আমেরিকা

নিউইয়র্কবাসীর জন্য কী কী সরকারি সুবিধা রয়েছে: শিশু থেকে প্রবীণ-কারা কী পাচ্ছেন

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৮:১৮
নিউইয়র্ক সিটি । ফাইল ছবি
নিউইয়র্ক সিটি । ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার খরচ, বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন ব্যয় দেশটির অনেক এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। সাধারণ ধারণার বিপরীতে এসব সুবিধা শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সীমিত নয়, বরং শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও অনেক কর্মসূচি উন্মুক্ত।

 

নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের জনকল্যাণ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা দৈনন্দিন ব্যয় কমাতে সহায়তা করছে।

 

গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং শিশুদের সঠিক বিকাশে সহায়তা দেওয়া হয়, যা প্রতি বছর হাজারো পরিবারকে উপকৃত করে।

 

কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে অনুমোদিত ডে কেয়ার বা পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ বা উল্লেখযোগ্য অংশে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যার ফলে অনেক অভিভাবক কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

 

নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধাও নিউইয়র্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ বা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি পান, যা কাজ ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।

 

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও চালু রয়েছে। সাময়িক আর্থিক সমস্যায় পড়া পরিবারগুলো খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয়ের জন্য সরকারি সহায়তার আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

 

আবাসন ব্যয় নিউইয়র্কের দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।

 

শীতপ্রধান এই অঞ্চলে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয়ে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্র মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

 

প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের নিরাপদ ও স্বাধীন জীবনযাপন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।

 

প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদেরও পরিচর্যা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

 

চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য বেকারত্বকালীন সহায়তা নিউইয়র্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা পান।

 

শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি। বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার, শিক্ষা সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি শিশু কর সুবিধার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

 

নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা স্টেট সরকারের পাশাপাশি নগর প্রশাসনের বিশেষ সেবাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি সহায়তা, সামাজিক সেবা, অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিচয়পত্র, আইনি সহায়তা, গৃহহীনদের আশ্রয় সেবা এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধা। বর্তমানে এসব সেবার বড় অংশ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে।

 

এছাড়া কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য কর সুবিধা, প্রবীণদের জন্য সম্পত্তি কর ছাড় এবং বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও বিদ্যমান। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তার যোগ্য না হলেও এসব কর সুবিধা ও পারিবারিক কর্মসূচির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়।

 

উচ্চ ব্যয়ের চাপের মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডোমিনিকান রিপাবলিকে কসমেটিক অস্ত্রোপচারের পর মারা যান এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলা। ছবি: সংগৃহীত
কসমেটিক সার্জারি করাতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক নারী পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু, মা-হারা হলো ৩ শিশু

