যুক্তরাষ্ট্রে ১৫টি মাকড়সার কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নারী, স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী
পরিবারের সবাইকে নিয়ে লেকের ধারে গ্রীষ্মকালীন তাঁবু খাটিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দে হঠাৎ নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও চার সন্তানের জননী ব্রিটেনি মিলার এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়ে অন্তত ১৫টি বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং পরিবারের তৈরি করা একটি অনুদান সংগ্রহের পাতায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত মে মাসের শেষের দিকে কানসাসের উইচিতা শহর থেকে ৩৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত চিনি স্টেট পার্কে ক্যাম্পিংয়ে যায় মিলার পরিবার। রাতের বেলা ক্যাম্পফায়ারের পাশে বসে থাকার সময় হঠাৎ ব্রিটেনি টের পান তার কাপড়ের ভেতর ও পায়ে একাধিক মাকড়সা উঠে এসেছে। মাকড়সার ভয়ে আতকে ওঠার আগেই অন্তত ১৫টি মাকড়সা তার পায়ের দুই পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে দংশন করে।
ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর থেকে ব্রিটেনির ডান পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। সেই ব্যথাকে তিনি তীব্র ছুরিকাঘাতের অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে ৪ জুন তাকে উইচিতার ওয়েসলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, মাকড়সার কামড়ের স্থানে বিষক্রিয়া থেকে তার পায়ের মাংসপেশিতে বিশালাকার রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপিণ্ড তৈরি হয়েছে। জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণ ও সংক্রমিত স্থান পরিষ্কার করতে জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।
তবে অস্ত্রোপচারটি চিকিৎসকদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ব্রিটেনি দীর্ঘদিন ধরে যকৃৎ বা লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন, যা শেষ ধাপে পৌঁছে গিয়েছিল। একই সঙ্গে তার রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত দুটি বিরল শারীরিক জটিলতাও ছিল। ফলে অস্ত্রোপচার করতে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার প্রাণহানির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা দুই সপ্তাহের মাথায় আশা ছেড়ে দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তার হাতে হয়তো আর মাত্র কয়েক দিন থেকে সর্বোচ্চ এক মাসের আয়ু বাকি রয়েছে।
চিকিৎসকদের এই পূর্বাভাস সত্ত্বেও ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সী চার সন্তান ও স্বামীর মুখে চেয়ে লড়াই থামাননি ব্রিটেনি। তিনি চিকিৎসকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে পরিবারের জন্য তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন। টানা ১০ দিন মেডিকেল আইসিইউ এবং পরবর্তীতে কার্ডিও আইসিইউতে রেখে তাকে রক্ত, প্লাজমা, অণুচক্রিকা ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
কঠিন চিকিৎসাপদ্ধতি অতিক্রম করে শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও নতুন করে এক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তার অস্ত্রোপচারের স্থানে ব্যাকটেরিয়াজনিত চরম সংক্রমণ দেখা দেয়, যার ফলে সেখানের টিস্যু বা তন্তুর মৃত্যু ঘটতে শুরু করে। পচে যাওয়া চামড়া ও মাংস ফেলে দিতে শয্যাশায়ী অবস্থাতেই তার শরীরে আরও দুটি অস্ত্রোপচার চালাতে হয়। বর্তমানে ব্রিটেনির বেঁচে থাকার জন্য জরুরিভিত্তিতে যকৃৎ প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, তবে সেই বড় অস্ত্রোপচারের জন্য তার শরীর উপযোগী হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানবিক সংকটে পরিবারটিতে আর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। অসুস্থ স্ত্রীর পাশে সারাক্ষণ হাসপাতালে অবস্থান করার কারণে চাকরি হারিয়েছেন তার স্বামী জেইক মিলার। উপার্জন ও স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে চার সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসার খরচ জোগাতে জেইক মিলার সাধারণ মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
চিকিৎসকদের ধারণামতে, তাকে কামড়ানো মাকড়সাগুলো কানসাস অঞ্চলে পাওয়া যাওয়া অত্যন্ত বিষাক্ত 'ব্রাউন রিক্লুস' প্রজাতির হতে পারে। আকারে অত্যন্ত ছোট এই মাকড়সার বিষ মানবদেহে প্রবেশ করলে চামড়ায় পচন এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreদক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বাবা-মাকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের সালিশি শুনানি শেষে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ. স্টোন উবার ও চালক ভু ট্রানকে ওই ঘটনায় যৌথভাবে দায়ী করেন। নিহত এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা ক্যারল নরম্যান্ডিন ও মা কেন পার্কারকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট। এমিলি তার বন্ধু লুনা মুরের সঙ্গে রাতে বাইরে যাওয়ার পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। যাত্রাপথে মুর অসুস্থ হয়ে পড়লে চালক ভু ট্রান অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩-এর একটি ‘গোর পয়েন্টে’ গাড়ি থামান। এটি মহাসড়কের মূল সড়ক ও অফ-র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির একটি অংশ। সালিশি রায়ে বিচারক স্টোন ওই জায়গাটিকে ‘অনিরাপদ ও অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ডের প্রস্থানপথ ব্যবহার করে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে পারতেন। রায়ে আরও বলা হয়, ট্রান জানতেন দুই যাত্রীই মদ্যপ ছিলেন। গাড়ি পরিষ্কারের খরচ নিয়ে মুরের সঙ্গে তার বিরোধের পর তিনি তাদের ওই স্থানে নামিয়ে দেন। এরপর এমিলি মহাসড়কের মূল সড়কে চলে যান এবং একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। সালিশি রায়ে বলা হয়েছে, জিপিএস তথ্য অনুযায়ী ট্রান সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় এমিলির মরদেহের কাছ দিয়ে যান। এরপর পরবর্তী প্রস্থানপথ দিয়ে মহাসড়ক থেকে বের হয়ে তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গাড়ি পরিষ্কারের খরচ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। বিচারক স্টোন ট্রানের সাক্ষ্য নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। সালিশি