বিশ্ব রাজনীতি

ইরানের ‘পাওয়ার হাউজ’ খার্গ দ্বীপে নজর যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ‘পাওয়ার হাউজ’ খার্গ দ্বীপে নজর যুক্তরাষ্ট্রের

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৯, ২০২৬ 0
খার্গ দ্বীপ
খার্গ দ্বীপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করতেই ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ‘খার্গ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা জ্যারড এজেন ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়েছেন, তাঁরা ইরানের বিশাল তেলভাণ্ডারকে ‘সন্ত্রাসীদের’ হাত থেকে মুক্ত করতে চান। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই কৌশলগত দ্বীপটি দখলে নিতে পারলে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন দুশ্চিন্তা চিরতরে শেষ হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনাকে ভেনিজুয়েলার মডেলের সাথে তুলনা করেছেন উপদেষ্টা এজেন। তাঁর দাবি, নিকোলাস মাদুরোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ভেনিজুয়েলার তেলশিল্প এখন কার্যত মার্কিন কোম্পানিগুলোর অধীনে। এবার ইরানের ক্ষেত্রেও একই কৌশলে এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি, তবে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি ইরানে সীমিত পরিসরে সেনা পাঠানোর বিষয়ে ‘গভীর আগ্রহ’ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তেহরান সরকারের আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে।

 

এদিকে, কেবল ইরান নয়, প্রতিবেশী ইরাকেও ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জোটের অন্তর্গত শিয়া গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে ওয়াশিংটন এই কড়া অবস্থান নেয়। ইতোমধ্যে মসুলের বিভিন্ন স্থাপনায় ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর দাবি, ইরাক এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

 

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় আসাইব আহল আল-হক মিলিশিয়ার সদর দপ্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের বাসরা বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতেও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই লক্ষ্যভিত্তিক পাল্টা হামলায় কাতাইব হিজবুল্লাহর সদস্যসহ এক ডজনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ইরানের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড দখল এবং ইরাকে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের ছক আঁকছে যুক্তরাষ্ট্র।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

বিশ্ব রাজনীতি

View more
খার্গ দ্বীপ
ইরানের ‘পাওয়ার হাউজ’ খার্গ দ্বীপে নজর যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করতেই ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ‘খার্গ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা জ্যারড এজেন ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়েছেন, তাঁরা ইরানের বিশাল তেলভাণ্ডারকে ‘সন্ত্রাসীদের’ হাত থেকে মুক্ত করতে চান। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই কৌশলগত দ্বীপটি দখলে নিতে পারলে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন দুশ্চিন্তা চিরতরে শেষ হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।   যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনাকে ভেনিজুয়েলার মডেলের সাথে তুলনা করেছেন উপদেষ্টা এজেন। তাঁর দাবি, নিকোলাস মাদুরোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ভেনিজুয়েলার তেলশিল্প এখন কার্যত মার্কিন কোম্পানিগুলোর অধীনে। এবার ইরানের ক্ষেত্রেও একই কৌশলে এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি, তবে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি ইরানে সীমিত পরিসরে সেনা পাঠানোর বিষয়ে ‘গভীর আগ্রহ’ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তেহরান সরকারের আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে।   এদিকে, কেবল ইরান নয়, প্রতিবেশী ইরাকেও ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জোটের অন্তর্গত শিয়া গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে ওয়াশিংটন এই কড়া অবস্থান নেয়। ইতোমধ্যে মসুলের বিভিন্ন স্থাপনায় ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর দাবি, ইরাক এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।   নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় আসাইব আহল আল-হক মিলিশিয়ার সদর দপ্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের বাসরা বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতেও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই লক্ষ্যভিত্তিক পাল্টা হামলায় কাতাইব হিজবুল্লাহর সদস্যসহ এক ডজনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ইরানের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড দখল এবং ইরাকে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের ছক আঁকছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৯, ২০২৬ 0
কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

জাতির উদ্দেশে বার্তা, শত্রুর দম্ভ গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

