যুক্তরাষ্ট্রে ৮ ডলারেরও কম দামের চিপস ও বিস্কুট চুরির অভিযোগে চাকরি হারালেন ফোর্ড কর্মী
মাত্র ৮ মার্কিন ডলারেরও কম মূল্যের চিপস ও ক্র্যাকার ‘চুরির’ অভিযোগে চাকরি হারানোর পর ফোর্ড মোটর কোম্পানির এক সাবেক কর্মী আবারও নিজের পুরোনো চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তার দাবি, তিনি খাবারের মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্বয়ংক্রিয় বিলিং ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে লেনদেন সম্পন্ন না হলেও সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী নিক নাবোজনি প্রায় নয় বছর ধরে ফোর্ডের মিশিগান অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে কাজ করেছেন। এই সময়ে তার উপস্থিতির রেকর্ড ছিল নির্ভুল এবং কর্মজীবনে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও ছিল না।
নাবোজনির ভাষ্য, গত এপ্রিলে অতিরিক্ত সময় কাজ শেষে তিনি কারখানার ভেতরে আরামার্ক পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় খাবারের দোকান থেকে একটি ডরিটোস এবং একটি রিটজ ক্র্যাকারস উইথ চিজ নেন।
তার দাবি, দোকানের স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কে দুটি পণ্য স্ক্যান করার পর তিনি নিজের ডেবিট কার্ড স্পর্শ করে মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করেন। তার ধারণা ছিল, লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
তবে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর পারিবারিক সফর শেষে ফিরে এসে তিনি জানতে পারেন, কোম্পানি তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনেছে।
নাবোজনি বলেন, শ্রম দপ্তরে ডেকে তার ইউনিয়নের প্রতিনিধি প্রথমে তাকে জানান, কোম্পানি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে চায়।
তিনি বলেন, "আমি জানতে চাইলাম কেন? তখন বলা হলো, চুরির অভিযোগে।"
নাবোজনির দাবি, পরে নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে কোম্পানির এক প্রতিনিধি স্বীকার করেন যে ভিডিওতে তাকে মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে তিনি কিয়স্ক ছেড়ে চলে যাওয়ার আগেই লেনদেনের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। ফলে অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন হয়নি এবং সেটিকেই চুরি হিসেবে গণ্য করা হয়।
তার ভাষায়, "আমি ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত জানতেই পারিনি যে লেনদেনটি সম্পন্ন হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি এই দোকানে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছি। আমার স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তান রয়েছে। মাত্র দুটি খাবারের প্যাকেটের জন্য আমি কখনোই নিজের চাকরি ও পরিবারের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতাম না।"
চাকরি হারানোর পর পরিবারের খরচ চালাতে নিজের অবসরকালীন সঞ্চয় (৪০১কে) ভেঙে কর ও জরিমানা পরিশোধের পর প্রায় ৭৮ হাজার মার্কিন ডলার তুলতে হয়েছে বলেও জানান নাবোজনি।
তিনি বলেন, ফোর্ড কিংবা ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ) ইউনিয়নের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি শুধু চান, কোম্পানি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাকে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে নিক।
এদিকে নাবোজনি দাবি করেন, তার বিভাগেই অন্তত আরও চারজন কর্মী একই ধরনের অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন।
সম্প্রতি ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস জানায়, মিশিগান অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টের অন্তত তিন কর্মীকে তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় পুনর্বহাল করা হয়েছে।
ফোর্ড মোটর কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরামার্ক পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কের কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমিত সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত। এসব বিষয় পর্যালোচনায় আরামার্কের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে আরামার্কও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তারা পর্যালোচনা করছে এবং সততা ও জবাবদিহির সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতি তাদের রয়েছে।