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা ডোমিনিকান রিপাবলিকে স্তনের ইমপ্লান্ট অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর জটিলতায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা বা চিকিৎসাগত ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।   মৃত কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলা (৩১) নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার ৪৬তম প্রিসিঙ্কটে কর্মরত ছিলেন। মাত্র দেড় বছরের কিছু বেশি সময় আগে তিনি এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে দায়িত্বনিষ্ঠা ও কমিউনিটির প্রতি অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘অফিসার অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এবং ডোমিনিকান সংবাদমাধ্যম নোটিসিয়াস সিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোমিনিকান রিপাবলিকের রাজধানী সান্তো ডোমিঙ্গোর একটি ক্লিনিকে স্তনের ইমপ্লান্ট অপসারণের কসমেটিক অস্ত্রোপচার করান রেবেকা ডি পাউলা। অস্ত্রোপচারের পর তিনি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।   রেবেকার মা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, মেয়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন এ খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ক্লিনিকে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার মেয়ে ইতোমধ্যেই মারা গেছেন। এনওয়াইপিডির পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্যাট্রিক হেন্ড্রি এক বিবৃতিতে বলেন, “মাত্র ১৮ মাসের কর্মজীবন শেষে দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় আমাদের সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলাকে হারাতে হয়েছে। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য আমরা সবার কাছে প্রার্থনা কামনা করছি।”   রেবেকার প্রশিক্ষক ও অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি প্রশিক্ষক ডেভিড মারমল সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইতিবাচক ও আন্তরিক একজন মানুষ। তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল, কিন্তু সেটি অকালেই থেমে গেল। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন সন্তানের জননী রেবেকা ডি পাউলা পুলিশি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বামীর সঙ্গে ধর্মীয় কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন এবং একজন পাস্টর হিসেবে মানুষের সেবা করতেন।   বর্তমানে তার মরদেহ ডোমিনিকান রিপাবলিকের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্সেসে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হবে। এদিকে তার পরিবার ডোমিনিকান রিপাবলিকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় বা পরবর্তী চিকিৎসায় কোনো ধরনের চিকিৎসাগত অবহেলা বা ভুল ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হোক।   মার্কিন প্লাস্টিক সার্জনদের সংগঠন আমেরিকান সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জনসের তথ্য অনুযায়ী, স্তনের ইমপ্লান্ট অপসারণের অস্ত্রোপচার সাধারণত পূর্বের স্তন সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচার বা পুনর্গঠন-সংক্রান্ত ইমপ্লান্ট অপসারণের জন্য করা হয়। তবে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ, রক্ত জমাট বাঁধা, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা, শরীরে তরল জমা এবং রক্তক্ষরণের মতো ঝুঁকি থাকতে পারে।   মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ডোমিনিকান রিপাবলিকে কসমেটিক সার্জারি-সংক্রান্ত জটিলতায় অন্তত ৯৩ জন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে দেশটিতে চিকিৎসা-ভ্রমণ এবং সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচারের নিরাপত্তা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে।   এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা কর্মকর্তা অ্যালিসিয়া স্টোনও কলম্বিয়ায় বিউটি সার্জারির পর জটিলতায় মারা যান। সাম্প্রতিক এ ঘটনাও বিদেশে কসমেটিক সার্জারির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে এনওয়াইপিডির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২০:৩৬
কুকুরের কামড় খাওয়া মার্কিন শিশু। ছবি:সংগৃহীত

ছুটিতে গিয়ে নৃশংস কুকুরের হামলা, ৯ বছরের মার্কিন শিশুর শরীরে শতাধিক কামড়

আমেরিকার বিলাসবহুল শহর। ছবি:সংগৃহীত

নতুন বাসিন্দা খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, দিচ্ছে ২৩ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা

আমেরিকার বসবাসরত বাড়ির দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের বাড়ি কেনা কমলেও ফ্লোরিডা, জর্জিয়াসহ ৫ অঙ্গরাজ্যেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে মাকে পাঠিয়েছিলেন একটি বার্তা“এটাই ছিল আমার জীবনের সেরা সপ্তাহান্ত।” সেই আনন্দময় মুহূর্তের পরই রেললাইনে দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৮ বছর বয়সী চার্লি। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভী
একটি বার্তা, তারপর চিরবিদায় ১৮ বছরের চার্লির মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার

যুক্তরাজ্যে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চার্লি নামে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে সপ্তাহান্তের আনন্দঘন সময় কাটানোর পর তিনি মাকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছিলেন, এটি ছিল তাঁর “জীবনের সেরা সপ্তাহান্ত”। কিন্তু সেই বার্তা পাঠানোর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি রেললাইনে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।   ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধুদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ভারসাম্য হারিয়ে একটি সক্রিয় রেললাইনের ওপর পড়ে যান। সেখানে উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।   জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে।   তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত্যুর আগে চার্লি তাঁর মাকে পাঠানো বার্তায় জানিয়েছিলেন যে তিনি দারুণ সময় কাটিয়েছেন এবং এটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সপ্তাহান্ত। পরিবারের সদস্যরা বলেন, এমন একটি সুখের বার্তার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর তাদের জন্য অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক ছিল।   ঘটনার তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, রেললাইন ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর কাছাকাছি যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে মদ্যপ অবস্থায় রেলপথের আশপাশে চলাফেরা প্রাণঘাতী হতে পারে।   পরিবার ও স্বজনরা চার্লিকে প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও সবার প্রিয় একজন তরুণ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁর অকাল মৃত্যু এলাকাজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৯:২৮
ক্যালিফোর্নিয়ার নিউবেরি পার্কে কয়েক মাসব্যাপী তদন্তের পর তিন বাসিন্দাকে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে ভেনচুরা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। অভিযানে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘ তদন্তের পর তিনজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্র

ছবি: বাম থেকে গ্যাভিন নিউসম (ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর) কমলা হ্যারিস (সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট) পিট বুটিজেজ (সাবেক পরিবহনমন্ত্রী)

বিভিন্ন জরিপের পর ২০২৮ নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্তহীন কমলা হ্যারিস!

