যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সরকারি স্কুলের সিলেবাসে বাইবেল পড়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব পাস
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ‘স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন’ পাবলিক স্কুলগুলোর প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী (K-12) পর্যন্ত ইংরেজি ও সাহিত্য পাঠ্যক্রমে বাইবেলের বাণী এবং গল্প অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই নতুন পরিকল্পনার ফলে টেক্সাসের ৫০ লাখেরও বেশি সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী সরাসরি প্রভাবিত হবে। আমেরিকার ক্লাসরুমগুলোতে খ্রিষ্টীয় শিক্ষা যুক্ত করার জন্য রক্ষণশীলদের জাতীয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে টেক্সাস এখন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রতিটি গ্রেডের জন্য নির্দিষ্ট কিছু বই বা লেখার তালিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ পড়তে হবে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ডেভিড অ্যান্ড গোলিয়াথ’-এর সচিত্র রূপান্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আদম ও ইভ’-এর মতো বাইবেলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক অধ্যায় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সাথে আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত ‘গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস’-সহ ঐতিহাসিক মার্কিন দলিল এবং ক্লাসিক সাহিত্যের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ২০৩০-২০৩১ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে শুরু করবে বলে শিক্ষা বোর্ড নিশ্চিত করেছে।
এই একই সভায় শিক্ষা বোর্ড রাজ্যের সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যক্রমের একটি বড় পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। নতুন এই সংশোধনীতে বৈশ্বিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাঠ কমিয়ে টেক্সাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘ওয়ার্ল্ড কালচারস’ কোর্সটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সাম্যবাদ বা কমিউনিজম সম্পর্কিত পাঠ্যসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এই আমূল পরিবর্তনটি শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র মতভেদ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, বাইবেলকে একটি অপরিহার্য সাহিত্যিক পাঠ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, যা শিক্ষার্থীদের পশ্চিমা ইতিহাস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি বুঝতে সাহায্য করবে। রিপাবলিকান পার্টির সদস্য এবং স্প্রিংটাউনের যাজক ব্র্যান্ডন হল বলেন, মার্কিন ইতিহাসকে হালকাভাবে দেখানোর দিন শেষ। আমাদের জাতি একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং টেক্সাস একটি খ্রিষ্টান রাজ্য। আইনের ওপর বাইবেলের গভীর প্রভাব রয়েছে এবং এটি শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছেন যে এই সিদ্ধান্তটি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। টেক্সাসের পাবলিক স্কুলগুলোতে ইসলাম, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মসহ বিভিন্ন বিশ্বাসের শিক্ষার্থী রয়েছে, যেখানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নাগরিক অ-খ্রিষ্টান। বোর্ডের একমাত্র রিপাবলিকান সদস্য ইভলিন ব্রুকস এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে এটিকে ‘অসংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। হিউস্টনের একজন ইহুদি ধর্মগুরু বা রাব্বি জোশুয়া ফিক্সলার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই তালিকা শিক্ষকদের সাধারণ শিক্ষার পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি ধর্ম শেখাতে বাধ্য করবে, যা জনশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বড় দোকান বা বিপুল মূলধন ছাড়াই খুচরা ব্যবসা শুরু করার একটি সম্ভাব্য পথ হলো শপিং মলের কার্ট বা কিয়স্ক ব্যবসা। মোবাইল ফোনের কভার ও আনুষঙ্গিক পণ্য, ইমিটেশন জুয়েলারি, পার্স-ব্যাগ, প্রসাধনী, ফ্যাশন সামগ্রী, শিশুদের পণ্য ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী নিয়ে এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শপিং সেন্টারে কার্ট, কিয়স্ক ও স্বল্পমেয়াদি খুচরা জায়গা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মলের অবস্থান, ভাড়া, লিজের মেয়াদ, পণ্যের ধরন ও অন্যান্য খরচের ওপর প্রাথমিক বিনিয়োগ নির্ভর করলেও ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলারের মতো মূলধন থাকা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা উপযুক্ত সুযোগ পেলে এ ধরনের ব্যবসা শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এ ধরনের ব্যবসার একটি বাস্তব উদাহরণ ওকলাহোমার উদীয়মান ব্যবসায়ী সেলিম খান। আমেরিকা বাংলাকে তিনি জানান, প্রায় ৫ হাজার ডলার দিয়ে একটি শপিং মল কার্টের মাধ্যমে তার ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়। প্রথম কার্ট ভালোভাবে চলার পর তিনি ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে আটলান্টা, টেক্সাস ও ওকলাহোমা মিলিয়ে তার মোট ছয়টি কার্ট রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। তার অভিজ্ঞতা দেখায়, ছোট পরিসরে শুরু করে ব্যবসার আয় ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে নতুন লোকেশনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেলিম খানের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত একটি কার্টে কর্মচারীর বেতনসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক খরচ বাদ দেওয়ার পর মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার অবশিষ্ট থাকে। সে হিসাবে একটি কার্ট থেকে বছরে প্রায় ১৮ হাজার ডলার অবশিষ্ট আয় হতে পারে। ছয়টি কার্টে একই গড় ধরে হিসাব করলে বছরে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ডলারের সমপরিমাণ অবশিষ্ট আয়ের হিসাব দাঁড়ায়। সেলিম জানান, যে কার্টে তিনি নিজে বসে ব্যবসা পরিচালনা করেন, সেখানে আয়ের হিসাব আরও ভিন্ন। কর্মচারীর বেতন না দেওয়ার কারণে একটি ব্যয় কমার পাশাপাশি নিজের শ্রমের উপার্জনও যুক্ত হয়। তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এমন একটি কার্টে ব্যবসায়িক খরচ বাদ দেওয়ার পর নিজের শ্রমের আয়সহ মোট বার্ষিক আয় প্রায় ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ মালিক নিজে কাজ করলে ব্যবসা থেকে অবশিষ্ট আয়ের পাশাপাশি নিজের শ্রমের উপার্জনও যুক্ত হয়। অন্যদিকে কর্মচারী দিয়ে পরিচালনা করলে মালিকের দৈনন্দিন উপস্থিতির প্রয়োজন কমলেও কর্মচারীর বেতন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় হয়ে দাঁড়ায়। শপিং মল কার্ট ব্যবসায় পণ্যের ধরন ও লোকেশন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি কার্টে মোবাইল কভার, স্ক্রিন প্রটেক্টর ও অন্যান্য মোবাইল সামগ্রী বিক্রি করা যেতে পারে। অন্য কার্টে ইমিটেশন জুয়েলারি, ঘড়ি, সানগ্লাস, নারীদের অলংকার, পার্স, ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা বা উপহারসামগ্রী রাখা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ছোটখাটো মোবাইল মেরামতের মতো সেবাও যুক্ত করা সম্ভব। তবে এ ধরনের ব্যবসায় মলের অনুমোদন, দক্ষ কর্মী, সরঞ্জাম ও প্রযোজ্য বীমার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হয়। একটি মলে যে পণ্য ভালো বিক্রি করছে, অন্য মলেও সেটি একইভাবে বিক্রি হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। পূর্ণাঙ্গ দোকানের তুলনায় কার্ট বা কিয়স্কে তুলনামূলক কম জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করা যায়। কিছু শপিং সেন্টারে স্বল্পমেয়াদি লিজের সুযোগ থাকায় নতুন উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি বড় দোকানের চুক্তিতে যাওয়ার আগে নিজেদের পণ্য ও ব্যবসায়িক ধারণা পরীক্ষা করতে পারেন। তবে কার্টের রেন্ট, অগ্রিম জমা, পণ্যের মজুত, কর্মচারীর বেতন, বীমা, অনুমোদন, লেনদেনের খরচ এবং কয়েক মাসের পরিচালন ব্যয় আগে থেকেই হিসাব করা জরুরি। ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলারের মূলধন থাকলে পুরো অর্থ একবারে কার্ট ও পণ্য কেনার পেছনে ব্যয় না করে পর্যাপ্ত পরিচালন মূলধন হাতে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য শপিং মল কার্ট ব্যবসা একটি সম্ভাব্য খুচরা ব্যবসার মডেল হতে পারে। একটি ছোট কার্ট দিয়ে বাজার যাচাই করে বিক্রি, খরচ ও লাভের হিসাব বোঝার পর ধাপে ধাপে দ্বিতীয় বা তৃতীয় কার্টে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। সেলিম খানের ৫ হাজার ডলার দিয়ে শুরু করে বর্তমানে আটলান্টা, টেক্সাস ও ওকলাহোমায় ছয়টি কার্ট পরিচালনার অভিজ্ঞতা সেই সম্ভাবনার একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ। তবে একই ফলাফল প্রত্যেক উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে হবে না। সঠিক পণ্য, উপযুক্ত লোকেশন, লিজের শর্ত, পর্যাপ্ত পরিচালন মূলধন এবং নিয়মিত ব্যবসায়িক হিসাবের ওপরই শেষ পর্যন্ত এই ধরনের ব্যবসার বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মা দক-অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৮৯ ও ৭৩ বছরের দুই কিউবান অভিবাসী
নিউইয়র্কে সিটি বাইকের গতি কমায় ২৪ মিনিটের যাত্রায় গুনতে হচ্ছে ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্ক ফেরত পেল কস্টকো, গ্রাহকদের জন্য কমছে দাম
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র নয় মাস পর নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে জনপ্রিয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সম্প্রতি প্রকাশিত কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এক নতুন জরিপে এই অভাবনীয় তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ৪৬ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার মামদানিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। এর বিপরীতে ৩৬ শতাংশের তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে এবং ১৫ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করার মতো যথেষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই। একই দিনে প্রকাশিত সিয়েনা কলেজের আরেকটি পৃথক জরিপেও মামদানির পক্ষে ৪৬ শতাংশ ইতিবাচক সমর্থনের কথা জানানো হলেও, সেখানে তাঁর নেতিবাচক রেটিং কিছুটা বেশি—৪৪ শতাংশ। কুইনিপিয়াক জরিপে মামদানির অবস্থান নিউইয়র্কের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতাদের চেয়েও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, রাজ্যজুড়ে মার্কিন প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের পক্ষে ইতিবাচক সমর্থন ৪১ শতাংশ এবং নেতিবাচক সমর্থন ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, সিনেটের সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমারের পক্ষে ইতিবাচক সমর্থন মাত্র ৩৪ শতাংশ, যেখানে তাঁর নেতিবাচক রেটিং ৫১ শতাংশ। মামদানি এবং ওকাসিও-কর্তেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক সংগঠন 'ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা'-র পক্ষে ২৯ শতাংশ ইতিবাচক ও ৪৩ শতাংশ নেতিবাচক মত দিয়েছেন ভোটাররা। এছাড়া, একই জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যানের চেয়ে ৫৮-৩৯ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল রাজ্যজুড়ে মামদানির প্রায় সমকক্ষ জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। পুরো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় খোদ নিউইয়র্ক সিটিতে জোহরান মামদানির জনসমর্থন আরও বেশি সুসংহত। সিটির পাঁচটি বরো বা এলাকার ৬০ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার তাঁকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন, যার বিপরীতে নেতিবাচক মত দিয়েছেন মাত্র ২৯ শতাংশ ভোটার। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর এই আকাশচুম্বী রেটিং গভর্নর ক্যাথি হোকুল, প্রতিনিধি ওকাসিও-কর্তেজ এবং সিনেটর চাক শুমারের মতো বাঘা বাঘা নেতাদের ইন-সিটি রেটিংকেও ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখ্য, কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এই জরিপটি রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ২৬ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর পরিচালনা করা হয়েছে, যার ভুলের মাত্রা বা মার্জিন অব এরর প্লাস-মাইনাস ৪.১ শতাংশ পয়েন্ট।
মার্কিন গ্রোসারি ব্র্যান্ডের লড়াই: কস্টকো নাকি অ্যালডি, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে কে?
