে এই তুলনার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানসিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সিগারেটের মতো সরাসরি শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি এর নেই। তবে নীতিনির্ধারকদের যুক্তি এখানে বেশ পরিচিত। যখন তারা দেখেন যে শুধুমাত্র দায়িত্বশীল ব্যবহারের পরামর্শ যথেষ্ট নয়, তখন তারা সরাসরি পণ্যটিকেই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেন।   কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি এবং পরিসংখ্যানগত উদ্বেগের কথা বিবেচনা করলে এটি নিঃসন্দেহে একটি দুর্দান্ত সূচনা। তবে ইনস্টাগ্রামের ওপর দুই ঘণ্টার সীমাবদ্ধতা খুব একটা কাজে আসবে না, যদি কিশোররা সহজেই টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট বা ইউটিউবের মতো অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে পুরো প্রযুক্তি শিল্পজুড়েই এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়া জরুরি।   এখানেও সিগারেটের উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক। তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি কোম্পানি বা একটি চুক্তির মাধ্যমেই থেমে থাকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিধিনিষেধগুলো পুরো শিল্পের জন্য নিয়ম বদলে দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সম্ভবত একই পথে এগোচ্ছে। আগামী দিনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা হয়তো ব্যবসার একটি স্বাভাবিক শর্ত হয়ে দাঁড়াবে।   আর যখন তা হবে, তখন এই চুক্তিটি কেবল কিশোররা দিনে কত ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করতে পারবে সেই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকেই অনেকটা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।   খবরের সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে মেটার কর্মীদের বড় একটি অংশের কাজ করিয়ে নেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় পড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিছু দলের কর্মীসংখ্যা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ছোট, দক্ষ দল দিয়ে এআই-নির্ভর কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ, এআইয়ের প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা না পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার কারণে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাতিল করা হয়েছে।   রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নথি, কর্মীদের পোস্ট ও রেকর্ডিং এবং মেটার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। মেটা পরে রয়টার্সকে Project OT নামে ওই উদ্যোগের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। Project OT নামটি Organization Transformation বা সাংগঠনিক রূপান্তর থেকে নেওয়া। চলতি বছরের শুরুতে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি এআইনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরিকল্পনার মূল ধারণা ছিল, বর্তমানে হাজার হাজার কর্মী যে দৈনন্দিন কাজ করেন, তার বড় একটি অংশ ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।   এই ব্যবস্থায় বড় দলের পরিবর্তে ছোট ও অত্যন্ত দক্ষ মানবকর্মীদের দল এআই ব্যবস্থাগুলো তদারক করবে। অভ্যন্তরীণ নথিতে এমন একটি কাঠামোর কথা বলা হয়, যেখানে ১০ থেকে ২০ জনের একটি দলকে কমিয়ে তিন থেকে পাঁচজনের দলে পরিণত করা হতে পারে। বাকি কাজ সামলানোর দায়িত্ব পড়বে এআইয়ের ওপর। তবে এটি মেটার পুরো কর্মীসংখ্যা ৬০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনার অংশ হিসেবে কিছু দলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মেটাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি ছিল সম্ভাব্য পুনর্গঠন, কর্মী পুনর্বিন্যাস, খালি পদ বন্ধ এবং ছাঁটাইয়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে করা পরিকল্পনা। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্গঠনটি দুই ধাপে করার কথা ছিল। প্রথম ধাপের ছাঁটাই মে মাসে এবং দ্বিতীয় ধাপের আরেকটি বড় পরিবর্তন নভেম্বর মাসে করার পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি খালি পদগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং যেসব কর্মীকে কম দক্ষ বলে মনে করা হতো, তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় ছিল। মে মাসে অবশ্য মেটা কর্মী কমানোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রথম দফার ছাঁটাইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাকারবার্গ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নভেম্বরের পরবর্তী দফার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন।   পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর মেটার কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক কর্মী মনে করতে শুরু করেন, এআইকে কাজে যুক্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া। অভ্যন্তরীণ এক জরিপে কর্মীদের মনোভাবের সূচক ৭৪ শতাংশ ইতিবাচক থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এআই প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসে নজরদারি বা কাজের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গও করেন।   এদিকে মেটার এআই ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কোম্পানির পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা এআই এজেন্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেনি বলে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে আসে। কর্মীরা এআই ব্যবহার করে বেশি কোড তৈরি করতে পারলেও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা একই অনুপাতে বাড়েনি বলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তথ্য ও আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই এজেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। সেবায় বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে এআইকে দ্রুত কর্মীদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনার বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে মেটার ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে।   এই পরিস্থিতিতে জাকারবার্গও তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। জুলাইয়ে এক অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি বলেন, এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত এগোয়নি। এরপর মেটা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার বদলে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে শুরু করে। জাকারবার্গ এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, মেটা মানুষের ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির শক্তি কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, শুধু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ওপর নয়।   