নিউইয়র্কবাসীর জন্য কী কী সরকারি সুবিধা রয়েছে: শিশু থেকে প্রবীণ-কারা কী পাচ্ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার খরচ, বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন ব্যয় দেশটির অনেক এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। সাধারণ ধারণার বিপরীতে এসব সুবিধা শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সীমিত নয়, বরং শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও অনেক কর্মসূচি উন্মুক্ত।
নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের জনকল্যাণ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা দৈনন্দিন ব্যয় কমাতে সহায়তা করছে।
গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং শিশুদের সঠিক বিকাশে সহায়তা দেওয়া হয়, যা প্রতি বছর হাজারো পরিবারকে উপকৃত করে।
কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে অনুমোদিত ডে কেয়ার বা পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ বা উল্লেখযোগ্য অংশে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যার ফলে অনেক অভিভাবক কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধাও নিউইয়র্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ বা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি পান, যা কাজ ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।
অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও চালু রয়েছে। সাময়িক আর্থিক সমস্যায় পড়া পরিবারগুলো খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয়ের জন্য সরকারি সহায়তার আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।
আবাসন ব্যয় নিউইয়র্কের দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।
শীতপ্রধান এই অঞ্চলে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয়ে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্র মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের নিরাপদ ও স্বাধীন জীবনযাপন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদেরও পরিচর্যা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য বেকারত্বকালীন সহায়তা নিউইয়র্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা পান।
শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি। বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার, শিক্ষা সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি শিশু কর সুবিধার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে।
নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা স্টেট সরকারের পাশাপাশি নগর প্রশাসনের বিশেষ সেবাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি সহায়তা, সামাজিক সেবা, অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিচয়পত্র, আইনি সহায়তা, গৃহহীনদের আশ্রয় সেবা এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধা। বর্তমানে এসব সেবার বড় অংশ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে।
এছাড়া কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য কর সুবিধা, প্রবীণদের জন্য সম্পত্তি কর ছাড় এবং বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও বিদ্যমান। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তার যোগ্য না হলেও এসব কর সুবিধা ও পারিবারিক কর্মসূচির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়।
উচ্চ ব্যয়ের চাপের মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ কেনাকাটা করেন ওয়ালমার্টে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক, ইলেকট্রনিকস থেকে শুরু করে খাদ্যসামগ্রী, সবকিছুর জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের একটি। কিন্তু পরিচিত এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিবার সম্পর্কে কতজনই বা জানেন? সেই ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের মেয়ে অ্যালিস ওয়ালটন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী। ফোর্বসের ২ নভেম্বর ২০২৬-এর রিয়েল-টাইম হিসাব অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৩৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের ধনীদের তালিকায় তাঁর অবস্থান ১৪তম। ৭৭ বছর বয়সী অ্যালিস ওয়ালটন ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের একমাত্র মেয়ে। ১৯৬২ সালে তাঁর বাবা স্যাম ওয়ালটন ও ভাই জেমস বাড ওয়ালটন যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের রজার্স শহরে প্রথম ওয়ালমার্ট স্টোর চালু করেন। ছোট একটি দোকান থেকে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশকের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বর্তমানে ওয়ালমার্ট বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে তাদের হাজার হাজার স্টোর রয়েছে। তবে ওয়ালমার্টের একক মালিক অ্যালিস নন। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি পাবলিক কোম্পানি। প্রতিষ্ঠাতা ওয়ালটন পরিবারের সদস্যরা এখনো এর অন্যতম বৃহৎ শেয়ারহোল্ডার। স্যাম ওয়ালটনের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পারিবারিক শেয়ারের মাধ্যমে অ্যালিস বিপুল সম্পদের মালিক হন। তাঁর দুই ভাই রব ওয়ালটন ও জিম ওয়ালটনও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় রয়েছেন। অ্যালিসের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে ওয়ালমার্টের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে পরবর্তী ১২ মাসে তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। এ সময় ওয়ালমার্টের শেয়ারের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ারের মূল্য বেড়ে তাঁর সম্পদও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হলেও অ্যালিস ওয়ালটন নিজে ওয়ালমার্টের পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত নন। তাঁর ভাই রব ও জিমের মতো কোম্পানির বোর্ডে কাজ করার পরিবর্তে তিনি শিল্পকলা সংগ্রহ, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনও তিনি অনেকটা আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। শিল্পকলার প্রতি অ্যালিসের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ২০১১ সালে আরকানসাসের বেনটনভিলে প্রতিষ্ঠা করেন ক্রিস্টাল ব্রিজেস মিউজিয়াম অব আমেরিকান আর্ট। এই জাদুঘরে অ্যান্ডি ওয়ারহল, নরম্যান রকওয়েল ও মার্ক রথকোর মতো বিখ্যাত শিল্পীদের কাজ সংরক্ষিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকলা ও সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। শিল্পকর্ম সংগ্রহেও বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন অ্যালিস। ২০১৪ সালে জর্জিয়া ও’কিফের আঁকা একটি চিত্রকর্ম কিনতে তিনি ৪৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন। সে সময় এটি কোনো নারী শিল্পীর আঁকা চিত্রকর্মের জন্য সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্যের রেকর্ড তৈরি করেছিল। শিল্পকলার পাশাপাশি চিকিৎসাশিক্ষায়ও বড় বিনিয়োগ করেছেন তিনি। ২০২১ সালে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় অ্যালিস এল. ওয়ালটন স্কুল অব মেডিসিন। আরকানসাসের বেনটনভিলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রথম ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি মওকুফের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও অ্যালিসের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পরিবারের পাঁচটি দাতব্য ফাউন্ডেশনে ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিল্পকলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করা হচ্ছে। বিশ্বের কোটি মানুষের পরিচিত ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী হিসেবে অ্যালিস ওয়ালটন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে ব্যবসা পরিচালনার বাইরে শিল্পকলা, চিকিৎসাশিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর বিনিয়োগ তাঁকে বিশ্বের আলোচিত ধনকুবেরদের একজন হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
