সন্তানদের বিয়ে নিয়ে উদ্বেগে প্রবাসী পরিবারগুলো, অভিবাসন নীতির পরিবর্তনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন নির্দেশনার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে সন্তানদের বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিয়ে করে স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার প্রচলিত প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দীর্ঘ ও জটিল হয়ে ওঠায় অনেক পরিবার এখন তাদের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।
একসময় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অনেক পরিবার দেশে গিয়ে ছেলেমেয়ের বিয়ে দিতেন এবং পরবর্তীতে স্পাউস ভিসার মাধ্যমে নবদম্পতিকে একত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ করে দিতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই পথ আর আগের মতো সহজ নেই। বর্তমানে স্পাউস ভিসা ও গ্রিনকার্ড-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তিতে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রবাসী পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, বিয়ের পর একজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অপরজন বাংলাদেশে অবস্থান করতে বাধ্য হওয়ায় দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে। এতে দাম্পত্য সম্পর্কে মানসিক চাপ, পারিবারিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে দেখতে বারবার বাংলাদেশে যাতায়াত করায় কর্মজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অনেক অভিভাবক মনে করছেন, দীর্ঘ অপেক্ষা ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে দেশে গিয়ে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পাত্র-পাত্রীর মধ্যেই সম্পর্ক খোঁজার দিকে ঝুঁকছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠা তরুণ-তরুণীদের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসা জীবনধারা, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক সময় চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়ায়। খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক দায়িত্ব, গৃহস্থালি কাজ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থেকেও দাম্পত্য জীবনে চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) সম্প্রতি স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নীতিগত নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হতে পারে। কেবল বিশেষ বা ব্যতিক্রমধর্মী পরিস্থিতি প্রমাণ করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
নতুন এই অবস্থান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী ভিসাধারী এবং তাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আবেদন প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে জটিলতা দেখা দিলে দীর্ঘ সময়ের জন্য আলাদা থাকতে হতে পারে।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। আবেদনকারীর অভিবাসন ইতিহাস, আইন মেনে চলার রেকর্ড, তথ্য গোপনের অভিযোগ কিংবা অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা বৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে অতীতে স্ট্যাটাস লঙ্ঘন, ওভারস্টে বা অন্য কোনো অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে আবেদন অনুমোদনের পথ কঠিন হতে পারে।
নতুন নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আবেদন করলেই গ্রিনকার্ড অনুমোদনের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কনস্যুলার সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সাক্ষাৎকার শেষে ভিসা অনুমোদিত হলে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ মিলবে। তবে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, নতুন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে অনেক পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তাদের পরামর্শ, বিয়ে ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাটর্নি খায়রুল বাশার বলেন, বৈধভাবে বিবাহিত এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীরা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া বা প্রতারণামূলক বিয়ের চেষ্টা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর ফলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তার মতে, যেসব ক্ষেত্রে পারিবারিক, মানসিক বা মানবিক কারণে বিশেষ ধরনের কষ্টের বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব, সেখানে কিছু সুযোগ থাকতে পারে। তবে সেটি কোনোভাবেই নিশ্চিত নয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে বিয়ে ও অভিবাসন পরিকল্পনা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আগের তুলনায় এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিবাসন প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় এবং পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনা করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
ফলে সন্তানদের বিয়ে নিয়ে প্রবাসী পরিবারগুলোর পরিকল্পনায় নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। একসময় যে প্রক্রিয়াকে তুলনামূলক সহজ বলে মনে করা হতো, এখন তা অনেকের কাছেই দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার বিষয় হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকটের চাপ এখনো কাটেনি। উচ্চ মর্টগেজ সুদ, নির্মাণ ব্যয় এবং ক্রয়ক্ষমতার চাপের মধ্যে আগস্টে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি কমেছে। একই সময়ে সাশ্রয়ী বাসার সংকটও রয়ে গেছে বলে সাম্প্রতিক আবাসন বাজারের তথ্য ও গবেষণায় উঠে এসেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। আরও বড় পতন হয়েছে নির্মাণ শেষ হওয়া বাড়ির সংখ্যায়—এক বছরের ব্যবধানে তা ২৭ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। তবে সব ধরনের নির্মাণে একই চিত্র দেখা যায়নি। একক পরিবারের বাড়ির নির্মাণ শুরু জুলাইয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে একাধিক পরিবারের জন্য নির্মিত ভবনের কাজ শুরু আগের মাসের তুলনায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমের উচ্চ ব্যয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন আবাসন নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের দাম ৪২ শতাংশ এবং নির্মাণশ্রমিকের কর্মসংস্থান ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য মর্টগেজ সুদও বড় চাপ হয়ে আছে। ফ্রেডি ম্যাকের ২৪ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের গড় সুদ ৭ দশমিক ০৩ শতাংশে উঠেছে। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে ভাড়ার বাজার কিছুটা ঠান্ডা হলেও সাশ্রয়ী বাসার সংকট কাটেনি। হার্ভার্ডের জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণ কার্যক্রম দুর্বল হচ্ছে এবং ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিক—উভয়ের আবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। আর মার্চের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে পেশাদারভাবে পরিচালিত অ্যাপার্টমেন্টের চাওয়া ভাড়া এক বছরের ব্যবধানে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমলেও বহু পরিবারের জন্য বাসা এখনো নাগালের বাইরে। দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঘাটতির বিষয়টিও এই বাজারের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ প্রকাশিত জাতীয় ঘাটতির হিসাবে, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩৭ লাখ হাউজিং ইউনিট কম ছিল। এটি ২০২৬ সালের বর্তমান ঘাটতির হিসাব নয়; তবে প্রতিষ্ঠানটির ওই গবেষণা দেখায়, কয়েক বছর ধরে নতুন বাড়ি যুক্ত হওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি বড় রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক চিত্রে একদিকে কিছু রেন্টাল মার্কেটে ভাড়া স্থিতিশীল বা কমছে, অন্যদিকে উচ্চ মর্টগেজ সুদ, নির্মাণ ব্যয় এবং নতুন বাড়ি সম্পন্ন হওয়ার ধীরগতি আবাসন বাজারের ওপর চাপ ধরে রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সংকট এখন শুধু কত বাড়ি আছে সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়—মানুষের নাগালের মধ্যে কত বাসা পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। সূত্র: ফ্রেডি ম্যাক, হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজ, রিয়েলটর ডটকম
