সৌদি আরব

বহুমুখী হামলার পর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: গেটি ইমেজেস
সৌদি আরবের ওপর বহুমুখী হামলা, আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

আঞ্চলিক সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে রাখার পাঁচ মাসের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাক ও ইরানের প্রক্সি মিলিশিয়াদের ধারাবাহিক ও সমন্বিত হামলার মুখে পড়ে রিয়াদ এখন এক বহুমুখী যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।   গত এক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবকে অত্যন্ত জটিল ও ত্রিমুখী নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির লোহিত সাগর উপকূলীয় তেল স্থাপনা ও ট্যাংকারে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রো-ইরানি মিলিশিয়ারা রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা পরিচালনা করছে। এর বাইরে তেহরানের পক্ষ থেকেও নতুন করে বিভিন্ন হুমকি ও উসকানিমূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।   পরিস্থিতি এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে দীর্ঘ সংযমের নীতি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে সৌদি প্রশাসন। গত মঙ্গলবার ভোরে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যৌথভাবে পূর্ব ইরাকে সক্রিয় মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটি লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বিমান বাহিনী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা এবং তেল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এই বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া রিয়াদের বহু বছরের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সংস্কার এজেন্ডাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। গত এক দশক ধরে সৌদি আরব মূলত দেশের অর্থনীতিকে বৈষয়িক বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের আঞ্চলিক পাওয়ারহাউস হিসেবে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে আসছে। আর এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবেই বহু বছর ধরে চলা বৈরিতা ভুলে চীনের মধ্যস্থতায় ২০২৩ সালে তেহরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল রিয়াদ।   তবে বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং ত্রিমুখী যুদ্ধের পদধ্বনিতে সেই কৌশলগত কূটনীতি এখন প্রায় জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। অসামান্য সমরাস্ত্র এবং আধুনিক প্রযুক্তির অধিকারী হলেও বিশাল ভূখণ্ড এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তেল শোধনাগারগুলোকে সার্বক্ষণিক সুরক্ষিত রাখা যেকোনো সামরিক পরিকল্পনাবিদের জন্যই এক দুঃস্বপ্নস্বরূপ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে সৌদি আরব যখন লোহিত সাগরের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল, ঠিক তখন হুথিদের সামুদ্রিক অবরোধ ও ট্যাংকারের ওপর হামলা সেই বিকল্প পথগুলোকেও চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের আকস্মিক ও পরিবর্তনশীল নীতিমালার মাঝে নিজেদের ভাগ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে রিয়াদ। ওয়াশিংটনের সহায়তা বা আগ্রহ যেকোনো মুহূর্তে কমে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় সৌদি আরব এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষার স্বার্থে সরাসরি ও আক্রমণাত্মক পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের শান্তি ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা বাদ দিয়ে দেশটি শেষ পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী আঞ্চলিক যুদ্ধের চোরাবালিতে আসলে জড়িয়ে পড়ল কি না, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: সিএনএন

তাবাস্সুম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
অবৈধভাবে অবস্থানরত ও আইন লঙ্ঘনকারী প্রবাসীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

সৌদি আরবে গত এক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ১৪ হাজার ৯৭০ জন আইন অমান্যকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।   আটককৃতদের মধ্যে আবাসন বা ইকামাসংক্রান্ত আইন ভঙ্গের দায়ে ৭ হাজার ৪৩৭ জন, সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনে ৩ হাজার ৯৯১ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৫৪২ জন রয়েছেন। এছাড়া অবৈধ উপায়ে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের সময় আরও ১ হাজার ৬২৬ জনকে আটক করা হয়, যাদের সিংহভাগই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। একইসঙ্গে অবৈধভাবে দেশত্যাগের সময় ৩৩ জন এবং অপরাধীদের বিভিন্নভাবে সহায়তা বা আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এর মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে ইতোমধ্যে নিজ দেশে ডিপোর্ট বা ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বা অপরাধ চোখে পড়লে তা দ্রুত পুলিশকে গোপনে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ

তাবাস্সুম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
হুথি হামলার পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি-পাকিস্তানের আলোচনা
হুথি হামলার পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি-পাকিস্তানের আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। শনিবার এক টেলিফোন আলাপে দুই নেতা লোহিত সাগর ও আরব উপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।   সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ফোনালাপে দুই মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং পারস্পরিক সমন্বয় ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক সমাধানে পৌঁছানোর অংশ হিসেবে উত্তেজনা কমানো এবং আরব উপসাগর ও লোহিত সাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় নেতাই একমত পোষণ করেছেন।   মূলত লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়।   উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেই সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকদের এই আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে ভয়াবহ হা মলা চালিয়েছে হুথিরা
সৌদি আরবে ভয়াবহ হা মলা চালিয়েছে হুথিরা, টার্গেট আরামকো তেল স্থাপনা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু শহরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল হামলার দাবি করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) হুদেইদা বন্দর এবং কামরান দ্বীপে চালানো বিমান হামলার কড়া প্রতিশোধ হিসেবে এই বড় ধরনের আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে বলে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুথি গোষ্ঠী জানায়, এই 'অপরাধমূলক আগ্রাসনের' জবাবে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী দুটি সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়েছে। প্রথম ধাপে জিজানের সংবেদনশীল আরামকো স্থাপনায় ডজনখানেক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত হানা হয়। পরবর্তীতে ইয়ানবুর আরামকো স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়।   একইসঙ্গে, সৌদি আরব কর্তৃক ইয়েমেনে চলমান অবরোধ এবং সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাব হিসেবে বাবাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা। উল্লেখ্য, মার্কিন-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরের বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে বাবাব আল-মান্দেব জলপথটি রিয়াদের তেল রফতানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুটে পরিণত হয়েছে।   এদিকে, আরামকো স্থাপনায় এই হামলার পরপরই ইয়েমেনের অভ্যন্তরে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেন টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মধ্যবর্তী মারিব এবং উত্তরাঞ্চলীয় আল-জউফ প্রদেশে হুথি বাহিনীর বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় বেশ কয়েকজন মিসাইল উৎক্ষেপণ বিশেষজ্ঞসহ একাধিক হুথি সদস্য নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নিজেদের এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দরে হামলা করল সৌদি আরব
ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দরে হামলা করল সৌদি আরব

হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইয়েমেনে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার গভীর রাতে হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদাইদাহ প্রদেশে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি-সমর্থিত প্রশাসন।    হুথি-সমর্থিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হোদাইদাহকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে সৌদি আরবকে। তাদের ভাষ্য, এই হামলার মাধ্যমে রিয়াদ সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।    হুথিদের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল মাসিরাহ টিভির দাবি, সৌদি হামলায় হোদাইদাহ শহরের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের কামারান দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত একজন নারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।    এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হোদাইদাহ বন্দরের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা হোদাইদাহ বন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। জোটের দাবি, তাদের হামলা ছিল হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, হোদাইদাহ, রাস ইসা ও সালিফ—ইয়েমেনের প্রধান বন্দরগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।    সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে বলেন, বাণিজ্যিক নৌপরিবহন ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। হুথিরা যদি তাদের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে তার জবাবও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।    সংঘাতের এই নতুন পর্যায়ের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক নৌপথ সংকট। চলতি সপ্তাহে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং কয়েকটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে। তাদের অভিযোগ, ওই জাহাজগুলো ঘোষিত অবরোধ অমান্য করেছিল। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়।    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরতে এতদিন অনাগ্রহী ছিল সৌদি আরব। তবে হুথিদের সাম্প্রতিক নৌ অবরোধ, সৌদি স্থাপনা ও জাহাজে হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে নতুন শর্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক ঠিক করার সময় হয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, সৌদি আরবকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দিতে হবে।   শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের এখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার সময় এসেছে। তিনি দাবি করেন, এই শর্ত নতুন নয়; বরং শুরু থেকেই এটি দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার অংশ ছিল। এর আগে বুধবার মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও সহায়তায় বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই পরমাণু চুক্তি কার্যকর হবে না। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হবে এবং এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করেননি। তবে তার দাবি, সৌদি আরব এবং সংশ্লিষ্ট সবাই জানত যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই চুক্তির অন্যতম শর্ত।   এদিকে ট্রাম্পের নতুন শর্তের বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। এই অবস্থান সৌদি আরব একাধিকবার প্রকাশ্যে পুনর্ব্যক্ত করেছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।   হোয়াইট হাউসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা কয়েক দশকব্যাপী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের চুক্তি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, চুক্তিটি কেবল শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের ফলে সৌদি রাজপুত্র আবদুল্লাহ বিন ফাহাদের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলল ব্রিটিশ আদালত। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনের হোটেলে মাদক ও অতিরিক্ত অ্যালকোহলে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু

লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের ফলে সৌদি আরবের রাজপুত্র আবদুল্লাহ বিন ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনায় রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। ময়নাতদন্ত ও সার্বিক তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত নিশ্চিত করেছেন যে, ২৯ বছর বয়সী যুবরাজের এই মৃত্যু কোনো আত্মহত্যা নয়, বরং একটি দুর্ঘটনা।   বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছরের ২৫ নভেম্বর পশ্চিম লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ম্যারিয়ট হোটেলের বাথরুমের মেঝে থেকে যুবরাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি নিজের কক্ষেই একা ছিলেন। পরবর্তীতে টক্সিকোলজি প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে উচ্চ মাত্রায় অ্যালকোহলের পাশাপাশি পার্টি ড্রাগ জিএইচবি, গাঁজা, জ্যানাক্স ও অন্যান্য অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া যায়।   মাদক ও অ্যালকোহলের বিষাক্ত যৌথ প্রভাবে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। সৌদি রাজপরিবারের এই সদস্য দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ও অ্যালকোহলের আসক্তিতে ভুগছিলেন এবং মৃত্যুর কিছুদিন আগেও লন্ডনের দুটি পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তবে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা বা আত্মহত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি
সৌদিতে ওমরাহ পালনে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল মা-সহ একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির

সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও দুই সন্তানসহ তিন বাংলাদেশি মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতের স্বামী ও বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা স্থানীয় একটি হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।   পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র মতে, নিহতরা হলেন—তানিয়া তাহমিনা রিনা, তাঁর দ্বাদশ শ্রেণি পড়ুয়া ছোট মেয়ে সাদাফ শাফিকুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে জারগিস ইসলাম। তাদের নিজস্ব বাসভবন ঢাকার শেরে বাংলা নগর থানার নর্থ শ্যামলীর ২ নম্বর রোডে অবস্থিত। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পুরো পরিবারটি রিয়াদ থেকে একটি গাড়িতে করে পবিত্র মক্কা নগরীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।   পথিমধ্যে তাদের বহনকারী গাড়িটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই মা তানিয়া, মেয়ে সাদাফ এবং ছেলে জারগিস মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)।   দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তানিয়ার স্বামী শাফিকুল ইসলাম এবং তাদের বড় ছেলে। তাদের অবস্থা বর্তমানে বেশ সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এদিকে, একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে ঢাকার নর্থ শ্যামলী এলাকাসহ স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।   বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে এবং আহত বাবা ও ছেলের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
পারমাণবিক চুক্তির জন্য সৌদি আরবকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্ত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তিতে ট্রাম্পের নতুন শর্ত, ইসরায়েলকে দিতে হবে স্বীকৃতি

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্ভাব্য বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর করতে হলে রিয়াদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে যুক্ত হতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবকে ‘আব্রাহাম চুক্তি’তে যোগ দিয়ে ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের অধীনে যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা চলছে, তা আব্রাহাম চুক্তিতে সৌদির সম্মতির ওপর নির্ভর করছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করে আসছে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে। তবে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি শক্তি হলেও দেশটি নিজেদের অর্থনীতি বহুমুখী করার লক্ষ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা চায় রিয়াদ। তবে এই ধরনের চুক্তিতে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও পারমাণবিক বিস্তার রোধের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করে আসছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু হলে ভবিষ্যতে অঞ্চলটিতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের মধ্যে সৌদি আরবের এই উদ্যোগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে পারমাণবিক ইস্যু বহু বছর ধরে একটি সংবেদনশীল বিষয়। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা এই ইস্যুকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে সুদান ও মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়।   তবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। রিয়াদ বারবার জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি কঠিন।   ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, ইসরায়েল-আরব কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
সৌদির পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ট্রাম্পের সমর্থন, নেপথ্যে পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক ছাতা’ নিয়ে নতুন জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক অবস্থান। একই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে রিয়াদের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সামনে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন—ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিপরীতে সৌদি আরব কি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ছাতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে?   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা।   ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের অংশ হলেও, পারমাণবিক বিস্তার রোধ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করলে একটি দেশ ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচিকে আরও উন্নত করার সুযোগ পেতে পারে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এখন পর্যন্ত সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি মূলত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকেন্দ্রিক।   তারপরও সৌদি আরবের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক বাস্তবতা। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের কথা বিবেচনা করতে পারে।   এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।   পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। দেশটির সঙ্গে সৌদি আরবের বহু বছরের সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি এই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।   এই চুক্তির পর থেকেই বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সৌদি আরব কি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের কাছ থেকে কোনো ধরনের কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে? কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য ‘পারমাণবিক ছাতা’ হিসেবে দেখছেন।   তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ বা দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগির কোনো প্রকাশ্য ও নিশ্চিত চুক্তির তথ্য এখনো নেই।   তবে পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু বক্তব্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক পর্যায়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে পাকিস্তানের কৌশলগত সক্ষমতা সৌদি আরবের জন্য ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। যদিও এই বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট অর্থ এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে পরবর্তীতে নানা ব্যাখ্যা এসেছে।   এখন সৌদি আরব একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চাইছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে জোরদার করছে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা।   ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষণে একটি নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে।   একদিকে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, অন্যদিকে ইসরায়েলের ঘোষিত ও অঘোষিত পারমাণবিক সক্ষমতা—এর মাঝখানে সৌদি আরব যদি বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করে এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও গভীর করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।   তবে সৌদি আরব এখনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। বরং বর্তমানে যে চিত্রটি স্পষ্ট, তা হলো—রিয়াদ নিজের জ্বালানি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান—দুই দেশের সঙ্গেই কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করছে।   এখন দেখার বিষয়, সৌদি আরবের এই পারমাণবিক কর্মসূচি কতটা বেসামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে এবং ভবিষ্যতে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে রিয়াদের কৌশল কতটা বদলে যায়।   কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হলে তার প্রভাব শুধু সৌদি আরব, ইরান বা পাকিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি
পূর্বে হুমকি দিলেও এবার সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি হুথিদের,তেল সংকটের আশঙ্কা

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের হুমকি আরও জোরালো করল গোষ্ঠীটি। ফলে ইরানের যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে নতুন করে সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   হুথিদের দাবি, তারা ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ‘এনসেলিয়া’ জাহাজে হামলার পর এর সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে ‘লায়লা’ জাহাজে হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘এনসেলিয়া’ জাহাজটি সৌদি আরবের জিজান বন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে বিপদসংকেত পাঠিয়েছিল।   এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ বাব আল-মান্দাব প্রণালি এড়িয়ে চলাচলের পথ পরিবর্তন করেছে। মঙ্গলবার সৌদি তেল নিয়ে চীন ও ভারতের দিকে যাওয়া তিনটি ট্যাংকারও গতিপথ ঘুরিয়ে নেয়। বুধবার আরও পাঁচটি ট্যাংকার লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এড়িয়ে যায়।   বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজগুলোকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথে যেতে হতে পারে।   এর আগে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল পরিবহনে লোহিত সাগরের পথও যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংকট তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১২তম রাতের মতো সামরিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে।   অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা জর্ডান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও জ্বালানি সংরক্ষণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।   সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার জবাবে দেশটির অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা ইরানের সামরিক কমান্ডও হুমকি দিয়েছে, তাদের অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করতে পারে।   বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরে দুই সৌদি জাহাজে হুথিদের হামলা

