সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাড়িভাড়া

সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের চেয়েও ব্যয়বহুল সান ফ্রান্সিসকোর দুই বেডরুমের বাসা, ভাড়া ৬,৩৪০ ডলার

সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়িভাড়ার চাপ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া বাজার নিয়ে জাম্পারের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরটিতে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৪০০ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪০ ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।   জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, দুই বেডরুমের ভাড়ার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকো নিউইয়র্ক সিটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। নিউইয়র্কে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৪৫০ ডলার। অর্থাৎ দুই বেডরুমের বাসার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকোতে মধ্যম ভাড়া নিউইয়র্কের তুলনায় মাসে ৮৯০ ডলার বেশি। এক বেডরুমের ক্ষেত্রে অবশ্য নিউইয়র্ক এখনো এগিয়ে। নিউইয়র্কে এর মধ্যম ভাড়া ৪ হাজার ৫৮০ ডলার, সান ফ্রান্সিসকোতে ৪ হাজার ৪০০ ডলার।   সান ফ্রান্সিসকোর এক বেডরুমের ভাড়া শুধু নিউইয়র্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে তা নয়, গত এক বছরে এর বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। জাম্পারের হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে এক বেডরুমের ভাড়া মাসিক হিসাবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বার্ষিক হিসাবে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে মাসিক বৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ। জুলাই মাসেই দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া প্রথমবারের মতো ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়েছিল।   ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জাম্পার জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে কর্মসংস্থানের দ্রুত বৃদ্ধি। সান ফ্রান্সিসকো ও আশপাশের এলাকায় এ খাতের নতুন কর্মসংস্থান বাড়ায় আবাসনের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় নতুন আবাসন সরবরাহ সীমিত থাকায় ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। জাম্পারের প্রধান নির্বাহী শন মুলাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন একক কোনো ভাড়া বাজার নেই, বিভিন্ন শহরে আবাসন সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্যের কারণে পরিস্থিতি আলাদা হয়ে উঠেছে।   সান ফ্রান্সিসকোর এই পরিস্থিতি পুরো বে এরিয়া অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাম্পারের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, পাশের সান হোসেতে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ৮৯০ ডলার। অন্যদিকে ওকল্যান্ডে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ১০০ ডলার। অর্থাৎ সান ফ্রান্সিসকোর ৪ হাজার ৪০০ ডলারের তুলনায় এই দুই শহরে ভাড়া অনেক কম।   জাতীয় চিত্র আরও বড় পার্থক্য দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৫১৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেশি। দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৯০৩ ডলার, যা বার্ষিক হিসাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জাতীয় বাজারে ভাড়ার পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোতে বৃদ্ধি অনেক বেশি।   জাম্পারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে এক বেডরুমের ভাড়া বৃদ্ধির দিক থেকেও শীর্ষে ছিল। এক বছরে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর শহরটির পরেই ছিল ভার্জিনিয়া বিচ, যেখানে এক বেডরুমের ভাড়া বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে অতিরিক্ত আবাসন সরবরাহের কারণে টেক্সাসের কয়েকটি শহরে ভাড়া কমেছে।   ভাড়ার চাপ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরি চলতি মাসে শহরের আবাসন পরিস্থিতিকে ‘ভাড়া জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভাড়ার দ্রুত বৃদ্ধি এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় ভাড়া বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ভাড়াটিয়াদের আইনি সহায়তার জন্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।   জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৬৫০টি ভাড়ার বাসা তালিকাভুক্ত ছিল। শহরটির সামগ্রিক মধ্যম ভাড়া ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি। তবে জাম্পারের হিসাব মূলত অনলাইনে প্রকাশিত ভাড়ার তালিকার মধ্যম মূল্যভিত্তিক। অর্থাৎ এটি শহরের প্রতিটি বাসার প্রকৃত চুক্তিভিত্তিক ভাড়া বা সব ভাড়াটিয়ার পরিশোধ করা অর্থের সরাসরি পরিমাপ নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জাতীয় ভাড়া সূচক যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার দিক থেকে ১০০টি বড় শহরের এক ও দুই বেডরুমের সক্রিয় ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় শহরে কমছে বাড়িভাড়া, পেছনে রয়েছে আবাসনবাজারের নানা পরিবর্তন
অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোয় বাড়িভাড়া কমছে, ডিএইচএসের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে বাড়িভাড়া কমার পেছনে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। তবে আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ভাড়া কমার পেছনে নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি ও ভাড়াটিয়ার চাহিদা কমে যাওয়ার মতো আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে।   ডিএইচএসের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও আইসিইর গ্রেপ্তার কার্যক্রমের ফলে অস্টিন, ন্যাশভিল, ফিনিক্স, সান আন্তোনিও, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, আটলান্টা ও নিউ অরলিন্সের মতো শহরে বাড়িভাড়া কমেছে। বিভাগটি বিভিন্ন শহরের ভাড়া কমার হারও উল্লেখ করেছে। তবে এসব শতাংশ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র প্রকাশ করেনি ডিএইচএস।   অন্যদিকে, আবাসনবাজারের বিভিন্ন তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরেই নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক নতুন ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে এসেছে। সরবরাহ বাড়ায় বাড়িওয়ালাদের মধ্যে ভাড়াটিয়া পাওয়ার প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।   রিয়েল্টর ডটকমের আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে ৩৭তম মাসের মতো টানা বছরওয়ারি ভিত্তিতে মাঝারি ভাড়া কমেছে। সংস্থাটি বলছে, নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাড়ার চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়া এই প্রবণতার অন্যতম কারণ।   ডিএইচএস যেসব শহরের কথা বলেছে, সেগুলোর কয়েকটিতে ভাড়ার পতনের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন সান আন্তোনিওতে ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ ডলার, ফিনিক্সে ৭০ ডলার এবং ন্যাশভিলে ৫০ ডলার কমেছে। তবে একই সময়ে লাস ভেগাস ও সান ডিয়েগোর মতো শহরেও ভাড়ার চাপ কমেছে, যেখানে ডিএইচএসের দাবিকৃত অভিবাসন নীতির প্রভাবকে একইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।   অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় আরেকটি বিষয়ও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের অংশ উল্লেখযোগ্য। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কারণে শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেলে নির্মাণকাজ ধীর হয়ে যেতে পারে এবং শ্রম ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন।   ডিএইচএসের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বাড়িভাড়া কমাতে ভূমিকা রাখছে। তবে কোন শহরে কতজন ভাড়াটিয়া অভিবাসন অভিযানের কারণে বাসস্থান ছেড়েছেন এবং মোট ভাড়া কমার কতটা সরাসরি এর সঙ্গে সম্পর্কিত—সে বিষয়ে বিভাগটি নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িভাড়া কমার বর্তমান প্রবণতায় অভিবাসন নীতির পাশাপাশি নতুন আবাসনের সরবরাহ, ভাড়াটিয়ার চাহিদা এবং স্থানীয় আবাসনবাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কসে সুলভ মূল্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়া হচ্ছে (ছবি: সংগৃহীত)
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ, ১,৫০০ ডলারের নিচে ভাড়ায় মিলছে অ্যাপার্টমেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে একটি ভালো অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়া অনেকের জন্যই রীতিমতো স্বপ্নের মতো। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট। সম্প্রতি এই কর্তৃপক্ষের অধীনে শত শত অ্যাপার্টমেন্ট মাত্র ১৫০০ ডলারের চেয়েও কম ভাড়ায় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, সুলভ মূল্যের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলো নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কস এলাকায় অবস্থিত। আবেদনকারীদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে স্টুডিও, এক বেডরুম এবং দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই আবাসন প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছে।   এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প হলো স্টারহিল ফেজ টু। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৩০ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ ডলারের মধ্যে, তারা এখানে ভাড়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে বাসিন্দাদের জন্য খোলা জায়গা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সরঞ্জাম, লিফট এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগসহ আরও নানা ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে।   আরেকটি আকর্ষণীয় প্রকল্প হচ্ছে ব্লন্ডেল কমনস। এখানকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য আবেদন করতে হলে বার্ষিক আয় হতে হবে ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। যারা নিজেদের সাথে পোষা প্রাণী রাখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি জায়গা। এছাড়া এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, শরীর চর্চার জন্য ব্যায়ামাগার বা জিম এবং শিশুদের জন্য আলাদা খেলার ঘর রয়েছে।   যাদের আয় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি, তাদের জন্য রয়েছে সোলেস নামের অপর একটি আবাসিক প্রকল্প। ৩৮ হাজার ৯৪৯ থেকে শুরু করে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার বার্ষিক আয়সম্পন্ন ব্যক্তিরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। সাধ্যের মধ্যে থাকা এই আবাসন ব্যবস্থায় একটি মিডিয়া রুম, জিম এবং ইয়োগা ও ড্যান্স স্টুডিও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।   