হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নিজের অবস্থান বদলে তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন—প্রণালিতে কোনো ধরনের ফি আদায় হলে তা সহ্য করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে ফি আদায় করে, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে বুধবার তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের একটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে পরদিনই সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ইরানের তেল ও গ্যাস খাতের এক কর্মকর্তার মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে এক ডলার সমমূল্যের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রস্তাব সামনে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করে জানায়, এ ধরনের টোল আরোপ করা হলে প্রতিটি চালানে অতিরিক্ত বিপুল ব্যয় যুক্ত হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই চাপ পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল আরোপের নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতেও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় পক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের টোল আরোপের সুযোগ নেই। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালিকে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্রাম্পের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান হরমুজ ইস্যুতে মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তাকেই সামনে এনে দিয়েছে। আর এই অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, শিপিং খাত ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদে রেকর্ড সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর প্রবেশ দেশের আবাসন খাতের মূল্য বৃদ্ধি, ভাড়া বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের একটি সাম্প্রতিক কার্যপত্রে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। "ইউএস লেবার অ্যান্ড হাউজিং মার্কেটস"-এর ওপর অননুমোদিত অভিবাসনের প্রভাব শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মার্চ মাসে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশটির মোট জনসংখ্যায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছে, যা আইনি অভিবাসনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন মার্কিন অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বলে গবেষকেরা নথিপত্রে উল্লেখ করেছেন। এই অবৈধ অভিবাসন ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী। একই সময়ে আবাসন খাতে বাড়িঘরের দাম বাড়ার পেছনেও ৩০ শতাংশ ভূমিকা রেখেছে এই অননুমোদিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। এছাড়া সাধারণ মানুষের ফ্ল্যাট বা বাড়ি ভাড়ার খরচ বৃদ্ধির পেছনেও ২০ শতাংশ প্রভাব ফেলেছে এই একই সমস্যা। আরভিং এলাকার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বেথ ভ্যান ডুইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছিলেন, তখন তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন যে আমাদের বহিষ্কারের ওপর জোর দিতে হবে। ভ্যান ডুইন বলেন, বর্তমান প্রশাসনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে বা তারা নিজেরাই দেশ ছেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে আবাসন বাজারে দাম এখন কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি ভ্যান ডুইন টেক্সাসে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এইচ-ওয়ানবি ভিসার জালিয়াতি তদন্তের জন্য প্রশাসন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও স্টেট সেক্রেটারির প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ভুয়া ভিসা ধারীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ায় মার্কিন নাগরিকেরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কম বেতনের বিদেশী কর্মীদের কারণে মজুরির হার কমে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আগামী ৬ই আগস্ট আর্লিংটনের গ্লোব লাইফ ফিল্ডে দেশের বৃহত্তম চাকরি মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছেন তিনি।
ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের আকাশছোঁয়া মূল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার কৃষকেরা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। উত্তর-পূর্ব লুইজিয়ানার কৃষি বিমানের পাইলট রিড কেহি জানান যে, তার বিমানে ব্যবহৃত কেরোসিনভিত্তিক জ্বালানির দাম যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে যে জ্বালানির প্রতি গ্যালনের দাম ছিল ২.৪৬ ডলার, মে মাসে তা সর্বোচ্চ ৪.১১ ডলারে পৌঁছায়। কেহি একবারে ৭,৫০০ গ্যালন জ্বালানি ক্রয় করেন, যার ফলে মে মাসে এক দফায় জ্বালানি কিনতেই তার ৩০,০০০ ডলারের বেশি খরচ হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে এই দাম কিছুটা কমে ৩.