যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বহুল প্রতীক্ষিত 'ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের' জাদুঘরটি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে উদ্বোধনের আগেই আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই জাদুঘরে প্রবেশের সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। টিকিট শেষ হয়ে গেলেও ৮৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল ক্যাম্পাসের অন্যান্য অংশগুলো সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে।
গত বৃহস্পতিবার জমকালো এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকেই শিকাগোর বহু পরিবার সশরীরে এই ক্যাম্পাসটি ঘুরে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। ১৯ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী সপ্তাহান্ত উপলক্ষে থাকছে নানা আয়োজন। দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে এখানকার দৃষ্টিনন্দন বাগান এবং বিভিন্ন শিল্পকর্ম (আর্ট ইনস্টলেশন) ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। এছাড়া মূল প্লাজায় থাকবে গান ও নাচের বিশেষ পরিবেশনা। ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা শিকাগো পাবলিক লাইব্রেরির একটি শাখাও এই উদ্বোধনী সপ্তাহে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
ওবামা ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা আশা করছে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ দর্শনার্থী এই ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে আসবেন। যেহেতু আগামী শরৎকাল (ফল) পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, তাই যারা আগে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের জাদুঘরের ভেতরে ঢুকতে অন্তত আগামী অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে যারা এই সেন্টারে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের গণপরিবহন (সিটিএ বা মেত্রা) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারণে কিছু রাস্তায় যান চলাচল ও ফুটপাতে বিধিনিষেধ থাকায় ওই এলাকায় প্রচণ্ড যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
বিজ্ঞান ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের তীব্র আপত্তি এবং মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কঠোর বিরোধিতার মুখে অবশেষে সুর নরম করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গভীর সমুদ্রের তথ্য সংগ্রহের জন্য চালিত ৩৬৮ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রকল্প বন্ধ বা স্ক্র্যাপ করার সিদ্ধান্ত থেকে তারা পিছু হটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (NSF) ঘোষণা করেছে যে, তারা ‘ওশেন অবজারভেটরিজ ইনিশিয়েটিভ’ (OOI) নামক এই সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাটি বন্ধ করার পরিকল্পনা এখনই স্থগিত করছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, "তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমুদ্র থেকে কোনো যন্ত্রপাতি আর সরানো হবে না এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যক্রম সচল রাখা হবে। এই প্রজেক্টের তথ্যের ওপর যারা নির্ভরশীল, তাদের সবার উদ্বেগকে আমরা সম্মান জানাই।" এই প্রজেক্টের অধীনে সমুদ্রের ভেতর ৯০০টিরও বেশি বৈঞ্চানিক যন্ত্রপাতি বসানো রয়েছে, যা সমুদ্রের স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক স্রোতের গতিপ্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্যের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে। উত্তর ক্যারোলিনা, ওরেগন, ওয়াশিংটন ও আলাস্কা উপকূলের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মধ্যবর্তী সাগরে এই পর্যবেক্ষণ যন্ত্রগুলো বসানো আছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন যে, এই প্রজেক্টটি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক ঝড় এবং তীব্র আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়বে এবং বিজ্ঞানীরা জলবায়ু সংকটের খোঁজখবর রাখতে গিয়ে একপ্রকার "অন্ধের মতো" চলবেন। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঠিক একদিন আগে মার্কিন সিনেটে এই প্রজেক্টটি বাঁচানোর জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক বিলও পাস হয়। ওরেগনের ডেমোক্র্যাট জেফ বার্কলে এবং আলাস্কার রিপাবলিকান লিসা মুরকোস্কি এই বিলটি উত্থাপন করেন। সিনেটর জেফ বার্কলে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের সিদ্ধান্তকে "চরম বোকামি" বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করত এবং জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু বিজ্ঞান ও জলবায়ু বিষয়ক প্রজেক্ট বন্ধ বা কাটছাঁট করার উদ্যোগ নেয়, যা নিয়ে পরিবেশবাদী ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে আগে থেকেই তীব্র ক্ষোভ ছিল।