জর্জিয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই বাড়ি, ১৩ শিশুসহ পরিবারকে বাঁচালেন দুই পথচারী
আগুনে বাড়ি হারিয়ে থেমে গিয়েছিল উৎসব, প্রতিবেশীদের ভালোবাসায় আবার হাসলেন নারী
মেয়েকে বছরের পর বছর নির্যাতন, ৯ বছরের শিশুর মাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কর পরিশোধের ইতিহাস নিয়ে বাড়তি যাচাইয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) কঠোর মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে আবেদনকারীদের আর্থিক ও করসংক্রান্ত তথ্য আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। ১ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন এবং ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাসে জারি করা ইউএসসিআইএসের একটি নীতিগত স্মারকলিপির পর গ্রিন কার্ডের আবেদন মূল্যায়নে নতুন কঠোরতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থানরত যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া বা অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিবাসন আইনজীবীদের সতর্কতা অনুযায়ী, কয়েকটি বিষয় আবেদনকারীর বিপক্ষে যেতে পারে। প্রথমত, নির্ধারিত সময়ে আয়কর বিবরণী জমা না দেওয়া। দ্বিতীয়ত, আগের বছরের ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারের কর বকেয়া রাখা। তৃতীয়ত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ অথবা অঙ্গরাজ্যের কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিস্তিতে কর পরিশোধের চুক্তি থাকলেও পুরো অর্থ পরিশোধ না করা। এমনকি কর বিবরণী জমা দেওয়ার সময় বাড়তি সুযোগ নেওয়া হয়েছে—এমন পরিস্থিতিও কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি প্রশ্নের কারণ হতে পারে বলে আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন। নিউইয়র্কভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী কারিন উলম্যান আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ডের আবেদন জমা দেওয়ার আগে করসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং বকেয়া নিষ্পত্তির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।এই বিষয়টি শুধু চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নয়। পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে আবেদনকারীরাও বাড়তি যাচাইয়ের মুখে পড়তে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যখন স্বামী-স্ত্রী, সন্তান কিংবা অন্য যোগ্য আত্মীয়কে গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করেন, তখন সাধারণত তাদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট নামের আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে হয়।স্পনসরের আয়কর বিবরণী, আয় এবং আর্থিক অবস্থার তথ্য এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আবেদনকারী নিজে কর নিয়মিত পরিশোধ করলেও স্পনসরের করসংক্রান্ত জটিলতা আবেদন মূল্যায়নে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর যারা মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও কর পরিশোধের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য সাধারণত আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভালো নৈতিক চরিত্রের প্রমাণ দিতে হয়। একে বলা হয় গুড মোরাল ক্যারেক্টার। কর প্রদানের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করা এই মূল্যায়নে নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে কর বকেয়া থাকলে আবেদনকারীকে কর বিবরণী জমা দেওয়ার প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিশোধ পরিকল্পনার কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে।অর্থাৎ গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরও করসংক্রান্ত দায়িত্ব অবহেলা করলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদন জটিল হতে পারে।
কৃত্রিম স্তন পরে ক্লাসে অক্সফোর্ডের শিক্ষক, নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগে তোলপাড়
ম্যানচেস্টার শহরের ৭৮ বছরের খাবার সরবরাহকারী বৃদ্ধের ভিডিও দেখে লাখ ডলার দিলেন অপরিচিত মানুষ
টেক্সাসে স্বেচ্ছাশ্রমে চাষাবাদ, সেই ফসলের আয়েই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কলেজের স্বপ্নপূরণ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওকল্যান্ড শহরে অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে বড় আয়োজন করেছে স্থানীয় কমিউনিটি। শহরের ফ্রুটভেল এলাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘দিয়া দে লস মুয়ের্তোস’ উৎসবে প্রায় এক লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছে সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল। এবারের আয়োজনটি শুধু সাংস্কৃতিক উৎসবেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অভিবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংহতির বিষয়ও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।উৎসবে অংশ নেন বিভিন্ন বয়স ও সংস্কৃতির মানুষ। সংগীত, নাচ, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং স্মৃতিবেদি তৈরির মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন। এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অভিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিশেষ আয়োজন। সেখানে আইনগত পরামর্শ, অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য এবং ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়।যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রুটভেল এলাকার অনেক ছোট ব্যবসাও ক্রেতা কমে যাওয়ার সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও উঠে আসে উৎসবে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন স্মৃতিবেদিতে অভিবাসন হেফাজতে মারা যাওয়া ব্যক্তি, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অভিবাসী এবং যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হয়।আয়োজকদের এবারের মূল বার্তা ছিল—সংস্কৃতি, পরিচয় ও অধিকার রক্ষায় মানুষকে একসঙ্গে থাকতে হবে। উৎসবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, ভয় ও অনিশ্চয়তার সময়েও কমিউনিটির পারস্পরিক সহযোগিতা মানুষকে সাহস জোগায়। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে তাঁরা নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি আইনি সহায়তা, সামাজিক যোগাযোগ এবং স্থানীয় সহযোগিতার সুযোগ পান।ওকল্যান্ডের এই আয়োজন আবারও দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে ১৫৮ পরিবারের আবাসন উন্নয়নে আড়াই কোটি ডলারের উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশু থেকে ছড়ানো বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা