আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং এই যুদ্ধ আর কতদিন স্থায়ী হবে— তা নিয়ে নতুন এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি বা স্থায়িত্বের বিষয়টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের রাশ নিজের হাতেই রাখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এটি (ইসরায়েলের সঙ্গে) পারস্পরিক আলোচনার বিষয়। আমরা (ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু) নিয়মিত কথা বলছি; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমিই নেব এবং সঠিক সময়ে নেব। সকল পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, যুদ্ধ বন্ধ বা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন এখন মাঠপর্যায়ের কৌশলগত সাফল্যের ওপর বেশি নজর দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ মার্চ ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন যে, চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। যদিও তাঁর এই বক্তব্যের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভিন্নমত পোষণ করে বলেছিলেন, যুদ্ধের প্রকৃতি অনুযায়ী এটি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এই ভিন্নধর্মী বক্তব্যের মাঝেই ট্রাম্পের নতুন এই বার্তা এল।
এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় সংলাপ চললেও ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও তেলের স্থাপনাগুলোতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে ক্রমেই আরও জটিল করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং এই যুদ্ধ আর কতদিন স্থায়ী হবে— তা নিয়ে নতুন এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি বা স্থায়িত্বের বিষয়টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের রাশ নিজের হাতেই রাখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এটি (ইসরায়েলের সঙ্গে) পারস্পরিক আলোচনার বিষয়। আমরা (ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু) নিয়মিত কথা বলছি; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমিই নেব এবং সঠিক সময়ে নেব। সকল পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, যুদ্ধ বন্ধ বা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন এখন মাঠপর্যায়ের কৌশলগত সাফল্যের ওপর বেশি নজর দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ মার্চ ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন যে, চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। যদিও তাঁর এই বক্তব্যের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভিন্নমত পোষণ করে বলেছিলেন, যুদ্ধের প্রকৃতি অনুযায়ী এটি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এই ভিন্নধর্মী বক্তব্যের মাঝেই ট্রাম্পের নতুন এই বার্তা এল। এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় সংলাপ চললেও ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও তেলের স্থাপনাগুলোতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে ক্রমেই আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি নতুন নেতা নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন না নেয়, তাহলে সেই নেতা বেশি দিন ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না। রোববার এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবে সেই নেতা টিকে থাকতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি লাগবে। তার ভাষায়, “তাকে আমাদের অনুমোদন নিতে হবে। যদি সে আমাদের অনুমোদন না পায়, তাহলে সে বেশি দিন টিকবে না।” ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি চান না ভবিষ্যতে আবার একই ধরনের সংঘাত তৈরি হোক। এজন্য এখনই এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার যাতে কয়েক বছর পর আবার নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে না হয়। তিনি বলেন, “আমি চাই না পাঁচ বা দশ বছর পর আবার একই পরিস্থিতি তৈরি হোক, বা তার থেকেও খারাপ—তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র চলে যাক।” সম্প্রতি ইরানে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস শহর। স্থানীয় সময় শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘ইরানে যুদ্ধ বন্ধ করো’, ‘গণতন্ত্রের নামে আগ্রাসন নয়’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনো’— এমন সব স্লোগান দেখা যায়। বক্তারা বলেন, যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি হলের সামনে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, যুদ্ধবিরোধী কর্মী এবং প্রবাসী ইরানি নাগরিকরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের মতে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এর ফলে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। সমাবেশ থেকে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা সামরিক পথ পরিহার করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে ইরানের ওপর পরিচালিত এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসেই নয়, বরং আমেরিকার অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এই সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ না করা হয়, তবে তাদের আন্দোলন আরও বেগবান হবে।