তবে এআই নিয়ে মেটার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এতে থেমে যায়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সমস্যা হয়েছে মূলত এআইকে ব্যবহার করে দ্রুত কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে। মেটা রয়টার্সকে জানিয়েছে, Project OT ছিল খরচ কমানো, দলের কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং কর্মীদের নতুন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে স্থানান্তরের একটি উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মীকে নতুন গঠিত বিভিন্ন দলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং পুরো কর্মীবাহিনীর ৬০ শতাংশ ছাঁটাই করার কোনো সিদ্ধান্ত কখনো নেওয়া হয়নি।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দ্রুত এআইনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরির দিকে এগোচ্ছে, তখন মেটার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই বড় পরিসরে মানুষের কাজ এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। কর্মীদের আস্থা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   মেটার Project OT শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এ ঘটনা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি মানুষকে আরও দক্ষ করে তুলবে, সেই বিতর্কের মাঝেই বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই পরীক্ষার ফল এখন শিল্পখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল, সম্প্রতি এটি কিনেছেন মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
আয়ারল্যান্ডে ১৯ শতকের দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ, মূল্য হতে পারে ৩০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত

আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ১৯ শতকের একটি ঐতিহাসিক দুর্গ কিনেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে সঙ্গে নিয়ে কেনা স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি দেশটির কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের তীরে অবস্থিত। দুর্গটির সঙ্গে প্রায় ৪৪০ একর জমিও রয়েছে।   বৃহস্পতিবার জাকারবার্গের এক মুখপাত্র তাঁর দুর্গ কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্গটি মেটার ইউরোপীয় সদর দপ্তর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।   স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল গথিক পুনরুজ্জীবন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত তিনতলা একটি ঐতিহাসিক ভবন। দুর্গটির বর্তমান কাঠামো প্রায় ১৮২৭ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। স্থাপনাটি রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের দিকে তাকিয়ে থাকা একটি উঁচু জায়গায় অবস্থিত। ২০০৩ সালে দুর্গটিতে ব্যাপক সংস্কার করা হয় বলে আয়ারল্যান্ডের সরকারি স্থাপত্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দুর্গটির নকশা করেন স্থপতি জেমস ও জর্জ রিচার্ড পেইন।   দুর্গটির সঠিক ক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। লেনদেনটি প্রকাশ্য বাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের সরকারি সম্পত্তি মূল্য নিবন্ধনেও এর দাম দেখা যাচ্ছে না। তবে দ্য আইরিশ টাইমস প্রথম জাকারবার্গের কেনার খবর প্রকাশ করে এবং তাদের হিসাবে সম্পত্তিটির মূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ইউরোর মধ্যে হতে পারে।   জাকারবার্গের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার ঐতিহাসিক বাড়িটির দেখভাল চালিয়ে যেতে এবং আয়ারল্যান্ডে সময় কাটাতে আগ্রহী। মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে হওয়ায় দেশটির সঙ্গে জাকারবার্গের ব্যবসায়িক যোগাযোগও দীর্ঘদিনের।   তবে এই দুর্গকে জাকারবার্গ পরিবারের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করবেন এবং আয়ারল্যান্ডে গেলে এই ঐতিহাসিক বাড়িটিকে অবস্থানের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করবেন।   স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বর্তমান দুর্গটি ১৯ শতকে নির্মিত হলেও একই এলাকায় এর চেয়েও পুরোনো একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। নতুন স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি জন কিলির জন্য নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, কিলি ক্লনমেলের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ওয়াটারফোর্ড কাউন্টির উচ্চ শেরিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।   গত দুই দশকে দুর্গটির ব্যাপক সংস্কার করেন আগের মালিক মাইকেল অ্যালেন-বাকলি ও তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের কাছ থেকেই জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান সম্পত্তিটি কিনেছেন বলে একাধিক আইরিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   দুর্গটির অবস্থানও বিশেষ আকর্ষণীয়। এটি কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকায় নদীর তীরে অবস্থিত। স্থানীয় ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটি ক্যাপোকুইন ও লিসমোর শহরের কাছাকাছি এবং নদী ও আশপাশের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এলাকাটি ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত।   আয়ারল্যান্ডে জাকারবার্গের এই সম্পত্তি কেনার পেছনে দেশটির সঙ্গে মেটার দীর্ঘ ব্যবসায়িক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মেটার আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মী রয়েছে। ডাবলিনে রয়েছে কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর। এছাড়া কর্কে মেটার ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি কার্যক্রম এবং ডাবলিনের বাইরে একটি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে।   আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ইউরোপীয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তুলনামূলক অনুকূল করব্যবস্থা এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুবিধার কারণে দেশটিতে বহু মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ইউরোপীয় সদর দপ্তর রয়েছে। মেটাও এর ব্যতিক্রম নয়।   জাকারবার্গের নতুন এই সম্পত্তি কেনার খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বড় আকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বিনিয়োগের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ড ও ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকাতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধনী বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   তবে জাকারবার্গের জন্য এটি শুধু আরেকটি বিলাসবহুল সম্পত্তি নয়, বরং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো এই দুর্গ এখন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মালিকানায়। জাকারবার্গের পরিবার ভবিষ্যতে কীভাবে ঐতিহাসিক সম্পত্তিটির ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আদালতে প্রশ্নের মুখে মেটা। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর ফিচার বাতিলের দাবিতে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা

শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক মামলায় মেটার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু বহুল ব্যবহৃত ফিচার তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে, এমন অভিযোগ তুলে এসব ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার মামলাটির মূল বিচারপর্ব শুরু হয়েছে। মামলায় রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে মেটার কাছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন আনার দাবি জানানো হয়েছে।   মামলাটি ২০২৩ সালে ২৯ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা অভিযোগ থেকে শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি মামলাটির প্রধান বাদী হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার তৈরি করেছে, যাতে শিশু ও কিশোররা বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মেটা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলার অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অসীম স্ক্রল বা ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা। এর ফলে একটি পোস্ট শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে পরবর্তী পোস্টের আভাস দেখানো হয় এবং স্ক্রল করতে থাকলে নতুন নতুন কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে আসতে থাকে। রাজ্যগুলোর দাবি, এই নকশা ব্যবহারকারীকে থামার স্বাভাবিক জায়গা না দিয়ে ক্রমাগত স্ক্রল করতে উৎসাহিত করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে এই ধরনের অসীম স্ক্রল ব্যবস্থা ২০১৬ সালে চালু করা হয়।   শুধু অসীম স্ক্রল নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া, পুশ নোটিফিকেশন, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো এবং অল্প সময় পর অদৃশ্য হয়ে যায় এমন কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব ফিচার তরুণ ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।   রাজ্যগুলোর চাওয়া পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য অসীম স্ক্রল বন্ধ করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা সীমিত বা বন্ধ করা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফেরাতে পারে এমন নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কনটেন্ট এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নিয়েও বিধিনিষেধ চাওয়া হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টারের ব্যবহার নিয়েও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রয়েছে।   এ ছাড়া রাজ্যগুলো মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদমেরও পরিবর্তন চায়। তাদের অভিযোগ, কোন কনটেন্ট ব্যবহারকারীকে বেশি সময় ধরে রাখতে পারে, সেই বিষয়টি অ্যালগরিদমে গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কনটেন্টও বারবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়। রাজ্যগুলোর ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মের নকশাই এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীর ব্যস্ততা বা ‘এনগেজমেন্ট’ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।   মামলায় শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজ্যগুলোর দাবি, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ অভিভাবকীয় সম্মতি নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে আদালত মেটার সারসংক্ষেপ রায়ের আবেদন পুরোপুরি নাকচ করে দেয় এবং মামলাটি বিচার পর্যন্ত যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। একই আদেশে আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার এই দাবিও গ্রহণ করে যে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষার ফেডারেল আইন, শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপ্পা (COPPA) অনুযায়ী মেটার অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার পদ্ধতি যথেষ্ট ছিল না।   তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের বক্তব্য, রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের দাবিও তারা মানে না। মেটা আরও বলেছে, তরুণদের সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ চলছে।   মামলাটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চাপ দ্রুত বাড়ছে। এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের জুরি রায় এবং পরে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা রয়েছে। ওই মামলায় শিশুদের সুরক্ষায় বয়স যাচাই জোরদার করা, রাত ও স্কুলের সময়ে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান মামলাটি অবশ্য আরও বড় পরিসরের। যদিও ২৯টি অঙ্গরাজ্য মামলায় রয়েছে, অকল্যান্ডের এই বিচারপর্বে প্রধানত ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির অভিযোগগুলো নিয়ে শুনানি হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। মেটার শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মামলার ফল শুধু মেটার জন্য নয়, পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে রায় দেয় এবং নকশাগত পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়, তাহলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই ধরনের মামলায় অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকায়, এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর শিশু-কিশোরদের জন্য পণ্য তৈরির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষ করে অসীম স্ক্রল, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও, নোটিফিকেশন এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশের মতো ফিচারগুলো যদি আদালতের নির্দেশে সীমিত করা হয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে। আর মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবির পাশাপাশি এই নকশাগত পরিবর্তনের দাবিই মামলাটিকে প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
আলাস্কা উপকূলে ভাসমান একটি নৌযানকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে মার্ক জাকারবার্গের বিলাসবহুল ইয়ট 'লঞ্চপ্যাড'-এর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
সাগরে বিপদে নারী ও শিশু, কাছে থেকেও সাহায্যে এগিয়ে আসেনি জাকারবার্গের প্রমোদতরি!

