সামরিক সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা কমানোর প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন যেসব ডেমোক্র্যাটরা

ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৩৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে প্রত্যাখ্যাত হলেও ভোটের ফলাফল নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসির আনা সংশোধনীতে ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট সমর্থন জানালেও ৯৮ জন বিপক্ষে ভোট দেন এবং ১০ জন ‘উপস্থিত’ ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ১০৪-৩১৪ ভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হয়।   বুধবারের এই ভোটে দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলটির নেতাদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস সংশোধনীর বিরোধিতা করলেও ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এর পক্ষে ভোট দেন।    কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসির প্রস্তাবটি ২০২৭ অর্থবছরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এতে ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত ৩৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পাশাপাশি ওই অর্থ বিদেশি সামরিক অর্থায়ন খাত থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রস্তাবটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নিরাপত্তা সহায়তা কাঠামোর আওতায় দেওয়া নিয়মিত বার্ষিক সামরিক সহায়তায় বড় পরিবর্তন আসত।   ভোটের ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটই এবার ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। যদিও প্রস্তাবটি পাস হয়নি, দলটির ভেতরে ইসরায়েল ইস্যুতে দীর্ঘদিনের ঐকমত্য যে আর আগের মতো নেই, তা এই ভোটে স্পষ্ট হয়েছে।   গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ার বিষয়টিও সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। মে মাসে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের এক জরিপে ৭৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার ইসরায়েলকে আরও সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেন। মাত্র ৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট অতিরিক্ত সহায়তার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানান। একই জরিপে প্রায় অর্ধেক সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ভোটার মনে করেন, দলটি ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত সমর্থন দেখাচ্ছে।   ম্যাসির সংশোধনীকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানও ছিল ব্যাপকভাবে বিভক্ত। পিট আগুইলার, জেমস ক্লাইবার্ন, হাকিম জেফরিস, গ্রেগরি মিক্স, রিচি টরেস, ডেবি ওয়াসারম্যান শুল্টজসহ বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট এর বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ক্যাথরিন ক্লার্ক ও সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ শতাধিক ডেমোক্র্যাট ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেন। আরও ১০ জন ডেমোক্র্যাট ভোট দেন ‘উপস্থিত’ হিসেবে।    তবে এই ভোটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। সংশোধনীটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস না হওয়ায় ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক সামরিক সহায়তা বহাল রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই ভোটকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে চলমান পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   গাজা যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। বুধবারের ভোট সেই বিতর্ককে কংগ্রেসের মেঝেতে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে—যেখানে একসময় ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রায় অভিন্ন অবস্থান দেখা গেলেও এখন দলটি প্রকাশ্যেই দুই ভিন্ন শিবিরে  বিভক্ত।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাট ঐক্য, বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ইসরায়েলের জন্য দেওয়া বার্ষিক ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসির উত্থাপিত একটি সংশোধনী প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে তীব্র হয়েছে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি গ্রেগ ক্যাসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেন, গাজায় ইসরায়েলি সরকার যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে সহায়তা করেছে। তাঁর ভাষায়, মার্কিন জনগণের অর্থ দিয়ে আর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের জন্য অস্ত্র কেনা উচিত নয়।   ক্যাসার জানান, কংগ্রেসে উত্থাপিত সংশোধনী প্রস্তাবটির পক্ষে তিনি ভোট দেবেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসির প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থায়ন বিলের আওতায় ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দ রাখা সব অর্থও বাতিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।   নেতানিয়াহু সরকারের গাজা অভিযান এবং ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলছে।   এদিকে গত মাসে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী এড গ্যালরেইনের কাছে পুনর্নির্বাচনে পরাজিত হন। ম্যাসিকে পরাজিত করতে পরিচালিত নির্বাচনী প্রচারণাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাইমারি নির্বাচনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে হারাতে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়। এর বেশির ভাগ অর্থ এসেছে ইসরায়েলপন্থি সংগঠন এবং ট্রাম্প-সমর্থিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে। ম্যাসির প্রস্তাবিত সংশোধনীটি চলতি সপ্তাহেই মার্কিন কংগ্রেসে ভোটের জন্য উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতিকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Unknown জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ অস্ত্র কি মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে? মার্কিন মজুত সংকট নিয়ে উদ্বেগ

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের মজুত নিয়ে চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ কিছু অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।   তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরের আলোচনায় থাকা এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর গত চার সপ্তাহে ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে বিপুল পরিমাণ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ। ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র—অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব অস্ত্র মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো-এর একটি কর্মসূচির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মিত্রদেশগুলো ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র কিনে থাকে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সামরিক সহায়তার বড় অংশ সীমিত করলেও ‘ইউক্রেনের অগ্রাধিকারমূলক তালিকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অংশের গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে।   এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুইজন ইউরোপীয় কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে দ্রুতগতিতে গোলাবারুদ ব্যবহার করছে, তাতে ইউরোপের নিজস্ব অস্ত্র সরবরাহও বিলম্বিত হতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে চলমান সরঞ্জাম সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   রাশিয়ার হামলার মুখে ইউক্রেনের জন্য এই আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হলে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি—এই অস্ত্রগুলো পরে সরবরাহ করা হবে, নাকি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি সামরিক প্রয়োজন দেখা দিলে পেন্টাগন সরবরাহের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে পারে।   এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০