প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদকে অর্থ পাঠানোর অভিযোগে নিউইয়র্কের নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আয়রনডেকোয়েট (Irondequoit) এলাকার বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্নকে প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) নামে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিচার বিভাগ।
মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) জানিয়েছে, ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এমন এক ব্যক্তির কাছে অর্থ পাঠিয়েছেন, যিনি নিজেকে গাজায় সক্রিয় প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদের একজন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত কোনো গোষ্ঠীকে জেনেশুনে অর্থ বা অন্য ধরনের সহায়তা দেওয়া কিংবা দেওয়ার চেষ্টা করা ফেডারেল অপরাধ।
বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াশবার্ন ডাইরেক্ট অ্যাকশন মুভমেন্ট ফর প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন (DAMPL) নামে একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংস্থাটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর গঠিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পরিবর্তে নাশকতা ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স (JTTF) তল্লাশি চালিয়ে ওয়াশবার্নের ইলেকট্রনিক বার্তা উদ্ধার করে। এসব বার্তায় তিনি নিজেকে পিআইজের যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এক বার্তায় ওয়াশবার্ন লিখেছিলেন, তিনি গাজায় থাকলে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নিতেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশংসাসূচক মন্তব্যও করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আরও কিছু বার্তায় ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক মন্তব্যও পাওয়া গেছে।
আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওয়াশবার্ন প্রায় ৮০টি পৃথক ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৩০ হাজার ১১৬ ইউএসডিসি (USDC), অর্থাৎ সমপরিমাণ মার্কিন ডলার, ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত মামলার নথিতে ওয়াশবার্নের একটি ছবিও রয়েছে, যেখানে তাকে হামাসের একটি পতাকার সামনে দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড হাতে দেখা যায়। তবে ছবিটি তদন্তের নথির অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে; এটি নিজেই কোনো অপরাধ প্রমাণ করে না।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এফবিআই জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনের অর্থায়নের পথ বন্ধ করতে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়াশবার্নের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।
তবে এটি একটি ফৌজদারি অভিযোগ (Criminal Complaint) মাত্র। এখনো আদালতে ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৫০০ ডলারে এক একর জমি কেনা যায় এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই যেকোনো রাজ্যে সহজে জমির মালিক হওয়া সম্ভব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবির পুরোটা সঠিক নয়। কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলারে ছোট কিংবা অনুন্নত জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জমির সাধারণ বাজারদর হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। বিদেশিদের জমি কেনার নিয়মও রাজ্য এবং জমির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট স্থাপনাসহ সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই মূল্য ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই হিসাবের সঙ্গে আবাসিক জমি কিংবা প্রত্যন্ত মরুভূমির অনুন্নত জমির দাম সরাসরি তুলনা করা যায় না। রাজ্যভেদে জমির দামে বড় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোতে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি মাত্র ৭২৫ ডলার। নেভাদায় প্রায় ১ হাজার ডলার এবং অ্যারিজোনায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। ফলে এসব রাজ্যের কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় তুলনামূলক কম দামে জমি পাওয়া সম্ভব। তবে মিসিসিপি, আরকানসাস কিংবা টেক্সাসে সাধারণভাবেই ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলারে এক একর জমি পাওয়া যায়, এমন দাবি সরকারি গড় মূল্যের সঙ্গে মেলে না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাবে এসব