চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটায় এ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আসন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন। মাহদী আমিন জানান, বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অন্তত ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এসব চুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এসব সমঝোতা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সফরসূচির অংশ হিসেবে চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন। উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।’ কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি এনেছে। আসন্ন এই বৈঠক সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পথ সুগম করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর পরবর্তী ধাপে আজ সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার (২০ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আয়োজিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আলোচনায় মূলত যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে দেশটির প্রতিনিধি দল জুরিখে পৌঁছেছে। যদিও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবুও এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সেটি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এই প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে যোগ দেবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৪ দফা চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত প্রমাণ তার কাছে নেই। অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, তারা একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করবে। তবে এর মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তারা এটিকে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে, আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, কাতার ও পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের লুজানের কাছাকাছি বুর্গেনস্টক রিসোর্টে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা খসড়া সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির পথ সুগম করা। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
তাইওয়ান প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে চীনের আরও ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং-এর (KMT) শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেউ-এর সঙ্গে এক বিরল ও ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং। বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম কোনো বর্তমান বা সাবেক তাইওয়ানি নেতার সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠক করলেন সি জিনপিং। এই বৈঠককে তাইওয়ানের সাধারণ মানুষের কাছে একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিং মূলত এটি বোঝাতে চাইছে যে, তাইওয়ানের বর্তমান ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (DPP) বিপরীতে যারা বেইজিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়, তাদের জন্য আলোচনার পথ সবসময় খোলা। বৈঠকে সি জিনপিং বলেন, "বহিরাগত কোনো শক্তি আমাদের পুনর্মিলনের এই ঐতিহাসিক ধারাকে রুখতে পারবে না। আমরা সবাই একই জাতি এবং একই পরিবারের সদস্য।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, তাইওয়ান ও চীনের মধ্যকার মতপার্থক্য মেটানোর জন্য আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেউ শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "যদি দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা হবে পুরো চীনা জাতির জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।" তিনি ১৯৯২ সালের 'এক চীন' নীতির (1992 Consensus) প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা কমিয়ে আনার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে লাই চিং-তে শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সি এবং মা-এর এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীন লাই চিং-তে-কে একজন 'বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতাবাদী' হিসেবে গণ্য করে। এমতাবস্থায় বিরোধী নেতার সঙ্গে সি জিনপিংয়ের এই হৃদ্যতা তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধের পর থেকেই চীন ও তাইওয়ান আলাদাভাবে শাসিত হয়ে আসছে। তবে চীন সবসময়ই তাইওয়ানকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এটি দখল করার হুমকি দিয়ে রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এক ঝটিকা সফরে বের হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এই দুই নেতা। বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সিরিয়ার গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, লন্ডনে আসার ঠিক একদিন আগেই আহমেদ আল শারা বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউরোপের প্রভাবশালী দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে পর পর এই বৈঠকগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিরিয়ার নতুন সরকারের অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নবনিযুক্ত ৪২ জন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন। গত ১৫ মার্চ সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়, যারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবনিযুক্ত প্রশাসকদের সঙ্গে এটি তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের তীব্র উত্তেজনার মাঝে বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং একটি কার্যকর সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে চার দেশীয় উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ সম্মেলন। সোমবার এই সম্মেলনের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই চতুর্মুখী সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত প্রশমন করা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বর্তমান আঞ্চলিক সংকটে রিয়াদের প্রদর্শিত "অভাবনীয় ধৈর্যের" ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেশটির শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লে. জেনারেল মুহাম্মদ আসিম মালিক। কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও এই সংকট সমাধানে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। গত এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের চালানো 'ব্যাকচ্যানেল ডিপ্লোমেসি' বা নেপথ্য কূটনীতির বিস্তারিত সৌদি প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির লক্ষে ইসলামাবাদ সক্রিয়ভাবে বার্তার আদান-প্রদান করছে। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে শরিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তান সৌদি আরবের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে। চলতি মাসে রিয়াদের পর এটিই চার দেশের দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে এখন ১৫ দফার একটি ডি-এস্কেলেশন বা উত্তেজনা প্রশমন ফ্রেমওয়ার্ক বিবেচনার জন্য রয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তান। ৩০শে মার্চ পর্যন্ত এই নিবিড় আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।