তেলবাজার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত, হরমুজে তেলের ট্যাংকারে আগুন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।   ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইনযুক্ত এলাকায় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে কোনও রাসায়নিক সার, এমনকি এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রপ্তানি করতে দেয়া হবে না। রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী চারটি অনুপ্রবেশকারী জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে থামিয়ে দেয়া হয়েছে।   গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় আমেরিকা। শনিবার, ১৮ জুলাই ভোরে হরমুজ প্রণালির উপকূলে ইরানের হরমুজগান প্রদেশেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, এসব হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর দাম ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো তেলের দাম বাড়ায় নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর একটি। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হওয়া তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। এই পথ বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ।   মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অঞ্চল, যেখানে ইসলামী সংস্কৃতি, জ্বালানি সম্পদ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব একসঙ্গে বিদ্যমান । ইরান-আমেরিকা এই সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
হরমুজ ইস্যুতে সুর বদল ট্রাম্পের: টোল আরোপে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নিজের অবস্থান বদলে তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন—প্রণালিতে কোনো ধরনের ফি আদায় হলে তা সহ্য করা হবে না।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে ফি আদায় করে, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।   এর আগে বুধবার তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের একটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে পরদিনই সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দেন তিনি।   ঘটনার সূত্রপাত ইরানের তেল ও গ্যাস খাতের এক কর্মকর্তার মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে এক ডলার সমমূল্যের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।   এ প্রস্তাব সামনে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করে জানায়, এ ধরনের টোল আরোপ করা হলে প্রতিটি চালানে অতিরিক্ত বিপুল ব্যয় যুক্ত হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই চাপ পড়বে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল আরোপের নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতেও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।   এদিকে আন্তর্জাতিক মহলও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় পক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের টোল আরোপের সুযোগ নেই। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালিকে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা।   পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্রাম্পের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান হরমুজ ইস্যুতে মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তাকেই সামনে এনে দিয়েছে। আর এই অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, শিপিং খাত ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে টোল ইস্যুতে ট্রাম্পের সুর বদল, ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি–তে টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে অবস্থান পাল্টে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের ফি আদায় করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি মেনে নেবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।   মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের প্রস্তাবকে ‘সুন্দর উদ্যোগ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তার অবস্থান বদলে যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত হয় ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিকারক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর সম্ভাব্য টোল আরোপের ইঙ্গিত দেওয়ার মাধ্যমে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাত ও শিপিং শিল্পে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের টোল কার্যকর হলে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়বে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের নীতিমালার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রণালিটি যেন কোনো বাধা বা অতিরিক্ত শর্ত ছাড়াই সচল থাকে, সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার।   আন্তর্জাতিক মহলও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় কমিশন এবং জাতিসংঘ–সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত রাখা জরুরি এবং টোল আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিনের মধ্যে ট্রাম্পের পরপর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা তুলে ধরেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই তেলবাজার, শিপিং কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
হরমুজে টোল নিলে ‘ছেড়ে দেব না’: ইরানকে ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে টোল আদায়ের ইস্যুতে অবস্থান বদল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে তিনি এবার ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের ফি বা টোল আদায় করে, তবে তা ‘তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ’ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেবে না।   এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তিনি ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সেটিকে ‘ভালো উদ্যোগ’ বলেছিলেন। তবে নতুন অবস্থান সেই প্রস্তাব থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানিকারক সংগঠনের একজন মুখপাত্র জানান, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। এ খবরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতে।   মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা দ্রুত হোয়াইট হাউস এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানান। তাদের মতে, এই টোল আরোপ করা হলে প্রতিটি চালানে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং নীতিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজে টোল চালু হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেও একই দাবি উঠতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি করবে।   আন্তর্জাতিক মহলও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ–এর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও।   হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণালিটি কোনো শর্ত বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই চালু রাখা এখন অগ্রাধিকার। তবে টোল ইস্যুটি এখনো আলোচনায় রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিনের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থানের এই পরিবর্তন নীতিগত অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর এই অনিশ্চয়তাই বৈশ্বিক তেলবাজার, শিপিং খাত ও কূটনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানি-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১১ মার্চ, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্বজ্বালানির সংকট: নানা দেশের জরুরি পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের ফলে বিশ্বজ্বালানির বাজারে অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ থাকার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশগুলো জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক সচলতা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।   বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই অঞ্চলে চলাচলকারী কিছু জাহাজে হামলা চালায়, যার ফলে ভয়াবহ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।   অসুবিধা মোকাবিলায় এশিয়া ও আফ্রিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা: স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অপ্রয়োজনীয় সরকারি অফিস বন্ধ; ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ কিউআর কোডে সীমিত পেট্রল বিতরণ। ভুটান: জেরি ক্যানের মাধ্যমে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ ও জরুরি সেবা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেশনিং। পাকিস্তান: সরকারি দপ্তরে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো এবং চার দিনের কর্মসপ্তাহ। ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম: সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সীমিত কর্মসপ্তাহ, গণপরিবহন ব্যবহার আহ্বান। মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া: পেট্রলপাম্প সীমিত কার্যক্রম ও ‘জোড়-বিজোড়’ ভিত্তিতে রেশনিং। মিসর: সরকারি ভবন, বিপণিবিতান ও রেস্তোরাঁ বন্ধের সময় নির্ধারণ; বিলবোর্ডের আলো বন্ধ। কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা: রপ্তানি নিষিদ্ধ ও শিল্প খাতে নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি বরাদ্দ। নিউজিল্যান্ড: সপ্তাহে একদিন ‘গাড়িমুক্ত দিবস’; উচ্চ মূল্যের কারণে কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল। স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া: ডিজেল মজুতদারি ও ব্যক্তিগত গাড়ি-ট্রাকের জন্য ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ।   বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা রক্ষায় এসব পদক্ষেপে দেশগুলো কতদূর যেতে পারে, তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ শুরু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, কোনো আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই।

Unknown মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০