নিউজিল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত
অর্ধেক লাল, অর্ধেক হলুদ: নিউজিল্যান্ডে দেখা মিলল ১০ লাখে একটি হওয়া বিরল আপেলের

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি ফল ও সবজির দোকানে দেখা মিলেছে অত্যন্ত বিরল এবং চমৎকার এক আপেলের, যার অর্ধেক অংশ নিখুঁত লাল এবং বাকি অর্ধেক অংশ নিখুঁত হলুদ রঙে বিভক্ত। অবিকল মাঝখান থেকে দুই রঙে ভাগ হওয়া এই অদ্ভুত আপেলটি দেখতে এখন দোকানটিতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য কৌতূহলী দর্শনার্থী।   মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ক্রাইস্টচার্চের মাইরেহাউ উপশহরের ‘সানশাইন কর্নার মার্কেট’ নামক দোকানে লাল আপেলের একটি সাধারণ চালানের মধ্যে এই অনন্য ফলটি খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতিতে এমন দুই রঙের আপেল পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল, যা প্রায় ১০ লাখে মাত্র একটি ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিদদের মতে, এটি মূলত একটি বিশেষ জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তনের কারণে ঘটে থাকে। ফলটি যখন বড় হতে শুরু করে, তখন এর কোষগুলো দুটি ভিন্ন জিনগত বৈশিষ্ট্যে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার ফলেই রঙের এমন নিখুঁত পার্থক্য তৈরি হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দোকানের মালিক হিদার জানান, আপেলটি এখন এলাকার মানুষের কাছে এক বিরাট বিস্ময়ের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি হাসিমুখে বলেন, "যারা এটি দেখছেন, তারা বাড়ি গিয়ে তাদের জীবনসঙ্গীকে জানালে অনেকেই তা বিশ্বাস করতে চান না। ফলে অনেকেই সত্যতা প্রমাণ করতে তাদের সাথে নিয়ে পুনরায় দোকানে ফিরে আসছেন।" ইতোমধ্যেই প্রচুর মানুষ এই অদ্ভুত সুন্দর ফলের ছবি তুলে নিয়ে গেছেন।   হিদার আরও যোগ করেন, বহু বছর ধরে ফলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও তিনি এর আগে কখনো এমন নিখুঁত দুই রঙের আপেল দেখেননি। এমনকি কোনো কোনো ক্রেতা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষার জন্য এই অপার্থিব আপেলটি ছুঁয়ে দেখারও অনুরোধ করছেন। আপাতত আপেলটির পচন রোধ করতে সেটিকে একটি রেফ্রিজারেটরে যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। তবে দোকান মালিক জানিয়েছেন, এটিকে স্থায়ীভাবে কোনো রাসায়নিক উপায়ে সংরক্ষণ করা হবে নাকি কেটে এর ভেতরের অংশটি পরীক্ষা করে দেখা হবে, সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই তারা একটি সিদ্ধান্ত নেবেন।   সূত্র: সামা টিভি

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক ও করের বোঝা এড়াতে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা বাড়ছে

