নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পেন স্টেশন এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনায় পুরোনো ও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত এই স্টেশনকে আধুনিক, প্রশস্ত ও দৃষ্টিনন্দন ট্রানজিট হাবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশাল এই সংস্কার প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন আরেকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। পেন স্টেশনের নামও পরিবর্তন করতে চায় প্রশাসন। আর সেই নতুন নামের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত হতে পারে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বুধবার কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট কমিটিগুলোর নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাফি কংগ্রেসকে আমট্রাককে নিউইয়র্ক পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে নতুন নাম কী হবে, সেটি চিঠিতে উল্লেখ করেননি পরিবহনমন্ত্রী। পরিবহন বিভাগের মুখপাত্ররা সংবাদমাধ্যমকে চিঠিটি দিলেও সম্ভাব্য নতুন নাম নিয়ে পরবর্তী প্রশ্নের জবাব দেননি।
এ কারণেই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পেন স্টেশনের নতুন নাম কি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে হতে পারে?
এই জল্পনা একেবারে নতুন নয়। ডাফি এর আগেও পেন স্টেশনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার ধারণার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। গত বছর তাকে সম্ভাব্য “ট্রাম্প স্টেশন” নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, নামটি শুনতে ভালো লাগে।
এ বছরের শুরুতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকেও পেন স্টেশনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনিও সেই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেননি।
তবে এখন পর্যন্ত পেন স্টেশনের নাম “ট্রাম্প স্টেশন” বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং ট্রাম্পের নামে নামকরণ, দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি এখন প্রশাসনের ঘোষিত অগ্রাধিকারের অংশ, দ্বিতীয়টি এখনো সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পেন স্টেশন
নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছে পেন স্টেশন নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন খুব একটা নেই। নিউ জার্সি, লং আইল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহর থেকে ম্যানহাটনে যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রতিদিনের পথ এই স্টেশনের মধ্য দিয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের হিসাবে, প্রতিদিন ছয় লাখের বেশি যাত্রী পেন স্টেশন ব্যবহার করেন। আমট্রাক, নিউ জার্সি ট্রানজিট এবং লং আইল্যান্ড রেল রোডের ট্রেন চলাচলের কারণে এটি নিউইয়র্ক অঞ্চলের রেল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। পরিবহন বিভাগ এটিকে পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে ব্যস্ত ট্রানজিট হাব হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অথচ যাত্রীসংখ্যা ও গুরুত্বের তুলনায় বর্তমান পেন স্টেশনের পরিবেশ নিয়ে বহু বছর ধরে অভিযোগ রয়েছে। নিচু ছাদ, ভূগর্ভস্থ করিডোর, ভিড়, জটিল চলাচলের পথ এবং পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাব নিয়ে নিউইয়র্কবাসী ও যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জানিয়ে আসছেন।
নতুন পেন স্টেশন কেমন হবে
গত ৮ জুন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি, আমট্রাক এবং প্রকল্পের মাস্টার ডেভেলপার পেন ট্রান্সফরমেশন পার্টনার্স নতুন পেন স্টেশনের ডিজাইন প্রকাশ করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমান স্টেশনকে শুধু সাজানো নয়, যাত্রীদের অভিজ্ঞতাই আমূল বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এইটথ অ্যাভিনিউয়ের দিকে বড় নতুন প্রবেশপথ ও ট্রেন হল থাকবে। ভেতরের চলাচলের পথ আরও সহজ করা হবে, অপেক্ষার জায়গা বাড়ানো হবে এবং স্টেশনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমানতা উন্নত করা হবে।
বর্তমান স্টেশনের যেসব জায়গায় পথ হঠাৎ শেষ হয়ে যায় বা যাত্রীদের ঘুরে যেতে হয়, সেগুলোও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি স্টেশন তৈরি করা, যেখানে প্রথমবার আসা যাত্রীও তুলনামূলক সহজে নিজের ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম বা বের হওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারবেন।
ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনও তার বর্তমান অবস্থানেই থাকবে। নির্মাণকাজ চলার সময় ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন এবং স্টেশন ব্যবহারকারী রেল সার্ভিসগুলো চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মূল নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
কারা তৈরি করবে নতুন পেন স্টেশন