রায়ে তার বক্তব্যকে প্রায় সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিচারকের মতে, ট্রান যাত্রীদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজের নতুন গাড়ি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। একই সঙ্গে তার কাছে দুই নারীকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। এমিলির পরিবারের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সালিশি শুনানিতে ট্রানের আগের আচরণ নিয়েও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তাদের দাবি, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে উবারের কাছে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ছিল। একজন যাত্রী তার সঙ্গে হওয়া যাত্রাকে নিজের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে অনিরাপদ যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আরেকজন অভিযোগ করেছিলেন, ট্রান গাড়ি চালাতে পারেন না। এমিলির বাবা কেন পার্কার অভিযোগগুলোর মধ্যে একমুখী সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অনিয়মিতভাবে গাড়ি চালানো এবং পথচারীদের প্রায় ধাক্কা দেওয়ার মতো আচরণের কথা উল্লেখ করেন। তবে উবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রান এখন আর তাদের প্ল্যাটফর্মে চালক হিসেবে কাজ করেন না। পাঁচ দিনের সালিশি প্রক্রিয়া শেষে এমিলির বাবা ও মাকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় তার বন্ধু লুনা মুরকে ৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সালিশি রায়ে উবারকে চালক ট্রানের অবহেলার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করা হয়। উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি মূলত যাত্রী ও চালকদের সংযোগকারী একটি প্রযুক্তি কোম্পানি। তবে বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে বলা হয়, উবার অ্যাপের মাধ্যমে পরিবহনসেবা দেয়, ভাড়া নির্ধারণ করে এবং যাত্রীদের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘প্রপোজিশন ২২’ নিয়েও উবারের যুক্তি ছিল। ২০২০ সালে অনুমোদিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যাপভিত্তিক চালকদের কর্মচারীর পরিবর্তে স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সালিশি বিচারক মনে করেন, এই বিধান ট্রানের আচরণের জন্য উবারকে দায়মুক্তি দেয় না। উবার এক বিবৃতিতে এমিলির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কোনো পরিবারেরই সন্তান হারানোর কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। তবে উবার একই সঙ্গে জানিয়েছে, সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও প্রতিষ্ঠানটিকে ওই ঘটনার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। উবার আরও জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন প্রযুক্তি, নীতিমালা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে এমিলির বাবা-মা মেয়ের মৃত্যুর পর তার স্মরণে ‘এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাইডশেয়ারিং সেবায় যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং করপোরেট জবাবদিহি নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই ফাউন্ডেশনটি গঠন করা হয়েছে। সালিশি মামলায় পাওয়া অর্থের একটি অংশ এই উদ্যোগে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এমিলি ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। মেয়েকে স্মরণ করে তার মা জানিয়েছেন, এমিলির হাসি ছিল সংক্রামক। পরিবার জানিয়েছে, তিনি ছিলেন হাসিখুশি এবং গান গাইতে ভালোবাসতেন। সূত্র: গুড মর্নিং আমেরিকা
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় আবার স্যাট ফেরানোর বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের ‘বেসিক গণিত’ নিয়ে প্রশ্ন
ইন-এন-আউটে স্টোর ম্যানেজারদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি! রয়েছে সুবিধাও
ফিলাডেলফিয়ায় কুখ্যাত পর্নোগ্রাফারের বাড়িতে বিপুল ভিডিও, নিখোঁজ ৭ নারীকে ঘিরে তদন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে এক ভেনেজুয়েলীয় অভিবাসীকে গুলি করে আহত করার অভিযোগে আইসিই এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার মিনেসোটা ব্যুরো অব ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশনের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন। গত জানুয়ারির ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হামলা এবং তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান ঘিরে মিনেসোটায় তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে আলোচিত হয়ে ওঠে। মিনেসোটা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলাকালে ২৪ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলীয় নাগরিক হুলিও সিজার সোসা-সেলিসের বাড়ির বন্ধ দরজা দিয়ে গুলি চালান কাস্ত্রো। গুলিতে সোসা-সেলিসের পায়ে আঘাত লাগে। ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে শিশুরাও ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর কাস্ত্রো দাবি করেন, সোসা-সেলিস ও আরও কয়েকজন তাকে ঝাড়ুর হাতল এবং তুষার সরানোর বেলচা দিয়ে আক্রমণ করেছিলেন। আত্মরক্ষার কারণেই তিনি গুলি চালিয়েছেন বলে তার পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়। তবে পরে প্রকাশিত নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে তার বর্ণনার সঙ্গে ঘটনাস্থলের দৃশ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ভিডিওতে কথিত ঝাড়ু ও বেলচা দিয়ে তাকে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়নি। এরপর তদন্তকারীদের কাছে কাস্ত্রোর দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মিনেসোটায় তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর কাস্ত্রো টেক্সাসে চলে যান। তাকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে জটিল হয়ে পড়ে। তিনি প্রায় ৯০ দিন টেক্সাসের একটি কারাগারে ছিলেন এবং গত আগস্টে মুক্তি পান। মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ তাকে অঙ্গরাজ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট তাকে হস্তান্তরের অনুমোদন দেননি। পরে বিষয়টি ফেডারেল পর্যায়ের তদন্তেও গড়ায়। ফেডারেল মামলায় কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে তদন্তের সময় তিনি এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ফেডারেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এটি ছিল ওই অভিযানের পর প্রথম ফেডারেল প্রসিকিউশনের ঘটনা। বৃহস্পতিবার মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি আদালতে কাস্ত্রোর প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য মামলায় তার জামিন ৪ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ২ লাখ ডলারে জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরে তাকে ফেডারেল আদালতেও হাজির করা হবে। কাস্ত্রো এখনো তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে দোষ স্বীকার করেননি। কাস্ত্রোর আইনজীবী রোলান্ডো ক্যান্টু এর আগে বলেছিলেন, তার মক্কেল মিনেসোটায় ফিরে এসে অভিযোগের মুখোমুখি হতে চান এবং আদালতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ চান। অন্যদিকে হেনেপিন কাউন্টির প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মামলাটি মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন অভিযান নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ওই অভিযানের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন তদন্ত, মামলা ও বিক্ষোভ হয়েছে। কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে আনা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সামনে এগোবে। আদালতে প্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই গুলি চালানোর ঘটনা এবং তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তার বক্তব্যের আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের এখন বসবাস টেনেসির এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে
নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খাবারের শহর হলো নিউ অরলিন্স
ফ্লোরিডায় ছুরি হাতে কুকুর ও তার মালিকের ওপর কাঁকড়ার হামলা
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় প্রথমবারের মতো বছরে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির উপাসনালয়, স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ও অন্যান্য ইহুদি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার পেছনে আনুমানিক ১ দশমিক ০১৫ বিলিয়ন ডলার বা ১০১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার নতুন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় ছিল প্রায় ৭৬৫ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। নতুন হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইহুদি সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যয় বিবেচনা করা হয়েছে। গড়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে নিরাপত্তায় প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে নিরাপত্তাকর্মী ও নিরাপত্তা পরিচালনায়। পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি ব্যবস্থা, ক্যামেরা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তি স্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ যাচ্ছে। ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার হিসাবে নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও ভবনের নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে এই হিসাবের মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ইহুদি ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যেমন ইহুদি মালিকানাধীন খাবারের দোকান, বাজার, ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান ও বইয়ের দোকানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় এতে ধরা হয়নি। ফলে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় মোট ব্যয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে। নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা নিয়ে উদ্বেগেরও সম্পর্ক রয়েছে। ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকা বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুমকি ও সহিংসতার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তায় বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী এরিক ফিঙ্গারহাট বলেছেন, নিরাপত্তায় ব্যয় করা প্রতিটি ডলার ইহুদি শিক্ষা, প্রবীণদের সহায়তা ও অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে ব্যয় করার সুযোগ কমিয়ে দেয়। এফবিআইয়ের ২০২৫ সালের বিদ্বেষমূলক অপরাধের তথ্যেও ইহুদিদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই বছর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিদ্বেষমূলক অপরাধের ৬৪ শতাংশ ইহুদিদের লক্ষ্য করে হয়েছিল। দেশটির জনসংখ্যায় ইহুদিদের অংশ প্রায় ২ শতাংশ হলেও ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধে তারা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠী ছিল। এই পরিস্থিতিতে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইহুদি ধর্মীয় বর্ষের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোতে সিনাগগ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়ে। ফলে এসব সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। নিউইয়র্কেও ইহুদিবিদ্বেষী অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে শহরে নিশ্চিত হওয়া ইহুদিবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যা ছিল ২২৯টি, যা আগের বছরের একই সময়ের ২১২টির তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এসব অপরাধ শহরের মোট নিশ্চিত হওয়া বিদ্বেষমূলক অপরাধের ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও চলতি বছর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে ৭০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ অর্থ ২৯০টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় ভবনের নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কর্মী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একটি বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। তবে ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তা এখন তাদের সাম্প্রদায়িক কার্যক্রমের একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকা, ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।
ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নিহত তিন সন্তানের মা
ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার