যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ডেমোক্র্যাটিক দলের কংগ্রেস সদস্য আয়ানা প্রেসলির স্বামীর মালিকানাধীন একটি বাড়িতে থেকে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীর নাম ইয়োসেলিয়ানি মার্তে।
শনিবার বোস্টনের মেটাপান এলাকার ওই আট বেডরুম ও চার বাথরুমের বাড়িতে পুলিশ অনুসন্ধানে গিয়ে মার্তের মরদেহ দেখতে পায়। বোস্টন পুলিশ বিভাগ (বিপিডি) আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের নাম প্রকাশ না করলেও, তার মা এলেনি ওকাসিও রবিবার তহবিল সংগ্রহের ওয়েবসাইট 'গোফান্ডমি'-তে মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে তার মেয়ে মারা গেছে।
বাড়িটি আয়ানা প্রেসলির স্বামী কো নান হ্যারিসের। ২০২১ সালে ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলারে কেনা এ বাড়িটি বর্তমানে ১১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রেসলি ও তার স্বামী এই বাড়িতে থাকেন না, এটি ভাড়া দেওয়া ছিল।
ঘটনাটি নিয়ে বোস্টন পুলিশের হোমিসাইড ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, বিক্রির জন্য তালিকায় ওঠার প্রায় এক মাস আগে, অর্থাৎ দুই মাস আগেও বাড়িটিতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল।
এই ঘটনার বিষয়ে কংগ্রেস সদস্য প্রেসলির মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাড়িতে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা পিস্তল নিয়ে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত নিজের গুলিতেই প্রাণ হারায় শিশুটি। এই ঘটনায় শিশুটির মা এবং তার প্রেমিককে শিশু নির্যাতন ও অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির হাইল্যান্ড এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানায়, শিশুটি সোফার দুটি কুশনের মাঝখানে লুকিয়ে রাখা একটি লোড করা পিস্তল খুঁজে পেয়েছিল। দুর্ঘটনাবশত শিশুটির মুখের ভেতর গুলি লাগে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় শিশুটির মা ২০ বছর বয়সী জামারিয়া কব এবং তার ৫২ বছর বয়সী প্রেমিক আরমান্ড শে ব্রাইট ওই বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্রাইটের নামে বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল। সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জামারিয়া কব এবং আরমান্ড ব্রাইট উভয়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন এবং গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে প্রথম মাত্রার অপরাধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন অ্যান্ডারসন এই ঘটনাকে একটি ‘গভীর ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “অনিরাপদ ও বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কারণে এমন বিধ্বংসী ক্ষতি হলে আমাদের কার্যালয় এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।” ঘটনার পর ওই বাড়িতে থাকা নিহত শিশুটির এক বছর বয়সী ছোট ভাইকে শিশু কল্যাণ কর্মকর্তাদের হেফাজতে (প্রটেকটিভ কাস্টডি) নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জুলাই র্যাঞ্চো কুকামঙ্গা সুপিরিয়র কোর্টহাউসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুজনের বিচারিক শুনানি (অ্যারেইনমেন্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্কুলের ছুটিতে সন্তানদের আনন্দ দিতে বারবিকিউ করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এক মা। মার্শম্যালো ভাজার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ তার শরীরে আগুন ধরে যায়। ১১ বছরের ছেলে এবং ৭ বছরের মেয়ের চোখের সামনেই ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা, যা শেষ পর্যন্ত ওই নারীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। শার্লট রোজ-অ্যান হিল নামের ওই নারী তার বাড়ির উঠানে সন্তানদের জন্য এই বিশেষ আয়োজন করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার ছেলে ও মেয়ে