আমেরিকা

১০০ মিলিয়ন ডলারের সাইবার হামলার অভিযোগে কথিত হ্যাকারকে যুক্তরাষ্ট্রে আনল এফবিআই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৭:৫৪
সাইবার হামলার অভিযোগে কথিত হ্যাকার I ছবি: সংগৃহীত
সাইবার হামলার অভিযোগে কথিত হ্যাকার I ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ দমনে বিশাল এক সাফল্যের মুখ দেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত সাইবার অপরাধী চক্র ‘স্ক্যাটার্ড স্পাইডার’-এর কথিত সদস্য পিটার স্টোকসকে ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।

 

তার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে সাইবার ষড়যন্ত্র, কম্পিউটার সিস্টেমে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জালিয়াতির গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে ফিনল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্টোকসকে গ্রেপ্তার করে। গত সপ্তাহে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর শিকাগোর একটি ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, পিটার স্টোকস ‘স্ক্যাটার্ড স্পাইডার’ নামের যে হ্যাকার গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ছিলেন, তা সাইবার দুনিয়ায় অক্টোপাস, আনসি৩৯৪৪ (UNC3944) এবং অক্টা টেম্পেস্ট নামেও পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী, অত্যন্ত ধূর্ত এই চক্রটি নিত্যনতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে।

 

এসব হামলার মাধ্যমে হ্যাকাররা ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মুক্তিপণ আদায় করেছে এবং আরও কয়েক মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই হ্যাকার গোষ্ঠীর সদস্যরা মূলত ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং ‘সিম সোয়াপ’ কৌশল ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া ফাঁকি দিত। এরপর অত্যন্ত সন্তর্পণে অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে ঢুকে সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করত।

 

এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচিত এই গ্রেপ্তারটি মূলত তাদের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রিপটাইড’-এর একটি অংশ। আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে লুকিয়ে থাকা সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার হামলা

 

প্রতিহত করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্ক্যাটার্ড স্পাইডার গোষ্ঠীর নাম টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, খুচরা ব্যবসা ও আর্থিক খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার হামলার কারণে বারবার উঠে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং মানুষের সাধারণ ভুলগুলোকে কাজে লাগিয়ে সূক্ষ্মভাবে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠীটি বিশ্বে অদ্বিতীয়। তবে পুরো বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায়, আদালতে অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত পিটার স্টোকসকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মেডিকেইড জালিয়াতির সন্দেহে ফেডারেল তদন্ত I ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক কুইন্সে এক মাইল এলাকায় ৬৪টি অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার, মেডিকেইড জালিয়াতির সন্দেহে ফেডারেল তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের ফ্লাশিং এলাকায় অস্বাভাবিক সংখ্যক মেডিকেইড-অর্থায়িত সামাজিক অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার (Social Adult Day Care) কেন্দ্র গড়ে ওঠাকে ঘিরে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছে সিবিএস নিউজ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাশিংয়ের মাত্র এক মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে ৬৪টি সামাজিক অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার কেন্দ্র রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এমন কেন্দ্রের সমাবেশ। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খাবার, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, সামাজিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। এসব সেবার বিপরীতে মেডিকেইড কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি অর্থ থেকে বিল পরিশোধ করা হয়।   সিবিএস নিউজের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার সেবায় মেডিকেইডের ব্যয় ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে শুধু নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ৩৭৫টি কেন্দ্রে, যা দেশের যেকোনো অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে এই খাতে সরকারি ব্যয় প্রায় চার গুণ বেড়েছে।   আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ফ্লাশিং এলাকায় মেডিকেইড-যোগ্য প্রবীণ জনগোষ্ঠী বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু একই সময়ে ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে যেসব প্রবীণের নামে মেডিকেইডে বিল করা হয়েছে, সেই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৯০ শতাংশ। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই তদন্তকারীদের নজর কেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (CMS)-এর প্রশাসক ড. মেহমেত ওজ সিবিএস নিউজকে বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে, একটি এলাকায় আসলে কতগুলো সামাজিক অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার কেন্দ্রের প্রয়োজন হতে পারে?” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।   সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, নিউইয়র্কের কয়েকটি অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার কেন্দ্র নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ফেডারেল পর্যায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   এদিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মেডিকেইড কর্মসূচিতে অপব্যবহার ঠেকাতে তারা নতুন নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে এবং নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ৩৮৭টি কেন্দ্রকে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মামলায় আইনগত পদক্ষেপের জন্য অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ বেড়েছে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় হসপিস সেবা এবং মিনেসোটায় শিশু কল্যাণ কর্মসূচি নিয়েও বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত ও মামলা হয়েছে। তবে ফ্লাশিংয়ের অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফেডারেল তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৮:৩৪
প্রাণ হারালেন যুদ্ধফেরত মার্কিন সেনাসদস্য I ছবি: সংগৃহীত