রাজ্যে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য একরপ্রতি কয়েক হাজার ডলার। শহর, পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি কিংবা উন্নত এলাকার কাছাকাছি হলে দাম আরও বেশি হতে পারে। সস্তা জমির বিজ্ঞাপন দেখার সময় এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। অনলাইনে ৫০০, ১ হাজার কিংবা ২ হাজার ডলারে যেসব জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়, সেগুলোর অনেকটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকায় হতে পারে। সেখানে পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নাও থাকতে পারে। এমনকি জমিটি কিনলেও সেখানে বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নাও পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে অ্যারিজোনায় সস্তায় জমি কিনলেই নিজের ইচ্ছামতো ছোট বাড়ি নির্মাণ করা যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বাড়ির আকার, স্থায়ী কিংবা স্থানান্তরযোগ্য কাঠামো, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমি ব্যবহার এবং ভবন নির্মাণের নিয়ম মানতে হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কিংবা গ্রিন কার্ড ছাড়া জমি কেনা যায় কি না। সাধারণভাবে বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সব বিদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেনার ওপর সার্বিক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের জমি বাধাহীনভাবে কেনা যাবে। বিশেষ করে কৃষিজমির বিদেশি মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা বিধিনিষেধ এবং তথ্য জানানোর নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানা নিয়ে দেশটির সব রাজ্যে একই নিয়ম নেই। বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা কার্যকর রয়েছে। বিদেশি কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজমিতে নির্দিষ্ট ধরনের মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ অর্জন করলে কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে কৃষি বিভাগকে সেই তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতাও তৈরি হতে পারে। তাই কৃষিজমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বর্তমান আইন যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে জমি কিংবা বাড়ি কিনলে গ্রিন কার্ড, ভিসা অথবা দেশটিতে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। সম্পত্তির মালিকানা এবং অভিবাসন মর্যাদা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একজন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করেও সেখানে বৈধভাবে সম্পত্তির মালিক হতে পারেন। কিন্তু সেই সম্পত্তির মালিকানা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় না। সরকারি নিলামেও যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি করা হয়। দেশটির সাধারণ সেবা প্রশাসন উদ্বৃত্ত কেন্দ্রীয় জমি ও ভবন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে। তবে সরকারি নিলামে বাজারদরের তুলনায় নিশ্চিতভাবে ৫০ শতাংশ কমে জমি পাওয়া যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। দরদাতাদের প্রতিযোগিতা, জমির অবস্থান এবং সম্পত্তির শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হয়। একইভাবে মাত্র ৫০ ডলার অগ্রিম দিয়ে এবং মাসে ১০০ ডলার কিস্তিতে জমি কেনার সুযোগ কোনো সরকারি সুবিধা নয়। কোনো বেসরকারি জমির মালিক নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে এমন প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু চুক্তির শর্ত, সুদের হার, অতিরিক্ত খরচ, কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে কী হবে এবং জমির মালিকানা বৈধ ও পরিষ্কার কি না, এসব যাচাই না করে এমন চুক্তিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। সস্তা জমি কেনার আগে জমির মালিকানা যাচাই করাও জরুরি। জমির ওপর পুরোনো ঋণ কিংবা অন্য কারও আর্থিক দাবি রয়েছে কি না, সম্পত্তি কর বকেয়া আছে কি না, সেখানে যাওয়ার বৈধ রাস্তা রয়েছে কি না, জমিটি বন্যা কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কি না এবং সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে কি না, এসব বিষয় আগেই যাচাই করা প্রয়োজন। বিদেশি মালিকদের করের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি মালিক সম্পত্তি বিক্রি করলে বিদেশিদের স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কর আইনের অধীনে বিশেষভাবে অর্থ আটকে রেখে কর পরিশোধের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আমেরিকায় কয়েকশ ডলারে জমি কেনার বিজ্ঞাপন বাস্তবে পাওয়া গেলেও শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। জমিটি কোথায়, কী কাজে ব্যবহার করা যাবে, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা আছে কি না, বছরে কত সম্পত্তি কর দিতে হবে, মালিকানা পরিষ্কার কি না এবং বিদেশি নাগরিক হিসেবে সেই জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো রাজ্যভিত্তিক বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে জমি কিংবা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। তবে জমির মালিক হওয়া মানেই আমেরিকায় বসবাসের অনুমতি, ভিসা কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ নয়। সম্পত্তি কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অধিকার দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
ভার্জিনিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব, দিতে হতে পারে ১,৩৩০ ডলার
বিশ্বসেরা বার্কলেতেও শেখাতে হচ্ছে ভগ্নাংশ! কলেজে পড়া শিক্ষার্থীদের গণিতের ঘাটতি, হতাশায় প্রফেসর
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে অভাবনীয় এক আবিষ্কার করে বসেছেন এক বাবা ও ছেলে। সৈকতের পাথরের ফাঁক থেকে তারা উদ্ধার করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল আকৃতির হাঙর 'মেগালোডন'-এর একটি জীবাশ্ম দাঁত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়ংকর এই প্রাগৈতিহাসিক হাঙরের দাঁতটি অন্তত ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। পেনসিলভানিয়ার মননগাহেলা এলাকার বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী মাইকেল বোওয়ারস তার ১১ বছর বয়সী ছেলে বো-কে নিয়ে গত মঙ্গলবার নিউ জার্সির 'সি আইল সিটি' সৈকতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সৈকতের জেটি ধরে হাঁটার সময় হঠাৎ পাথরের একটি সরু খাঁজে বিশাল আকৃতির অদ্ভুত কিছু একটা দেখতে পান তারা। মাইকেল বোওয়ারস জানান, পাথরের ওই খাঁজটি এতোটাই সরু ছিল যে সেখানে তিনি হাত ঢোকাতে পারছিলেন না। তখন তার ছেলে বো খুব সহজেই সেখানে হাত ঢুকিয়ে সেই পুরোনো ও বিশাল দাঁতটি বের করে আনে। গণমাধ্যমকে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাইকেল বলেন, "আমি প্রায়ই পানিতে অদ্ভুত সব জিনিস খুঁজে পাই। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি যে এমন অসাধারণ কিছু একটা পেয়ে যাব। দাঁতটি হাতে পাওয়ার পর আমার ছেলে আনন্দে একেবারে নির্বাক হয়ে গিয়েছিল। আর আমার তো খুশিতে পা কাঁপছিল। জীবনে এমন কিছু খুঁজে পাওয়ার স্বপ্নই দেখতাম আমি।" উদ্ধার করা বিশাল এই দাঁতটি আসল কিনা তা যাচাই করার জন্য তারা 'কেপ মে হোয়েল ওয়াচ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার'-এর শরণাপন্ন হন। সেখানকার গবেষকরা নিশ্চিত করেন যে, এটি সত্যিই একটি মেগালোডন হাঙরের জীবাশ্ম। রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মেলিসা লরিনো জানান, এই বিশাল দাঁতটি একটি মেগালোডনের। ভয়ংকর এই হাঙরগুলো লম্বায় প্রায় ৬০ ফুট পর্যন্ত হতো এবং এদের একেকটি দাঁত মানুষের হাতের তালুর সমান বড় ছিল। আজ থেকে প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বিশাল এই সামুদ্রিক শিকারি প্রাণীটি, যা বর্তমানে বিভিন্ন হলিউড হরর সিনেমার কল্যাণে মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। নিউ জার্সির সৈকতে মেগালোডনের জীবাশ্ম পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। নিউ জার্সি স্টেট মিউজিয়ামের কিউরেটর ডানা এহার্টের মতে, এই অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচটিরও কম মেগালোডনের দাঁত আবিষ্কৃত হয়েছে। কিন্তু এত লাখ বছর আগের দাঁত হঠাৎ সৈকতে কীভাবে এল? গবেষকরা ধারণা করছেন, গত জুলাই মাসে ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর উদ্যোগে সি আইল সিটিতে সৈকত সংস্কারের যে কাজ হয়েছিল, তখনই এটি গভীর সমুদ্র থেকে বালুর সঙ্গে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে মেলিসা লরিনো বলেন, "সৈকত সংস্কারের জন্য যদি কয়েক মাইল গভীর সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তবে সেই বালুর সঙ্গেই এই দাঁতটি সৈকতে চলে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি এমন এক আবিষ্কার, যা বোওয়ারস পরিবার সারাজীবন অমূল্য সম্পদ হিসেবে আগলে রাখবে।"
যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব থেকে সরে এলেন হাকিম জেফ্রিস
জর্জিয়ায় বাড়ির দেয়াল ভেঙে প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে কিশোরীর ওপর হামলা ও ধর্ষণের হুমকি, গ্রেপ্তার যুবক