মেটা (Meta) প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মার্ক জাকারবার্গের একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরি বা ইয়টের বিরুদ্ধে সাগরে ভাসমান একটি নৌযানকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা উপকূলে জ্বালানি ফুরিয়ে বিপদে পড়া ওই নৌযানটিকে সাহায্য করার জন্য কোস্ট গার্ডের অনুরোধ সত্ত্বেও জাকারবার্গের ইয়টটি কোনো সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি ক্রুজ জাহাজের এক যাত্রী। শেষ পর্যন্ত ছোট আকারের ওই ক্রুজ জাহাজটিই তাদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে জাকারবার্গের প্রমোদতরিটির ক্রুরা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'ফেয়ারব্যাংকস ডেইলি নিউজ-মাইনার'-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলাস্কার রাজধানী জুনো এবং পিটার্সবার্গ শহরের মধ্যবর্তী সাগরে ২১ ফুট দীর্ঘ একটি নৌযানের জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। মাঝসাগরে অসহায় অবস্থায় ভাসতে থাকা নৌযানটিকে পরে 'ওয়াইল্ডারনেস লিগ্যাসি' নামের একটি ছোট ক্রুজ জাহাজ টেনে নিরাপদে ফাররাগুট বে-তে নিয়ে যায়।   ওয়াইল্ডারনেস লিগ্যাসি ক্রুজ জাহাজের মাইকেল লাভ নামের এক যাত্রী গত ৫ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম ব্লুস্কাই-তে (Bluesky) দেওয়া এক পোস্টে এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, বিপদে পড়া ওই ছোট নৌযানটিতে দুজন নারী, একটি শিশু এবং একটি কুকুর ছিল। মাইকেল লাভ ক্রুজ জাহাজের ক্যাপ্টেনের বরাত দিয়ে বলেন, "আমি আমার ছেলের সঙ্গে আলাস্কায় একটি ছোট ক্রুজ জাহাজে ভ্রমণ করছি। গত রাতে আমাদের জাহাজটি একটি আটকা পড়া নৌযানকে উদ্ধার করেছে। মজার ব্যাপার হলো, আমরা তাদের উদ্ধার করার আগে কোস্ট গার্ড মার্ক জাকারবার্গের ইয়টটিকে রেডিওর মাধ্যমে সাহায্য করার জন্য বলেছিল, কারণ সেটি নৌযানটির অনেক কাছাকাছি ছিল। কিন্তু তারা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনো সাড়া দেয়নি।"   মাইকেল লাভ আরও জানান, ক্যাপ্টেন যখন যাত্রীদের এই কথা জানান, তখন সেখানে উপস্থিত সবাই জাকারবার্গের ইয়টের এমন অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   কোস্ট গার্ড এবং মেরিন এক্সচেঞ্জ অব আলাস্কা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, জাকারবার্গের 'লঞ্চপ্যাড' নামের ইয়টটি বিপদে পড়া নৌযানটির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানেই ছিল। তবে নৌযানটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো 'ডিসট্রেস কল' বা চরম বিপদের সংকেত দেওয়া হয়নি। কোস্ট গার্ডের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট শ্যানন শেপার্ড সংবাদমাধ্যম 'দ্য বেকন'-কে জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার পরপরই তারা ওই নৌযানটি থেকে সাহায্যের জন্য একটি কল পান।   শেপার্ড বলেন, "রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে কোস্ট গার্ড পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বুঝতে পারে যে তারা চরম কোনো বিপদে নেই বা জীবনহানির ঝুঁকি নেই। তাই তাদের পক্ষ থেকে একটি 'মেরিন অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট' বা সমুদ্রে সাধারণ সাহায্যের অনুরোধ প্রচার করা হয়, যাতে আশপাশের কোনো নৌযান তাদের সাহায্য করতে পারে।"   এ ঘটনার পর মার্ক জাকারবার্গের একজন মুখপাত্র 'দ্য বেকন'-কে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় মেটা প্রতিষ্ঠাতা বা তার পরিবারের কেউ ওই ইয়টে উপস্থিত ছিলেন না।   মুখপাত্র বলেন, "কোস্ট গার্ড যেমনটি উল্লেখ করেছে, নৌযানটি চরম কোনো বিপদের মধ্যে ছিল না। তাছাড়া আমাদের ইয়টের ক্রুরা যে রেডিও চ্যানেলে কাজ করছিলেন, কোস্ট গার্ডের বার্তাটি অন্য একটি চ্যানেলে এসেছিল। ফলে বার্তাটি পেতে তাদের দেরি হয়। যখন তারা বার্তাটি খেয়াল করে কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগ করেন, ততক্ষণে অন্য একটি জাহাজ উদ্ধারের কাজ শুরু করে দিয়েছিল।" পরিশেষে তিনি বলেন, "সবাই যে নিরাপদে আছেন, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
শিশুদের আসক্তি ও সুরক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে নিউ মেক্সিকোর আদালতে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানার মুখে মার্ক জাকারবার্গের মেটা। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে শিশুদের আসক্তি ও যৌন শোষণের ঝুঁকি, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে এবং শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। রায়ে প্ল্যাটফর্ম দুটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা⁠-কে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি তহবিলে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সান্তা ফের বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড রায়ে বলেছেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো নিউ মেক্সিকোতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেসের মামলায় অভিযোগ ছিল, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম তৈরি করেছে, যা অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে এবং একই সঙ্গে শিশুদের যৌন শোষণের ঝুঁকি থেকে যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   এই ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারই মেটার বিরুদ্ধে নিউ মেক্সিকোতে একমাত্র আর্থিক দণ্ড নয়। একই মামলার আগের ধাপে গত মার্চে একটি জুরি ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। দুই ধাপ মিলিয়ে মেটার আর্থিক দায় দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার।   আর্থিক দণ্ডের পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোর অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১৮ বছরের কম বয়সীদের মাসিক ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টায় সীমিত করা, স্কুলের সময় ও রাতে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, বয়স যাচাই আরও কঠোর করা এবং শিশুদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ ঠেকাতে সুরক্ষা বাড়ানোর নির্দেশ রয়েছে। এসব ব্যবস্থা পাঁচ বছর আদালতের তত্ত্বাবধানে কার্যকর থাকার কথা।   এছাড়া মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট যেন অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন বা রোমান্টিক ধরনের কথোপকথনে অংশ নিতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সন্দেহজনক নগ্ন ছবি ঝাপসা করে দেওয়ার মতো অতিরিক্ত সুরক্ষাও আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।   তবে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। মেটার দাবি, অনলাইনে কিশোরদের নিরাপত্তায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মামলায় তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না।   রায়টি আপাতত শুধু নিউ মেক্সিকোতে সরাসরি কার্যকর হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য এবং ১ হাজার ৩০০টির বেশি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা করেছে। ফলে নিউ মেক্সিকোর এই রায় ভবিষ্যতে মেটাসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
