আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ সদস্যের মধ্যে কোটি কোটি ডলারের সরকারি তহবিল নিয়ে গৃহযুদ্ধ

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২:৫১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অলটুরাস ইন্ডিয়ান র্যাঞ্চেরিয়া নামের একটি ফেডারেল স্বীকৃত আদিবাসী গোষ্ঠীর বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলারের সরকারি ও উপজাতীয় তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন গোষ্ঠীটির কয়েকজন সদস্য। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের উন্নয়ন, শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবার জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থ সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। 

গোষ্ঠীর সদস্য ওয়েন্ডি ডেল রোসা এবং তার আইনজীবীর দাবি, চেয়ারম্যান ফিলিপ ডেল রোসা ও ভাইস চেয়ারম্যান ড্যারেন রোজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তাদের অভিযোগ, এই সময়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি সরকারি ও উপজাতীয় তহবিল নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

 

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উপজাতির জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা প্রায় দেওয়া হয়নি, অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ অর্থের বড় অংশের সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (বিআইএ) কাছেও একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। 

অলটুরাস ইন্ডিয়ান র্যাঞ্চেরিয়া ক্যালিফোর্নিয়ার মোডক কাউন্টিতে অবস্থিত একটি ছোট ফেডারেল স্বীকৃত উপজাতি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০০৮ সালের পর থেকে সেখানে নিয়মিত নির্বাচন হয়নি। নেতৃত্ব, সদস্যপদ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। 

 

 

 

এদিকে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স সম্প্রতি ওই উপজাতির ট্রাস্টভুক্ত জমিতে প্রয়োজনীয় ফেডারেল অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত কিছু বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমিতে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথি তাদের কাছে নেই। 

তবে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা তহবিল তছরুপের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাব এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
কৃষি জমিতে আধুনিক হাইপারস্কেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টার। ছবি:সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় এআই ডেটা সেন্টারের জন্য কৃষিজমি বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি ৯৬ মার্কিন পরিবার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ এলাকায় শুরু হয়েছে জমির নতুন দৌড়। এরই অংশ হিসেবে পেনসিলভানিয়ার সেলেম টাউনশিপের ৯৬টি পরিবার তাদের প্রায় ১ হাজার ৭০০ একর কৃষিজমি ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য বিক্রি করেছে। জমি বিক্রির মোট মূল্য ৫৮৬ মিলিয়ন ডলার। এই চুক্তির ফলে বহু পরিবার রাতারাতি বহুমিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়ে গেছে।    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জমিগুলো কিনেছে ডেটা সেন্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিউটিএস (QTS), যা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোনের মালিকানাধীন। বিক্রির হিসাব অনুযায়ী, পরিবারপ্রতি গড়ে প্রায় ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং একরপ্রতি প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার মূল্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ৮৯ একরের হগ ফার্ম বিক্রি করে এক দম্পতি ২২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ পেয়েছেন।    দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের অনিশ্চিত আয়, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারের ওঠানামার কারণে অনেক পরিবার আর্থিক চাপে ছিল। জমি বিক্রির এই অর্থ তাদের জন্য নতুন আর্থিক নিরাপত্তার সুযোগ তৈরি করেছে। কেউ নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন, কেউ নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সংরক্ষণ করছেন।    তবে এই বিপুল অর্থের বিনিময়ে এলাকাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। যে কৃষিজমিতে এতদিন ফসল উৎপাদন হতো, সেখানে আগামী কয়েক বছরে গড়ে উঠবে বিশাল ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস। কিউটিএসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ৭০০ একর এলাকাজুড়ে ধাপে ধাপে ১২টি ডেটা সেন্টার ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রকল্পে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, শত শত নির্মাণকাজের কর্মসংস্থান, প্রায় ১০০টি স্থায়ী চাকরি এবং স্থানীয় সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য কর রাজস্ব সৃষ্টি হতে পারে।    তবে পরিবেশবিদ ও স্থানীয় অনেক বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বড় আকারের ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের নির্মাণকাজ, ভারী যানবাহনের চলাচল, শিল্পাঞ্চলের মতো শব্দ এবং গ্রামীণ পরিবেশের স্থায়ী পরিবর্তনও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।    বর্তমানে এআই এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এমন জমি খুঁজছে, যেখানে উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ফাইবার-অপটিক নেটওয়ার্কের সুবিধা রয়েছে। এ কারণেই আগে যেসব কৃষিজমির মূল্য নির্ধারণ হতো মূলত কৃষি উৎপাদনের ভিত্তিতে, এখন সেগুলোর মূল্য নির্ধারিত হচ্ছে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে।    সেলেম টাউনশিপের এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামোর বিস্তার শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ অর্থনীতি ও ভূমি ব্যবহারের ধরনেও বড় পরিবর্তন আনছে। একই সঙ্গে এটি নতুন একটি প্রশ্নও সামনে আনছে—প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিময়ে কি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কৃষিজমি, নাকি এটি কৃষকদের বহু বছরের পরিশ্রমের ন্যায্য আর্থিক পুরস্কার?

