টেক্সাসের আর্লিংটনে ২০১২ সালে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সন্দেহভাজন এক নারীকে। আর্লিংটন পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ফেলে দেওয়া একটি প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অপরাধস্থলে পাওয়া রক্তের ডিএনএ মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেন। সেই সূত্র ধরেই গত ১৭ জুলাই ৪২ বছর বয়সী মাইরা ভেলাসকেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি আর্লিংটনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ৩২ বছর বয়সী ইরাসেমা চাভেজকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, তাকে প্রায় ১০০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো আলামত না থাকায় শুরু থেকেই তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, হামলাকারী নিহতের পরিচিত কেউ হতে পারেন। তবে সে সময় অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ডিএনএ জাতীয় ডেটাবেসে কারও সঙ্গে মেলেনি এবং মামলাটি দীর্ঘদিন অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে থাকে।
২০১৬ সালে অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ডিএনএ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের একটি জিনগত প্রোফাইল তৈরি করা হয়। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আর্লিংটন পুলিশ এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিসের সহায়তায় ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়ালজি (আইজিজি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলাটির তদন্ত নতুন করে শুরু করে। কয়েক বছরের অনুসন্ধানের পর তদন্তকারীরা ভেলাসকেজকে সম্ভাব্য সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে ভেলাসকেজের ব্যবহৃত ও ফেলে দেওয়া একটি প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ সংগ্রহ করে তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ওই নমুনা অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তের ডিএনএর সঙ্গে মিলে গেলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
বর্তমানে মাইরা ভেলাসকেজের বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আর্লিংটন পুলিশ বলছে, আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়ালজির ব্যবহার বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা কোল্ড কেসগুলোর তদন্তে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই মামলাটিও সেই প্রযুক্তির সহায়তায় সমাধানের পথে এগিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লং আইল্যান্ডভিত্তিক একটি অ্যাম্বুলেট পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক আদনান আরশাদ মেডিকেইডে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারেরও বেশি জালিয়াতির মামলায় ৮ বছর ১ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত তার ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল আইসলিপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত এ রায় দেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে আদনান আরশাদ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আদনান আরশাদ নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি এমটিকে ট্যাক্সির মালিক এবং অল-স্টার ট্যাক্সির সহ-মালিক ছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুনে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তিনি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মেডিকেইডে ভুয়া পরিবহন বিল জমা দিয়ে এই জালিয়াতি চালিয়ে যান। তদন্তে দেখা যায়, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের অবৈধ অর্থ বা কিকব্যাক দেওয়া হতো। এরপর তাদের নামে পরিবহন সেবার বিল জমা দিয়ে মেডিকেইড থেকে অর্থ আদায় করা হতো। এমনকি যেসব ব্যক্তি মারা গেছেন, হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা কারাগারে ছিলেন, তাদের নামেও ভুয়া যাতায়াত দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। জালিয়াতির অর্থের পরিমাণ আরও বাড়াতে সুবিধাভোগীদের কাছাকাছি চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিবর্তে নিউইয়র্ক সিটির দূরের মেথাডোন চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আবেদন করতে বলা হতো। পাশাপাশি ভুয়া পিকআপ ঠিকানা ব্যবহার করে যাত্রাপথ দীর্ঘ দেখিয়ে মেডিকেইড থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। মার্কিন প্রসিকিউটর জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত মেডিকেইড কর্মসূচিকে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন আদনান আরশাদ। তিনি জালিয়াতির অর্থ দিয়ে বহু মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, একটি ফেরারি এবং একাধিক বিএমডব্লিউ ও মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ি কিনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। এই সাজা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা বহন করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদনান আরশাদকে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মামলায় জড়িত তার অন্তত পাঁচজন সহযোগী ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করেছেন। তাদের সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পরিচালিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ বা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন বিচার বিভাগ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ছড়িয়ে পড়া ‘লিজিয়নার্স’ রোগের প্রকোপে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ জনে। এই রোগে এখন পর্যন্ত মোট ৮২ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেও নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি দাবি করেছেন, রোগের প্রকোপ এখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্প্রতি সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন একটি কলামে স্বাস্থ্য বিভাগের (ডিওএইচ) পদক্ষেপ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। এর জবাবে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি বলেন, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতির চেয়ে জনস্বাস্থ্যের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। লিজিয়নার্স রোগটি মূলত লিজিওনেলা নামক ব্যাকটেরিয়াযুক্ত জলকণা বা কুয়াশা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়, যা বয়স্ক, ধূমপায়ী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। আপার ম্যানহাটনে রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন অভিযোগ করেন, ওই এলাকার ‘কুলিং টাওয়ার’গুলো আগে থেকেই জীবাণুমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সিটি হলের কাছে ‘সঠিক জবাব’ দাবি করেন। এদিকে, নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. অ্যালিস্টার মার্টিন জানিয়েছেন, আপার ইস্ট সাইড এলাকার কুলিং টাওয়ারগুলোতে জীবাণুনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে সংক্রমণের মূল উৎসটি তারা সম্ভবত ‘নির্মূল’ করতে পেরেছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এখনো হাতে না আসায় প্রকাশ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট উৎসের নাম ঘোষণা করা হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে ২১ জন এই রোগে আক্রান্ত অবস্থায় আছেন এবং ৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডা. মার্টিন আশ্বস্ত করে বলেন, গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নতুন করে কারও মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা যায়নি এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কেউ নতুন করে শনাক্তও হননি। আগাম জীবাণুনাশক ব্যবহারের সমালোচনার জবাবে মেয়র মামদানি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শহরের সমস্ত কুলিং টাওয়ারে আগে থেকে ঢালাওভাবে জীবাণুনাশক প্রয়োগ করা হলে তা উল্টো দীর্ঘমেয়াদে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে কুলিং সিস্টেমের যন্ত্রপাতিতে জং ধরা বা বিকল হওয়ার মতো ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, সব টাওয়ারে একযোগে ব্যবস্থা নিতে গেলে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ টাওয়ারগুলো থেকে মনোযোগ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ সরে যেতে পারে বা তীব্র গরমের দিনে কুলিং সিস্টেম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তবে স্পিকার জুলি মেনিনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোগের প্রকোপ শুরুর পর থেকে শত শত উদ্বিগ্ন নাগরিক তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে যোগাযোগ করেছেন। দ্রুততম জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো প্রাদুর্ভাব রোধে একটি তদারকি শুনানিরও আহ্বান জানিয়েছেন মেনিন। উল্লেখ্য, গত বছর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের শাসনামলেও হারলেমে লিজিয়নার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে ৭ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেসময়ও স্বাস্থ্য বিভাগের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন মেনিন; তাই তার বর্তমান বক্তব্যকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মানতে নারাজ তার মুখপাত্র।
সপ্তাহান্তের অবসর সময়ে বাড়ির পেছনের উঠোনে ফলের গাছ লাগানো ছিল তাদের শখ। সেই শখই একসময় রূপ নেয় সফল ব্যবসায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর বাসিন্দা মিকি পোপাট ও ভিকি পোপাট আজ একটি ব্যতিক্রমী ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। মিকি পোপাট ফাইন্যান্স খাতে এবং তার স্ত্রী ভিকি পোপাট শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মিকি। নতুন দেশে এসে তিনি লক্ষ্য করেন, আম, পেয়ারা, লিচুসহ নানা ধরনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলের সঙ্গে অনেক আমেরিকানই পরিচিত নন। নিজেদের বাড়ির বাগানে একের পর এক ফলের গাছ লাগাতে লাগাতে একসময় সেখানে ৮০টিরও বেশি গাছের সমাহার তৈরি হয়। বাড়িতে আসা অতিথিরা এসব ফল খেয়ে মুগ্ধ হতেন। পরে অনেকেই নিজেদের বাড়িতেও একই ধরনের ফলের গাছ লাগানোর জন্য তাদের পরামর্শ ও সহায়তা চাইতে শুরু করেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন ব্যবসার ধারণা। উদ্যোক্তা পরিবারে বেড়ে ওঠা এই দম্পতি বুঝতে পারেন, ফলদ গাছকে উপহার হিসেবে দেওয়ার একটি আলাদা বাজার তৈরি করা সম্ভব। ২০০৭ সালে তারা দুজনেই স্থায়ী চাকরি ছেড়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্ল্যান্টওগ্রাম’ (PlantOGram)। প্রতিষ্ঠানটির মূল ধারণা ছিল ফুলের তোড়ার পরিবর্তে জীবন্ত ফলের গাছ উপহার হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ব্যবসার শুরুতে তারা কোনো বাইরের বিনিয়োগ নেননি। নিজেদের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন এবং ব্যয় কমিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। সময়ের সঙ্গে তাদের উদ্যোগ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ফলদ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছ উপহার হিসেবে সরবরাহ করতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে একটি বিশেষায়িত বাজারকে লক্ষ্য করেই তারা ব্যবসাটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে বিভিন্ন উৎসব, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী ও নতুন বাড়িতে ওঠার মতো বিশেষ উপলক্ষে ফলের গাছ উপহার দেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় তাদের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হয়েছে। মিকি ও ভিকি পোপাটের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, একটি সাধারণ শখও সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার মাধ্যমে সফল ব্যবসায় পরিণত হতে পারে।