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়ন, ট্রাম্প প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত
ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃষ্টিভেজা রাতে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়া হয়েছিল নবজাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার মা
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে মাঠে নেমেছেন প্রাক্তন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে তাঁর এই ফেরা নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে প্রবল অস্বস্তি; অনেক ডেমোক্র্যাট নেতাই চাইছেন তিনি যেন প্রচারণায় অংশ না নেন। সম্প্রতি মিশিগানে বিতর্কিত মার্কিন সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মন জয় করতে গিয়ে নিজের পুরোনো ‘শব্দজট’ (ওয়ার্ড সালাদ) বা অসংলগ্ন বক্তব্যের বৃত্তেই আটকে থাকতে দেখা গেছে তাঁকে। জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফ এবং নেভাডায় অ্যারন ফোর্ডের জন্য কমলা হ্যারিসের প্রচারণার পরিকল্পনা থাকলেও অনেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সরাসরি তাঁকে প্রত্যাখ্যান করছেন। কানসাসে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী ও মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন তাঁর রাজ্যে হ্যারিসের সফরকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "তাঁকে অসম্মান করছি না, তবে তিনি আমার কোনো উপকারে আসবেন না। আমরা ভিন্ন ঘরানার ডেমোক্র্যাট... আমার রাজ্যে তাঁর আসার দরকার নেই, এতে উল্টো আমারই ক্ষতি হবে।" রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীদের চোখেও হ্যারিসের এই প্রচারণায় প্রভাব ফেলার ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মিডটার্ম নির্বাচন নিয়ে কাজ করা এক ডেমোক্র্যাট কর্মী জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিস ইতিমধ্যেই অনেকের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। অন্যদিকে, এক রিপাবলিকান সূত্রের মতে, শীর্ষ প্রচারক হিসেবে হ্যারিসের গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে এবং তাঁর জনসমর্থন অত্যন্ত হতাশাজনক। ওই সূত্রটি আরও দাবি করে, প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে তিনি এখনও অসংলগ্ন উত্তর দিচ্ছেন; বড়জোর জর্জিয়া বা মিসিসিপির মতো কয়েকটি রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার টানতে তিনি কিছুটা কাজে আসতে পারেন। সম্প্রতি ডেট্রয়েটে মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে কমলা হ্যারিসের বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের গর্ভাবস্থা ও মাতৃকালীন পরিচর্যা নিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে এবং ডেমোক্র্যাট কর্মীদের মধ্যেও হাসির খোরাক জোগায়। একই অনুষ্ঠানে মিশিগানের আকার ও প্রকৃতি নিয়ে তিনি দীর্ঘ এক বক্তৃতা দিলেও সেখানে কোনো সারমর্ম ছিল না। তাঁর এমন আচরণে প্রার্থী এল-সায়েদকেও নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নির্বাচনে হারার পর থেকে কমলা হ্যারিসের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। হার্ভার্ড-হ্যারিসের একটি জরিপ অনুযায়ী, তাঁর পক্ষে সমর্থন রয়েছে মাত্র ৪১ শতাংশ, যেখানে বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৪৮ শতাংশ মানুষ। আলাস্কার সিনেট প্রার্থী মেরি পেলটোলার কাছ থেকে প্রচারণার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর হ্যারিস এখন এমন কয়েকটি নিরাপদ জায়গার সন্ধানে রয়েছেন, যেখানে তাঁর উপস্থিতি অন্তত কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এত কিছুর পরও রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর গড়ে তিনি সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন, যদিও সমালোচকদের মতে এটি কেবল তাঁর পরিচিতির কারণেই টিকে আছে এবং এই সমর্থন খুবই দুর্বল।
পড়ালেখা ছেড়েছিলেন ৮০ বছর আগে, ৯৮ বছর বয়সে পেলেন হাইস্কুল ডিপ্লোমা সনদ
ট্যাক্স রিটার্নে নাগরিকত্ব বা ওয়ার্ক পারমিটের তথ্য দিতে হতে পারে, ২০২৬ সালের খসড়া ফর্মে নতুন প্রশ্ন