আমেরিকা

নিউইয়র্কে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর অভিনয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, অভিভাবক ও পুলিশের ক্ষোভ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১৬:২৬
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আপার ওয়েস্ট সাইডের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার অভিনয় করানো হয়েছে। গত ১১ জুন স্কুলটিতে আয়োজিত 'মাল্টিকালচারাল ডে' বা বহুমুখী সংস্কৃতি দিবসের অনুষ্ঠানে এই বিতর্কিত পরিবেশনার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। স্কুলের এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়েছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষাবিদ এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

 

অনুষ্ঠানে ১০ ও ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শিল্পী জন লিজেন্ড এবং র‍্যাপার কমনের গাওয়া জনপ্রিয় গান 'গ্লোরি'-র সঙ্গে নাচ পরিবেশন করে। গানটির কথায় ফার্গুসনে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউনের মৃত্যুর ঘটনা এবং এর জেরে শুরু হওয়া 'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার' আন্দোলনের উল্লেখ ছিল। পরিবেশনার একপর্যায়ে গানের নির্দিষ্ট কথায় শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে মঞ্চে লুটিয়ে পড়ে এবং পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার মতো ছাদ পানে তাকিয়ে থাকে।

 

এরপর গানের কোরাসে তারা সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন কায়পারনিকের অনুকরণে এক হাঁটু গেড়ে বসে প্রতিবাদ জানায়। পারফরম্যান্সের শেষে এই খুদে শিক্ষার্থীরা 'আইস আউট', 'এলজিবিটিকিউআইএ+ এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো', 'সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই' এবং 'অ্যান্টিসেমিটিজমের কোনো স্থান নেই' লেখা বিভিন্ন চরমপন্থি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে।

 

এই ঘটনাকে শিশুদের প্রতি চরম অন্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক কর্মকর্তা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পঞ্চম শ্রেণির শিশুদের দিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর অভিনয় করানো কোনো শিক্ষা হতে পারে না; এটি শিশুদের রাজনৈতিক মগজধোলাই এবং নির্লজ্জ ব্যবহার। স্কুলের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, শাহরিন করিম নামের একজন শিক্ষিকা এই পরিবেশনার নেপথ্যে ছিলেন।

 

তিনি স্কুলের মাল্টিকালচারাল কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০২৪ সালের সংস্কৃতি দিবসেও তিনি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ফিলিস্তিনি লোকনৃত্য 'দাবকে' পরিবেশন করিয়েছিলেন, যা নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

 

সূত্রটির দাবি, স্কুলের অধ্যক্ষ জর্জ জর্জিলাকিস নিজেও এই ধরনের অতি-প্রগতিশীল বা 'ওক' (woke) নীতিগুলোকে সমর্থন করেন। শুধু তাই নয়, স্কুলটিতে এলজিবিটিকিউ+ বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ একটি 'রেইনবো রুম' রয়েছে, যেখানে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করতে পারে।

 

এছাড়া গত ৫ মে অভিভাবকদের কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়েই দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সামনে ট্রান্সজেন্ডার লেখক কাইল লুকফের একটি বই পড়ার আয়োজন করা হয়েছিল। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নিউইয়র্কের শিক্ষা বিভাগ (ডিওই) জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ইভেন্টের আগে যেন পরিবারগুলোকে আগে থেকে নোটিশ দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
দেউলিয়া হয়ে ৫ আগস্ট থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে সালাদ অ্যান্ড গো'র সব শাখা। ছবি: সংগৃহীত
দেউলিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্ধ হচ্ছে সালাদ অ্যান্ড গো'র সব শাখা

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্ট-ফুড চেইন সালাদ অ্যান্ড গো তাদের সব শাখা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ৫ আগস্ট থেকে তাদের সব আউটলেটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।   ২০১৩ সালে অ্যারিজোনার গিলবার্টে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির অ্যারিজোনা ও নেভাডা অঙ্গরাজ্যে মোট ৭০টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে টাকসন এলাকাতেই রয়েছে সাতটি শাখা।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ৪ আগস্ট তারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়া আইন অনুযায়ী চ্যাপ্টার ১১-এর অধীনে আবেদন করেছে। তবে পুনর্গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।   এক বিবৃতিতে সালাদ অ্যান্ড গো জানায়, ভোক্তাদের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরে কমে যাওয়া, অতীতের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এছাড়া জুলাই মাসে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ নিয়ে পুরো শিল্পে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়, সেটিও ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে ওই সংক্রমণের ঘটনায় সালাদ অ্যান্ড গো জড়িত ছিল না বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।   সালাদ অ্যান্ড গো-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা টনি ও রুশান ক্রিস্টোফেলিস ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটি একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে তারা অ্যাঞ্জিস গ্রিল নামে নতুন একটি রেস্তোরাঁ চেইন চালু করেন। তারা জানিয়েছেন, সালাদ অ্যান্ড গো বন্ধ হয়ে গেলেও অ্যাঞ্জিস গ্রিলের কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দুই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ১৩ বছর আগে সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা সালাদ অ্যান্ড গো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিণতি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের হলেও, কর্মী, গ্রাহক, সরবরাহকারী ও সমর্থকদের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   তারা আরও বলেন, তাদের নতুন প্রতিষ্ঠান অ্যাঞ্জিস গ্রিলেও একই লক্ষ্য থাকবে—সব শ্রেণির মানুষের জন্য উন্নত মানের খাবার সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেওয়া।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ২:৯
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সফরের আগেই তার গলফ ক্লাবে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন আটক। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের গলফ ক্লাবে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন আটক, মিলল রাইফেল ও গুলি

