শিকাগোতে ন্যায়বিচার নিয়ে সমালোচনা অনিয়মের অভিযোগে এক হাজারের বেশি মামলার পর্যালোচনা শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ফেডারেল বিচারব্যবস্থাকে ঘিরে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর এক হাজারেরও বেশি গ্র্যান্ড জুরি কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট মামলার পর্যালোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)।
দেশটির উত্তর ইলিনয় জেলার শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অতীতের সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করতেই এই বিস্তৃত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উত্তর ইলিনয় জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অ্যান্ড্রু বুট্রোস জানান, চলমান সব গ্র্যান্ড জুরি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রায় দুই দশক আগের উপস্থাপনাগুলিও পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে। তার ভাষায়, এটি একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত পর্যালোচনা, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে কোনো মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া নৈতিক মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ‘ব্রডভিউ সিক্স’ নামে পরিচিত একটি বহুল আলোচিত মামলা। গত বছর শিকাগোর উপকণ্ঠে একটি ফেডারেল অভিবাসন কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় চার কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল সরকার। কিন্তু পরে আদালতে প্রকাশিত গ্র্যান্ড জুরির নথিতে প্রসিকিউটরদের আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, একজন প্রসিকিউটর গ্র্যান্ড জুরির এক সদস্যের সঙ্গে অনুমতি ছাড়া যোগাযোগ করেছিলেন এবং ভিন্নমত পোষণকারী কিছু জুরির অংশগ্রহণও সীমিত করা হয়েছিল।
এসব অভিযোগ সামনে আসার পর সরকার শেষ পর্যন্ত ওই মামলার অভিযোগ প্রত্যাহার করে। এরপরই বিচার বিভাগের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়।
অ্যান্ড্রু বুট্রোস বলেন, এই পর্যালোচনা কেবল অতীতের ভুল খুঁজে বের করার জন্য নয়; বর্তমানে বিচারাধীন মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখা তাদের প্রধান দায়িত্ব।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে উপস্থাপিত গ্র্যান্ড জুরি কার্যক্রমও এই পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন আগে নিষ্পত্তি হওয়া কিছু মামলাও নতুন করে আলোচনায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আদালতে প্রকাশিত নথিতে যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রমাণ উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটরের অনুপযুক্ত মন্তব্য, গ্র্যান্ড জুরিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে—এমন আচরণ। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনি অবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। নতুন নির্দেশনায় গ্র্যান্ড জুরির সঙ্গে প্রসিকিউটরদের যোগাযোগ, নথি সংরক্ষণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নীতিমালা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে একই ধরনের বিতর্ক এড়াতে সহায়ক হবে।
এদিকে যেসব মামলায় একই প্রসিকিউটর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেগুলোরও পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্য এবং বিচারিক প্রক্রিয়া পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। কোনো মামলায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
বিচার বিভাগের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বলেনি যে পর্যালোচনাধীন সব মামলায় অনিয়ম হয়েছে, তবু প্রতিটি মামলার নথি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী মহলও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাদের মতে, গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বিচারব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। তাই কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।
বর্তমানে পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়েও কাজ চলছে।
শিকাগোকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিস্তৃত পর্যালোচনা এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এক হাজারের বেশি মামলার নথি পুনরায় যাচাইয়ের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতগুলো মামলায় প্রভাব ফেলবে, তা এখন তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreহিউস্টনের গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ — পুলিশ ঘটনার নজরদারি ভিডিও ও সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। হিউস্টনের গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। হিউস্টন পুলিশ বিভাগ সম্প্রতি ঘটনাটির নজরদারি ভিডিও ও সন্দেহভাজনের দুটি প্রতিকৃতি প্রকাশ করে জনগণের সহায়তা চেয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই দুপুর প্রায় ১২টা ২০ মিনিটে দক্ষিণ-পূর্ব হিউস্টনের সাবো রোডের একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। এ সময় এক সন্দেহভাজন তার কাছে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে টাকা দাবি করে।ভুক্তভোগী গাড়ি থেকে মানিব্যাগ নেওয়ার চেষ্টা করলে সন্দেহভাজন তার পেটে গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা হ্যারিস কাউন্টির দ্বিতীয় এলাকার একজন ডেপুটি কনস্টেবল গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। তিনি সন্দেহভাজনকে পালিয়ে যেতে দেখে অনুসরণ শুরু করলে সন্দেহভাজন ঘুরে তার গাড়ির দিকে একাধিক গুলি চালায়। গাড়িতে একাধিক গুলি লাগলেও ডেপুটি আহত হননি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন পরে একটি আবাসিক ভবন এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। পুলিশ তাকে তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে; ঘটনার সময় তার পরনে বেগুনি রঙের হুডযুক্ত পোশাক ও হাফপ্যান্ট ছিল। পুলিশের প্রকাশ করা নজরদারি ভিডিও ও প্রতিকৃতির মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তথ্য থাকলে হিউস্টন পুলিশের ডাকাতি তদন্ত বিভাগে ৭১৩-৩০৮-০৭০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে থাকেন, ড্রাইভার লাইসেন্স আছে? রিনিউয়ের আগে যা জানা জরুরি
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা
সাত বছর বকশিশ না দিয়ে বৃদ্ধের দুর্ব্যবহার, মৃত্যুর পর ওয়েট্রেসকে দিয়ে গেলেন ৫০ হাজার ডলার ও গাড়ি
বন্ধুদের সঙ্গে রাতে বারে সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরে ব্যাংক অ্যাপ খুলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণী ম্যাডি ম্যাকগিভার্ন। ধারণা ছিল, রাতের খরচের পর অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে সেটিই দেখবেন। কিন্তু স্ক্রিনে যে অঙ্কটি ভেসে উঠল, তা দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান তিনি। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স দেখাচ্ছিল মাইনাস ৪৯ হাজার ৯৯৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯৭ ডলার ৯৮ সেন্ট, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারের ঋণ। পরে অবশ্য জানা যায়, পুরো ঘটনাই ছিল ব্যাংকের একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ। ঘটনাটি নতুন নয়। ২০২১ সালে ম্যাডির সঙ্গে এটি ঘটেছিল এবং তখনই তার বন্ধুর ধারণ করা ভিডিও টিকটকে ভাইরাল হয়। সম্প্রতি ভিডিওটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৬ আগস্ট ২০২৬ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ল্যাডবাইবেল। ঘটনার সময় ম্যাডির বয়স ছিল ২২ বছর। বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে থেকে ফিরে খাবার অর্ডার করার আগে তিনি চেজ ব্যাংকের অ্যাপ খুলেছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিক ব্যালেন্সের বদলে সেখানে প্রায় মাইনাস ৫০ বিলিয়ন ডলার দেখে প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বন্ধু গেব ফ্লোরেস সেই মুহূর্ত ভিডিও করেন। ভিডিওতে হতভম্ব ম্যাডিকে বন্ধুদের কাছে জানতে চাইতে দেখা যায়, এখন তিনি কী করবেন। পাশে থাকা বন্ধুরাও প্রথমে মনে করেছিলেন, হয়তো ম্যাডি বিষয়টি বাড়িয়ে বলছেন। কিন্তু ফোনের স্ক্রিন দেখার পর তারাও অবাক হয়ে যান। ভিডিওটি পরে টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ সেটি দেখেন। আরও মজার বিষয় ছিল, ম্যাডির অন্য একটি অ্যাকাউন্টে তখনও প্রায় ৭৬ ডলার ব্যবহারযোগ্য অর্থ দেখাচ্ছিল। অথচ একই সঙ্গে ব্যাংকিং অ্যাপে তার নামে এমন এক অঙ্কের ঋণ দেখানো হচ্ছিল, যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। বিষয়টি বুঝতে না পেরে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ম্যাডি। তিনি ব্যাংক প্রতিনিধিকে জানান, অ্যাপে তাকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণী দেখানো হচ্ছে। এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কর্মীও প্রথমে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। অ্যাকাউন্টে আরও একটি অদ্ভুত তথ্য দেখা যাচ্ছিল। সেখানে এমন একটি এন্ট্রি ছিল, যাতে ২০৯৯ সালে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা দেখানো হচ্ছিল। পুরো বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। পরে চেজ ব্যাংক বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়। ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানান, সপ্তাহান্তে তাদের সিস্টেমে একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ হয়েছিল এবং সীমিতসংখ্যক অ্যাকাউন্ট এতে প্রভাবিত হয়। সমস্যাটি সমাধান করার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোতে আবার সঠিক ব্যালেন্স দেখানো শুরু হয়। ব্যাংক আরও জানায়, সমস্যার কারণে গ্রাহকেরা তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হননি এবং এ জন্য কোনো অতিরিক্ত ফিও দিতে হয়নি। অর্থাৎ ম্যাডির নামে সত্যিই ৫ হাজার কোটি ডলারের কোনো ঋণ ছিল না। ব্যাংকের ডিজিটাল সিস্টেমে সাময়িক ত্রুটির কারণেই তার অ্যাপে সেই বিপুল অঙ্কটি দেখাচ্ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। অনেকে মজা করে মন্তব্য করলেও অনেক ব্যবহারকারী বলেন, নিজের ব্যাংক অ্যাপে হঠাৎ এমন বিপুল ঋণ দেখলে আতঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। শেষ পর্যন্ত ব্যাংক সমস্যাটি ঠিক করে ম্যাডির প্রকৃত ব্যালেন্স ফিরিয়ে দেয়। তবে একটি সাধারণ রাতের শেষে ব্যাংক অ্যাপ পরীক্ষা করতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণী হিসেবে দেখতে পাওয়া সেই অভিজ্ঞতা এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি, দুই কোটির বেশি ফান্ডিং পেলেন বাংলাদেশের ইভা
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা: আপনার গাড়ির নম্বর পুলিশ খুঁজেছে কি না জানবেন যেভাবে
আমেরিকায় ৫০০ ডলারে একর জমি! কিনতে পারবেন বাংলাদেশিরাও
যুক্তরাষ্ট্রে আইটি, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ফেডারেল কন্ট্রাক্টিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ভার্জিনিয়া, বিশেষ করে নর্দার্ন ভার্জিনিয়া, গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য। ওয়াশিংটন ডিসির পাশেই অবস্থান, বিপুল ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং কার্যক্রম, অ্যামাজনের এইচকিউ২ এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার শিল্পের কারণে প্রযুক্তিখাতে এখানে বড় চাকরির বাজার তৈরি হয়েছে। তবে চাকরির সুযোগের পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও বাড়ির দামও তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছেও নর্দার্ন ভার্জিনিয়া পরিচিত একটি এলাকা। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি, আর্লিংটন, আলেকজান্দ্রিয়া, লাউডন ও প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টিসহ ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করছে। বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের উপস্থিতিও নতুন অভিবাসীদের জন্য সামাজিকভাবে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ করতে পারে। তবে নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স, আর্লিংটন ও আলেকজান্দ্রিয়ায় ‘১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি’ থাকার যে সংখ্যা বিভিন্ন অনলাইন পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সেটিকে নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য থেকে ওই তিন এলাকায় বাংলাদেশিদের এমন নির্দিষ্ট মোট সংখ্যা সরাসরি নিশ্চিত করা যায় না। ফলে কমিউনিটির আকার নিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। চাকরির বাজারই ভার্জিনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে ভার্জিনিয়ায় বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। রাজ্যটিতে মোট ননফার্ম চাকরির সংখ্যা ছিল প্রায় ৪২ লাখ ৪৪ হাজার। প্রযুক্তিখাতে ভার্জিনিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী। বিএলএসের বিস্তারিত পেশাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে কম্পিউটার ও ম্যাথমেটিক্যাল পেশায় প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ মানুষ কাজ করতেন এবং এসব পেশায় গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৬১০ ডলার। ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ ডলার। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় আইটি চাকরির একটি বড় অংশ ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অ্যামাজন, লেইডোস ও বুজ অ্যালেন হ্যামিল্টনের মতো প্রতিষ্ঠানকে এই অঞ্চলে কম্পিউটার সার্ভিসেস কর্মীদের বড় নিয়োগদাতাদের মধ্যে রাখা হয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং, এডব্লিউএস, সাইবার সিকিউরিটি, সফটওয়্যার, এআই এবং সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার চাহিদাও রয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার বহু ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট আইটি চাকরিতে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বও গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শুধু আইটি ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা থাকলেই সব ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং চাকরিতে আবেদন করা সম্ভব হবে, এমন নয়। অন্যদিকে বেসরকারি প্রযুক্তি খাতও দ্রুত বাড়ছে। আর্লিংটনের ন্যাশনাল ল্যান্ডিংয়ে অ্যামাজনের এইচকিউ২ রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে ভার্জিনিয়ার গভর্নরের অফিস জানিয়েছে, আইটি সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠান স্পেশাল ফ্রন্ট তাদের সদর দপ্তর আর্লিংটনে স্থানান্তর করে ৪৫০টি নতুন চাকরি তৈরির পরিকল্পনা করেছে। ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রেও নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। লাউডন, ফেয়ারফ্যাক্স, প্রিন্স উইলিয়াম ও আশপাশের এলাকায় অ্যামাজন ডেটা সার্ভিসেসসহ বহু প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং নতুন প্রকল্পও যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ক্লাউড অবকাঠামো, নেটওয়ার্কিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা সেন্টার অপারেশনে চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এখানে বসবাসের খরচ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে পুরো ভার্জিনিয়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ছিল ১ হাজার ৮০৮ ডলার। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় গড় ভাড়া ছিল আরও বেশি, প্রায় ২ হাজার ২৪৮ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই অঞ্চলে ভাড়া কিছুটা কমলেও এটি এখনো রাজ্যের ব্যয়বহুল হাউজিং মার্কেটগুলোর একটি। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ভার্জিনিয়া রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে পুরো রাজ্যে বিক্রি হওয়া বাড়ির মিডিয়ান মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার অনেক এলাকায় বাড়ির দাম রাজ্যব্যাপী মিডিয়ানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাতায়াত। ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো ব্যবস্থার কারণে আর্লিংটন, আলেকজান্দ্রিয়া এবং ফেয়ারফ্যাক্সের কিছু অংশ থেকে গাড়ি ছাড়াও যাতায়াত করা সম্ভব। তবে শহরতলির অনেক এলাকায় গাড়ি প্রায় অপরিহার্য হয়ে ওঠে। অফিস টাইমে আই ৬৬, আই ৯৫ এবং ক্যাপিটাল বেল্টওয়ের বিভিন্ন অংশে ভারী ট্রাফিকও দৈনন্দিন জীবনের একটি বাস্তবতা। ভার্জিনিয়ার আবহাওয়ায় চারটি ঋতুই স্পষ্ট। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় শীতকালে তুষারপাত হতে পারে, আবার গ্রীষ্মে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকে। ফলে বাংলাদেশের তুলনায় শীত অনেক বেশি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের কিছু রাজ্যের মতো দীর্ঘ ও চরম শীত সাধারণত থাকে না। তবে ভার্জিনিয়াকে ‘গ্রিন কার্ড পাওয়ার রাজ্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড, এইচ ওয়ান বি এবং অন্যান্য কর্মভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। কোনো ব্যক্তি ভার্জিনিয়ায় বসবাস বা চাকরি করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা পান না। চাকরিদাতা স্পনসরশিপ, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরি, যোগ্যতা এবং ফেডারেল নিয়মের ওপর বৈধভাবে স্থায়ী হওয়ার পথ নির্ভর করে। সব মিলিয়ে প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য ভার্জিনিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শক্তিশালী আইটি ও সাইবার সিকিউরিটি মার্কেট, ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থান এবং বড় ফেডারেল ও বেসরকারি নিয়োগদাতাদের উপস্থিতি। অন্যদিকে উচ্চ হাউজিং খরচ, ট্রাফিক এবং অনেক সরকারি কন্ট্রাক্টিং চাকরিতে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের বাধ্যবাধকতা নতুনদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিবেচনায় রাখা জরুরি। তাই শুধু ‘ভার্জিনিয়ায় গেলেই আইটি চাকরি বা গ্রিন কার্ড পাওয়া সহজ’ এমন ধারণার পরিবর্তে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, দক্ষতা, চাকরির ধরন, সম্ভাব্য বেতন এবং বসবাসের খরচ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব, দিতে হতে পারে ১,৩৩০ ডলার
বিশ্বসেরা বার্কলেতেও শেখাতে হচ্ছে ভগ্নাংশ! কলেজে পড়া শিক্ষার্থীদের গণিতের ঘাটতি, হতাশায় প্রফেসর