বাড়িভাড়া

নিউইয়র্কের আবাসন সংকটে বাড়ছে ভাড়া, কমছে নতুন ফ্ল্যাটের তালিকা। ছবি: সংগৃহীত
ম্যানহাটনে গড় বাড়িভাড়া পৌঁছাল ৫ হাজার ডলারে, তীব্র আবাসন সংকটে নিউইয়র্কবাসী

নিউইয়র্ক শহরে একটি মানানসই অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়া এখন রীতিমতো যুদ্ধের সমতুল্য। এমনিতেই আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়, তার ওপর হু হু করে বাড়ছে বাড়িভাড়া। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র ম্যানহাটনে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ৫ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একইসঙ্গে বাজারে ভাড়ার জন্য খালি বাড়ির সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।   আবাসন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'দ্য রিয়েল ডিল' এবং মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান 'স্যামুয়েল মিলার'-এর গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৫ হাজার ডলার, যা জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ এবং গত বছরের (২০২৫) জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।   ভাড়ার এই রেকর্ড ঊর্ধ্বমুখিতার পাশাপাশি ভাড়ার জন্য উন্মুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত এক বছরে এই এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বা ৩৯ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। আগে যেখানে একটি বাড়ি ভাড়া হতে গড়ে ৪৮ দিন সময় লাগত, এই গ্রীষ্মে তা মাত্র ৩৬ দিনেই ভাড়া হয়ে যাচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি বাড়ি দ্রুত ভাড়া হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ চরমভাবে অপ্রতুল। ফলে ভাড়াটেরা এখন দরকষাকষির বা ছাড় পাওয়ার তেমন কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না।   নিউইয়র্কে বাসস্থানের এই সংকট অবশ্য দীর্ঘদিনের। খরচ বাঁচাতে অনেক একাকী মা (সিঙ্গেল মাদার) একসঙ্গে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। অনেকেই মূল পেশার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করেও মাসের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি শহরের প্রবীণ নাগরিকরাও অবসর জীবনে টিকে থাকার খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িভাড়ায় ব্যয় হলে তা মানুষের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। অথচ নিউইয়র্কের সিংহভাগ বাসিন্দা বাড়িভাড়ার পেছনে আয়ের বিশাল একটি অংশ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।   এই পরিস্থিতি কেবল নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গোটা যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতেরই একটি প্রতিচ্ছবি। হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার অন হাউজিং স্টাডিজ-এর ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির তীব্র সংকট রয়েছে এবং সর্বত্রই ভাড়া বাড়ছে। অনেকেই খরচ সামলাতে না পেরে বাসা বদলানোর চিন্তাও বাদ দিয়েছেন। নিউইয়র্কের বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট, কারণ নতুন চুক্তির হার এক ধাক্কায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে।   ম্যানহাটনে বিশেষ করে দুই বা ততোধিক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। বিলাসবহুল বা শীর্ষ ১০ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্টগুলোর গড় ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়ে মাসে ১৩ হাজার ৭৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এলাকার ভিত্তিতে ডাউনটাউনে বাড়িভাড়া সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ওয়েস্ট সাইড, ইস্ট সাইড এবং নর্দার্ন ম্যানহাটন। তবে সব এলাকাতেই গত এক বছরে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে।   সাধারণ মানুষের এই নাভিশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে উদ্যোগী হয়েছেন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি 'ব্লক বাই ব্লক' নামে একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যার আওতায় তাঁর মেয়াদে ২ লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক হোটেল, পুরোনো লাইব্রেরি, অব্যবহৃত অফিস ভবন এবং শহরের নিজস্ব সম্পত্তিগুলোকে আবাসনে রূপান্তরের কাজ চলছে। আবাসন সরবরাহ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া কমে আসবে বলে আশা করছে নগর প্রশাসন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শহর ও রাজ্য সরকার কোটি কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি অলাভজনক সংস্থা, আবাসন নির্মাতা ও বড় ব্যাংকগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।   তবে 'দ্য রিয়েল ডিল'-এর এই প্রতিবেদনটি মূলত সাধারণ বাজারদরের বাড়ির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যানহাটনের মোট আবাসনের ৪৪ শতাংশই হলো 'রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড' বা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট। মেয়র মামদানির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চলতি শরতেই এসব নিয়ন্ত্রিত বাড়ির ভাড়ার ওপর 'রেন্ট ফ্রিজ' বা ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিতের নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এটি এক ও দুই বছরের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাময়িকভাবে এটি বাসিন্দাদের স্বস্তি দিলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে সাধারণ বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর আমলেও বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে এই 'রেন্ট ফ্রিজ' নীতিটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছিল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া, কম আয়ের পরিবার সবচেয়ে চাপে

অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ এখন শুধু ভাড়া পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বলে আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।   সম্প্রতি প্রকাশিত আবাসন বাজার, সংক্রান্ত বিশ্লেষণ ও ভাড়ার তথ্য অনুযায়ী, সিডনি, ব্রিসবেন, পার্থসহ বড় শহরগুলোতে ভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে সাপ্তাহিক মধ্যম ভাড়া গত পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে শূন্য বাসার হার খুবই কম থাকায় ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।    উচ্চ সুদের হার, নতুন আবাসন নির্মাণের ধীরগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভাড়ার জন্য পর্যাপ্ত বাড়ির সংকট বাজারকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে। ফলে অনেক পরিবারকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি শুধু বাড়িভাড়ার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে, যা জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন করে তুলছে।    সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে বিনিয়োগ সম্পর্কিত কর নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী নতুন ভাড়ার সম্পত্তি কেনা থেকে সরে আসছেন বলে আবাসন খাতের পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তাদের মতে, এতে ভাড়ার জন্য নতুন বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।    আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নয়, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণ, ভাড়ার বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। অন্যথায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও আবাসন–সংকট দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
নতুন রেকর্ড গড়েছে সান ফ্রান্সিসকোর বাড়ি ভাড়ার বাজার। ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসন সংকট তীব্র, এক রুমের বাসার ভাড়া প্রথমবার ৪ হাজার ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়ি ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শহরটিতে এক শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক গড় ভাড়া প্রথমবারের মতো ৪ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে বার্ষিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভাড়া বৃদ্ধির রেকর্ডও এখন সান ফ্রান্সিসকোর দখলে।   অনলাইন ভাড়া বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জাম্পার (Zumper)-এর জুলাই ২০২৬ সালের জাতীয় ভাড়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের একটি বাসার গড় মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ ডলার, যা শহরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।   এক বছর আগের তুলনায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। জাম্পারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো বড় শহরে এত দ্রুত ভাড়া বাড়েনি। তুলনামূলকভাবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫২৬ ডলারে পৌঁছেছে। দুই শয়নকক্ষের বাসার জাতীয় গড় ভাড়া সামান্য কমে ১ হাজার ৯০৫ ডলারে নেমেছে।   সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সেখানে গড় মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৬৬০ ডলার। তবে দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ায় সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরে পরিণত হয়েছে। জাম্পারের আবাসন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টাল চেন জানান, চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ৪ হাজার ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে জুনে সেই ভাড়া ৪ হাজার ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেছে, যা নতুন একটি মাইলফলক।   পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ছিল ২ হাজার ৭৯০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর কয়েক বছর ভাড়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত বছর থেকে আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ বাড়ানোয় উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা আবারও সান ফ্রান্সিসকোতে বসবাস শুরু করেছেন।   এছাড়া করোনা মহামারির পর অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আবার অফিসে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ায় শহরের কেন্দ্রস্থলে আবাসনের চাহিদা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি অনেক কমে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে না। জাম্পারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসিক ভাড়া ইউনিটের শূন্যতার হার ৪ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ বাজারে খালি বাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে বাড়তি চাহিদা এবং নতুন আবাসনের ঘাটতি মিলিয়ে ভাড়ার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।   এই প্রভাব শুধু সান ফ্রান্সিসকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশের ওকল্যান্ডে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে সান হোসেতে এক শয়নকক্ষের গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ ডলার।   বিশ্লেষকদের ধারণা, এআই শিল্পের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে এবং নতুন আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে আগামী মাসগুলোতেও সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অনেক অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন সংকটের মধ্যেও নিউইয়র্কে খালি পড়ে আছে ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট

নিউইয়র্ক সিটিতে একদিকে যখন আবাসন সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে রয়েছে। নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরের পাঁচটি বরো মিলিয়ে প্রায় ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তি সংস্কার ব্যয়, ভাড়া বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে এসব বাসা নতুন ভাড়াটিয়াদের কাছে হস্তান্তর করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক বাড়ির মালিক।   দ্য সিটি রিপোর্টার রাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের শূন্যতার হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এক দশক আগে, ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তথ্যগুলো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভবনের মালিকদের স্বপ্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগ্রহ করেছে ডিভিশন অব হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল।   করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১ সালে এই শূন্যতার হার সাময়িকভাবে ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। সে সময় নিউইয়র্ক সিটির জনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ম্যানহাটন ছাড়া শহরের বাকি চারটি বরোতেই খালি অ্যাপার্টমেন্টের হার বেড়েছে। তবে কোন কারণে এসব অ্যাপার্টমেন্ট খালি রয়েছে বা কতগুলো বাসায় সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে তথ্যভান্ডারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা নেই।   ব্রঙ্কসভিত্তিক ইউনিভার্সিটি নেবারহুড হাউজিং প্রোগ্রাম-এর রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক ব্রেন্ডন মিচেলের মতে, মহামারির সময় উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অনেক মামলা জমে ছিল। পরে আদালত সেগুলো নিষ্পত্তি শুরু করলে কিছু অ্যাপার্টমেন্ট খালি হয়ে থাকতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন নিউইয়র্ক অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর কর্মকর্তা মাইকেল জনসন। তার দাবি, সমস্যার মূল কারণ অর্থনৈতিক। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করতে যে ব্যয় হয়, নির্ধারিত ভাড়ায় তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না।   তার ভাষায়, শহরে আবাসনের চাহিদা ব্যাপক হলেও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কিছু অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নতুন ভাড়াটিয়ার কাছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু কম ভাড়ার ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে সংস্কার ব্যয় আদায় করা কঠিন হওয়ায় অনেক মালিক সেগুলো খালিই রেখে দিচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনের কেন্দ্রীয় এলাকায় ভবন মালিকদের পরিচালন মুনাফা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কুইন্সে তা বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ, ব্রুকলিনে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রঙ্কসে পরিচালন আয় কমেছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এসব ভবনের অনেক মালিকের দাবি, বড় ধরনের সংস্কার করার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের নেই। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, পুরোনো চার শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ সংস্কার করতে ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। অথচ মাসিক ভাড়া যদি মাত্র ৮০০ ডলার হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাড়া বৃদ্ধির আইনি সীমাবদ্ধতা। নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড নির্দিষ্ট সীমার বাইরে ভাড়া বাড়ানোর অনুমতি দেয় না। সম্প্রতি সংস্থাটি আগামী দুই বছরের জন্য ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও অনুমোদন করেছে। এছাড়া ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কার্যকর হওয়া হাউজিং স্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড টেন্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি হলেও মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে পারেন না।   ব্রঙ্কসের ৫০টি ভবন পরিচালনাকারী সাইকামোর বার্চ ম্যানেজমেন্ট-এর সভাপতি মার্ক বোরবো বলেন, অনেক রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীর মতে, বর্তমান নিয়মে বড় ব্যয়ে অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে আর্থিক লাভ করা কঠিন। কারণ সংস্কারের পরও ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ নেই।   আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে আবাসন সংকট নিরসনে শুধু নতুন ভবন নির্মাণই নয়, দীর্ঘদিন খালি থাকা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলো কীভাবে আবার বাজারে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিও এখন বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০