সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সৌদি আরব

গাজায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য গরম খাবার বিতরণ করল সৌদি আরব
গাজায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য গরম খাবার বিতরণ করল সৌদি আরব

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকটে থাকা ২৫ হাজার মানুষের মধ্যে রান্না করা গরম খাবার বিতরণ করেছে সৌদি আরব। দেশটির মানবিক সহায়তা সংস্থা কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএস রিলিফ) মধ্য ও দক্ষিণ গাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করেছে। রোববার (১ নভেম্বর) সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, চলমান মানবিক সংকটে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।   কেএস রিলিফের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির পরিচালিত কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য গরম খাবার প্রস্তুত করা হয়। পরে এসব খাবার গাজার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত পরিবার এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহে সমস্যায় থাকা মানুষদের সহায়তা করাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।   গাজায় কেএস রিলিফের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে সৌদি সেন্টার ফর কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ। প্রতিষ্ঠানটি রান্নাঘরের কার্যক্রম পরিচালনা, খাবার প্রস্তুত, প্যাকেটজাত এবং বিভিন্ন এলাকায় বিতরণের ব্যবস্থা সমন্বয় করে। সংস্থাটির দাবি, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সংকটে থাকা পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাদ্যচাহিদা পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে।   এর আগে গত মে মাসে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল গাজায় কেএস রিলিফের রান্নাঘর ও খাদ্য বিতরণকেন্দ্র পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিরা খাবার প্রস্তুত, প্যাকেটজাত এবং বিতরণের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করেন।   খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি গাজায় বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায়ও কাজ করছে সৌদি আরব। ২০২৫ সালের অক্টোবরে খান ইউনিস ও মধ্য গাজার প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু করে কেএস রিলিফ। প্রকল্পটির উদ্বোধনে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।   কেএস রিলিফের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনে ১৬৮টি মানবিক সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এসব প্রকল্পের মোট মূল্য প্রায় ৫৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা খাতে ৫২টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১১ কোটি ডলারের বেশি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের মতো ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে বহু পরিবার নিয়মিত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে সমস্যার মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের মাধ্যমে প্রতিদিন গরম খাবার সরবরাহের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে খাদ্যসহায়তার এই কর্মসূচি গাজার সামগ্রিক খাদ্যসংকট কতটা দূর করতে পারছে, সে বিষয়ে স্বাধীন মূল্যায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০
সৌদি আরবে বেসরকারি খাতে কর্মরত সৌদি নাগরিকদের জন্য বেতনসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ন্যূনতম বেতনের নতুন ঘোষণা, সর্বোচ্চ ৬ হাজার রিয়াল

সৌদি আরবে বেসরকারি খাতে কর্মরত সৌদি নাগরিকদের জন্য বেতনসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে মাসিক বেতনের নির্ধারিত সীমা হবে ৫ হাজার রিয়াল। পরের বছর তা বাড়িয়ে ৬ হাজার রিয়াল করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত সব কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ নয়। মূলত সৌদি নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে পরিচালিত নিতাকাত কর্মসূচির আওতায় নতুন বেতনসীমা কার্যকর হবে।   সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এটি দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে মাসিক ৫ হাজার রিয়াল এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ৬ হাজার রিয়াল বেতনের সীমা কার্যকর হবে। বর্তমানে এই কর্মসূচিতে একজন সৌদি কর্মীকে পূর্ণ কর্মী হিসেবে গণনার জন্য মাসিক বেতনের সীমা ৪ হাজার রিয়াল।   নিতাকাত কর্মসূচির মাধ্যমে সৌদি আরবের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে কোনো প্রতিষ্ঠানে কতজন সৌদি নাগরিক কাজ করছেন, তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের হিসাব করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন সৌদি কর্মীকে সেই হিসাবে পূর্ণ কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নির্ধারিত বেতনসীমা পূরণ করতে হবে। তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে সব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি কর্মীদের বেতন বাড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে না।   সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের শ্রমবিষয়ক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আবুথনাইন জানিয়েছেন, নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় পাঁচ ধরনের কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফুলটাইম কর্মী, পার্টটাইম কর্মী, নমনীয় কর্মব্যবস্থায় নিয়োজিত কর্মী, পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করা শিক্ষার্থী এবং কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে নিতাকাত কর্মসূচির নিজস্ব গণনাপদ্ধতি ও শর্ত প্রযোজ্য হবে।   সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সৌদি নাগরিকদের জন্য বেসরকারি খাতের চাকরি আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুতির জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের পর দ্বিতীয় ধাপের আগে আরও এক বছর সময় পাবেন নিয়োগকর্তারা।   এদিকে সৌদি আরবের মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলও কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বেতনসংক্রান্ত সহায়তার সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। যোগ্য সৌদি কর্মীদের বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে মাসিক সহায়তার সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ৩ হাজার রিয়াল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌদি নাগরিক নিয়োগে আরও উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   নতুন ঘোষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার বা ৬ হাজার রিয়াল বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বেতন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি। তাঁদের বেতন মূলত চাকরির চুক্তি এবং প্রযোজ্য শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ফলে নতুন ঘোষণার কারণে সৌদি আরবে কর্মরত সব বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন বাড়বে, এমন ধারণা সঠিক নয়।   একই সময়ে সৌদি সরকার যোগ্য নাগরিকদের জন্য মাসিক ৫০০ রিয়াল অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে। সরকারি বেসামরিক ও সামরিক কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা যোগ্য পরিবারগুলো এই সহায়তার অন্তর্ভুক্ত। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ ও পানির নতুন ট্যারিফ কার্যকরের প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের আর্থিক চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সৌদি সরকারের নতুন বেতননীতি দেশটির শ্রমবাজারে স্থানীয় নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তবে বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য এর সরাসরি কোনো নতুন ন্যূনতম বেতন নির্ধারিত হয়নি। তাই সৌদি আরবে চাকরিপ্রার্থী ও কর্মরত প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নিয়োগপত্রে উল্লেখিত বেতন, সুযোগসুবিধা এবং চাকরির শর্ত যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যের ১৩ দেশে ভ্রমণ সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান-সমর্থিত হুথিদের হা মলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৩ দেশে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

