অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রন শহরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে টানা পঞ্চম দিনের মতো আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় উপস্থিতির ওপর কঠোর আঘাত হেনে দেশটির সেনাবাহিনী এই নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সাথে ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক শেখ মুতাজ আবু স্নেইনেহ এবং প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হাম্মাম আবু মুরখিয়াকে ১২ দিনের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার থেকে এই আজান দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে বলে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মসজিদের কেন্দ্রীয় চত্বরের ওপর একটি ছাদ তৈরির রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, নামাজ চললেও আজান দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কক্ষটি মসজিদের ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত অংশে অবস্থিত। সেখানকার দায়িত্বরত সেনারা মুয়াজ্জিনকে সেই কক্ষে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না, যার ফলে মাইকে আজান প্রচার করা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ১৯৯৪ সালে একজন চরমপন্থী ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী এই মসজিদে নামাজরত ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা করার পর থেকে ইসরাইল এই পবিত্র স্থানটিকে বিভক্ত করে দেয়।
সেই গণহত্যার পর মসজিদের প্রায় ৬০ শতাংশ অংশ ইহুদিদের জন্য এবং বাকি অংশ মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছেও এই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র, কারণ এখানে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সমাধি রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, বিভক্তির পর থেকেই ইসরাইল ধীরে ধীরে পুরো মসজিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইব্রাহিমি মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, ইমাম ও স্টাফদের বহিষ্কার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওয়াকফ ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইসরাইলের এই দমনমূলক ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মসজিদের প্রশাসনিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে তারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আইনি অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। হেব্রন ডিফেন্স কমিটির সমন্বয়ক হিশাম শারাবাতি জানান, শনিবার এবং ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলোতে আজান নিষিদ্ধ করার এই বৈষম্যমূলক নীতি ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকেই চলে আসছে।
তিনি আরও জানান, প্রতি মাসেই ইসরাইলি সেনারা কোনো কারণ ছাড়াই ৭০ থেকে ৯০ বার আজান দিতে বাধা দেয়। তবে ২০২২ সালের শেষের দিকে বর্তমান কট্টরপন্থী ইসরাইলি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হয়েছে। পূর্বে করোনা মহামারি এবং পরে যুদ্ধের নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মসজিদে প্রবেশে প্রতিনিয়ত বাধা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে যুবক ও নারীদের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মসজিদের একমাত্র প্রবেশদ্বার থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছে ইসরাইলি সৈন্যরা, যা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সূত্র: মিডেল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। এর আগে বাহরাইনে চালানো ইরানের একটি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলার কড়া সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ঘাঁটির অন্যতম কেন্দ্রস্থল কুয়েত একে ‘অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের (পঞ্চম নৌবহর) আবাসস্থল বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারেও অজানা প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটির কিছুটা ক্ষতি হলেও এর ক্রুরা সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথ দিয়ে মাত্র দশটি বাণিজ্যিক জাহাজ পার হতে পেরেছে। মূলত গত বৃহস্পতিবার ওমানের উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এম/ভি এভার লাভলি’-তে ইরানের ড্রোন হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। ওই হামলার জবাবে শুক্রবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের স্থান এবং উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ‘শক্তিশালী পাল্টা হামলা’ চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী (সেন্টকম)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা একটি মেরিটাইম বডি ওমান উপকূল বরাবর জাহাজের রুট সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে, যা তেহরানের প্রতি একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, এই প্রণালিটি ৬০ দিনের জন্য টোল-মুক্ত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ভূত হুমকিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর এমন অযৌক্তিক আগ্রাসন স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন এবং এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এদিকে, গত সোমবার সুইজারল্যান্ডে ইরানের সাথে এক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং আমরা সেটির প্রতি সম্মান দেখিয়েছি। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের কোনো দ্বিমত থাকলে তারা ফোনে কথা বলতে পারে।" তবে ইরানিদের এই আগ্রাসন চলতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "সহিংসতার জবাব কেবল পাল্টা সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।"
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহের পর হঠাৎ বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে লন্ডনের প্রধান দুটি বিমানবন্দর—হিথ্রো এবং গ্যাটউইকে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে দুই বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ৬০০-এরও বেশি ফ্লাইট চরম বিলম্বের শিকার হয়েছে এবং কয়েক ডজন ফ্লাইট সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানের ভেতরেই আটকে আছেন। যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ন্যাটস) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে আবহাওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল থাকায় এই অচলাবস্থা সারা দিন জুড়েই বজায় থাকতে পারে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটঅ্যাওয়ার'-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হিথ্রো বিমানবন্দরের কমপক্ষে ৩৬৭টি এবং গ্যাটউইক বিমানবন্দরের ৩৫২টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তীব্র গরমের মধ্যে বিমানের ভেতরেই বসে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু লন্ডনেই নয়, ইতালির ভেনিসসহ ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরেও হিথ্রো ও গ্যাটউইকগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ২৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ যাত্রী জানান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছাড়াই ভেনিস বিমানবন্দরে তাদের অন্তত চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং ইজিজেটের মতো বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের বেশ কিছু ফ্লাইট আগে থেকেই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এবং যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। লন্ডনের প্রধান দুটি বিমানবন্দর ছাড়াও লিডস ব্র্যাডফোর্ড, এডিনবার্গ এবং লন্ডন সিটি এয়ারপোর্টেও এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত ও বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানের এই শিডিউল বিপর্যয় ঠিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও চড়া বাড়ি ভাড়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী নিজেদের আবাসন ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও ক্যাম্পাস জীবনকে সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে তরুণদের একটি বড় অংশ ঐতিহ্যবাহী আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের নানা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের বার্ষিক 'ইন্টারজেনারেশনাল অডিট' রিপোর্টে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকার প্রায় ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজেদের বাড়িতে থাকার পরিকল্পনা করছেন। এর বিপরীতে ধনী এলাকার মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই সংস্থার প্রেসিডেন্ট ডেভিড উইলেটস জানান, এটি কোনো স্বাধীন বা স্বাভাবিক পছন্দ নয়, বরং সম্পূর্ণ আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন, যা তাদের পরবর্তী জীবনের সামাজিক নেটওয়ার্ক ও সুযোগকে প্রভাবিত করছে। লন্ডন রেন্ট বা উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই দৈনিক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, সকালে ক্লাস শেষ হলেও ক্যারিয়ার বিষয়ক নানা সেমিনার বা সামাজিক ক্লাবের অনুষ্ঠান থাকে সন্ধ্যায়, যার কারণে দীর্ঘ সময় তাঁকে ক্যাম্পাসে অপেক্ষা করতে হয়। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় ও অর্থের অপচয় এড়াতে এই দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে তিনি প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে অনেকেই স্বতঃস্ফূর্ত আড্ডা, নেটওয়ার্কিং এবং ক্যারিয়ারের বড় বড় সুযোগগুলো হাতছাড়া করছেন। তবে এই পরিস্থিতির কিছু ইতিবাচক দিকও দেখছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, বাড়িতে থাকার কারণে তাঁকে বাড়তি ভাড়ার টাকা জোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম চাকরি করতে হচ্ছে না, ফলে তিনি পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন। হাইয়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নিক হিলম্যান বলেন, বাড়িতে থাকার অর্থ হলো কম ঋণ, পরিবারের দৃঢ় সমর্থন এবং পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া। মূল বিষয় হলো শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছেন কি না। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস এবং সাটন ট্রাস্টের গবেষকরা অবশ্য মনে করছেন, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের কোর্স পাওয়া যায় না, যার ফলে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা তাঁদের পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছেন না। দেশটির বর্তমান অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং আবাসন সংকটের কারণে ঐতিহ্যবাহী আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের এই বৈষম্য দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।