আমেরিকা

একটি ফোন কলেই উধাও হতে পারে সারা জীবনের সঞ্চয়, প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে সতর্ক করল এফবিআই

Unknown প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২০:৫০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ফোন কলের মাধ্যমে পরিচয় গোপন করে কিংবা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) নাগরিকদের বেশ কয়েকটি বহুল প্রচলিত ফোনভিত্তিক প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

 

সংস্থাটির বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক নির্দেশনা ও সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতারকরা সাধারণত ভয়, আতঙ্ক বা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা সরকারি সংস্থা, ব্যাংক বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে যোগাযোগ করে।

 

এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরকে কেন্দ্র করে প্রতারণা। এ ধরনের ফোন কলে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর স্থগিত করা হবে অথবা তার নামে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা অর্থ দাবি করা হয়। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসন সাধারণত ফোনে কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য চায় না।

 

আরেকটি পরিচিত প্রতারণা হলো ট্যাক্স সংক্রান্ত ভুয়া কল। প্রতারকরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (IRS) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে ভুক্তভোগীর বকেয়া কর রয়েছে এবং তা দ্রুত পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ আইআরএস সাধারণত কর সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম যোগাযোগ ডাকযোগে বা আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে করে থাকে।

 

ব্যাংকিং খাতকেও লক্ষ্যবস্তু করছে প্রতারকরা। অনেক সময় ফোন করে বলা হয়, গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওটিপি, যাচাইকরণ কোড কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে কোনো বৈধ ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা নিরাপত্তা কোড জানতে চায় না।

 

প্রযুক্তি সহায়তার নামে প্রতারণাও বাড়ছে। এ ধরনের কলে বলা হয়, ব্যবহারকারীর কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং তা সমাধানের জন্য দূর থেকে ডিভাইসে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনুরোধ গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, আর্থিক তথ্য বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান সাধারণত বিনা কারণে গ্রাহকদের ফোন করে এ ধরনের সতর্কবার্তা দেয় না।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত ভয়েস প্রতারণা। এ ক্ষেত্রে প্রতারকরা পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিত কারও কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করে। এফবিআই সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি বলছে, কোনো জরুরি আর্থিক অনুরোধ পাওয়া গেলে অর্থ পাঠানোর আগে অন্য কোনো মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনে কেউ যদি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ভয় দেখায়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে অথবা অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য দাবি করে, তাহলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে কলটি কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও সতর্কতাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একটি অসতর্ক মুহূর্তেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন যে কেউ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
শেয়ারবাজারে বড় উত্থানের অন্যতম কারণ তেলের দামের বড় পতন। ছবি: সংগৃহীত
তেলের দাম কমতেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার মঙ্গলবার শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন শেষ করেছে। তেলের দামে বড় পতন, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করপোরেট আয় এবং প্রযুক্তি খাতের উত্থানের প্রভাবে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোন্স নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।   লেনদেন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫২ পয়েন্টে পৌঁছে নতুন সর্বোচ্চ অবস্থান স্পর্শ করে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৫৮৪ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে। ডাও জোন্স ৯০৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৫৪ হাজার ৮৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে।   প্রযুক্তি খাতের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। শিল্প ও উপকরণ খাতেও প্রায় ২ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর্থিক খাত ১ শতাংশের বেশি এগিয়েছে, যেখানে গোল্ডম্যান স্যাকসের শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।   বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয় তেলের দামে বড় পতনের পর। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে খুব শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমে আসে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৮৫ ডলারে।   করপোরেট আয়ের ইতিবাচক ফলও বাজারকে চাঙা করেছে। প্যালান্টির টেকনোলজিস প্রত্যাশার চেয়ে ভালো দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফল প্রকাশ এবং পূর্ণ বছরের আয়ের পূর্বাভাস বাড়ানোর পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সেমিকন্ডাক্টর খাতেও শক্তিশালী উত্থান দেখা যায়। মাইক্রন টেকনোলজির শেয়ার ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ার ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।   ক্যাটারপিলারও বাজার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো প্রান্তিক ফল প্রকাশ করে এবং আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতির চাহিদা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে অ্যামাজনের শেয়ার ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দাখিল করা নথিতে জানানো হয়।   একই দিনে ইউরোপের শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচক ৬৫৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে উঠে নতুন রেকর্ড গড়ে। জার্মানির ডিএএক্স, ফ্রান্সের সিএসি ৪০, ইতালির এফটিএসই এমআইবি ৩০, যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ এবং স্পেনের আইবিইএক্স ৩৫ সূচকও দিনের লেনদেন শেষে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ০:১৯
মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারিতে প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারিতে এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ, গণনা শেষ ৪৪ শতাংশ ভোট