মধ্যপ্রাচ্যের ১৩টি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সশস্ত্র হা মলা, মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হুমকি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই সতর্কতা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এর মধ্যে পাঁচটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য আটটি দেশের ক্ষেত্রে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের চার স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা ব্যবস্থায় ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘লেভেল ৪’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। এই স্তরের অর্থ, এসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিচ্ছে মার্কিন সরকার। অন্যদিকে ইসরায়েল, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও আটটি দেশ রয়েছে ‘লেভেল ৩’ সতর্কতার আওতায়। এসব দেশে যাওয়ার আগে ভ্রমণকারীদের পরিকল্পনা নতুন করে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সতর্কতার মাত্রা অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত থাকলেও গত শুক্রবার ১৩টি দেশের জন্য নির্দেশনাগুলো হালনাগাদ করা হয়। নতুন তথ্যের মধ্যে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। সতর্কবার্তায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হুথিদের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে, চলমান স ং ঘা ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তাৎক্ষণিক এলাকার বাইরেও পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য সম্ভাব্য হুমকি শুধু সশস্ত্র হা মলায় সীমাবদ্ধ নয়। ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে অপ হ র ণ এবং জিম্মি করার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে নাগরিক অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক ও ইয়েমেনে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঝুঁকির বিষয়টিও ভ্রমণকারীদের বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। এসব দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন মার্কিন নাগরিকদের ‘স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম’ বা এসটিইপিতে নিবন্ধনের পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এই কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধন করলে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কাছ থেকে নিরাপত্তা সতর্কতা এবং জরুরি পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়। পরিস্থিতির অবনতি হলে কীভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে, সে প্রস্তুতি আগেই রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণকারীদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষভাবে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রস্থানের পরিকল্পনা যেন মার্কিন সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য এই সতর্কতার আগে আরও কয়েকটি দেশের ভ্রমণ নির্দেশনা পরিবর্তন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে কেনিয়ার জন্য সতর্কতার মাত্রা ‘লেভেল ২’ থেকে বাড়িয়ে ‘লেভেল ৩’ করা হয়। অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, নাগরিক অস্থিরতা, অপ হ র ণ এবং সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। চীন ভ্রমণকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্যও সতর্কতা রয়েছে। দেশটিতে অন্যায়ভাবে আ ট ক হওয়া, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং এমন বিধিনিষেধের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে, যা কোনো ব্যক্তিকে চীন ছেড়ে যেতে বাধা দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ১৩টি দেশের জন্য এই সতর্কতা এমন সময়ে এসেছে, যখন অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। তবে সতর্কতা জারি বা নির্দেশনা হালনাগাদ করার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি দেশের ঝুঁকির মাত্রা নতুন করে বাড়ানো হয়েছে। অধিকাংশ দেশের সতর্কতার স্তর অপরিবর্তিত থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির
হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। ইরানের মধ্যস্থতায় এই অর্থ হুথিদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম। তবে সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব বা কোনো অর্থ হস্তান্তরের কথা নিশ্চিত করেনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই দাবি সামনে আসে।   ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হুথিদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করা। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধের বিনিময়ে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ শর্ত, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি কিংবা হুথিদের সম্মতির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।   প্রতিবেদনে একজন কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী একটি হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে প্রস্তাবিত ১০০ কোটি ডলার তেহরানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একজন সৌদি কর্মকর্তাও অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।   এর মধ্যে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ইরানের রাজধানী তেহরানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনও উপস্থিত ছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সংঘাত কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।   সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্যদেশগুলোর এই সফরের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা। পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে সরকারি বিবৃতিতে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার কোনো প্রস্তাবের উল্লেখ নেই।    সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন। ইসরায়েল হায়োমকে দেওয়া বক্তব্যে একজন সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন না হওয়াই বর্তমান সংঘাতের অন্যতম কারণ। ওই সমঝোতায় হুথিনিয়ন্ত্রিত এলাকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার বিষয় ছিল।   হুথি গোষ্ঠীর অভিযোগ, সৌদি আরব আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, সামরিক হামলার চাপের মুখে নতুন যুদ্ধবিরতিতে যেতে চায় না রিয়াদ। ফলে সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা পুরোনো সমঝোতা বাস্তবায়নের অংশ, নাকি নতুন যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে আলাদা প্রস্তাব—সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়।   এদিকে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগের দিন হুথিরা সৌদি আরবের তেল পরিবহন অবকাঠামো ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা চালানোর দাবি করেছিল। তবে সব হামলার দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন নয়। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযানে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘাত কমে আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন করে হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।   বিশেষ করে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে সংঘাত আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।   এই পরিস্থিতিতে তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে হুথিদের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে কিংবা অর্থের বিনিময়ে হামলা বন্ধের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।   সব মিলিয়ে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার খবর এখনো কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর একটি দাবি। সৌদি আরব তেহরানে শান্তি আলোচনা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও প্রস্তাবিত অর্থের অঙ্ক কিংবা অর্থ হস্তান্তরের তথ্য নিশ্চিত করেনি। ফলে হুথিরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না এবং নতুন যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে আটকে পড়া এবং আকামার মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীরাও সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। ছবি: সংগৃহীত
আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে ফেরার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে ফিরতে না পারায় যেসব বাংলাদেশি কর্মীর আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাঁরাও দেশটিতে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছালে ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে তাঁদের প্রবেশের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।   এদিন বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় অনেক প্রবাসী কর্মী নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে ফিরতে পারেননি। এর মধ্যে কারও কারও আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এসব কর্মীকে পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে কোন তারিখের মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হওয়া কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন কিংবা কী ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি।   সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে বহু ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এতে ছুটিতে দেশে আসা হাজারো প্রবাসী কর্মী বিপাকে পড়েছেন। অনেকের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, আবার কারও আকামা ও এক্সিট-রিএন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১৪৪টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যাতায়াত পরিকল্পনায় সমস্যায় পড়েছেন ২২ হাজারের বেশি যাত্রী।   এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে জেদ্দা ও মদিনা রুটে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে এসব বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স, সৌদি নিয়োগকর্তা এবং প্রয়োজনীয় ভিসা ও প্রবেশের অনুমতি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   অনুষ্ঠানে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, তিন লাখ টাকায় যেখানে একজন কর্মীর বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে প্রবাসী কর্মীদের দীর্ঘদিন ঋণের বোঝা বহন করতে হয়। সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যৌথভাবে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মীদের আর্থিক চাপও কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।   আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। বিশেষ করে ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাই এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ই-মেইল সেবা চালু এবং তা ব্যাপকভাবে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন সম্পর্কে কর্মীদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।   সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই বিশেষ ক্ষমার আবেদন গ্রহণ করেছে, এমন কোনো ঘোষণা আসেনি।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবে নিজ দেশের নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় বসবাস করেন বাংলাদেশি কর্মীরা। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান খাতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বিএমইটির মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   এদিকে সভায় অংশ নেওয়া রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো এবং বিএমইটির ম্যানপাওয়ারসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রক্রিয়া সহজ হলে বিদেশগামী কর্মীদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। সরকারও কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়ে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।   তবে সৌদি আরবে পুনঃপ্রবেশের বিষয়ে মন্ত্রীর ঘোষণার পরও কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আকামা এবং এক্সিট-রিএন্ট্রি ভিসা দুটি পৃথক অনুমোদন। কোনটির মেয়াদ শেষ হলে কীভাবে পুনঃপ্রবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত লিখিত নির্দেশনা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই মেয়াদোত্তীর্ণ আকামা নিয়ে শুধু মন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরিবর্তে সৌদি নিয়োগকর্তা, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স এবং সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে নিজের প্রবেশের অনুমতি যাচাই করা প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে ফিরতে না পারা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর ঘোষণা স্বস্তির খবর। বিশেষ করে আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যাঁরা চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য পুনঃপ্রবেশের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সুবিধাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং কোন কোন কর্মী এর আওতায় আসবেন, তা সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
তেহরানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় তিন দেশের প্রতিনিধিরা
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে যাচ্ছে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘা ত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সোমবারের এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হা মলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন দেশের প্রতিনিধিদের তেহরান সফর মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।   বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অংশ নেবেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তুরস্কের প্রতিনিধিদলে থাকবেন দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আলোচনায় ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, ফিলিস্তিন ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব উঠে আসবে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের গত সপ্তাহের তেহরান সফরের সময় এই বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই সফরে মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইরানের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে তারা আগ্রহী নয়। সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই বৈঠক হচ্ছে। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চুক্তির সদস্য দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্য অর্জনে তারা অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহী। গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হা মলাকে সব সদস্যের ওপর হা মলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান সম্প্রতি চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। তুরস্কের পার্লামেন্টেও এটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই চুক্তির গুরুত্ব বেড়েছে সৌদি আরবের ওপর ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চাপের কারণে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাদের হা মলা জোরদার করেছে। রোববার সৌদি আরবের দিকে ছোড়া আরও এক দফা ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে দেশটি। এর আগে চলতি মাসে রিয়াদে মক্কা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের বিষয়ে একমত হন তাঁরা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথা বলেন। জবাবে ইরানের নেতারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিলে তেহরান আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। এসব পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘা তের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের উদ্যোগে জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবার লড়াই শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতা টেকেনি। তিন দেশের প্রতিনিধিদের এবারের বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সমঝোতা আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ, হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হা মলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই আলোচনা আঞ্চলিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈঠকে উত্তেজনা কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
১৪ বছর বয়সে সংঘটিত কথিত অপরাধের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৯ বছর বয়সী যুবক হাসান জাকি আল ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
১৪ বছর বয়সের করা এক অপরাধের জন্য সৌদিতে ২৯ বছরের যুবকের মৃত্যুদণ্ড