প্রতারণা ঠেকাতে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে নিষিদ্ধ করা হলো সব ক্রিপ্টো এটিএম। ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণা ঠেকাতে মিনেসোটায় বন্ধ করা হলো ক্রিপ্টো এটিএম

মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান অনুযায়ী নির্মাণ ও খনি খাতের কর্মীদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৭৬ হাজার ৭৬০ ডলার। ছবি: সংগৃহীত

ভালো আয়ের খোঁজে কারিগরি পেশা বেছে নিচ্ছেন মার্কিন জেন জেড তরুণরা

যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য পুষ্টি কর্মসূচির অধীনে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে দুধ ও শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ১০টি জিনিস একেবারে ফ্রি, তবু না জেনে টাকা খরচ করছেন অনেক বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে এমন অনেক সেবা ও সুবিধা রয়েছে, যা নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে তথ্যের অভাব বা সচেতনতার ঘাটতির কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবার এসব সুবিধা গ্রহণ না করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অর্থ ব্যয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় কাউন্টি অফিস, পাবলিক লাইব্রেরি ও কমিউনিটি সংস্থাগুলোর সেবা সম্পর্কে জানলে বছরে হাজার হাজার ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।   যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি হলো নারী, নবজাতক ও শিশু পুষ্টি কর্মসূচি। আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য দুধ, শিশু খাদ্য, ডিম, সিরিয়াল, ফলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার বিনামূল্যে দেওয়া হয়।   অনেক অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কমিউনিটিতে পরিচালিত ডায়াপার বিতরণ কর্মসূচি থেকে প্রয়োজনীয় পরিবারগুলো নিয়মিত বিনামূল্যে ডায়াপার ও শিশু পরিষ্কার করার ভেজা টিস্যু সংগ্রহ করতে পারেন। একইভাবে অনেক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও স্থানীয় স্বাস্থ্য সংস্থা যোগ্য পরিবারকে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে গাড়ির নিরাপত্তা আসন সরবরাহ করে এবং সঠিকভাবে তা স্থাপনের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে।   পাবলিক লাইব্রেরির সেবাও শুধু বই ধার দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক লাইব্রেরিতে সদস্যরা ইন্টারনেট সংযোগ যন্ত্র, বহনযোগ্য কম্পিউটার, জাদুঘরে প্রবেশের অনুমতিপত্র, খেলনা, সেলাই মেশিন এবং বিভিন্ন রান্নার সরঞ্জামও ধার নিতে পারেন। কিছু লাইব্রেরিতে মৌসুমি সবজির বীজ বিনামূল্যে সংগ্রহের ব্যবস্থাও রয়েছে।   যাদের বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগের বিনামূল্যের কর্মসূচি অথবা স্বেচ্ছাসেবী আয়কর সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা খরচে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন। ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না।   গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও বিভিন্ন গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচির আয়োজন করে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিনামূল্যে বিনিময়ভিত্তিক কমিউনিটি গ্রুপের মাধ্যমে ব্যবহৃত হলেও ভালো অবস্থার সোফা, খাট, শিশুর গাড়ি, শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ নানা জিনিস বিনামূল্যে পাওয়া যায়।   স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে ফ্লু টিকা, রক্তচাপ পরীক্ষা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও দাঁতের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এসব সুবিধা সব এলাকায় একরকম নয় এবং স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সুবিধার যোগ্যতা, আয়সীমা ও সেবার ধরন অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহরভেদে পরিবর্তিত হয়। তাই কোনো সুবিধা গ্রহণের আগে স্থানীয় কাউন্টি অফিস, পাবলিক লাইব্রেরি, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী হেলিকপ্টারের নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার নিয়ে তদন্তে মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ

শেয়ারবাজারে বড় উত্থানের অন্যতম কারণ তেলের দামের বড় পতন। ছবি: সংগৃহীত

তেলের দাম কমতেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারিতে প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারিতে এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ, গণনা শেষ ৪৪ শতাংশ ভোট

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটন এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক জিপ কোড। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা, শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটন

দুই বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক জিপ কোডের তালিকায় শীর্ষস্থান হারিয়েছে ফ্লোরিডার মিয়ামির ফিশার আইল্যান্ড। এবার সেই অবস্থান দখল করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ছোট শহর অ্যাথারটন। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত উত্থান এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিপুল সম্পদ বৃদ্ধিই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।   রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্রপার্টিশার্ক এবং সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অ্যাথারটনের (জিপ কোড ৯৪০২৭) বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। সান মাতেও কাউন্টিতে অবস্থিত অ্যাথারটন সান হোসে শহর থেকে প্রায় ১৮ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। দীর্ঘদিন ধরেই এটি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং ধনকুবেরদের পছন্দের আবাসিক এলাকা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে এলাকাটির সম্পত্তির মূল্য আরও দ্রুত বেড়েছে।   ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অ্যাথারটনে ৩ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অন্তত পাঁচটি বাড়ি বিক্রি হয়েছে। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা শেয়ার থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক লাভের পর বিলাসবহুল বাড়ি কিনছেন, যা আবাসন বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি করেছে। অ্যাথারটনের বাসিন্দাদের মধ্যে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক অ্যান্ড্রিসেন, হোয়াটসঅ্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জান কৌম এবং এনবিএ তারকা স্টিফেন কারিও রয়েছেন।   অন্যদিকে, গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল জিপ কোড ছিল ফ্লোরিডার মিয়ামির ফিশার আইল্যান্ড (জিপ কোড ৩৩১০৯)। মহামারির সময় উচ্চ করের অঙ্গরাজ্য ছেড়ে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চলে আসা হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক, প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারী এবং বিলিয়নিয়ারদের কারণে এলাকাটির সম্পত্তির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।   ফিশার আইল্যান্ডে বসবাসকারীদের মধ্যে কেন গ্রিফিন, জেফ বেজোস এবং কার্ল আইকানের মতো ধনকুবেরদের নামও আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে দ্বীপটি দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেলেও এটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিলাসবহুল আবাসিক এলাকাগুলোর একটি।   মাত্র ২১৬ একর আয়তনের এই ব্যক্তিগত দ্বীপে পৌঁছানো যায় শুধু ফেরি, ব্যক্তিগত ইয়ট বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে। এখানকার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও প্রাসাদসম বাড়ির দাম কয়েক কোটি ডলার থেকে শুরু করে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্তও পৌঁছায়। বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে ব্যক্তিগত সৈকত, গলফ কোর্স, মেরিনা, কান্ট্রি ক্লাবসহ নানা উচ্চমানের সুযোগ-সুবিধা।   যদিও এবার শীর্ষস্থান হারিয়েছে ফিশার আইল্যান্ড, তবুও দক্ষিণ ফ্লোরিডার অতিবিলাসবহুল আবাসন বাজারের শক্ত অবস্থান এখনো অটুট। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের ১১টি আবাসিক সম্পত্তি বিক্রির মধ্যে সাতটিই ছিল ফ্লোরিডায়।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সম্পদ সৃষ্টির ভৌগোলিক কেন্দ্র কীভাবে বদলাচ্ছে, তারই প্রতিফলন। আগে যেখানে হেজ ফান্ড ও আর্থিক খাতের প্রভাব বেশি ছিল, এখন সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিকর্মীরাই বিলাসবহুল আবাসন বাজারে নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২৩:৫১
প্রবীণদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণা চক্রের অভিযোগে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বয়স্কদের টার্গেট করে ২২ লাখ ডলারের প্রতারণা, ফ্লোরিডায় গ্রেপ্তার ৩ চীনা নাগরিক

এইচওএর ফি ও নিয়ম না জানলে বাড়ির মালিকদের জন্য তৈরি হতে পারে আইনি জটিলতা। ছবি: সংগৃহীত

শুধু ব্যাংকের মর্টগেজ নয়, এইচওএর ফি না দিলেও হারাতে পারেন নিজের বাড়ি

বেবিসিটারের বাড়িতে খেলনা কিচেন সেটে আটকে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় বেবিসিটারের বাড়িতে খেলনা কিচেন সেটে আটকে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

0 Comments