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটন এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক জিপ কোড। ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা, শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটন

প্রবীণদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণা চক্রের অভিযোগে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বয়স্কদের টার্গেট করে ২২ লাখ ডলারের প্রতারণা, ফ্লোরিডায় গ্রেপ্তার ৩ চীনা নাগরিক

এইচওএর ফি ও নিয়ম না জানলে বাড়ির মালিকদের জন্য তৈরি হতে পারে আইনি জটিলতা। ছবি: সংগৃহীত
শুধু ব্যাংকের মর্টগেজ নয়, এইচওএর ফি না দিলেও হারাতে পারেন নিজের বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনলে শুধু ব্যাংকের মর্টগেজের কিস্তি পরিশোধ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। অনেক আবাসিক কমিউনিটিতে বসবাসকারীদের জন্য হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এইচওএ) এর নির্ধারিত মাসিক বা বার্ষিক ফি, বিশেষ মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন জরিমানাও সময়মতো পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। এসব অর্থ দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে শুধু অতিরিক্ত আর্থিক চাপই নয়, চরম পরিস্থিতিতে নিজের বাড়িও হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   সম্প্রতি জর্জিয়া, ওহাইও, মেরিল্যান্ড ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এইচওএর বকেয়া ফি, জরিমানা ও আইনি ব্যয়কে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে বিরোধের একাধিক ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব ঘটনার পর এইচওএর ক্ষমতা এবং বাড়ির মালিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আইনপ্রণেতারা এইচওএর ফোরক্লোজারের ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা করছেন।   হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এইচওএ হলো এমন একটি আবাসিক পরিচালনা সংস্থা, যা কমিউনিটির রাস্তা, পার্ক, সুইমিং পুল, ক্লাবহাউস, নিরাপত্তা, ল্যান্ডস্কেপিংসহ বিভিন্ন সাধারণ সুবিধার রক্ষণাবেক্ষণ করে। এসব সেবার ব্যয় মেটাতে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত ফি আদায় করা হয়। পাশাপাশি কমিউনিটির নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে।   হোম ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বাড়ির মালিক এইচওএর নির্ধারিত ফি বা বৈধ জরিমানা দীর্ঘদিন পরিশোধ না করলে সংস্থাটি প্রথমে ওই সম্পত্তির বিরুদ্ধে ‘লিয়েন’ বা আইনি দাবি নিবন্ধন করতে পারে। এরপরও বকেয়া পরিশোধ না হলে অনেক অঙ্গরাজ্যের আইনে এইচওএ আদালতের মাধ্যমে ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ পায়।   তবে অনেক মর্টগেজ কর্মকর্তারা বলছেন, এইচওএর ফি বকেয়া থাকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ফোরক্লোজার হয়ে যাবে, বিষয়টি সব সময় এমন নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথমে একাধিক নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর বিলম্ব ফি, সুদ, আদায় ব্যয়, আইনজীবীর ফি এবং আদালতের খরচ যোগ হতে থাকে। দীর্ঘদিন বিষয়টি উপেক্ষা করলে আর্থিক দেনা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে।   অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলারের বকেয়া থাকলেও পরে সুদ, জরিমানা ও আইনি ব্যয় যোগ হয়ে মোট দেনা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার বা তারও বেশি হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও আদালতের ঝামেলাও তৈরি হতে পারে।   রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী ফোরক্লোজার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ফোরক্লোজার সংক্রান্ত নোটিশ ও আইনি কার্যক্রম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়েছে। দুই বছর আগের তুলনায় এ হার ২৮ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপের কারণে অনেক বাড়ির মালিক আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সংকটে পড়ছেন।   এ ক্ষেত্রে রিয়েল্টররা পরামর্শ দিচ্ছেন, এইচওএ থেকে কোনো বকেয়া বা লিয়েনের নোটিশ পেলে তা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। নোটিস ঠিক মতো যাচাই করে দ্রুত এইচওএর সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে বা কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করে বড় ধরনের আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব।   যুক্তরাষ্ট্রে যারা এইচওএ নিয়ন্ত্রিত কমিউনিটিতে বাড়ি কিনতে চান, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো শুধু বাড়ির দাম বা ব্যাংকের মর্টগেজের কিস্তি নয়, এইচওএর মাসিক বা বার্ষিক ফি, কমিউনিটির নিয়ম, জরিমানার নীতিমালা এবং বকেয়া থাকলে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সেসব বিষয়ও আগে থেকেই ভালোভাবে জেনে নেওয়া। কারণ, অনেক সময় বাড়ির মালিকেরা মর্টগেজের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করলেও এইচওএর নিয়ম বা ফি সম্পর্কে অসচেতন থাকার কারণে অপ্রত্যাশিত আর্থিক ও আইনি সমস্যার মুখে পড়েন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২২:৫৬
বেবিসিটারের বাড়িতে খেলনা কিচেন সেটে আটকে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় বেবিসিটারের বাড়িতে খেলনা কিচেন সেটে আটকে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

