আমেরিকা

ট্রাম্পের অভিবাসন কড়াকড়ির মাঝে কোন মার্কিন ভিসা এখনো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৭:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ, বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। শিক্ষার্থী, কর্মসংস্থান ও পারিবারিক ভিসাসহ বিভিন্ন অভিবাসন ক্যাটাগরিতে কড়াকড়ির আলোচনা চললেও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচি এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।

 

ইবি-৫ হলো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমাণ বিনিয়োগ করে অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলে বিদেশি বিনিয়োগকারী, তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। ২০২২ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া ইবি-৫ রিফর্ম আন্ড ইন্টেগ্রিটি এক্ট এর আওতায় বর্তমানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করেছে।

 

অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি নতুন “গোল্ড কার্ড” কর্মসূচির প্রস্তাব সামনে আনলেও সেটি এখনো আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো অভিবাসন কর্মসূচি নয়। অন্যদিকে ইবি-৫ কংগ্রেস অনুমোদিত বিদ্যমান একটি কর্মসূচি হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী এখনো এটিকেই বেশি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।

 

ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবী রন ক্লাসকো বলেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তিনি ইবি-৫ এবং প্রস্তাবিত গোল্ড কার্ড কর্মসূচির আইনি পার্থক্য ব্যাখ্যা করেন। তার অভিজ্ঞতায়, অধিকাংশ ক্লায়েন্ট শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ইবি-৫ কর্মসূচিকেই বেছে নেন।

 

অন্যদিকে কর্নেল ল স্কুলের সাবেক অভিবাসন আইন অধ্যাপক ও দীর্ঘদিনের ইবি-৫ বিশেষজ্ঞ স্টিফেন ইয়েল-লোয়ের বলেন, ইবি-৫ কর্মসূচির অন্যতম কঠিন দিক হলো বিনিয়োগের অর্থের বৈধ উৎস কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। তার মতে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচি চালু হলেও একই ধরনের আর্থিক ও আইনি যাচাই অপরিহার্য হবে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চলতি অর্থবছরের ভিসা বরাদ্দ অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে ইবি-৫ ক্যাটাগরিতে মোট ১৩ হাজার ২০৬টি অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ রয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি তার স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের ভিসাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

 

বাংলাদেশের আবেদনকারীদের জন্যও তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক একটি দিক রয়েছে। চীন ও ভারতের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে ইবি-৫ আবেদনকারীর সংখ্যা এখনো কম। ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে সেই দেশগুলোর তালিকায় নেই, যাদের জন্য ইবি-৫ ভিসায় দীর্ঘ দেশভিত্তিক অপেক্ষা বা রেট্রোগ্রেশন রয়েছে। সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো “অল চার্জাবিলিটি এরিয়াস” বা সাধারণ বৈশ্বিক কোটার আওতায় রয়েছে, যা যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

তবে আইনজীবীরা সতর্ক করে বলছেন, ইবি-৫ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত মনে করার সুযোগ নেই। আবেদনকারীর বিনিয়োগের অর্থের বৈধ উৎস, প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্ত এবং জাতীয় নিরাপত্তা যাচাইসহ একাধিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই আবেদন অনুমোদিত হয়। ভুল প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও থেকে যায়।

 

অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা, কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা এবং অন্যান্য অভিবাসন ক্যাটাগরিতে বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই, দীর্ঘ প্রসেসিং সময় এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনেক আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

 

অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো মার্কিন ভিসা ক্যাটাগরিকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাবে না। তবে দীর্ঘদিনের আইনি কাঠামো, কংগ্রেসের অনুমোদন এবং চলমান কার্যক্রমের কারণে ইবি-৫ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসনের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা, ভিসা বুলেটিন এবং অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
সন্দেহভাজন নারী I ছবি: সংগৃহীত
আবর্জনার ঝুড়িতেই লুকিয়ে ছিল প্রমাণ, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের কাঁটাচামচের ডিএনএতে ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার নারী

টেক্সাসের আর্লিংটনে ২০১২ সালে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সন্দেহভাজন এক নারীকে। আর্লিংটন পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ফেলে দেওয়া একটি প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অপরাধস্থলে পাওয়া রক্তের ডিএনএ মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেন। সেই সূত্র ধরেই গত ১৭ জুলাই ৪২ বছর বয়সী মাইরা ভেলাসকেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি আর্লিংটনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ৩২ বছর বয়সী ইরাসেমা চাভেজকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, তাকে প্রায় ১০০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো আলামত না থাকায় শুরু থেকেই তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, হামলাকারী নিহতের পরিচিত কেউ হতে পারেন। তবে সে সময় অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ডিএনএ জাতীয় ডেটাবেসে কারও সঙ্গে মেলেনি এবং মামলাটি দীর্ঘদিন অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে থাকে।    ২০১৬ সালে অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ডিএনএ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের একটি জিনগত প্রোফাইল তৈরি করা হয়। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আর্লিংটন পুলিশ এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিসের সহায়তায় ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়ালজি (আইজিজি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলাটির তদন্ত নতুন করে শুরু করে। কয়েক বছরের অনুসন্ধানের পর তদন্তকারীরা ভেলাসকেজকে সম্ভাব্য সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন।    তদন্তের অংশ হিসেবে ভেলাসকেজের ব্যবহৃত ও ফেলে দেওয়া একটি প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ সংগ্রহ করে তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ওই নমুনা অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তের ডিএনএর সঙ্গে মিলে গেলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।    বর্তমানে মাইরা ভেলাসকেজের বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।    আর্লিংটন পুলিশ বলছে, আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়ালজির ব্যবহার বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা কোল্ড কেসগুলোর তদন্তে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই মামলাটিও সেই প্রযুক্তির সহায়তায় সমাধানের পথে এগিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৮:১৫
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ

ট্রাম্পের অভিবাসন কড়াকড়ির মাঝে কোন মার্কিন ভিসা এখনো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে লিজিয়নার্সে ৫ জনের মৃত্যু, ৮২ আক্রান্ত; তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি মেয়র মামদানির

নিউইয়র্কে বাড়ির দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ I ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বাড়ির দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, গড় মূল্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ার ১ বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রকল্পে আসছে টিঅ্যান্ডটি সুপারমার্কেট, থাকছে এশিয়ার জনপ্রিয় সব খাবার

কানাডাভিত্তিক অত্যন্ত জনপ্রিয় এশীয় সুপারমার্কেট চেইন ‘টিঅ্যান্ডটি’ (T&T) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টিতে তাদের প্রথম নতুন আউটলেট চালু করতে যাচ্ছে। অরেঞ্জ কাউন্টির ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার মূল্যের আলোচিত ‘গ্রেট পার্ক’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের শেষের দিকে এই বিশাল সুপারমার্কেটটি উন্মুক্ত করা হবে। এর আগে গত মাসে সান জোসের ওয়েস্টগেট সেন্টারে একটি আউটলেট খোলার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম পা রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।   আরভিনে অবস্থিত এই নতুন আউটলেটে ক্রেতাদের জন্য থাকবে তাজা শাকসবজি, সামুদ্রিক মাছ, এশীয় সৌন্দর্য সামগ্রী এবং চীন, জাপান, কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশিল্পের বিশেষ উপকরণ। মূলত রেস্তোরাঁ স্টাইলের তৈরি খাবার এবং সুবিশাল বেকারি কাউন্টারের জন্য টিঅ্যান্ডটি বিশ্বজুড়ে বিশেষ পরিচিত। এখানে কেনাকাটার পাশাপাশি ক্রেতারা উপভোগ করতে পারবেন পেকিং ডাক, বিশেষ বারবিকিউ স্টেশন, সুশি কাউন্টার এবং অর্ডার অনুযায়ী তাৎক্ষণিক তৈরি চাইনিজ ক্র্যাপস ও তাইওয়ানিজ স্টাইলের রাইস রোল।   এ ছাড়া এই সুপারমার্কেটের বেকারিতে পরিবেশন করা হবে ১৫০টিরও বেশি পদের রুটি এবং পেস্ট্রি ও ডেসার্টের বিশাল সমাহার। এর মধ্যে পর্তুগিজ এগ টার্ট, আম ও পমেলো স্বাদের সুইস রোল এবং লাভা মোচি পাফ অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। পুরো দিনজুড়ে কেনাকাটা ও বিনোদনের জন্য তৈরি ৯০ হাজার বর্গফুটের রিটেইল সেন্টার ‘দ্য ক্যানোপি’র মূল চালিকাশক্তি বা ‘অ্যাঙ্কর স্টোর’ হিসেবে কাজ করবে এই টিঅ্যান্ডটি।   এই মেগা প্রজেক্টে টিঅ্যান্ডটি ছাড়াও বিখ্যাত ‘ইন-এন-আউট বার্গার’, ‘ফিলজ কফি’, ‘দ্য ট্যাকো স্ট্যান্ড’, ‘এইচঅ্যান্ডএইচ ব্যাগেলেস’ এবং ‘শুৎস’ (SHOOTZ)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর আউটলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে পর্যায়ক্রমে ‘দ্য ক্যানোপি’র বিভিন্ন অংশ চালু শুরু হবে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৬:৪৮
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্ক-সিলিকন ভ্যালির বাইরে, ক্যারিয়ার গড়ার সেরা ৫ মার্কিন শহর

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর বাসিন্দা মিকি পোপাট ও ভিকি পোপাট

শখের বাগান থেকে কোটি টাকার ব্যবসা: যেভাবে সফল হলেন মার্কিন এই দম্পতি

গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার

বাড়ির বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ঠেকাতে নতুন আইন, ১০০ বাড়ির বেশি কিনতে পারবে না কোম্পানিগুলো

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো
আদালতে হাসিমুখে মাদুরো, অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন ‘আমি নির্দোষ’

ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাসিমুখে হাজির নিকোলাস মাদুরো, বিচারকের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি; বিচারপ্রক্রিয়া ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে আলোচনা।   যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার সময় ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে হাসিমুখে ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ছিলেন এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাও জানান।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আদালতে আনার আগে মাদুরোকে নিউইয়র্কের একটি আটককেন্দ্র থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, “আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট” ও “আমি একজন যুদ্ধবন্দি বলে মনে করি।”   আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও আদালতের নথির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরো আদালতে নিজেকে নির্দোষ (Not Guilty) দাবি করেন। বিচারক মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন এবং তাকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।   গণমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় মাদুরো শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং বিচারকের প্রশ্নের জবাব দেন। আদালতের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সংবাদকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।   দ্য গার্ডিয়ান আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক ডাকা হয় এবং লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।   অন্য দিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি ও তার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ১৫:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের বাড়ি কিনে বিপাকে পরিবার, বাড়িজুড়ে শত শত সাপের বাস

যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের বাড়ি কিনে বিপাকে পরিবার, বাড়িজুড়ে শত শত সাপের বাস

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন পাসের পর বিক্রির তালিকায় ৯ হাজারের বেশি ভাড়াবাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন পাসের পর বিক্রির তালিকায় ৯ হাজারের বেশি ভাড়াবাড়ি

কলেজছাত্র নোলান

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে মিলছে না উত্তর

0 Comments