- প্রচ্ছদ
- Topic
শিকাগো
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর একটি আবাসিক এলাকায় অন্ধ এক হরিণকে খাবার খুঁজে পেতে প্রতিদিন সাহায্য করত ১০ বছরের এক শিশু। সকালে হরিণটিকে ঘাসে ঢাকা জায়গাগুলোর কাছে নিয়ে যেত সে, যাতে প্রাণীটি সহজে খাবার খুঁজে পায়। কয়েক দিন ধরে শিশুটির এমন মমতাপূর্ণ আচরণ দেখে মুগ্ধ হন এলাকার এক দম্পতি। পরে তাঁদের তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি মানুষের নজরে আসে। রেশেয়ারওয়ার্দি নামের একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দম্পতি কয়েক দিন ধরে শিশুটিকে হরিণটির পাশে দেখছিলেন। প্রাণীটি চোখে দেখতে না পাওয়ায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। বিশেষ করে সড়কে যানবাহনের মধ্যে হরিণটির দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে দম্পতির স্ত্রী কাছাকাছি এলাকার একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছবিটি রেডিটে প্রকাশ করা ব্যক্তি জানান, উদ্ধারকারী দল হরিণটিকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। দলটির সঙ্গে একজন পশুচিকিৎসক রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ থেকে অনুমোদিত একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন দল হরিণটিকে উদ্ধার করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, হরিণটিকে বনাঞ্চল সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ে গিয়ে দেখাশোনা করা, যাতে সেটি সড়কের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে পারে। হরিণটিকে উদ্ধার করার সময় আশপাশের অনেক বাসিন্দা সেখানে উপস্থিত হন। শিশুটিও তার মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসে। ওই ব্যক্তি জানান, হরিণটির সঙ্গে শিশুটির আচরণ ছিল বেশ পরিণত। কয়েক দিন ধরে প্রাণীটিকে সাহায্য করলেও সে হরিণটিকে পোষা প্রাণী হিসেবে নিজের করে নেওয়ার চেষ্টা করেনি। বরং প্রাণীটি যেন নিরাপদে থাকে, সেটিই ছিল তার মূল চিন্তা। ওই ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি হরিণটিকে ঘরে আশ্রয় দেয়নি বা বাইরে খাবার রেখে তাকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেনি। হরিণটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী দল এগিয়ে আসায় শিশুটি স্বস্তি পেয়েছিল। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তাঁরা জানতে পারেন, শিশুটি এগিয়ে আসার আগে থেকেই প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা হরিণটিকে খাবার দিচ্ছিলেন এবং সড়কের কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে সাহায্য করছিলেন। শিশুটির এই উদ্যোগে মুগ্ধ হয়ে ওই দম্পতি তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাকে পুরস্কৃত করার একটি উপায় খুঁজে বের করার পরিকল্পনা করেন। তাঁরা শিশুটির পরিবারের জন্য ছবিটি বাঁধাই করে উপহার দিতে চান। পাশাপাশি শিশুটি চাইলে তাকে স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়ার কথা জানান। ঘটনাটি শুধু একটি শিশুর মমতার উদাহরণ নয়, বিপদে পড়া বন্যপ্রাণীর পাশে দাঁড়াতে একটি এলাকার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেরও চিত্র তুলে ধরে। তবে হরিণটির পরবর্তী শারীরিক অবস্থা বা পুনর্বাসন শেষে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে মূল প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর উত্তর-পশ্চিম শহরতলি মান্ডেলিনের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওয়েলিংটন অ্যাভিনিউয়ের ২০০ ব্লকের ওই বাড়িতে একটি 'ওয়েল-বিং চেক' বা বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেওয়ার স্বাভাবিক কলে সাড়া দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভেতরে প্রবেশ করে তারা তিনজন পুরুষ ও দুজন নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। নিহত পাঁচজনই গুলিবিদ্ধ ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য অথবা কোনো পারিবারিক সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে দুটি হ্যান্ডগানও উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মান্ডেলিন পুলিশ, লেক কাউন্টি মেজর ক্রাইম টাস্ক ফোর্স এবং লেক কাউন্টি করোনারস অফিস যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম ও বয়স প্রকাশ করা হয়নি এবং ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। তবে পুলিশ আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি বা হুমকি নেই। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এই ঘটনা সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে মান্ডেলিন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মান্ডেলিনে একটি বাড়িতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ওয়েলিংটন অ্যাভিনিউয়ের ২০০ ব্লকের ওই বাড়ি থেকে তদন্তকারীদের অন্তত তিনটি মরদেহ সরিয়ে নিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এবিসি সেভেন শিকাগো। তবে মৃত্যুর কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। শিকাগোর উত্তরের এই উপশহরের বাড়িটিতে পুলিশ সদস্যদের প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত দৃশ্যে বাড়ির চারপাশে হলুদ টেপ দিয়ে এলাকা ঘিরে রাখতে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি অবস্থান করতে দেখা গেছে। মান্ডেলিন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নেই। পুলিশের বক্তব্যের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্তে মান্ডেলিন পুলিশকে সহায়তা করছে লেক কাউন্টি শেরিফস অফিস। আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজে লেক কাউন্টি মেজর ক্রাইমস টাস্কফোর্সের বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন। কী পরিস্থিতিতে এসব মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তখনো বিস্তারিত জানায়নি। ফলে ঘটনাটিকে হত্যা, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ধরনের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোর নর্থ সাইড এলাকায় গাড়িচাপায় এক পথচারীর মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারীর নাম জসেলিন