মিজানুর রহমান আজহারী

মিজানুর রহমান আজহারী
অস্ট্রেলিয়া বাতিল করল আজহারীর ভিসা, সফরের মাঝপথে দেশে ফেরত

অস্ট্রেলিয়ায় একাধিক ইসলামিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে তাকে সফরের মাঝপথেই দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে।   সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, আজহারী আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। সেখানে তিনি নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা করেন এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন। এই কারণে অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা তার সফরকে প্রাথমিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথান দুনলাম আজ বুধবার জানিয়েছেন, তাকে এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যদের আজহারীর অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যাপারে সতর্ক করেছিল কমিউনিটি গ্রুপ।   তিনি বলেছেন, “আমার জানামতে আজহারীর সফরের ব্যাপারে মন্ত্রীসহ একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে ‘অস্ট্রেলিয়াস্থ বাংলাদেশ জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ফেডারেশন’ যোগাযোগ করেছে।”   সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, ২০২৩ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আজহারী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, হলোকাস্টের প্রশংসা করেন এবং তার স্রোতাদের ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেন।   তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ ছিলেন হিটলার। এছাড়া ইহুদিদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী এবং তাদের বিষাক্ত কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।   এর পাশাপাশি ইহুদিরা বিশ্বে এইডস ছড়িয়েছে এবং বিশ্বের অনেক অশান্তির জন্য তারা দায়ী বলে বক্তব্য দেন তিনি।   অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথান দুনলাম জানান, কমিউনিটি গ্রুপ এবং সংসদ সদস্যরা তাদের সতর্ক করেছিলেন। আজহারী ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে সম্মেলন করার কথা থাকলেও এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। মূল সম্মেলনগুলো ৩ এপ্রিল মেলবোর্নে, ৪ এপ্রিল সিডনিতে এবং ৬ এপ্রিল ক্যানবেরায় হওয়ার কথা ছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারী। ছবি সংগৃহীত
‘হে আরশের মালিক! পৃথিবীতে ন্যায়ের শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন’: মিজানুর রহমান আজহারি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারি। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিশ্বশান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।   পোস্টে তিনি লেখেন, “অস্থিরতার আগুনে পুড়ছে জনপদ; চক্রান্তে বিদীর্ণ উম্মাহ আজ দিশেহারা। হে আরশের মালিক! জুলুমের অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীতে ন্যায়ের শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।”   ড. আজহারির এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক এই অস্থিরতা ইয়েমেন ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলে প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা–পাল্টা হামলায় উদ্বেগের মাত্রা বাড়ছে।   এমন প্রেক্ষাপটে ড. আজহারির বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
মিজানুর রহমান আজহারী
ভয়েস ক্লোন ও এআই প্রযুক্তিতে অভিনব জালিয়াতি: প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ধরণের নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এআই-চালিত জালিয়াতি। একদল কুচক্রী মহল জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের ছবি ও ভয়েস ক্লোন করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণামূলক কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরণের অবৈজ্ঞানিক ওষুধি পণ্য এবং চিকিৎসা সেবার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে, যা দেখে প্রযুক্তির এই নেতিবাচক দিক সম্পর্কে অজ্ঞাত সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   এই প্রতারণার আঁচ লেগেছে সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘হাসানাহ ফাউন্ডেশন’-এর ওপরও। ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল নম্বরে ফোন করছেন, যা তাঁদের দাপ্তরিক কাজে বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এ ধরণের কোনো বিজ্ঞাপন বা পণ্য বিক্রির সাথে তাঁর বা তাঁর ফাউন্ডেশনের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এটি কেবল অনৈতিক নয়, বরং চরম জঘন্য একটি অপরাধ।   আইনি ব্যবস্থা ও চূড়ান্ত সতর্কতা: এই ন্যাক্কারজনক জালিয়াতি রুখতে ইতোমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতারক পেজ ও মিডিয়াগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দ্রুতই পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে হস্তান্তর করা হবে। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে—যেখান থেকেই এই ধরণের ডিজিটাল অপরাধ চালানো হচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতারকদের প্রতি ‘চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি’ উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে এই ধরণের প্রতারণামূলক কন্টেন্ট রিমুভ না করলে কোনো ধরণের আপস ছাড়াই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে মেধা ও প্রযুক্তির দক্ষতাকে অনৈতিক পথে ব্যবহার না করে হালাল উপায়ে জীবিকা অন্বেষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ: যেকোনো প্রলোভন বা বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করতে সর্বদা হাসানাহ ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল সোর্স ব্যবহার করুন। কোনো ধরণের ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ লেনদেনের আগে ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে মিলিয়ে নিন। আপনাদের সচেতনতাই পারে এই ডিজিটাল মাফিয়াদের রুখে দিতে। সকল অফিশিয়াল লিংক নিচে দেওয়া হলো...   Website: https://mizanurrahmanazhari.net/ Instagram: https://www.instagram.com/dr.mizanur.rahman.azhari X (Twitter): https://x.com/AzhariTweets Youtube: https://www.youtube.com/@DrMizanurRahmanAzhariChannel Facebook: https://www.facebook.com/mizanurrahmanazhariofficial TikTok: https://www.tiktok.com/@mizanurrahmanazhari হাসানাহ ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইট: Website: https://hasanahfoundation.com Facebook Page: Hasanah Foundation Group: https://www.facebook.com/groups/Hsanah4All Hasanah Olympiad Page: Hasanah Olympiad Hasanah Olympiad Website: https://hasanaholympiad.com Youtube: https://www.youtube.com/@HasanahFoundation Instagram: https://www.instagram.com/HasanahFoundation_official X (Twitter): https://www.x.com/Hasanah4All

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0