পার্কিং লটে বাকবিতণ্ডা থেকে গুলি, প্রাণ হারালেন যুদ্ধফেরত মার্কিন সেনাসদস্য

সাইবার হামলার অভিযোগে কথিত হ্যাকার I ছবি: সংগৃহীত

১০০ মিলিয়ন ডলারের সাইবার হামলার অভিযোগে কথিত হ্যাকারকে যুক্তরাষ্ট্রে আনল এফবিআই

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

লাস ভেগাসে ক্যাসিনোতে হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ট্রান্সজেন্ডার

সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্বের সুযোগ ঠেকাতে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন I ছবি: সংগৃহীত
সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্বের সুযোগ ঠেকাতে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রাখার একদিন পরই তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' ঠেকাতে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, পর্যটক, দর্শনার্থী বা অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার এই প্রবণতা রোধে এখন থেকে কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরালোভাবে কাজ করবে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং এফবিআইকে ভিসা প্রক্রিয়ার অপব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। টড ব্লাঞ্চ জোর দিয়ে বলেন, যারা ভ্রমণের কথা বলে এসে শুধু মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দেয়, তাদের সেই সুযোগ সীমিত করতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা জরুরি।   বিচার বিভাগের জালিয়াতি দমন শাখার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ডও এক দাপ্তরিক নির্দেশনায় বার্থ ট্যুরিজম সংক্রান্ত জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতারণামূলক অপব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় এনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের পবিত্রতা রক্ষা করবে বিচার বিভাগ।   তবে অবাক করা বিষয় হলো, গত এপ্রিলে ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার শুনানিতে খোদ সরকারি আইনজীবীই স্বীকার করেছিলেন যে, এই বার্থ ট্যুরিজম সমস্যাটি আসলে কতটা ব্যাপক, তা নিশ্চিতভাবে কারও জানা নেই। অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন থিংকট্যাংক ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’-এর দেওয়া তথ্যমতে, ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা নারীদের মাধ্যমে বছরে ২০ থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জন্মগ্রহণকারী মোট শিশুর ১ শতাংশেরও কম।   পরিসংখ্যানগত দিক থেকে হার এত কম হওয়া সত্ত্বেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের যুক্তিতে বার্থ ট্যুরিজমকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন হাউস স্পিকার মাইক জনসনও দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সুযোগের চরম অপব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেকেই শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক সুবিধাগুলো ভোগ করতে চাইছেন।   মূলত মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, অবৈধ অভিবাসী বা ট্যুরিস্ট ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মতো অস্থায়ী ভিসায় থাকা নাগরিকদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ বিচারিক আওতাধীন নয়, তাই তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হতে পারে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দেন।   সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা খাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন স্থায়ী আইনি মর্যাদাহীন বাবা-মায়ের সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়ে নতুন আইন পাসের জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিতর্কিত এই বিলটি পাস করাতে হলে তাকে ৬০ ভোটের ‘ফিলিবাস্টার’ বাধা অতিক্রম করতে হবে, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কার্যত প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের এবং বিশেষ করে রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রায়ের ব্যাপারে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, একজন অবৈধ অভিবাসী বা ছুটিতে এসে সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো পর্যটকের পুরো পরিবার এভাবে রাতারাতি মার্কিন নাগরিকত্বের সুবিধা পেয়ে যাবে, তা কখনোই সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৬:৫৫
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