কাছেই ছিল এবং পুরো ঘটনাটি তারা অসহায়ভাবে প্রত্যক্ষ করে। শার্লটের কাজিন বিয়াঙ্কা হিল সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাচ্চারা সে সময় অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। মায়ের গায়ে আগুন দেখে ছোট্ট মেয়েটি তার জীবনের সর্বোচ্চ শক্তিতে চিৎকার করে বাবাকে ডাকে, যিনি ওই সময় কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মাত্র ১১ বছর বয়সী ছেলে নিজের জ্যাকেট দিয়ে মায়ের গায়ের আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। শার্লটের স্বামী দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। আগুনে শার্লটের মুখ ও হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তার অবস্থার হয়তো উন্নতি হচ্ছে। তিনি চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে ফোনে সন্তানদের সাথে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শার্লটের মৃত্যু তার পরিবারের জন্য আরও বেশি হৃদয়বিদারক, কারণ ছোটবেলায় তিনি নিজেও তার মায়ের মৃত্যু চোখের সামনে দেখেছিলেন। বিয়াঙ্কা জানান, শার্লট কখনোই চাননি তার সন্তানরা একই ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাক। অত্যন্ত দয়ালু ও হাসিখুশি স্বভাবের শার্লট সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে যেকোনো কিছু করতে পারতেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে চারপাশের মানুষের সহানুভূতি, ভালোবাসা ও একটি সুন্দর সমাজকাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় এক অমানবিক ও ভয়ংকর শিশু নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার সৎ বাবার ক্রমাগত শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে দেওয়ার অপরাধে ৩৪ বছর বয়সী মা চেরি ওয়াকারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। শুধু নির্যাতন সহ্য করতে দেওয়াই নয়, ওই কিশোরীকে তাদের মলমূত্রে ভরা অত্যন্ত নোংরা একটি বাড়িতে চিকিৎসকের কোনো সাহায্য ছাড়াই সন্তান প্রসবে বাধ্য করেছিলেন ওই পাষণ্ড মা। গত বছরের আগস্ট মাসে ওই কিশোরী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের দেখা আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ঘটনার শিকার ওই ১১ বছরের কিশোরী এবং তার পাঁচ ছোট ভাইবোনকে (যাদের বয়স যথাক্রমে ২, ৪, ৬, ৭ এবং ৯ বছর) অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, উদ্ধারের সময় শিশুদের গায়ে কোনো কাপড় ছিল না এবং তারা কুকুরের মলমূত্রে পূর্ণ একটি অস্বাস্থ্যকর ঘরে বসবাস করছিল। পরবর্তীতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ১১ বছরের কিশোরীর জন্ম দেওয়া শিশুটির বাবা আসলে তারই সৎ বাবা ডাস্টিন ওয়াকার। এই জঘন্য অপরাধের প্রমাণ মেলার পর ডাস্টিন ওয়াকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আরও কঠোর করা হয়। গত মার্চ মাসে ডাস্টিন শিশু যৌন নির্যাতনের দায় স্বীকার করে নেন এবং আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। স্বামীর শাস্তির মাত্র দুই সপ্তাহ পর মা চেরি ওয়াকারকেও শিশু অবহেলা ও যৌন নির্যাতনে সহায়তা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জুরি বোর্ড তার জন্যও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছে। মাসকোগি কাউন্টির সহকারী জেলা অ্যাটর্নি জ্যানেট হাটসন আবেগাপ্লুত হয়ে এটিকে তার কর্মজীবনের সবচেয়ে গুরুতর শিশু নির্যাতন ও অবহেলার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, মাত্র ১০-১১ বছর বয়সেই সৎ বাবার দ্বারা নির্যাতিত হয়ে গর্ভধারণ এবং কোনো চিকিৎসাসেবা ছাড়া নোংরা পরিবেশে সন্তান প্রসবের এই ঘটনাটি ওই শিশুর জন্য আজীবন এক গভীর ট্রমার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রাতের বেলা সামান্য এক গ্লাস পানি খাওয়ারও উপায় ছিল না যে বাড়িতে, সেখানেই দিনের পর দিন এমন পাশবিকতা চলেছে যা সভ্য সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।