ইরানকে গোপনে সহায়তা দিচ্ছে চীন ও রাশিয়া

পাল্টা হামলায় সাহায্য করতে ইরানকে গোপন গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট
আজ রাতেই ইরানের ওপর এযাবৎকালের ভয়াবহতম হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আজ রাতেই ইরানের ওপর এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি’ পরিচালিত হতে যাচ্ছে।   ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন এ হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো। এসব কৌশলগত স্থাপনার ‘সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধন’ করে দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দেওয়াই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।   মার্কিন অর্থমন্ত্রী ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে বলেন, তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ খাটিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে।   ইতিমধ্যেই ভারতসহ বেশ কিছু দেশকে সাগরে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্কট বেসেন্টের মতে, বাজারে তেলের জোগান বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে অর্থ মন্ত্রণালয় আরও বড় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান এবং আসন্ন সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণকে এক নতুন ও অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৭, ২০২৬ 0
মার্কিন মিসাইল রাডার সিস্টেম ধ্বংস

ইরানের হামলায় ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন মিসাইল রাডার সিস্টেম ধ্বংস

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটি

ঝুঁকির মুখে নিরাপত্তা, সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটি নিয়ে জনরোষ বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে সচল হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম

নতুন অর্থ সহায়তা পরিকল্পনা যোগ্য আমেরিকানদের ৩ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব
ফুরিয়ে আসছে অস্ত্রের মজুত, আর কতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের ময়দানে কার কত সেনা আছে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কার ভাণ্ডারে কত অস্ত্র অবশিষ্ট আছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকার হাতে অস্ত্রের "অফুরান ভাণ্ডার" রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছে, শত্রুকে প্রতিহত করার সক্ষমতা তাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি। তবে যুদ্ধের ময়দান বলছে ভিন্ন কথা।   আকাশপথে আধিপত্য বনাম অস্ত্রের সংকট তেল আবিব-ভিত্তিক সংস্থা আইএনএসএস-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতিমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে ইরান ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩৯১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার ৮৬ শতাংশ এবং ড্রোন হামলার হার ৭৩ শতাংশ কমে গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি হয় ইরানের মজুত ফুরিয়ে আসার লক্ষণ, অথবা তারা ভবিষ্যতের বড় কোনো লড়াইয়ের জন্য অস্ত্র জমিয়ে রাখছে।   পেন্টাগনের দুশ্চিন্তা ও ট্রাম্পের বৈঠক আমেরিকা সামরিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হলেও তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিশেষ করে 'প্যাট্রিয়ট' ক্ষেপণাস্ত্রের আকাশচুম্বী চাহিদা ওয়াশিংটনকে ভাবিয়ে তুলছে। প্রতিটি প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। ইউক্রেন এবং আরব মিত্রদের সরবরাহ নিশ্চিত করার পর আমেরিকার হাতে এখন মাত্র ১৬০০টির মতো প্যাট্রিয়ট অবশিষ্ট আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শেষেই অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন।   ইরানের রণকৌশল ও ভূগোলের সুবিধা ইরানের বিমানবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেলেও মাটির নিচে বা পাহাড়ের গুহায় অস্ত্র লুকিয়ে রাখার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। ফ্রান্সের চেয়ে তিনগুণ বড় এই দেশে আকাশ থেকে নজরদারি চালিয়ে সব অস্ত্রাগার খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। গাজা বা ইয়েমেনের অভিজ্ঞতা বলছে, টানা বোমাবর্ষণেও সব অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা সহজ নয়।   তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্ট-কম) এখন ইরানের উৎপাদন কারখানা এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন, অস্ত্রের লড়াইয়ে ইরান শেষ পর্যন্ত আমেরিকার সামনে টিকতে পারবে না। দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কার ভাণ্ডার অটুট থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৬, ২০২৬ 0

পূর্বের বক্তব্য থেকে সরে ইরানে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

আইআরজিসি

নতুন প্রজন্মের ‘কৌশলগত অস্ত্র’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে ৫০০ কোটি ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের খরচ, বাড়ছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

0 Comments