- প্রচ্ছদ
- Topic
কমিউনিটি
মিশিগানের ওয়ারেনে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। রোববার বিকেলে নিজ বাসার সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ারেনের ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সী আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। গাড়ি ঘুরিয়ে পার্ক করার অনুশীলনের একপর্যায়ে গাড়িটি হঠাৎ পেছনের দিকে চলে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয় এবং কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় তার মেয়ে ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ। আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহতের নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে। আব্দুর রহিমের আকস্মিক মৃত্যুতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা। এদিকে পরিবারের আর্থিক সংকটও আরও গভীর হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে জানাজা ও দাফনের খরচ, বাসাভাড়া, খাবার, বিল এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ পরিবারের ওপর এসে পড়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মেয়েটিও কঠিন মানসিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারকে সহায়তার জন্য শুরু করা তহবিল সংগ্রহের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সম্মতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব না হলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবারের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ এগিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ। সহযোগিতা করতে: https://www.launchgood.com/v4/campaign/help_a_grieving_warren_family?src=6954850
জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন তার বাবা-মা। নাওয়ারের মায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন পোস্টের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তাকে ও তার পরিবারকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। নাওয়ারের মা তার পোস্টে জানান, গত সপ্তাহে মেয়ে তাদের জানায় যে সে জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর এই সপ্তাহে পরিবারের সদস্যরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে দেখেন। এর মধ্য দিয়ে আইনজীবী হিসেবে নাওয়ারের পেশাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। মেয়ের এই অর্জনকে পরিবারের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তার মা বলেন, আইনজীবী হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নাওয়ারকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। দীর্ঘ সেই পথ পেরিয়ে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিতে দেখা বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। পোস্টে তিনি আরও জানান, মেয়ের আইন পড়া এবং একদিন আইনজীবী হয়ে ওঠা ছিল বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। তবে নাওয়ার সেই স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে পরিণত করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। মেয়ের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি নাওয়ারের জীবনের আরও অনেক অর্জনের কেবল শুরু। নাওয়ারের বাবা নাহিদুল হক খান সাহেল জর্জিয়া তথা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ এবং তিনি জর্জিয়া স্টেট বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক। রাজনৈতিক ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত নাহিদুল হক খান সাহেল। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম পরিচিত সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০২৫ সালে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানার ৩৯তম সম্মেলনের কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাহিদুল হক খান সাহেল। নাওয়ারের সাফল্যের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বিভিন্ন মন্তব্যে নাওয়ারের ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি তার বাবা-মাকেও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। একজন বাংলাদেশি আমেরিকান তরুণীর আইন পেশায় প্রবেশের এই অর্জনকে অনেকেই নতুন প্রজন্মের জন্য আনন্দ ও গর্বের একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাওয়ার খান এখন আইন পেশায় তার নতুন যাত্রা শুরু করলেন। পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের এই মুহূর্তে নাওয়ারের সাফল্যে আনন্দিত তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির শুভকামনাও।
নিউইয়র্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হলেও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে আরও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি। কোথাও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি, কোথাও মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষা, আবার কোথাও ব্যবসা ও পেশাজীবী নেটওয়ার্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিবেশ, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের ভাষা, খাবার, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন অনেকটাই ধরে রাখতে পারছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণে নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টনের মতো মেট্রোপলিটন এলাকার নাম এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের তথ্যভিত্তিক ওই তালিকায় আটলান্টিক সিটিও ছিল শীর্ষ ১০-এর মধ্যে। এখানে ‘ছোট বাংলাদেশ’ কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নাম নয়। এটি এমন এলাকাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, গ্রোসারি, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সেবা মিলিয়ে একটি দৃশ্যমান কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান: নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির কথা উঠলে মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশেষ করে হ্যামট্রাম্যাকের কন্যান্ট অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ডেট্রয়েটের পর্যটন সংস্থা ভিজিট ডেট্রয়েটের তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাক ও উত্তর ডেট্রয়েট এলাকায় আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন বলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মেট্রো ডেট্রয়েটের হিসাব। এলাকাটিতে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি গ্রোসারি ও হালাল খাবারের দোকানও রয়েছে। হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধর্মীয় অবকাঠামোরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে মাদ্রাসা বা ইসলামিক স্কুলের কার্যক্রমও চালু করা হয়। কন্যান্ট স্ট্রিটে ফ্যামিলি বাজার, মেঘনা বাজার, মারহাবা বাজার ও হেরা ফিশ মার্কেটের মতো দোকানে বাংলাদেশি গ্রোসারি, মসলা, সবজি, হালাল মাংস ও মাছ পাওয়া যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া: লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ সম্ভবত নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা চার ব্লকের এই এলাকাটি ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। এলাকায় রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, আবাসিক এলাকা ও বাংলাদেশি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। লিটল বাংলাদেশের রাস্তায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি গ্রোসারি, বিউটি সেলুন, মোবাইলের দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা দেখা যায়। বাংলা ভাষার কথাবার্তা, দেশি খাবারের গন্ধ এবং বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করা দোকান এলাকাটিকে অন্য অনেক আমেরিকান এলাকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। থার্ড স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্য পাওয়া যায়। কিছু ব্যবসায় একই সঙ্গে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন মেট্রো, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড: ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকটি বড় কেন্দ্র। এই কমিউনিটি শুধু ডিসি শহরে সীমাবদ্ধ নয়; নর্দার্ন ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে আছে। পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক বাংলাদেশি জনসংখ্যা বিশ্লেষণে নিউইয়র্ক ও ডেট্রয়েটের পর ওয়াশিংটন মেট্রোকে বড় বাংলাদেশি কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার এবং এর ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পেশাজীবীদের শক্ত উপস্থিতি। সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, মসজিদ ও কমিউনিটি সংগঠনও রয়েছে। ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া: পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের বিশ্লেষণে ফিলাডেলফিয়া মেট্রোতে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশির বসবাসের হিসাব পাওয়া যায়। শহর ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, হালাল খাবারের ব্যবসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এই কমিউনিটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আটলান্টা, জর্জিয়া: দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র আটলান্টা মেট্রো। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস এবং বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে আটলান্টা এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারির বিস্তৃত তালিকা পাওয়া যায়। স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসা ডিরেক্টরিতে রুচি বাংলাদেশি কুইজিন, দেশি স্ট্রিট ফুড, আলিফ ক্যাফে, আল-আমিনসহ একাধিক বাংলাদেশি খাবারের ব্যবসা এবং একাধিক গ্রোসারি ও হালাল মাংসের দোকানের তালিকা রয়েছে। ডোরাভিলের আল-আমিনের ও জমজমের মতো কিছু ব্যবসায় একই ছাদের নিচে বাংলাদেশি খাবার, গ্রোসারি ও হালাল মাংসের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একজন বাংলাদেশি পরিবারের জন্য রেস্টুরেন্টে খাওয়া এবং দেশি বাজার করা দুটোই একই জায়গায় সম্ভব। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস: টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায়ও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মেট্রো বিশ্লেষণে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল। এই অঞ্চলের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি খাবার ও গ্রোসারি ব্যবসাও তৈরি হয়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পাশাপাশি টেক্সাসের হিউস্টনেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। হিউস্টন, টেক্সাস: হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। রুপশি বাংলা গ্রোসারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নিজেদের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং মিলনস্থল হিসেবে পরিচয় দেয়। হাইওয়ে ৬ এলাকার এই ব্যবসায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে হিউস্টন মেট্রোতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল। মিয়ামি, ফ্লোরিডা: দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চের একই মেট্রো বিশ্লেষণে মিয়ামিতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির হিসাব পাওয়া যায়। এখানে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, হালাল খাবার, গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে দূরত্বের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ ধরে রাখছেন অনেকে। বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস: নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র বোস্টন। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে বোস্টন মেট্রোতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল। তবে জনসংখ্যার সংখ্যা দিয়ে কমিউনিটির সাংগঠনিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বোস্টনে কয়েক দশকের বাংলাদেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি: নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় আটলান্টিক সিটিতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল। এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাসজিদ আল-হেরা নিজেদেরকে আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রথম মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করে এবং সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি শিশুদের ইসলামিক স্কুল ও প্রাপ্তবয়স্কদের কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি শুধু জনসংখ্যার হিসাব নয়: যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি নিয়ে কথা বলার সময় শুধু কতজন বাংলাদেশি কোথায় থাকেন, সেই সংখ্যা দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। একটি কমিউনিটি কতটা প্রতিষ্ঠিত, সেটি বোঝার জন্য সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসা, গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেটওয়ার্ক কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। একই বিশ্লেষণে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিকে বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকাভিত্তিক তথ্য দেখায়, নিউইয়র্কের বাইরেও ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, বোস্টন ও আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশিদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। এই এলাকাগুলোর কোথাও হয়তো নিউইয়র্কের মতো বিশাল বাংলাদেশি জনসংখ্যা নেই। কিন্তু দেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, বাংলাদেশি বাজার, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান আর বাংলায় আড্ডার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসী জীবনে এসব জায়গা নিজেদের মতো করে একেকটি ‘ছোট বাংলাদেশ’-এর রূপ নিয়েছে। নিউইয়র্ক তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি জীবনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও, বাংলাদেশি আমেরিকানদের গল্প এখন আর একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে হাজার হাজার মাইল দূরে, আমেরিকার নানা প্রান্তে তৈরি হয়েছে এমন কিছু কমিউনিটি, যেখানে একটি রেস্টুরেন্টের টেবিলে বসে দেশি খাবার খাওয়া, পাশের দোকান থেকে বাংলাদেশের মাছ-মসলা কেনা এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে বাংলায় কয়েক ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া এখন প্রবাসী জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ক্লার্কস্টনে চাকরি হারানোর পর তিন মাস ধরে রেন্ট পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছিল একটি অভিবাসী পরিবার। এর মধ্যে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে পরিবারটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাও হারায়। আর্থিক সংকট যখন চরমে, তখন দুই শিশুসহ চার সদস্যের পরিবারটিকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকেও উচ্ছেদ করা হয়। তবে বিপদের সেই মুহূর্তে পরিবারটিকে একা থাকতে দেয়নি স্থানীয় কমিউনিটি। গত শুক্রবার উচ্ছেদের পর পরিবারের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালপত্র অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে রেখে দেওয়া হয়। সেদিন রাতে তাদের থাকার মতো কোনো জায়গাও ছিল না। পরে স্থানীয় এক কমিউনিটি সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। সেখান থেকেই শুরু হয় পরিবারটির জন্য সহায়তার উদ্যোগ। দ্রুত নতুন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। ক্লার্কস্টনের ইংলিশ ওকস অ্যাপার্টমেন্টস পরিবারটির জন্য নতুন একটি অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা করে। পরদিনই পরিবারের সদস্যদের নতুন বাসায় স্থানান্তর করা হয়। তবে নতুন ঘরে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই পাশে ছিল কমিউনিটি। পরিবারের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালপত্র সরিয়ে নিতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন। মালপত্র পরিবহনের জন্য ভ্যানও সরবরাহ করে আরিয়ানা হালাল স্টোর। উচ্ছেদের পর প্রথম রাতের আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের উদ্যোগে একজন স্বেচ্ছাসেবক পরিবারটিকে সেই রাতের জন্য নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। একই সময়ে নতুন বাসার জামানত ও প্রথম মাসের রেন্টের জন্য প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলার সংগ্রহ করা হয়। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেনি। এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্যও কাজ শুরু হয়েছে। পরিবারটি জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংগঠনটি আফগান পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সরকারি সুবিধা, হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করে। এই পরিবারের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ, সরকারি সহায়তা ও স্থানীয় সেবার সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার রেফারেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে ৪৪টির বেশি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের অনেকেই অভিবাসী, শরণার্থী অথবা সীমিত আয়ের পরিবার। সংগঠনটির মতে, একটি চাকরি হারানো, বড় কোনো জরুরি খরচ বা অন্য কোনো আকস্মিক সংকট অনেক পরিবারের জন্য বাসস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্লার্কস্টন এলাকায় অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারগুলোর আবাসন সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে। শহর কর্তৃপক্ষের স্থানীয় সম্পদ তালিকাতেও স্বল্পমূল্যের আবাসনের বিভিন্ন সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর পাশাপাশি আফগান পরিবারগুলোর জন্য আবাসন ও কর্মসংস্থান সহায়তায় কাজ করছে জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোট। এই পরিবারের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্য সহায়তা হারানো। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে, যার প্রভাব কিছু অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারের ওপর পড়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট পরিবারের খাদ্য সহায়তা ঠিক কোন বিধানের কারণে বন্ধ হয়েছে, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। চাকরি হারানো, রেন্টের চাপ, খাদ্য সহায়তা হারানো এবং শেষ পর্যন্ত বাসস্থান হারানো—পরপর এসব সংকট পরিবারটির পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে দুই শিশু থাকা অবস্থায় এক রাতের জন্যও নিরাপদ আশ্রয় না থাকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছিল। তবে উচ্ছেদের পরের ঘটনাটি দেখিয়েছে, সংকটে পড়া একটি পরিবারকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কেউ দিয়েছেন আশ্রয়, কেউ দিয়েছেন পরিবহনের ব্যবস্থা, কেউ সরিয়ে দিয়েছেন মালপত্র, আবার কেউ অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রাথমিক সহায়তার পর এখন পরিবারটির সামনে মূল লক্ষ্য হলো স্থায়ী কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া এবং নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় সময় ও সহায়তা পেলে পরিবারটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। তবে সেই পথ এখনো সহজ নয়। পরিবারটির আগামী দুই মাসের রেন্ট পরিশোধে আরও ৩ হাজার ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সহায়তাকারীরা। এই অর্থ সংগ্রহ করা গেলে পরিবারের হাতে নিয়মিত কাজ খোঁজা এবং আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কিছুটা সময় থাকবে। প্রাথমিক অর্থ সংগ্রহে ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের এলি মায়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এরপর স্থানীয় আরও অনেক মানুষ পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। একটি পরিবারের জন্য এই সহায়তা হয়তো একটি নতুন অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাকরি হারানো থেকে শুরু করে খাদ্য সহায়তা বন্ধ এবং শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ—সবকিছুর পর তাদের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করাই এখন কমিউনিটির সামনে সবচেয়ে বড় কাজ। ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের কার্যক্রমও মূলত সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে জরুরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল জীবনে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়। আর এই পরিবারের ঘটনায় সেই উদ্যোগেরই একটি বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে।
অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে নিউইয়র্কে কমিউনিটি সংগঠনগুলোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। আজ ফেডারেল প্লাজায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সহায়তা ও সংহতি জানাতে একটি কমিউনিটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসন আদালত, আটক, বহিষ্কার এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য ও সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করা হবে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশে থাকার বার্তাও দেবেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও প্রয়োগ কার্যক্রম নিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলা চলছে, তাদের অনেকেই আইনি প্রক্রিয়া, আদালতে হাজিরা এবং সম্ভাব্য আটকের বিষয়ে তথ্যের প্রয়োজন অনুভব করছেন। কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মতে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্যের কারণে অনেকে আইনি প্রক্রিয়ায় সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই আইনজীবী ও অনুমোদিত অভিবাসন সহায়তাকারীদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফেডারেল প্লাজার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসীদের মানবিক মর্যাদা, আইনি অধিকার এবং পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি, লাতিন আমেরিকান, দক্ষিণ এশীয়সহ বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে অভিবাসনসংক্রান্ত যেকোনো নীতি বা আইন প্রয়োগের পরিবর্তন স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অভিবাসন মামলার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদা। কোনো সরকারি নোটিশ বা আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেলে অনুমোদিত আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়াকে সবচেয়ে নিরাপদ পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিউইয়র্কের কমিউনিটি সংগঠনগুলো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে মূলত একটি বার্তাই দিতে চায়—আইনি প্রক্রিয়ার কঠিন সময়ে তারা যেন একা না থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সঠিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ পান।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলে ২০১৭ সালে আয়োজিত একটি ছোট উদ্যোগ আজও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘ব্রেকফাস্ট উইথ ড্যাডস’ নামে বিশেষ এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের জীবনে বাবা বা পুরুষ অভিভাবকের ইতিবাচক উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানত, অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসার মতো বাবা, দাদা বা অন্য কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই। সে কারণেই স্থানীয় কমিউনিটির কাছে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের ধারণা ছিল, অন্তত ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এলে যেসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কেউ থাকবে না, তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, তা ছিল প্রত্যাশার অনেক বাইরে। স্কুলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত হন। এত মানুষের অংশগ্রহণে নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে পুরো আয়োজন স্কুলের জিমনেসিয়ামে নিতে হয়। সকালের নাশতার টেবিলে স্বেচ্ছাসেবকেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উৎসাহ দেন। কেউ কেউ ছেলেদের নেকটাই বাঁধার কৌশলও শেখান। কয়েক ঘণ্টার এই আয়োজনে প্রতিটি শিক্ষার্থী অনুভব করার সুযোগ পায় যে, তারা একা নয়; তাদের পাশে রয়েছে পুরো কমিউনিটি। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ হয়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল মানুষের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলের এই আয়োজন পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকেই এটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন, যেখানে অর্থ বা বিশেষ কোনো সামর্থ্যের চেয়ে সময় দেওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই সবচেয়ে বড় অবদান হয়ে উঠেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা ছিল মাত্র ৫০ জন মানুষ সাড়া দেবেন। কিন্তু প্রায় ৬০০ জনের উপস্থিতি প্রমাণ করে, একটি ছোট উদ্যোগও কখনো কখনো পুরো কমিউনিটিকে একত্র করতে পারে। এই ঘটনাটি এখনও অনেকের কাছে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের প্রতি ভালোবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একজন পরিবারকে মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে বছরে কমপক্ষে ৫৩ হাজার ৩২৭ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮২ ডলার আয় করতে হবে। আর রাজ্যটির মধ্যম পারিবারিক আয় ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯১ ডলার। নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেট। সাভানাহ মর্নিং নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং দেশের ১০০টি বৃহত্তম শহরের আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের এক বছরের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা নির্ধারণে পিউ রিসার্চ সেন্টারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়ার রাজধানী আটলান্টায় মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে বার্ষিক আয় হতে হবে অন্তত ৫৮ হাজার ৭৭৭ ডলার। এই শহরে মধ্যবিত্ত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩০ ডলার এবং মধ্যম পারিবারিক আয় ৮৮ হাজার ১৬৫ ডলার। বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মধ্যবিত্ত হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আয়ের প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে। সেখানে বছরে অন্তত প্রায় ৬৯ হাজার ৮৮৫ ডলার আয় করতে হয়। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আয়ের প্রয়োজন মিসিসিপিতে, যেখানে মধ্যবিত্তের সর্বনিম্ন সীমা ৪০ হাজার ডলারের কিছু বেশি। স্মার্টঅ্যাসেট জানিয়েছে, মধ্যবিত্ত আয়ের সীমা নির্ধারণে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যম পারিবারিক আয়কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। সেই মধ্যম আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত আয়কে মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিসর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় কমিউনিটি আয়োজন ৩০তম এশিয়ান এক্সপো ফুড, মিউজিক অ্যান্ড কালচারাল শো আগামী ২৫ ও ২৬ এপ্রিল ২০২৬ সাউথ ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই জমকালো আয়োজনের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে সাউথ ফ্লোরিডা ফেয়ার গ্রাউন্ড -এর সিনার ল গ্রুপ এক্সপো সেন্টার , ওয়েস্ট পাম বিচ, ফ্লোরিডা। দীর্ঘ ২৯টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার ৩০তম এশিয়ান এক্সপোকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের এক্সপোতে থাকবে এশিয়ান ফুড ফেয়ার, লাইভ মিউজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রদর্শনী, কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং এবং পরিবারভিত্তিক বিনোদনের নানা আয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন শহর থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, ভারতীয় এবং অন্যান্য এশিয়ান কমিউনিটির মানুষ এতে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চে পারফর্ম করবেন জনপ্রিয় শিল্পীরা। তাদের মধ্যে অন্যতম উপস্থিত থাকবেন নকুল কুমার বিশ্বাস, রুমেল খান, আরজিন কামাল, পাপি মোনা, সারেগামা ফাইনালিস্ট বিশ্বজিৎ, শ্রুতি ও অপসরা। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট পাম বিচ -এ এ ধরনের বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন এই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এশিয়ান এক্সপোকে ঘিরে ইতোমধ্যে সাউথ ফ্লোরিডাজুড়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু হয়েছে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সভা ও সমন্বয় কার্যক্রম। আয়োজক কমিটির কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তামান্না আহমেদ, চেয়ারম্যান এস. আই. জুয়েল এবং উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন এম রহমান জহির। তারা জানান, প্রবাসীদের মিলনমেলা, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই আয়োজন। আয়োজকদের আশা, ৩০তম এশিয়ান এক্সপো শুধু সাউথ ফ্লোরিডাই নয়, সমগ্র উত্তর আমেরিকার প্রবাসীদের জন্য ২০২৬ সালের অন্যতম বড় উৎসবমুখর আয়োজন হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর জুয়েল সাদত মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর, ৩০তম এশিয়ান এক্সপো, সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা ইমেল: @gmail.com ফোন - 407-832-2882
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: প্রবাস জীবনে নিজের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন জানা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন এটর্নী মঈন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডে অবস্থিত কুইন প্লেস এ সামাজিক সংগঠন শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েটস ইউএসএ-এর বার্ষিক পুনর্মিলনী ২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, “আমেরিকায় বসবাস করতে হলে আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অপরিহার্য। এতে করে ব্যক্তি যেমন সুরক্ষিত থাকে, তেমনি সমাজও হয় আরও সচেতন ও শক্তিশালী।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ইন্সপেক্টর কারাম চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটি-এর প্রেসিডেন্ট আতাউর রহমান সেলিম ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, ইমিগ্রান্টস ইন্টারন্যাশনাল-এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর তারিকুল ইসলাম মিঠু, পুলিশ অফিসার ফেরদৌস নোবেলসহ কমিউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা এবং প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য সুদৃঢ় করাই এই পুনর্মিলনীর মূল লক্ষ্য। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন কামরুজ্জামান বকুল, রন্টি দাস, আফতাব জনি ও সেলিম ইব্রাহীম। নৃত্য পরিবেশন করেন উর্মী মন্ডল। মনোজ্ঞ পরিবেশনায় অতিথিরা মুগ্ধ হন এবং পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও উৎসবের আবহ। সংগঠনের সভাপতি শাহজাহান আলী এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজ আগত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, প্রবাসে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।