মারকাদো (২০)। তিনি স্ট্রিমউড এলাকার বাসিন্দা। শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্ট্রিমউডের ইস্ট পাইন স্ট্রিটের ০-১০০ ব্লক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট রাতে ওয়েস্ট হাওয়ার্ড স্ট্রিটের ১৯০০ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাস্তায় হাঁটার সময় ৬৭ বছর বয়সী জেমস রিডটিলম্যানকে পূর্বমুখী একটি কালো পিকআপ ট্রাক ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ইভানস্টনের বাসিন্দা রিডটিলম্যানকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সেন্ট ফ্রান্সিস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, তদন্তে মারকাদোকে ওই গাড়ির চালক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনাসংশ্লিষ্ট মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর চারটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এবং দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত ব্যক্তিকে ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগের একটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তাঁর আটক রাখার বিষয়ে শুনানিতে আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে হিন্দু মন্দিরে নির্বিচারে গু লি বর্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। শিকাগোর উপশহর প্যালাটাইনের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হু মকি দেওয়া ও বেআইনিভাবে রাইফেল রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ১১ অক্টোবর হা মলা চালাতে গিয়ে তাঁর অ স্ত্র কাজ করেনি। পরে সহকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই তাঁকে আ টক করা হয়। আদালতে প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত তথ্যের বরাতে শিকাগো সান টাইমস জানিয়েছে, পাপোরাকিস দুই বছর ধরে নির্বিচারে গু লি বর্ষণের পরিকল্পনা করছিলেন। তবে অরোরার একটি হিন্দু উপাসনালয়কে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন প্রায় দুই মাস আগে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘটনার দিন গাড়ির ভেতর থেকে এক ব্যক্তিকে গু লি করার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু রাইফেল আটকে যাওয়ায় গু লি বের হয়নি। প্যালাটাইন পুলিশপ্রধান উইলিয়াম নর্ড ১৫ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাপোরাকিসের নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি ১১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে অরোরার একটি হিন্দু মন্দিরের পার্কিং লটে ঢোকে। প্রায় ১৩ মিনিট পর সেটি বেরিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, তখন গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্দিরটির নাম প্রকাশ করেননি পুলিশপ্রধান। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন এক সহকর্মীর কাছে ভারতীয়দের হ ত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন পাপোরাকিস। পরদিন তিনি ওই সহকর্মীকে জানান, হা মলা চালাতে গিয়ে তাঁর অ স্ত্র কাজ করেনি এবং তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে এসেছেন। অ স্ত্র ঠিক করে আবার চেষ্টা করার কথাও বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কথোপকথনের পর দুই সহকর্মী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। মাউন্ট প্রসপেক্ট পুলিশ তথ্যটি পাওয়ার পর প্যালাটাইন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়। পরে পাপোরাকিসের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, গু লিভর্তি একাধিক ম্যাগাজিন, কয়েক শ রাউন্ড অতিরিক্ত গু লি এবং সুরক্ষাবর্মযুক্ত ভেস্ট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীকও ছিল। তদন্তকারীরা তাঁর নামে লেখা একটি নথি ও ইলেকট্রনিক বার্তা পরীক্ষা করছেন। পুলিশের ভাষ্য, ওই নথিতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ও উগ্রবাদী বক্তব্যের পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উল্লেখ রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনায় তিনি একাই জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তদন্তে এফবিআইয়ের শিকাগো কার্যালয়ও সহায়তা করছে। ১৪ অক্টোবর কুক কাউন্টির রোলিং মেডোজ আদালতে শুনানির পর বিচারক পাপোরাকিসকে আটক রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর পরবর্তী আদালতে হাজিরার দিন ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিচার এখনো হয়নি। সম্ভাব্য হু মকির বিষয়ে অরোরা পুলিশকে জানানোর পর স্থানীয় হিন্দু উপাসনালয়গুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর শহরতলিতে অবস্থিত একটি শপিং মলের পুকুরে এক নারীকে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সকালে স্কোকি এলাকার ওয়েস্টফিল্ড ওল্ড অরচার্ড মলে এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। স্কোকি পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী উইলিয়াম ডবস নামের ওই ব্যক্তি প্রথমে ওই নারীর পার্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে ধরে রাখেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী নারী একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিলেন না। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মলের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই ডবস একটি ভারী ব্যাগ দিয়ে ওই নারীকে আঘাত করেন এবং ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফেলে দেন। সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন কেউ হয়তো একা সাঁতার কাটছেন, কিন্তু কাছে গিয়ে দেখতে পান এক নারীকে পানির নিচে চেপে ধরা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত পানিতে নেমে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। পুলিশ আসার আগেই পথচারীদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে ওই নারী প্রাণে বেঁচে যান এবং তাকে গুরুতর নয়—এমন আঘাতসহ স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া উইলিয়াম ডবসের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং এক প্রবীণ নাগরিককে গুরুতর জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানোর আইনি ঝুঁকিতে পড়েছেন শিকাগোর এক অভিবাসী। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় নিজের আগের পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। গত ৭ অক্টোবর ইলিনয়ের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় মার্কিন সরকার দাবি করেছে, আকিনকুনমি আইনসম্মতভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেননি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং কিছু তথ্য গোপন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। মামলার নথি অনুযায়ী, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন মার্কিন নাগরিক হিসেবে শপথ নেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন। কিন্তু তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ইতিহাস নিয়ে সরকারের অভিযোগ আরও পুরোনো। মামলায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তিনি ভিন্ন একটি পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। সেই পরিচয় ছিল ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো। সরকারের অভিযোগ, ১৯৯৩ সালে ওই পরিচয়ে তিনি নিজের গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে মার্কিন অভিবাসন আপিল বোর্ডও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এর পর আকিনকুনমি নতুন পরিচয়ে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি দাবি করেছিলেন, অন্য কোনো নাম ব্যবহার করেননি এবং এর আগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। সরকারের দাবি, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ২০০০ সালে তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি নাকি আগের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তাঁকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল কিংবা বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন তথ্যও তিনি অস্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের বক্তব্য, আকিনকুনমি কখনোই আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করেননি। বরং প্রতারণা অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি অভিবাসন সুবিধা ও নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অক্টোবরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ ৪০ জন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। সরকারের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি অবৈধভাবে অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ভুয়া বিয়ে, অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং পরিচয় গোপনের মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৬ বছরের মধ্যে এবং তাঁরা ২০টি দেশের নাগরিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। অতীতে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার বছরে গড়ে প্রায় ১১টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা শুরু করেছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, এই সংখ্যা বেড়ে বছরে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও সরকারের ক্ষমতার ওপর সীমা আরোপ করেছেন। ২০১৭ সালের মাসলেনিয়াক বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলায় আদালত বলেন, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ, আবেদনে কোনো ভুল বা বেআইনি আচরণ পাওয়া গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না; নাগরিকত্ব অর্জনে সেই আচরণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আকিনকুনমির মামলাতেও অভিযোগের সত্যতা, তথ্য গোপনের গুরুত্ব এবং নাগরিকত্ব অর্জনের সঙ্গে সেসব তথ্যের সম্পর্ক আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম তালিকাভুক্ত ছিল না। মামলায় মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীর কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর দেশে থাকা স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্কের যোগাযোগ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন শিকাগোপ্রবাসী ভারতীয় নারী কানিশকা জাসোরিয়া। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর থাকার সময়ে নিকট পরিবারের সদস্যদের বাইরে মাত্র দুজন তাকে ফোন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—বিদেশে থাকা মানুষদেরই কেন প্রায়ই “সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া” বা “ডিট্যাচড” হিসেবে দেখা হয়? সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কানিশকা। ভিডিওতে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর অনেক সময় দেশে থাকা মানুষজন অভিযোগ করেন যে প্রবাসীরা আর আগের মতো যোগাযোগ রাখেন না। কিন্তু তার নিজের অভিজ্ঞতায়, যোগাযোগের উদ্যোগ সবসময় একপক্ষ থেকে আসেনি। ভিডিওটির ওপর “রিয়েলিটি অব এনআরআই” লেখা ছিল এবং ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “বেইজড অন ট্রু ইভেন্টস”। বিষয়টি হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও টাইমস নাউও প্রতিবেদন করেছে। কানিশকার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছরে পরিবারের বাইরে যে দুজন তাকে ফোন করেছিলেন, তাদের কথোপকথনের ধরনও ছিল আলাদা। একজন জানতে চেয়েছিলেন, পরিবার ছাড়া তিনি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবন সামলাচ্ছেন এবং ঋণের মতো বাস্তব বিষয় কীভাবে মোকাবিলা করেছেন। অন্যজন প্রশ্ন করেছিলেন, কাউকে না জানিয়ে কেন তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তার বক্তব্য, এই দুটো ফোনের বাইরে নিয়মিত যোগাযোগের অভিজ্ঞতা তার হয়নি। এই অভিজ্ঞতা থেকেই কানিশকা প্রশ্ন তুলেছেন, যখন যোগাযোগের চেষ্টা দুই পক্ষ থেকে সমানভাবে না আসে, তখন শুধু বিদেশে চলে যাওয়া ব্যক্তিকেই কেন “ডিট্যাচড” বলা হবে। তার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—দূরত্ব তৈরি হলে সম্পর্ক ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু বিদেশে থাকা ব্যক্তির ওপর থাকা উচিত নয়; যোগাযোগে দুই পক্ষেরই ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন ব্যবহারকারী নিজেদের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কানিশকার বক্তব্যের মিল খুঁজে পেয়েছেন। কেউ বলেছেন, বিদেশে যাওয়ার পর সম্পর্কের বাস্তবতা বদলে যায়; আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষেরই চেষ্টা প্রয়োজন। তবে কানিশকার বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট হিসেবেই দেখা উচিত। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দাবিগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। কানিশকার লিংকডইন প্রোফাইলেও শিকাগো, ইলিনয়েসে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। উৎস: হিন্দুস্তান টাইমস, কানিশকা জাসোরিয়ার ইনস্টাগ্রাম