ক্যালিফোর্নিয়ার চীনো হিলসে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জীবিত সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেছে প্রসিকিউটররা। ঘটনায় পুলিশের গুলিতে অপর এক সন্দেহভাজন নিহত হয়। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।ছবি: সংগৃহীত

৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে অপহরণ করে হত্যা, ক্যালিফোর্নিয়ায় জীবিত সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে মামলা

তিন শিশুসহ মা।  ছবি:সংগৃহীত
তিন সন্তান হত্যার মামলায় আদালতে পড়া হলো মায়ের হৃদয়বিদারক ডায়েরি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বহুল আলোচিত লিন্ডসে ক্ল্যান্সি হত্যা মামলার বিচার চলাকালে তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরির একাধিক অংশ আদালতে পড়ে শোনানো হয়েছে। ডায়েরির লেখাগুলোতে সন্তানদের দেখাশোনা করতে গিয়ে চরম মানসিক চাপ, হতাশা এবং সাহায্যের আকাঙ্ক্ষার কথা উঠে এসেছে।   লিন্ডসে ক্ল্যান্সি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবেরিতে নিজের তিন সন্তান—৫ বছর বয়সী কোরা, ৩ বছর বয়সী ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালান—কে হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। তিনি শিশুদের হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করেননি, তবে তাঁর আইনজীবীরা দাবি করছেন, ঘটনার সময় তিনি প্রসব-পরবর্তী তীব্র মানসিক বিকার (পোস্টপার্টাম সাইকোসিস)-এ আক্রান্ত ছিলেন এবং তাই তিনি আইনগতভাবে ফৌজদারি দায় বহন করার অবস্থায় ছিলেন না। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের দাবি, তিনি পরিকল্পিতভাবেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।    আদালতে উপস্থাপিত ডায়েরির অংশে ক্ল্যান্সি লিখেছিলেন, তিনি তিন সন্তানের দেখাশোনা করতে গিয়ে নিজেকে "সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত" অনুভব করতেন এবং "প্রতিদিন মনে হতো আমি ডুবে যাচ্ছি"। আরেকটি লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজেকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করতেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন। প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা বলেন, এসব লেখা তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক সংকটের প্রমাণ।   বিচারে আরও জানা যায়, ঘটনার আগের কয়েক মাসে ক্ল্যান্সি বিভিন্ন মানসিক রোগের ওষুধ গ্রহণ করছিলেন এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়মিত ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, একাধিক ওষুধের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতা তাঁর অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।   প্রসিকিউশন আদালতে চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে দাবি করেছে, ক্ল্যান্সি নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ বলছে, ঘটনার সময় তিনি বাস্তবতা অনুধাবনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। এই প্রশ্নই মামলার মূল আইনি বিতর্ক।   মামলার নথি অনুযায়ী, সন্তানদের মৃত্যুর পর ক্ল্যান্সি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি কবজিতে আঘাত করার পর দ্বিতীয় তলার জানালা থেকে লাফ দেন, এতে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি কোমর থেকে নিচের অংশে স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।   বর্তমানে ম্যাসাচুসেটসের প্লাইমাউথ সুপিরিয়র কোর্টে বিচার চলছে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল, নাকি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতার কারণে সংঘটিত একটি অপরাধ, যার ক্ষেত্রে আইনগত দায় ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৮:১৬
পারিবারিক ফটো। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর গুয়াতেমালায় দম্পতিকে হত্যা, এতিম হলো শিশুরা

লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি হল ইস্ট ভবনের ডাক কক্ষে একটি সিল করা ব্যাগের ভেতর রহস্যজনক সাদা গুঁড়া জাতীয় পদার্থ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ মোকাবিলা দলের তদন্ত শুরু হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবনের একটি অংশ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। ছবি:সং

লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি হলের ডাক কক্ষে রহস্যজনক সাদা গুঁড়া, ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুকে যৌ/ন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হোসে কা'আল পপ

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হোসে কা'আল পপ

0 Comments