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, সৌদি আরবগামী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। গোষ্ঠীটির ভাষ্য, তাদের ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ অমান্য করে সৌদি বন্দরের দিকে যাওয়ায় ‘এনসেলিয়া’ (Encelia) ও ‘লায়লা’ (Layla) নামের ট্যাংকার দুটিকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।   বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, হামলায় দুটি ট্যাংকারেই আগুন ধরে যায় এবং অভিযান সফল হয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। হুথিরা আরও দাবি করেছে, হামলার পাশাপাশি অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এই দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এদিকে যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সৌদি আরবের আল-শুকাইক উপকূল থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন লাগে এবং নাবিকরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। সংস্থাটি জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   নৌ-নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাতপ্রাপ্ত জাহাজটি সৌদি পতাকাবাহী এনসেলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় ট্যাংকার লায়লা-তে হামলার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জাহাজ দুটির ক্ষয়ক্ষতি, নাবিকদের অবস্থা কিংবা সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এর কয়েক দিন আগেই হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার কথা জানায়। তাদের অভিযোগ, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ওপর বিধিনিষেধ বজায় রাখার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তখন সতর্ক করে বলেছিল, এ ধরনের হুমকির জবাব তারা "কঠোরভাবে" দেবে।   বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। এ অঞ্চলে নতুন করে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, ইউকেএমটিও।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী
লোহিত সাগরে হুথিদের নতুন হুমকি, চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী

 মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বড় হুমকি তৈরি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী ঘোষণা দিয়েছে, তারা লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ বা সেখান থেকে পণ্য পরিবহন করতে দেবে না। এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   হুথিদের দাবি, সৌদি বন্দর লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক সংঘাতে চাপ বাড়াবে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৭ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি হুথিরা সত্যিই লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাঁর ভাষায়, “হুথিদের বিরুদ্ধে আমরা আগেও ব্যবস্থা নিয়েছি, প্রয়োজনে আবারও নেব।”   হুথিরা দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মোকাবিলা করে টিকে আছে। তাদের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রের সক্ষমতা রয়েছে, যা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একই সময়ে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং লোহিত সাগরে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হলে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করতে হতে পারে।   লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য এবং জ্বালানি এই পথেই পরিবহন হয়। অতীতে হুথিদের হামলার কারণে বিশ্বের বড় বড় শিপিং কোম্পানি এই রুট এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করতে বাধ্য হয়েছিল। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।   অন্যদিকে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের কারণে হুথিদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়তে পারে।   তবুও হুথিদের এই নতুন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির জন্যও এটি নতুন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবের ওপর হামলাকে নিজেদের ওপর হামলা বলে ঘোষণা দিল পাকিস্তান। ছবি: সংগৃহীত
‘সৌদি আরবে হামলা মানেই পাকিস্তানের ওপর হামলা’, ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদের

সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা ইরানকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে এই ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতাকে ইসলামাবাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসলামাবাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে ইরানকে এই কঠোর বার্তা পৌঁছে দেয়।   গত বছর পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর বহিরাগত আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি আরবের কৌশলগত এলাকাগুলোতে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যা তাদের সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।   গত সোমবার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ তুলে হুতিরা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। যদিও এই সহিংসতা এখন পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে আছে, তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এতটা আকস্মিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে তা ইসলামাবাদের ধারণার বাইরে ছিল।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংকট পাকিস্তানের জন্য বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে লোহিত সাগরে হুতিদের সম্ভাব্য হামলার কারণে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যার ওপর পাকিস্তানের অর্থনীতি বিশেষভাবে নির্ভরশীল। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়েছিল এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। মূলত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পাকিস্তান গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সম্পাদনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, গত সেপ্টেম্বরে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা চুক্তিটি প্রমাণ করে যে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এককভাবে নির্ভর করতে পারছে না এবং তারা পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে। পাকিস্তানের একটি দায়িত্বশীল সূত্র দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ হওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক, তবে সৌদি আরব যদি সামরিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানায়, তবে পাকিস্তান নিশ্চিতভাবেই তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।   সূত্র: জিও নিউজ

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
সৌদি আরবের কাছে ১৯৬ কোটি ডলারের উন্নত অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

সৌদি আরবের কাছে প্রায় ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন (১৯৬ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের উন্নত রকেট নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। মার্কিন আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।   অনুমোদিত প্রস্তাবে রয়েছে ১০ হাজার ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম (এপিকেডব্লিউএস-টু)’ আকাশ থেকে আকাশে ব্যবহারের নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং আরও ১০ হাজার আকাশ থেকে স্থলভাগে ব্যবহারের নির্দেশনা ব্যবস্থা। এগুলোর মাধ্যমে সাধারণ ৭০ মিলিমিটার রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেওয়া যায়।   চুক্তিতে আরও রয়েছে রকেট উৎক্ষেপণ যন্ত্র, উচ্চ বিস্ফোরক ওয়ারহেড, রকেট মোটর, ফিউজ, পরীক্ষামূলক ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, কারিগরি নথি, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং প্রকৌশল ও লজিস্টিক সেবা। প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস।   মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো-বহির্ভূত প্রধান মিত্র। এ বিক্রয় দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ সামরিক কার্যক্রমে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মার্কিন কৌশলেরও অংশ।   সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সীমান্তপারের নিরাপত্তা হুমকি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই অনুমোদনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কম খরচে ড্রোন প্রতিরোধে এই নির্দেশনা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।   তবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই অনুমোদন চূড়ান্ত বিক্রয় চুক্তি নয়। কংগ্রেস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপত্তি না জানালে এবং দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হলে অস্ত্র সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে চালু হলো নতুন প্যাকেজ ভিসা I ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’, একসঙ্গেই মিলবে ফ্লাইট-হোটেল-ভিসা

পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ, সাবলীল ও আনন্দদায়ক করতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করেছে সৌদি আরব। এই অনন্য উদ্যোগের আওতায় দর্শনার্থীরা এখন থেকে একটি সমন্বিত ট্রাভেল প্যাকেজের অংশ হিসেবেই ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন। এই প্যাকেজের ভেতরেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে ফ্লাইট, আবাসন এবং ভ্রমণের অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরিষেবা। দেশটিতে পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা এবং তাদের অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য থেকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।   সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্যমতে, নির্বাচিত কয়েকটি দেশের অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম পরিষেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে এই পাইলট প্রকল্পটি চালু করা হচ্ছে। এই প্যাকেজের সুবিধা নিয়ে ভ্রমণকারীরা রাউন্ড-ট্রিপ বা যাওয়া-আসার ফ্লাইট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ভিসার আবেদন—সবকিছু একটিমাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকে খুব সহজেই সম্পন্ন করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, দর্শনার্থীরা চাইলে তাদের এই ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিভিন্ন ইভেন্ট, বিশেষ কার্যক্রম বা পর্যটন আকর্ষণও যুক্ত করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।   এর ফলে আলাদাভাবে ফ্লাইট বুকিং, হোটেল খোঁজা বা ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার মতো ঝক্কি আর পোহাতে হবে না। তবে শর্ত হলো, কেবল সেইসব অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সিই এই সুবিধা দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সার্বক্ষণিক গ্রাহক সেবা দেওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে।   মূলত ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে পর্যটন খাতের প্রসারে সৌদি আরবের যে বৃহত্তর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, এই প্যাকেজ ভিসা তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নতুন এই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেছে।   উল্লেখ্য, ট্যুরিস্ট ই-ভিসা প্রোগ্রাম চালুর পর থেকেই সৌদি আরব ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ এবং ‘স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা’র মতো বেশ কয়েকটি সহজ প্রবেশাধিকার বিকল্প চালু করে। এসব যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলেই দেশটিতে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি বিদেশি দর্শনার্থী সৌদি আরব ভ্রমণ করেছেন।   নতুন এই উদ্যোগকে দর্শনার্থীদের জন্য এক অভাবনীয় ও সহজ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরির পরবর্তী ধাপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব। এসপিএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সৌদি আরবের পর্যটনের গল্পটি সর্বদা উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা এবং অবিচ্ছিন্ন অগ্রগতির। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে পর্যটন খাতের যাত্রায় পরবর্তী ধাপে পা রাখা হলো।   এটি ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের অংশীদারদের ক্ষমতায়ন করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাত্রাকে করবে আরও সহজ, স্মার্ট ও নির্বিঘ্ন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো মনে করছে, আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য সহজ প্রবেশাধিকার ও বেসরকারি খাতের সাথে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের এই উদ্যোগ পর্যটকদের দেশটিতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে এবং পর্যটন খাতে ব্যয় বাড়াতে দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
উন্নত বিশ্বকে পেছনে ফেলে জি-২০ জোটের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ সৌদি আরব | ছবি: এএফপি
জি-২০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ সৌদি আরব, রাতের বেলা নিশ্চিন্তে একা হাঁটেন ৯৫ শতাংশ নারী

বিশ্বের প্রভাবশালী জি-২০ জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সৌদি আরব। দেশটির জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিসটিকস সম্প্রতি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ডেটা ব্যবহার করে একটি বিশেষ নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, উন্নত বিশ্বের বহু দেশকে পেছনে ফেলে নাগরিক সুরক্ষায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।   প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সৌদি আরবের সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ রাতের বেলা নিজের এলাকায় একা হেঁটে চলাফেরা করাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করেন। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ নাগরিকদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই রাতে একা চলাচলে কোনো ধরনের ভীতি অনুভব করেন না। এই পুরুষদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ বিষয়টিকে 'খুবই নিরাপদ' এবং ১১ শতাংশ 'কোনোভাবে নিরাপদ' বলে উল্লেখ করেছেন।   জননিরাপত্তার এই তালিকায় সবচেয়ে ইতিবাচক ও চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে দেশটির নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে। তথ্য অনুযায়ী, সৌদিতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশই রাতের অন্ধকারে নিজ এলাকায় একা হাঁটাকে নিরাপদ মনে করেন। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ নারী কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই রাতের পরিবেশকে 'খুবই নিরাপদ' বলে রেটিং দিয়েছেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, তরুণ বা যুবকদের পাশাপাশি দেশটির প্রবীণ ও বয়োবৃদ্ধ নাগরিকেরাও রাতের বেলা একা যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচকে সৌদি আরবের এমন অবস্থান দেশটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার এক বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, বিশ্বের শক্তিশালী জি-২০ জোটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো বড় বড় পরাশক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়নও এই জোটের অংশ। এই সমস্ত অঞ্চলের জননিরাপত্তার মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে সৌদি আরবের এই অর্জন বৈশ্বিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পর্দার আড়ালের অস্ত্র বাণিজ্য: সৌদি-কাতারের কাছে গোপনে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করেছে ইসরাইল

কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব ও কাতারের কাছে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উন্মুক্ত নথিপত্র এবং বিভিন্ন ছবি বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, এই গোপন অস্ত্র বিক্রির তালিকায় এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের জন্য তৈরি কম্পিউটারাইজড যুদ্ধ হেলমেট এবং বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিরক্ষা বা কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী দুই আরব দেশের সাথে ইসরাইলের এই অস্ত্র বাণিজ্যের খবর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজপরিবারের ১১টি বিমানের মধ্যে অন্তত তিনটিতে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এলবিটের তৈরি বিশেষ ‘সি-মিউজিক’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। জনসমক্ষে আসা বিভিন্ন আলোকচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে যখন বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল, মূলত তখনই এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাগুলো যুক্ত করা হয়।   এছাড়া ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাতারের এফ-১৫ কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১৫ থেকে ২৫ কোটি ডলারের সাব-কন্ট্রাক্ট বা উপ-চুক্তি লাভ করেছিল। এই চুক্তির অধীনে কাতারি যুদ্ধবিমানের জন্য প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের ১৬০টি জেএইচএমসিএস কম্পিউটারাইজড হেলমেট এবং এএন/এভিএস-৯ নাইট ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়।   একইভাবে সৌদি আরবের কাছেও ইসরাইলি সামরিক প্রযুক্তি পৌঁছানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বোয়িং কোম্পানির মাধ্যমে সৌদি আরবের কাছে এফ-১৫ এসএ যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তির অংশ হিসেবে রিয়াদকে ৪৬২টি জেএইচএমসিএস হেলমেট এবং সমসংখ্যক নাইট ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়েছিল। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সৌদি বিমানবাহিনী বর্তমানে এই হেলমেটগুলো ব্যবহার করছে।   কাতারের সঙ্গে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক না থাকলেও, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কিছু সদস্যের সঙ্গে দোহার গোপন যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে দুই প্রভাবশালী আরব দেশের কাছে ইসরাইলি যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির এই চাঞ্চল্যকর তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রার যোগ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
সৌদি আরবে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১৪

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন।   সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত ১৪ জনই সৌদি নাগরিক। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি সৌদি আরামকোর মালিকানাধীন ছিল। সৌদি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি।   দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যবস্থা নতুন করে আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরামকো জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিঘ্নের কারণে তারা পাইপলাইনের মাধ্যমে তেলের একটি অংশ বিকল্প পথে রপ্তানি করছে। তবে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার সঙ্গে এ পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি।   জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন ভ্রমণ নি ষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। ছবি: সংগৃহীত
ইবোলা আতঙ্কে ৩ আফ্রিকার দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সৌদির

ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আফ্রিকার তিন দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে ওই দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান ও সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।   সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এবং দেশটির পাবলিক হেলথ অথরিটি (ওয়াকায়া) জানিয়েছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আগত ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ইবোলার সম্ভাব্য বিস্তার রোধে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু সরাসরি ওই তিন দেশ থেকেই নয়, অন্য কোনো দেশ হয়ে সৌদিতে প্রবেশ করতে চাইলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এছাড়া সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে ডিআরসি, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানের যেকোনো একটিতে অবস্থান করেছেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।   ওয়াকায়া বলেছে, সংক্রামক রোগের আন্তঃসীমান্ত বিস্তার ঠেকাতে দেশটির স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ও মহামারি মোকাবিলা ব্যবস্থা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিষয়ক সুপারিশ হালনাগাদ করা হবে।   শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, ইবোলা-প্রভাবিত অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা। রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের জন্য প্রবেশপথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।   সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে দেশটির জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইবোলার সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করেছে। বিশেষ করে ডিআরসি, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম তেল রপ্তানি টার্মিনাল রাস তানুরা। ছবি: সংগৃহীত
রাস তানুরা থেকে ফের তেল রপ্তানি শুরু করল সৌদি আরব

প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম তেল রপ্তানি টার্মিনাল রাস তানুরা থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো।   রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের শিপিং প্রতিষ্ঠান বাহরির নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) বর্তমানে রাস তানুরা বন্দরে অপরিশোধিত তেল লোড করছে। এছাড়া আরও একটি জাহাজ বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।   জাহাজগুলোর তেল লোডিং কার্যক্রম সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র থেকে পুনরায় রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিটি ভিএলসিসি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করতে সক্ষম।   বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টার মধ্যে এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।   এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল থেকে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু করল। বিশ্লেষকদের মতে, রাস তানুরা থেকে রপ্তানি পুনরায় চালু হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Unknown জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০