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর পশ্চিমাঞ্চলে তদন্ত চালানোর সময় একটি কুকুরের হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ সময় আক্রান্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে কুকুরটি মারা যায়। ঘটনাটি সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে নর্থ ক্রিশ্চিয়ানা অ্যাভিনিউয়ের ৭০০ নম্বর এলাকায় ঘটে। শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ওই এলাকায় একটি ঘটনার তদন্ত করছিলেন। এ সময় একটি কুকুর তাদের কাছে এসে এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করে। আক্রান্ত কর্মকর্তা নিজের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালালে কুকুরটির শরীরে গুলি লাগে এবং সেটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনায় মোট তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। তবে কারও আঘাতই প্রাণঘাতী নয়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের অবস্থাই ভালো। পুলিশ সদস্যদের বাইরে আর কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর শহরের প্রাণী পরিচর্যা ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। কুকুরটি কোথা থেকে এসেছিল, এর মালিক কে কিংবা ঠিক কী পরিস্থিতিতে সেটি পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে শিকাগো পুলিশের সংশ্লিষ্ট এলাকার গোয়েন্দারা তদন্ত করছেন। এবিসি সেভেন শিকাগো ঘটনাস্থলকে পূর্ব গারফিল্ড পার্ক হিসেবে উল্লেখ করলেও এনবিসি শিকাগো, সিবিএস শিকাগো ও শিকাগো সান-টাইমস এটিকে হামবোল্ট পার্ক এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে সব প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল নর্থ ক্রিশ্চিয়ানা অ্যাভিনিউয়ের ৭০০ নম্বর এলাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একটি ফিউনারেল হোম বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেন্দ্র থেকে ৫০টিরও বেশি পচনশীল মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করায় এগুলোর বেশিরভাগই বিভিন্ন মাত্রায় পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারীরা। এই মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার কাউন্টি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কুক কাউন্টি সরকারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিকাগো শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওই ফিউনারেল হোমটিতে মৃতদেহগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না—এমন খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে তদন্তকারী ও ফরেনসিক প্যাথলজিস্টদের পাঠায় কুক কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার অফিস। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তকারী দল দেখতে পান, চরম অবহেলায় ফেলে রাখা অন্তত ৫০টি মৃতদেহের পচন ধরেছে এবং এগুলো অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে মেডিকেল এক্সামিনার অফিস মৃতদেহগুলোর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সেই সঙ্গে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডেথ সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র খোঁজার কাজ চলছে। কুক কাউন্টির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মৃতদেহগুলোর দ্রুত পরিচয় শনাক্ত করে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে খবর পৌঁছানোর জন্য কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে মৃতদেহগুলোর যথাযথ ব্যবস্থা ও হস্তান্তর নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়ায় আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এই ঘটনার পেছনে কাদের গাফিলতি রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এবং মেডিকেল এক্সামিনার অফিস যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি সাপেক্ষে পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় আঘাত হানা প্রবল বজ্রঝড়ের সময় অন্তত চারটি টর্নেডো আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ (ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস)। ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি শত শত বাড়ির বেসমেন্ট প্লাবিত হয়েছে, হাজার হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে এবং ৫ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক সাময়িকভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। (Chicago Sun-Times ও National Weather Service) মঙ্গলবার জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের জরিপকারী দল জানায়, চারটি টর্নেডো শিকাগোর দক্ষিণ ও পশ্চিম উপশহর এলাকায় আঘাত হানে। এর মধ্যে ল্যান্সিং, কান্ট্রি ক্লাব হিলস, হ্যাজেল ক্রেস্ট, হার্ভি ও হোমউড এলাকায় আঘাত হানা দুটি টর্নেডোতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ মাইলেরও বেশি গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে। অপর দুটি টর্নেডো আঘাত হানে গ্লেন এলিন ও অরল্যান্ড পার্ক এলাকায়, যেখানে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৮৫ মাইল। (National Weather Service) ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে শিকাগো হাইটস, মেওউড, ক্রেস্টউড, বোলিংব্রুক, ইউনিভার্সিটি পার্ক, লিবার্টিভিল এবং শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা। এছাড়া