যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানার পর টেক্সাস উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় বার্থা। ঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস, উত্তাল সাগর, ভারী বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে লুইজিয়ানার সেন্ট বার্নার্ড প্যারিশের বিলোক্সি ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট এলাকার কাছে বার্থা স্থলভাগে আঘাত হানে। এরপরও ঝড়টির কেন্দ্র দক্ষিণ লুইজিয়ানা উপকূলের কাছ দিয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
বুধবার রাত ১০টার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বার্থার সর্বোচ্চ একটানা বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৪৫ মাইল। ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ১২ মাইল বেগে পশ্চিম দিকে এগোচ্ছিল। তখন এর কেন্দ্রীয় বায়ুচাপ ছিল ১ হাজার ২ মিলিবার।
বার্থার প্রভাবে নিউ অরলিন্সসহ লুইজিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় দমকা বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও উত্তাল ঢেউ দেখা দিয়েছে। ঝড়টি বৃহস্পতিবার টেক্সাস উপকূলের আরও কাছে পৌঁছাতে পারে। তবে স্থলভাগের সংস্পর্শে আসার কারণে ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লুইজিয়ানার ক্যামেরনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে টেক্সাসের সার্জেন্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সতর্কতার আওতায় গ্যালভেস্টন, গ্যালভেস্টন আইল্যান্ড এবং সার্ফসাইড বিচও রয়েছে। এসব এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়া দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
টেক্সাস উপকূলে পৌঁছানোর সময় বার্থার প্রভাবে দমকা বাতাস, বিপজ্জনক ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস এবং কয়েক দফা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে নিচু ও দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থার এলাকায় পানি জমে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাসে টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় ২ থেকে ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের কথা বলা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সাগরে না নামতে এবং স্থানীয় জরুরি সতর্কতা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
বার্থা ২০২৬ সালের আটলান্টিক ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের দ্বিতীয় নাম পাওয়া ঝড়। এর আগে জুনে মৌসুমের প্রথম ঝড় আর্থার টেক্সাস উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও দমকা বাতাস নিয়ে এসেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ফ্লোরিডার পিনেলাস পার্কে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী সন্তান প্রসবের পর তার চাচা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী নিজের গর্ভধারণের বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না। পিনেলাস পার্ক পুলিশ বিভাগ গত ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে হেলেন হাওয়ার্থ পার্ক থেকে এক নবজাতক উদ্ধারের পর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, নবজাতক ও ১২ বছর বয়সী মা উভয়কেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁরা সুস্থ আছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিজের গর্ভাবস্থা সম্পর্কে জানতেন না। তবে তিনি পিনেলাস পার্কের একটি বাসায় গত এক বছর ধরে তার চাচার দ্বারা একাধিকবার যৌন নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬১ বছর বয়সী ডেলফিন ব্যাক নামে ওই চাচাকে গ্রেপ্তার করে পিনেলাস কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নিপীড়নের (ক্যাপিটাল সেক্সুয়াল ব্যাটারি) অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও তথ্য জানতে পারে এমন যে কাউকে পিনেলাস পার্ক পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মার্টিন কাউন্টিতে একটি বাড়ি থেকে ৭০ থেকে ৮০টি বিড়াল ও কুকুরকে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখার অভিযোগে ৭৭ বছর বয়সী গেইল জিউস্তিনোকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আদালতের তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, কয়েক সপ্তাহ আগে অভিযোগ আসে যে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের একজন কর্মী তার দায়িত্ব পালনের সময় পথের বিড়াল সংগ্রহ করছেন। তদন্তে গেইল জিউস্তিনোর নাম সামনে আসে। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা অত্যন্ত নোংরা পরিবেশ, তীব্র দুর্গন্ধ, প্রচণ্ড গরম এবং বাতাস চলাচলের প্রায় কোনো ব্যবস্থা না থাকার চিত্র দেখতে পান। শেরিফ জন বাডেনসিয়েক জানান, বাড়ির কিছু অংশে প্রায় এক ফুট পর্যন্ত প্রাণীর মল জমে ছিল। সেখানে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ছিল না। বাড়ির ভেতরের পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর ছিল যে উদ্ধারকাজ সহজ করতে ফায়ার রেসকিউ সদস্যদের দিয়ে ঘরটি বাতাস চলাচলের উপযোগী করা হয়। গেইল জিউস্তিনো কর্তৃপক্ষকে জানান, তার বাড়িতে অন্তত ৭০টি খাঁচাবন্দি বিড়াল রয়েছে। তবে অভিযানের সময় বিড়াল ও কুকুর মিলিয়ে মোট কতটি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্যগত অবস্থাও এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে আরও জানা যায়, প্রাণী নিয়ন্ত্রণ বিভাগ অতীতেও একাধিকবার জিউস্তিনোর বাড়িতে গিয়েছিল এবং বিভিন্ন অনিয়মের জন্য তাকে প্রায় ৬৫টি নোটিশ দিয়েছিল। প্রায় এক দশক আগে বাড়ির বায়ু চলাচল ও প্রাণীর পরিচর্যাসংক্রান্ত সমস্যাও সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি কর্মকর্তারা আবারও পরিদর্শনে গেলে তিনি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, জিউস্তিনোর বিরুদ্ধে দুটি মিসডিমিনার বা লঘু অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রাণীগুলো জব্দ করা হয়েছে, যাতে তাদের চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যায় এবং তিনি আবার নতুন প্রাণী সংগ্রহ করতে না পারেন। শেরিফ বাডেনসিয়েক বলেন, জিউস্তিনো প্রাণীগুলোকে খাবার দিতেন। তবে মাছি ও পোকা দমনের স্প্রে ভুলভাবে ব্যবহারের কারণে অন্তত একটি প্রাণী আহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে আপাতত স্থানীয় হিউম্যান সোসাইটির তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। তাদের পরিচর্যার জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও অস্থায়ী আশ্রয়দাতাদের সহায়তা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জিউস্তিনো অতীতে কোনো প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে প্রাণী জমা দিয়ে থাকলে সে তথ্য জানাতে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো উদ্ধার করা প্রাণীগুলোর যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে গেইল জিউস্তিনোর জন্যও উপযুক্ত সহায়তার ব্যবস্থা করা।
ইরানে জন্ম নেওয়া খ্রিস্টান নেত্রী ও মানবিক সহায়তা সংস্থা ট্রান্সফর্ম ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লানা সিল্ক দাবি করেছেন, ইসলাম সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রে অনেকের যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি সংবাদমাধ্যম সিবিএন নিউজে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘আমেরিকায় ইসলাম নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: আমরা কি এমন একটি ধর্মকে গ্রহণ করছি, যেখান থেকে বিশ্বের বহু মানুষ বেরিয়ে আসতে চাইছে?’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে লানা সিল্ক বলেন, ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের বাস্তবতায় বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি হচ্ছে, তার অনেকটাই ইরানের মতো দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর সমালোচনার লক্ষ্য মুসলিম জনগোষ্ঠী নয়; বরং ইসলামের বিষয়ে তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন। লানা সিল্ক বর্তমানে ট্রান্সফর্ম ইরানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সংস্থাটি ইরানের ভেতরে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সংস্থাটির বৈশ্বিক প্রেসিডেন্ট ও সিইওর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ইরানে জন্ম নিলেও পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইরানের মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর পক্ষে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করে আসছেন। বিশ্লেষণে লানা সিল্ক স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর পরিচিত অধিকাংশ মুসলিমই ভদ্র, সম্মানজনক ও শান্তিপ্রিয় মানুষ। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে শুধু তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিমদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা রয়েছে এবং তাঁদের সেবাকেই তিনি নিজের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখেন। তাঁর ভাষায়, মুসলিমদের কাছে ঈশ্বরের ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে আবেগের পরিবর্তে ইতিহাস, ধর্মীয় শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সিবিএন নিউজে প্রকাশিত নিবন্ধে লানা সিল্ক ইসলাম সম্পর্কে বেশ কয়েকটি সমালোচনামূলক মন্তব্যও করেছেন। তবে সেগুলো তাঁর ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। ইসলাম, কোরআন এবং ইসলামি শিক্ষা সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন সর্বজনস্বীকৃত নয় এবং এ বিষয়ে মুসলিম সমাজ, ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লানা সিল্ক ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে বসবাসকারী মানুষের জীবন, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং মানবিক সংকট নিয়ে তাঁর সংগঠন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সচেতনতা তৈরির কাজ করছে।