এছাড়া কলাম্বিয়া কমনস ওয়ান নামের আরও একটি আবাসন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে বার্ষিক ৩০ হাজার ৪৪৬ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার আয়ের মানুষেরা ভাড়ার সুযোগ পাবেন।   নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত এবং ব্যয়বহুল শহরে এমন উদ্যোগ অনেক সাধারণ মানুষের জন্যই স্বস্তির খবর। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই আবাসন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং অনলাইনেই ভাড়ার জন্য আবেদন করা যাবে।   সংবাদসূত্র: পিক্স১১ ও নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
আবাসন ব্যয় বাড়ায় অনেক আমেরিকানের জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের নাগালের বাইরে, কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই সাশ্রয়ী

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়ায় থাকা দুটোই সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় নিজের একটি দোতলা বা ছিমছাম বাড়ি আমেরিকান স্বপ্নের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। কিন্তু এখন শুধু বাড়ি কেনাই নয়, পরিবারের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া পাওয়াও বেশ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সম্প্রতি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রিয়েলটর ডটকম একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে একটি নতুন বা প্রাথমিক বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তবে যারা ভাড়ায় থাকতে চান, তাদের জন্যও একক পরিবারের বাড়ির বা সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।   রিয়েলটর ডটকমের জুলাই ২০২৬ এর রেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের সম্পত্তির জন্য জাতীয় গড় ভাড়া ছিল ১,৬৯৫ ডলার। এটি এক বছর আগের তুলনায় ২৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কম। তবে একই এলাকায় এ ধরনের একটি প্রাথমিক বা স্টার্টার হোম কেনার মাসিক খরচ গত মাসে ছিল ২,৫৫৩ ডলার, যা ভাড়ার চেয়ে ৮৫৮ ডলার বেশি।   এই মাসিক খরচের হিসাবটি করা হয়েছে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের বাড়ির তালিকাভুক্ত গড় দাম, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, ৩০ বছর মেয়াদি নির্ধারিত বন্ধকি বা মর্টগেজ রেট, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি, কর এবং মেট্রো স্তরের গড় হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ওপর ভিত্তি করে।   স্টার্টার হোমের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত রেডফিনের একটি বিশ্লেষণে সেনসাস ডেটা বা আদমশুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ১৩.৭ শতাংশ বা ১ কোটি ১৩ লাখ সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছিলেন। এটি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড।   এর বিপরীতে একই বছরে বড় বহুতল বা মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ভাড়ায় বসবাসকারী ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২১ লাখ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া ছোট মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ১ কোটি এবং টাউনহোমে ৩১ লাখ ভাড়াটিয়া ইউনিট ছিল।   এটি এখন আমেরিকার জন্য এক নতুন বাস্তবতা। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০২১ সালেও দেশটির ভাড়ার বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম। অন্যদিকে ২০১৯ সালের আগে এবং মহামারির সময় যখন বাড়ি কেনার হিড়িক পড়েছিল, তখন বড় মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো ছিল পছন্দের তালিকার তৃতীয় স্থানে।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে বহুকাল ধরেই নিজের একটি সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করা আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।   সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, যারা এখনও নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হতে পারেননি, তাদের জন্য আমেরিকান স্বপ্নের সংজ্ঞা কতটা বদলে গেছে। এখন বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের স্বপ্নের সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করছেন না, বরং বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই তাদের থাকতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩.১ শতাংশ নাগরিকের প্রধান বাসস্থান হয়ে উঠেছে এসব বড় অ্যাপার্টমেন্ট।   ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে এবং বিশেষ করে মহামারির সময় সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের চেয়ে ২০ বা তার বেশি ইউনিটের মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো বেশি দ্রুত গতিতে নির্মিত হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো মহামারির সময় এসব ভবনের বেশিরভাগই ভাড়াটিয়াদের বদলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।   