যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে এক ভয়াবহ ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে অ্যাপার্টমেন্টে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে বাড়িওয়ালার কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি এক ভাড়াটিয়া। শেষ পর্যন্ত এর চড়া মূল্য দিতে হলো তাকে। নিজের ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ইঁদুরের আক্রমণের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে রজার্স পার্ক কমপ্লেক্সের একটি ফ্ল্যাটে। ভুক্তভোগী হেরিবার্তো হার্নান্দেজ জানান, কর্মব্যস্ত দিন শেষে রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন তিনি। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাত মুখের ওপর কিছু একটার উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি জেগে ওঠেন এবং দেখেন ইঁদুরগুলো তার মুখের চামড়া চিবিয়ে খাচ্ছে। দ্রুত ইঁদুরগুলোকে সরিয়ে ফেললেও ততক্ষণে তার কপাল ও চোখের চারপাশ কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছিল সেগুলো।
গুরুতর আহত অবস্থায় হার্নান্দেজকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ইনজেকশন ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। হার্নান্দেজ স্থানীয় একটি ভাড়াটিয়া ইউনিয়নের সদস্য। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ইঁদুর ও তেলাপোকার উপদ্রব থাকলেও ভবন কর্তৃপক্ষ তা সমাধানে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি।
এদিকে ভবন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান 'আর্ক ম্যানেজমেন্ট' জানিয়েছে, তারা ভবনের উন্নয়নে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। তাদের দাবি, ভাড়াটিয়া গত ৮ মাস ধরে ভাড়া পরিশোধ করছেন না এবং তাকে একাধিকবার নতুন ফ্ল্যাটে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। এটি একটি পরিকল্পিত উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে বলে তাদের ভাষ্য।
তবে ভাড়াটিয়াদের পক্ষের আইনজীবীরা সাফ জানিয়েছেন, ভাড়া বকেয়া থাকা বা উচ্ছেদ মামলা চলা মানেই বাড়িওয়ালার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যেকোনো পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়ার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা বাড়িওয়ালার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আধুনিক যুগের শহরে এমন ঘটনা চরম অবহেলার প্রতীক বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যব্যাপী ব্যালট প্রস্তাবের ওপর ভোট দেবেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বিলিয়নিয়ারদের ওপর নতুন কর, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু নীতি, ভোটার পরিচয় যাচাই, নির্বাচনী অর্থায়ন এবং করব্যবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তন। প্রস্তাবগুলোর ফলাফল ক্যালিফোর্নিয়ার করনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যালট প্রস্তাবগুলোতে কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী কর পরিকল্পনা, আবাসন ও চিকিৎসা গবেষণায় বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন, পরিবেশগত পর্যালোচনার সময়সীমা কমানো এবং ভোট ও নির্বাচনী অর্থায়ন ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবগুলোর একটি হলো বিলিয়নিয়ার কর। এতে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০০ জন বিলিয়নিয়ারের সম্পদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। পাঁচ বছরে এই কর আদায় করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আদায়ের বেশির ভাগ অর্থ নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় হবে। বাকি অর্থ শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হবে। এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে এসইআইইউ ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ওয়েস্ট, মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, টিমস্টার্স ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। অন্যদিকে গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সের্গেই ব্রিন ও ক্রিস লারসেন, ক্যালিফোর্নিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্যালিফোর্নিয়া টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন এর বিরোধিতা করছে। আরেকটি প্রস্তাবে নতুন কর থেকে প্রাপ্ত অর্থের বাধ্যতামূলক নিরীক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সেই অর্থ অঙ্গরাজ্যের ব্যয় সীমা নির্ধারণের নিয়মের আওতায় আনা হবে। বিলিয়নিয়ার কর প্রস্তাবের সঙ্গে এটি একসঙ্গে পাস হলে যে প্রস্তাব বেশি ভোট পাবে, সেটিই কার্যকর হবে। আরেকটি প্রস্তাবে ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর নতুন কর এবং অতীত থেকে কার্যকর (রেট্রোঅ্যাকটিভ) কর আরোপ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মূলত বিলিয়নিয়ার কর বাস্তবায়ন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর বর্তমানে যে অতিরিক্ত আয়কর রয়েছে, সেটিকে ২০৩১ সালের পরও স্থায়ী করার প্রস্তাবও ব্যালটে রয়েছে। এ কর ব্যক্তি পর্যায়ে বছরে ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং দম্পতিদের ক্ষেত্রে ৭ লাখ ২১ হাজার ডলারের বেশি আয়ের ওপর প্রযোজ্য। এই অর্থ সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজে ব্যয় করা হয়। স্থানীয় বিশেষ কর অনুমোদনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে স্থানীয় বিশেষ কর অনুমোদন সম্ভব হলেও নতুন প্রস্তাবে তা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। আবাসন সংকট মোকাবিলায় ১১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড অনুমোদনের প্রস্তাবও রয়েছে। এ অর্থ সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ, সংস্কার, বিদ্যমান আবাসন সংরক্ষণ এবং প্রবীণ সেনাসদস্যদের আবাসন সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্র-সমর্থিত মর্টগেজ সহায়তা কর্মসূচির প্রস্তাব আনা হয়েছে। যোগ্য ক্রেতারা বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা পাবেন। তবে তাদের অন্তত ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। ব্যালটে থাকা অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের জরুরি তহবিলের সীমা বৃদ্ধি, আবাসন ও অবকাঠামো প্রকল্পে পরিবেশগত পর্যালোচনার সময়সীমা কমানো, সরাসরি ভোটের ক্ষেত্রে সরকারি পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা, ডাকযোগে ভোটে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই, নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি অর্থায়নের সুযোগ এবং গভর্নরসহ নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার (রিকল) নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তন। এই ১৪টি প্রস্তাবের ওপর ভোটের ফলাফল ক্যালিফোর্নিয়ার করনীতি, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে এক ভয়াবহ ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে অ্যাপার্টমেন্টে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে বাড়িওয়ালার কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি এক ভাড়াটিয়া। শেষ পর্যন্ত এর চড়া মূল্য দিতে হলো তাকে। নিজের ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ইঁদুরের আক্রমণের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে রজার্স পার্ক কমপ্লেক্সের একটি ফ্ল্যাটে। ভুক্তভোগী হেরিবার্তো হার্নান্দেজ জানান, কর্মব্যস্ত দিন শেষে রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন তিনি। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাত মুখের ওপর কিছু একটার উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি জেগে ওঠেন এবং দেখেন ইঁদুরগুলো তার মুখের চামড়া চিবিয়ে খাচ্ছে। দ্রুত ইঁদুরগুলোকে সরিয়ে ফেললেও ততক্ষণে তার কপাল ও চোখের চারপাশ কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছিল সেগুলো। গুরুতর আহত অবস্থায় হার্নান্দেজকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ইনজেকশন ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। হার্নান্দেজ স্থানীয় একটি ভাড়াটিয়া ইউনিয়নের সদস্য। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ইঁদুর ও তেলাপোকার উপদ্রব থাকলেও ভবন কর্তৃপক্ষ তা সমাধানে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি। এদিকে ভবন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান 'আর্ক ম্যানেজমেন্ট' জানিয়েছে, তারা ভবনের উন্নয়নে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। তাদের দাবি, ভাড়াটিয়া গত ৮ মাস ধরে ভাড়া পরিশোধ করছেন না এবং তাকে একাধিকবার নতুন ফ্ল্যাটে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। এটি একটি পরিকল্পিত উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে বলে তাদের ভাষ্য। তবে ভাড়াটিয়াদের পক্ষের আইনজীবীরা সাফ জানিয়েছেন, ভাড়া বকেয়া থাকা বা উচ্ছেদ মামলা চলা মানেই বাড়িওয়ালার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যেকোনো পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়ার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা বাড়িওয়ালার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আধুনিক যুগের শহরে এমন ঘটনা চরম অবহেলার প্রতীক বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ না করলেও গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইসরায়েলের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার আলোকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। প্রস্তাবের বিষয়বস্তু থেকে ইঙ্গিত মিলছে, গাজায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে এই শান্তি উদ্যোগে লিখিত সম্মতি বা আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর চাইছে, যাতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা যায়। মার্কিন পরিকল্পনায় গাজার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা পুনরায় চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে এসব খাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, যা গাজার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সরকার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় টানা সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক মহলে পুনর্গঠন নিয়ে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে দ্রুত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার জরুরি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে অচলাবস্থা থাকলেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলেছে, অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা ছাড়া এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কূটনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।