শিশুদের সুরক্ষায় ও ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ৯৪২ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার মুখে মার্ক জাকারবার্গের মেটা। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের সুরক্ষায় ব্যর্থ মেটা, ৯৪২ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে।   বৃহস্পতিবার বিচারক ব্রায়ান বিডশেইডের দেওয়া চূড়ান্ত আদেশে নতুন করে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার একটি বিশেষ ক্ষতিপূরণ তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে একই মামলায় জুরি ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ানি জরিমানা আরোপ করেছিল। ফলে সব মিলিয়ে মেটার বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার, যা শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আর্থিক রায়গুলোর একটি।    আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন যৌন শোষণের ঝুঁকি মোকাবিলায় মেটা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার কার্যক্রমকে একটি দূষণ ছড়ানো কারখানার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, কারখানার দূষণ যেমন চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাবও পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে।    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন করে আরোপিত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বড় অংশ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতা কর্মসূচি, ক্ষতি প্রতিরোধ এবং সহায়তামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোতে শিশুদের জন্য প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক পরিবর্তন আনতে হবে মেটাকে। এর মধ্যে উন্নত বয়স যাচাই ব্যবস্থা, নাবালকদের জন্য ডিফল্ট নিরাপত্তা সেটিংস, নিয়মিত সতর্কতামূলক বার্তা এবং শিশুদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   মামলাটি ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মেটার অ্যালগরিদম নাবালকদের ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেয় এবং অনলাইন যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২৬ সালের মার্চে জুরি মেটাকে ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। এরপর মামলার দ্বিতীয় ধাপে আদালত শিশুদের ক্ষতি কমাতে অতিরিক্ত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের নির্দেশ দেয়।    রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মেটা জানিয়েছে, তারা আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই রায়কে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ। ছবি:সংগৃহীত
মোদির ভিডিও সরানো নিয়ে মেটাকে ৩ দিনের আলটিমেটাম, জাকারবার্গের প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি ভারতের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে দেশটির সংসদের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।    বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন কমিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাকারবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হতে পারে। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ ধারার অধীনে থাকা এই সুরক্ষা বাতিল হলে ব্যবহারকারীদের পোস্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মেটাকে সরাসরি আইনি দায়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।    ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া একটি ভিডিও ফেসবুকে সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর। সমালোচনার মুখে ভিডিওটি দ্রুত পুনরায় চালু করা হলেও মেটা জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হয়েছিল এবং পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও সংসদীয় কমিটি সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি।    সংসদীয় কমিটি ঘটনাটিকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত ভুল নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছে। কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি দেশের নির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই এ ধরনের ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।    একই বৈঠকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অনলাইন কনটেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়েও মেটা, গুগল, ইউটিউব, এক্স ও স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সতর্ক করা হয়। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

Unknown আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। ছবি: সংগৃহীত
নরেন্দ্র মোদির পোস্ট ব্লক করায় মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করল ভারত সরকার, ক্ষমাপ্রার্থনায়ও মেলেনি ছাড়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। এ বিষয়ে জবাব দিতে মেটার বৈশ্বিক জননীতি বিভাগের প্রধানকে তলব করেছে দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটি)।   মেটা ইতোমধ্যে ঘটনাটিকে একটি প্রযুক্তিগত ভুল বলে স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, পোস্টটি ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত সরকার বলছে, শুধু ক্ষমা চাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে না; কীভাবে এমন ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।   ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের উদ্দেশে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করা হলে কিছু সময়ের জন্য সেটির দৃশ্যমানতা সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি দেখতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণান বলেন, মেটা ভুল স্বীকার করেছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সরকার সন্তুষ্ট নয়। তার ভাষায়, “তারা বলেছে ভুল হয়েছে এবং ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাই।”   সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মেটা জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট যাচাই ব্যবস্থার একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মূল পোস্টটিও ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   তবে সরকারের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের মতে, যদি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে মেটার উচিত দ্রুত তাদের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা। কারণ, কোটি কোটি ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রবাহ পরিচালনা করা একটি প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে এ ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়।   বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী প্রথম প্রকাশ্যে এ ঘটনাটির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও কীভাবে সীমাবদ্ধ করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকরা কী দেখবেন বা দেখবেন না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেই।   এই ঘটনার মধ্যেই ভারতে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে সরকারি নজরদারি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ব্যবহারকারী নাম (ইউজারনেম) সুবিধা এবং ইনস্টাগ্রামে অবৈধ কনটেন্ট নিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর পোস্ট করা সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে ভুলবশত সরিয়ে ফেলেছিল মেটা। ছবি: সংগৃহীত
মোদীর ভিডিও সরিয়ে ক্ষমা চাইল মেটা, আবারও ফিরিয়ে দিল ফেসবুকে

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ করা একটি সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার পর তা পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছে।   ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে গিয়েছিল। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর ভিডিওটি আবারও বহাল করা হয়। এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র জানান, ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   এদিকে ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ভারত সরকার। কী কারণে ভিডিওটি সরানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটা ও ইনস্টাগ্রামের বৈশ্বিক প্রধানদের কাছেও সমন পাঠিয়েছে।   ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। সেই আন্দোলনের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি সেলফি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন।   ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকাশিত এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণা রোধে ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যাজ দেওয়ার বড় পদক্ষেপ নিল মেটা। ছবি: সংগৃহীত
মেটা নিয়ে এল ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যাজ, বাড়ছে ফেসবুকের নিরাপত্তা

ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যাজ চালুর মাধ্যমে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণা রোধে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও জালিয়াতি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সেলফি রেকর্ড করতে হবে। মেটার সিস্টেম সেই ভিডিওটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে আসল পরিচয় নিশ্চিত করবে। সাধারণত এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়।   ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি ব্যবহারকারীরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে অ্যাকাউন্টটিকে অবশ্যই মেটার কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হবে। এই মুহূর্তে ফেসবুক পেজ কিংবা প্রফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।   প্রাথমিক অবস্থায় প্রোফাইল ছাড়াও ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ডেটিং এবং গ্রুপে এই ভেরিফিকেশন ব্যাজটি শো করবে। পরবর্তীতে এটি ফিড পোস্টেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভেরিফিকেশনের জন্য সংগৃহীত ভিডিও সেলফি এবং ফেসিয়াল ডাটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে।   এই ব্যাজটি কেবল এটি নিশ্চিত করে যে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন বাস্তব মানুষ রয়েছে। তবে এটি ব্যবহারকারীর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বস্ততা বা কোনো লেনদেনের নিশ্চয়তা দেয় না। পেইড মেটা ভেরিফাইড সাবস্ক্রিপশন থেকে এটি আলাদা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
পরীক্ষায় নকলের নিত্যনতুন মাধ্যম এখন ‘এআই চশমা’ | ছবি: পেক্সেলস
পরীক্ষায় নকলের নতুন মাধ্যম এআই চশমা, প্রশ্ন দেখলেই লেন্সে ভেসে ওঠে উত্তর

বিশ্বজুড়ে পরীক্ষায় নকল বা জালিয়াতির জন্য শিক্ষার্থীরা নিত্যনতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করছেন। পূর্বে কাগজের টুকরো বা হাতে লিখে নকল করার প্রবণতা থাকলেও এখন পরীক্ষার হলে জালিয়াতির বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চশমা। এই আধুনিক চশমাগুলোর লেন্সে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর ভেসে ওঠে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এআই চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষা পাসের এই অনৈতিক প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।   সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন দুই পরীক্ষার্থীকে এআই চশমাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এটিই এআই চশমা দিয়ে জালিয়াতি ধরার প্রথম ঘটনা। অপরদিকে তাইওয়ানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে একইভাবে ধরা হয়। প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী অস্বাভাবিকভাবে চশমার দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং পরীক্ষা করে দেখা যায় তার চশমা থেকে অতিরিক্ত তাপ নির্গত হচ্ছিল।   এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গত মাসে চীন তাদের ঐতিহ্যবাহী ও অত্যন্ত কঠিন কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সব ধরনের চশমা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করেছে। উল্লেখ্য, এ বছর চীনের এই মর্যাদাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় এক কোটি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার হলের প্রবেশমুখেই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চশমাগুলো যাচাই করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।   