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১৯:৫২
ওয়েস্ট হলিউডের সানসেট বুলেভার্ডে ১১০ বছরের পুরোনো একটি পানির প্রধান পাইপ বিস্ফোরণ। ছবি:সংগৃহীত

ওয়েস্ট হলিউডে পানির প্রধান পাইপ বিস্ফোরণ: পাঁচ দিন পরও শেষ নয় মেরামত, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ভয়াবহ দূর্ঘটনা।ছবি:সংগৃহীত

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল বিলাসবহুল গাড়ি, মহাসড়কে প্রাণ গেল এক চালকের

লা জোলাতে অবস্থিতইউসি সান ডিয়েগো স্কুল অফ মেডিসিন ক্যাম্পাস। ছবি:সংগৃহীত

জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

মেহেক খেরা, ওয়ালমার্টের চাকরির পাশাপাশি শুরু করা উদ্যোগ থেকেই গড়েছেন মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা।ছাবি:সংগৃহীত
ওয়ালমার্টের চাকরি থেকে মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা, ভারতীয় অভিবাসী তরুণীর অনন্য সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল ওয়ালমার্টের কর্পোরেট চাকরি দিয়ে। সেই চাকরির পাশাপাশি নিজের সঞ্চয় থেকে গড়ে তোলা ছোট্ট একটি উদ্যোগ আজ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আর সর্বশেষ সাফল্য হিসেবে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ টরি বার্চ ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় অভিবাসী উদ্যোক্তা মেহেক খেরা।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে মেহেক খেরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো নারী উদ্যোক্তার মধ্য থেকে এ বছর প্রায় ১২০ জনকে ২০২৬ সালের টরি বার্চ ফাউন্ডেশন ফেলো হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং তিনি তাদের একজন। এই ফেলোশিপের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে মেন্টরশিপ, বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী নারী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।   মেহেক খেরা ২৪ বছর বয়সে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। নতুন দেশে কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ওয়ালমার্ট এর ই-কমার্স বিভাগে সাপ্লাই চেইন ও ক্যাটাগরি ম্যানেজমেন্টে কাজ করতেন। চাকরির পাশাপাশি নিজের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস ব্র্যান্ড ‘নিরাময়া ফুডস’ প্রতিষ্ঠা করেন।   প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য অ্যাভোকাডো অয়েলে তৈরি গ্রেইন-ফ্রি নান প্রেটজেলস, যা ভারতীয় স্বাদ ও মসলার অনুপ্রেরণায় তৈরি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিক্রি হচ্ছে এবং কোম্পানিটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।   এর আগে মার্কিন ব্যবসাবিষয়ক সাময়িকী এন্ট্রেপ্রেনিউর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মেহেক খেরার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ওয়ালমার্ট এ চাকরি করার সময় শুরু করা তাঁর সাইড বিজনেস পরবর্তীতে বছরে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি বিক্রয় আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে।   লিংকডইনে প্রকাশিত সাম্প্রতিক পোস্টে মেহেক খেরা জানান, নিরাময় ফুডস এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি নতুন পণ্য উন্নয়ন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজও এগিয়ে চলছে। তাঁর লক্ষ্য, ভারতীয় অনুপ্রাণিত স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসকে আরও বিস্তৃত মার্কিন বাজারে পৌঁছে দেওয়া।   একসময় কর্পোরেট চাকরির পাশাপাশি সীমিত মূলধন দিয়ে শুরু করা উদ্যোগ আজ তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের কাতারে স্থান করে দিয়েছে। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি ২০২৬ সালের টরি বার্চ ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ এ নির্বাচিত হওয়া তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১৮:৩০
মিসিসিপির ওশান স্প্রিংসে নিহত ১৮ বছর বয়সী তরুণ নোলান জেভিয়ার ওয়েলসের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে পরিবার। ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

১৮ বছরের ছেলের কফিন দেখে ভেঙে পড়লেন মা, গির্জাজুড়ে কান্নার রোল

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইউএস সিনেটর থমাস জোনাথন অসফ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, কোন অভিবাসীরা এগিয়ে আর কারা পড়ছেন পিছিয়ে?

