নায়ক থেকে গায়ক, অপূর্বর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ নিউইয়র্কের দর্শক
অভিনয়ের পরিচিত মুখ এবার গানের মঞ্চে। জীবনের প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় গান, গল্প ও দর্শকের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতায় নিউইয়র্কের দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। দর্শকদের উচ্ছ্বাসে আপ্লুত এই অভিনেতা জানিয়েছেন, আগ্রহ থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও শহরে গান নিয়ে হাজির হতে চান।
৮ আগস্ট নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘অপূর্ব লাইভ মিউজিক্যাল নাইট’-এ মাইক্রোফোন হাতে মঞ্চে ওঠেন অপূর্ব। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নায়ক হিসেবে দর্শকের কাছে পরিচিত এই তারকা এবার গায়ক হিসেবে হাজির হয়ে প্রবাসী দর্শকদের চমকে দেন।
দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গান পরিবেশনের পাশাপাশি নিজের জীবন, অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত স্মৃতি দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। উপস্থাপক শামীম সাহেদের সঞ্চালনায় গান ও কথোপকথনের সমন্বয়ে সাজানো হয় পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠান শেষে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসে অপূর্বর গায়কির প্রশংসা। এক দর্শক বলেন, অপূর্বর গান শুনতে এসে তিনি অভিভূত হয়েছেন। তার কণ্ঠ ও পরিবেশনা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।
আরেক দর্শকের ভাষায়, “অপূর্বর গান অপূর্ব হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠান আসলেই অপূর্ব।”
নবীন থেকে প্রবীণ, বিভিন্ন বয়সী দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল অপূর্বর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। গানের ফাঁকে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নিজের বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণের সময় আবেগঘন হয়ে ওঠে পরিবেশনা। উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই সেই মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হন।
এক দর্শক বলেন, পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল অন্যরকম। বিশেষ করে বাবাকে নিয়ে অপূর্বর কথাগুলো তার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি অপূর্বর সংগীত প্রতিভার কথা তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরাও জানেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিনেতা আবদুন নূর সজল জানান, দীর্ঘদিন ধরে অপূর্বর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। একসময় একসঙ্গে বহু নাটকে কাজ করার সময়ও অপূর্বর গান শোনার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।
সজল বলেন, “অপূর্ব আমার বন্ধু, আমার কলিগ। আমরা একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। অপূর্ব আমাদের স্টেজে অনেক সুন্দর সুন্দর গান গাইত। কিন্তু আজকে লাইভ গান শুনেছি। একজন সহশিল্পী হিসেবে বলব, অপূর্বর গানও অপূর্বর মতোই।”
অপূর্বর আরেক সহকর্মীও জানান, শুটিংয়ের সময় থেকেই তার গান শোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দীর্ঘ সময় শুটিংয়ের ফাঁকে অপূর্বর গান শুনেছেন তারা। নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মাধ্যমে এবার সেই প্রতিভা আরও বড় পরিসরে দর্শকের সামনে এসেছে।
প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দর্শকদের এমন সাড়া অবশ্য অপূর্বর নিজের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি জানান, মঞ্চে ওঠার আগে দর্শকের মন জয় করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তার মধ্যে সংশয় ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান চলার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উচ্ছ্বাস সেই দ্বিধা দূর করে দেয়।
অপূর্ব বলেন, “ভীষণ ভালো লাগছে। আমার নিজের প্রত্যাশা খুব কম ছিল। মনে হচ্ছিল, আসলে মানুষের মন জয় করতে পারব কি না। এত ভালোবাসা পাব, এটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল।”
দর্শকের ভালোবাসাকেই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। অপূর্ব বলেন, দর্শকদের উচ্ছ্বাস তাকে নতুন করে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
নিউইয়র্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরেও গান নিয়ে হাজির হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন অপূর্ব। তবে বিষয়টি পুরোপুরি দর্শকের আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষায়, “এটা আসলে দর্শকদের আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে। তারা আমাকে দেখতে চান কি না। যদি আমার মনে হয় তারা আমাকে চান, তাহলে অবশ্যই হয়তো আবার তাদের সামনে হাজির হব।”
অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচিত অপূর্বর জন্য নিউইয়র্কের এই আয়োজন তাই শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়। প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দর্শক ও সহকর্মীদের প্রশংসা এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া তার সামনে সংগীতের নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অভিনয়ের পাশাপাশি গানকে তিনি কতটা নিয়মিতভাবে নিজের ক্যারিয়ারের অংশ করে নেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে না পাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় এলাকার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার থেকেও দক্ষ কর্মী খোঁজার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ বিশেষজ্ঞ কার্লোস গনজালেজ। তার এক মতামতধর্মী লেখায় গনজালেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একটি অংশ এমন একটি সমস্যার ফল, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো একই সীমিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে কর্মী খুঁজতে থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় কর্মী না পেয়ে একই নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার চালাতে হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস বা এনএফআইবির আগস্ট ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, ছোট ব্যবসার ৩৫ শতাংশ মালিক এমন পদে নিয়োগ দিতে পারেননি যেগুলোতে কর্মী প্রয়োজন ছিল। এই হার জুলাইয়ের তুলনায় ১ শতাংশ পয়েন্ট কম হলেও দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি। একই জরিপে দেখা যায়, আগস্টে ৫৬ শতাংশ ছোট ব্যবসার মালিক কর্মী নিয়োগ করেছেন বা নিয়োগের চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা যে পদগুলোতে কর্মী খুঁজছিলেন সেসব পদের জন্য যোগ্য আবেদনকারী খুব কম পেয়েছেন অথবা কোনো যোগ্য আবেদনকারীই পাননি। এনএফআইবির হিসাবে, ২৯ শতাংশ মালিক অল্পসংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী পেয়েছেন এবং ১৮ শতাংশ কোনো যোগ্য আবেদনকারী পাননি। শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্রও সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাই ২০২৬ সালের চাকরির সুযোগ ও শ্রমিক বদলসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মাসের শেষ কর্মদিবসে দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খোলা ছিল। একই সময়ে নিয়োগ হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ কর্মী। গনজালেজের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বারবার একই পদে কর্মী নিয়োগ করে এবং কয়েক মাস পর আবার সেই পদ খালি হয়ে যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কাজের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, নতুন কর্মী খোঁজা এবং কর্মী ধরে রাখার ব্যয় বারবার বহন করতে হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন ব্যবস্থা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কার্যকর হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে বারবার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কর্মীর প্রয়োজন বছরের পর বছর থাকে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের পথগুলোর কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার বা ইবি-৩ কর্মসূচি এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার বিদেশি কর্মীরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও বসবাসের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার ভূমিকা এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। গনজালেজ মনে করেন, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে শুধু জরুরি পরিস্থিতির অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তার মতে, কর্মী সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি বৈধ আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগগুলোও মূল্যায়ন করা উচিত। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও শ্রমশক্তি পেতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকেরা মনে করেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এই কারণে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মজুরি, কর্মপরিবেশ, পরিবহন, আবাসন এবং কর্মী ধরে রাখার নীতির পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাও শ্রমবাজারের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এনএফআইবির আগস্টের তথ্য বলছে, ছোট ব্যবসার ২৩ শতাংশ মালিক শ্রমিকের মান বা প্রাপ্যতাকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও জুলাইয়ের তুলনায় এ হার ৪ পয়েন্ট কমেছে, এটি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি। একই সময়ে ৩১ শতাংশ ছোট ব্যবসায় দক্ষ কর্মীর জন্য পদ খালি ছিল এবং ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ কর্মীর পদ খালি ছিল। গনজালেজের প্রস্তাবিত পদ্ধতির মূল বিষয় হলো, যেসব পদ একই প্রতিষ্ঠানে বারবার খালি হচ্ছে সেগুলোকে আলাদা করে পর্যালোচনা করা। কোনো পদ প্রকৃতপক্ষে অস্থায়ী প্রয়োজনের জন্য, আর কোনটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী জনবল কাঠামোর অংশ, তা নির্ধারণের পর নিয়োগের পথ ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একই পদে বারবার একই পদ্ধতিতে কর্মী খোঁজে এবং কর্মী ধরে রাখতে না পারে, তাহলে শুধু শ্রমিকের ঘাটতিকে সমস্যার কারণ হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। নিয়োগ পদ্ধতি, কর্মপরিবেশ, মজুরি, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগও তখন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে এই মতামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, লেখক নিজেই আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের আইনবিষয়ক পরিচালক। গ্লোবাল এক্সপ্রেস রিক্রুটিং নামের প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তা করে এবং এ থেকে আয় করে। ফলে তার প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক নিয়োগের মডেলকে ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রেক্ষাপটেও দেখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে খালি পদ ও যোগ্য কর্মী খুঁজে পাওয়ার সমস্যাটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী জুলাইয়ে ৭৩ লাখ চাকরির সুযোগ খোলা ছিল এবং ছোট ব্যবসার একটি বড় অংশ আগস্টেও প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে পেতে সমস্যার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী চাহিদা পূরণে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মী ধরে রাখা এবং আইনসম্মত আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস, ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস, ইউএসসিআইএস