এ ধরনের আরেকটি ঘটনায় ফোর্ডের সাবেক কর্মী কার্ট ক্রম ১ দশমিক ৯৫ ডলারের একটি বিস্কুটের প্যাকেটের মূল্য পরিশোধের প্রমাণ দেখিয়ে নিজের চাকরি ফিরে পান। কোম্পানি তাকে প্রায় ৩৩ হাজার ডলার বকেয়া বেতনও দেয়। তবে তিনি পুনরায় কাজে যোগ না দিয়ে আইনি পদক্ষেপের পথ বেছে নেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে প্রথম বড় প্রোডাক্ট ইভেন্টে যাচ্ছে অ্যাপল। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের বিশেষ অনুষ্ঠানে কোম্পানিটি নতুন আইফোনসহ একাধিক পণ্য উন্মোচন করতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন। অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় প্যাসিফিক টাইমে ‘সারপ্রাইজ এন্ড সাইন ’ নামে বিশেষ ইভেন্টের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইভেন্টে ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোম্পানি এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে এবারই প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের ঘোষণা আসতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য এই ডিভাইসটির দাম প্রায় ২ হাজার ডলার হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, নতুন আইফোনটির নকশা হবে প্রচলিত আইফোনের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। বইয়ের মতো ভাঁজ করা যাবে এমন এই ডিভাইস খুললে বড় আকারের ডিসপ্লে পাওয়া যেতে পারে। ফোনটির সম্ভাব্য নাম ‘আইফোন আল্ট্রা’ হতে পারে বলেও প্রযুক্তি মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে নাম, দাম ও অন্যান্য স্পেসিফিকেশন এখনো অ্যাপল নিশ্চিত করেনি। ৯ সেপ্টেম্বরের ইভেন্টটি অ্যাপলের জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১ সেপ্টেম্বর টিম কুকের কাছ থেকে সিইওর দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। এর আগে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন। ফলে নতুন সিইও হিসেবে এটি হতে যাচ্ছে তার প্রথম বড় আইফোন উন্মোচন। অ্যাপল বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সিরির উন্নয়ন এবং নতুন ধরনের হার্ডওয়্যার পণ্য নিয়ে বাজারের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে। সেই সময়ে ফোল্ডেবল আইফোন সত্যিই উন্মোচন হলে সেটি কোম্পানির স্মার্টফোন ব্যবসায় বড় ধরনের নকশাগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। বিশেষ করে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে স্যামসাংসহ একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। অ্যাপল এতদিন এই বাজারে প্রবেশ করেনি। ফলে নতুন ফোল্ডেবল আইফোন এলে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তবে ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত ফোল্ডেবল আইফোনের ঘোষণা, নাম, দাম কিংবা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এখন প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর অ্যাপলের সেই বিশেষ ইভেন্টের দিকে, যেখানে নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে কোম্পানির পরবর্তী বড় চমক প্রকাশের অপেক্ষা।
বেলটাউনে একদিনে তিন গুলির ঘটনা, কিশোরসহ নিহত ৩
নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং-কোডিংয়ে চাকরির সুযোগ কতটা, কীভাবে এই চাকরিতে প্রবেশ করবেন?
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের এআই টিউটর, ২০ ডলারের কমে পড়বে তিন শিশু
নিজের বাড়ির সামনের উঠোনে ফল-সবজির বাগান করেই বিপাকে পড়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার চাইনো শহরের বাসিন্দা মাইকেল শেরম্যান। শখের বাগানটি এখন তার জন্য রীতিমতো জরিমানার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া গাছপালা’র অভিযোগে এরই মধ্যে তাকে ৭৫০ ও ৫০০ ডলারের দুটি জরিমানা করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। এবারও নিয়ম না মানলে আরও ৫০০ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে পারেন তিনি। ৪৯ বছর বয়সী শেরম্যান পেশায় ল্যান্ডস্কেপ ঠিকাদার। ২০১৯ সালে সম্ভাব্য খাদ্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ থেকে বাড়ির সামনের লনে সবজি ও ফলের গাছ লাগানো শুরু করেন তিনি। কয়েক বছর পর সেই ছোট্ট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে বেশ বড়সড় বাগানে। তার বাগানে এখন মিষ্টি আলু, স্কোয়াশ, আদা, হলুদ, হর্সর্যাডিশ, কলা, আখ, বরই, পিচ, ব্লুবেরি, প্যাশনফ্রুটসহ নানা ধরনের ফল ও সবজি জন্মে। এমনকি ঔষধি গুণের কথা উল্লেখ করে তিনি ইচ্ছা করেই ড্যান্ডেলিয়নও চাষ করেন। শেরম্যানের দাবি, অধিকাংশ প্রতিবেশীই তার বাগান পছন্দ করেন। তবে পাশের একজন প্রতিবেশীর অভিযোগ থেকেই শহরের এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তার ধারণা। যদিও এক প্রতিবেশী সিবিএস লস অ্যাঞ্জেলেসকে জানিয়েছেন, বাগানটি সবসময় ঠিকমতো ছাঁটাই করা হয় না এবং সেখানে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে। শেরম্যান অবশ্য বলছেন, তার জমিতে অতীতে ইঁদুরের সমস্যা থাকলেও কয়েক বছর ধরে তা নেই। তার মতে, বাড়ির পাশে শুধু খালি মাটি থাকলেও ইঁদুরের সমস্যা তৈরি হতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে শেরম্যানের আরেকটি আপত্তি হলো—ঠিক কোন গাছগুলো সমস্যা তৈরি করছে, তা তাকে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে না। তার ভাষ্য, স্কোয়াশের মতো অনেক গাছই মৌসুমি; এগুলো স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফুল দেয় এবং এক বছরের মধ্যেই মারা যায়। চাইনো শহরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাগান নিয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে বাকি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া গাছপালা ছাঁটাই বা সরিয়ে না ফেলা পর্যন্ত নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি বহাল থাকবে। শেরম্যানের বক্তব্য, নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন খাবার নিশ্চিত করতেই তিনি বাড়িতে চাষাবাদ করছেন। বাজারের খাবারে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে তার আস্থা নেই। তাই নিজের হাতে যতটা সম্ভব নিরাপদ খাবার উৎপাদন করতে চান তিনি।
শেষ ফোনকলের পর উধাও মা, এবার জঙ্গলে শুরু হলো মরিয়া তল্লাশি
শান্তির প্রতীক সরিয়ে যুদ্ধের বার্তা, বদলে যাচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সিল
আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ লাখ নতুন চাকরি, সবচেয়ে বেশি সুযোগ স্বাস্থ্যসেবায়
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শেয়ারবাজার ও অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘শত শত বিলিয়ন ডলার’ আয় করেছেন। নিজের জন্য নয়, দেশের স্বার্থেই এসব করেছেন বলে দাবি তার। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো বিস্তারিত হিসাব বা প্রমাণ দেননি তিনি। রোববার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট করেন ট্রাম্প। এর মধ্যে একটি পোস্টে তাকে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বসে শেয়ারবাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। সামনে থাকা কয়েকটি মনিটরে বিভিন্ন শেয়ারের তথ্য দেখানো হয়েছে। সেখানে ইন্টেলের শেয়ারের দাম বাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। ছবিটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি এসব করছেন ‘দেশের জন্য, নিজের জন্য নয়’। একই সঙ্গে তার সমালোচনার জন্য ডেমোক্র্যাটদেরও আক্রমণ করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে তার প্রকাশ্য আর্থিক তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। সর্বশেষ আর্থিক নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এদিকে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে তার বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৩ হাজার ৬০০টিরও বেশি শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজে লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ট্রাম্পের পোস্টে ইন্টেলকে বিশেষভাবে তুলে ধরার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইন্টেলের ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের শেয়ার কেনেন। মার্চেও কয়েক দফায় কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও ইন্টেলে প্রায় ১০ শতাংশ মালিকানা নেয়। তবে ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকারের কোম্পানিটির পরিচালনায় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়নি। নিজের বিপুল সম্পদ নিয়ে এর আগেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই তার অর্থ বিনিয়োগ করে। তিনি তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন না এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তেও হস্তক্ষেপ করেন না। ট্রাম্পের সম্পদ বৃদ্ধিকে ঘিরে তার রাজনৈতিক বিরোধীরা অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। শেয়ারবাজারের পোস্টের পাশাপাশি সপ্তাহান্তে ট্রাম্প আরও বেশ কিছু মিম ও এআই-তৈরি ছবি প্রকাশ করেন। কয়েকটিতে তাকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে দেখা যায়। আবার কিছু ছবিতে তাকে বিশাল রোবটের পাশে এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে কল্পিত দৃশ্যে দেখানো হয়। এ ছাড়া অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোকে নিয়ে ট্রাম্পের পুরোনো বিরোধও তার পোস্টে উঠে আসে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে হকি খেলছেন—এমন একটি কল্পিত ছবিও শেয়ার করেন তিনি। এমনকি নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ করার কথাও মজার ছলে তুলে ধরেন। সপ্তাহান্তের পোস্টের শেষদিকে ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিনের কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে লেখক ভিক্টর ডেভিস হ্যানসনের নতুন বই দ্য কাউন্টার রেভল্যুশন নিয়ে আলোচনা করা হয়। বইটির প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, লেখক তাকে সম্ভবত তার নিজের চেয়েও ভালো বোঝেন।
সন্তান জন্মের পর প্রবাসী বাংলাদেশির ৪০ হাজার ডলারের বিল, ইনস্যুরেন্স না থাকলে যা জানা জরুরি
পরিচিত দুই ব্যক্তিকে গুলি, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ২৭ বছরের যুবক