টেট স্টক একজন উদ্যোক্তা।ছবি: সংগৃহীত

কলেজের ছোট উদ্যোগ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান, সাফল্যের গল্প টেট স্টকের

আমেরিকান কান্ট্রি ও রক মিউজিক তারকা জেলি রোল এবং তার প্রাক্তন স্ত্রী, জনপ্রিয় পডকাস্টার ও মডেল বানি এক্সও।ছবি:সংগৃহীত
সন্তানের আশায় কঠিন চিকিৎসা, কষ্টের অভিজ্ঞতা জানালেন বানি

মার্কিন উপস্থাপক, লেখক ও জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সঞ্চালক বানি জানিয়েছেন, সন্তান নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলা বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার (আইভিএফ) কঠিন প্রক্রিয়া তাকে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তবু সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাতৃত্বের স্বপ্ন ছাড়েননি।   সম্প্রতি নিজের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বানি বলেন, গত দেড় বছরের চিকিৎসা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ চিকিৎসা তাকে শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিক ও আত্মিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।   বানি জানান, সন্তান নেওয়ার আশায় তিনি ও তার সাবেক স্বামী, মার্কিন সংগীতশিল্পী জেলি রোল, একাধিকবার চিকিৎসা নেন। কিন্তু কয়েক দফা চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই সময়ে তারা চারটি ভ্রূণ হারান এবং তিনবার ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টাও সফল হয়নি। এমনকি যমজ সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি।   তিনি বলেন, এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপই ছিল অত্যন্ত কঠিন। বারবার আশা জাগা এবং পরে তা ভেঙে যাওয়ার কষ্ট তাদের দুজনকেই গভীরভাবে আঘাত করেছে।   বানি আরও জানান, চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার সাবেক স্বামীকেও বিশেষ চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক অবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল।   চিকিৎসার সময় হরমোনজনিত কারণে তার ওজন বেড়ে যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে কটূক্তি করেন। তবে পরে তিনি বলেন, যারা এমন মন্তব্য করেছেন, তাদের অনেকেই বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার শারীরিক ও মানসিক প্রভাব সম্পর্কে জানেন না।   সম্প্রতি দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেও বানি ও জেলি রোল জানিয়েছেন, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা তারা পুরোপুরি বাতিল করেননি। ভবিষ্যতে গর্ভধারণে অন্য নারীর সহায়তা (সারোগেসি) নিয়ে সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনা এখনও বিবেচনায় রয়েছে।   বানি বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করেন একদিন মা হবেন। সব কষ্ট, ব্যর্থতা ও মানসিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও মাতৃত্বের স্বপ্ন তাকে এগিয়ে যেতে শক্তি জোগায়। তার ভাষায়, একটি শিশুর চোখ দিয়ে নতুন করে পৃথিবীকে দেখার স্বপ্নই তাকে বারবার নতুন করে লড়াই করার সাহস দেয়।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১৭:৩
হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারির পরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বা ফেসিয়াল সোয়েলিং (মুখ ফুলে যাওয়া)। ছবি:সংগৃহীত

চুল প্রতিস্থাপনের পর ফুলে গেল মুখ, ‘আমি তো ডিমের মতো’—তরুণের ভিডিও ভাইরাল

বিখ্যাত আমেরিকান সংগীতশিল্পী এবং সেশন মিউজিশিয়ান জিম গিলস্ট্রাপ। ছবি:সংগৃহীত

স্টিভি ওয়ান্ডারের কিংবদন্তি সহশিল্পী জিম গিলস্ট্র্যাপ আর নেই, ৭৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস

উকিল নরম্যান আইজেন সাবেক অলিম্পিয়ান ডেভিড হার্নের মামলা নিয়ে কথা বলছেন। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত মামলা, রিফ্লেক্টিং পুল ক্ষতির অভিযোগে আদালতে সাবেক অলিম্পিয়ান

0 Comments