তেলবাজার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
হরমুজ ইস্যুতে সুর বদল ট্রাম্পের: টোল আরোপে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নিজের অবস্থান বদলে তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন—প্রণালিতে কোনো ধরনের ফি আদায় হলে তা সহ্য করা হবে না।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে ফি আদায় করে, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।   এর আগে বুধবার তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের একটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে পরদিনই সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দেন তিনি।   ঘটনার সূত্রপাত ইরানের তেল ও গ্যাস খাতের এক কর্মকর্তার মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে এক ডলার সমমূল্যের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।   এ প্রস্তাব সামনে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করে জানায়, এ ধরনের টোল আরোপ করা হলে প্রতিটি চালানে অতিরিক্ত বিপুল ব্যয় যুক্ত হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই চাপ পড়বে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল আরোপের নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতেও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।   এদিকে আন্তর্জাতিক মহলও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় পক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের টোল আরোপের সুযোগ নেই। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালিকে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা।   পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্রাম্পের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান হরমুজ ইস্যুতে মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তাকেই সামনে এনে দিয়েছে। আর এই অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, শিপিং খাত ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে টোল ইস্যুতে ট্রাম্পের সুর বদল, ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি–তে টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে অবস্থান পাল্টে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের ফি আদায় করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি মেনে নেবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।   মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের প্রস্তাবকে ‘সুন্দর উদ্যোগ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তার অবস্থান বদলে যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত হয় ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিকারক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর সম্ভাব্য টোল আরোপের ইঙ্গিত দেওয়ার মাধ্যমে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাত ও শিপিং শিল্পে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের টোল কার্যকর হলে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়বে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের নীতিমালার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রণালিটি যেন কোনো বাধা বা অতিরিক্ত শর্ত ছাড়াই সচল থাকে, সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার।   আন্তর্জাতিক মহলও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় কমিশন এবং জাতিসংঘ–সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত রাখা জরুরি এবং টোল আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিনের মধ্যে ট্রাম্পের পরপর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা তুলে ধরেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই তেলবাজার, শিপিং কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
হরমুজে টোল নিলে ‘ছেড়ে দেব না’: ইরানকে ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে টোল আদায়ের ইস্যুতে অবস্থান বদল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে তিনি এবার ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের ফি বা টোল আদায় করে, তবে তা ‘তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ’ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেবে না।   এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তিনি ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সেটিকে ‘ভালো উদ্যোগ’ বলেছিলেন। তবে নতুন অবস্থান সেই প্রস্তাব থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানিকারক সংগঠনের একজন মুখপাত্র জানান, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। এ খবরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতে।   মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা দ্রুত হোয়াইট হাউস এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানান। তাদের মতে, এই টোল আরোপ করা হলে প্রতিটি চালানে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং নীতিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজে টোল চালু হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেও একই দাবি উঠতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি করবে।   আন্তর্জাতিক মহলও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ–এর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও।   হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণালিটি কোনো শর্ত বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই চালু রাখা এখন অগ্রাধিকার। তবে টোল ইস্যুটি এখনো আলোচনায় রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিনের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থানের এই পরিবর্তন নীতিগত অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর এই অনিশ্চয়তাই বৈশ্বিক তেলবাজার, শিপিং খাত ও কূটনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানি-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১১ মার্চ, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্বজ্বালানির সংকট: নানা দেশের জরুরি পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের ফলে বিশ্বজ্বালানির বাজারে অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ থাকার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশগুলো জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক সচলতা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।   বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই অঞ্চলে চলাচলকারী কিছু জাহাজে হামলা চালায়, যার ফলে ভয়াবহ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।   অসুবিধা মোকাবিলায় এশিয়া ও আফ্রিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা: স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অপ্রয়োজনীয় সরকারি অফিস বন্ধ; ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ কিউআর কোডে সীমিত পেট্রল বিতরণ। ভুটান: জেরি ক্যানের মাধ্যমে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ ও জরুরি সেবা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেশনিং। পাকিস্তান: সরকারি দপ্তরে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো এবং চার দিনের কর্মসপ্তাহ। ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম: সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সীমিত কর্মসপ্তাহ, গণপরিবহন ব্যবহার আহ্বান। মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া: পেট্রলপাম্প সীমিত কার্যক্রম ও ‘জোড়-বিজোড়’ ভিত্তিতে রেশনিং। মিসর: সরকারি ভবন, বিপণিবিতান ও রেস্তোরাঁ বন্ধের সময় নির্ধারণ; বিলবোর্ডের আলো বন্ধ। কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা: রপ্তানি নিষিদ্ধ ও শিল্প খাতে নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি বরাদ্দ। নিউজিল্যান্ড: সপ্তাহে একদিন ‘গাড়িমুক্ত দিবস’; উচ্চ মূল্যের কারণে কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল। স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া: ডিজেল মজুতদারি ও ব্যক্তিগত গাড়ি-ট্রাকের জন্য ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ।   বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা রক্ষায় এসব পদক্ষেপে দেশগুলো কতদূর যেতে পারে, তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ শুরু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, কোনো আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অনড় ট্রাম্প: জ্বালানি ও পরমাণু ইস্যুতে কঠোর হুঁশিয়ারি

ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আপাতত কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেয়া এক একান্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান একটি চুক্তিতে আসার জন্য মুখিয়ে থাকলেও তিনি নিজে এই মুহূর্তে তা করতে ইচ্ছুক নন। বর্তমান শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট সন্তোষজনক নয় বলে মনে করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, যেকোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হতে হবে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি পরিত্যাগ করা। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বেশ কিছু দেশ এই লজিস্টিক কার্যক্রমে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে ইরানের তেলের বাজারের ওপর হামলা প্রসঙ্গে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জ্বালানি রপ্তানির মূল কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। আক্রমণাত্মক মেজাজে তিনি আরও বলেন, কেবল আনন্দের ছলে সেখানে আরও কয়েকবার হামলা চালানোর সক্ষমতা ও মানসিকতা তার প্রশাসনের রয়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের ক্রমবর্ধমান বাজারমূল্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্প তা উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমানে বিশ্বে তেল ও গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার সামান্য বিঘ্ন খুব দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র: বিবিসি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0