স্বামী হারানোর কয়েক মাস পর গুলিতে নিহত মা, এতিম হলো দুই কন্যাসন্তান

সিআইএ’র সাবেক প্রধান জন ব্রেনান I ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন সিআইএ’র সাবেক প্রধান জন ব্রেনান

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কে সামান্য বিবাদের জেরে যুবকের ঘুষিতে প্রাণ গেল ৬২ বছরের বৃদ্ধের

ভুলবশত বন্ধুকে গুলি I ছবি: সংগৃহীত
ভুলবশত বন্ধুকে গুলি, আর সেই শোক সইতে না পেরে নিজের জীবনও শেষ করল ১৬ বছরের কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুর্ঘটনাবশত প্রিয় বন্ধুকে গুলি করে হত্যার পর অপরাধবোধে নিজেই আত্মঘাতী হয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। নিউইয়র্কের সিরাকিউস শহরের লিংকন অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়িতে গত বুধবার রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ওননডাগা কাউন্টির প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ১৬ বছর বয়সী ড্যামারিওন জোনস ভুলবশত তার ১৩ বছরের বন্ধু জোনাহ ট্যানারকে গুলি করে বসে। এই অনিচ্ছাকৃত ঘটনার পর তীব্র অনুশোচনা ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে ওই একই ৯ মিলিমিটার হ্যান্ডগান দিয়ে জোনস নিজের প্রাণও কেড়ে নেয়।   গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জোনস নিজের করা আঘাতেই মারা যায়। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ট্যানারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরবর্তীতে চিকিৎসকরা তাকে 'ব্রেইন ডেড' ঘোষণা করেন। ওননডাগা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি উইলিয়াম ফিটজপ্যাট্রিক জানান, ট্যানারকে গুলি করার পর জোনস সম্ভবত এতটাই অপরাধবোধে ভুগছিল যে সে নিজেকেও গুলি করতে বাধ্য হয়। তবে ওই দুই কিশোর কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল বা ঠিক কী পরিস্থিতিতে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   এই ঘটনায় দুই পরিবারেই নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। পরিবার ও স্বজনদের কাছে ওই দুই বন্ধু ছিল আক্ষরিক অর্থেই 'অবিচ্ছেদ্য'। ট্যানারের শেষকৃত্যের জন্য চালু করা একটি তহবিল সংগ্রহের পেজে তাদের বন্ধুত্বকে অত্যন্ত বিশেষ উল্লেখ করে বলা হয়, একই রাতে দুই ছেলেকে হারানোটা তাদের জন্য এক অসহনীয় যন্ত্রণা। এদিকে, জোনসের মা কিশা ব্রাউন জোনসও এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানান, তার একমাত্র ছেলেটি ছিল অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহশীল। তারা দুজন সবসময় ভাইয়ের মতো একসাথেই থাকত, আর তাই তাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে দুই বন্ধুকে একসাথেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। গত রোববার তাদের স্মরণে আয়োজিত এক শোকসভায় জোনসের মা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, মারা যাওয়ার আগে ছেলের বলা শেষ কথা ‘আই লাভ ইউ’ এখন তার জীবনের একমাত্র সম্বল হয়ে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৫:১৬
বাবা-মাসহ গ্রেপ্তার ৪ জন I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে ভয়াবহ বন্দিদশা থেকে উদ্ধার ১৬ শিশু, বাবা-মাসহ গ্রেপ্তার ৪ জন

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জন্মগত নাগরিকত্বের অপব্যবহারে ভবিষ্যতে বড় মূল্য দিতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে: মার্কিন স্পিকার জনসন

পরিবারের অজান্তে উবারে চড়ে জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছে যাওয়া ১১ বছর বয়সী অটিজমে আক্রান্ত শিশু | ছবি: সংগৃহীত

১১ বছরের শিশু একাই উবারে চড়ে পৌঁছে গেল জেএফকে বিমানবন্দরে, অতঃপর যা হলো

0 Comments