ক্যালিফোর্নিয়ায় জোড়া খু নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, সিরিয়াল কিলার আতঙ্কে তদন্তকারীরা
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গু লিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভারের মৃ ত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াকআউট করেছেন অসংখ্য দেশের প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন প্রতিবাদস্বরূপ দলে দলে কূটনীতিকরা মিলনায়তন ত্যাগ করেন। তবে এই ঘটনাকে পাত্তা না দিয়ে ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। এ সময় গ্যালারিতে থাকা তার সমর্থকরা হিব্রু ভাষায় ‘ইসরায়েলের জনগণ বেঁচে আছে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে ক্রমেই বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক কোণঠাসা পরিস্থিতির মধ্যেই এদিন গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের পক্ষে জোরালো সাফাই গান তিনি। ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, পশ্চিম ইউরোপীয় নেতা এবং কাতার ও তুরস্কের কড়া সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। মেয়র মামদানি তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় নেতানিয়াহু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল কোনো গণহত্যা চালায়নি, বরং তা প্রতিরোধ করেছে। একই সঙ্গে তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু তার গণহত্যার বিষয়টি আড়াল করতেই বরাবরের মতো মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। আগামী পাঁচ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু এদিন প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অনেকটা নির্বাচনী প্রচারণার ঢঙেই ভাষণ দেন, যা ইসরায়েলের প্রধান চারটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রাইম টাইমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এই ভাষণের আগে ম্যানহাটনে তার সরকারের অর্থায়নে পাঁচ শতাধিক ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিলবোর্ড এবং ট্রাক নামানো হয়েছিল। নিজেকে সাতটি ফ্রন্টে লড়াই করা নেতা হিসেবে তুলে ধরে তিনি এদিনও ভাষণে বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদর্শন করেন। লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি একটি পেজার হাতে তুলে ধরেন। পাশাপাশি একটি স্টারলিংক ইন্টারনেট রিসিভার দেখিয়ে তিনি জানান, এটি তিনি ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য রেখে যাবেন, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন। ইসরায়েলের এই নেতার আগমন ঘিরে জাতিসংঘের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো, গাজাকে বাঁচতে দাও’ স্লোগানে শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েলের নির্বাচনকালীন এই সংক্ষিপ্ত সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল না। তবে ভাষণে ট্রাম্পের ‘সাহসী নেতৃত্বের’ প্রশংসা করে তাকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অংশীদার বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। প্রায় তিন বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েল বর্তমানে চরম কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালে আইসিসির জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহু অনেক দেশেই সফর করতে পারেন না। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর সম্প্রতি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞাকেও তিনি দুর্বলতা আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ সহিংসতাকে তিনি মাত্র ‘দেড়শতাধিক কিশোর অপরাধীর পাথর ছোড়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা’ বলে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন যে ইসরায়েল একটি আইনের দেশ।
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে
আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লাখ লাখ পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ বিলে মোট ৮৮৬ মিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক সুবিধা বা ‘ক্লাইমেট ক্রেডিট’ ঘোষণা করেছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। গ্রীষ্মের চরম গরমে যখন বিদ্যুতের ব্যবহার ও বিল সবচেয়ে বেশি থাকে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ‘ক্লাইমেট উইক এনওয়াইসি’ চলাকালীন গভর্নর এই ঘোষণা দেন। এর আওতায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিলে গড়ে ৭৫ ডলার করে স্বয়ংক্রিয় ছাড় দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক (পিজিঅ্যান্ডই), সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন এবং সান দিয়েগো গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিকের আবাসিক গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন। এই অর্থ পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হবে না; বরং এটি সরাসরি তাদের বিদ্যুৎ বিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেডিট হিসেবে যুক্ত হবে। মূলত পরিবেশ দূষণকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ দিয়েই সাধারণ নাগরিকদের এই আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে আমেরিকানদের জীবনযাত্রা যখন মুদি দোকান থেকে শুরু করে জ্বালানি তেলের পাম্পসহ সর্বত্র ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, তখন ক্যালিফোর্নিয়া সরকার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা ফেরত দিচ্ছে। পরিবেশ দূষণকারীদের আর্থিকভাবে জবাবদিহির আওতায় এনে সেই অর্থ রাজ্যের লাখ লাখ পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন।
সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দিতে আদালতের নির্দেশ
নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিককে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল