সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়

নব্বইয়ের দশকে বিটিভির মঞ্চ কাঁপানো সেই কিশোরী বিতার্কিক রেবেকা শাফি আজ সফল এক বিজ্ঞানী। ছবি: সংগৃহীত
বিটিভির বিতর্কের মঞ্চ থেকে হার্ভার্ড হয়ে মস্তিষ্ক গবেষণায় রেবেকা

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার মঞ্চে কিশোরী রেবেকা শাফির যুক্তি, বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য ও সাবলীল উপস্থাপনা নজর কেড়েছিল। কয়েক দশক পর সেই সময়ের একটি বিতর্কের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। ছোটবেলার সেই বিতার্কিক রেবেকাই পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে এখন মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স নিয়ে গবেষণা করছেন।   বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা রেবেকা নিজের পরিচিতিতে জানিয়েছেন, একই সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এসএসসি ও এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ও এবং এ লেভেল সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।   ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অর্থাৎ ক্যালটেকে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন রেবেকা। তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার পয়েন্টের মধ্যে চার পয়েন্ট সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।   ক্যালটেকের পর তাঁর একাডেমিক যাত্রা এগিয়ে যায় বোস্টনে। সেখানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন রেবেকা। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ব্ল্যাক হোল, বিশেষ করে ব্ল্যাক হোলের ঘূর্ণন বা স্পিন।   পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের এই দীর্ঘ একাডেমিক পথ পেরিয়ে পরবর্তী সময়ে গবেষণার ক্ষেত্র বদলান তিনি। মানুষের মস্তিষ্ক ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন রেবেকা।   বর্তমানে তাঁর নিজের পরিচিতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথে গবেষণা ফেলো হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র নিউরোসায়েন্স ও মানব জেনেটিক্সের সংযোগস্থলে। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি।   রেবেকার এই পথচলায় তাই একের পর এক বদল এসেছে জ্ঞানের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশের স্কুল বিতর্কের মঞ্চ থেকে ক্যালটেকে পদার্থবিজ্ঞান, এরপর হার্ভার্ডে ব্ল্যাক হোল নিয়ে গবেষণা এবং এখন মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স নিয়ে কাজ করছেন তিনি।   তাঁর গল্পের বিশেষ দিক শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, বরং নতুন জ্ঞান অর্জনের প্রতি ধারাবাহিক আগ্রহ। ছোটবেলায় বিতর্কের মঞ্চে যে কিশোরী নিজের যুক্তি দিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন, সেই রেবেকা শাফিই পরে বিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন।   বাংলাদেশের সেই বিতার্কিকের আন্তর্জাতিক একাডেমিক ও গবেষণার যাত্রা এখন অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানের বিষয় বদলেছে, গবেষণার ক্ষেত্র বদলেছে, কিন্তু শেখার আগ্রহ ও নতুন কিছু জানার কৌতূহলই যেন তাঁর পথচলার সবচেয়ে বড় সঙ্গী।

তাবাস্সুম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে দান করা মরদেহ থেকে অঙ্গ চুরি করে বিক্রির ঘটনায় বড় অঙ্কের সমঝোতায় যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ছবি: সংগৃহীত
গবেষণায় দান করা মরদেহ কালোবাজারে বিক্রি! ৫৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়

চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার জন্য হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে দান করা মরদেহ থেকে অঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ চুরি করে কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় বড় অঙ্কের সমঝোতায় যাচ্ছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর করা মামলার নিষ্পত্তিতে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। মঙ্গলবার বোস্টনের একটি স্টেট কোর্টের বিচারক প্রাথমিকভাবে এই ক্লাস অ্যাকশন সেটেলমেন্ট অনুমোদন করেছেন।   ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মর্গের সাবেক ম্যানেজার সেড্রিক লজ। প্রায় তিন দশক সেখানে কাজ করা লজের বিরুদ্ধে গবেষণা ও চিকিৎসাশিক্ষার জন্য দান করা মরদেহ থেকে মাথা, মুখমণ্ডল, মস্তিষ্ক, ত্বক ও হাতসহ বিভিন্ন অংশ চুরি করে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন ফেডারেল বিচারক।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০১৮ সাল থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ চুরি করছিলেন লজ। হার্ভার্ডের বোস্টন মর্গ থেকে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হতো নিউ হ্যাম্পশায়ারের গফসটাউনে তার বাড়িতে। পরে স্ত্রী ডেনিস লজের সহযোগিতায় বিভিন্ন ক্রেতার কাছে সেগুলো বিক্রি করা হতো। কিছু মানবদেহের অংশ ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও পেনসিলভানিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছিল।   তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, চুরি করা মানবদেহের অংশগুলোর কিছু পরবর্তী সময়ে আবারও লাভের জন্য বিক্রি করা হয়। মামলার নথিতে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটনার বর্ণনা উঠে আসে। প্রসিকিউটররা জানান, এক ক্রেতার কাছে মানুষের ত্বক দেওয়া হয়েছিল, যা প্রক্রিয়াজাত করে চামড়ায় পরিণত করা হয়। একটি মানুষের মুখমণ্ডলও বিক্রি করেছিলেন লজ ও তার স্ত্রী।   এই ঘটনায় ২০২৩ সালে সেড্রিক লজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে মামলা করতে শুরু করেন মরদেহ দানকারী ব্যক্তিদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রিয়জনদের মরদেহ সম্মান ও যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলেও হার্ভার্ড প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।   পরিবারগুলোর মামলায় হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়। তাদের দাবি ছিল, বছরের পর বছর লজের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। প্রথমে মামলাগুলো খারিজ হয়ে গেলেও পরে ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্ট সেগুলো পুনরুজ্জীবিত করে। আদালত মনে করেন, দান করা মরদেহ ব্যবস্থাপনায় হার্ভার্ড সৎ বিশ্বাসে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে এমন দাবি এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি বাদীদের রয়েছে।   এরপর হার্ভার্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এই সমঝোতা চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর দাবি নিষ্পত্তির জন্য অর্থ ব্যবহার করা হবে।   হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন জর্জ ডেলি এবং মেডিকেল এডুকেশনের ডিন বার্নার্ড চ্যাং বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটিকে পাঠানো এক বার্তায় লজের কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই কাজ ছিল নিন্দনীয় এবং মেডিকেল কমিউনিটি হিসেবে হার্ভার্ডের মূল্যবোধের গুরুতর লঙ্ঘন।   আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সমঝোতার অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে নৈতিকভাবে নিন্দনীয় বলে স্বীকার করবে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল। একটি লাইভ ওয়েবিনারের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে এ বক্তব্য তুলে ধরা হবে।   এ ছাড়া ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে একটি বার্ষিক স্কলারশিপ চালু করা হবে। চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে নিজেদের মরদেহ দান করা ব্যক্তিদের সম্মানে এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে।   হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল বলেছে, এই ঘটনা তাদের অ্যানাটমিক্যাল গিফট প্রোগ্রামে মরদেহ দান করা ব্যক্তিদের প্রতি যে সম্মান রয়েছে, তার প্রতিফলন নয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর দুঃখ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   পরিবারগুলোর পক্ষে মামলায় যুক্ত আইনজীবী জন মরগান বলেছেন, এই সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্পেসএক্সে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের নথিতে দেখানো ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে স্পেসএক্সই সবচেয়ে বড় একক শেয়ারধারণ। তবে এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি মালিকানাধীন শেয়ারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ারও থাকতে পারে।   স্পেসএক্সের জুনে হওয়া রেকর্ড আইপিওর পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের মূল্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এক দশকেরও বেশি আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পেসএক্সে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর সেই পুরোনো বিনিয়োগগুলোর মূল্য দ্রুত বেড়েছে।   হার্ভার্ড একা নয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগ সংস্থাও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের স্পেসএক্স শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসেরও স্পেসএক্সে বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে।   হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে হার্ভার্ডের মোট এনডাওমেন্টের মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশও ছিল নজিরবিহীন। জুনের আইপিওতে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে।   স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেট। ২০১৫ সালে অ্যালফাবেটের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এক দশক পর প্রায় ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারে পরিণত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।   