সৌদি আরবে ১৪ বছর বয়সে কথিত অপরাধের অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর নাম হাসান জাকি আল ফারাজ। গত ১৭ অক্টোবর দেশটির পূর্বাঞ্চলে আরও চার ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। অথচ ২০২০ সালে সৌদি সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করা হয়েছে। ছয় বছর আগের সেই ঘোষণার পরও এমন ঘটনায় দেশটির বিচারব্যবস্থা ও শিশু অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসান জাকি আল ফারাজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল কিশোর বয়সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া। ২০১১ ও ২০১২ সালে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় কাতিফ এলাকায় শিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সেসব বিক্ষোভ ও নিহত ব্যক্তিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ থেকে ১৫ বছর। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ শুধু বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত আরও কয়েকটি অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।   মানবাধিকার সংগঠন মেনা রাইটস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন তাঁকে কারাগারে রাখা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। সংগঠনটির দাবি, তাঁকে দীর্ঘ সময় নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল এবং বাইরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও সীমিত করা হয়। তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০২২ সালে সৌদি আরবের বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায়ও সেই সাজা বহাল থাকে। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই দিনে পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দেয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ, অস্ত্র রাখা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের অভিযোগ ছিল। তবে ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সরকারি বিবৃতিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অভিযোগগুলো তুলে ধরা হলেও কার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তা আলাদাভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। সংগঠনটি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।   ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে সৌদি আরবের ২০২০ সালের আইনি সংস্কারের কারণে। সে সময় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ১৮ বছরের কম বয়সে সংঘটিত নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওই পরিবর্তনের আওতায় ২০১৭ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচারাধীন মামলাগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত কথিত অপরাধের জন্য সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থেকে যায়। অন্যদিকে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটনের সময় অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের নিচে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিষিদ্ধ। সৌদি আরবও এই আন্তর্জাতিক সনদের অংশীদার।   হাসানের মামলাটি আগেই জাতিসংঘের নজরে এসেছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের নির্বিচার আটকসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ তাঁর আটককে বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী হিসেবে চিহ্নিত করে মুক্তির আহ্বান জানায়। সংস্থাটি বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্যতার অভাব এবং মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এমনকি চলতি বছরের ৯ অক্টোবর জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা কয়েকজনের বিষয়ে আবারও উদ্বেগ জানান। এর মাত্র আট দিন পর হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।   হাসানের মৃত্যুদণ্ডের পর আরও কয়েকজন বন্দির জীবন নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী ইউসুফ আল মানাসিফ। তাঁর বিরুদ্ধেও ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, সৌদি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় যেকোনো সময় সাজা কার্যকরের আশঙ্কা রয়েছে। ইউসুফের ক্ষেত্রেও নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় এবং যথাযথ আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভ তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে যুক্তরাজ্যসহ সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সামগ্রিক সংখ্যাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা এক বছরে দেশটির সর্বোচ্চ নথিভুক্ত সংখ্যা। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল অন্তত ৩৪৫। গত বছরের মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে ২৪০টি ছিল মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মামলায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার সীমিত করার ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বড় পার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত কথিত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নিয়ে তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সৌদি আরববিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক জোয়ি শিয়া বলেছেন, হাসান আল ফারাজের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্যতার ঘাটতির কারণে। সংগঠনটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি বিচার মন্ত্রণালয় ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো জবাব উল্লেখ করা হয়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
. মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম
ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ছয় মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম, বাড়ছে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ

আইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দাম বাড়ছে।   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়ায়। এক দিনে দাম বাড়ে ৩ দশমিক ৫৫ ডলার। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। এই তেলের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল। সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই ‘বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পর যেকোনো ধরনের অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইরানকে ঘিরে এই উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরও তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন কর্মীদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং দুজন আহত হন। একই সময়ে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো দাহরানে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে।  

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছয় প্রশ্নের ব্যাখ্যা চেয়ে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর, ছয় প্রশ্নের জবাব চেয়ে চিঠি ঢাকার

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ছয়টি প্রশ্নের জবাব চেয়ে দেশটির সরকারের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, কীভাবে বিচার হয়েছে এবং দ ণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে ঢাকা।   গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশের দুই নাগরিক নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে দ ণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় চিঠিটি পাঠানো হয়। বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সৌদি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল-সেহরির কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে ছয়টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, দুই বাংলাদেশি ঠিক কী অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, অপরাধ সংঘটনের সময় ও স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। তৃতীয়ত, তাঁদের গ্রেপ্তারের তারিখ। চতুর্থত, আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি। পঞ্চমত, কী পদ্ধতিতে মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—তলোয়ার দিয়ে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ষষ্ঠত, দ ণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে বা কী করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি তালিকায় দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কিছু তথ্য উল্লেখ ছিল। সেখানে একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচার এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের কথা বলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ওই তালিকায় তাঁদের জন্য কী ধরনের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য ছিল না। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের তালিকায় থাকা তথ্যের সঙ্গে পরবর্তী বিবৃতির বিষয়বস্তুর পার্থক্য এবং দ ণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য না জানানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। দ ণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে পাঠানো চিঠির জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং দ ণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।  

