আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ ১৯ বছর বয়সী মার্লি কিনির মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত চলছে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ৬:২২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে বন্ধুদের সঙ্গে নৌকাভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৯ বছর বয়সী মার্লি কিনির মরদেহ পাঁচ দিন পর একটি হ্রদ থেকে উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। তার মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় নৌকাটির চালককে মদ্যপ অবস্থায় নৌযান চালানোর অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

 

কেন্টাকি ডিপার্টমেন্ট অব ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ রিসোর্সেস জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে গ্রেসন লেক থেকে মার্লি কিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অ্যাশল্যান্ডের বাসিন্দা মার্লি কিনি গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিলেন।

 

তিনি অন্তত ১০ জন বন্ধুর সঙ্গে ভাড়া করা একটি পন্টুন নৌকায় ভ্রমণে ছিলেন। তদন্তকারীদের তথ্যমতে, টয়লেট ব্যবহারের জন্য তিনি নৌকা থেকে পানিতে নামেন। তবে তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা প্রথমদিকে বুঝতেই পারেননি যে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন।

 

তরুণীকে উদ্ধারে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। অভিযানে সোনার প্রযুক্তি, তাপ শনাক্তকারী যন্ত্র, হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষিত কুকুর, হিট-সিকিং প্রযুক্তি এবং পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ৫০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে অভিযান ব্যাহত হয়।

 

কীভাবে তার মরদেহ শনাক্ত বা উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নৌকাটির চালক ২৩ বছর বয়সী ক্যামেরন পি. কনলিকে মদ্যপ অবস্থায় নৌযান চালানোর অভিযোগে আটক করা হয়েছে। নিখোঁজের ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কেন্টাকি স্টেট পুলিশের এক সদস্য তার শরীর থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ পান এবং তার চোখ লাল ও ঘোলাটে দেখতে পান।

 

পরে শ্বাসের মাধ্যমে অ্যালকোহল পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে তাকে কার্টার কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্লি কিনির পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করবে ফ্র্যাঙ্কফোর্টে অবস্থিত স্টেট মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়।

 

মার্লি কিনি অ্যাশল্যান্ডের ‘স্মোকিন’ জে’স রিব অ্যান্ড ব্রুহাউসে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ দুই দিনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

 

এক বিবৃতিতে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানায়, মার্লি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও পরিশ্রমী একজন কর্মী। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন সবার প্রিয়। নিখোঁজ হওয়ার পর গত কয়েক দিন ধরে তার অনেক সহকর্মীও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বিক্রি কমলেও বাড়ির দাম ও গৃহঋণের উচ্চ সুদ ক্রেতাদের ওপর বাড়াচ্ছে আর্থিক চাপ। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি কমেছে, ঋণের সুদে চাপ বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে আবারও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। জুলাই মাসে ব্যবহৃত বাড়ি বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৪০ লাখ ৬০ হাজার ইউনিটে নেমেছে।   বাড়ি বিক্রি কমলেও দাম কমেনি। জুলাইয়ে ব্যবহৃত বাড়ির জাতীয় মধ্যম বিক্রয়মূল্য এক বছর আগের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাজারে থাকা বাড়ির মজুতও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট হয়েছে।   ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে গৃহঋণের সুদ। জুলাইয়ের শেষ দিকে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণের হার প্রায় ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। আগস্টের ১৩ তারিখে গড় হার সামান্য কমে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ হলেও তা গত বছরের একই সময়ের ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশের চেয়ে বেশি।   উচ্চ সুদ ও বাড়ির বাড়তি দাম একসঙ্গে কাজ করায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২৯ শতাংশ ছিল প্রথমবারের ক্রেতাদের, যেখানে একটি স্বাস্থ্যকর বাজারে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।   অন্যদিকে, পুরোনো বাড়ির মালিকদের একটি বড় অংশও কম সুদের পুরোনো গৃহঋণ ছেড়ে নতুন ঋণে যেতে চাইছেন না। ফলে বাজারে বাড়ির সরবরাহ কম থাকছে এবং এতে দামও তুলনামূলকভাবে উঁচু থাকছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৫:১২
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: গেটি ইমেজ

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, বাড়ছে খেলাপি

আদালতে কয়েদির পোশাকে জেরেমি উইলিয়ামস এবং বাঁ পাশে নিহত পাঁচ বছর বয়সী শিশু কামারি হল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আলাবামায় জর্জিয়ার যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইবে থেকে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় পাওয়া ফিল্মের ছবি এবং সেগুলোর প্রকৃত মালিক খোঁজা ম্যাট টাইগে। ছবি: সংগৃহীত

ইবেতে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় মিলল ২০ বছর আগের হারানো ছবি

সমাবর্তনের পোশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. নাহিয়ান বিন খালেদ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি থেকে ইয়েল, অর্থনীতিতে নতুন যাত্রা ড. নাহিয়ানের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. নাহিয়ান বিন খালেদ যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টোরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ইয়েল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ অন ইনোভেশন অ্যান্ড স্কেল বা ওয়াই-রাইজে উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করবেন তিনি। তার গবেষণার বড় একটি অংশজুড়ে থাকবে বাংলাদেশ।    সম্প্রতি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারাল, ফুড অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনমিকস থেকে প্রায়োগিক অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন ড. নাহিয়ান। তার শিক্ষা ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।  ইয়েলের ওয়াই-রাইজে তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র হবে উন্নয়ন অর্থনীতি। বিশেষ করে কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ, অভিবাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের অভিযোজন নিয়ে কাজ করবেন তিনি। বাংলাদেশ ছাড়াও তানজানিয়া, নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন সমস্যার ওপর তার পূর্ববর্তী গবেষণা রয়েছে।  নিজের নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে ড. নাহিয়ান জানিয়েছেন, ওয়াই-রাইজ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করে এবং সেখানে তার কাজের প্রধান ফোকাস হবে বাংলাদেশ। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি কয়েক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করে উন্নয়ন সহযোগী, নীতিনির্ধারক এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।    ড. নাহিয়ানের গবেষণা আগ্রহের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিতে প্রযুক্তি গ্রহণ, অভিবাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে থাকার সময়ও তিনি বাংলাদেশ ও তানজানিয়ায় প্রযুক্তি গ্রহণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা করেছেন।    পিএইচডির আগে উন্নয়ন গবেষণায়ও তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা আইএফপিআরআই এবং ইনোভেশনস ফর পোভার্টি অ্যাকশনে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মসূচির নকশা, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত গবেষণায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন।    তার প্রকাশিত গবেষণার মধ্যে বাংলাদেশের মৎস্য ও চিংড়ি ভ্যালু চেইনে কোভিড-১৯ পরবর্তী ধাক্কা ও স্থিতিস্থাপকতা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নিয়ে কাজ রয়েছে। কৃষি প্রযুক্তি ও নীতির প্রভাব নিয়েও একাধিক গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন তিনি।    পাঁচ বছরের পিএইচডি যাত্রা শেষ করার পর ড. নাহিয়ান বলেছেন, ডক্টরাল ডিগ্রির মূল্য শুধু একটি সনদে নয়। দীর্ঘ সময় ধরে একটি গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা, ভুল থেকে নতুনভাবে শুরু করা, ধৈর্য ধরে বিশ্লেষণ করা এবং জটিল সমস্যার উত্তর খোঁজার দক্ষতাকেই তিনি এই যাত্রার বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।    পিএইচডির সময় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত গবেষকদের সঙ্গে কাজ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বাইরে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা ও গবেষণা করতে গিয়ে নতুন একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন।   অর্থনীতিবিদদের আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারকে এবার বিশেষভাবে কঠিন বলেও উল্লেখ করেছেন ড. নাহিয়ান। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণায় সুযোগ সংকুচিত হওয়ার মধ্যে ইয়েলের মতো প্রতিষ্ঠানে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।   ইয়েলে তার নতুন গবেষণা যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বাস্তব নীতিগত সমস্যার সমাধান। বাংলাদেশে অভিবাসন, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো বিষয়ে মাঠপর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে এমন গবেষণা করতে চান তিনি, যা নীতিনির্ধারণে কার্যকর প্রমাণ দিতে পারে।    ড. নাহিয়ানের ভাষায়, তার লক্ষ্য খুবই সরল: ভালো অর্থনীতি শেখা, ভালো গবেষণা করা এবং সেই গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবন কিছুটা হলেও উন্নত করতে অবদান রাখা। ইয়েলে তার নতুন অধ্যায় সেই লক্ষ্যকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২:২
লস অ্যাঞ্জেলেসের পালমডেলে ফস্টার কেয়ার ভিলেজ প্রকল্পের নির্মাণাধীন এলাকা ও ক্রিশ্চিয়ান বেল দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

আশ্রয়ের শিশুরা যেন ভাইবোনের থেকে বিছিন্ন না হয়, ২২ মিলিয়ন ডলারের গ্রাম গড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান বেল

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি গ্রাম ঘেরাওকারীদের ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ডি-তে আলাদা অজু স্টেশন বসানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম যাত্রীদের জন্য সুখবর, অজুর জন্য বিমানবন্দরে বসছে বিশেষ ব্যবস্থা

মেট্রো আটলান্টায় আবাসনের সীমিত সরবরাহ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা দিচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় বাড়ির ভয়াবহ সংকট, দামও চড়া, কমছে নতুন মানুষের আগমন

যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধনশীল মেট্রো এলাকাগুলোর অন্যতম আটলান্টায় জনসংখ্যা এখনও বাড়ছে, তবে সেই বৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের সর্বশেষ হিসাবে, গত এক বছরে ১১ কাউন্টির মেট্রো আটলান্টায় প্রায় ৫৩ হাজার ৭০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হলেও বাড়ির সীমিত সরবরাহ, চড়া দাম এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা তৈরি করছে।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের ২০২৬ সালের পপুলেশন এস্টিমেট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে ৫৩ হাজার ৬৯০ জন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছেন। এতে অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার।   এক বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। আগের বছর এই বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং তখন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছিল ৬৪ হাজার ৪০০ জন। অর্থাৎ আটলান্টায় মানুষ আসা বন্ধ হয়নি, কিন্তু আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কম মানুষ যুক্ত হয়েছে।   দীর্ঘমেয়াদি হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেট্রো আটলান্টার গড় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১০-এর দশকে এই হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ২ শতাংশ এবং ১৯৯০-এর দশকে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার পেছনে আবাসন সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অঞ্চলে বাড়ির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম উঁচু রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের পারমিট কমে যাওয়া এবং চাকরি বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসাও প্রভাব ফেলছে।   বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকা থেকে আটলান্টায় স্থানান্তর হতে আগ্রহীদের ওপর বাড়ির চড়া দাম প্রভাব ফেলছে। একসময় তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা এবং জীবনযাপনের সুযোগ আটলান্টার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা ও আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকায় সেই সুবিধা আগের মতো নেই।   নতুন বাড়ি নির্মাণের তথ্যেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে মোট ২৪ হাজার ১৫টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম।   বর্তমান নির্মাণের হার দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায়ও অনেক নিচে। ১৯৮০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে বছরে গড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ১৫০টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান আবাসন নির্মাণ সেই ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে।   তবে পুরো মেট্রো এলাকার বৃদ্ধির গতি কমলেও সব জায়গায় পরিস্থিতি একই নয়। গত এক বছরে ১১টি কাউন্টির প্রতিটিতেই জনসংখ্যা বেড়েছে। ফুলটন কাউন্টিতে বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর ফরসাইথ কাউন্টিতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হেনরি কাউন্টিতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ জনসংখ্যা বেড়েছে।   আটলান্টা শহরেও নতুন বাসিন্দা যোগ হওয়া অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে শহরটিতে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হয়ে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের মতে, মিডটাউন এবং আটলান্টা বেল্টলাইনের আশপাশে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট শহরের সাম্প্রতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরের কেন্দ্র ও আশপাশে অ্যাপার্টমেন্ট এবং অন্যান্য মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের কারণে আটলান্টা শহরের বৃদ্ধির হার আগের কয়েক দশকের তুলনায় বেশি রয়েছে।   ২০২৫ সালে আটলান্টা শহরেই ৫ হাজার ৬২২টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে, যা অঞ্চলটির মধ্যে সর্বোচ্চ। আটলান্টা শহরের বাইরের ফুলটন কাউন্টি এলাকায় ইস্যু হয়েছে আরও ৪ হাজার ৩৮টি পারমিট।   ফুলটন কাউন্টিতে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের তৎপরতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কাউন্টিটিতে এ ধরনের আবাসনের জন্য ২ হাজার ২৫৫টি পারমিট ইস্যু হয়। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৩২২। স্যান্ডি স্প্রিংস, জনস ক্রিক, ইউনিয়ন সিটি ও কলেজ পার্কে এর বড় অংশের নির্মাণ কার্যক্রম হয়েছে।   আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন বলছে, অঞ্চলটির অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী এবং নতুন বাসিন্দা আসছেন। তবে ভবিষ্যতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি করতে না পারলে হাউজিং খরচ আরও বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।   এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন ইতিমধ্যে অঞ্চলব্যাপী একটি হাউজিং স্ট্র্যাটেজি তৈরির কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য বিভিন্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে আরও বাড়ি তৈরি, বিদ্যমান অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং সংরক্ষণ এবং বাসিন্দাদের চাকরি ও প্রয়োজনীয় সেবার কাছাকাছি থাকার সুযোগ বাড়ানো।   সর্বশেষ জনসংখ্যার হিসাব তাই আটলান্টার জন্য দুই ধরনের বাস্তবতা সামনে আনছে। অঞ্চলটিতে মানুষ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত বাড়ি তৈরি না হওয়া এবং হাউজিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় একসময়কার দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১:১৮
ইমিগ্রেশন চেক-ইনে হাজির হওয়ার পর অনেকের পায়ে জিপিএস অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে দিচ্ছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত

টিপিএস হারানোদের আইসিই চেক-ইনে ডেকে পরানো হচ্ছে অ্যাঙ্কেল মনিটর! নতুন নজরদারিতে বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত

তিন মাস ধরে দুধ নেই! মার্কিন যুদ্ধ জাহাজে খাবার সংকটে নাবিকদের আর্তনাদ

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত

ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বাদ দিয়ে স্টিম ব্যবস্থায় ফিরতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ট্রাম্পের নির্দেশ

0 Comments