ফ্রেডি ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের গড় ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। চড়া সুদের হারের কারণে অনেক বাড়ির মালিক এখন তাদের বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এর ফলে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভাড়ার জন্য বহুতল ভবনগুলোই এখন মানুষের কাছে বেশি সাশ্রয়ী বিকল্প। অন্যদিকে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমগুলো কেবল মুষ্টিমেয় বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।   নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর জোনিং আইন, জমির ন্যূনতম আয়তন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আবাসন শিল্পের পরিবর্তনের কারণে সারা দেশেই এখন স্টার্টার হোম নির্মাণের হার কমে গেছে। হোমবায়িং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে নতুন নির্মাণের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল স্টার্টার হোম, কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৭ শতাংশে। ২০২৬ সালে এসে এগুলো পাওয়া আগের দশকগুলোর চেয়ে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সামর্থ্যের চাপের কারণে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম নির্মাণও সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় লাখো মানুষ এখন আবাসন বাজারের বাইরে ছিটকে পড়ছেন, যার গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমেরিকান সমাজে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্স এর মতে, ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২১ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবার ক্রেতারা। ঐতিহাসিকভাবে এই হার সাধারণত ৪০ শতাংশ থাকে। এছাড়া প্রথমবার বাড়ি কেনার গড় বয়সও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বছরে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ।   তবে যারা এখনও বাড়ির মালিক হননি তাদের জন্য কিছুটা আশার আলোও রয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, একটি স্টার্টার হোম ভাড়া নেওয়া এবং কেনার খরচের ব্যবধান কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে স্টার্টার হোমের মাসিক খরচ ২,৬৪২ ডলার থেকে কমে ২,৫৫৩ ডলারে নেমেছে।   এর মধ্যে ৫৭ ডলার কমেছে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমার কারণে এবং ৩৩ ডলার কমেছে মর্টগেজ রেট কমার কারণে। গত এক বছরে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ রেট ৬.৭২ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাড়ায় থাকা এখনও সস্তা হলেও এমন অনেক বাজার তৈরি হচ্ছে যেখানে ভাড়ার চেয়ে স্টার্টার হোমের দাম দ্রুত কমছে এবং মানুষের সাপ্তাহিক গড় আয় জাতীয় হার ৩.৮ শতাংশের বেশি বা সমান গতিতে বাড়ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, সিয়াটল, মিয়ামি, ফ্লোরিডার টাম্পা, লাস ভেগাস এবং ন্যাশভিল।   শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে জুলাই মাসে স্টার্টার হোমের তালিকাভুক্ত গড় দাম বার্ষিক ২.৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে ভাড়ার হার কমেছে ১.৪ শতাংশ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড
নিউইয়র্কের ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড, দুই বেডরুমের ভাড়া ছাড়াল মাসে ৮ হাজার ডলার

নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। জুলাই ২০২৬-এ দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া বছরে ১৩ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ম্যানহাটনে সামগ্রিক গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। তথ্যগুলো এসেছে দ্য করকোরান গ্রুপের জুলাইয়ের রেন্টাল মার্কেট রিপোর্ট থেকে।    করকোরানের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৪ হাজার ৮৮ ডলার এবং এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার। দুই বেডরুমের ভাড়া বছরে ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমের ভাড়া ১২ শতাংশ বেড়েছে। তবে দুই ও তিন বেডরুমের গড় ভাড়া এখনো নিজ নিজ সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় কিছুটা নিচে রয়েছে।    শুধু ভাড়া বাড়াই নয়, অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুলাইয়ে ম্যানহাটনে ভাড়ার জন্য সক্রিয় তালিকাভুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ১৯৮টি, যা এক বছর আগের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। করকোরানের হিসাবে, ২০১৯ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর কোনো জুলাইয়ে এত কম অ্যাপার্টমেন্টের তালিকা দেখা যায়নি।    তবে ম্যানহাটনের ভাড়া নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ হলো মধ্যম ভাড়া। জুলাইয়ে এই ভাড়া ছিল মাসে ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা জুনের সমান এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ অতিরিক্ত দামের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টগুলোর প্রভাব বাদ দিলেও সাধারণ ভাড়ার বাজারে চাপ রয়ে গেছে।   ভাড়ার এই চাপের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহ। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়াটিয়া পেতে গড়ে মাত্র ৩৩ দিন সময় নিয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় এই সময়ও কমেছে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র তার একটি ইঙ্গিত।    