বিশ্ববাজারে বর্তমানে এআই চশমার উৎপাদন ও বিক্রি দুটিই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ২০২৩ সালে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ‘রে-ব্যান’ নামের বিশেষ এআই চশমা বাজারে আনার পর এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। শুধুমাত্র গত বছরই মেটা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ এআই চশমা বিক্রি করেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চশমা দিয়ে পরীক্ষায় জালিয়াতির এই বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনে এটি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।   হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মেং জিল্লি বাজারে প্রচলিত এআই চশমা নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে, চশমাটি পরে প্রশ্নপত্রের দিকে তাকালেই ভেতরের ক্যামেরা প্রশ্নটিকে রিড করে বৃহৎ এআই মডেলে পাঠিয়ে দেয়। এরপর এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর তৈরি করে চোখের সামনে থাকা চশমার লেন্সে প্রদর্শন করে। তিনি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর ওপর এই চশমা দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন যে তারা সবাই মেধা তালিকায় সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন।   সূত্র: সিএনএন

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ অচল ফেসবুক, ভোগান্তিতে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হঠাৎ করে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।   বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছেন না। কেউ কেউ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট লোড হতে বিলম্ব, নিউজফিড আপডেট না হওয়া এবং বিভিন্ন ফিচার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগ করেছেন।   অনলাইন সেবা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউন ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও ফেসবুকের বিভ্রাট সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্যাটি একাধিক অঞ্চলে একযোগে দেখা দিয়েছে। এদিকে, বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।   প্রযুক্তিগত এই সমস্যার কারণে অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যারা যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল, তারা সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।   তবে ঠিক কী কারণে এই বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং কখন নাগাদ সেবাটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
মেটা-এর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ | ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে মেটা ও সিলিকন ভ্যালি, বললেন নিক ক্লেগ

মেটা সহ সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের স্বার্থেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'মাগা' রাজনীতিকে আপন করে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিক ক্লেগ। মেটার সাবেক গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ সম্প্রতি এক পডকাস্টে এই দাবি করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা অনেক প্রযুক্তি নির্বাহী এখন ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছেন।   নিক ক্লেগ প্রায় সাত বছর মেটাতে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটি ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, মেটার পণ্যগুলোর চরিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। এগুলো মানুষের কেন্দ্রিক থাকার চেয়ে এখন কৃত্রিম বা সিন্থেটিক কনটেন্টের দিকে ঝুঁকছে, যা মূলত অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে সুপারিশ করা হয়।   একই সাথে ক্লেগ মার্কিন স্পাই-টেক প্রতিষ্ঠান প্যালানটিরের সাথে যুক্তরাজ্যের চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাদের ওপর যুক্তরাজ্যের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই সময়ে প্যালানটিরের বিকল্প তৈরি হওয়া সম্ভব।   প্যালানটিরের সাথে যুক্তরাজ্যের এই চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির সংসদীয় কমিটিও প্যালানটিরের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি বাতিলের পরামর্শ দিয়েছে। তবে প্যালানটিরের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে তাদের ইতিবাচক অবদানের কথা তুলে ধরে এই অতি-নির্ভরশীলতার দাবিটি অস্বীকার করা হয়েছে।   নিক ক্লেগ ২০১৮ সালে মেটাতে যোগ দিয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কনটেন্ট মডারেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তদারকি করেছিলেন। সম্প্রতি মেটার সাবেক পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর সারাহ উইন-উইলিয়ামস তাঁর একটি বইয়ে মেটা নির্বাহীদের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরলে প্রতিষ্ঠানটি আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম লোগোর সামনে ছোট ছোট খেলনা মূর্তি দেখা যাচ্ছে । ছবি: রয়টার্স
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সংস্করণ আনছে মেটা, মাসিক খরচ কত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এতদিন বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসায়িক মডেলে পরিচালিত হলেও এবার নতুন রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ নামের সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।   বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট। তিনি নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে নতুন এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্য আলাদা সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।   কেন পেইড সেবা চালু করছে মেটা মেটার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   এই বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তুলতে মেটা নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।   কত খরচ হবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯১ টাকা। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের মাসিক সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডলার ৯৯ সেন্ট, যা প্রায় ৩৬৮ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একই মূল্য কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি মেটা।   