২০২৬ সালের মে মাসে পেন ট্রান্সফরমেশন পার্টনার্সকে প্রকল্পের মাস্টার ডেভেলপার হিসেবে নির্বাচন করা হয়। হালমার ও স্কানস্কার নেতৃত্বে গঠিত যৌথ উদ্যোগটি নতুন স্টেশনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ফেডারেল সরকার ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নিতে অর্থ দিয়েছে। পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ৪৩ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল গ্র্যান্ট দেওয়া হয়। এরপর গত মে মাসে ডিজাইন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাজ এগিয়ে নিতে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা আসে।
জুলাইয়ে ফেডারেল রেলরোড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি প্রাথমিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান অবকাঠামোতে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে পেন স্টেশনে ঘণ্টায় ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩২টি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। এই গবেষণার ফল ভবিষ্যতের ট্র্যাক ও স্টেশন ডিজাইন তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
পেন স্টেশনের নাম কোথা থেকে এলো
আজকের “Penn Station” নামটির সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের সম্পর্ক নেই। নামটি এসেছে Pennsylvania Railroad থেকে।
এই রেল কোম্পানিই বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নিউইয়র্কে মূল Pennsylvania Station নির্মাণ করেছিল। ১৯১০ সালে চালু হওয়া সেই স্টেশন ছিল বিশাল ও জমকালো স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। উঁচু ছাদ, বিশাল কলাম এবং খোলা পরিসরের কারণে ভবনটি নিউইয়র্কের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শনে পরিণত হয়েছিল।
কিন্তু ১৯৬৩ সালে মূল ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে ওই এলাকার ওপর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন নির্মিত হয় এবং পেন স্টেশনের বড় অংশ চলে যায় ভূগর্ভে।
মূল পেন স্টেশন ধ্বংস নিউইয়র্কের ইতিহাসে অত্যন্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঘটনা শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এবারের নতুন ডিজাইনে সেই হারিয়ে যাওয়া স্থাপত্যের কিছু বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা রয়েছে। প্রকাশিত রেন্ডারিংয়ে বড় প্রবেশপথ, কলাম এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা পরিবেশ দেখা গেছে।
ট্রাম্পের নাম নিয়ে বিতর্ক কেন
নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ম্যানহাটনের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেরি ন্যাডলার এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের বক্তব্য, বিপুল অর্থের অবকাঠামো প্রকল্পে যাত্রীসেবা, নির্মাণ ব্যয় ও সময়সীমাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় থাকা পেন স্টেশনকে আধুনিক ও বিশ্বমানের ট্রানজিট হাবে রূপ দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও গত কয়েক বছরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবহন বিভাগ পেন স্টেশন পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনে। এরপর আমট্রাককে সামনে রেখে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এখন নাম পরিবর্তনের বিষয়টি কংগ্রেসের সামনে তোলায় পেন স্টেশনকে ঘিরে অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক আলোচনাও আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য দুটি। প্রথমত, প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনায় নিউইয়র্ক পেন স্টেশনের বড় ধরনের রূপান্তর এগিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসন স্টেশনটির নাম পরিবর্তন করতে চায়।
কিন্তু শত বছরের বেশি সময় ধরে পরিচিত “Penn Station” নামটি শেষ পর্যন্ত বদলাবে কি না এবং বদলালে সেখানে “Trump” নাম যুক্ত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। নিউইয়র্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোর একটির নতুন চেহারার পাশাপাশি তাই এখন নজর থাকবে তার ভবিষ্যৎ নামের দিকেও।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি সিভিল জরিমানা জারি করা হয়েছে। এসব জরিমানার মোট পরিমাণ প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলার। প্রেসিডেন্টের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় ইতোমধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে। বুধবার নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্তভাবে দেশে ফেরতের নির্দেশ পাওয়া যেসব অবৈধ অভিবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে ব্যর্থ হবেন, নির্দেশ পালনের আগ পর্যন্ত তাদের প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার করে জরিমানা গুনতে হবে। ডিএইচএস সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশে ফেরত পাঠানোর আগেই অভিবাসীদের এই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক বহিষ্কারের বদলে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করা। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, প্রথাগত আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত পাঠানোর চেয়ে এই পদ্ধতিটি কম ব্যয়বহুল। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) তাদের 'সিবিপি হোম' অ্যাপের মাধ্যমে এই নীতির ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। সিবিপির একটি প্রচারপত্রে অভিবাসীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, 'স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা নিরাপদ' এবং তারা চাইলে নিজেদের পছন্দমতো ফ্লাইটের টিকিট কেটে দেশে ফিরে যেতে পারেন। ডিএইচএস জানিয়েছে, যেসব অবৈধ অভিবাসীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তারা স্বেচ্ছায় ফিরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে উপার্জিত অর্থ সাথে নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ভবিষ্যতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতাও তাদের অক্ষুণ্ণ থাকবে। এমনকি যারা বিমানের টিকিট কিনতে অক্ষম, তারা সরকারি ভর্তুকিতে ভ্রমণের সুবিধাও পেতে পারেন। তবে যারা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাবেন, তাদের কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই গ্রেপ্তার করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ডিএইচএসের তথ্যমতে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরে ৩০ লাখেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ২২ লাখ অভিবাসী স্বেচ্ছায় ফিরে গেছেন। এছাড়া, গত ১৭ মে পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৯ লাখের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই নীতিকে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ কার্যকর এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের খরচ কমানোর একটি বৈধ হাতিয়ার হিসেবে দাবি করেছে। তারা মনে করে, জো বাইডেন প্রশাসনের সময়কালের রেকর্ড সংখ্যক সীমান্ত অতিক্রমের পর বর্তমান পদক্ষেপগুলো অবৈধ অভিবাসন হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে, এই বিপুল অঙ্কের সিভিল জরিমানা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেট সদস্যরা। সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির ইমিগ্রেশন সাবকমিটির র্যাংকিং মেম্বার ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলা এবং ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ডিক ডারবিন চলতি সপ্তাহে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তারা অবিলম্বে এই অন্যায্য জরিমানার অপপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটরদের অভিযোগ, ড্যাকা (DACA) কর্মসূচির আওতাভুক্ত, গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী এবং মানবপাচার বা পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া বৈধভাবে অবস্থানকারী অনেক অভিবাসীকেও অযৌক্তিকভাবে এই জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে, যা আইন মান্যকারী অভিবাসীদের সুরক্ষার নীতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করছে।
একসময় গৃহহীন হয়ে ডেট্রয়েটের রাস্তায় দিন কাটিয়েছিলেন। আসক্তির সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সংগ্রামী জীবনকে সম্মান জানিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে আরঅ্যান্ডবি সংগীতশিল্পী কেমের (KEM) নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডেট্রয়েটের মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ড ও থার্ড স্ট্রিটের মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেম’–এর নামে সম্মানসূচক সড়কচিহ্ন উন্মোচন করা হয়। স্থানটি শিল্পীর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একসময় এই এলাকাতেই অবস্থিত ডেট্রয়েট রেসকিউ মিশনে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘KEMISTRY’-এর কিছু গানও তিনি এই সময় লিখেছিলেন। অনুষ্ঠানে ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ড বলেন, কেম শুধু একজন সফল সংগীতশিল্পী নন, তিনি মানবিক কাজ এবং সমাজসেবার জন্যও পরিচিত। কঠিন অতীতকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর এই সম্মান প্রমাণ করে যে প্রতিকূলতা পেরিয়েও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের সদস্য মেরি ওয়াটার্স বলেন, এই সড়কচিহ্ন শুধু একজন শিল্পীকে সম্মান জানানো নয়, বরং এমন একটি জায়গাকে স্মরণীয় করে রাখা, যেখান থেকে কেমের নতুন জীবনের সূচনা হয়েছিল। তাঁর জীবনগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। কেমের জন্মদিন, ‘কেম ডে’ এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মাদকমুক্ত জীবনের বার্ষিকী উপলক্ষে একই দিনে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ডেট্রয়েট রেসকিউ মিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। গ্র্যামি মনোনীত এই আরঅ্যান্ডবি শিল্পী একসময় গৃহহীনতা ও মাদকাসক্তির কারণে জীবনের কঠিন সময় পার করলেও পরে নিজের প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি সংগীতের পাশাপাশি গৃহহীন ও আসক্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার ইন্টারভিউ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য নতুন একটি দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থায় যোগ্য B ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীরা নিয়মিত আবেদন ফির বাইরে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টারভিউয়ের তারিখ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে আপাতত এই সুবিধা সব দেশে চালু হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২২ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, Nonimmigrant Visa Expedited Appointment Pilot Program নামের এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রথম দেশ হিসেবে মেক্সিকোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও সব কনস্যুলেটে ২১ জুলাই থেকে এটি চালু হয়েছে। পাইলট চলাকালে আরও দেশ ও মার্কিন মিশন এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে। নতুন সুবিধাটি মূলত বি ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য। বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফর, সভা, সম্মেলন বা অনুমোদিত অন্যান্য সাময়িক ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। বি-২ ভিসা পর্যটন, ছুটি কাটানো, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করাসহ অনুমোদিত ব্যক্তিগত সফরের জন্য। অনেক আবেদনকারীকে সম্মিলিত বি-১/বি-২ ভিসা দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পেইড এক্সপেডাইট সুবিধা নিতে আবেদনকারীকে প্রথমে প্রচলিত নিয়মে ১৮৫ ডলারের এমআরভি আবেদন ফি পরিশোধ করে একটি নিয়মিত ইন্টারভিউয়ের তারিখ নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশে পেইড এক্সপেডাইট চালু থাকলে, আবেদনকারী যোগ্য হলে এবং দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট খালি থাকলে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টারভিউয়ের সময় বেছে নেওয়া যাবে। অর্থাৎ একজন আবেদনকারী এই সুবিধা ব্যবহার করলে ১৮৫ ডলারের নিয়মিত আবেদন ফি এবং ৭৫০ ডলারের দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি মিলিয়ে শুধু এই দুই খাতেই মোট ৯৩৫ ডলার দিতে হবে। দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা অবশ্য সীমিত। মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক স্লট এই কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করবে। স্লট খালি থাকলেই কেবল যোগ্য আবেদনকারীর কাছে পেইড এক্সপেডাইট অপশনটি দেখা যাবে। আবেদনকারী দ্রুত ইন্টারভিউয়ের তারিখ ও সময় নির্বাচন করার পর সেটি নিশ্চিত করতে ১০ মিনিটের মধ্যে ৭৫০ ডলার পরিশোধ করতে হবে। একবার পেইড এক্সপেডাইট অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে সেই তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। কেউ নির্ধারিত ইন্টারভিউয়ে উপস্থিত না হলে ৭৫০ ডলার ফেরত পাবেন না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করলেও এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। পরে আবার পেইড এক্সপেডাইট সুবিধা নিতে চাইলে নতুন করে ৭৫০ ডলার দিতে হবে। একই আবেদনে একাধিক পরিবারের সদস্য বা গ্রুপের সদস্য থাকলে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে প্রত্যেক আবেদনকারীকে আলাদাভাবে ৭৫০ ডলার দিতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিলেই মার্কিন ভিসা পাওয়া যাবে না। এই অর্থ কেবল দ্রুত ইন্টারভিউয়ের তারিখ পাওয়ার জন্য। ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অন্য সবার মতো একই যোগ্যতার শর্ত পূরণ এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কনস্যুলার কর্মকর্তা। এমনকি ইন্টারভিউয়ের পর কোনো আবেদন অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আওতায় গেলে ৭৫০ ডলার দেওয়ার কারণে সেই প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যাদের সাধারণ জরুরি ইন্টারভিউয়ের আবেদন আগে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তারাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে পেইড এক্সপেডাইট সুবিধা নিতে পারবেন। তবে যারা ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ মওকুফের যোগ্য, তারা ৭৫০ ডলার দিয়ে নিজেদের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ পাবেন না। এই কর্মসূচি কেবল নির্ধারিত ইন্টারভিউ থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২২ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত অংশগ্রহণকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে বি-১/বি-২ ভিসার আবেদনকারীরা এখনই ৭৫০ ডলার দিয়ে এই দ্রুত ইন্টারভিউ সুবিধা নিতে পারবেন, এমন ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চলাকালে আরও স্থান এতে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কর্মসূচিতে যুক্ত হলে এবং আবেদনকারী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে তার ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট অ্যাকাউন্টে পেইড এক্সপেডাইট অপশন দেখা যেতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ভিসা আবেদন আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য নতুন ব্যবস্থাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য প্রচলিত শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে নতুন ব্যবস্থায় ৭৫০ ডলারের বিনিময়ে দ্রুত ইন্টারভিউয়ের সুযোগ মিললেও এটি দ্রুত ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা নয়। অর্থাৎ আবেদনকারী অর্থ দিয়ে কিনছেন আগের ইন্টারভিউয়ের সুযোগ, মার্কিন ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।