যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন এলাকায় মে মাসে এক ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৭৩৫ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্ট এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। গ্রেপ্তারকৃত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৭১১টি অপরাধের সাজা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অপরাধ সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিপজ্জনক গ্যাং বা অপরাধী চক্রের সদস্য, খুনি, শিশু যৌন নির্যাতনকারী, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশি পলাতক আসামি রয়েছে। হিউস্টনের আইসিই এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মে মাসে মোট ৭৩৫ জন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬২৫ জন সরাসরি মানুষের জীবনহানির জন্য দায়ী। মোট অপরাধের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ১৮২টি অপরাধ ছিল চরম সহিংস প্রকৃতির, যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল এবং বাকি অপরাধগুলো মার্কিন নাগরিকদের সম্পদের ক্ষতি করার সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও নৃশংস আন্তর্জাতিক এবং কারাবন্দী গ্যাংয়ের সদস্য বা সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের তালিকায় রয়েছে ৫টি হত্যাকাণ্ড, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা, ৩৮টি যৌন অপরাধ, ১২টি মানব পাচার, ১৭০টি চুরি-ডাকাতি এবং ২২৪টি মারাত্মক শারীরিক আক্রমণের ঘটনা। এছাড়া তালিকায় ৪টি অগ্নিসংযোগ, ৩২টি অভিবাসী চোরাচালান, ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালানো, ৩০টি অস্ত্র অপরাধ, ৩টি অপহরণ, ২৩টি পারিবারিক সহিংসতা, ৮টি শিশু নির্যাতন এবং ৪৯৫টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সাজা রয়েছে, যার মধ্যে বারবার এই একই অপরাধ করা ব্যক্তিরাও রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া বিপজ্জনক অপরাধীদের মধ্যে হন্ডুরাসের ৪৩ বছর বয়সী হুয়ান এস্তেবান জেলায়া হার্নান্দেজ রয়েছেন, যিনি চারবার বিতাড়িত হওয়ার পরও ফিরে এসে অপরাধে জড়ান এবং তিনি পাইসাস গ্যাংয়ের সদস্য। অন্যান্যদের মধ্যে ভিয়েতনামের দিন কুয় নগুয়েন পুলিশকে হত্যার চেষ্টায় সাজাপ্রাপ্ত এবং মেক্সিকোর মিগুয়েল রোসাস ভেঞ্চুরা ও জাভিয়ের মোয়া-টেনটোরি উভয়ই পূর্বে বিতাড়িত হওয়া সাজাপ্রাপ্ত খুনি আসামি। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জোসে ওলবান মার্টিনেজ এবং ১২ বার অনুপ্রবেশকারী মাদক পাচারকারী আলোনসো রাফায়েল ব্যারেরা-ডি লিওনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হন্ডুরাসের হুয়ান জোসে আগুইলেরা-লেমুস এবং মেলভিন হার্নান্দেজ নামক দুই চরম সহিংস অপরাধীসহ পাকিস্তানের বুরহান কুরেশি এবং এল সালভাদরের ফেলিসিয়ানো লুনা-মেন্ডোজার মতো বহুবার বিতাড়িত অপরাধীদের আটক করা হয়। এছাড়াও আইসিই আরও ২০০ জনেরও বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে যাদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেমন হন্ডুরাসের ওয়ান্টেড পলাতক আসামি কার্লোস গ্যালিয়ানো লারা। সংস্থাটির মাঠ কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেজ বলেন, এরা নিরীহ অর্থনৈতিক অভিবাসী নয়, এরা মূলত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বড় হুমকি। সূত্র: আইসিই
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এ নীতির প্রতি সমর্থন আগের তুলনায় বেড়েছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও হ্যারিস পোলের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় ৮০ শতাংশ বলেছেন, “অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কার করা উচিত।” এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৭৫ শতাংশ। জরিপে আরও দেখা যায়, রাজনৈতিক সব শিবিরেই সমর্থন বৃদ্ধি পেলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের ৭১ শতাংশ অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা এপ্রিলের ৬৩ শতাংশের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ সমর্থন প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। এপ্রিলের ৮৯ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৯০ শতাংশ রিপাবলিকান এই নীতিকে সমর্থন করছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন ৭৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের বিষয়ে জনমত তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৫৬ শতাংশ এই নীতির পক্ষে মত দিয়েছেন, যা আগের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ এখন সব অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের পক্ষে, যা এক মাস আগে ছিল ৩৩ শতাংশ। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই সমর্থন ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৭৭ শতাংশে নেমেছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর আমেরিকান পলিটিক্যাল স্টাডিজের জন্য দ্য হ্যারিস পোল ও হ্যারিস এক্স পরিচালিত জরিপে ১ হাজার ৭২৫ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। ২৯ ও ৩০ মে পরিচালিত এই জরিপের মার্জিন অব এরর ছিল প্লাস মাইনাস ২.৪ শতাংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী দেশ ছেড়েছেন বা বহিষ্কৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় “সেলফ ডিপোর্টেশন” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ ত্যাগ করেছেন। বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৯ লাখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনে জোরদার অভিযানের অংশ হিসেবে ‘খারাপের চেয়ে খারাপ’ বা ‘ওর্স্ট অব দ্য ওর্স্ট’ তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ। এই তালিকায় বিভিন্ন দেশের অপরাধীদের পাশাপাশি অন্তত ১০ জন বাংলাদেশির নাম উঠে আসায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে রয়েছে যৌন নির্যাতন, অস্ত্র বহন, চুরি, জালিয়াতি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে গুরুতর অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা। অন্যদিকে, এই তালিকা প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কিছু ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো কমিউনিটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কমিউনিটি নেতারা সবাইকে আইন মেনে চলা এবং নিজেদের অবস্থান বৈধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অভিযান আরও বাড়তে পারে। ফলে প্রবাসীদের জন্য সতর্ক থাকা এবং আইনগত বিষয়গুলো সঠিকভাবে মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।