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিতের পক্ষে ৪ রিপাবলিকান, এক ভোটে ব্যর্থ প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় আবেদন ফি নেই ৭ ক্যাটাগরির, কারা পাবেন এই সুবিধা
সুপার এল নিনোতে বাড়বে তাপপ্রবাহ, বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃ ত্যুর আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় পুরোনো পাওয়ার গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে দেশটির জ্বালানি বিভাগ। এই অর্থ ২৬টি অঙ্গরাজ্যের ৩১টি প্রকল্পে দেওয়া হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ২৩ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে, যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়ার সমান। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে শুধু নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য সেন্সরসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। কোথাও বিদ্যুতের লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ অন্য পথে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০০ মাইলের বেশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন উপাদান উন্নত করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার মাইলজুড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আনা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করার পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রিড থেকে অতিরিক্ত সক্ষমতা বের করে আনার সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ দেওয়া হবে। এর সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ৩৩৫ কোটি ডলার ব্যয় করবে। অর্থাৎ সরকারি অনুদানের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্থানীয় অংশীদারদের অর্থায়নও থাকছে। অর্থ পাবে বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, কো-অপারেটিভ এবং কলোরাডো, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও ও ওকলাহোমার চারটি সরকারি সংস্থা। এসব অঙ্গরাজ্য সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮১ কোটি ডলার পাবে। এর মধ্যে কলোরাডো ও ওকলাহোমার প্রকল্পগুলো বড় আঞ্চলিক গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার, শিল্পকারখানা, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে দেশটির পুরোনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষমতা বাড়ানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন করা হচ্ছে কংগ্রেসে পাস হওয়া দ্বিদলীয় অবকাঠামো আইনের অর্থ থেকে। আইনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় পাস হয়েছিল। অর্থাৎ বর্তমান উদ্যোগের অর্থের উৎস আগের প্রশাসনের সময় অনুমোদিত অবকাঠামো তহবিল। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতকে আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার প্রশাসন দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর কিছু পরিবেশগত বিধিনিষেধ কমানো এবং পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দীর্ঘ সময় চালু রাখার মতো নীতির ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন অফশোর উইন্ড প্রকল্পের ইজারা পুনরায় কিনতেও প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে নতুন গ্রিড প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো। ২৬টি অঙ্গরাজ্যে পরিকল্পিত ৩১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরোনো গ্রিড থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সরবরাহ করার সুযোগ তৈরি হবে।
সোশ্যাল সিকিউরিটির টাকা ফুরিয়ে আসছে, ট্রাস্ট ফান্ড শেষ হতে পারে ২০৩২ সালে
প্রায় সব এফবিআই এজেন্টের ‘অতি সংবেদনশীল তথ্য’ চুরির দাবি হ্যা কারদের
কম যাত্রী ও জ্বালানির উচ্চমূল্যে নরস আটলান্টিকের প্রায় সব যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইট বাতিল
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কর্মকর্তা শরীফুল এম. খান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পৌঁছেছেন। ২০২৫ সালের ৩০ জুন থেকে তাঁর পদোন্নতি কার্যকর হয়। বর্তমানে তিনি পেন্টাগনে মার্কিন স্পেস ফোর্সের সদর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে এ পদে পৌঁছানো প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। স্পেস ফোর্সের হালনাগাদ জীবনী অনুযায়ী, শরীফুল খান ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান দায়িত্বে আছেন। সদর দপ্তরের নীতি, পরিকল্পনা ও বিভিন্ন বিভাগের কাজের সমন্বয় তাঁর দায়িত্বের অংশ। এর আগে তিনি পেন্টাগনে ‘গোল্ডেন ডোম ফর আমেরিকা’ কর্মসূচির ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন বলে ২০২৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাই ওই পদকে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না। শরীফুল খান ১৯৯৭ সালে ইউএস এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে কমিশন পান। সামরিক জীবনে স্যাটেলাইট পরিচালনা, স্পেস সিস্টেম ও উৎক্ষেপণসংক্রান্ত কাজে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১ সালে তিনি কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে এবং ২০০৭ সালে ‘অপারেশন সাইলেন্ট সেন্ট্রি’তে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ৩৭৯তম স্পেস রেঞ্জ স্কোয়াড্রনের কমান্ডার ছিলেন। পরে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কলোরাডোয় ৩১০তম স্পেস উইংয়ের নেতৃত্ব দেন। স্পেস ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই দায়িত্বে প্রায় ১ হাজার ৫০০ সামরিক সদস্যের কার্যক্রম তদারক করেছেন তিনি। সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি স্পেস সিস্টেমস অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট, স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স ও মিলিটারি স্ট্র্যাটেজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। তাঁর পাওয়া সম্মাননার মধ্যে রয়েছে লিজিয়ন অব মেরিট, ডিফেন্স মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল ও মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল। সূত্র : আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
নিজের ছোড়া গুলিতে বিকৃত হয়ে যায় মুখমণ্ডল, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পেলেন নতুন জীবন
মুদিপণ্য কিনতে কিস্তির ঋণ নিচ্ছেন ২৯ শতাংশ আমেরিকান, বাড়তি খরচের আশঙ্কা