কী সুবিধা মিলবে ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারকারীরা উন্নত অ্যানালিটিকস সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে স্টোরি কতবার দেখা হয়েছে, কারা দেখেছে এবং পোস্টের পারফরম্যান্স সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি পোস্টের পৌঁছ বাড়ানো এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজেশনের অতিরিক্ত সুবিধাও থাকবে।   অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে ব্যক্তিগতকরণ বা পার্সোনালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সেবার আওতায় প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম রিংটোন, বিশেষ থিমসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।   আসছে ‘মেটা ওয়ান’ নাওমি গ্লেইট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেটার বিভিন্ন সেবাকে ‘মেটা ওয়ান’ নামে একটি একক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে ইউরোপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড সংস্করণ চালু করেছিল মেটা। তবে সেই সংস্করণে মূলত বিজ্ঞাপন অপসারণ ছাড়া ফ্রি সংস্করণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না।

Unknown মে ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেটার বড় চমক: বাজারে এল প্রথম সুপারইন্টেলিজেন্স এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা প্ল্যাটফর্মস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বহুল আলোচিত ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ টিম কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) উন্মোচন করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও ওপেনএআই-কে টেক্কা দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই বিশেষ টিম গঠন করেছিলেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। নতুন এই মডেলটি মেটার অভ্যন্তরীণ 'অ্যাভোকাডো' (Avocado) সিরিজের অংশ। শেয়ার বাজারে উল্লম্ফন: এই ঘোষণার পরপরই মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে মেটার বিশাল বিনিয়োগ আদৌ কোনো ফল দেবে কি না—বিনিয়োগকারীদের এমন সংশয় দূর করতেই এই দ্রুত ঘোষণা। কী থাকছে মিউজ স্পার্কে? মেটা জানিয়েছে, মিউজ স্পার্ক মডেলটি আকারে ছোট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হলেও এটি বিজ্ঞান, গণিত এবং স্বাস্থ্যের মতো জটিল বিষয়ে যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারী সুবিধা: ব্যবহারকারীরা কোনো খাবারের ছবি তুলে সেটির ক্যালরি নির্ণয় করতে পারবেন। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়ালিটির মাধ্যমে কোনো পণ্য (যেমন মগ বা আসবাবপত্র) ঘরের কোথায় কেমন দেখাবে, তাও এই এআই-এর মাধ্যমে দেখা সম্ভব হবে। ইন্টিগ্রেশন: প্রাথমিকভাবে এটি ‘মেটা এআই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটার স্মার্ট গ্লাসে থাকা বিদ্যমান ল্লামা (Llama) মডেলের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ‘মিউজ স্পার্ক’। ব্যয়বহুল প্রতিভা সংগ্রহ: উল্লেখ্য যে, এই সুপারইন্টেলিজেন্স টিমটি গঠন করতে মেটা গত বছর স্কেল এআই-এর সিইও অ্যালেক্স ওয়াংকে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়। এছাড়া নামী প্রকৌশলীদের শত মিলিয়ন ডলারের স্যালারি প্যাকেজ দিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছিল মেটা। জাকারবার্গের বক্তব্য: এ বিষয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এই মডেলটি আমাদের অগ্রগতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা কত দ্রুত উদ্ভাবনের পথে হাঁটছি। চলতি বছরেই আমরা আরও উন্নত এবং শক্তিশালী মডেল নিয়ে আসব।” প্রযুক্তিবিদদের মতে, ‘মিউজ স্পার্ক’-এর মাধ্যমে মেটা মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা তাদের ৩.৮ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আমূল বদলে দিতে পারে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
মেটা
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ মেটা: ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং তাদের যৌন শোষণের ঝুঁকির মুখে ফেলার দায়ে ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের এক জুরিবোর্ড এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহব্যাপী চলা এই বিচারে আদালত মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং ব্যবসায়িক মুনাফাকে নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে। উল্লেখ্য যে এটিই প্রথম কোনো ঘটনা যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য শিশুদের নিরাপত্তা ইস্যুতে সফলভাবে মেটার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়লাভ করল।   বিচারে মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ ২০২৩ সালে মেটা এবং এর প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার তদন্তে দেখা গেছে যে ছদ্মবেশী তদন্তকারীরা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুললে সেখানে যৌন আবেদনমূলক কন্টেন্ট পাঠানো হয় এবং অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের সাথে অনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা করে। আদালত বলেছে যে মেটা জেনেশুনেই শিশুদের অভিজ্ঞতাহীনতার সুযোগ নিয়েছে এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।   এই রায়ের পর মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই রায়ের সাথে একমত নয় এবং উচ্চতর আদালতে আপিল করবে। মেটা দাবি করেছে যে তারা প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করছে এবং ক্ষতিকর কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে সচেষ্ট আছে। তবে জুরিবোর্ডের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল তোরেজ বলেছেন যে এটি প্রতিটি শিশু ও পরিবারের জন্য একটি ঐতিহাসিক জয়। এই রায়ের মাধ্যমে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একটি কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আগামী মে মাসে এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানি শুরু হবে যেখানে মেটার ওপর আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং প্ল্যাটফর্মে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনের নির্দেশ আসতে পারে। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা 

Unknown মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০