১৮ ডলারে নামলেও তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লুইজিয়ানার সামগ্রিক কৃষি সম্প্রদায়ের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে তাদের আয়ের মার্জিন একদম কমে গেছে। ডেভিড গুয়েরেরো এবং থেরেসা গুয়েরেরো নামের এক কৃষক দম্পতি জানান, তাদের ভুট্টার ফসলের জন্য ইউরিয়া নামের এক ধরনের নাইট্রোজেন সারের প্রয়োজন হয়। বিশ্বব্যাপী ইউরিয়া রপ্তানির প্রায় অর্ধেক আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে একটি বড় ধরনের নৌ-পরিবহন সংকট তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের প্রধান পথ। এই যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গুয়েরেরো দম্পতির সারের জন্য নির্ধারিত পুরো বাজেটকে সম্পূর্ণ শেষ করে দিয়েছে। এই দম্পতি প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমানে তারা ইউরিয়া সারের পেছনে নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে প্রায় ১,২০,০০০ থেকে ১,৩০,০০০ ডলার অতিরিক্ত খরচ করে ফেলেছেন। এই খরচ বৃদ্ধির ধাক্কা সামলে তাদের খামারটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডেভিড গুয়েরেরো জানান যে পরিস্থিতি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং তারা টিকে থাকার লড়াইয়ের একদম শেষ প্রান্তে রয়েছেন। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খামার দেউলিয়া হওয়ার হার প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পাইলট রিড কেহি কৃষকদের ওপর থেকে চাপ কমাতে গুয়েরেরোর ফসলে ওষুধ ছিটানোর জন্য অতিরিক্ত কোনো চার্জ ধরছেন না, বরং লোকসানের পুরো ধাক্কা নিজেই সামলাচ্ছেন। কেহি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি 'টিকে থাকার খেলা' হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, যদি কৃষকেরা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পারেন, তবে তার নিজের ব্যবসাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে মার্কিন নার্স ম্যাকেনজি (কেনজি) মিখালস্কিকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত আইরিশ নাগরিক লরকান ট্যাডগ মারফিকে ঘিরে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশে নারীদের অনুসরণ করতেন, গোপনে তাদের ভিডিও ধারণ করতেন এবং ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, তদন্তকারীরা মারফির কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস থেকে অন্তত ১৬ জন নারীর গোপনে ধারণ করা ভিডিও, ব্যক্তিগত নোট এবং ডায়েরি উদ্ধার করেছেন। এসব নথিতে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন শহরে নারীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কৌশল, কোথায় বেশি সফল হয়েছেন এবং জীবনে এক হাজার নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে লিখে রেখেছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে পরিচিত হতেন। এরপর সুযোগ পেলে তাদের অনুসরণ করতেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অজান্তে ভিডিও ধারণ করতেন। প্রসিকিউশন আদালতে দাবি করে, এসব তথ্য তার পরিকল্পিত ও শিকারি মানসিকতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের নভেম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা এবং ৩১ বছর বয়সী নার্স ম্যাকেনজি মিখালস্কি ইউরোপ সফরে বুদাপেস্টে গিয়েছিলেন। একটি নাইটক্লাবে মারফির সঙ্গে পরিচয়ের পর তারা তার ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে যান। সেখানেই মিখালস্কিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মারফি ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, সম্মতিসূচক যৌন কর্মকাণ্ডের সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মিখালস্কির মৃত্যু হয়েছে। তবে তদন্তকারীরা সেই দাবি গ্রহণ করেননি। আদালতও রায়ে উল্লেখ করেন, হত্যার পর তার কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে যে তিনি অপরাধ গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তে জানা যায়, হত্যার পর মারফি অ্যাপার্টমেন্ট পরিষ্কার করেন, একটি বড় স্যুটকেস কিনে মরদেহ তাতে ভরে গাড়িতে করে বুদাপেস্ট থেকে দূরের একটি বনাঞ্চলে নিয়ে ফেলে দেন। পুলিশ পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া তার ইন্টারনেট অনুসন্ধানের ইতিহাসে মরদেহ লুকানো, দেহাবশেষ দ্রুত নষ্ট হওয়া এবং পুলিশি তদন্ত এড়ানোর উপায় সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুসন্ধানের তথ্যও পাওয়া যায়। বুদাপেস্ট মেট্রোপলিটন আদালত মারফিকে হত্যার দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সাজা ভোগ শেষে তাকে আয়ারল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হবে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য হাঙ্গেরিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে তার আইনজীবী ইতোমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এই মামলার রায় ও তদন্তে প্রকাশিত তথ্য ইউরোপজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণকারী এক মার্কিন নাগরিকের হত্যাকাণ্ড এবং অভিযুক্তের ব্যক্তিগত ডায়েরি ও ডিজিটাল নথি থেকে উঠে আসা তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর জন্যও নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।