নিউ জার্সিতে ভোটার নিবন্ধন ত্রুটি নিয়ে চলছে স্বাধীন তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সির ভোটার নিবন্ধন ত্রুটি ভোট জালিয়াতির নয়, অভিবাসীবিরোধী রাজনীতির প্রতিফলন

ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে আলামেডা কাউন্টি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার এক কাউন্টিতে ঘণ্টাপ্রতি ৩০ ডলার সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণের পথে, হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ

উইসকনসিনে বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিচ্ছেদ শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদের শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক বাবা ও তার দুই কিশোরী কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির পর নিহত শিশুদের মা অভিযোগ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এলেও তার কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এদিকে পুলিশ এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএলইউকে (WLUK) ও এনবিসি ২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার উইসকনসিনের উইনেকনি (Winneconne) শহরের একটি বাড়িতে কল্যাণ নিশ্চিত করতে (ওয়েলফেয়ার চেক) গিয়ে পুলিশ ৫৭ বছর বয়সী জেফ্রি ম্যানকে (Jeffrey Manke) এবং তার দুই মেয়ে ১৬ বছর বয়সী জেইলি (Jaely) ও ১১ বছর বয়সী লেনোরা (Lenora)-র মরদেহ উদ্ধার করে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেফ্রি ম্যানকে ও তার স্ত্রী লিন্ডসি লিউয়ান্ডোস্কির (Lindsey Lewandowski) মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে তাদের মধ্যে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া এগোচ্ছিল। তবে সন্তানদের হেফাজতের বিষয়ে আদালত শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকেই যৌথ আইনগত অভিভাবকত্বের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করে। যদিও লিন্ডসি একক হেফাজতের আবেদন করেছিলেন, তা মঞ্জুর হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে জেফ্রি ম্যানকের বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ (Restraining Order) জারি হয়েছিল। সেই নথিতে উল্লেখ ছিল, তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশাধিকার রয়েছে। এছাড়া সন্তানদের সঙ্গে থাকার সময় তাকে মাদক বা অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকার নির্দেশও ছিল।   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লিন্ডসি অভিযোগ করেন, তার দুই মেয়ে বাবার কাছে নিজেদের নিরাপদ মনে করত না। তিনি লেখেন, "আমি তাদের নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের এমন জায়গায় পাঠাতে, যেখানে তারা যেতে চাইত না এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করত না।"   তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারের কাউন্সেলর শিশুদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি। শিশু সুরক্ষা সংস্থা (CPS)-তে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সতর্কবার্তার কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।   লিন্ডসি বলেন, "গত দুই বছর ধরে যদি কেউ তাদের সাহায্যের আবেদন শুনত, তাহলে তারা আজ বেঁচে থাকত। আমার সন্তানদের রক্ষা করতে ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে।" তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উইনেবাগো কাউন্টি সার্কিট কোর্ট কিংবা কাউন্টি মানবসেবা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   এদিকে উইনেবাগো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। এটি হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা কি না, সে বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসা পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের অগ্রগতির অপেক্ষা করা হচ্ছে।   ঘটনাটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু হেফাজত, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২০:৫১
১১ বছরের মেয়ের অভিযুক্ত ধর্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে ১১ বছরের মেয়ের অভিযুক্ত ধর্ষককে টিকটকে ফাঁদ পেতে বাড়িতে ডেকে গুলি করেন বাবা

সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ

সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ

নিউইয়র্কে ফ্রি চাইল্ডকেয়ারে বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, তবুও পরিকল্পনায় অটল মামদানি

নিউইয়র্কে ফ্রি চাইল্ডকেয়ারে বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, তবুও পরিকল্পনায় অটল মামদানি

0 Comments