নিউজিল্যান্ডে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসায় যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই মার্কিন তরুণী এরিন ক্ল্যাট বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি এই দেশটিকে নিজের স্থায়ী আবাস বানাতে চান। ২০১৬ সালে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা কারণে নিজের মাতৃভূমি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় তিনি মূলত পৃথিবীর অন্য কোথাও শান্তিতে থাকার খোঁজ করছিলেন।   ক্ল্যাট বলেন, নিউজিল্যান্ডে আসার পর তার জীবনের সবকিছু যেন খুব চমৎকারভাবে মিলিয়ে গেল। এক দশক পর, ৩৪ বছর বয়সে এসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজের সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগের সরকারি ফি প্রায় ৮০ শতাংশ কমানোর আগেই তিনি ২,৩৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত শপথ পাঠ করেন।   আমেরিকার উইসকনসিনে দুগ্ধ খামারে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় নিউজিল্যান্ডেও দ্রুত একই ধরনের কাজ পেয়ে যান তিনি। সেই কাজের সুবাদে পাওয়া ‘এসেনশিয়াল স্কিলস’ ভিসা তাকে দেশটিতে দীর্ঘদিন থাকার আইনি সুযোগ করে দেয়। ওই দুগ্ধ খামারেই তার পরিচয় হয় এক ইংরেজ যুবকের সঙ্গে, যিনি তখন নিউজিল্যান্ডে বসবাস ও কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।   এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে তারা দুজন একসঙ্গে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তখনই ক্ল্যাট সিদ্ধান্ত নেন যে এবার মার্কিন নাগরিকত্ব পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনি কখনোই খুব বেশি দেশপ্রেমিক বা আবেগগতভাবে যুক্ত অনুভব করেননি। পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজনৈতিক পথে এগিয়েছে, তা নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভীষণ হতাশ ছিলেন।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জটিল জাতীয় রাজনীতি এবং বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের ওপর দেশটির সরকারের অতিরিক্ত করের বোঝা—এই দুই বিষয় মিলিয়ে নাগরিকত্ব ত্যাগ করাটাই তার কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সহজ নয়।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তারা নাগরিকত্ব ত্যাগকারীদের সঠিক সংখ্যা কখনো প্রকাশ করে না। তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতি তিন মাসে একবার এ-সংক্রান্ত আইআরএস প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের সহায়তাকারী বিশেষ প্রতিষ্ঠান আমেরিকেন্স ওভারসিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আইআরএসের তালিকায় ৪,৮৮৯ জন মার্কিন নাগরিকের নাম রয়েছে।   ২০২০ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের সামগ্রিক হার প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে ক্ল্যাট নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে মার্কিন কনস্যুলেটে সরাসরি সাক্ষাতের সময় পান এবং মার্চে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। তখনো এই প্রক্রিয়া চালুর সরকারি ফি ছিল ২,৩৫০ ডলার, যা বর্তমানে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।   সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কর ও আইন পরামর্শ প্রতিষ্ঠান টাইগারম্যানের একজন শীর্ষ আইনজীবী জনাথন টি. টাইগারম্যান বলেন, বিদেশে বসবাস করলেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর মার্কিন কর-সংক্রান্ত কঠোর বাধ্যবাধকতা অনেককে নাগরিকত্ব ত্যাগে বড় ধরণের উৎসাহিত করে। বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা মার্কিন বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে কোনো প্রচেষ্টা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু হয়তো কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা কাজ করেননি—তাদের জন্য এই করের বোঝা আরও অনেক বড়।   তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করার এই পুরো প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজ নয়। মার্কিন নাগরিকত্ব সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হলে আবেদনকারীর আগে অবশ্যই অন্য যেকোনো একটি দেশের বৈধ নাগরিকত্ব থাকতে হবে। এ ছাড়া নাগরিকত্ব ত্যাগের আগে অন্তত বিগত পাঁচ বছরের কর-সংক্রান্ত সমস্ত নথি হালনাগাদ থাকা বাধ্যতামূলক এবং কোনো ব্যক্তির দুই মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ থাকলে তার জন্য আরো জটিল নিয়ম ও কর প্রযোজ্য হয়।   নিউইয়র্কভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী ব্র্যাড বার্নস্টেইন এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগের এই সুদূরপ্রসারী পরিণতি পুরোপুরি ভেবে দেখেন না। কারণ নাগরিকত্ব ত্যাগের পর আপনি আর মার্কিন নাগরিক থাকবেন না এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে চাইলে—এমনকি সাধারণ ভ্রমণের জন্যও—নতুন করে ভিসা লাগবে, আর সেই ভিসা পাওয়াও কিন্তু শতভাগ নিশ্চিত নয়।   সূত্র: সিএনএন  

তাবাস্সুম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৫০ কোটি ডলারের সামরিক হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার ঘোষণার পরপরই নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫টি সিহক মেরিটাইম হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের এই চুক্তির আওতায় অত্যাধুনিক এই সামরিক যানগুলো নিউজিল্যান্ডের হাতে তুলে দেওয়া হবে। শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিউজিল্যান্ড সরকারের কাছে এমএইচ-৬০আর (MH-60R) মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টার এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির এই প্রস্তাবিত বৈদেশিক চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্র দেশগুলোকে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত তাগিদ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, চীনের দ্রুত সামরিক উত্থানের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা সামরিক বাহিনী এবং তাদের অংশীদারদের সমর্থনে পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র নিউজিল্যান্ড।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিক্রয় চুক্তি নিউজিল্যান্ডের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধ-হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই বর্ধিত সক্ষমতা মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে ব্যবহৃত হবে।   লকহিড মার্টিনের সিকোরস্কি ইউনিটের তৈরি এই সিহক হেলিকপ্টারগুলো ক্রয়ের সিদ্ধান্তটি মূলত নিউজিল্যান্ডের বর্তমান মধ্য-ডানপন্থি সরকারের ২০২৫ সালের একটি সামরিক মহাপরিকল্পনার অংশ। এই পরিকল্পনার অধীনে আগামী চার বছরে সামরিক ব্যয় ৯০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার (৫০০ কোটি মার্কিন ডলার) বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী আট বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গত মাসেই ১৫৮ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার নতুন প্রতিরক্ষা তহবিল হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে ওয়েলিংটন।   শনিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে একটি বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। সেখান থেকে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৩০ বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের মারাত্মক ঘাটতি ছিল। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি আর আগের মতো শান্ত নেই, বরং এটি এখন কৌশলগত দিক থেকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এমন বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার এই সরকারি সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
আইসিসির এপ্রিল সেরা নাহিদ রানা
আইসিসির এপ্রিল সেরা নাহিদ রানা