ওয়াকিগানে ঘণ্টায় ৮২ মাইল, মিডওয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭৩ মাইল এবং ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬৫ মাইল গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শিকাগো সিটির জরুরি ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ৫৯৯টি বাড়ি প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের অষ্টম ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি বেসমেন্টে পানি ঢোকার অভিযোগ এসেছে। মেট্রোপলিটন ওয়াটার রিক্লেমেশন ডিস্ট্রিক্টের তথ্য অনুযায়ী, কুক কাউন্টির কিছু এলাকায় মাত্র দুই ঘণ্টায় প্রায় দুই ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে। ও'হেয়ার বিমানবন্দরে ১ দশমিক ৭৬ ইঞ্চি এবং মিডওয়েতে ২ দশমিক ৯৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শিকাগো অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় মোট ২ থেকে ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। এই অতিবৃষ্টির কারণে শহরের জলাধারগুলোর ওপরও চাপ বেড়েছে। ম্যাককুক রিজার্ভয়ার প্রায় ৯৩ শতাংশ পূর্ণ হয়ে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন গ্যালন পানি ধারণ করছে। অন্যদিকে থর্নটন রিজার্ভয়ার ৪২ শতাংশ পূর্ণ হয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন গ্যালন পানি সংরক্ষণ করছে। ঝড়ের সময় ডাউনার্স গ্রোভ এলাকায় একটি পয়োনিষ্কাশন লাইনে কাজ করা এক ঠিকাদার নিখোঁজ হন। তার সঙ্গে থাকা আরেক কর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে পুলিশ, দমকল ও জরুরি উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের পর ২ হাজার ৩২২টি গাছ উপড়ে পড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এবং ৯৭৩টি গাছের ডালপালা সড়কে পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ৬২৩টি সড়কে জলাবদ্ধতা, ৪৭টি আন্ডারপাস প্লাবিত হওয়া, ৩১০টি ট্রাফিক সিগন্যাল বিকল হওয়া, ২২০টি সড়কবাতি নিভে যাওয়া, ১৬০টি বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ১১৬টি সড়কবাতির খুঁটি ভেঙে পড়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কমএড জানিয়েছে, ঝড়ে ৫ লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ হারান। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, বুধবার দুপুরের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহকের সংযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে এবং বাকি গ্রাহকদের শুক্রবার রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ঝড়ের প্রভাব শুধু বিদ্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এটিঅ্যান্ডটি জানিয়েছে, কুক ও ডুপেজ কাউন্টির কিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের আমেরিকান রেড ক্রস স্টেগার ও গার্নিতে দুটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। সেখানে মানুষ বিদ্যুৎ, খাবার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় না যাওয়া, ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুৎ লাইন থেকে দূরে থাকা এবং জলাবদ্ধ সড়কে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও চলমান বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অবস্থিত ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের নির্মাণকাজে বকেয়া বিল নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এই মেগা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আরও তিনটি সাবকন্ট্রাক্টর (উপ-ঠিকাদার) প্রতিষ্ঠান প্রায় ৯ লাখ ডলার বকেয়া পাওনার দাবিতে আইনি নোটিশ বা 'মেকানিক্স লিয়েন' দায়ের করেছে। মূলত নির্মাণকাজে বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য এই আইনি পদক্ষেপ একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। এর আগে মূল ক্যাম্পাসের কাজ নিয়ে এমন অভিযোগ উঠলেও, এবারের অভিযোগগুলো সেন্টারের 'হোম কোর্ট' নামক ৬০ হাজার বর্গফুটের বিশাল বাস্কেটবল ও ইভেন্ট সুবিধার নির্মাণকাজকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। পাওনাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কাঠামোগত স্টিলের কাজ করা 'এরিয়া ইরেক্টরস' প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং মাটি খনন ও কংক্রিটের কাজ করা 'সিএসআই ৩০০০' প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ডলার দাবি করেছে। অন্যদিকে, জিমনেশিয়ামের মেঝের কাজ করা 'ফ্লোরস ইনকর্পোরেটেড' প্রায় ২৫ হাজার ডলার পাওয়ার কথা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ওবামা ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে মূল ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ কাজ 'লেকসাইড অ্যালায়েন্স' করলেও, হোম কোর্টের নির্মাণের দায়িত্বে ছিল 'এলিভেট ডিজাইন বিল্ডার্স' নামের একটি পৃথক জয়েন্ট ভেঞ্চার। তবে সম্পত্তির ওপর এই লিয়েন দায়ের হলেও, বিল পরিশোধের আইনি দায়ভার ঠিক কোন কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এলিভেট কিংবা ওবামা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই মেগা প্রকল্পটির প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৩৫ কোটি ডলার, যা বর্তমানে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই ব্যয় বৃদ্ধি, চুক্তির নিয়মকানুন এবং বৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানামুখী আইনি জটিলতায় পড়েছে প্রকল্পটি। এর আগে কৃষ্ণাঙ্গ ঠিকাদারদের কয়েক মিলিয়ন ডলারের পাওনা, 'কংক্রিট কালেক্টিভ'-এর ৪০ মিলিয়ন ডলারের দাবি এবং 'অ্যাডামসন প্লাম্বিং'-এর প্রায় ৪০ লাখ ডলার লোকসানের জেরে কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছিল। এমনকি এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার আবেদনও করেছিল বলে জানা যায়। নতুন এই তিনটি দাবির পাশাপাশি আরও প্রায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের তিনটি পৃথক লিয়েন দায়েরের তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে সরঞ্জাম ভাড়ার জন্য 'ও'লিয়ারিস কন্ট্রাক্টরস', শ্রমিকদের সুবিধার তহবিলে 'সিমেন্ট মেসনস ইউনিয়ন ট্রাস্ট' এবং শ্রম ও কাঁচামাল সরবরাহের জন্য 'ইনটেক কনস্ট্রাকশন প্রোডাক্টস' তাদের বকেয়া দাবি করেছে। ইনটেক কনস্ট্রাকশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী সময়মতো বিল পরিশোধ না করায় এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রকল্পের অন্যতম মূল ঠিকাদার লেকসাইড অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শত শত প্রতিষ্ঠান এই মেগা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকায় উদ্বোধনের পরও চুক্তিভিত্তিক লেনদেন মেটানোর কাজ স্বাভাবিক গতিতেই চলমান রয়েছে এবং বকেয়া বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন শিকাগো এলাকার এক নারী। গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) হেফাজতে থাকা ওই নারীকে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবিসি৭ শিকাগোর অনুসন্ধানী বিভাগ আই টিম। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে তাকে ইলিনয়ের ব্রডভিউ আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে ইন্ডিয়ানার ব্রাজিল শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জায়গাটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ভিডিও কলে তিনি এবিসি৭ শিকাগোকে বলেন, “মানুষ তাদের বিড়াল-কুকুরেরও এর চেয়ে ভালো যত্ন নেয়। জায়গাটি এতটাই খারাপ ছিল যে এটি সম্ভবত বন্ধ করে দেওয়া উচিত।” বর্তমানে তিনি কেন্টাকির একটি আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। সেখানে একই কক্ষে আরও ১৩ জন নারীর সঙ্গে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একবারও তাজা ফল বা সবজি পাননি। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন, প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে খোলা বাতাসে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এদিকে তার স্বামী মার্ক গুল্ড একজন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি শিকাগো এলাকায় বসবাস করছেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বর্তমানে ৩০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব। সাম্প্রতিক এক ভিডিও কলে মার্ক গুল্ড বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি তার একটি বার্তার অপেক্ষায় থাকি। প্রথম মেসেজটি পেলেই কিছুটা স্বস্তি পাই।” বর্তমানে দম্পতির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেক্সট বার্তা এবং মাঝে মধ্যে বন্দিদের জন্য অনুমোদিত ভিডিও কল। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই নারী। তিনি বলেন, যেকোনো সময় তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তবে তিনি আশা হারাননি। তার ভাষায়, “সেই দিন আসবে। আমি জানি খুব শিগগিরই আসবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা আবার একসঙ্গে হব, আর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।” পরে প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই নারীর নাম এয়ারিদা গুল্ড। তিনি মূলত ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়ার নাগরিক। মার্কিন নাগরিক মার্ক গুল্ডকে বিয়ের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন এবং বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। সেই আবেদনের অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়েই তিনি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন। এবিসি৭ শিকাগোর প্রতিবেদনে তার আইনজীবী জানান, এয়ারিদা গুল্ডের অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। প্রতিবেদনে তাকে আটকের নির্দিষ্ট আইনি কারণ বা তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুটে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত গুলি চালানোর নয়; বরং অস্ত্রটি ধস্তাধস্তির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে যায়। ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি। শনিবার সকালে শহরের ৫৩০০ ব্লক সাউথ প্রিন্সটন অ্যাভিনিউ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শিকাগো পুলিশ জানায়, একটি ঘটনার তদন্তে গিয়ে কর্মকর্তারা এক ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি ধস্তাধস্তির সময় ছিটকে বা নড়ে গিয়ে গুলি ছোড়ে। এতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে। শিকাগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, কীভাবে অস্ত্রটি থেকে গুলি ছুটল এবং পুরো ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ জড়িত গুলির ঘটনার ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এই ঘটনাও স্বাধীন তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের আলামত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং সম্ভাব্য নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করবেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের নরউড পার্ক এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য শিশু প্রলুব্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ বিভাগ (সিপিডি)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ শিকাগো এবং শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরউড পার্ক এলাকার নর্থ নেপার অ্যাভিনিউয়ের ৬২০০ ব্লকে ঘটে। পুলিশ জানায়, ওই সময় ১৩ বছর বয়সী কিশোরীটি নিজের বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে ছিল। এ সময় একটি পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পোশাক পরা এক ব্যক্তি তার কাছে এসে কথা বলতে শুরু করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কিশোরীকে বলেন, সে চাইলে 'অতিরিক্ত কিছু অর্থ উপার্জন' করতে পারে। এরপর তিনি দাবি করেন, কীভাবে তা সম্ভব, সেটি তিনি নিজের মোবাইল ফোনে দেখাতে পারবেন। পরে কিশোরীকে তার সঙ্গে যাওয়ারও প্রস্তাব দেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কিশোরী কোনো কথায় সাড়া না দিয়ে দ্রুত বাড়ির ভেতরে চলে যায়। এতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। শিকাগো পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য শিশু প্রলুব্ধ করার ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি থেকে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি। তার মাথায় লম্বা ড্রেডলকস ধরনের চুল ছিল। ঘটনার সময় তিনি একটি পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীর পরিচয়ে সেখানে এসেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করছেন এবং ওই সময় এলাকায় থাকা সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলছেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে জনগণের সহযোগিতাও চেয়েছে পুলিশ। শিকাগো পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে এরিয়া-৫ গোয়েন্দা বিভাগে যোগাযোগ করতে অথবা পুলিশের নির্ধারিত অনলাইন টিপস পোর্টালের মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। ঘটনার পর অভিভাবকদের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা, অর্থ বা উপহারের প্রলোভনে সাড়া না দেওয়া এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো পুলিশ বিভাগে করোনা মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বরাদ্দ ফেডারেল ত্রাণ ঋণ কর্মসূচি থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার ঘটনায় আরও আটজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন এই সুপারিশের ফলে এখন পর্যন্ত মোট ৩৬ জন শিকাগো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে শিকাগো সিটির ইনস্পেক্টর জেনারেলের কার্যালয়। বুধবার প্রকাশিত ইনস্পেক্টর জেনারেল ডেভিড গ্লকনারের প্রথম ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে করোনাকালে ক্ষুদ্র ব্যবসাকে সহায়তার জন্য চালু করা ফেডারেল ‘পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম’ থেকে মোট ২ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৯ ডলার ঋণ গ্রহণ করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব কর্মকর্তা সরকারি নথিতে ভুয়া তথ্য প্রদান, আইন লঙ্ঘন এবং শিকাগো পুলিশ বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন করার মতো গুরুতর অসদাচরণে জড়িত। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ডেভিড গ্লকনার চলতি বছরের এপ্রিলে শিকাগোর ইনস্পেক্টর জেনারেলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে সাবেক ইনস্পেক্টর জেনারেল ডেবোরাহ উইৎজবার্গ পৃথক তদন্তে আরও ২৮ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই ধরনের ঋণ জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। সর্বশেষ আটজনকে যুক্ত করার পর মোট অভিযুক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। ইনস্পেক্টর জেনারেলের কার্যালয় সুপারিশ করেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি সিটির ‘ডু নট হায়ার’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে তারা আর কোনো সিটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেতে না পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিকাগো পুলিশ বিভাগ প্রাথমিকভাবে এই সুপারিশের সঙ্গে একমত হয়েছে। তদন্ত এখানেই শেষ নয়। ইনস্পেক্টর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, করোনা মহামারির সময় ফেডারেল ত্রাণ তহবিল অবৈধভাবে গ্রহণের অভিযোগে আরও কয়েক ডজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সিটি কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ফেডারেল সরকার ‘পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম’ চালু করেছিল। তবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য দিয়ে এই ঋণ নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিকাগো পুলিশের এই ঘটনাও সেই বৃহৎ জালিয়াতির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কানাডার দক্ষিণাঞ্চলে চলমান বড় বড় দাবানলের ধোঁয়া এবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। বুধবার রাত থেকে উত্তর-পূর্ব দিকের বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় দাবানলের ধোঁয়া ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বৃহস্পতিবার উত্তর ইলিনয়, বিশেষ করে শিকাগো মহানগর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধোঁয়া দৃশ্যমান হতে শুরু করবে এবং বিকেলের দিকে আকাশ আরও ধোঁয়াটে হয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি শুক্রবার পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ধোঁয়ার কারণে সূর্যালোক কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য কম থাকতে পারে। তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচের দিকে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বুধবার রাত ১০টার পর থেকেই ধোঁয়া ধীরে ধীরে অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার পর শিকাগো এলাকায় এর প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বায়ুর মান নিয়ে সতর্কতা (এয়ার কোয়ালিটি অ্যালার্ট) জারি করতে পারে। যদিও ধোঁয়ার বড় অংশ বায়ুমণ্ডলের উঁচু স্তরে থাকার কথা, তবুও এর একটি অংশ নিচের স্তরে নেমে এলে সাধারণ মানুষ ধোঁয়ার গন্ধ অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে হাঁপানি, সিওপিডি বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডার ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী দাবানলের কারণে গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ধোঁয়ার প্রভাব প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাতাসের দিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই ধোঁয়া পুরোপুরি সরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের আগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। স্থানীয় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে হালনাগাদ সতর্কতা প্রকাশ করা হবে। এ সময় শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ব্যাক অব দ্য ইয়ার্ডস কমিউনিটি এলাকার একটি গলি থেকে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ওয়েস্ট ৫৪ নম্বর স্ট্রিটের ৭০০ ব্লকের পেছনে এবং এমেরাল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি আবর্জনার পাত্রের ভেতর থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশটিতে ইতিমধ্যে পচন ধরেছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রবিবার সকাল পর্যন্ত এই নারীর পরিচয় কিংবা কীভাবে বা কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো সম্ভব হয়নি। এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ওয়েন্টওয়ার্থ এলাকার গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ওয়েস্ট সাইডের সাউথ অস্টিন এলাকায় রবিবার ভোরে এক কিশোরকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শিকাগো পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বন্দুকহামলার ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাত ১টা ২৩ মিনিটে, সাউথ অস্টিন এলাকার লোটাস অ্যাভিনিউয়ের কাছে ওয়েস্ট ভ্যান ব্যুরেন স্ট্রিটের ৫৫০০ ব্লকে। সেখানে চৌদ্দ বছর বয়সী ওই কিশোর যখন একটি খোলা জায়গায় অবস্থান করছিল, তখন আকস্মিকভাবে তাকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি গুলি চালানো হয়। এতে সে একাধিক স্থানে বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আক্রান্ত কিশোর নিজেই কোনোভাবে নিকটবর্তী লরেটো হাসপাতালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুক কাউন্টির স্ট্রোজার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে, বর্তমানে হাসপাতালে ওই কিশোরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এই ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে এই কিশোরকে লক্ষ্য করে কেন এবং কারা এই গুলিবর্ষণ করেছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। পুরো ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে হ্যারিসন এলাকার গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। রবিবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে আতশবাজির উৎসব চলাকালে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। শিকাগোতে অবতরণের প্রস্তুতির সময় ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে আতশবাজির আঘাত লাগে। তবে পাইলটের দক্ষতায় উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং এতে থাকা ৫২ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু সদস্যের কেউ আহত হননি। বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার রাতে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১০৭৬ জর্জিয়ার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে ইলিনয়ের শিকাগো মিডওয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। স্থানীয় সময় রাত প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি একটি আতশবাজির সংস্পর্শে আসে। ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একজন মুখপাত্র জানান, অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি সম্ভবত একটি আতশবাজির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপরও বিমানটি নিরাপদে রানওয়েতে অবতরণ করে এবং নিজস্ব শক্তিতে গেট পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিওতেও ঘটনাটির উল্লেখ রয়েছে। সেখানে পাইলট বলেন, "আমাদের উড়োজাহাজে একটি আতশবাজি আঘাত করেছে। প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় আমরা একটি বড় ধাক্কা অনুভব করেছি। আশা করছি এটি নিচ থেকে ছোড়া একটি মর্টার ধরনের আতশবাজি ছিল।" ঘটনার আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা পাইলটকে জানান, বিমানবন্দরের অবতরণপথের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি বাড়ি থেকে আতশবাজি ছোড়া হচ্ছে এবং এ ধরনের একাধিক অভিযোগ ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি শিকাগো পুলিশকে জানানো হয়েছে। শিকাগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজের বাইরের অংশের রঙের সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অন্যদিকে ডেল্টা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, অবতরণের পর এয়ারবাস এ৩১৯ উড়োজাহাজটি বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। এতে কাঠামোগত বা নিরাপত্তাজনিত কোনো ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-ও ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রতিবছর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বড় আকারে আতশবাজির প্রদর্শনী হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিপুল পরিমাণ আতশবাজি ফোটানো হয়, যা অনেক সময় পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই পরিচালিত হয়। এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন শহরে বিশেষ আয়োজন করা হয়। ওয়াশিংটন ন্যাশনাল মলে ৪০ মিনিটব্যাপী আতশবাজির প্রদর্শনীর জন্য কাছাকাছি রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টার জন্য উড়োজাহাজ চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর উত্তর লেকফ্রন্ট এলাকায় চলন্ত বাসের ভেতর একদল নারীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। গত ৪ জুলাই (শনিবার) রাতে শিকাগো ট্রানজিট অথরিটি (সিটিএ)-র একটি বাসে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ১৮ মিনিটে এজওয়াটার এবং আপটাউন এলাকার সংযোগস্থল মেরিন ড্রাইভের কাছে ফস্টার এভিনিউতে বাসটি চলার সময় এই ঘটনা ঘটে। বাসের ভেতরে ৩৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির সাথে তিন নারীর তীব্র তর্কাতর্কি ও মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই নারীদের মধ্যে একজন ধারালো বস্তু বের করে ওই ব্যক্তির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওই ব্যক্তির কান ও বুক কেটে যায়। ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে অ্যাডভোকেট ইলিনয় ম্যাসনিক মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। এদিকে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত তিন নারী বাস থেকে নেমে ফস্টার এভিনিউ ধরে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যায়। রবিবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। শিকাগোর বেলমন্ট এরিয়া ডিটেকটিভরা বাসের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।