স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অবশ্য বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোম্পানিটির মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ব্যবসা, স্টারলিংক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আবার এত উচ্চ মূল্যায়নের কারণে ঝুঁকির কথাও বলছেন কিছু বিশ্লেষক।   হার্ভার্ডের স্পেসএক্স বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুফলও সামনে এসেছে। স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দ্রুত বাড়ার ফলে শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নয়, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডাওমেন্টও বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের অরোরা স্কাই ক্যাস্টনার। কারাগারে জন্মের পরও পড়াশোনায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পান তিনি। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের কারাগারে জন্ম, মায়ের যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠা, সেই তরুণী পেলেন হার্ভার্ডে আইন নিয়ে পড়ার ফুল স্কলারশিপ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্ম হয়েছিল অরোরা স্কাই ক্যাস্টনারের। জন্মের পর মায়ের কাছ থেকে তিনি আর সেভাবে স্নেহ-যত্ন পাননি। নবজাতক অরোরাকে কারাগার থেকে নিয়ে গিয়ে একাই বড় করেন তার বাবা। জীবনের শুরুটাই ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তার শিক্ষাজীবনের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং কঠোর পরিশ্রম, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং একজন সহৃদয় পরামর্শদাতার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পান তিনি।   অরোরার জন্ম টেক্সাসের Galveston County Jail-এ। তখন তার মা কারাগারে ছিলেন। জন্মের পর অরোরাকে তার বাবা কারাগার থেকে নিয়ে যান এবং একক অভিভাবক হিসেবে তাকে বড় করতে থাকেন। শৈশবটা সহজ ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা-মেয়ের জীবন ছিল আর্থিক ও পারিবারিক নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এমন পরিস্থিতিতেও অরোরার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো।   প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় অরোরা একটি পরামর্শদাতা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানেই তার পরিচয় হয় মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে। ধীরে ধীরে হ্যাম্বি শুধু তার শিক্ষাজীবনের পরামর্শদাতা নন, অরোরার জীবনে একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিতে পরিণত হন। চশমা কেনা, চুল কাটানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দৈনন্দিন বিষয়েও তিনি অরোরাকে সহযোগিতা করতেন। এমনকি অরোরার জন্য গ্রীষ্মকালীন শিবিরে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করে দেন তিনি।   অরোরার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ প্রথম দেখাতেই হ্যাম্বির নজরে আসে। হ্যাম্বি জানিয়েছিলেন, অরোরা ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়ত। তার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেত্রী রোজা পার্কস। অরোরার এই আগ্রহ দেখে হ্যাম্বি বুঝতে পারেন, মেয়েটির মধ্যে বড় কিছু করার সম্ভাবনা রয়েছে।   শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমেও অরোরা নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। তিনি মাদকবিরোধী বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পান এবং একটি বৃত্তিও অর্জন করেন। পরে Conroe High School থেকে ২০২৩ সালে অত্যন্ত ভালো ফল নিয়ে স্নাতক হন। তিনি পুরো স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।   হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন অবশ্য অরোরার হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০২২ সালের মার্চে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। সেই সফর তার মনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ার ইচ্ছা আরও দৃঢ় করে। এরপর থেকেই হার্ভার্ডে পড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকেন তিনি।   হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনপত্রের প্রবন্ধে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে আনেন অরোরা। তার আবেদনের প্রথম বাক্য ছিল, ‘আমি কারাগারে জন্মেছি।’ নিজের অতীতকে লুকিয়ে না রেখে সেটিকেই তিনি জীবনের গল্পের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আবেদনপত্র তৈরিতে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকও তাকে সহায়তা করেছিলেন।   ২০২৩ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অরোরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান এবং পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার প্রস্তুতি নেন। তার লক্ষ্য ছিল আইন নিয়ে পড়াশোনা করা। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। অরোরার গল্পে মোনা হ্যাম্বির ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ছোটবেলায় অরোরার জীবনে যে ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন ছিল, হ্যাম্বি তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অরোরাও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার পরামর্শদাতার অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। হ্যাম্বির সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন।   অরোরার জীবনের গল্প তাই শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নয়। জন্মের পরিস্থিতি, পারিবারিক অনিশ্চয়তা কিংবা শৈশবের সীমাবদ্ধতা একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না, তার পথচলা সেই কথাটিই সামনে আনে। একজন অভিভাবকের চেষ্টা, একজন পরামর্শদাতার সহায়তা এবং নিজের অধ্যবসায় কীভাবে একটি শিশুর সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে পারে, অরোরার গল্প তারও একটি উদাহরণ।   তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অরোরার হার্ভার্ডে ভর্তি ও পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্য মূলত ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে প্রকাশিত। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার বর্তমান শিক্ষাবর্ষ বা হার্ভার্ডে আইন পড়ার বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই তাকে বর্তমানে হার্ভার্ডের আইন শিক্ষার্থী হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার বদলে ২০২৩ সালে হার্ভার্ডে আইন পড়ার জন্য পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যই যাচাই করা অবস্থায় বলা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
একযোগে হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ডে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নজির গড়লেন বাংলাদেশি মিফতাহুল জান্নাত। ছবি: সংগৃহীত
একই সঙ্গে হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ডে ভর্তির সুযোগ, নজির গড়লেন মিফতাহুল জান্নাত

বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের স্নাতক মিফতাহুল জান্নাত একই সঙ্গে বিশ্বের তিনটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়—হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ড, থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ স্কলারশিপ নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।    মিফতাহুল জানান, কেবল একাডেমিক ফল নয়, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যই তার আবেদনকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বস্তি এলাকার শিশুদের শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ফ্রান্সে শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচি এবং হংকংয়ে ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা তার বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের শিক্ষাবিষয়ক স্নাতকোত্তর কর্মসূচি তার দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নিয়েছেন।   বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য মিফতাহুলের পরামর্শ, আবেদন করার আগে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা এবং নিজের জীবন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আলাদা আলাদা স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করা। তার মতে, বাস্তব সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা, সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং শিক্ষকদের শক্তিশালী সুপারিশপত্র আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   হার্ভার্ডে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন মিফতাহুল। তিনি চান, বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, রোহিঙ্গা শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যেখানে সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে কেউ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না।   চট্টগ্রামভিত্তিক এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বহু শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত শুরু। ছবি: সংগৃহীত
চীনা বৃত্তিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, হার্ভার্ডে তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি কর্মসূচি মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। সোমবার বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন এ তদন্তের ঘোষণা দেয়।    বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের উদ্দেশ্য হলো হার্ভার্ডের কিছু চীন-সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন ও বৃত্তি কর্মসূচিতে মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে কি না এবং তা ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল সিক্স লঙ্ঘন করছে কি না, তা নির্ধারণ করা। এই আইনে ফেডারেল অর্থায়নপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ।   বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট কে. ধিলন বলেন, প্রতিটি মার্কিন শিক্ষার্থীর বৃত্তি, অনুদান ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তার জন্য সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা উচিত। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেডারেল অর্থ গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশি উৎসের এমন অর্থ গ্রহণ করতে পারে না, যার শর্ত অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা থেকে বাদ দেওয়া হয়।    বিচার বিভাগ জানায়, ১৯৬৫ সালের উচ্চশিক্ষা আইনের ১১৭ ধারার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বছরে আড়াই লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের বিদেশি অনুদান ও চুক্তির তথ্য সরকারকে জানাতে হয়। হার্ভার্ডের জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি উৎস থেকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ঘোষিত বিদেশি অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চীনভিত্তিক উৎস থেকেই এসেছে ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।    বিচার বিভাগের দাবি, হার্ভার্ডের বিদেশি অর্থায়নের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চীনভিত্তিক কিছু দাতা তাদের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্ত আরোপ করেছেন। এসব শর্ত অনুসরণ করে হার্ভার্ড যদি নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ দিয়ে থাকে, তাহলে তা অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের জন্য বৈষম্যের কারণ হতে পারে।    তবে তদন্তের এই পর্যায়ে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। এটি একটি কমপ্লায়েন্স রিভিউ বা আইন মেনে চলা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।   অন্যদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে তারা জাতি, জাতিগত পরিচয় বা জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো বেআইনি বৈষম্য করে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা বিচার বিভাগের পাঠানো নোটিশ পর্যালোচনা করছে এবং সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হার্ভার্ডের একাধিক ইস্যুতে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ভর্তি নীতি, বিদেশি অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের মতো বিভিন্ন বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারের বাড়তি নজরদারির মুখে রয়েছে। নতুন এই তদন্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
পারিবারিক সংকট পেরিয়ে পূর্ণ বৃত্তি পেলেন টেনেসির কৃষক পরিবারের মেয়ে
খামার থেকে হার্ভার্ডে: পারিবারিক সংকট পেরিয়ে পূর্ণ বৃত্তি পেলেন টেনেসির কৃষক পরিবারের মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে ক্যাথলিন সেলফের জীবনের গল্প এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।   পরিবারের খামারে কাজ করা, বাবার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই এবং পড়াশোনার চাপ সব বাধা পেরিয়ে তিনি এবার পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WBIR-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ বছর বয়সী ক্যাথলিন সেলফ সম্প্রতি টেনেসির হকিন্স কাউন্টির একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের খামারে কাজ ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ভুট্টা চাষ, খড় বহন এবং গবাদিপশুর দেখাশোনার মতো কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই তার বেড়ে ওঠা।   তবে গত বছর তাদের পরিবারের ওপর নেমে আসে কঠিন সময়। ২০২৫ সালের শুরুতে ক্যাথলিনের বাবার শরীরে তৃতীয় ধাপের ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসা চলাকালে পরিবারের খামারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ক্যাথলিনের কাঁধে। একই সময়ে তাকে সামলাতে হয়েছে স্কুলের শেষ বর্ষের পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম।   WBIR কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাথলিন বলেন, “বাবার ক্যানসারের খবর আমাদের পুরো পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।”   তাদের পরিবারের ভুট্টা চাষের কাজ সাধারণত শীতের শেষ দিক থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত চলে। বাবার চিকিৎসার কারণে শ্রমিক সমন্বয়, ফসল সংগ্রহ এবং বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তখন ক্যাথলিনকে সামলাতে হয়।   তিনি বলেন, “একদিকে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হচ্ছিল, অন্যদিকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হচ্ছিল। পুরো বিষয়টি সত্যিই ভীতিকর ছিল।”   ক্যাথলিনের ভাষায়, জীবনে সফল হতে হলে আগে পরিবারের দায়িত্ব পালন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “আমি যদি ভবিষ্যতে পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনে সফল হতে চাই, তাহলে আগে আমাকে নিজের পরিবারকে দেখাশোনা করতে হবে,” বলেন তিনি।   পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতচর্চাতেও সক্রিয় ছিলেন ক্যাথলিন। স্কুলের মার্চিং ব্যান্ড, কনসার্ট ব্যান্ড ও কয়ার দলে অংশ নিতেন তিনি। শুরুতে বাড়ির কাছাকাছি কোনো কলেজে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে ‘SARRS Vanderbilt’ নামের একটি বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তিনি হার্ভার্ডে আবেদন করার অনুপ্রেরণা পান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে টেনেসির গ্রামীণ এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে উৎসাহ দেওয়া হয়।   হার্ভার্ডে ভর্তির ফল প্রকাশের দিন ক্যাথলিন পূর্ব টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সংগীতের অডিশনে গিয়েছিলেন। সেদিনই প্রথমে তিনি বার্কলি কলেজ অব মিউজিকে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবর জানতে পারেন। পরে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে মোবাইলে হার্ভার্ডের ফল দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে যান।   তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে খবরটি জানানো হয়।”   পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়া ছিল আবেগঘন। ক্যাথলিন জানান, সবাই তাকে বলেছিলেন তারা আগেই বিশ্বাস করতেন তিনি সফল হবেন।   দীর্ঘ কঠিন সময়ের পর বর্তমানে তার বাবা ক্যানসারমুক্ত এবং সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। আর এ সুখবর যেন পুরো পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।   আগামী শরতে হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরু করবেন ক্যাথলিন। তিনি হার্ভার্ড ও বার্কলি কলেজ অব মিউজিকের যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সংগীত নিয়ে পড়ার আগ্রহ থাকলেও আইন ও শিক্ষা বিষয়েও পড়াশোনার ইচ্ছা রয়েছে তার।   গ্রামীণ টেনেসি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটিতে যাওয়ার বিষয়টি যে বড় পরিবর্তন, সেটিও স্বীকার করেন ক্যাথলিন। তবে সম্প্রতি হার্ভার্ড ক্যাম্পাস ঘুরে এসে তার অনেক উদ্বেগ কেটে গেছে।   তিনি বলেন, “ওখানে সবাই ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। সবারই কিছু না কিছু মানিয়ে নেওয়ার বিষয় থাকে। তাই আমি যতটা আলাদা ভাবছিলাম, বাস্তবে ততটা নয়।”   নিজের অভিজ্ঞতা অন্য শিক্ষার্থীদেরও স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন ক্যাথলিন। বিশেষ করে ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পূর্ব টেনেসি সাধারণত আইভি লিগ শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচিত নয়। কিন্তু আমি সবাইকে বলতে চাই চেষ্টা করলে যে কারও পক্ষেই সম্ভব। যদি সত্যিই মন থেকে কিছু চাওয়া যায়, তাহলে সেটি অর্জন করা সম্ভব।”   ক্যাথলিন সেলফের এই গল্প এখন শুধু একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের কাহিনি নয়; বরং কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন অনন্যা চন্দ জেসি। ডেট্রয়েটের ক্যাস টেক হাইস্কুলের এই শিক্ষার্থী প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।   অনন্যা মিশিগানপ্রবাসী বিশ্বেশ্বর চন্দ ও শেলী শীল দম্পতির দ্বিতীয় কন্যা। তার এই সাফল্যের খবরে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।   নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনন্যা জানান, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রি-মেড’ বিষয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এই অর্জন তাকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   অনন্যা বলেন, পড়াশোনা শেষ করে তিনি মেট্রো ডেট্রয়েট অঞ্চলের মানুষের সেবায় কাজ করতে চান।   শিক্ষাজীবনে অনন্যা একাডেমিক কৃতিত্বের পাশাপাশি নেতৃত্বমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ‘ন্যাশনাল অনার সোসাইটি’র সভাপতি এবং ‘অ্যাকাডেমিক গেমস’-এর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।   এ ছাড়া তিনি মিশিগান মেডিসিনের অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ ইনিশিয়েটিভের রিচ বোর্ড এবং ‘ওমেন অব বাংলাটাউন ইউথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।   মেধার স্বীকৃতি হিসেবে অনন্যা ‘পালাজো স্ট্রজি’ পুরস্কারও অর্জন করেছেন। এই পুরস্কারের আওতায় ইতালিতে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। তবে সব সুযোগের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।   নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও মেন্টরদের অবদানের কথা উল্লেখ করে অনন্যা বলেন, তাদের সমর্থন ও অনুপ্রেরণাই তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।   কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনন্যার বার্তা, “কখনো নিজের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে না। মনে রাখবে, সাময়িক ব্যর্থতাও ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।”  

Unknown মে ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০