‘অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়’: র্যান্ডি ফাইন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বেপরোয়া গতির এক স্ট্রিট রেসিং কেড়ে নিয়েছিল এক দম্পতির প্রাণ। বাবা-মাকে হারিয়ে রাতারাতি এতিম হয়ে যায় তাদের দুই যমজ কন্যাশিশু। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কিশোর চালক ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এবার ৩৩ মিলিয়ন (৩ কোটি ৩০ লাখ) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ওই দুই শিশু। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির একটি জুরি বোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে। বে এরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'বে সিটি নিউজ' এবং আদালতের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহত দম্পতির নাম গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন। তারা যখন নিজেদের শেভ্রোলেট ভোল্ট গাড়ি নিয়ে এল ক্যামিনো রিয়েল সড়কে বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুটি দ্রুতগতির গাড়ি রেসিং করতে গিয়ে তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই দম্পতি, আর তাদের যমজ কন্যারা পরিণত হয় পিতৃ-মাতৃহীন এতিমে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সিজার মোরালেস নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর কাইল হ্যারিসন নামের অপর এক চালকের সঙ্গে স্ট্রিট রেসিংয়ে লিপ্ত ছিল। তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শুনানিতে জুরি বোর্ড জানতে পারে, দুর্ঘটনার রাতে মোরালেস ঘণ্টায় ১০৫ থেকে ১১০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিল। জুরি বোর্ড এই দুর্ঘটনার জন্য সিজার মোরালেসকে অবহেলা ও চরম গাফিলতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। শুধু তাই নয়, চাঞ্চল্যকর এই রায়ে মোরালেসের বাবা আর্নল্ড মোরালেস এবং মা সুজানা সালতো আলভারেজকেও দায়ী করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাদের সন্তানের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়ে পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তারা সেটি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। এর আগে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে গাড়ি চালানোর জন্য মোরালেসকে একবার জরিমানাও করা হয়েছিল। যদিও তার বাবা-মা আদালতে দাবি করেছিলেন যে তারা ওই জরিমানার বিষয়টি জানতেন না। তবে জুরি বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, মোরালেসের বাবা-মা তাদের সন্তানের অনিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে নিবৃত্ত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে 'কচেট, পিট্রে অ্যান্ড ম্যাকার্থি' ল ফার্ম। রায়ের পর প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী নিল ম্যাকার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা আশা করছি আজকের এই রায় বে এরিয়ার সব বাবা-মায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। মোরালেস পরিবারের দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে আজ দুটি ছোট মেয়েকে তাদের বাবা-মা ছাড়া জীবন কাটাতে হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "বাবা-মায়ের দায়িত্ব কেবল সন্তানকে একটি গাড়ি কিনে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকা নয়। সন্তানের আচরণে যখন সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাদের অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এমন ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব নয়।" দুর্ঘটনার পর সিজার মোরালেসের বিচার হয়েছিল শিশু আদালতে। সেখানে ভেহিকুলার ম্যানস্লটার বা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে তাকে মাত্র ৯০ দিনের ইলেকট্রনিক হোম মনিটরিংয়ের সাজা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রেসিংয়ে অংশ নেওয়া অপর চালক কাইল হ্যারিসনকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছর সান মাতেও কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে জুরি বোর্ড এতিম দুই কন্যাশিশুকে অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং তাদের মানসিক ও অন্যান্য অপূরণীয় ক্ষতির জন্য প্রত্যেকে ৭ মিলিয়ন করে আরও ১৪ মিলিয়ন ডলার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।
তিন-ছয় মাসের আইটি প্রশিক্ষণেই চাকরি, সেই পথ কি এখনো খোলা? এআই যুগে নতুনদের সামনে বড় প্রশ্ন
দীর্ঘ ডিউটিতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে সহকর্মীরা, ডাইকমানে খাবার নিয়ে পিবিএ ক্যান্টিন