জুনে ম্যানহাটনের ভাড়ার খালি থাকার হার বা ভ্যাকেন্সি রেট ছিল ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জুলাইয়ে তা সামান্য বেড়ে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ হলেও সরবরাহ এখনো অত্যন্ত সীমিত। একই সময়ে সক্রিয় তালিকার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় ভাড়াটিয়াদের পছন্দের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে অনেক ভাড়াটিয়া তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল এলাকায় যাওয়ার কথা ভাবছেন। কেউ কেউ নিউইয়র্কের অন্য বরোতে, আবার কেউ পাশের নিউ জার্সির শহরগুলোতে বাসা খুঁজছেন। তবে ম্যানহাটনের উচ্চ ভাড়ার প্রভাব আশপাশের বাজারেও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।   করকোরান বলছে, ম্যানহাটনে চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও নতুন আবাসন সরবরাহ সেই গতিতে বাড়ছে না। জুলাইয়ে নতুন লিজ স্বাক্ষরের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু একই সময়ে সক্রিয় তালিকা ২২ শতাংশ কমেছে। ফলে কম সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য বেশি ভাড়াটিয়াকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।    নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতি ভাড়াটিয়াদের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় বাসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং সরবরাহের ঘাটতি কমানো নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চাপও বাড়ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে কোন স্টেট এ বছরে কত আয় দরকার, জানাল নতুন গবেষণা
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে কোন স্টেট এ বছরে কত আয় দরকার, জানাল নতুন গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িভাড়া, খাবার, যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে থাকায় স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয়ও বেড়েছে। ২০২৬ সালের স্মার্টঅ্যাসেটের এক গবেষণা বলছে, দেশটির প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই একা একজন প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে এই প্রয়োজনীয় আয় ১ লাখ ডলারেরও বেশি। চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আয় সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।    গবেষণায় দেখা গেছে, স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য সবচেয়ে বেশি আয়ের প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটসে। সেখানে দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের বছরে প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। একা একজন প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন হাওয়াইয়ে, প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার।    অন্যদিকে তুলনামূলক কম খরচের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মিসিসিপি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। মিসিসিপিতে চার সদস্যের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দে থাকতে প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার। আর ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একা একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার।    গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় কিছু অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় কমেছে। এসব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে টেনেসি, মেরিল্যান্ড, লুইজিয়ানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিসিসিপি ও টেক্সাস। অন্যদিকে মন্টানায় একা একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রয়োজনীয় আয় এক বছরে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা গবেষণায় সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি।    স্মার্টঅ্যাসেট এই হিসাব করতে এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের তথ্য ব্যবহার করেছে। আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও আয়করসহ মৌলিক প্রয়োজনীয় খরচের তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট নিয়ম প্রয়োগ করে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক প্রাক-কর আয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নিয়মে আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচে, ৩০ শতাংশ ইচ্ছামতো ব্যয়ে এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় বা ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য রাখার ধারণা অনুসরণ করা হয়।    অঙ্গরাজ্যভেদে প্রয়োজনীয় আয়ের এই বড় পার্থক্য মূলত জীবনযাত্রার খরচের ভিন্নতাকে তুলে ধরে। একই আয় এক অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের সুযোগ দিলেও অন্য অঙ্গরাজ্যে আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে তা যথেষ্ট নাও হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি, বসবাসের স্থান বা পরিবার নিয়ে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের আবাসন সংকটে বাড়ছে ভাড়া, কমছে নতুন ফ্ল্যাটের তালিকা। ছবি: সংগৃহীত
ম্যানহাটনে গড় বাড়িভাড়া পৌঁছাল ৫ হাজার ডলারে, তীব্র আবাসন সংকটে নিউইয়র্কবাসী