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
কাবার গিলাফের অংশ জেফরি এপস্টিনের কাছে পৌঁছানোর তথ্যকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার জোরদার করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এপস্টিনকে পবিত্র কাবার গিলাফ উপহার দেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত যৌন অপরাধী ও অর্থদাতা জেফরি এপস্টিনের কাছে পবিত্র কাবার গিলাফের অংশ পাঠানোর তথ্যকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার জোরদার করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে কাবার গিলাফের সঙ্গে সম্পর্কিত কাপড় তাঁর কাছে পৌঁছানোর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনাকে সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে হুতিরা। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের মাধ্যমে কাবার গিলাফের অংশ এপস্টিনের কাছে পৌঁছেছিল। এসব কাপড়ে পবিত্র কোরআনের আয়াতের নকশা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিতে কাপড় পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেলেও এর সঙ্গে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা জরুরি। এপস্টিনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর যোগাযোগ নিয়ে প্রকাশিত নথিগুলো এর আগে থেকেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় রয়েছে।   সৌদি আরব ও হুতিদের দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নতুন করে বিষয়টি সামনে এসেছে। গত মাসে পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছিল সৌদি আরব। হুতিরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর হুতি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এপস্টিনের কাছে কাবার গিলাফের অংশ পাঠানোর খবর তুলে ধরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শুরু করে। হুতি গোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত তাদের সংবাদমাধ্যমে বলেন, যারা এপস্টিনকে কাবার গিলাফ দিয়েছে, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এটি হুতি নেতৃত্বের বক্তব্য, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিরা শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, ভিডিও, গান, বক্তৃতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদেরও এই প্রচারে যুক্ত করছে। এক্সে বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকা ইয়েমেনি কৌতুকাভিনেতা মুস্তফা আল-মোমারি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করে ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইয়েমেনের স্থানীয় শিল্পীরাও এ বিষয় নিয়ে গান তৈরি করেছেন। হুতি নেতা আব্দুল মালেক আল-হুতিও বিভিন্ন বক্তব্যে এপস্টিনের নথি উল্লেখ করে পশ্চিমা প্রভাবশালী মহলের সমালোচনা করেছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু সৌদি আরবের সামরিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়, বরং ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর রক্ষক হিসেবে দেশটির ভাবমূর্তিকেও চ্যালেঞ্জ করা। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক, অন্যদিকে হুতিরা দেশটির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। এই বিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমও জনমত প্রভাবিত করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।   এপস্টিনের নথি নিয়ে হুতিদের বক্তব্যের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে নথিতে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা কোনো বস্তু পাঠানোর তথ্য থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হুতিদের রাজনৈতিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তাই এপস্টিনের কাছে গিলাফের অংশ পৌঁছানোর ঘটনা এবং মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে পৃথক বিষয় হিসেবে দেখা জরুরি।   সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও এনডিটিভি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
বাইবেল ও কোরআন পাঠের মধ্য দিয়ে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন ডেইজি
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল

খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ধর্মপ্রাণ পরিবারের সন্তান সিস্টার ডেইজি। কিন্তু সেই দেশেই মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস, আজানের সুর এবং পবিত্র কোরআনের বক্তব্য তাঁকে নতুন করে ভাবতে শুরু করতে বাধ্য করে। পরবর্তী সাত বছর ধরে বাইবেল ও কোরআন পড়ে ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে অনুসন্ধান চালান তিনি। একপর্যায়ে সন্তানদের নিয়ে একটি মসজিদে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁর জীবনের এই পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।   ডেইজির বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের ধর্মীয় পরিবেশ ও কঠোর অনুশাসনের মধ্যে তাঁর বেড়ে ওঠা। সেই পরিবেশে সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর বিশ্বাস তৈরি হয় তাঁর মনে। পরবর্তী সময়ে মার্কিন দূতাবাসের শিক্ষিকা হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পান ডেইজি। তিনি এই সুযোগকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি উপলক্ষ হিসেবে দেখেছিলেন। খ্রিস্টধর্মের প্রতি নিজের বিশ্বাস থেকেই তিনি সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাঁর অভিজ্ঞতা প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্ন হয়ে ওঠে। সেখানে মুসলমানদের মধ্যে হজরত ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা দেখে তিনি বিস্মিত হন। খ্রিস্টধর্মে যিশু ও মেরি হিসেবে পরিচিত এই দুই ব্যক্তিত্ব ইসলামেও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। বিষয়টি ডেইজির মনে গভীর কৌতূহল তৈরি করে। বিশেষ করে পবিত্র কোরআনে যিশুর জন্ম সম্পর্কে বর্ণনা তাঁর মনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তিনি অন্যদের সামনে কথা বলতে চেয়েছিলেন, সেই বিশ্বাসের পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহও ক্রমে বাড়তে থাকে। ডেইজির জীবনের এই পরিবর্তন অবশ্য একদিনে ঘটেনি। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি ধর্মীয় সত্য অনুসন্ধান করেন। এ সময় বাইবেলের পাশাপাশি পবিত্র কোরআনও গভীরভাবে পড়তে শুরু করেন। দুই ধর্মের শিক্ষা ও বক্তব্য সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের বিশ্বাস নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করেন। একপর্যায়ে ইসলামের একত্ববাদের ধারণা তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। সৃষ্টিকর্তার একত্ব সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা এবং ধর্মীয় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাঁর বিশ্বাসে পরিবর্তন আসে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশেষে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে একটি মসজিদে যান ডেইজি। সেখানে প্রথমবারের মতো সেজদায় অবনত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে বলে বর্ণনায় বলা হয়েছে। সেই মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এভাবেই ইসলাম গ্রহণ করেন ডেইজি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে নিজের মেয়েকেও অনুপ্রাণিত করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেইজির জীবনের এই ঘটনা ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত অনুসন্ধান এবং মানুষের চিন্তায় পরিবর্তনের একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর যাত্রার শুরু হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসকে অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ভিন্ন পরিবেশে বসবাস, অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাস সম্পর্কে জানা এবং ধর্মগ্রন্থ পাঠের অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ দেয়। তবে ডেইজির জীবনের এই বিবরণে তাঁর ইসলাম গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তারিখ, সৌদি আরবে তাঁর অবস্থানের সময়কাল এবং পরবর্তী জীবনের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর জীবন সম্পর্কে আরও বিস্তৃত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ ভারতীয় নি হত, আ হত ২ বাংলাদেশিসহ ৮ জন
সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ ভারতীয় নি হত, আ হত ২ বাংলাদেশিসহ ৮ জন

সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো এক ভয়াবহ হামলায় দুই ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।   গত বুধবার রাতে ঘটা এই হামলার ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আরও আটজন আহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।   আহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় ছাড়াও দুই ইয়েমেনি, এক নেপালি এবং একজন সৌদি আরবের নাগরিক রয়েছেন।   আহতদের প্রত্যেককেই তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।   হামলার পর বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছে।   তারা হলেন— কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সজল চন্দ্র দাস এবং নোয়াখালী সদর থানার গোবিগল্লপপুর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত এই দুই প্রবাসী বর্তমানে দাম্মামের সৌদি-জার্মান হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে চারটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ছবি: সংগৃহীত
রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ৪ ড্রোন ধ্বংসের কথা জানাল সৌদি

সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে চারটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি এ তথ্য জানান। কাতারের সংবাদ সংস্থা কিউএনএর বরাতে দ্য পেনিনসুলা খবরটি প্রকাশ করেছে।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আল মালিকি জানান, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কোন অঞ্চলে কতটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল কিংবা কোথা থেকে সেগুলো পাঠানো হয়েছে, প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তা উল্লেখ করা হয়নি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও দেওয়া হয়নি।    এর আগের দিন বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পূর্বাঞ্চল ও মদিনা অঞ্চলে পাঁচটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল। তবে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ওই দিনের ঘটনায় মদিনার দিকে ড্রোন পাঠানো এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য তুলে ধরা হয়।    বৃহস্পতিবারের চারটি ড্রোন ধ্বংসের ঘোষণা বুধবারের পাঁচটি ড্রোন প্রতিহতের ঘটনা থেকে আলাদা। সর্বশেষ ঘোষণায় হুতিদের দায় সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে নতুন ঘটনায় ড্রোনগুলোর উৎস ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র
হুথি হা ম লার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের দূতাবাস থেকে কূটনীতিক ও পরিবার সরানোর নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সৌদি আরব থেকে মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের হু থি গোষ্ঠীর হা ম লা এবং ইরানের সঙ্গে নতুন করে সা মা রি ক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সে না র উপস্থিতি কমানো হচ্ছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আপাতত সৌদি আরবের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সৌদি আরবে বেসামরিক স্থাপনায় হু থি দের হা ম লা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক হা ম লায় বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হা ম লার কারণে প্রা ণ হা নি, আহত হওয়ার ঘটনা এবং বিমান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হু থি রা সৌদি আরবে বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হা ম লা চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক মানুষের প্রা ণ হা নি এবং যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। পিগট আরও বলেছেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সে না কেও স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব পদক্ষেপের সবকটি বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবের বাইরে অন্য দেশগুলোতে কর্মী সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর সঠিক নয়। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। হু থি দের আরও হা ম লার আশঙ্কায় দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। চলমান উত্তেজনার কারণে বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মার্কিন সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ অনুমতির বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর সা মা রি ক উত্তেজনা। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যু দ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্থাপনায় পা ল্টা হা ম লা চালায়। সে সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁদের কয়েকজনকে আবার ওই অঞ্চলে ফিরিয়ে আনা হয়। এখন নতুন করে হা ম লার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এদিকে আগামী মাসে ইরানে নতুন করে হা ম লা চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সে না বাহিনী ইরানে পুনরায় হা ম লার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অভিযান শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য অভিযানকে স্বল্প সময়ের হলেও তীব্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিকল্পনায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রো নের মজুত লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের আরেক দফা হা ম লার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে তেহরানকে কূটনৈতিক সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে হা ম লা চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য নেই। ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হু থি দের হা ম লা সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। এরই মধ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সা মা রি ক পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ট্রাম্প এর আগে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে পূর্ণমাত্রার হা ম লা পুনরায় শুরু না করার কথা বলেছিলেন। তবে নির্বাচনের পর সা মা রি ক অভিযান আবার শুরু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিক ও সে না সদস্যদের স্থানান্তর একদিকে নিরাপত্তা-উদ্বেগের প্রতিফলন, অন্যদিকে অঞ্চলটিতে নতুন সা মা রি ক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের রিয়াদ অঞ্চলে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিক গ্রেপ্তার

সৌদি আরবের রিয়াদ অঞ্চলে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই চারজন সৌদি আরবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি এবং কতজন ভারতীয়, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের নাম কিংবা রিয়াদ অঞ্চলের ঠিক কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে তথ্যও জানানো হয়নি।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জননিরাপত্তা বিভাগের ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।    এ ঘটনায় দান করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সরকারি অনুমোদিত মাধ্যম ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অনুমোদিত মাধ্যমে অনুদান দিলে তা প্রকৃত সহায়তাপ্রত্যাশীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা সহজ হয়।   সৌদি সংবাদমাধ্যম সাবকও গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিক্ষাবৃত্তিকে উৎসাহ দেওয়া এড়াতে দাতাদের অনুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহায়তা পাঠাতে বলা হয়েছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে দণ্ড পাওয়া শ্রীলঙ্কান প্রবাসী আনোজান শিবরাসার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক পোস্টে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কান নাগরিক মুক্তি পেলেন নিজ দেশের কূটনৈতিকদের তৎপরতায়

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শ্রীলঙ্কার অভিবাসী শ্রমিক আনোজান শিবরাসার সাজা বাতিল করেছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমাচন্দ্র জানিয়েছেন, ১৩ অক্টোবর আদালত এই সিদ্ধান্ত দেয়। পরদিন তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেন। শ্রীলঙ্কার সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আইনজীবীদের আপিলের পর এই রায় এসেছে।    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী শিবরাসা গত ২৮ জুন ফেসবুকে একটি ভিডিওর নিচে তামিল ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন। মন্তব্যটি মহানবী হজরত মুহাম্মদকে অবমাননাকর বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি সেটি মুছে দিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে মন্তব্যের স্ক্রিনশট তাঁর নিয়োগকর্তা ও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যায় বলে পরিবারের এক সদস্য সংগঠনটিকে জানিয়েছেন।    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৭ জুলাই আল আহসার ফৌজদারি আদালত সাইবার অপরাধবিরোধী আইনের আওতায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলের আপিল আদালত সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সংগঠনটির ভাষ্য, গ্রেপ্তার থেকে প্রথম রায় ঘোষণার আগপর্যন্ত তিনি আইনজীবীর সহায়তা পাননি।    মৃত্যুদণ্ডের পর শ্রীলঙ্কা থেকে একটি বিশেষ আইনজীবী দল সৌদি আরবে গিয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে আপিলের প্রস্তুতি নেয়। শ্রীলঙ্কার সানডে টাইমস জানিয়েছে, ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে আপিল জমা দেওয়া হয়। দুই দিন পর আইনজীবীরা জানতে পারেন, আপিল আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় রিয়াদে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসও যুক্ত ছিল।    আইনজীবী দলের সদস্য হাফিল ফারিস সানডে টাইমসকে বলেছেন, শিবরাসার নামে নথিভুক্ত স্বীকারোক্তির ভাষায় অস্পষ্টতা ছিল বলে তাঁরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁদের আরও বক্তব্য ছিল, আপিল আদালতে অপরাধের আইনি ধরন বদলে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অভিযোগ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি শিবরাসাকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি।    তবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল হলেও শিবরাসার মুক্তি বা দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। ফারিস জানিয়েছেন, মূল আদালতের রায়সহ মামলার পরবর্তী আইনি অবস্থান তখনো স্পষ্ট হওয়া বাকি ছিল। ফলে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে খালাস বা তাৎক্ষণিক মুক্তির আদেশ হিসেবে দেখছেন না তাঁর আইনজীবীরা।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চেয়েছে ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল ইনক। ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে আগাম জানানো হয়নি বলে প্রকাশিত সংবাদে তারা উদ্বিগ্ন।   বিজ্ঞপ্তিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মঈন চৌধুরীর সই করা বিবৃতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট বিচারিক নথি সরবরাহ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারকে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং দুই নাগরিকের কনস্যুলার অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ অক্টোবর সাংবাদিকদের জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া সৌদি আদালতের রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি হাতে পাওয়ার পর সরকার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে অবহিত ছিল না বলে সরকারি পর্যায়ে জানানো হয়েছিল।   সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রাজকীয় আদেশের পর তা কার্যকর করা হয়। তবে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, গ্রেপ্তারের সময় কিংবা মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকারও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।   ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৬৩ সালের কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের কথা উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদে বিদেশে আটক নাগরিকদের কনস্যুলার যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অধিকার এবং ৩৭(ক) অনুচ্ছেদে বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার দপ্তরকে অবহিত করার বিধান রয়েছে। তবে প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দূতাবাসকে আগাম জানানোর বিষয়ে কনভেনশনে নিঃশর্ত বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করা হয়েছে।   সংগঠনটি সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সরকারকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের জন্য কার্যকর কনস্যুলার যোগাযোগ, উপযুক্ত আইনি সহায়তা এবং কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিষয়টি পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও বিদেশে ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে পাঁচ শিয়া তরুণের ফাঁসি, মানবাধিকার সংগঠন বলছে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন
সৌদি আরবে পাঁচ শিয়া তরুণের ফাঁসি, মানবাধিকার সংগঠন বলছে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন

সৌদি আরবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত কাতিফ অঞ্চলের এই তরুণদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোকে ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সৌদি রাজপরিবারের পরিচালিত কঠোর দমন-পীড়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।   মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, দণ্ডিত ওই পাঁচ তরুণের বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান, অস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী এবং তাদের সদর দপ্তরে হামলা চালানো, অস্ত্র ও তাজা গুলি রাখা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মোহাম্মদ বিন মুনির আল-জাহির, আলী বিন আবদুল হুসেইন আল-শেখ, হাসান বিন জাকি আল-ফারাজ, রেজা বিন মোহাম্মদ আল বু আবদুল্লাহ এবং আলী বিন হাসান আল-রাবাহ।   মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের বেশ কয়েক বছর কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাঁচজনের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১৭০-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে।   ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর চরম দমন-পীড়নের একটি নির্লজ্জ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, দণ্ডিতদের মধ্যে হাসান আল-ফারাজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মূলত তাঁর শৈশবে বা অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ক্রমবর্ধমান হার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা দেশটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। সম্প্রতি একাধিক মানবাধিকার সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত প্রকাশকারীদের ওপর এ ধরনের শাস্তির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে আখ্যা দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে মৃ ত্যুদণ্ডে প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশির, আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ দূতাবাসের বিরুদ্ধে
সৌদি আরবে মৃ ত্যুদণ্ডে প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশির, আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ দূতাবাসের বিরুদ্ধে

সম্প্রতি সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে 'অনৈতিক' কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির (একজন নারী ও একজন পুরুষ) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় দেশের সরকার তাদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও, নিহত যুবকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবার।   গত বুধবার সৌদি সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর ওই যুবকের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং আকস্মিক এই খবর শুনে তাঁর ফুফু স্ট্রোক করে মারা যান। নিহত যুবকের মা রহিমা বেগম জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র তিন দিন আগেও ছেলের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল, কিন্তু এমন কোনো পরিণতির আভাস তিনি দেননি। বর্তমানে পরিবারটি শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাচ্ছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় ২০২২ সালের নভেম্বরে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে গিয়েছিলেন আনুমানিক ২২ বছর বয়সী ওই যুবক। সেখানে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় ২০২৩ সালে তাঁকে পুলিশ আটক করে। জেলে থাকা অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হলেও, আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি পরিষ্কার করে বোঝাতে পারেননি।   তবে তিনি জানিয়েছিলেন যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আটকের পর স্থানীয় প্রশাসন বা দালাল—কারো কাছ থেকেই কোনো সাহায্য পায়নি দরিদ্র এই পরিবারটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি ওই জেলারই কি না, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো তথ্য আসেনি।   এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াকে তলব করে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানান, ২০২৩ সালে তাঁদের আটকের বিষয়টি সরকার অবগত ছিল এবং বর্তমানে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপির জন্য চিঠি দিয়ে অপেক্ষা করা হচ্ছে।   সৌদি আরব থেকে নিয়মিত বন্দিদের তালিকা পাঠানো হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে যাওয়া প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।   তবে এই ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের চরম গাফিলতির দিকে আঙুল তুলেছেন যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদ। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশে আটক যেকোনো নাগরিকের কনস্যুলার সুবিধা পাওয়া অধিকার।   কিন্তু সরকার ও দূতাবাস আটকের খবর জানার পরও তিন বছর ধরে ওই দরিদ্র শ্রমিকদের কোনো আইনি সহায়তা দেয়নি বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। প্রবাসীদের প্রতি দূতাবাসের এই চরম অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার বিষয়টিই এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্রঃ বিবিসি নিউজ বাংলা

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
বিলি জিন কিং কাপ টেনিসে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন ইয়ারা আল হোগবানি, লারা বুখারি ও মাইসান বিন হাসিন। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক টেনিস প্রতিযোগিতা বিলি জিন কিং কাপে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্বে ৩ নারী

বিলি জিন কিং কাপ টেনিসে সৌদি আরবের হয়ে খেলবেন ইয়ারা আল হোগবানি, লারা বুখারি ও মাইসান বিন হাসিন। ভিয়েতনামে ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য এই তিন খেলোয়াড়কে নির্বাচিত করেছে সৌদি টেনিস ফেডারেশন।    আরব নিউজের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেশন নিজেদের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে দল ঘোষণার তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে প্রতিযোগিতার ভেন্যু হিসেবে ভিয়েতনামের দা নাং শহরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    বিলি জিন কিং কাপ নারীদের জাতীয় দলভিত্তিক আন্তর্জাতিক টেনিস প্রতিযোগিতা। এতে খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এবারের ভিয়েতনাম পর্বে সৌদি দলের হয়ে অংশ নেবেন নির্বাচিত তিনজন।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
হুতিদের হা মলায় সৌদি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের দাবি, নি হত ২
হুতিদের হা মলায় সৌদি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের দাবি, নি হত ২

সৌদি আরবের নাজরান অঞ্চলে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এর দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   বিবৃতিতে তিনি জানান, সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় একটি নজরদারি 'এএইচ-৬আই' (AH-6i) হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে।   তবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করার দাবি করে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিবরণ দাঁড় করিয়েছে।   সম্প্রতি সৌদি জোট এবং ইয়েমেনভিত্তিক এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকাটি হুতিদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, নাজরানের কাছে সীমান্ত বরাবর হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বৈরী কার্যক্রম চালানোর সময় তারা একটি সৌদি 'অ্যাপাচি' (Apache) হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।   হুতিদের এই দাবির বিষয়ে রবিবার সরাসরি মন্তব্য করেছেন সৌদি জোটের মুখপাত্র আল-মালিকি। তিনি সারির ওই দাবির প্রতিক্রিয়ায় এক্সে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো বেশ কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি হুতিদের উদ্দেশ্য করে লেখেন, "আপনারা এটিকে ভূপাতিত করার দাবি করছেন, তবে এটি খুব শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করবে"।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেন ও সৌদির মধ্যকার এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনারই আরেকটি নতুন ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০