উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার পাশাপাশি আরও বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার (২৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ জুন) নামফো বন্দরে একটি নবনির্মিত যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিম জং উন। সেখানে তিনি বলেন, নৌবাহিনীকে পারমাণবিক শক্তিতে সজ্জিত করার কর্মসূচি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে এবং এটি দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিম জানান, গত বছর চালু হওয়া প্রায় ৫ হাজার টন ওজনের যুদ্ধজাহাজের পর খুব শিগগিরই আরেকটি নতুন জাহাজ বহরে যুক্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার কৌশলগত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তার ভাষায়, দেশের পারমাণবিক শক্তিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর কোরিয়া আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, নতুন প্রজন্মের এসব যুদ্ধজাহাজে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা থাকবে। গত এপ্রিলে এমন একটি জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরীক্ষাও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন কিম জং উন, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, কিমের এই ঘোষণা মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা। সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেই পিয়ংইয়ং এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের এক বৈঠকেও দ্রুত সামরিক আধুনিকায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন কিম। ওই বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া নিজেদেরকে শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। নতুন এই নৌ-সামরিক পরিকল্পনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: জাপান টাইমস
রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছেছে চীনের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ বহর। মঙ্গলবার চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএ নেভি) টাস্ক ফোর্স-৮৩ রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের সদর দপ্তর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছায়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত ছবি ও তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে পৌঁছানো জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ জাহাজ ‘চি জিগুয়াং’ এবং উভচর অবতরণ জাহাজ ‘কুনলুনশান’। রুশ নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে চার দিনের এই সফরে চীনা নাবিকরা রুশ নৌ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। বন্দরে জাহাজ দুটি পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা পতাকা নাড়িয়ে তাদের স্বাগত জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু একটি নিয়মিত সামরিক বিনিময় কর্মসূচি নয়; বরং এটি বেইজিং ও মস্কোর ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতারও প্রতীক। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি বাড়ানো এবং বিভিন্ন ধরনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানির মাধ্যমে চীন রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ভাষ্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে বেইজিং সফরকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও তাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সে সময় উভয় দেশ প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবধর্মী সহযোগিতা আরও বাড়াবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীন নিয়মিত যৌথ নৌ ও বিমান মহড়া পরিচালনা করছে। যদিও ২০২৫ সালে দুই দেশের যৌথ মহড়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল, তবুও ওই বছর প্রথমবারের মতো যৌথ সাবমেরিন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যা সামরিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, যৌথ মহড়ার সংখ্যা কিছুটা কমলেও দুই দেশের নৌ সহযোগিতার গভীরতা আগের তুলনায় বেড়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে বলেছে, রাশিয়া তার নৌবাহিনীকে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখে। সে কারণেই রাশিয়া-চীন নৌ সহযোগিতা স্থলবাহিনীর যৌথ কার্যক্রমের তুলনায় বেশি বিস্তৃত হয়ে উঠেছে। এদিকে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। বিশেষ করে আলাস্কার কাছাকাছি এলাকায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ টহল কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে দেখছে। গত ডিসেম্বরে জাপান সাগর এবং ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ বোমারু বিমান টহল পরিচালনার ঘটনায় জাপান তাদের যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছিল। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সে সময় মন্তব্য করেন, ওই অভিযান ছিল জাপানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের স্পষ্ট বার্তা এবং এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। যদিও চীন ও রাশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নেই, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সামরিক আধিপত্যের বিকল্প একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রশ্নে দুই দেশ একই অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভ্লাদিভস্তকে চীনা যুদ্ধজাহাজের এই সফর শুধু দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের প্রতীক নয়, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দুটি জাহাজ লোহিত সাগরের দিকে মোতায়েন করছে জার্মানি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটো সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক চলাকালীন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সমঝোতার পর জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার তোড়জোড় শুরু হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নৌপরিবহন ও বীমা শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালিতে জরুরি ভিত্তিতে মাইন অপসারণকারী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জোরালো আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মাইনসুইপার ‘ফুলদা’ এবং অন্য একটি জাহাজ ‘মোজেল’ সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এই সামরিক মিশন সফল করতে এবং মাইন অপসারণ অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের আগে ইরান ও ওমানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জাহাজ মোতায়েনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের যেকোনো মিশনের ভবিষ্যৎ মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে মাইনমুক্ত করা সম্ভব না হলে ওই অঞ্চলে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় জার্মানি এই বিশেষ মিশনের জন্য পানির নিচে নিখুঁতভাবে পরিচালিত ড্রোন, মাইন অপসারণে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর ডুবুরি এবং শক্তিশালী জাহাজ সুরক্ষা দলও পাঠাচ্ছে। এদিকে জলপথটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি বহুজাতিক নৌ-মিশনের পরিকল্পনা করছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান এই জলপথে যেকোনো ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে বরাবরই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে আসছে। অন্যদিকে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে গ্রিস সরকার। তবে দেশটির সরকারি মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানান, এই সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয়ে গ্রিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সূত্র: রয়টার্স
সমুদ্রসীমায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এক অভিনব এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীন। চীনা গবেষকরা সাধারণ ফটোগ্রাফিক পেপার বা ছবির কাগজে তৈরি এক বিশেষ ধরনের ৫জি অ্যান্টেনা তৈরি করেছেন, যা দেশটির যুদ্ধজাহাজগুলোতে বড় আকারের নেটওয়ার্ক আপগ্রেডের পথ প্রশস্ত করছে। দক্ষিণ চীন মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। লিয়াওনিং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক ইয়াং ওয়েনডংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথাগত অ্যান্টেনার তুলনায় এই কাগজের অ্যান্টেনা তৈরিতে খরচ কমবে প্রায় ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে যুদ্ধজাহাজগুলোতে উচ্চগতির ৫জি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জটিল। কিন্তু এই নতুন 'পেপার অ্যান্টেনা' প্রযুক্তি সেই চিত্র বদলে দিতে পারে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? গবেষকরা ০.৩ মিলিমিটারের চেয়েও পাতলা সাধারণ গ্লসি ফটো পেপারকে সাবস্ট্রেট হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এর ওপর তামার কালির (Copper Ink) প্রলেপ দিয়ে একটি কন্ডাক্টিভ লেয়ার বা পরিবাহী স্তর তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যান্টেনাগুলো অত্যন্ত নমনীয় এবং ওজনে হালকা। এটি ৫জি মিলিমিটার-ওয়েভ কমিউনিকেশনের জন্য উপযুক্ত এবং যুদ্ধজাহাজের মতো জটিল পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে সক্ষম। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী: প্রথাগত মাইক্রোওয়েভ সাবস্ট্রেটগুলো যেমন দামী, তেমনি সেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু কাগজের তৈরি এই অ্যান্টেনাগুলো পচনশীল বা বায়োডিগ্রেডেবল। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় 'লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি' বা প্রান্তিক সংযোগ নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের যুদ্ধজাহাজে আধুনিক ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করছে। সেখানে চীনের এই 'লো-কস্ট' বা সস্তা মডেলটি বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সমুদ্রের মাঝখানে যুদ্ধজাহাজ থেকে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ, রিয়েল-টাইম ডেটা ট্রান্সমিশন এবং কমান্ড অপারেশন আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ‘ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসন’ ও ‘ইউএসএস মাইকেল মারফি’ নামের দুটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তাদের দাবি, প্রণালিতে পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইন অপসারণের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ প্রবেশ বা অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে সেন্টকমের দাবি সঠিক নয়। তিনি আরও জানান, প্রণালিতে যেকোনো জাহাজের চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এলো, যখন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।