নিউইয়র্ক শহরে একটি মানানসই অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়া এখন রীতিমতো যুদ্ধের সমতুল্য। এমনিতেই আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়, তার ওপর হু হু করে বাড়ছে বাড়িভাড়া। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র ম্যানহাটনে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ৫ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একইসঙ্গে বাজারে ভাড়ার জন্য খালি বাড়ির সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।   আবাসন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'দ্য রিয়েল ডিল' এবং মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান 'স্যামুয়েল মিলার'-এর গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৫ হাজার ডলার, যা জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ এবং গত বছরের (২০২৫) জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।   ভাড়ার এই রেকর্ড ঊর্ধ্বমুখিতার পাশাপাশি ভাড়ার জন্য উন্মুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত এক বছরে এই এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বা ৩৯ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। আগে যেখানে একটি বাড়ি ভাড়া হতে গড়ে ৪৮ দিন সময় লাগত, এই গ্রীষ্মে তা মাত্র ৩৬ দিনেই ভাড়া হয়ে যাচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি বাড়ি দ্রুত ভাড়া হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ চরমভাবে অপ্রতুল। ফলে ভাড়াটেরা এখন দরকষাকষির বা ছাড় পাওয়ার তেমন কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না।   নিউইয়র্কে বাসস্থানের এই সংকট অবশ্য দীর্ঘদিনের। খরচ বাঁচাতে অনেক একাকী মা (সিঙ্গেল মাদার) একসঙ্গে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। অনেকেই মূল পেশার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করেও মাসের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি শহরের প্রবীণ নাগরিকরাও অবসর জীবনে টিকে থাকার খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িভাড়ায় ব্যয় হলে তা মানুষের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। অথচ নিউইয়র্কের সিংহভাগ বাসিন্দা বাড়িভাড়ার পেছনে আয়ের বিশাল একটি অংশ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।   এই পরিস্থিতি কেবল নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গোটা যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতেরই একটি প্রতিচ্ছবি। হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার অন হাউজিং স্টাডিজ-এর ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির তীব্র সংকট রয়েছে এবং সর্বত্রই ভাড়া বাড়ছে। অনেকেই খরচ সামলাতে না পেরে বাসা বদলানোর চিন্তাও বাদ দিয়েছেন। নিউইয়র্কের বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট, কারণ নতুন চুক্তির হার এক ধাক্কায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে।   ম্যানহাটনে বিশেষ করে দুই বা ততোধিক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। বিলাসবহুল বা শীর্ষ ১০ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্টগুলোর গড় ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়ে মাসে ১৩ হাজার ৭৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এলাকার ভিত্তিতে ডাউনটাউনে বাড়িভাড়া সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ওয়েস্ট সাইড, ইস্ট সাইড এবং নর্দার্ন ম্যানহাটন। তবে সব এলাকাতেই গত এক বছরে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে।   সাধারণ মানুষের এই নাভিশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে উদ্যোগী হয়েছেন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি 'ব্লক বাই ব্লক' নামে একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যার আওতায় তাঁর মেয়াদে ২ লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক হোটেল, পুরোনো লাইব্রেরি, অব্যবহৃত অফিস ভবন এবং শহরের নিজস্ব সম্পত্তিগুলোকে আবাসনে রূপান্তরের কাজ চলছে। আবাসন সরবরাহ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া কমে আসবে বলে আশা করছে নগর প্রশাসন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শহর ও রাজ্য সরকার কোটি কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি অলাভজনক সংস্থা, আবাসন নির্মাতা ও বড় ব্যাংকগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।   তবে 'দ্য রিয়েল ডিল'-এর এই প্রতিবেদনটি মূলত সাধারণ বাজারদরের বাড়ির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যানহাটনের মোট আবাসনের ৪৪ শতাংশই হলো 'রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড' বা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট। মেয়র মামদানির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চলতি শরতেই এসব নিয়ন্ত্রিত বাড়ির ভাড়ার ওপর 'রেন্ট ফ্রিজ' বা ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিতের নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এটি এক ও দুই বছরের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাময়িকভাবে এটি বাসিন্দাদের স্বস্তি দিলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে সাধারণ বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর আমলেও বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে এই 'রেন্ট ফ্রিজ' নীতিটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছিল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া, কম আয়ের পরিবার সবচেয়ে চাপে

অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ এখন শুধু ভাড়া পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বলে আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।   সম্প্রতি প্রকাশিত আবাসন বাজার, সংক্রান্ত বিশ্লেষণ ও ভাড়ার তথ্য অনুযায়ী, সিডনি, ব্রিসবেন, পার্থসহ বড় শহরগুলোতে ভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে সাপ্তাহিক মধ্যম ভাড়া গত পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে শূন্য বাসার হার খুবই কম থাকায় ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।    উচ্চ সুদের হার, নতুন আবাসন নির্মাণের ধীরগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভাড়ার জন্য পর্যাপ্ত বাড়ির সংকট বাজারকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে। ফলে অনেক পরিবারকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি শুধু বাড়িভাড়ার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে, যা জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন করে তুলছে।    সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে বিনিয়োগ সম্পর্কিত কর নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী নতুন ভাড়ার সম্পত্তি কেনা থেকে সরে আসছেন বলে আবাসন খাতের পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তাদের মতে, এতে ভাড়ার জন্য নতুন বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।    আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নয়, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণ, ভাড়ার বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। অন্যথায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও আবাসন–সংকট দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
নতুন রেকর্ড গড়েছে সান ফ্রান্সিসকোর বাড়ি ভাড়ার বাজার। ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসন সংকট তীব্র, এক রুমের বাসার ভাড়া প্রথমবার ৪ হাজার ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়ি ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শহরটিতে এক শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক গড় ভাড়া প্রথমবারের মতো ৪ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে বার্ষিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভাড়া বৃদ্ধির রেকর্ডও এখন সান ফ্রান্সিসকোর দখলে।   অনলাইন ভাড়া বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জাম্পার (Zumper)-এর জুলাই ২০২৬ সালের জাতীয় ভাড়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের একটি বাসার গড় মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ ডলার, যা শহরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।   এক বছর আগের তুলনায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। জাম্পারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো বড় শহরে এত দ্রুত ভাড়া বাড়েনি। তুলনামূলকভাবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫২৬ ডলারে পৌঁছেছে। দুই শয়নকক্ষের বাসার জাতীয় গড় ভাড়া সামান্য কমে ১ হাজার ৯০৫ ডলারে নেমেছে।   সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সেখানে গড় মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৬৬০ ডলার। তবে দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ায় সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরে পরিণত হয়েছে। জাম্পারের আবাসন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টাল চেন জানান, চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ৪ হাজার ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে জুনে সেই ভাড়া ৪ হাজার ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেছে, যা নতুন একটি মাইলফলক।   পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ছিল ২ হাজার ৭৯০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর কয়েক বছর ভাড়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত বছর থেকে আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ বাড়ানোয় উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা আবারও সান ফ্রান্সিসকোতে বসবাস শুরু করেছেন।   এছাড়া করোনা মহামারির পর অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আবার অফিসে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ায় শহরের কেন্দ্রস্থলে আবাসনের চাহিদা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি অনেক কমে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে না। জাম্পারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসিক ভাড়া ইউনিটের শূন্যতার হার ৪ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ বাজারে খালি বাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে বাড়তি চাহিদা এবং নতুন আবাসনের ঘাটতি মিলিয়ে ভাড়ার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।   এই প্রভাব শুধু সান ফ্রান্সিসকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশের ওকল্যান্ডে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে সান হোসেতে এক শয়নকক্ষের গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ ডলার।   বিশ্লেষকদের ধারণা, এআই শিল্পের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে এবং নতুন আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে আগামী মাসগুলোতেও সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অনেক অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন সংকটের মধ্যেও নিউইয়র্কে খালি পড়ে আছে ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট

নিউইয়র্ক সিটিতে একদিকে যখন আবাসন সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে রয়েছে। নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরের পাঁচটি বরো মিলিয়ে প্রায় ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তি সংস্কার ব্যয়, ভাড়া বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে এসব বাসা নতুন ভাড়াটিয়াদের কাছে হস্তান্তর করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক বাড়ির মালিক।   দ্য সিটি রিপোর্টার রাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের শূন্যতার হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এক দশক আগে, ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তথ্যগুলো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভবনের মালিকদের স্বপ্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগ্রহ করেছে ডিভিশন অব হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল।   করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১ সালে এই শূন্যতার হার সাময়িকভাবে ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। সে সময় নিউইয়র্ক সিটির জনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ম্যানহাটন ছাড়া শহরের বাকি চারটি বরোতেই খালি অ্যাপার্টমেন্টের হার বেড়েছে। তবে কোন কারণে এসব অ্যাপার্টমেন্ট খালি রয়েছে বা কতগুলো বাসায় সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে তথ্যভান্ডারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা নেই।   ব্রঙ্কসভিত্তিক ইউনিভার্সিটি নেবারহুড হাউজিং প্রোগ্রাম-এর রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক ব্রেন্ডন মিচেলের মতে, মহামারির সময় উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অনেক মামলা জমে ছিল। পরে আদালত সেগুলো নিষ্পত্তি শুরু করলে কিছু অ্যাপার্টমেন্ট খালি হয়ে থাকতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন নিউইয়র্ক অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর কর্মকর্তা মাইকেল জনসন। তার দাবি, সমস্যার মূল কারণ অর্থনৈতিক। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করতে যে ব্যয় হয়, নির্ধারিত ভাড়ায় তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না।   তার ভাষায়, শহরে আবাসনের চাহিদা ব্যাপক হলেও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কিছু অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নতুন ভাড়াটিয়ার কাছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু কম ভাড়ার ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে সংস্কার ব্যয় আদায় করা কঠিন হওয়ায় অনেক মালিক সেগুলো খালিই রেখে দিচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনের কেন্দ্রীয় এলাকায় ভবন মালিকদের পরিচালন মুনাফা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কুইন্সে তা বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ, ব্রুকলিনে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রঙ্কসে পরিচালন আয় কমেছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এসব ভবনের অনেক মালিকের দাবি, বড় ধরনের সংস্কার করার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের নেই। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, পুরোনো চার শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ সংস্কার করতে ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। অথচ মাসিক ভাড়া যদি মাত্র ৮০০ ডলার হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাড়া বৃদ্ধির আইনি সীমাবদ্ধতা। নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড নির্দিষ্ট সীমার বাইরে ভাড়া বাড়ানোর অনুমতি দেয় না। সম্প্রতি সংস্থাটি আগামী দুই বছরের জন্য ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও অনুমোদন করেছে। এছাড়া ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কার্যকর হওয়া হাউজিং স্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড টেন্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি হলেও মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে পারেন না।   ব্রঙ্কসের ৫০টি ভবন পরিচালনাকারী সাইকামোর বার্চ ম্যানেজমেন্ট-এর সভাপতি মার্ক বোরবো বলেন, অনেক রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীর মতে, বর্তমান নিয়মে বড় ব্যয়ে অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে আর্থিক লাভ করা কঠিন। কারণ সংস্কারের পরও ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ নেই।   আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে আবাসন সংকট নিরসনে শুধু নতুন ভবন নির্মাণই নয়, দীর্ঘদিন খালি থাকা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলো কীভাবে আবার বাজারে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিও এখন বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০