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আজ সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই সফর বাতিলের খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ওই মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, "ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে যেমনটি বলেছিলেন, আসন্ন কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা নিয়ে দুপক্ষের পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে যেকোনো মুহূর্তে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি দ্রুত সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "এই ধরনের একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনার আয়োজন করা কখনোই সহজ বা পুরোপুরি পূর্বানুমানযোগ্য নয়। তাই এই মুহূর্তে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না। এই আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরা খুব দ্রুত তা গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেব।" এর আগে এই আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তার প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এই বিষয়ে বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল উপায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়ে গেছে। বর্তমানে এই চুক্তিটি বাস্তবায়নের মূল প্রক্রিয়াগুলো শুরু হয়েছে। যেহেতু প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান তার মধ্যস্থতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নর্থ ব্রান্সউইকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে চার শিশুকে অপহরণের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শিশুদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন মিথ্যা গল্প সাজিয়ে তাদের নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে শিশুদের উপস্থিত বুদ্ধি, পরিবারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং এক প্রত্যক্ষদর্শীর সহায়তায় শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা সফল হয়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু লুনার বিরুদ্ধে চারটি অপহরণচেষ্টা এবং শিশুদের নিরাপত্তা বিপন্ন করার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২০ মে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, ওই দিন প্রথমে নর্থ ব্রান্সউইক লাইব্রেরির কাছে দুই স্কুলপড়ুয়া ছেলের কাছে যান লুনা। তিনি তাদের জানান যে তিনি তাদের বাড়ি পৌঁছে দিতে চান। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের বাড়ির ঠিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চান। অভিযোগে বলা হয়, শিশুদের আস্থা অর্জনের জন্য লুনা দাবি করেন যে তিনি তাদের স্কুলে কাজ করেন। তবে তিনি যে দিকে স্কুলের অবস্থান দেখিয়েছিলেন, সেটি প্রকৃত স্কুলের অবস্থানের সঙ্গে মিলছিল না। তিনি আরও বলেন, ছেলেরা সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে এবং তাদের একজনের মাকে তিনি চেনেন। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় দুই শিশুই সেখান থেকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তদন্তকারীদের একজন শিশু জানায়, সে জরুরি সেবার নম্বর ৯১১-এ ফোন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল যে হাত কাঁপতে থাকায় সে কল সম্পন্ন করতে পারেনি। একই দিনে পরে আরও দুই শিশুর কাছে যান লুনা। এবার তিনি দাবি করেন, পুলিশ তাদের খুঁজছে এবং তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে। এতে শিশুরা ভয় পেয়ে যায়। তাদের একজন সঙ্গে সঙ্গে ৯১১-এ ফোন করে, আরেকজন তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ফোনের ওপাশে থাকা মা একজন পুরুষের কণ্ঠ শুনতে পান, যিনি বারবার বলছিলেন, “আমার সঙ্গে চলো।” পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে একটি গাড়ি নিয়ে উপস্থিত হন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তাকে দেখে লুনা হাত উঁচু করে পিছিয়ে যেতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে আটক করে। পরে আদালতে অনুষ্ঠিত আটক-সংক্রান্ত শুনানির পর লুনাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ডেভিড এ. ল্যাম্পারেলো। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমার মক্কেল সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। আমরা বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখি এবং আদালতে আমাদের অবস্থান তুলে ধরার অপেক্ষায় আছি।” আদালতের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ আগস্ট মামলার প্রাথমিক অভিযোগপত্র দাখিল-পূর্ব শুনানিতে আবারও হাজির হওয়ার কথা রয়েছে লুনার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুদের লক্ষ্য করে অপরিচিত ব্যক্তিদের এ ধরনের প্রতারণামূলক আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় অভিভাবকদের শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তিরা যদি নিজেদের শিক্ষক, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা বা পরিবারের পরিচিত বলে দাবি করে, তাহলে শিশুদের সতর্ক থাকা এবং দ্রুত বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ককে জানানো উচিত। নর্থ ব্রান্সউইকের ঘটনাটিও সেই সচেতনতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।