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের জন্য আইসিসির ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।   এই পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতায় ওমানের অধিনায়ক জতিন্দর সিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেসার অজয় কুমারকে পেছনে ফেলেন রানা। বৃহস্পতিবার আইসিসি তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি নিশ্চিত করে।   এপ্রিল মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন এই ডানহাতি পেসার। সিরিজে মোট ৮টি উইকেট নেন তিনি, গড় ছিল ১৬.৭৫ এবং ইকোনমি ৪.৪৬। এর আগে মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সমান সংখ্যক উইকেট নিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রমাণ দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।   বাংলাদেশের হয়ে এর আগে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ এই সম্মান জিতেছিলেন। তাদের পর চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেলেন রানা, যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম।   পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় রানা বলেন, শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে ভালো করে এই স্বীকৃতি পাওয়া তার জন্য বিশেষ গর্বের। দেশের মাটিতে এমন সাফল্য তাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান তিনি। সতীর্থদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও দলের জয়ে অবদান রাখতে চান বলে উল্লেখ করেন এই পেসার।   সিরিজের শুরুটা অবশ্য খুব ভালো ছিল না রানার। মিরপুরে প্রথম ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় মাত্র একটি উইকেট পান তিনি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। পাওয়ার প্লেতেই গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন, পরে আরও তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন।   চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচেও তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। সেই ম্যাচে আরও দুই উইকেট নিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে সহায়তা করেন। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের জন্য সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতার পর এবার আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও নিজের করে নিলেন নাহিদ রানা।

নীলুফা নিশাত মে ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
বিনিয়োগ করলেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, নিউজিল্যান্ডের ‘গোল্ডেন ভিসা’ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে

ধনী অভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে নিউজিল্যান্ডের নতুন ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচি বা অ্যাক্টিভ ইনভেস্টর প্লাস (AIP) ভিসা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। চালুর মাত্র এক বছরের মধ্যেই এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটিতে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (নিউজিল্যান্ডের মুদ্রায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বুধবার নিউজিল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন মন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১.৪৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ২.৪১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। গত বছর ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬০৯টি আবেদন জমা পড়েছে, যার আওতায় ১৯৮৮ জন ব্যক্তি নিউজিল্যান্ডে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন। কীভাবে কাজ করে এই গোল্ডেন ভিসা? ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি প্রধান বিভাগ রাখা হয়েছে: ১. গ্রোথ (Growth) ক্যাটাগরি: এতে সর্বনিম্ন ৫ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। এই বিনিয়োগটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ তবে দেশের উৎপাদনশীল খাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। ২. ব্যালেন্সড (Balanced) ক্যাটাগরি: এতে বিনিয়োগের পরিমাণ সর্বনিম্ন ১০ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার। এটি তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ যেমন বন্ড বা শেয়ার বাজারে করা যায়। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এই ভিসার জন্য কোনো ইংরেজি ভাষার দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হয় না। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের সশরীরে নিউজিল্যান্ডে থাকার সময়সীমাও আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। পরিবারসহ (স্বামী/স্ত্রী এবং ২৪ বছরের কম বয়সী সন্তান) স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ থাকায় ধনী বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন থেকে। এর বাইরে জার্মানি, হংকং, তাইওয়ান এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকরাও তালিকায় রয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভারতের মাত্র ২ জন বিনিয়োগকারী এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে হলেও আপত্তি নেই নিউজিল্যান্ডের

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ইরান, বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড ইরানের মুখোমুখি হবে।   নিউজিল্যান্ডের ফুটবলাররা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ খেললেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।   ইরান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ম্যাচ সরানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছিল। তবে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব বিবেচনা করবে না বলে জানিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদী তাজ স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।”   তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্পের মাধ্যমে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে ইরান। দুইটি প্রীতি ম্যাচও তারা খেলবে। নিউজিল্যান্ডের মিডফিল্ডার রায়ান টমাস বলেন, “আমাদের যদি মেক্সিকো বা কানাডায় গিয়ে ইরানের বিপক্ষে খেলতে হয়, আমরা সেখানেই খেলব। এটি আমাদের জন্য বড় কোনো সমস্যা নয়।”   ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। নিউজিল্যান্ডের মূল বেস ক্যাম্প দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো শহরে হবে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম জানিয়েছেন, দেশটি ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তবে চূড়ান্ত ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ফিফার ওপর নির্ভর করছে।   তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Unknown মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০